দর্শন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্য থিঙ্কার, অগাস্ট রোডিন কর্তৃক নির্মিত একটি ভাস্কর্য, যা প্রায়শই দর্শনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

দর্শন (philosophy) জ্ঞানের অন্যতম প্রাচীন একটি শাখা। ফিলোসফি শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেছিলেন গ্রিক চিন্তাবিদ ও গণিতজ্ঞ পিথাগোরাস। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ অব্দের দিকে শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়। পিথাগোরাস নিজেকে প্রাজ্ঞ ভাবতেন না, বরং প্রজ্ঞার অনুরাগী ভাবতেন। তিনিই ফিলোসফি শব্দটি ব্যবহার করেন love of wisdom তথা প্রজ্ঞার প্রতি অনুরাগ অর্থে।[১] দর্শনের সংজ্ঞা হিসেবে এই বিষয়টিকেই গ্রহণ করা যায়। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে দর্শন জ্ঞানের এমন একটি ধারা যা, মানুষের কিভাবে জীবন নির্বাহ করা উচিত (নীতিবিদ্যা); কোন ধরনের বস্তুর অস্তিত্ব রয়েছে এবং তাদের প্রকৃতি কি (অধিবিদ্যা); প্রকৃত জ্ঞান বলতে কোন জিনিসটিকে বোঝায় এবং কারণ প্রদর্শনের সঠিক নীতিগুলো কি কি (যুক্তিবিদ্যা); এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে।[২]

সত্রেটিস আদালতের নির্দেশে হেমলক বিষ পান করতে যাচ্ছেন।

বুৎপত্তি[সম্পাদনা]

দর্শন শব্দটি ইংরেজি philosophy শব্দ থেকে এসেছে। ফিলোসফি শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে। গ্রিক ভাষায় φιλοσοφία (philosophía) শব্দটি দুটি শব্দ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। শব্দ দুটি হল: φίλος (ফিলোস: বন্ধু, ভালোবাসার পাত্র) এবং σοφία (সোফিয়া: প্রজ্ঞা)। [৩][৪] এ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, দর্শনের সাথে মূল সম্পর্ক হচ্ছে প্রজ্ঞার, আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, প্রজ্ঞার প্রতি ভালোবাসার। জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা এক জিনিস নয়। ঘটনা ও তথ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ও নির্ভুল ধারণা থেকে জ্ঞান লাভ করা যায়, কিন্তু দার্শনিক (যিনি দর্শন চর্চা করেন তাকেই দার্শনিক বলা হয়) কেবল তথ্যগত জ্ঞানের উপর নির্ভর করেন না। দর্শনের প্রধান কাম্য বিষয় প্রজ্ঞা। প্রজ্ঞার অনুসন্ধান ও চর্চার মাধ্যমেই দর্শন বিকাশ লাভ করে। পিথাগোরাস সারা জীবন প্রজ্ঞার সাধনা করেছেন, কখনও জ্ঞানের গরিমা অনুভব করেননি। এজন্য তিনি দার্শনিক হিসেবে বিদগ্ধ। দর্শনের জন্য যে প্রজ্ঞা কাম্য তার মধ্যে রয়েছে, অন্তর্দৃষ্টি, দৃষ্টিভঙ্গির অভ্রান্ততা, বিচারের ভারসাম্য ও বিশ্লেষণের সামঞ্জস্য।[১]

শাখা[সম্পাদনা]

দর্শন সর্বদা সেসব মৌলিকতম প্রশ্নে বিচরণ করে বেড়ায় যেগুলোর ব্যাপারে মানব জাতি জানার আগ্রহ প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। এগুলো সংখ্যায় অসংখ্য এবং সময়ের আবর্তনে তারা দর্শন বৃক্ষের বহুসংখ্যক পুনরাবৃত্তিমূলক শাখায় সুসজ্জিত হয়েছে।

জ্ঞানতত্ত্ব[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: জ্ঞানতত্ত্ব

জ্ঞানের প্রকৃতি ও সীমাবদ্ধতাগুলো কি কি? কোনটি মানব অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে অধিক মৌলিক, জানা (জ্ঞানতত্ত্ব) নাকি অবস্থান করা (বস্তুগত অধিবিদ্যা)? আমরা যা জানি তা কিভাবে জানতে পারলাম? জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা কি কি? আমরা কিভাবে জানতে পারব যে আশেপাশে আরও মনোজগত আছে (যদি আমরা পারি)? কিভাবে আমরা জানতে পারব যে দৃশ্যমান জগতের বাইরেও একটি জগত আছে (যদি আমরা পারি)? কিভাবে আমরা আমাদের উত্তরকে প্রমাণ করব? সত্য স্বীকারোক্তি কি?

নীতিশাস্ত্র[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: নীতিশাস্ত্র

ভুল এবং সঠিক কাজের (বা মূল্যবোধের বা প্রতিষ্ঠানের) মধ্যে আসলেই কি কোন নীতিগত পার্থক্য আছে? যদি থাকে, সে পার্থক্যটা কি? কোন কাজটা ভালো আর কোনটা মন্দ? স্বর্গীয় নির্দেশ কি সঠিক কাজকে সঠিক বানায়, অথবা এর বাইরে অন্য কিছু কি আছে যার উপর ন্যায় অন্যায় নির্ভরশীল? সুনির্দিষ্ট ন্যায়ের কি কোন মানদণ্ড আছে, নাকি এরকম সকল মানদণ্ড সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত? কিভাবে জীবন নির্বাহ করা উচিত? সুখ কি?

যুক্তিবিদ্যা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: যুক্তিবিদ্যা

প্রকৃত ও যৌক্তিক জ্ঞান বলতে কোন জিনিসটিকে বোঝায় ? কারণ প্রদর্শনের সঠিক নীতিগুলো কি কি? ভালো বিতর্ক কি? জটিল বিতর্ক নিয়ে আমি কিভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করব? ভালো চিন্তায় কি লাভ হয়? কিভাবে আমি কোন কিছুকে অপ্রয়োজনীয় বলতে পারব? যুক্তির মূল উৎস কি বা এর উৎপত্তি কোথা থেকে হয়?

অধিবিদ্যা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: অধিবিদ্যা

কোন ধরনের বস্তুর অস্তিত্ব রয়েছে? তাদের প্রকৃতি কি? কিছু জিনিসকি আসলেই আছে নাকি সেগুলো মতিভ্রম? শূন্যতা ও সময়ের বৈশিষ্ট্য কি? মন এবং শরীরের সম্পর্ক কি? ব্যক্তিত্ব কি? সচেতনতা কি? ঈশ্বর কি আছেন নাকি নেই?

রাজনৈতিক দর্শন[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: রাজনৈতিক দর্শন

ন্যায়বিচার কি? রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং এদের ক্ষমতার চর্চা কি ন্যায়সঙ্গত? সরকারের কি কোন যথাযথ ভূমিকা ও কাজের ক্ষেত্র আছে? সরকার পরিচালনার জন্য গণতন্ত্রই কি শ্রেষ্ঠ পন্থা? সরকার কি নৈতিকভাবে বিচারযোগ্য? রাষ্ট্রের কি তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে দেয়া উচিত? কোন রাষ্ট্রের কি কোন নির্দিষ্ট নৈতিক বা ধর্মীয় মূলনীতির প্রচলিত রীতিনীতি ও মূল্যবোধ প্রচার করা উচিত? রাষ্ট্র কি যুদ্ধে অংশ নেয়ার অনুমতি পাবে? অন্য রাষ্ট্রের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে কি রাষ্ট্রের কোন কর্তব্য আছে

দর্শনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: দর্শনের ইতিহাস

দর্শনের উৎপত্তি সুপ্রাচীনকালে যখন মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি আজকের চেয়ে অনেকটা অপরিপক্ব ছিল। তখন চিন্তার মূল সহায় ছিল কল্পনা ও স্বজ্ঞা

পাশ্চাত্য দর্শন[সম্পাদনা]

গ্রীক দর্শন[সম্পাদনা]

মধ্যযুগ[সম্পাদনা]

এনলাইটেনমেন্ট যুগ[সম্পাদনা]

আধুনিক যুগ[সম্পাদনা]

সমসাময়িক যুগ[সম্পাদনা]

প্রাচ্য দর্শন[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: প্রাচ্য দর্শন

ভারতীয় দর্শন[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ভারতীয় দর্শন

চৈনিক দর্শন[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: চৈনিক দর্শন

ইসলামী দর্শন[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ইসলামী দর্শন

আফ্রিকান দর্শন[সম্পাদনা]

দার্শনিক মতবাদসমূহ[সম্পাদনা]

বাস্তববাদ ও নামবাদ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধগুলি: বাস্তববাদ এবং নামবাদ

দর্শনের এটাই ছিল সবচেয়ে উৎকৃষ্ট পথ-পার্থ বিশ্বাস

বুদ্ধিবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধগুলি: বুদ্ধিবাদ এবং অভিজ্ঞতাবাদ

সংশয়বাদ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: সংশয়বাদ

ভাববাদ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ভাববাদ

প্রয়োগবাদ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: প্রয়োগবাদ

রুপতত্ত্ব[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: রুপতত্ত্ব

অস্তিত্ববাদ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: অস্তিত্ববাদ

বিশ্লেষণী ধারা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: বিশ্লেষণী দর্শন

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

প্রবেশদ্বার আইকন দর্শন প্রবেশদ্বার

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ প্রাচীন ও মধ্যযুগের পাশ্চাত্য দর্শন: অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; শিখা প্রকাশনী - বইমেলা ডিসেম্বর ২০০০, মুদ্রণ: ২০০২। ইতিহাসের আলোকে দর্শন, পৃ. ২১
  2. Quinton, Anthony; ed. Ted Honderich (১৯৯৬)। "Philosophy". The Oxford Companion to Philosophy। 
  3. "But philosophy has been both the seeking of wisdom and the wisdom sought." Dagobert D. Runes। Dictionary of Philosophy। Kessinger Publishing।  ISBN 1-4286-1310-2
  4. The definition of philosophy is: "1.orig., love of, or the search for, wisdom or knowledge 2.theory or logical analysis of the principles underlying conduct, thought, knowledge, and the nature of the universe." Webster's New World Dictionary (Second College সংস্করণ)। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]