ভূগোল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
পৃথিবীর মানচিত্র

ভূগোল (ইংরেজি ভাষায়: Geography, যেটি এসেছে গ্রীক শব্দ “γεωγραφία”, বা, geographia, থেকে; যার শাব্দিক অর্থ: "পৃথিবী সম্পর্কিত বর্ণনা বা আলোচনা"[১]) হচ্ছে বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে পৃথিবীর ভূমি, এর গঠন বিন্যাস, এর অধিবাসী সম্পর্কিত সমস্ত প্রপঞ্চ সংক্রান্ত বিষয়াদি আলোচিত হয়।[২] এই শব্দটি খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতকে গ্রিক জ্ঞানবেত্তা এরাতোস্থেনেস প্রথম ব্যবহার করেন। ভূগোলে মানুষের বসবাসের জগৎ ও তার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপঃ ভৌত ভূগোলে জলবায়ু, ভূমি ও পানি নিয়ে গবেষণা করা হয়; সাংস্কৃতিক ভূগোলে কৃত্রিম, মনুষ্যনির্মিত ধারণা যেমন দেশ, বসতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন, দালান, ও ভৌগোলিক পরিবেশের অন্যান্য পরিবর্তিত রূপ আলোচনা করা হয়। ভূগোলবিদেরা তাঁদের গবেষণায় অর্থনীতি, ইতিহাস, জীববিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব এবং গণিতের সহায়তা নেন।

ভূগোলের চারটি ঐতিহাসিক গবেষণা পদ্ধতি হচ্ছেঃ প্রকৃতি ও মানবজাতি সম্পর্কিত স্থানিক বিশ্লেষণ, স্থান ও অঞ্চল সম্পর্কিত এলাকা পঠন, মানব-ভুমি সম্পর্ক পঠন এবং ভূবিজ্ঞান[৩] ভূগোলকে "পৃথিবী পঠন-বিভাগ" ও "মানুষ এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যকার সেতু-বন্ধন" বলেও ইল্লেখ করা হয়ে থাকে।

ধারনা[সম্পাদনা]

মানচিত্রাঙ্কনবিদ এবং বিভিন্ন স্থানের নাম ও সংখ্যা বিষয়ক অধ্যয়নকারীকে ভূগোলবিদদের সাথে মিলিয়ে ফেলা ঠিক নয়; যদিও অনেক ভূগোলবিদ ভূসংস্থান ও মানচিত্রাঙ্কন বিষয়ে অধ্যয়ন করে থাকেন, তবুও প্রকৃতপক্ষে এটা তাঁদের মূল বিচরণক্ষেত্র নয়।

শাখা সমূহ[সম্পাদনা]

ভূগোলের মূল বিষয়বস্তুকে বর্ণনা এবং বিশ্লেষণের সুবিধার্থে:

  1. প্রাকৃতিক ভূগোল এবং
  2. মানবীয় ভূগোল - এই দু'টি শাখায় বিভক্ত করা হয়।

প্রাকৃতিক ভূগোল[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: প্রাকৃতিক ভূগোল

প্রাকৃতিক ভূগোল (ভূবিদ্যা) হলো ভূগোলে সেই অংশ যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ ও তাদের গঠন উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি মূলত: অশ্মমন্ডল, বারিমন্ডল, বায়ুমন্ডল, ভূপৃষ্ঠ, এবং বৈশ্বয়িক উদ্ভিদ জগৎ এবং প্রাণী জগত (জীবমন্ডল) নিয়ে গঠিত এবং তাদের সমস্যা এবং তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করে থাকে।

প্রাকৃতিক ভূগোল অসংখ্য বৃহত্ উপশাখায় বিভক্ত, যাদের মধ্যে রয়েছে:

Línea de Wallace.jpg Cyclone Catarina from the ISS on March 26 2004.JPG 90 mile beach.jpg Gavin Power Plant.jpg
জৈবভূগোল আবহাওয়াবিদ্যাজলবায়ুবিদ্যা উপকূলীয় ভূগোল পরিবেশ ব্যবস্থাপনা
Meridian convergence and spehrical excess.png Delicate Arch LaSalle.jpg Receding glacier-en.svg Meander-en.svg
গাণিতিক ভূগোল ভূতত্ত্ববিদ্যা হিমবাহবিদ্যা জলবিদ্যাজলবিজ্ঞান
Khajuraho-landscape.jpg World11.jpg Soil profile.jpg Pangea animation 03.gif
ভূস্থিত বাস্তুসংস্থান সমুদ্রবিদ্যা মৃত্তিকাবিদ্যা প্রত্নভূগোল
Milankovitch Variations sv.png
কোয়াটার্নারি বিজ্ঞান

মানবীয় ভূগোল[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: মানবীয় ভূগোল

মানবীয় ভূগোল হল ভূগোলের এমন একটি শাখা যা মানব সমাজের আকৃতিগত পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে। এতে মানুষ, তার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, এবং আর্থনৈতিক দিক নিয়ে পর্যালোচনাভূক্ত।

মানবিক ভূগোলে পৃথিবীপৃষ্ঠে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা, স্থানিক পার্থক্য এবং এই পার্থক্যের পেছনে প্রাকৃতিক প্রভাবকের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়।

মানবীয় ভূগোলকে অনেকগুলো বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন:

Qichwa conchucos 01.jpg Pepsi in India.jpg Christaller model 1.jpg Star of life.svg
সাংস্কৃতিক ভূগোল উন্নয়ন ভূগোল অর্থনৈতিক ভূগোল স্বাস্থ্য ভূগোল
British Empire 1897.jpg UN General Assembly.jpg Pyramide Comores.PNG ReligionSymbol.svg
ঐতিহাসিক ভূগোলকালীক ভূগোল রাজনৈতিক ভূগোলভৌগোলিকবিদ্যা জনসংখ্যা ভূগোল বা জনমিতি ধর্ম ভূগোল
US-hoosier-family.jpg RERParisVision2025.png 96px New-York-Jan2005.jpg
সামাজিক ভূগোল পরিবহন ভূগোল পর্যটন ভূগোল নগর ভূগোল

কালে কালে মানবীয় ভূগোল গবেষণা করার বিভিন্ন পন্থা উদ্ভাবিত হয়েছে এবং এর অন্তর্ভুক্ত পদ্ধতিগুলো হচ্ছে:

শ্রম বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

মানচিত্র অংকনবিদ্যা[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রধান কয়েকজন ভূগোলবিদ[সম্পাদনা]

  • এরাতোস্থেনেস (খ্রীস্টপূর্ব ২৭৬ - ১৯৪ অব্দ) : সর্বপ্রথম "ভূগোল" শব্দটি ব্যবহার করেন ও পৃথিবীর আয়তন নির্ণয় করেন।
  • স্ট্রাবো (খ্রিস্টপূর্ব ৬৪/৬৩ - খ্রিস্টীয় ২৪ অব্দ) : ভূগোল বিষয়ক প্রথম বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ "The Geographica" -এর লেখক।
  • টলেমি (খ্রিস্টীয় ৯০ - ১৬৮ অব্দ) : "Geographia" নামক গ্রন্থে গ্রীক ও রোমানদের আহরিত জ্ঞানকে সুসঙ্গবদ্ধ করেন।
  • আল ইদ্রিসি (১১০০ - ১১৬৫/৬৬) : "নুজহাতুল মুসতাক" গ্রন্থের লেখক।
  • জেরাডাস মারকেটর (১৫১২ - ১৫৯৪) : অন্যতম প্রধান মানচিত্র অঙ্কনবিদ ও "মার্কেটর অভিক্ষেপ"-এর প্রবর্তক।
  • আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্‌ড্‌ট্ (১৭৬৯ - ১৮৫৯) : আধুনিক ভূগোলের জনক বলে গন্য করা হয় ও "জীব-ভূগোল"-এর প্রবর্তক।
  • কার্ল রিটার (১৭৭৯ – ১৮৫৯) : আধুনিক ভূগোলের জনক বলে গন্য করা হয় ও বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা।

প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

প্রকাশন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Harper, Douglas। "Online Etymology Dictionary"Etymonline.com। Online Etymology Dictionary। সংগৃহীত ১০ নভেম্বর ২০১৬ 
  2. "Geography"The American Heritage Dictionary/ of the English Language, Fourth Edition। Houghton Mifflin Company। সংগৃহীত ৯ অক্টোবর ২০০৬ 
  3. Pattinson, William D. (Summer ১৯৯০)। "The Four Traditions of Geography"Journal of Geography (National Council for Geographic Education, প্রকাশিত ১৯৬৪)। September/October 1990: 202–206। আইএসএসএন 0022-1341ডিওআই:10.1080/00221349008979196। সংগৃহীত ১০ নভেম্বর ২০১৬