ইসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সৌদি আরবের মক্কাকাবা শরীফ; যেখানে সারা বিশ্বের লাখো মুসলিম একতার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতার সাথে প্রার্থনা করে থাকেন।

ইসলাম (আরবি: الإسلامআল্-ইস্‌লাম্) একটি একেশ্বরবাদী এবং আব্রাহামিক ধর্মকুরআন দ্বারা পরিচালিত;  যা  এমন এক কিতাব যা  হবহু আল্লাহর [১]( আরবি : الله আল্লাহ্ ) বানী এবং ইসলামের প্রধান নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদত্ত শিক্ষা পদ্ধতি, জীবনাদর্শও (বলা হয় সুন্নাহ এবং হাদিস নামে লিপিবদ্ধ রয়েছে ) এর ভিত্তি । ইসলামের অনুসারীরা মুহাম্মদ (সাঃ)-কে শেষ নবী বলে মনে করেন। "ইসলাম" শব্দের অর্থ "শান্তি", "আত্মসমর্পণ", বা একক স্রষ্টার নিকট নিজেকে সমর্পন করা। অনেকের ধারণা যে মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন এই ধর্মের প্রবর্তক। তবে মুসলমানদের মতে, তিনি এই ধর্মের প্রবর্তক নন বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রাসূল (পয়গম্বর)। খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে তিনি এই ধর্ম পুনঃপ্রচার করেন। পবিত্র কুরআন ইসলাম ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ। এই ধর্মে বিশ্বাসীদের মুসলমান বা মুসলিম বলা হয়। পবিত্র কুরআন আল্লাহর বাণী এবং এটি তার দ্বারা জীব্রাইলের মাধ্যমে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নিকট প্রেরিত বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন। তাদের বিশ্বাস অনুসারে মুহাম্মদ (সাঃ) শেষ নবী। হাদিসে প্রাপ্ত তাঁর নির্দেশিত কাজ ও শিক্ষার ভিত্তিতে কুরআনকে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে, কোনো হাদিসের মর্মার্থ কুরআনের বিরুদ্ধে গেলে, তা বাতিল বলে গণ্য হয়।

মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে ইসলাম হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ ও সার্বজনীন ধর্ম যা এর আগে অনেক নবী ও রাসুল এর প্রতি নাযিল হয়েছিল। তারা আরও বিশ্বাস করে যে কুরআন হচ্ছে আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে প্রেরিত সর্বশেষ জীবন বিধান।

ইহুদিখৃস্ট ধর্মের ন্যায় ইসলাম ধর্মও ইব্রাহিমীয়[২] বর্তমান বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা আনুমানিক ২.৭ মিলিয়ন এবং তারা পৃথিবীর প্রথম বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী[৩] মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার উত্তরসূরীদের প্রচার ও যুদ্ধ জয়ের ফলশ্রুতিতে ইসলাম দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। [৪] বর্তমানে সমগ্র বিশ্ব জুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব ইউরোপে মুসলমানরা বাস করেন। আরবে এ ধর্মের গোড়াপত্তন হলেও অধিকাংশ মুসলমান আন্যাংশ। আরব দেশের মুসলমানরা মোট মুসলমান জনসংখ্যার শতকরা মাত্র ২০ বিশ ভাগ।[৫] যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু বলকান অঞ্চল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম।[৬][৭]

ধর্ম বিশ্বাস[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের একটি মসজিদে মুসলমান পুরুষদের নামাযের দৃশ্য।

মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাসের মূল ভিত্তি আল্লাহর একত্ববাদ। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন আল্লাহ্ মানবজাতির জন্য তাঁর বাণী ফেরেস্তা জীব্রাইল-এর মাধ্যমে রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নিকট অবতীর্ণ করেন। কুরআনে বর্ণিত "খতমে নবুয়্যত" এর ভিত্তিতে মুসলমানরা তাঁকে শেষ বাণীবাহক (রাসূল) বলে বিশ্বাস করেন। তারা আরও বিশ্বাস করেন, তাদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআন নিখুঁত, অবিকৃত ও মানব এবং জ্বিন জাতির উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ আল্লাহর সর্বশেষ বাণী, যা পুনরুত্থান দিবস বা কেয়ামত পর্যন্ত বহাল ও কার্যকর থাকবে। তবে মুসলমানদের মধ্যে আহ্মদি নামক একটি সম্প্রদায় মনে করে মুহাম্মদ (সাঃ) শেষ নবী নন বরং যুগের চাহিদা মোতাবেক নবুওয়াতের ধারা অব্যহত থাকবে।[৮] এবং শিয়াদের একটি বিরাট অংশবিশেষ ইসমাঈলীয়দের মধ্যে প্রচলিত বিশ্বাস যে, ইমাম ইসমাঈল আখেরী নবী ছিলেন। [৯]

আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল পুরুষ ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা ফাতিরে বলা হয়েছে,

"নিঃসন্দেহে আমি তোমাকে (মুহাম্মদ) পাঠিয়েছি সত্যের সাথে সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে। আর এমন কোনো সম্প্রদায় নেই, যাঁদের মধ্যে একজন সতর্ককারী পাঠানো হয়নি।"৩৫:২৪[১০]

ইসলামের দৃষ্টিতে ইহুদিখ্রিস্টান উভয় ধর্মাবলম্বীরাই আব্রাহামের শিক্ষার ঐতিহ্য পরম্পরা। উভয় ধর্মাবলম্বীকে কুরআনে "আহলে কিতাব" বলে সম্বোধন করা হয়েছে এবং বহুদেবতাবাদীদের থেকে আলাদা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরানে আহবান করা হয়েছে,

"তুমি (মুহাম্মদ) বল, হে কিতাবীগণ, এসো সেই কথায় যা তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে এক; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও ইবাদত না করি। কোনো কিছুকেই তাঁর শরিক না করি। এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য হিসেবে গ্রহণ না করি। যদি তাঁরা মূখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা স্বাক্ষী থাক; অবশ্যই আমরা মুসলিম।"৩:৬৪[১০]

এই ধর্ম দুটির গ্রন্থসমূহের বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয়ের উল্লেখ কুরআনেও রয়েছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রয়েছে পার্থক্য। ইসলামি বিশ্বাসানুসারে এই দুই ধর্মের অনুসারীগণ তাদের নিকট প্রদত্ত আল্লাহ্-এর বাণীর অর্থগত ও নানাবিধ বিকৃতসাধন করেছেন; ইহুদিগণ তৌরাতকে (তোরাহ) ও খৃস্টানগণ ইনজিলকে (নতুন বাইবেল)। মুসলমানদের বিশ্বাস ইসলাম ধর্ম আদি এবং অন্ত এবং স্রষ্টার নিকট একমাত্র গ্রহনযোগ্য ধর্ম।

আল্লাহ্[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: আল্লাহ

মুসলমানগণ বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তাকে 'আল্লাহ' বলে সম্বোধন করেন। ইসলামের মূল বিশ্বাস হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তৌহিদ। ইসলাম পরম একেশ্বরবাদী ও কোনোভাবেই আপেক্ষিক বা বহুত্ববাদী নয়। আল্লাহর একত্ব ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে প্রথম, যাকে বলা হয় শাহাদাহ। এটি পাঠের মাধ্যমে একজন স্বীকার করেন যে, (এক) আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নাই এবং (দুই) মুহাম্মদ [(সাঃ)] তাঁর প্রেরিত বাণীবাহক বা রাসূল সুরা এখলাছে আল্লাহর বর্ণনা দেয়া হয়েছে এভাবে, [قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ. اللهُ الصَّمَدُ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ] {الاخلاص:১-৪}

"বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।"১১২:১-৪[১০]

আল্লাহ্ শব্দটি আল এবং ইলাহ যোগে গঠিত। আল অর্থ সুনির্দিষ্ট এবং ইলাহ অর্থ উপাস্য, যার অর্থ সুনির্দিষ্ট উপাস্য। খৃস্টানগণ খৃস্ট ধর্মকে একেশ্বরবাদী বলে দাবী করলেও মুসলমানগণ খৃস্টানদের ত্রিত্ববাদ (trinity) বা এক ঈশ্বরের মধ্যে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার মিলন, এই বিশ্বাসকে বহু-ঈশ্বরবাদী ধারণা বলে অস্বীকার করেন। ইসলামি ধারণায় আল্লাহ সম্পূর্ণ অতুলনীয় ও পৌত্তলিকতার অসমতুল্য, যার কোনোপ্রকার আবয়বিক বর্ণনা অসম্ভব। এধরনের অবয়বহীনতার ধারণা ইহুদি ও কিছু খৃস্টান বিশ্বাসেও দেখা যায়। মুসলমানরা তাদের সৃষ্টিকর্তাকে বর্ণনা করেন তাঁর বিভিন্ন গুণবাচক নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে।

ফেরেশতা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ফেরেশতা

ফিরিশতা বা ফেরেশতা ফারসী শব্দ। ফেরেশতা আরবী প্রতিশব্দ হলো 'মালাইকা'। ফেরেশতায় বিশ্বাস ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসের একটি মূল নীতি। এরা অন্য সকল সৃষ্টির মতই আল্লাহর আরেক সৃষ্টি। তাঁরা মুলত আল্লাহর দূত। ফেরেশতারা নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তারা সর্বদা ও সর্বত্র আল্লাহর বিভিন্ন আদেশ পালনে রত এবং আল্লাহর অবাধ্য হবার কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। ফেরেশতারা নূর তথা আলোর তৈরি। রূহানিক জীব বলে তারা খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করেন না। তারা সুগন্ধের অভিলাষী এবং পবিত্র স্থানে অবস্থান করেন। তারা আল্লাহর আদেশ অনুসারে যেকোনো স্থানে গমনাগমন ও আকৃতি পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখেন।

ফেরেশতাদের সংখ্যা অগণিত। ইসলামে তাদের কোনো শ্রেণীবিন্যাস করা না হলেও চারজন গুরুদায়িত্ব অর্পিত প্রধান ফেরেশতার নাম উল্লেখযোগ্য:

  • জিব্রাইল – ইনি আল্লাহর দূত ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা। এই ফেরেশতার নাম তিনবার কুরআন শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরা ২:৯৭; ৯৮, ৬৬:৪)। সূরা ১৬:১০২ আয়াতে জিব্রাইল ফেরেশতাকে পাক রূহ বা রুহুল ক্বুদুস বলা হয়েছে। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ এবং সংবাদ আদান-প্রদান যেসব ফেরেশতার দায়িত্ব, জিব্রাইল তাদের প্রধান। জিব্রাইল-ই আল্লাহর বাণী নিয়ে নবীদের কাছে গমনাগমন করেন। এই ফেরেশতাকে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার নিজস্ব আকৃতিতে মোট দুইবার দেখেছেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আন নাজমে বলা হয়েছে,

"সে ঊর্ধ্বাকাশের উপরিভাগে। তারপর সে কাছে এলো। অতঃপর সে আরো কাছে এলো। তাঁদের মাঝে ব্যবধান থাকল দুই ধনুকের বা তাঁর চাইতেও কম। অতঃপর সে তাঁর বান্দার কাছে ওহী পৌঁছে দিল, যা তাঁর পৌঁছানোর ছিল। সে যা দেখেছে, অন্তর তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি। তোমরা কী সে বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও, যা সে নিজের চোখে দেখেছে। সে তাঁকে আরও একবার দেখেছিল। সিদরাতুল মুন্তাহার কাছে।” ৫৩:৭-১৪ [১০]

প্রাসঙ্গিক হাদিসসমূহ: মুসলিম শরীফ ৩২৯, ৩৩০, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৩৪ এবং ৩৩৬ [১১]

  • ফেরেশতা মিকাইল – কুরআনের ২:৯৭ আয়াতে এই ফেরেশতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইনি বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
  • ফেরেশতা ইসরাফিল – এই ফেরেস্তা আল্লাহর আদেশ পাওয়া মাত্র শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার মাধ্যমে কিয়ামত বা বিশ্বপ্রলয় ঘটাবেন। তার কথা কুরআন শরীফে বলা না হলেও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • মালাক আল-মাউত – ইনি মৃত্যুর ফেরেশতা ও প্রাণ হরণ করেন।

বিশেষ শ্রেণীর ফেরেশতা যাদেরকে কুরআনে 'কিরামান কাতিবিন' (অর্থ: সম্মানিত লেখকগণ) বলা হয়েছে তাঁরা প্রতিটি মানুষের ভালো মন্দ কাজের হিসাব রাখেন। কবরে মুনকির ও নাকির নামের দুই ফেরেশতা মানুষকে তার কৃত কর্মের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মালিক নামের ফেরেশতা নরক বা জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণ করেন এবং রিদওয়ান নামের আরেক ফেরেশতা জান্নাত বা বেহেশতের দেখভাল করেন বলে বর্ণিত আছে। ইসলাম, খৃস্টান ও ইহুদী ধর্ম ছাড়া হিন্দুধর্মেও ফেরেশতা তথা স্বর্গীয় দূতদের অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে।

আল-কুরআন[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: কোরআন
হাত্তাত আজিজ এফেন্দির হস্তলিখিত - কোরআনের প্রথম সুরা।

কুরআন মুসলমানদের মূল ধর্মগ্রন্থ। তাদের বিশ্বাস পবিত্র এই কুরআন স্রষ্টার অবিকৃত, হুবহু বক্তব্য। এর আগে স্রষ্টা প্রত্যেক জাতিকে বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠিয়েছেন, কিন্তু সেগুলোকে বিকৃত করা হয়। কুরআনকে আরও বলা হয় "আল-কুরআন" বা "কুরআন শরীফ"। "কুরআন"-এর জায়গায় বানানভেদে "কোরআন" বা "কোরান"ও লিখতে দেখা যায়।

ইসলাম ধর্মমতে, জীব্রাইল ফেরেশতার মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর নিকট ৬১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬ই জুলাই, ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু অবধি বিভিন্ন সময়ে স্রষ্টা তাঁর বাণী অবতীর্ণ করেন। এই বাণী তাঁর অন্তঃস্থ ছিলো, সংরক্ষণের জন্য তাঁর অনুসারীদের দ্বারা পাথর, পাতা ও চামড়ার ওপর লিখেও রাখা হয়।

অধিকাংশ মুসলমান পবিত্র কুরআনের যেকোনো পাণ্ডুলিপিকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন, স্পর্শ করার পূর্বে ওজু করে নেন। তবে, ওজু ছাড়াও এই কুরআন পাঠ করা যায়। কুরআন জীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেয়া হয় না, বরং কবর দেয়ার মত করে মাটির নিচে রেখে দেয়া হয় বা পরিষ্কার স্রোতের পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়।

অনেক মুসলমানই কুরআনের কিছু অংশ এর মূল ভাষা আরবিতে মুখস্থ করে থাকেন, কমপক্ষে যেটুকু আয়াত নামাজ আদায়ের জন্য পড়া হয়। সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থকারীদের হাফিজ (সংরক্ষণকারী) বলা হয়। মুসলমানরা আরবি কুরআনকেই কেবলমাত্র নিখুঁত বলে বিশ্বাস করেন। সকল অনুবাদ মানুষের কাজ বিধায় এতে ভুল-ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা থেকে যায় এবং বিষয়বস্তুর মূল প্রেরণা ও সণেটিক উপস্থাপনা অনুবাদকর্মে অনুপস্থিত থাকতে পারে বিধায় অনুবাদসমূহকে কখনোই আরবি কুরআনের সমতুল্য ও সমান নিখুঁত গণ্য করা হয় না, বরং এগুলোকে সর্বোচ্চ ‘অর্থানুবাদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: মুহাম্মদ(সাঃ)
বর্তমান সৌদি আরবের , হেজাজ অঞ্চলের ,মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববী(নবীজীর মসজিদ) এঁর প্যানারমিক দৃশ্য । ইসলামে দ্বিতীয় সর্বচ্চো গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ।

মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন তৎকালীন আরবের বহুল মর্যাদাপূর্ণ কুরাইশ বংশের একজন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে তাঁর বিশেষ গুণের কারণে তিনি আরবে "আল-আমীন" বা "বিশ্বস্ত" উপাধিতে ভূষিত হন। স্রষ্টার নিকট হতে নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তিনি ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম জাতি বা উম্মাহ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁকে ইসলামের শ্রেষ্ঠ বাণী-বাহক (নবী) হিসেবে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা হয়। মুসলমানরা তাঁকে একটি নতুন ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে দেখেন না। তাঁদের কাছে মুহাম্মদ (সাঃ) বরং আল্লাহ প্রেরিত নবী-পরম্পরার শেষ নবী; যিনি আদম, ইব্রাহিম ও অন্যান্য নবীদের প্রচারিত একেশ্বরবাদী ধর্মেরই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন। তার পূর্বের একেশ্বরবাদী ধর্ম বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। তাই মুহাম্মদ (সাঃ) ইসলামকে শেষ প্রেরিত ধর্ম হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে উপস্থাপন করেন।

ইসলাম ধর্মমতে, তিনি চল্লিশ বছর বয়স হতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ২৩ বছর যাবৎ ফেরেশতা জিব্রাইল মারফত ঐশী বাণী লাভ করেন। এই বাণীসমূহের একত্ররূপ হলো পবিত্র কোরআন, যা তিনি মুখস্ত করেন ও তাঁর অনুসারীদের (সাহাবী) দিয়ে লিপিবদ্ধ করান। কারণ, তিনি নিজে লিখতে ও পড়তে জানতেন না।

"তুমি তো এর আগে কোনো কিতাব পড় নি এবং স্বহস্তে কোনো কিতাব লেখনি যে অবিশ্বাসীরা সন্দেহ পোষণ করবে।”২৯:৪৮ [১০]

মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন একজন উৎকৃষ্ট চরিত্রের মানুষ। সকল মুসলমান বিশ্বাস করেন মুহাম্মদ (সাঃ) এই বাণী নির্ভুলভাবে প্রচার করেছেন। এবং তাতে কোনো কিছু যোগ করেননি।

"সে যদি আমার নামে কোনো কথা রচনা করতো, তবে আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর কেটে দিতাম তাঁর গ্রীবা। তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।" ৬৯:৪৪-৪৭ [১০]

মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, মুহাম্মদ (সাঃ) ও সর্বোপরি সকল নবী ঐশী বাণী প্রচারে কখনো ভুল করেন নি। তবে মানবিক এবং পার্থিব কিছু কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি মানুষ হিসেবে নিজের পক্ষ থেকে মত দিয়েছেন বলে সুন্নীরা বিশ্বাস করে থাকে। কিন্তু শিয়ারা মনে করে থাকে, সকল নবী ও তাদের ইমামগণ সর্বাবস্থায় নির্ভুল ছিলেন; যা ধর্মগ্রন্থ কুরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিসের বিপরীত। কারণ মুহাম্মদ (সাঃ) এর সকল প্রকার মানবিক ও পার্থিব সিদ্ধান্তগুলো স্বয়ং আল্লাহ্ শুধরে দিতেন। উদাহরণ হিসেবে নিম্নলিখিত আয়াতটি আলোচনা করা হয়:[১২]:

"হে নবী, আল্লাহ আপনার জন্যে যা হালাল করেছেন, আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্য তা নিজের উপর হারাম করছেন কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।" ৬৬:১ [১০]

এভাবে কুরআনের আরও কয়েক জায়গায় মুহাম্মদের (সাঃ) কাজ শুধরে দেয়া হয়েছে। এই আয়াতগুলো আল্লাহর বাণী নির্ভুল এবং অপরিবর্তিতভাবে প্রচার করার ব্যাপারে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, কারণ নির্ভুলভাবে প্রচারের ইচ্ছা না থাকলে নিজের অসম্মান হয় এমন কিছুই তিনি প্রচার করতেন না। মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, মানুষ হিসেবে সিদ্ধান্ত দিতে হলে মুহাম্মদ (সাঃ) কখনো কখনো ভুল করতেন। কিন্তু ঐশ্বিক বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি কখনো ভুল করেননি। তাঁর জীবনকালে তিনি সম্পূর্ণ আলৌকিকভাবে মেরাজ লাভ করেন।

মুসলমানদেরকে শেষ বাণীবাহক মুহাম্মদের নাম উচ্চারণ করার সাথে সাথে "সাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম" বলতে হয়। এর অর্থ: 'আল্লাহ তাঁর উপর রহমত এবং শান্তি বর্ষণ করুন।' একে বলা হয় দরুদ শরীফ। এছাড়াও আরও অনেক দরুদ হাদীসে বর্ণীত আছে। তাঁর মধ্যে এটাই সর্বপেক্ষা ছোট। কোনো এক বৈঠকে তাঁর নাম নিলে দরুদ একবার বলা অবশ্যকর্তব্য (ওয়াজিব)।

হাদিস[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: হাদিস

'হাদীস' (اﻠﺤﺪﻴث) আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- কথা, বাণী, কথা-বার্তা, আলোচনা, কথিকা, সংবাদ, খবর, কাহিনী ইত্যাদি। [১৩] ইসলামী পরিভাষায় মুহাম্মদের (সাঃ) কথা, কাজ, অনুমোদন এবং তাঁর দৈহিক ও চারিত্রিক যাবতীয় বৈশিষ্ট্যকে হাদীস বলে। মুহাম্মদের জীবদ্দশায় তাঁর সহচররা তাঁর হাদীসসমূহ মুখস্থ করে সংরক্ষণ করতেন। প্রথমত হাদীস লেখার অনুমতি ছিলো না, যাতে হাদীস এবং কোরআন পরস্পর মিলে না যায়। পরবর্তীতে মুহাম্মদ (সাঃ) নিজেই তাঁর কোনো কোনো সাহাবী বা সহচরকে হাদীস লেখার অনুমতি প্রদান করেন।[১৪] মুহাম্মদের (সাঃ) মৃত্যুর পর তার সহচরের নিয়মিত তাঁর হাদিসগুলো চর্চা করতেন ও তাদের ছাত্রদের কাছে বর্ণনা করতেন। মহাম্মদের সহচরদের ছাত্র তথা তাবেঈরা ওমর ইবন আব্দুল আযীযের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হাদীস লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেন।[১৫]

মুহাম্মদের (সাঃ) কথা-কাজসমূহের বিবরণ এভাবে লোকপরম্পরায় সংগ্রহ ও সংকলন করে সংরক্ষণ করা হলে তাঁর বক্তব্যসমূহ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে উন্মুক্ত হয়। বিভিন্ন বিখ্যাত পণ্ডিতেরা এই কাজে ব্রতী ছিলেন। তাঁদের সংকলিত সেসব হাদিস-সংকলন গ্রন্থের মধ্যে ছয়টি গ্রন্থ প্রসিদ্ধ হয়েছে। এগুলো 'ছয়টি হাদিস গ্রন্থ' (কুতুবুস সিত্তাহ) আখ্যা দেয়া হয়। তবে এটা ভাবা ভুল হবে যে, এই ছয়খানা গ্রন্থের বাইরে আর কোনো বিশুদ্ধ হাদিস নেই। এর বাইরেও বহু বিশুদ্ধ হাদিসের সংকলন রয়েছে। হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের বিভিন্ন মাপকাঠি রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাদীসের সনদ বা "হাদিস প্রাপ্তির সুত্র" যাচাই।

কিয়ামত[সম্পাদনা]

অধিকন্তু পড়ুন: ইসলামী পরকালবিদ্যা

কিয়ামতে বা শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস ইসলামের মূল বিশ্বাসগুলির একটি| ইসলাম ধর্মে কেয়ামত বা কিয়ামত হলো সেই দিন যে দিন এই বিশ্বের আল্লাহ সৃষ্ট সকল জীবকে পুনরুত্থান করা হবে বিচারের জন্য| সকল জীবকে তার কৃতকর্মের হিসাব দেওয়ার জন্যে এবং তার কৃতকর্মের ফলাফল শেষে পুরস্কার বা শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ শেষে জান্নাত/বেহেশত/স্বর্গ কিংবা জাহান্নাম/দোযখ/নরক এ পাঠানো হবে| নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কিয়ামতের সম্পর্কে কিছু আগাম নিদর্শন প্রকাশ করে গেছেন যেমন ১। পুরুষদের তুলনায় নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাবে; ২। ইমাম মাহাদির আবির্ভাব ঘটবে; ৩। দুনিয়ায় পাপ কাজ বেড়ে যাবে; ৪। অযোগ্য লোকের হাতে ক্ষমতা চলে যাবে; ৫। ব্যাভিচার বেড়ে যাবে; ৬।পাপ কাজ করতে মানুষ দুইবার ভাববে না; ৭। কয়েকজন লোক নিজেকে নবী দাবি করবেন প্রভৃতি ।

ইসলামের মূল স্তম্ভসমূহ[সম্পাদনা]

হজ্জ এর সময় তীর্থস্থান মসজিদ আল-হারাম

ইসলামের ৫টি মূল স্তম্ভ রয়েছে।[১৬] এগুলো হলো-

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বিশ্বকোষ
  • এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম তৃতীয় সংস্করণ , EI3 এবং এনসাইক্লোপিডিয়া অব দ্যা কুরআন । লেইডেন,ব্রিল, 2007-আইএসএসএন 1873-9830 এবং লেইডেন: ব্রিল পাবলিশার্স, 2001-2006, ISBN 90-04-14743-8
  • ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া , সৈয়দ ইকবাল জহির কতৃক, ইকরা প্রকাশনি,ব্যাঙ্গালোর 2010 , ISBN 978-603-90004-40
  • দ্যা নিউ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম , চতুর্থ সংস্করণ , মো: সিরিল গ্লাস কতৃক , প্রকাশনি:রোমান অ্যান্ড লিটলফিল্ড পাবলিশার্স; (October 25, 2013) ISBN 1442223480 এবং ISBN 978-1442223486
  • ইসলাম ইন গ্লোবাল হিস্ট্রি (এনসাইক্লোপিডিয়া), ড. নাজীর আহমেদ কতৃক , প্রকাশনি:Xlibris , (May 16, 2001) , ISBN 0738859621 এবং ISBN 978-0738859620
  • উর্দু এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম ,প্রকাশনি:ইউনিভার্সিটি অব দ্যা পাঞ্জাব ,(1950-2015)
  • ইসলামী বিশ্বকোষ ১ম-২৬তম খণ্ড (দ্বিতীয় সংস্করণ) ,প্রকাশনি:ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৯৯৬
  • সীরাত বিশ্বকোষ ১ম--২০শ খণ্ড (হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবনী) ,প্রকাশনি:ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
  • আল-কুরআন কারীম সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ’ ,পাঁচ খন্ড,প্রকাশনি:ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম অ্যান্ড দ্যা মুসলিম ওয়ার্ল্ড , দ্বিতীয় সংস্করণ ,রিচার্ড ছি মার্টিন কতৃক ,প্রকাশনি:ম্যাকমিলান,(January 27, 2016), ISBN 0028662695 এবং ISBN 978-0028662695
  • এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলামিক ল্য(ভলিয়্যুম 1 & 2),(ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স কন্সার্নিং মুসলিম উমেন বুক 1),দারুসসালাম পাবলিশার্স (December 2013),ইউসুফ আলহাজ আহমদ এএসআইএন B00GGMYPCU
  • এ কনসিস এন্সিক্লোপেডিয়া অফ জিন এন্ড শয়তান (উইথ 2 সিডি'স),আবু হাম্মাম সায়্যেদ মুরাদ সালেমা কতৃক, প্রকাশনি:আল ফিরদৌস (2012), ISBN 187426399X এবং ISBN 978-1874263999
গ্রন্থপঞ্জি
  • ইসলাম উইথআউট এক্সট্রিম , মুস্তাফা এক্যল কতৃক , প্রকাশনি:ডব্লিউ.ডব্লিউ. নর্টন অ্যান্ড কোম্পানি , ফার্স্ট সংস্করণ , (July 18, 2011) ISBN 0393070867 এবং ISBN 978-0393070866
  • আর-রাহীক আল-মাকতুম (দ্যা সিলড্ নেক্টার): বায়োগ্রাফী অব দ্যা প্রফেট,সাফি-উর-রহমান মুবারকপুরী কতৃক, January 1, 2002 ,দারুস-সালাম পাবলিকেশন্স, ISBN 1591440718 এবং ISBN 978-1591440710 । আর রাহীকুল মাখতূম : ( হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর সীরাতগ্রন্থ) ,মাঃ মুহাঃ ছফিউর রহমান মোবারকপুরী কতৃক , ডা. মুহাম্মাদ আবদুর রহমান খন্দকার (Translator),প্রকাশনি:সোলেমানিয়া বুক হাউস
  • হিস্ট্রি অফ ইসলাম, আকবার শাহ নাজীবাবাদী,প্রকাশনি:দারুস-সালাম পাবলিকেশন্স (2002), Set ISBN 9960-892-86-7। ইসলামের ইতিহাস ১ম-৩য় খণ্ড,মাওলানা আকবার শাহ খান ,প্রকাশনি:ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • ফাউন্ডেশন অব দ্যা সুন্নাহ , ইমাম আহমাদ বিন হান্বল কতৃক , প্রকাশনি:সালাফি পাবলিকেশন; ২ন্ড সংস্করণ (2003),ISBN 1902727088 এবং ISBN 978-1902727080
  • ইসলাম, ২ন্ড সংস্করণ ,ফজলুর রহমান কতৃক ,প্রকাশনি:ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস,(August 15, 1979), ISBN 0226702812 এবং ISBN 978-0226702810
  • দ্যা হোলি কুরআন:ইংলিশ ট্রান্সলেশন, কমেন্ট্রি এন্ড নোটস উইথ ফুল এরাবিক টেক্সট (ইংলিশ এন্ড আরাবিকে এডিশন),আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী কতৃক,প্রকাশনি:কিতাব ভবন (October 19, 2001) ISBN 978-8171510283
  • তাফসীর ইবনে কাছির (10 ভলিউম; অ্যাব্রিগেটেড) ২ন্ড সংস্করণ, হাফিজ ইব্ন কাছির কতৃক , দারুস-সালাম পাবলিকেশন্স (September 1, 2000),ISBN 1591440203 এবং ISBN 978-1591440208 । তাফসীর ইবনে কাসীর ১-১৩শ ,মার্চ’২০১৪ সংস্করণ ,প্রকাশনি:ইসলামিক ফাউন্ডেশন ,অনুবাদ : প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মুজীবুর রাহমান কতৃক ।
  • দ্যা ইংলিশ ট্রান্সলেশন অব সহীহ আল বুখারী উইথ দ্যা এরাবিক টেক্সট,মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী কতৃক, মুহসিন খান(রূপান্তর),প্রকাশনি:আল-সাদাবি পূবনস (October 1996),ISBN 1881963594 এবং ISBN 978-1881963592 । বুখারী শরীফ , ১ম-১০ম খণ্ড , ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বোখারী (র) কতৃক ,প্রকাশনি:ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • দ্যা কুরআন অ্যান্ড মডার্ন সাইন্স , প্রকাশনি:দারুসসালাম পাবলিশার্স , ড. জাকির নায়েক কতৃক , (December 15, 2013),এএসআইএন B00GJSZJW6
  • মাদীনাহ এরাবিক রিডার বুক 1, ড. ভি. আব্দুর রহিম কতৃক ,প্রকাশনি:গুডওয়াড বুকস (2005) ISBN 8178984660 এবং ISBN 978-8178984667
  • হোয়েন দ্যা মুন স্প্লিট , সাফি উর রহমান আল মুবারকপুরী কতৃক ,প্রকাশনি:দারুসসালাম পাবলিশার্স (March 15, 2016), এএসআইএন B01D1Z4TOI
  • দাওয়াহ - অ্যা ককর্ডিং টু দ্যা কুরআন অ্যান্ড সুন্নাহ ,ড. নোরলেইন দিনডাং মাবাবিয়া কতৃক , প্রকাশনি:দারুসসালাম (1999) , এএসআইএন B004C9G5AO
  • ফাতওয়া ইসলামিয়াঃ (ইসলামিক ভার্ডিক্টস) (8 Volume Set) , প্রকাশনি:দার-উস-সালাম পাবলিকেশন্স (2001) এএসআইএন B000IXTSCK
  • শরাহ্ আল-আকীদাত-ইল-ওয়াসিতিয়াঃ(এক্সপ্লানেশন অব দ্যা ক্রিড)ফান্ডামেন্টাল বিলিভস অব ইসলাম এন্ড রিজেকশন অব ফলস কন্সেপ্টস, এএসআইএন B004SGCH30,ইবনে তাইমিয়াহ কতৃক ,ট্রান্স:রাফিক খান,প্রকাশনি:দারুসসালাম, (2005)
বাংলা
  • মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন কতৃক ,আহকামে যিন্দেগী ,(মাকতাবাতুল আবরার প্রকাশনী);-- ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ,প্রকাশনি:থানভী লাইব্রেরী
  • আল কুরআনে বিজ্ঞান ,প্রকাশনি:ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
  • এসো আরবি শিখি (মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ কতৃক ),প্রকাশনীঃ দারুল কলম
অনুবাদ/রূপান্তর গ্রন্থ
  • ইসলাম ও আমাদের জীবন (১-১৪ খণ্ড একত্রে) ,শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী কতৃক ,প্রকাশনি:মাকতাবাতুল আশরাফ
  • তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন (১-২২ খণ্ড একত্রে) সাইয়েদ কুতুব শহীদ কতৃক , হাফেজ মুনীর উদ্দীন আহমদ (Translator),প্রকাশনি:আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স
  • পরকাল,ড. মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আরিফী কতৃক , টেস্ট টেস্ট (Translator) , মাওলানা মুফতী ফরীদু্দ্দীন (Translator),প্রকাশনি:ইসলাম হাউস পাবলিকেশন্স
  • ফেরেশতা ও জিন-শয়তানের বিস্ময়কর ইতিহাস,আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহ,মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন (Translator) ,মাওলানা মুহাম্মাদ হাসান রহমতী (Editor),প্রকাশনি:বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স
  • তবলীগে দীন,হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী রহ. কতৃক ,প্রকাশনি:এমদাদিয়া লাইব্রেরী
  • হায়াতুস্‌ সাহাবাহ্‌ (১-৫ খণ্ড), হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী রহ কতৃক , মাওলানা মুহাম্মদ যুবায়ের ছাহেব (Translator),প্রকাশনি:দারুল কিতাব
  • ইসলাম ও রাজনীতি ,জাস্টিস মুফতি মুহাম্মদ তকী উসমানী কতৃক , মাওঃ মুহাম্মদ আব্দুল আলীম (Translator),প্রকাশনি:মাকতাবাতুল হেরা
  • ইসলামী ফিক্বহের আলোকে সুদবিহীন ব্যাংকিং : আপত্তিসমূহ ও তার পর্যালোচনা , (شيخ الاسلام مفتي محمد تقي عثماني) শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তাকী উসমানী কতৃক ,(প্রকাশনি:মাকতাবাতুল ইসলাম)
  • আরবী ব্যাকরণ , ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান কতৃক ,প্রকাশনি:রিয়াদ প্রকাশনী
  • আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইসলামের ইতিহাস : আদি-অন্ত) ১ম-১০ম খণ্ড ,আবুল ফিদা হাফিজ ইব্‌ন কাসীর আদ-দামেশ্‌কী রহ. কতৃক ,প্রকাশনি:ইসলামিক-ফাউন্ডেশন
  • বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান, ড. মরিচ বুকাইলি কতৃক , মোহাম্মদ নাছের উদ্দিন (Editor) , ড. খ ম আব্দুর রাজ্জাক (Editor),প্রকাশনি:দারুস সালাম বাংলাদেশ
  • সৌভাগ্যের পরশমণি ১ম-৪র্থ খণ্ড,হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী রহ. কতৃক ,প্রকাশনি:ইসলামিক ফাউন্ডেশন
  • ডা: জাকির নায়েক লেকচার সমগ্র (সকল খণ্ড একত্রে),মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান,প্রকাশনি:মীনা বুক হাউস
  • ইসলামিক ল্য'স এন্ড রেগুলেশন্স,(ইসলামী আইন এবং প্রবিধান),মুহাম্মদ আবুল হোসাইন খান কতৃক
অভিধান
  • ডিকশনারী অব ইসলামিক ওয়ার্ডস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন্স-রোমানাইজড্ , এরাবিক,ইংলিশ , 2012 , প্রফে. মুহাম্মদ ইসমাঈল সালেহ কতৃক , প্রকাশনি:দারুসসালাম ইন্টারন্যাশনাল পাবলিকেশন্স , এএসআইএন B0075Y0ONM
রোজনামচা
  • জার্নাল অব ইসলামিক স্টাডিস , (1990) 1 (1): 1-s-1 আইএসএসএন 0955-2340 ,প্রকাশনি:অক্সফোর্ড সেন্টারে ফর ইসলামিক স্টাডিস --পিয়ার-রিভিউড একাডেমিক জার্নাল
  • জার্নাল অব ইসলাম ইন এশিয়া,প্রকাশনি:ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া, আইএসএসএন 1823-0970 ---পিয়ার-রিভিউড একাডেমিক জার্নাল

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://quraan.com
  2. Vartan Gregorian (২০০৩)। Islam: A Mosaic, Not a Monolith। Washington D.C.: Brookings Institution Press। পৃ: p. ix। ISBN 0-8157-3283-X 
  3. Teece, Geoff (২০০৫)। Religion in Focus: Islam। Smart Apple Media। পৃ: p. 10। 
  4. Nelson, Lynn Harry। "Islam and the Prophet Muhammad"। Kansas University। সংগৃহীত ২০০৬-০৬-১৭  - "One must remember that we are talking about the Muslim expansion, not Arab conquests. The expansion of Islam was as much, or perhaps much more, a matter of religious conversion than it was of military conquest."
  5. John L Esposito (২০০২)। What Everyone Needs to Know About Islam। Oxford University Press US। পৃ: p. 2। ISBN 0-19-515713-3 
  6. Office for National Statistics (২০০৩-০২-১৩)। "Religion In Britain"। সংগৃহীত ২০০৬-০৮-২৭ 
  7. BBC (২০০৫-১২-২৩)। "Muslims in Europe: Country guide"। সংগৃহীত ২০০৬-০৯-২৮ 
  8. http://www.quraneralo.com/qadiyani-exposed/ কাদিয়ানী মতবাদ এবং খতমে নবুওয়াত
  9. http://www.djanata.com/index.php?ref=MjBfMDFfMjFfMTRfMV80XzFfNTQyNzA=
  10. ১০.০ ১০.১ ১০.২ ১০.৩ ১০.৪ ১০.৫ ১০.৬ পবিত্র কোরআনুল করীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তফসীর)। খাদেমুল-হারমাইন বাদশাহ ফাহদ, কোরআন মুদ্রণ প্রকল্প। ১৪১৩ হিজরী। পৃ: ১৪৮০ পাতা। 
  11. সহীহ বোখারী শরীফ [১ম হইতে ১০ম খন্ড এক ভলিয়মে সমাপ্ত] অনুবাদ: শায়খুল হাদিস মাওলানা মোহাম্মদ আজীজুল হক। আলহাজ্ব মোঃ সোলায়মান চৌধুরী, একুশে বই মেলা। ২০০৬ সন। পৃ: ১১২০ পাতা। 
  12. The Sinlessness of the Prophets in Light of the Qur'an, by R. Azzam, USC-MSA Compendium of Muslim Texts, March 27, 2000, retrieved March 27, 2006
  13. আধুনিক আরবি বাংলা অভিধান, ড.ফজলুর রহমান, রিয়াদ প্রকাশনী ২০০৫
  14. Khatib Bagdadi, Taq-eedul 'Ilm. Beirut: Ihya-us-sunnah An-nabawiah.
  15. প্রাগুক্ত।
  16. সহীহ বুখারী, সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ ০২, পর্বঃ ঈমান, হাদিস নাম্বারঃ ৪৮। ""Sahih Bukhari"" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]