ইসলামী যৌন আইনশাস্ত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

ইসলামী যৌন আইনশাস্ত্র বা যৌনতা বিষয়ক ফিকহ (ইংরেজি ভাষায়: Islamic sexual jurisprudence) বলতে সেইসব ইসলামী অনুশাসন বোঝায় যেগুলো দ্বারা মুসলিমদের যৌনাচার নিয়ন্ত্রিত হবে। এইসব অণুশাসন বহির্ভুত সকল প্রকার যৌনাচার ইসলামী মতে নিষিদ্ধ বা হারাম। মানব জীবনের যৌন চাহিদা ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত কিন্তু যৌনাচারের পন্থা সম্পর্কে রয়েছে অনুশাসন।[১][২] মানুষের বিবিধ যৌনাচার অনুমোদনযোগ্য কি-না তা দুটি বিষয় থেকে অনুমানযোগ্য। প্রথমত: যৌনাচারের মূল উদ্দেশ্য বংশবৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত: নারী ও পুরুষ কেবল রীতিসিদ্ধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে যৌনাচারের প্রাধিকার অর্জন করে। ইসলামে যৌনতা বিষয়ক নিয়মাবলি ইসলামী প্রধান ধর্মগ্রন্থ কুরআন, ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ)-এর বাণী ও কর্ম যা হাদীস নামে পরিচিত, ইসলামিক নেতৃবৃন্দ কর্তৃক প্রদত্ত ফতোয়া প্রভৃতিতে ব্যাপক ও বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে, যা নারী ও পুরুষের মাঝে নিয়মতান্ত্রিক যৌন সম্পর্কের মধ্যে সীমিত[১]। যদিও অধিকাংশ ঐতিহ্য সন্ন্যাসদশা ও কৌমার্যকে নিরুৎসাহিত করে থাকে[৩], তবুও সকল ঐতিহ্যেই লিঙ্গসমূহের মধ্যে যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর সতীত্বশালীনতাকে উৎসাহিত করে, যা এই বিষয়টিকে তুলে ধরে যে, তাদের ইসলাম স্বীকৃত অান্তরিক সম্পর্ক জীবনের জন্য একটি পরিবেষ্টনীস্বরূপ এবং যৌন কর্মকাণ্ড থেকেও অনেক বিস্তৃত, যা বিবাহের জন্য ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত। বিবাহের বাইরে লিঙ্গ পার্থক্যকরণ ও শালীনতার এই চেতনা ইসলামের বর্তমান পরিচিত বৈশিষ্ট্যের মাঝে দেখতে পাওয়া যায়, যেমন ইসলামী পোশাকের ব্যাখ্যা এবং লিঙ্গ বিভাজনের মূল্যবোধসমুহ।

বিবাহবহির্ভূত যৌনতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রবল হলেও স্বয়ং যৌন কর্মকাণ্ড ইসলামে কোন নিষিদ্ধ বিষয় নয়।[১][২] ভালোবাসা ও নৈকট্যের মহৎ উপকারিতা হিসেবে কুরআনহাদিসে অণুমোদিত যৌন সম্পর্কসমূহ বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। এমনকি বিয়ের পরেও কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছেঃ কোন পুরুষ তার স্ত্রীর রজঃস্রাবকালীন সময়ে এবং সন্তানপ্রসবের পর একটি নির্ধারিত সময়কালে তার সাথে সঙ্গম করতে পারবে না। পায়ুতে লিঙ্গ প্রবেশকরণও তার জন্য পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। গর্ভপাত (গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যতিরেকে) এবং সমকামিতার মত কর্মকাণ্ড ও আচরণও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি অণুমোদিত।

বয়ঃসন্ধি[সম্পাদনা]

বালিগ বা বুলুগ হল সেই ব্যক্তি যে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছেছে এবং যার উপর ধর্মীয় আইন ও বিধিবিধান কার্যকর হয়েছে।[৪][৫] বিয়ে সম্পর্কিত প্রসঙ্গে, বালিগ শব্দটি হাত্তা তুতিকাল-রিযাল নামক আরবি আইনগত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার অর্থ একজন নারী যৌনসঙ্গমের জন্য শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার বিয়ে দেয়া যাবে না। সে অর্থে, বালিগ বা বালাগাত বলতে যৌন বয়ঃপ্রাপ্তিতে পৌছানোকে বোঝায়, যা রজঃস্রাব শুরুর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। এই দুই মতবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বয়স মিলে যেতে পারে, কিন্তু তা মিলতেই হবে এমন কোন বাধকতা নেই। একমাত্র "রুশদ" নামক একটি পৃথক পর্যায়ে বা নিজস্ব সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণের জন্য বুদ্ধিমত্তাগত বয়ঃপ্রাপ্তি লাভের পর কোন নারী তার মোহর পাবে।[৪] ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির বয়স আনুমানিক প্রায় ১২ বছর এবং লক্ষণ না পেলে আনুমানিক ১৫ চন্দ্রবছর বা সাড়ে ১৪ বছর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে; ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণগুলো হল বয়ঃসন্ধিক কেশোদ্গম, স্বপ্নদোষ ও স্ত্রী-নিষেকক্ষমতা লাভ। মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির বয়স আনুমানিক প্রায় ৯ বছর এবং লক্ষণ না-পেলে আনুমানিক ১৫ চন্দ্রবছর বা সাড়ে ১৪ বছর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে; মেয়েদের বয়ঃপ্রাপ্তির বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণগুলো হল রজঃচক্র, সিক্ত স্বপ্ন ও গর্ভধারণের ক্ষমতা লাভ।

শালীনতা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন: আওরাহ এবং ইসলাম ও পোশাক

ইসলামে যৌনতার পাশাপাশি অন্যতম বিস্তৃত আলোচিত বিষয় হল শালীনতাবোধহাদিস সাহিত্যে, শালীনতাকে "ধর্মবিশ্বাসের অংশ" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[৬] ধর্মীয় পাণ্ডুলিপিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা বিপরীত লিঙ্গ ও সমলিঙ্গের সম্পর্ক এবং পোশাকের সীমারেখা নির্ধারণের মাধ্যমে বিবৃত হয়েছে।[৭][৮] কুরআনে, শালীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশিরভাগ বিষয়ই সূরা নূরে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ,

অপর এক আয়াতে, উল্লেখ করা হয়েছে[৭],

হাদিসেও শালীনতা সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কুরআনের ন্যায় হাদিসেও শালীনতা ও সতীত্বের জন্য আবশ্যক হিসেবে বিবাহকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ,

সুনান আবু দাউদে বর্ণিত,

একটি হাদিসে বলা হয়েছে[৭],

অন্য আরেকটি হাদিসে রয়েছে,[৯]

অন্য আরেকটি হাদিসে রয়েছে,[৯]

অপর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

এছাড়াও শাস্তিযোগ্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আল-মুয়াত্তা নামক গ্রন্থের একটি হাদিস:

এছাড়াও, একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,

বৈবাহিক যৌনাচার[সম্পাদনা]

ইসলামী আইন অণুসারে, বিবাহের মাধ্যমে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক ও যৌনমিলন বৈধ করা হয়।[Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project ১] এবং দৈহিক ও মানসিক যৌন চাহিদা পূরণের জন্য বিবাহের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ককে আবেগীয় সম্পর্ক অথবা প্রজনন প্রক্রিয়ায় সীমিত রাখা হয় নি, বরং ইসলামে বিবাহকে এজন্য ব্যপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে যে, এটি কোন ব্যক্তির যৌন চাহিদা পূরণের জন্য বৈধ প্রতিষ্ঠানের জোগান দেয়।[৩][১০][১১][১২][১৩] ইসলামে যৌনতাকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত পরিসরের নীতিমালা দেয়া হয়েছে; যাই হোক,কুরআন ও হাদিসে বিবাহের চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাঝে সীমাবদ্ধ যৌনতার বহু নীতিমালার সূত্র প্রদান করা হয়েছে, যেগুলো মানবজাতির কল্যাণ ও তাদের প্রাকৃতিক যৌন প্রবণতাকে উচ্চ মর্যাদা প্রদান করে। সূরা বাকারায় (২ঃ২২২) বৈবাহিক জীবনে যৌনতাকে সরাসরি অণুমোদন দেয়া হয়েছে:

বলা হয়েছে যে:

পাশাপাশি, হাদিসের উৎসও বিবাহের মাধ্যমে বৈধপন্থায় যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণের স্বীকৃত মর্যাদাকে অণুরূপভাবে ব্যাখ্যা করেছে। ওয়াসায়লুশ শিয়া সাহাবীদেরদের বিবাহে উৎসাহিতকরণের উদ্দেশ্যে বলা মুহাম্মাদের বানীকে উদ্ধৃত করেছেন, যা হল:

[১৪]

এছাড়া হাদীসে আছে[১৪],

[Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project ২]

ইসলামী যৌন ফিকহের অন্যতম ক্ষেত্র যাতে আলোচনায় খুব বেশি নিষেধাজ্ঞা নেই তা হল বৈবাহিক যৌন কর্মকাণ্ডের পন্থাসমূহ। ইসলামী আইনের অধীনে চর্চাকৃত যৌনসঙ্গম ও যৌনতার পদ্ধতিসমূহের সবগুলোই হাদিস থেকে এসেছে, যা প্রকৃতিগতভাবে নিষেধপ্রবণ নয়। এই হাদিসগুলোর মধ্যকার মূল প্রবণতা হল শয়নকক্ষে মুসলিমদের অণুসরণের জন্য প্রদত্ত বানী, যেগুলো "স্পষ্টভাবে দেখায় যে, স্বামী ও স্ত্রীকে পারস্পারিক উত্তেজনায় অংশ নেয়ার সময় সম্পূর্ণ স্বাধীনতা অণুভব করা উচিত যা পূর্বরাগ নামে পরিচিত। ইসলাম অণুসারে, যৌনকর্মের সময় নারীর সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াতে কোন প্রকারের দোষ নেই।"[Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project ৩] এই বানীগুলো পূর্বরাগ-এর পরামর্শ দেয় এবং সঙ্গমকালে বা পূর্বরাগের সময় ব্যবহৃত পদ্ধতির ধরনগুলোতে কোন বাস্তব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।[১৫][১৬][১৭]

বিপরীতভাবে, যৌনসঙ্গমের একটি ক্ষেত্র যা সাধারণত নিষিদ্ধ তা হল পায়ুসঙ্গম

সকল মুসলিম আইনবিদই একমত যে নিজ স্ত্রীর সাথেও পায়ুকাম নিষিদ্ধ, যার ভিত্তি হল এই হাদিসটি :

নবী মুহাম্মাদ (সা) আরও বলেন,

[১৮]

খুজাইমা ইবনে সাবিদ বর্ণনা করেন,

ইবনে আবাস বর্ণনা করেন: "আল্লাহর রাসুল (সা) বলেছেন:

উপরন্তু, বলা আছে যে নবী মুহাম্মাদ (সা) একে ছোট "সডোমি(অজাচার)" বলে আখ্যায়িত করেছেন। (আন-নাসায়ী হতে বর্ণিত)

বর্ণিত আছে যে, মদিনার ইহুদিগণ বলতো যে, কেও যদি তার স্ত্রীর সাথে পেছন দিক থেকে জরায়ুপথে সঙ্গম করে তবে তার সন্তান ট্যাড়া চোখ নিয়ে জন্মাবে। সে সময়ে একদিন ওমর ইবনুল খাত্তাব নবী মুহাম্মাদ (সা) এর কাছে এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি!" মুহাম্মাদ (সা) প্রশ্ন করলেন, "কি তোমাকে ধ্বংস করেছে?" তিনি উত্তরে বললেন, "গত রাতে আমি আমার স্ত্রীকে পেছন দিকে ঘুরিয়ে ফেলেছিলাম।," অর্থাৎ তিনি পেছন দিক থেকে তার স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সহবাস করেছিলেন।

নবী (সা) তাকে কিছু বললেন না। এরপর এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলঃ

উপরিউক্তে আয়াতে স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সঙ্গমকে শস্যক্ষেত্রে বীজ বপনের সাথে তুলনা করে এটি নির্দেশ করা হয়েছে যে, ইসলামে ইচ্ছেমত যে কোন পন্থায় শুধুমাত্র জরায়ুপথেই সঙ্গম করাকে অণুমোদন দেয়া হয়েছে, কারণ শস্যক্ষেত্রে বীজ বপনের ফলে যেমন ফসল উৎপন্ন হয় ঠিক সেভাবে জরায়ুপথে সঙ্গমের ফলেই সন্তানের জন্ম হয়।

এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী মুহাম্মাদ (সা) ওমর বিন খাত্তাবকে উত্তর দেন, "সামনে বা পেছনে যে কোন দিক থেকে [নিজের স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সংগম কর], কিন্তু পায়ুপথকে পরিহার কর এবং রজস্রাবকালে সঙ্গম থেকে বিরত থাকো।" (আহমাদ এবং তিরমিজী হতে বর্ণিত)

যৌনতায় সীমারেখা ও বিধিনিষেধসমূহ[সম্পাদনা]

চারটি ক্ষেত্রে বৈবাহিক সঙ্গমের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এগুলো হলঃ

  • পায়ুমৈথুন
  • রজঃস্রাবকালীন সময়
  • সন্তান জন্মের পর প্রথম চল্লিশদিন,
  • রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় এবং হজ্জ ও ওমরাহ পালনের সময়। হজ্জ বা ওমরা চলাকালীন সময়ে বিবাহ হলে তা সক্রিয় বলে গণ্য হবে না।[১৯]

মুসলিম পুরুষদের জন্য মূর্তিপূজারী নারীর সঙ্গে বিবাহ (ও সঙ্গম) নিষিদ্ধ। (২ঃ২২১)।[২০] একইভাবে, পিতার স্ত্রীগণ (৪ঃ২২), মাতা, কন্যা, বোন, পিতার বোন, মাতার বোন, ভাইয়ের কন্যা, বোনের কন্যা, দুধ-মাতা, দুধ-বোন, শাশুড়ি, পূর্বে বৈবাহিক বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এমন নারীর কন্যা, পালক পুত্রের মাতা, এবং একই পরিবারের দুই বোন (৪ঃ২৩) ও নিজ ক্রয়কৃত দাসী ব্যতীত সকল বিবাহিত নারী (৩ঃ২৪)।[২০]

পবিত্রতা অর্জন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা[সম্পাদনা]

যৌনক্রিয়া বা সহবাসের সময় দম্পতির যৌনাঙ্গদ্বয়ের পারস্পারিক অণুপ্রবেশ অথবা অণুপ্রবেশের পর বীর্যস্খলন হলে সহবাসের পর স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের পূর্ণরুপে ধর্মীয় পরামর্শ অণুযায়ী পূর্ণ শরীর স্নান বা গোসল করা প্রয়োজন, যাতে তারা পরবর্তী উপাসনা বা সালাতের পূর্বে ধর্মীয় পবিত্রতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে।[২১] গোসলের জন্য প্রয়োজন এমন পরিষ্কার ও দুর্গণ্ধবিহীন পবিত্র পানি যা ইতিপূর্বে গোসল বা শৌচকাজে ব্যবহৃত হয় নি, এবং উপাসনার স্বার্থে পবিত্র হওয়ার মনসংকল্প বিবৃতকরণের মাধ্যমে স্নানকার্যের সূচনা করা হয়।[২২] এরপর দেহের কোন স্থান শুকনো না থাকে এমনভাবে সম্পূর্ণ শরীরে পানি ঢালার পর দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করা হয়।[২২]

উপবাস এবং রমজান[সম্পাদনা]

রমজান মাসে ধর্মীয় উপবাস বা রোজার সময় যৌনসঙ্গম নিষিদ্ধ, এ সময় যৌনসঙ্গম করলে বা কোন কারণে বীর্যপাত ঘটালে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। যৌন উত্তেজনা বশত: বীর্য-তরল বা কামঃরস নির্গত হলে রোজা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।[২৩] তবে রোজাবিহীন অবস্থায় রাত্রিকালীন সময়ে তা নিষিদ্ধ নয়।[২৩][২৪]

বিবাহবহির্ভূত যৌনতা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: যিনা

ইসলামী আইনশাস্ত্রে যেমন বৈবাহিক যৌনতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে বিবাহবহির্ভূত যৌনতাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। উপরন্তু, কুরআনে এই আইনগুলোর লিখিত নিশ্চয়তা রয়েছে।

কুরআনের ২৪ (সূরা নূর):২-৩ আয়াতে বলা হয়েছে যে, ইসলামী আইনে বিয়ে এবং উপপত্নীত্ব ব্যতীত অন্যান্য যৌন সম্পর্কসমূহ জিনা (ব্যভিচার) হিসেবে নিষিদ্ধ। উক্ত আয়াতসমূহে আরও বলা হয়েছে, অবিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে একশতটি বেত্রাঘাত প্রদান করতে হবে এবং উক্ত ব্যভিচারী নারী বা পুরুষ অপর ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকেই শুধুমাত্র বিয়ে করতে পারবে; পাশাপাশি বিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে (পরকীয়া) পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।[২৫] ব্যভিচারের অভিযোগ প্রমাণ প্রসঙ্গে সূরা নিসার ১৫-১৬ আয়াতে চার জন পুরুষ সাক্ষী হাজির করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, এবং সূরা নূরের ৪-৫ আয়াতের বলা হয়েছে যে, চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে অপারগ হলে অভিযোগকারীকে আশিটি বেত্রাঘাতের শাস্তি প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য, ইসলামী আইনে উপপত্নীত্ব হল একমাত্র যৌনতা যা বিবাহবহির্ভূত হওয়া সত্ত্বেও বৈধ বলে স্বীকৃত। মালিক ইবনে আনাস একটি বর্ণনায় বলেন যে, "ওমর বিন খাত্তাব বলেছেন যে যখন কোন কৃতদাসী তার মনিবের সন্তান জন্ম দেবে তখন সেই দাসী একজন "উম্মে ওয়ালাদ"-এ পরিণত হবে (সন্তানের মা, উপপত্নী)।"[২৬]

বিবাহবহির্ভূত যৌনতা নিষিদ্ধকারী আইনের ন্যায়, কুরআন নারীদের কিছু শ্রেণীকে নির্ধারিত করেছে যাদের সাথে সঙ্গম করা পুরুষদের জন্য রহিত করা হয়েছে। সূরা নিসার ২২-২৪ নং আয়াতে মাতা, কন্যা, বোন, খালা, ফুফু, ভাগ্নি, ভাতিজি, দুধমাতা, দুধ্মাতার কন্যা, স্ত্রীর মাতা, স্ত্রীগণের অন্য স্বামীর কন্যাগণ, পুত্রদের স্ত্রীগণ এবং ইতোমধ্যে বিবাহিত নারীদেরকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, সূরা বাকারার ২২২ আয়াতে ঋতুবর্তী নারীদের সঙ্গে সঙ্গম করতে নিষেধ করা হয়েছে।[২৬]

পতিতাবৃত্তি[সম্পাদনা]

পতিতাবৃত্তি ইসলামে নিষিদ্ধ। কুরআনে বলা হয়েছে,

কোন মুসলিম যদি এ কাজে সম্পৃক্ত হয় অবে তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে আরবে এর প্রচলন ছিল। ইসলাম আগমনের পর নবী মুহাম্মাদ(সঃ) সকল স্তরে পতিতাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। আবু মাসুদ আল আনসারি বর্ণিত:

তবে, দাসপ্রথার সময়কালে উপপত্নীত্ব নামক যৌন দাসত্বকে ইসলামে পতিতাবৃত্তি হিসেবে গণ্য করা হত না এবং মধ্যযুগে এবং আধুনিক যুগের সূচনাকালে আরব দাস ব্যবসার সময় তা বহুলভাবে প্রচলিত ছিল, এসময় ককেশাস, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের মহিলা ও নারীদেরকে বন্দী করে নিয়ে আসা হতো এবং আরব বিশ্বের হেরেমগুলোতে উপপত্নী হিসেবে পরিবেশন করা হতো।[২৭] ইবনে বতুতা তার ভ্রমণকথায় বহুবার দাসী কেনার বা উপহার পাবার কথা উল্লেখ করেছেন।[২৮]

শিয়া মুসলিমদের মতানুযায়ী, নবী মুহাম্মাদ নিকাহ মুতাহ নামক নির্দিষ্টকালের জন্য বিয়ের অণুমতি দিয়েছিলেন — যা ইরাক ও ইরানে এখনো সেখানকার যৌনকর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ পতিতাবৃত্তির বিকল্প বৈধ মোড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[২৯] তবে সুন্নি মুসলিমগণের বক্তব্য হল, মুতাহ বিয়ের চর্চা নবী মুহাম্মাদ নিজেই বাতিল করেছিলেন এবং খলিফা আবু বকরের সময় তা পুনরাবির্ভাব ঘটার পর খলিফা ওমর পুনরায় এটি নিষিদ্ধ করেছিলেন।[৩০][৩১][৩২]

সডোমি[সম্পাদনা]

নবী লূত-এর সম্প্রদায়ের "সীমালঙ্ঘনমূলক কাজগুলোকে" সডোমি বলা হয়, এগুলো হল অজাচার, সমকামিতা, পশুকামিতাপায়ুসঙ্গম। কুরআনে লুতের সম্প্রদায়ের ঘটনার মাধ্যমে সডোমিকে উল্লেখ করা হয়েছে।[৩৩]। নবী মুহাম্মাদ (সা) তার অণুসারীদের মাঝে লূত-এর সম্প্রদায়ের এই সকল "সীমালঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ড" ছড়িয়ে পড়ার ব্যপারে সতর্ক করেছেন এবং তার অণুসারীদের মাঝে এসব কর্মে জড়িত ব্যক্তিদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। আবু বকর তার খিলাফতের সময় এ ধরনের ব্যক্তিদের উপর দেয়াল ধ্সিয়ে দিতেন এবং আলী তার খিলাফতের সময় এদের আগুনে পুড়িয়ে মারতেন। ইসলামী বিধান অণুযায়ী মানবদেহে পায়ূতে লিঙ্গ প্রবেশ হারাম।[৩৪] নিজ স্ত্রীর সঙ্গেও পায়ূমৈথুন হারাম বা নিষিদ্ধ।[৩৫][৩৬] কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে পায়ুসঙ্গমের প্রস্তাব স্ত্রীর কর্তব্য হল তা বাধা দেয়া, এবং স্বামী যদি জোর করে তবে স্ত্রী চাইলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে।[৩৭] স্বামী স্ত্রীর পায়ুসঙ্গমে বিবাহ বাতিল না হলেও স্ত্রী যদি চায় এ অভিযোগে তালাকের আবেদন করতে পারবে।[৩৮] ইসলামী বিধান অণুসারে, পায়ুসঙ্গম কবিরা গুনাহ বা সর্বোচ্চ পাপসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে, কিছু মুসলিম দেশে সডোমি মৃত্যুদণ্ড-যোগ্য অপরাধ, যাদের অন্যতম হল সৌদি আরব, ইয়েমেন ও নাইজেরিয়ার শরিয়া আদালত।[৩৯]

সমকাম[সম্পাদনা]

সমলিঙ্গীয় যৌনাচার বা সমকামিতা ইসলামে নিষিদ্ধ[৪০], এছাড়াও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি নিকৃষ্টতম পাপ।[৪১][৪১][৪২][৪৩][৪৪][৪৫] ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি বিকৃত যৌনাচার যা সৃষ্টিগতভাবে "মানব জাতিতে" যৌনতার বিপরীতকামী-স্বাভাবিকতা-বিবর্জিত এবং মানব যৌনতার মৌলিক ও কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য "প্রাকৃতিকভাবে সহজাত প্রজনন"-এর পরিপন্থী।[৪৬] ইসলাম কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অর্থাৎ বৈধভাবে বিবাহিত নারী ও পুরুষের মধ্যে এবং মুসলিম পুরুষ ও তার উপপত্নীর মধ্যে যৌনসঙ্গম অণুমোদন করে।[৪০] এর বাইরে সকল যৌনাচার ইসলামে নিষিদ্ধ।[৪০] সমলিঙ্গীয় যৌনাচারের কারণে অতীতে নবী লূত-এর সম্প্রদায়কে ঐশী বিপর্যয়ের ধ্বংস করে দেয়ার সাবধানকারী ঘটনা কুরআনের একাধিক সূরা[৪৭] ও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।[৪২][৪৩][৪৮] এছাড়া নবী মুহাম্মদ(সাঃ) সমকামীদের অভিসম্পাত করেছেন, নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্রস জেন্ডার বিহেভিয়ারকে (আন্তঃলিঙ্গীয় আচরণ, নারী কর্তৃক পুরূষের পোশাক বা আচরণ এবং পুরুষ কর্তৃক নারীর পোশাক বা আচরণ অণুকরণ) অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সমাজকে সমকামিতার প্রভাবমুক্ত রাখতে সমকামীদেরকে (পুরুষ পায়ুকামী জোড়দের[৪৯]) মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন[৪৩][৫০][৫১]: এছাড়া চারখলিফা সহ প্রাথমিক খলিফাগণও সমকামী জোড়কে বিভিন্নভাবে প্রাণদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে এ ব্যাপারে ঐকমত্য প্রদর্শন করেছেন।[৩৩] তবে সমকামিতা নিষিদ্ধ হলেও প্লেটোনিক সম্পর্ককে ইসলামে ব্যাপকভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। ইসলামে সমকামিতা বিষয়ক আলোচনা মূলত পুরুষদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত; ফুকাহাগণ (ইসলামী আইনবিদ) এব্যাপারে সম্মত হয়েছেন যে "নারী সমকামিতার জন্য কোন হুদুদ শাস্তি নেই, কারণ এটি জিনা নয়। তবে একটি তাজির শাস্তি অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে, কারণ এটি একটি পাপ..'".[৫২] যদিও নারীদের সমকামিতার কথা ইসলামের ইতিহাসে পাওয়া যায় না বললেই চলে, আল-তাবারি আল হাদির শাসনকালে তার কার্যক্রম নিয়ে লোকমুখে প্রচলিত ও সমালোচিত কাহিনীর সংকলনে উক্ত খলিফার হেরেমে একজোড়া সমকামী দাসীর অপ্রচলিত শাস্তির কথা উদ্ধৃত করেন।[৫৩] কিছু আইনবিদ মনে করেন যৌনসঙ্গম একমাত্র সে ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব যার শিশ্ন বা শিশ্নের ন্যায় নিম্নাঙ্গ আছে;[৩৯] তাই যৌনমিলনের উক্ত সংজ্ঞানুযায়ী এটি সঙ্গীর ছিদ্রপথে ন্যূনতম পরিমাণ হিসেবে অন্ততপক্ষে শিশ্নাঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশ করানোর উপর নির্ভরশীল।[৩৯] যেহেতু নারীদের শিশ্ন বা অণুরূপ কোন নিম্নাঙ্গ নেই এবং একে অপরের ছিদ্রপথে অঙ্গ সঞ্চালনে সক্ষম নয়, তাই উক্ত সংজ্ঞানুযায়ী তারা একে অপরের সঙ্গে শারীরিকভাবে জিনায় লিপ্ত হতে অক্ষম বলে গণ্য হয়।[৩৯]

রূপান্তরকামিতা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধগুলি: ইসলামে এলজিবিটি এবং মুখান্নাতুন

মুখান্নাতুন (مخنثون "মেয়েলী", "নারীর বেশধারী পুরুষ", একবচন মুখান্নাত) হল প্রাচীন আরবি ভাষায়, রূপান্তরিত নারীর বর্তমান ধারার একটি প্রাচীন উত্তরসূরি, যাকে জোরপূর্বক নপুংসক হতে বাধ্য করা হয়েছে। হাদিসে ও ইসলামী পণ্ডিতদের দ্বারা মুখান্নাতুন শব্দটি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। শব্দটি দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে আচরণে, কথায়, বেশভূষায়, চলনে বলনে, এবং অন্যান্য বিষয়ে নারীর ন্যায় আচরণ করে। মুখান্নাত বা মেয়েলি পুরুষ হল সেই ব্যক্তি যে নিশ্চিতভাবে পুরুষ, খুন্তা (আন্তঃলিঙ্গ) দের মত জন্মগত সমস্যাধারী নয়। মেয়েলি আচরণকারী মানুষ দুই প্রকারের। (i)যারা জন্মগতভাবে এরূপে সৃষ্ট (আন্তঃলিঙ্গ); ফলে তাদের এ ব্যাপারে কোন পাপ নেই। (ii)যারা জন্মগতভাবে এরূপে সৃষ্ট নয়; বরং তারা চলন ও বলনে নারীদের অনুকরণ করতে পছন্দ করে। এ ধরনের লোকদের হাদিসে অভিশাপ দেয়া হয়েছে।[৫৪] নিম্নোক্ত হাদিসটিতে ঐতিহ্যবাহী রূপান্তরকামী আচরণের প্রতি বলা হয়েছে:

আবদুল্লাহ বিন আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত: নবী মেয়েলী পুরুষদের অভিশাপ দিয়েছেন; সেসব পুরুষদের যারা (নারীদের আচরণ) সমতুল্য আচরণ অনুকরণ করে এবং শেসব নারীদের যারা পুরুষদের আচরণ অনুকরণ করে, এবং তিনি বলেছেন, "এদেরকে তোমাদের বাড়ি থেকে বের করে দাও।" নবী এমন পুরুষদের বাড়ি থেকে বের করে দিতেন, এবং ওমরও এমন পুরুষদের বাড়ি থেকে বের করে দিতেন।

সহীহ বুখারী, ৭:৭২:৭৭৪ (ইংরেজি)

লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রপাচার অর্থ যে সকল সুস্থ পুরুষ ও নারী, যারা কোন প্রকার বিকলাঙ্গতায় ভুগছেন না, যারা বিয়ে ও প্রজনন করতে সক্ষম, তারা নিজেদেরকে বিপরীত লিঙ্গের দৈহিক আকারে রূপান্তরিত করার জন্য বাছাইকৃত অস্ত্রপাচার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ ধরনের অস্ত্রপাচার ইসলামী আইনে নিষিদ্ধ কারণ এটি হল অপ্রয়োজনে এবং আত্ম-অহংকারবশত আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করা। কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে শয়তান বলে:

“এবং আমি তাদের আদেশ দেবো যেন তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করে।”

[সূরা নিসা’:১১৯]

উপরন্তু এটি বিপরীত লিঙ্গকে অনুকরণ করার চরমতম পন্থা। ইসলামিক নবী মুহাম্মাদ বলেন: “আল্লাহ সে সকল পুরুষদের অভিশাপ দেন যারা নারীদের অনুকরণ করে এবং সে সকল নারীদেরকে যারা পুরুষদের অনুকরণ করে।” [৫৫]

আন্তঃলিঙ্গ[সম্পাদনা]

আন্তঃলিঙ্গ হল সেই ব্যক্তি যার দেহে নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌনাঙ্গ উপস্থিত। ফিকহ শাস্ত্রে এ ধরনের ব্যক্তিকে খুনথা বলা হয়ে থাকে।[৫৬] খুনথা মূলত তিন প্রকারের:

১. যদিও তার দেহে উভয় যৌনাঙ্গ উপস্থিত, কিন্তু সে পুরুষের যৌনাঙ্গ হতে মূত্রত্যাগ করে। এই ব্যক্তি পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পুরুষদের উপর প্রযোজ্য নিয়মকানুন তার উপরও প্রযোজ্য হবে।

২. যে ব্যক্তি নারী যৌনাঙ্গের মাধ্যমে মূত্রত্যাগ করে তাকে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নারীদের উপর প্রযোজ্য আইনকানুন তার উপরও প্রযোজ্য হবে। এই পদ্ধতি বয়ঃপ্রাপ্তির আগ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। বয়ঃপ্রাপ্তির পর, উক্ত ব্যক্তিকে আবার পরীক্ষা করতে হবে। যদি তার পুরুষের ন্যায় সিক্তস্বপ্ন ও বীর্যস্খলন হয় তাহলে শে পুরুষ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তার নারীদের মত স্তন বৃদ্ধি ও অন্যান্য নারী বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে তখন তাকে নারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

৩. যখন নারী ও পুরুষ বৈশিষ্ট্য সমান হবে এবং তার মধ্যে পুরুষ কিংবা নারী বৈশিষ্ট্যের আধিক্য নির্ণয় করা সম্ভব হবে না তখন তাকে খুনথা মুশকিল হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে। এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদা আইন প্রযোজ্য হবে। উদাহরণস্বরূপঃ খুনথা মুশকিলের জন্য রেশম ও অলংকার পরিধান বৈধ হবে না, এই দুটোই শুধুমাত্র নারীদের জন্য অনুমোদিত, কিন্তু যেহেতু উক্ত ব্যক্তির অবস্থা নিশ্চিত নয়, তাই সতর্কতা হিসেবে উক্ত ব্যক্তি রেশম ও অলংকার পড়তে পারবে না, কারণ তার মধ্যে অধিক পুরুষ হবার সম্ভাবনা এখনো বিদ্যমান আছে। এমন ব্যক্তি মাহরাম ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবে না,কারণ তার মধ্যে অধিক নারী হবার সম্ভাবনা এখনো বিদ্যমান আছে। যখন এমন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তাকে গোসল দেয়া যাবে না কারণ প্রশ্ন উত্থাপিত হবে যে, কে তাকে গোসল করাবে, নারী নাকি পুরুষ। এমন ব্যক্তিকে তায়াম্মুম করিয়ে দিতে হবে। কোন গায়রে মাহরাম তার তায়াম্মুম করায় তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে দুই হাত কাপড় দিয়ে ঢেকে নিতে হবে। তবে মাহ্রাম ব্যক্তির হাত কাপড় দিয়ে ঢাকতে হবে না।[৫৬]

লিঙ্গ নিশ্চিত অবস্থায় বিবাহের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি তার বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিকে বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু যদি লিঙ্গ নির্ধারণ অনিশ্চিত হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তার বিবাহ বৈধ হবে না, কারণ যদি সে পুরুষ হয় তবে অপর পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে না, আর যদি সে নারী হয় তবে অপর নারীকে বিয়ে করতে পারবে না। এমন ব্যক্তি যদি নারীদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে এবং নিজেকে পুরুষ বলে দাবি করে, তবে সেটি তার অধিকহারে পুরুষ হওয়ার একটি লক্ষণ বলে বিবেচিত হবে; আর যদি সে পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে এবং নিজেকে নারী বলে দাবি করে, তবে সেটি তার অধিকহারে নারী হওয়ার একটি লক্ষণ বলে বিবেচিত হবে।[৫৪]

সংশোধনমূলক আন্তঃলিঙ্গ অস্ত্রপাচার আন্তলিঙ্গের জন্য বৈধ কারণ এটি যৌনাঙ্গের বিকলাঙ্গতা দুর করে এবং ব্যক্তির বাহ্যিক গঠন ও ক্রোমোজোমীয় লিঙ্গের সঙ্গে সামঞ্জস্য অর্জনে ভূমিকা রাখে; উপরন্তু তার অর্জিত যৌনাঙ্গ হল চিকিৎসা যা আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটানো কিংবা বিপরীত লিঙ্গের অনুকরণ নয়।[৫৫]

উপপত্নী[সম্পাদনা]

উপপত্নীত্ব (সুরাইয়া) হল কোন পুরুষের সাথে তার "অধিকৃত ক্রীতদাসী (জারিয়া) এবং অধিকৃত যুদ্ধবন্দী দাসী"র যৌন সম্পর্ক।[২৬] "সুরাইয়া" শব্দটি কুরআনে উল্লেখিত হয় নি, সেখানে মূলত দাসদাসী এবং উপপত্নীদের বোঝাতে মোট ১৫ বার "মা মালাকাত আইমানুকুম" (তোমার ডান হাত যার মালিকানা ধারণ করে) বাগধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলাম পূর্ব আরবে দাসপ্রথা চলাকালীন সময়ে উপপত্নীত্ব প্রচলিত ছিল এবং ইসলাম আগমনের পর এর উপর কিছু সীমারেখা ও নীতি নির্ধারণ করে একে বৈধতা দেয়া হয়।[৪০] একজন মুসলিম পুরুষ তার ক্রয়কৃত মুসলিম বা অমুসলিম ক্রীতদাসী বা অধিকৃত মুসলিম বা অমুসলিম যুদ্ধবন্দিনীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়তে পারবে, গর্ভধারণ এড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ (কয়শাস ইন্টারাপশাস) করতে পারবে এবং তার সন্তানের পিতা হতে পারবে, তবে যদি উক্ত দাসী তার সন্তানের মা হয় তবে সেই দাসী উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানের মা) উপাধি পাবে, যার ফলে তার মালিক পর তাকে আর অন্য কোথাও বিক্রি করতে পারবে না। একজন মুসলিম পুরুষ তার নিজের মালিকানাধীন একাধিক দাসী এবং/অথবা যুদ্ধবন্দীনীর সাথে উপপত্নীত্বের সম্পর্ক করতে পারবে, কিন্তু সে তার স্ত্রীর অধিকৃত দাসীর সাথে এ ধরনের সম্পর্ক করতে পারবে না। একজন মুসলিম চাইলে তার অধিকৃত দাসী/বন্দীনীকে বিয়ে করতে পারবে, তবে বিয়ের পূর্বে তাকে দাসত্ব হতে মুক্তি দিতে হবে। হাদিসেও দাসীকে মুক্ত করে তাকে বিয়ে করার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে।[৫৭][৫৮] উপপত্নীদের গর্ভে জন্ম নেয়া তার সন্তান বৈধ বলে বিবেচিত হবে এবং তার মৃত্যুর পর উপপত্নী ও তার সন্তানগণ স্বাধীন বলে বিবেচিত হবে[৪০] এছাড়াও, বিবাহিত স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের অণুরুপ তারাও একই পরিমাণে উক্ত মুসলিম পুরুষের সম্পত্তির ভাগ পাবে।

ধর্ষণ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধগুলি: যিনা § ধর্ষণ এবং ইসলামে নারী

ধর্ষণ বা যিনা-আল জিবর হল জোরপূর্বক বিবাহ বহির্ভূত জোরপূর্বক যৌনসঙ্গম, যা ইসলামে নিষিদ্ধ, ইসলামী আইন অণুযায়ী এটি হিরাবাহ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। তিরমিজি ও আবু দাউদের বর্ণিত একটি অভিন্ন হাদিসে নবী মুহাম্মাদ কর্তৃক কোন এক ধর্ষককে শাস্তিস্বরূপ পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার কথা উল্লেখিত হয়েছে।[৫৯]

তাই হাদিসের বিবৃতি অণুযায়ী অধিকাংশ আইনবিদের বক্তব্য হল, ধর্ষকের শাস্তি হল মৃত্যুদণ্ড। তবে কিছু আধুনিক আইনবিদ মনে করেন, ধর্ষকের শাস্তি একজন জিনাকারীর মতই, অর্থাৎ ধর্ষক বিবাহিত হলে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড এবং অবিবাহিত হলে তাকে একশত বেত্রাঘাত প্রদান এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দিতে হবে: এবং উভয় ক্ষেত্রেই শাস্তি জনসম্মুখে প্রদান করতে হবে। ধর্ষিতাকে কোন প্রকার শাস্তি দেয়া হবে না, কারণ ধর্ষিতাদের সাধারণত প্রতিরোধ ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বল হয়ে থাকেন।[৬০]

মুখমৈথুন[সম্পাদনা]

ইসলামে বৈবাহিক মুখমৈথুনকে কিছু আইনবিদ মাকরুহ তাহরীমী[৬১][৬২] বা কঠোরভাবে বর্জনীয় বলে স্বাব্যস্ত করেছেন।[৬৩] এর পেছনে কারণটি কুরআন ও হাদিসে একে উৎসাহিত করা হয় নি সে কারণে নয়, বরং তা হল শালীনতা, পবিত্রতা (ইসলামে ধর্মীয় রীতিনীতিগত পবিত্রতা বা তাহারাত) ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক দ্বন্দ্ব।[৬৪] এর পেছনে সবচেয়ে সাধারণ দাবিটি হল,[৬২] যে, মুখ এবং জিহ্বা কুরআন পঠন ও আল্লাহর স্মরণে ব্যবহৃত হয়, তাই তা অপবিত্রতায় ব্যবহার করা উচিত নয়।[৬৫] চারটি সুন্নি মাজহাবের পণ্ডিতগণের মধ্যে বীর্য নিঃসরণ পবিত্র কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কিছু পণ্ডিত একে অপবিত্র মনে করেন এবং কিছু পণ্ডিত করেন না।

স্বমেহন[সম্পাদনা]

অধিকাংশ ইসলামী আইনবিদের মতে, সাধারণভাবে হস্তমৈথুন বা স্বমেহন হল হারাম বা নিষিদ্ধ।[৬৬][৬৭][৬৮] তবে হস্তমৈথুন নিয়ে ইসলামী পণ্ডিতগণের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে।[৬৯] কুরআনে হস্তমৈথুন নিয়ে কিছু বলা হয় নি, হাদিসে তা উল্লেখ থাকার দাবি করা হলেও উক্ত দাবি সর্বসম্মত নয়। প্রাথমিকযূগের অধিকাংশ আলেমগণ একে নিষিদ্ধ বলেছেন এবং আল-তারিবিয়াহসহ পরবর্তী সময়ের কিছু আলেম ব্যভিচারের আশঙ্কা থাকলে বিকল্প হিসেবে এর অণুমতি দিয়েছেন।[৭০] আহমদ ইবনে হাম্বলের মতে বৈধ যৌনসঙ্গীর অভাবে সমস্যায় ভুগছেন এমন নারী পুরুষ, মুসাফির ও বন্দীদের জন্য তা বৈধ।[৬৮] পূর্ব থেকেই একটি অভিমত প্রচলিত ছিল যে, ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে বিকল্প হিসেবে হস্তমৈথুনের অণুমতি দেয়া যেতে পারে। [৭১] অর্থাৎ, প্রাথমিক ইসলামী যুগের সকল ইসলামী পণ্ডিতগণ এর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপে সর্বসম্মতভাবে রাজি ছিলেন না। হস্তমৈথুনকারীদের মধ্যে যারা নিজ সতীত্ব রক্ষার জন্য হস্তমৈথুন করে এবং যারা সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও আকাঙ্ক্ষাকে তৃপ্ত করতে হস্তমৈথুন করে, এই দুই দলকে ফিকহবিদগণ আলাদা আলাদা দৃষ্টিতে বিচার করে থাকেন।[৬৯][৭২]

রাত্রিকালীন নির্গমন[সম্পাদনা]

ইসলামে রাত্রিকালীন নির্গমন পাপ নয়; অধিকন্তু, (রমজান বা অন্য সময়ে) উপবাসকারী কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রাগমোচন ঘটান (স্বমেহন বা সঙ্গমের মাধ্যমে) তবে তার উপবাস ভঙ্গ বলে বিবেচিত হবে, কিন্তু রাত্রিকালীন নির্গমনের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। তবে সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধিবিধান পালনের জন্য স্নান করার প্রয়োজনীয়তা বহাল থাকে। মুসলিম পণ্ডিতগণ রাগমোচনকে ধর্মীয় অপবিত্রতা সৃষ্টিকারী হিসেবে দেখেন, এমন একটি দশা যাকে জুনুব বলা হয়; যার অর্থ কোন মুসলিম যার রাগমোচন ঘটেছে তাকে অবশ্যই কুরআন পঠন বা সালাত আদায়ের পূর্বে একবার গোসল করতে হবে।[৭৩]

রজঃস্রাব[সম্পাদনা]

রজঃস্রাবকে (হায়েজ/নিফাস) ইসলামে নারীর একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে। রজঃস্রাব দশায় নারীদের সালাত ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হতে অব্যহতি দেয়া হয়।[৭৪] পাশাপাশি গোসলের মাধ্যমে নিয়মিত পবিত্র হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্ত্রীর রজ:স্রাব কালে যৌনসঙ্গম নিষিদ্ধ[২৬], তবে যৌনমিলন ব্যতীত শারীরিক মিলন নিষিদ্ধ নয়।[৭৫] ইবনে কাসির, নামক একজন হাদিসবিদ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যাতে রজঃস্রাবী স্ত্রীদের সঙ্গে মুহাম্মাদের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এই হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে, মুহাম্মাদ (সা) রজঃস্রাব চলাকালে জরায়ুজ সঙ্গম ছাড়া দাম্পত্য সম্পর্কের অন্য সব বৈধ আন্তরিক কর্মকাণ্ডকে অণুমোদন দিয়েছেন। রজচক্র শেষ হওয়ার পর ধর্মীয় কাজ ও দাম্পত্য সম্পর্কে অংশ নেয়ার পূর্বে নারীদেরকে স্নান (গোসল )করে পরিচ্ছন্ন হতে হয়।[৭৬]

জন্মনিয়ন্ত্রণ[সম্পাদনা]

কুরআনে জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে মুসলিমগণ হাদিসকে নির্দেশ করে থাকেন। এই প্রশ্নে মুহাম্মাদের সাহাবীদের ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ যাবির, মুহাম্মাদের একজন সাহাবী, একটি হাদিস বর্ণনা করেন যাতে একজন লোক মুহাম্মাদের কাছে এসে বলে

এ কারণে, হাদিস অণুযায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের "প্রত্যাহার পদ্ধতি" (কয়শাস ইন্টারাপশাস) অণুমোদিত। মুসলিম আইনবিদগণ এর অণুমতির ব্যাপারে সম্মতি দেন[৭৮] এবং এর সঙ্গে তুলনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণের অন্যান্য পদ্ধতিগুলোকেও অণুমোদন দেন (উদাহরণ: কনডমের ব্যবহার)।[৭৯]

এর সমর্থনে অন্যান্য হাদিসগুলো হল:

গর্ভপাত[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ইসলাম ও গর্ভপাত

গর্ভপাত নিয়ে বিভিন্ন মুসলিম আইনশাস্ত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে, যদিও অধিকাংশ আইনবিদই একে নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করে থাকেন।[৮২] সাধারণ অবস্থায়, ইসলামে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। সকল আলেমই গর্ভে সন্তান আসার পর গর্ভপাত না করার অভিমত দিয়ে থাকেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গর্ভপাতের অণুমতি দেয়া হয়, উদাহরণস্বরূপ মায়ের স্বাস্থ্য যদি (গুরুতরভাবে) হুমকির সম্মুখীন হয় এবং মায়ের জীবন বাঁচাতে যদি গর্ভপাতের প্রয়োজন হয় তবে। বিশ্বের সকল মুসলিম একমত যে, মায়ের জীবন ভ্রুনের জীবন হতে অধিক গুরুত্বের দাবি রাখে।[৮৩] "গর্ভপাতের ছোট ক্ষতিকে গ্রহণ করে মাতৃমৃত্যুর বড়ক্ষতিকে রোধ করা উচিত" এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে মুসলিম আইনবিদগণ এমন পরিস্থিতিতে গর্ভপাতের অণুমতি দিয়ে থাকেন। এরকম ক্ষেত্রে, একজন চিকিৎসককে আলেমের তুলনায় অধিক উত্তম বিচারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কোন কারণ ব্যতিরেকে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত সাধারণত হারাম (নিষিদ্ধ)। নবজাতক ভরণ-পোষণের অর্থের অভাবে হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। কোরআনে বলা হয়েছে,

এছাড়াও অনেক আলেমের মতে, গর্ভপাতের অণুমতির ক্ষেত্রে ভ্রুনের বয়স চার মাসের কম হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নবী মুহাম্মাদ মাতৃগর্ভে মানব শিশু জন্মের স্তর সম্পর্কে এভাবে বলেছেন,

অর্থাৎ, হাদিসের বিবৃতি অণুযায়ী, ৪ মাস বয়সে সন্তান মাতৃগর্ভে জীবিত হয়ে ওঠে এবং এ কারণে অনেক আলেম ৪ মাসের বেশি বয়সের ভ্রুনের গর্ভপাত করতে নিষেধ করে থাকেন।[৮৪]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • ফাতওয়া ইসলামিয়াঃ (ইসলামিক ভার্ডিক্টস) ( ৮ খণ্ড একত্রে) ,(ইংরেজি ভাষায়) প্রকাশনি:দার-উস-সালাম পাবলিকেশন্স (২০০১) এএসআইএন B000IXTSCK
  • এহইয়াউ উলুমিদ্দীন (সব খণ্ড একত্রে),হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী রহ.;সোলেমানিয়া বুক হাউস
  • কোরআন হাদীসের আলোকে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন ও ইসলামে যৌন বিধান , ২০০৯ , হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহসান হাবীব , হোসাইনিয়া লাইব্রেরী , পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫৬০ , ISBN 9789848848050
  • কুরআনিক চিকিৎসা (জ্বিনের আছর, যাদু, যৌন ও ক্যান্সারসহ বিবিধ চিকিৎসা) ,২০১৬ ,শায়খ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালী , ইসলাম হাউস পাবলিকেশন্স
  • বেহেশতী জেওর (১ম-৩য় খণ্ড একত্রে ) (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী চিশতী রহ.) , হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. (অনুবাদক ); এমদাদিয়া লাইব্রেরী
  • শাইখুল ইসলাম জাস্টিস মুফতী, মুহাম্মদ তাকী উসমানী (জুন, ২০১২)। ইসলাম ও আমাদের জীবন (১-১৪ খণ্ড একত্রে) (বাংলা ভাষায়)। অনুবাদক:মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম,মাকতাবাতুল আশরাফ।
  • আহকামে যিন্দেগী ,পঞ্চম সংস্করণ ২০১৫, মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন , মাকতাবাতুল আবরার ,
  • কুরআন হাদিসের আলোকে ইসলামী বিবাহ , হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) , মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী (সম্পাদক) , নাদিয়াতুল কুরআন প্রকাশনী
  • কোরআন ও হাদীসের আলোকে মুসলমানের যিন্দেগী , ২০১২ ,হাফেজ মাওলানা মুফতী ইনামুল হক সিদ্দিকী (সম্পাদক) , সোলেমানিয়া বুক হাউস , পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮৪৪
  • ইসলামে সামাজিক ব্যবস্থা ও পরিবার কল্যাণ , পঞ্চম সংস্করণ ২০১৫ , ড. মোঃ ইব্রাহীম খলিল , মেরিট ফেয়ার প্রকাশন , পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫৪০ , ISBN 9847013102013
  • দাম্পত্য জীবনে ইসলামী রীতিনীতি , হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) , হাফেজ মাওলানা মুজীবুর রহমান (অনুবাদক ) ,
  • দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম , দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম , ইসলামিক ফাউন্ডেশন ,
  • ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী স্ত্রীর মধুর মিলন ও আদর্শ দাম্পত্য জীবন , ২০১৩ , অধ্যাপিকা সুলতানা কবীর , ডাঃ এম. এ. কাদের (সম্পাদক) , সোলেমানিয়া বুক হাউস , পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫৩৬
  • কুরআন সুন্নাহের আলোকে মুসলমানের যিন্দেগী্‌ , চতুর্থ সংস্করণ ২০১৩ , হাফেজ মাওলানা মুফতী মুহিউদ্দিন কাশেম , আফতাবীয়া লাইব্রেরী , পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭৬৮ , ISBN 9789843373540
  • বিবাহ ও পারিবারিক প্রসঙ্গ , মাওলানা মুহিউদ্দীন খান , মদীনা পাবলিকেশান্স

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dr. Shahid Athar। "Sex education, teenage pregnancy, sex in Islam and marriage" (ইংরেজি ভাষায়)। /www.islam-usa.com। সংগৃহীত ১৩ জুন ২০১৫ 
  2. Sunnah of the wedding night
  3. "Importance of Marriage in Islam" (ইংরেজি ভাষায়)। al-islam.org। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৫ 
  4. Masud, Islamic Legal Interpretation, Muftis and Their Fatwas, (ইংরেজি ভাষায়) Harvard University Press, 1996
  5. "Teaching the Child Islamic Rules Regarding Puberty" (ইংরেজি ভাষায়)। www.missionislam.com। সংগৃহীত ২২০১৪-১১-২৯ 
  6. "Hadith 20 :: Modesty is from Faith" (ইংরেজি ভাষায়)। 40hadithnawawi.com। সংগৃহীত ২৭ জুলাই ২০১৫ 
  7. "Marital privacy in Islam" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  8. "What is the appropriate age to teach children sex education?" (ইংরেজি ভাষায়)। islamqa.info। সংগৃহীত ২৭ নভেম্বর ২০১৫ 
  9. সুনান আবু দাউদ, ৩১:৪০০৭ (ইংরেজি), সুনান আবু দাউদ, ৩১:৪০০৮ (ইংরেজি)
  10. - _ftn7 "Importance of Marriage in Islam" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 
  11. "ইসলামে বিয়ের প্রয়োজন" (ইংরেজি ভাষায়)। 
  12. "Sex & Marriage in Islam" (ইংরেজি ভাষায়)। zawaj.com। সংগৃহীত ২৪ জুলাই ২০১৫ 
  13. "Importance of Marriage in Islam" (ইংরেজি ভাষায়)। Al-Islam.org। সংগৃহীত ২৪ জুলাই ২০১৫ 
  14. S.H. Rizvi, Syed Athar Husain। - _ftn8[8 "Islamic Marriage"] (ইংরেজি ভাষায়)। World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 
  15. Sidi Faraz Rabbani। "Basic bedroom fiqh"Hanafi fiqh (ইংরেজি ভাষায়)। http://www.themodernreligion.com। সংগৃহীত ৮ জুলাই ২০১২ 
  16. Muhammad ibn Adam al-Kawthari। "Kissing and Foreplay in Islam"Sex in Islam (ইংরেজি ভাষায়)। Zawaj.com। সংগৃহীত ৮ জুলাই ২০১২ 
  17. "Masturbation between husband and wife"Muhammad Saalih al-Munajjid (ইংরেজি ভাষায়)। islamqa.info। সংগৃহীত ২ আগস্ট ২০১৫ 
  18. "Sex Technique" (ইংরেজি ভাষায়)। islamawareness.net। সংগৃহীত ২৭ জুলাই ২০১৫ 
  19. Wheeler, Brannon। "Encyclopedia of Islam and the Muslim World" (ইংরেজি ভাষায়)। Macmillan Reference USA। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  20. Kassam, Zayn। "Encyclopedia of Islam and the Muslim World" (ইংরেজি ভাষায়)। Macmillan Reference USA। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  21. Ali, Kecia (২০০৬)। Sexual Ethics and Islam: feminist reflections on on Qur'an, hadith, and jurisprudence (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford: Oneworld। 
  22. Esposito, John। "Oxford Islamic Studies Online" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  23. Ahmad, Anis। "Oxford Islamic Studies Online" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। 
  24. Ali, Kecia (২০০৬)। Sexual Ethics and Islam: feminist reflections on Qur'an, hadith, and jurisprudence (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford: Oneworld। পৃ: ১২৮। 
  25. Suad, Joseph (২০০৭)। Encyclopedia of Women and Islamic Cultures (ইংরেজি ভাষায়)। Boston: Brill, Leiden। পৃ: ৫৩১। 
  26. Suad, Joseph (২০০৭)। Encyclopedia (ইংরেজি ভাষায়)। Boston: Brill, Leiden। পৃ: ৫৩১। 
  27. Islam and slavery: Sexual slavery (ইংরেজি ভাষায়)
  28. Insights into the concept of Slavery. San Francisco Unified School District. (ইংরেজি ভাষায়)
  29. İlkkaracan, Pınar (২০০৮)। Deconstructing sexuality in the Middle East: challenges and discourses (ইংরেজি ভাষায়)। Ashgate Publishing, Ltd.। পৃ: ৩৬। আইএসবিএন 0-7546-7235-2 
  30. Tabataba'i M. "Shi'ite Islam." The Other Press 2010 p210 - 213 Accessed 4 April 2013. (ইংরেজি ভাষায়)
  31. Winter K. "The woman in the mountain: reconstructions of self and land by Adirondack women writers." SUNY Press 1989. Accessed 4 April 2013. (ইংরেজি ভাষায়)
  32. "Temporary marriage in Islam." Al Islam.org (a Shi'ite encyclopaedia) website. Accessed 15 March 2014. (ইংরেজি ভাষায়)
  33. Rowson, Everett। "Encyclopedia of Islam and the Muslim World" (ইংরেজি ভাষায়)। Macmillan Reference USA। সংগৃহীত ১ মে ২০১৩ 
  34. When Husband Insists on Anal Sex with His Wife - IslamonLine.net - Ask The Scholar (ইংরেজি ভাষায়)
  35. When Husband Insists on Anal Sex with His Wife - IslamonLine.net - Ask The Scholar (ইংরেজি ভাষায়)
  36. Anal Sex with the Wife: Does It Nullify Marriage? - IslamonLine.net - Ask The Scholar (ইংরেজি ভাষায়)
  37. When Husband Insists on Anal Sex with His Wife - IslamonLine.net - Ask The Scholar (ইংরেজি ভাষায়)
  38. Anal Sex with the Wife: Does It Nullify Marriage? - IslamonLine.net - Ask The Scholar (ইংরেজি ভাষায়)
  39. Omar, Sara। "The Oxford Encyclopedia of Islam and Law" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford Islamic Studies Online। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  40. Suad, Joseph (২০০৬)। Encyclopedia of Women and Islamic Cultures (ইংরেজি ভাষায়)। Leiden, Boston: Brill। 
  41. Muhammed Salih Al-Munajjid"Why does Islam forbid lesbianism and homosexuality?" (ইংরেজি ভাষায়)। Islamqa.info। সংগৃহীত ৯ মে ২০১৫ 
  42. Camilla Adang (2003), Ibn Hazam on Homosexuality, Al Qantara, Vol. 25, No. 1, pp. 5-31 (ইংরেজি ভাষায়)
  43. Stephen O. Murray and Will Roscoe (1997), Islamic Homosexualities: Culture, History, and Literature, ISBN 978-0814774687, New York University Press, pp. 88-94 (ইংরেজি ভাষায়)
  44. Michaelson, Jay (২০১১)। God Vs. Gay? The Religious Case for Equality (ইংরেজি ভাষায়)। Boston: Beacon Press। পৃ: 68–69। আইএসবিএন 9780807001592 
  45. See, for example, this website
  46. "Homosexuality in the Light of Islam", 20 September 2003 (ইংরেজি ভাষায়)
  47. verses 7:80-84, 26:165-166, 11:69-83, 29:28-35 of the Qur'an
  48. The sunnah and surah describe the Lot's people in context of homosexuality and sodomy such as any form of sex between a man and woman that does not involve penetration of man's penis in woman's vagina.
  49. সুনান আবু দাউদ, ৩৮:৪৪৪৮ (ইংরেজি)
  50. Mohamed S. El-Awa (1993), Punishment In Islamic Law, American Trust Publications, ISBN 978-0892591428 (ইংরেজি ভাষায়)
  51. Muhammed Salih Al-Munajjid"The punishment for homosexuality" (ইংরেজি ভাষায়)। Islamqa.info। সংগৃহীত ৯ মে ২০১৫ 
  52. Islamqa.com
  53. Bosworth, C.E. (১৯৮৯)। The History of al-Tabari Vol. 30: The 'Abbasid Caliphate in Equilibrium: The Caliphates of Musa al-Hadi and Harun al-Rashid A.D. 785-809/A.H. 169-193 (ইংরেজি ভাষায়)। SUNY Press। 
  54. https://islamqa.info/en/114670
  55. http://en.islamtoday.net/node/1334
  56. http://islamqa.org/hanafi/askmufti/81691
  57. "মানবাধিকার ও ইসলাম" (ইংরেজি ভাষায়)। www.at-tahreek.com। ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগৃহীত ৭ জুন ২০১৫ 
  58. "Al-Adab Al-Mufrad / Book-9 / Hadith-48" (ইংরেজি ভাষায়)। quranx.com। সংগৃহীত ৭ জুন ২০১৫ 
  59. Jami` at-Tirmidhi, 17:37, সুনান আবু দাউদ, ৩৮:৪৩৬৬ (ইংরেজি)
  60. Kassam, Zayn। "The Oxford Encyclopedia of Islam and Law" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford Islamic Studies Online। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  61. "Oral Sex in Islam"The Majlis (ইংরেজি ভাষায়)। Vol. 6 No. 8: JamiatKZN, Central-Mosque.com। ১৪ জুন ২০০৩। সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১২ 
  62. "Are partners allowed to lick each other’s private parts?"Mawlana Saeed Ahmed Golaub (ইংরেজি ভাষায়)। Moulana Ismail Desai। সংগৃহীত ৯ অক্টোবর ২০১২ 
  63. "Ask The Scholar: What is meant by makruh?"Shaik Ahmad Kutty (ইংরেজি ভাষায়)। Ahmad Kutty। সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১২ 
  64. Hajj Gibril। "Questions On Sexuality, Oral sex"Living Islam (ইংরেজি ভাষায়)। GF Haddad। সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১২ 
  65. 'Alî Abd-ur-Rahmân al-Hudhaifî (৪ মে ২০০১)। "Remembrance of Allaah"Islamic Network. (ইংরেজি ভাষায়)। Islamic Network.। সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১২ 
  66. Rizvi, Muhammad (১৯৯৪)। "3. The Islamic Sexual Morality (2) Its Structure"Marriage and Morals in Islam (ইংরেজি ভাষায়)। Scarborough, ON, Canada: Islamic Education and Information Center। 
  67. The Lawful And The Prohibited In Islam, Yusuf Al-Qardawi - 1997
  68. The New Arab Man: Emergent Masculinities, Technologies, and Islam in the Middle East, p 168, Marcia C. Inhorn - 2012
  69. Omar, Sara। "Oxford Islamic Studies Online" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। 
  70. Islam, Gender, and Social Change - Page 28, Yvonne Yazbeck Haddad, John L. Esposito - 1998
  71. Inhorn, Marcia (২০০৭)। "Masturbation, Semen Collection and Men's IVF Experiences: Anxieties in"। Body & Society (ইংরেজি ভাষায়) 13 (37)। 
  72. http://www.abdurrazzaqbinyousuf.com/?p=372 (ইংরেজি ভাষায়)
  73. https://www.islamqa.info/en/9208 (ইংরেজি ভাষায়)
  74. http://shorolpoth.com/wp-content/uploads/2012/04/hayez_o_nefas-er_60_ti_prosno.pdf (ইংরেজি ভাষায়)
  75. Joseph, Suad (২০০৭)। Encyclopedia of Women and Islamic Cultures (ইংরেজি ভাষায়)। Brill। 
  76. Baugh, Carolyn। "Oxford Islamic Studies Online" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। 
  77. Sachedina, Zulie (১৯৯০)। "Islam, Procreation and the Law"। International Family Planning Perspectives (ইংরেজি ভাষায়) 16 (3)। 
  78. Ali, Kecia (২০০৬)। Sexual ethics and Islam: feminist reflections on Qur'an, hadith, and jurisprudence (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford: Oneworld। 
  79. Esposito, John। "Oxford Islamic Studies Online" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। 
  80. সুনান আবু দাউদ, ১১:২১৬৬ (ইংরেজি)
  81. সহীহ বুখারী, ৩:৩৪:৪৩২ (ইংরেজি)
  82. Sachedina, Zulie (১৯৯০)। "Islam, Procreation and the Law"। International Family Planning Perspectives 16 (3): 111। 
  83. Bowen, Donna Lee (২০০৩)। "Contemporary Muslim Ethics of Abortion"। in Brockopp, Jonathan E.। Islamic ethics of life: abortion, war, and euthanasia (ইংরেজি ভাষায়)। University of South Carolina Press। 
  84. "Her foetus died after 66 days gestation and was miscarried after 100 days. Is her bleeding nifaas?" (ইংরেজি ভাষায়)। Islamqa.info। সংগৃহীত ২৪ জুলাই ২০১৫ 
  1. S.H. Rizvi, Syed Athar Husain। "Islamic Marriage" (ইংরেজি ভাষায়)। World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 
  2. S.H. Rizvi, Syed Athar Husain। "Islamic Marriage" (ইংরেজি ভাষায়)। World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 
  3. S.H. Rizvi, Syed Athar Husain। "Islamic Marriage" (ইংরেজি ভাষায়)। World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 


বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]