ইসলামী যৌন আইনশাস্ত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যৌনতা বিষয়ক ফিকহ বা ইসলামিক যৌন আইনশাস্ত্র (ইংরেজি: Islamic sexual jurisprudence) অর্থাৎ যৌনাচার বিষয়ে ইসলাম বলতে সেইসব ইসলামিক অনুশাসন বোঝায় যেগুলো দ্বারা মানুষের যৌনাচার নিয়ন্ত্রিত হবে। এইসব অনুশাসন বহির্ভুত সকল প্রকার যৌনাচার ইসলামী মতে নিষিদ্ধ বা হারাম। মানব জীবনের যৌন চাহিদা ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত কিন্তু যৌনাচারের পন্থা সম্পর্কে রয়েছে অনুশাসন।[১][২] মানুষের বিবিধ যৌনাচার অনুমোদনযোগ্য কি-না তা দুটি বিষয় থেকে অনুমানযোগ্য। প্রথমত: যৌনাচারের মূল উদ্দেশ্য বংশবৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত: নারী ও পুরুষ কেবল রীতিসিদ্ধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে যৌনাচারের প্রাধিকার অর্জন করে। ইসলামে যৌনতা বিষয়ক নিয়মাবলি ইসলামী প্রধান ধর্মগ্রন্থ কুরআন, হাদীস নামে পরিচিত ইসলামের নবী মুহাম্মদ-এর বাণী ও কর্ম, ইসলামিক নেতৃবৃন্দ কর্তৃক প্রদত্ত ফতোয়া প্রভৃতিতে ব্যাপক ও বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে, যা নারী ও পুরুষের মাঝে নিয়মতান্ত্রিক যৌন সম্পর্কের মধ্যে সীমিত[১]। যদিও অধিকাংশ ঐতিহ্য সন্ন্যাসদশা ও কৌমার্যকে নিরুৎসাহিত করে থাকে[৩], তবুও সকল ঐতিহ্যেই লিঙ্গসমূহের মধ্যে যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর সতীত্বশালীনতাকে উৎসাহিত করে, যা এই বিষয়টিকে তুলে ধরে যে, তাদের ইসলাম স্বীকৃত অন্তরিক সম্পর্ক জীবনের জন্য একটি পরিবেষ্টনীস্বরূপ এবং যৌন কর্মকাণ্ড থেকেও অনেক বিস্তৃত, যা বিবাহের জন্য ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত। বিবাহের বাইরে লিঙ্গ পার্থক্যকরণ ও শালীনতার এই চেতনা ইসলামের বর্তমান পরিচিত বৈশিষ্ট্যের মাঝে দেখতে পাওয়া যায়, যেমন ইসলামী পোশাকের ব্যাখ্যা এবং লিঙ্গ বিভাজনের মূল্যবোধসমুহ।

বিবাহবহির্ভূত যৌনতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রবল হলেও স্বয়ং যৌন কর্মকাণ্ড ইসলামে কোন নিষিদ্ধ বিষয় নয়।[৪][৫] ভালোবাসা ও নৈকট্যের মহৎ উপকারিতা হিসেবে কুরআনহাদিসে অনুমোদিত যৌন সম্পর্কসমূহ বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। এমনকি বিয়ের পরেও কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়ছেঃ কোন পুরুষ তার স্ত্রীর রজঃস্রাবকালীন সময়ে এবং সন্তানপ্রসবের পর একটি নির্ধারিত সময়কালে তার সাথে সঙ্গম করতে পারবে না। পায়ুতে লিঙ্গ প্রবেশকরণও তার জন্য পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। গর্ভপাত (গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্যতিরেকে) এবং সমকামিতার মত কর্মকাণ্ড ও আচরণও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি অনুমোদিত।

বয়ঃসন্ধি[সম্পাদনা]

বয়ঃসন্ধিকালকে ইসলামে বুলুগ (আরবি: بالغ বা بُلوغ‎) ও বয়ঃস্বন্ধিতে পৌছানো ছেলেকে বালেগ ও মেয়েকে বালেগা বলা হয়ে থাকে, এ সময় থেকে পুরুষ ও নারী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে তাদের উপর উপর শরিয়া আইন কার্যকর হয়,[৬] অর্থাৎ ধর্মীয় উপাসনা (সালাত), উপবাস (সাওম) সহ ফরজ কাজসমুহ তার উপর কার্যকর হয়, আওরাহ ও পবিত্রতা (তাহারাত)-র বিধান বাধ্যতামুলক হয়, শয়নকক্ষ পৃথক হয়।[৭] বয়ঃসন্ধিকাল থেকে নারী ও পুরুষের যৌন পরিপক্বতা বা বয়ঃপ্রাপ্তি লাভের মাধ্যমে যৌন বৈশিষ্টসমূহ সক্রিয় হতে শুরু করে এবং উক্ত দশায় তারা সঙ্গম ও প্রজননের ক্ষমতা লাভ করে। ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির বয়স আনুমানিক প্রায় ১২ বছর এবং লক্ষণ না পেলে আনুমানিক ১৫ চন্দ্রবছর বা সাড়ে ১৪ বছর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে; মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণগুলো হল বয়ঃসন্ধিক চুল উদ্গমন, সিক্ত স্বপ্ন ও স্ত্রী-নিষেকক্ষমতা লাভ। মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়ঃপ্রাপ্তির বয়স আনুমানিক প্রায় ৯ বছর এবং লক্ষণ না পেলে আনুমানিক ১৫ চন্দ্রবছর বা সাড়ে ১৪ বছর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মেয়েদের বয়ঃপ্রাপ্তির বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণগুলো হল রজঃচক্র, সিক্ত স্বপ্ন ও গর্ভধারণের ক্ষমতা লাভ।

সিক্ত স্বপ্ন[সম্পাদনা]

ইসলামী তথ্যলিপিসমূহে স্বপ্নদোষ বা সিক্ত স্বপ্ন নিষ্পাপ ও প্রাকৃতিক বিষয় বলে নির্দেশ করা হয়। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে সিক্ত স্বপ্ন একটি স্বাভাবিক বিষয়। স্বপ্নদোষের ফলে ধর্মীয় উপবাস (সাওম) ভঙ্গ হয় না[৮]। স্বপ্নদোষ হলে ধর্মীয় ও কাজের পূর্বে স্নান (গোসল) করে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা হয়।

বৈবাহিক যৌনাচার[সম্পাদনা]

ইসলামী আইন অনুসারে, বিবাহের মাধ্যমে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক ও যৌনমিলন বৈধ করা হয়।[Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project ১] এবং দৈহিক ও মানসিক যৌন চাহিদা পূরণের জন্য বিবাহের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামে বৈবাহিক সম্পর্ককে আবেগীয় সম্পর্ক অথবা প্রজনন প্রক্রিয়ায় সীমিত রাখা হয় নি, বরং ইসলামে বিবাহকে এজন্য ব্যপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে যে, এটি কোন ব্যক্তির যৌন চাহিদা পূরণের জন্য বৈধ প্রতিষ্ঠানের জোগান দেয়।[৩][৯][১০][১১][১২] ইসলামে যৌনতাকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত পরিসরের নীতিমালা দেয়া হয়েছে; যাই হোক,কুরআন ও হাদিসে বিবাহের চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাঝে সীমাবদ্ধ যৌনতার বহু নীতিমালার সূত্র প্রদান করা হয়েছে, যেগুলো মানবজাতির কল্যাণ ও তাদের প্রাকৃতিক যৌন প্রবণতাকে উচ্চ মর্যাদা প্রদান করে। সূরা বাকারায় (২ঃ২২২) বৈবাহিক জীবনে যৌনতাকে সরাসরি অনুমোদন দেয়া হয়েছে:

"যখন তারা [i.e. স্ত্রীরা] তাদের নিজেদের রজঃস্রাব হতে পরিচ্ছন্ন করে নেয়, তখন তোমরা তাদের সাথে সম্মিলিত হও যেভাবে ঈশ্বর তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।"

—(২ঃ২২২)

বলা হয়েছে যে:

"যারা তাদের সতীত্বকে (গোপন অঙ্গকে, অবৈধ যৌন কর্মকাণ্ড থেকে) নিরাপত্তা দেয় তাদের স্ত্রীর বা যা তাদের যা তাদের হাত ধারণ করে (যুদ্ধবন্দী ও দাসীগণ) তাদের হতে ব্যতীত, তারা দোষারোপ হতে মুক্ত।"

—[মুমিনুন ২৩ঃ৫-৬]

। পাশাপাশি, হাদিসেও উৎসেও বিবাহের মাধ্যমে বৈধপন্থায় যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণের স্বীকৃত মর্যাদাকে অনুরূপভাবে ব্যাখ্যা করেছে। ওয়াসায়লুশ শিয়া সাহাবীদেরদের বিবাহে উৎসাহিতকরণের উদ্দেশ্যে বলা মুহাম্মাদের বানীকে উদ্ধৃত করেছেন, যা হল:

"হে যুবক পুরুষেরা, আমি তোমাদেরকে বিয়ে করার পরামর্শ দিচ্ছি।"

—ওয়াসায়লুশ শিয়া (vol. 14, p. 25)

[১৩]

এছাড়া হাদীসে আছে[১৩],

"হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সামর্থ আছে তাদের উচিৎ বিয়ে করা; এটি দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। আর যাদের বিয়ে করার সামর্থ নেই তারা যেন রোজা রাখে, কেননা তা যৌন উত্তেজনাকে প্রশমিত করে।"

—(বুখারী, মুসলিম)

[Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project ২]

"আমর ইবন আলী......জাবির থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা) এক মহিলাকে দেখলেন। তখন তিনি তার স্ত্রী যায়নাব-এর নিকট আসলেন। তিনি তখন তার একটি চামড়া পাকা করায় ব্যস্ত ছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা) তার সাথে নিজের প্রয়োজন পূরণ করলেন (শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেন)। তারপর বের হয়ে সাহাবীদের নিকট এসে তিনি বললেনঃ (অপরিচিত) স্ত্রীলোক অনিষ্টরুপে সামনে আসে এবং অনিষ্টরূপে ফিরে যায়। অতএব তোমাদের কেউ কোন স্ত্রীলোক দেখতে পেলে সে যেন তার নিজ স্ত্রীর নিকট আসে। কারণ তা তার মনের ভেতর যা রয়েছে তা দূর করে দেয়।"

—(সহিহ মুসলিম, খন্ড ৮, হাদিস ৩২৪০)

যৌনতার পদ্ধতিসমূহ[সম্পাদনা]

ইসলামী যৌন ফিকহের অন্যতম ক্ষেত্র যাতে আলোচনায় খুব বেশি নিষেধাজ্ঞা নেই তা হল বৈবাহিক যৌনতার পদ্ধতিসমুহ। ইসলামী আইনের অধীনে চর্চাকৃত যৌনসঙ্গম ও যৌনতার পদ্ধতিসমূহের সবগুলোই হাদিস থেকে এসেছে, যা প্রকৃতিগতভাবে নিষেধপ্রবণ নয়। এই হাদিসগুলোর মধ্যকার মূল প্রবণতা হল শয়নকক্ষে মুসলিমদের অনুসরণের জন্য প্রদত্ত বানী, যেগুলো "স্পষ্টভাবে দেখায় যে, স্বামী ও স্ত্রীকে পারস্পারিক উত্তেজনায় অংশ নেয়ার সময় সম্পূর্ণ স্বাধীনতা অনুভব করা উচিৎ যা পূর্বরাগ নামে পরিচিত। ইসলাম অনুসারে, যৌনকর্মের সময় নারীর সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াতে কোন প্রকারের দোষ নেই।"[Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project ৩] এই বানীগুলো পূর্বরাগ-এর পরামর্শ দেয় এবং সঙ্গমকালে বা পূর্বরাগের সময় ব্যবহৃত পদ্ধতির ধরনগুলোতে কোন বাস্তব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। এমনকি স্বামী স্ত্রীর পারস্পারিক হস্তমৈথুনের মত প্রশ্নেও কোন প্রকারের বাধা প্রদান করে না।[১৪]

বিপরীতভাবে, যৌনসঙ্গমের একটি ক্ষেত্র যা সাধারণত নিষিদ্ধ তা হল পায়ুসঙ্গম

সকল মুসলিম আইনবিদই একমত যে নিজ স্ত্রীর সাথেও পায়ুকাম নিষিদ্ধ, যার ভিত্তি হল এই হাদিসটি :"তোমরা (পুরুষেরা) নারীদের সাথে পায়ুপথে সহবাস কোরো না।" (আহমাদ, আত-তিরমিযি, আন-নাসায়ী, এবং ইবনে মাজাহে বর্ণিত)

নবী মুহাম্মাদ (সা) আরও বলেন, "সে পুরুষ অভিশপ্ত, যে কোন নারীর সাথে পায়ুপথে সঙ্গম করে।" (আহমাদ)[১৫]

খুজাইমা ইবনে সাবিদ বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা) বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না: তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে পায়ুপথে সঙ্গম করো না।" (আহমাদ হতে বর্ণিত, ৫/২১৩)

ইবনে আবাস বর্ণনা করেন: "আল্লাহর রাসুল (সা) বলেছেন: "আল্লাহ সেই পুরুষের দিকে তাকাবেন না যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করেছে।" (ইবনে আবি শাইবা হতে বর্ণিত, ৩/৫২৯, আত-তিরমিযীতে এটিকে বিশুদ্ধ হাদিস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ১১৬৫)

উপরন্তু, বলা আছে যে নবী মুহাম্মাদ (সা) একে ছোট "সডোমি(অজাচার)" বলে আখ্যায়িত করেছেন। (আন-নাসায়ী হতে বর্ণিত)

বর্ণিত আছে যে, মদিনার ইহুদিগণ বলতো যে, কেও যদি তার স্ত্রীর সাথে পেছন দিক থেকে জরায়ুপথে সঙ্গম করে তবে তার সন্তান ট্যাড়া চোখ নিয়ে জন্মাবে। সে সময়ে একদিন ওমর ইবনুল খাত্তাব নবী মুহাম্মাদ (সা) এর কাছে এসে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি!" মুহাম্মাদ (সা) প্রশ্ন করলেন, "কি তোমাকে ধ্বংস করেছে?" তিনি উত্তরে বললেন, "গত রাতে আমি আমার স্ত্রীকে পেছন দিকে ঘুরিয়ে ফেলেছিলাম।," অর্থাৎ তিনি পেছন দিক থেকে তার স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সহবাস করেছিলেন।

নবী (সা) তাকে কিছু বললেন না। এরপর এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলঃ

"তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা যেতে পার (তোমাদের স্ত্রীদের সাথে জরায়ুপথে যেকোনোভাবে সঙ্গম করতে পারো কিন্তু পায়ুপথে নয়)। আর তোমরা তোমাদের নিজেদের জন্য আগেই কিছু পাঠাও (ভালো কাজ করো আথবা আল্লাহর কাছে পুণ্যবান সন্তানসন্তদি প্রাপ্তির জন্য প্রার্থনা করো) ও আল্লাহ্‌কে ভয় করো। আর জেনে রাখো যে, আল্লাহ্‌র সাথে নিশ্চয়ই তোমাদের (পরকালে) দেখা করতে হবে। আর (হে মুহাম্মাদ,) বিশ্বাসীদেরকে সুখবর দাও।" (আল-বাকারাহ: ২২৩)

উপরোক্তে আয়াতে স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সঙ্গমকে শস্যক্ষেত্রে বীজ বপনের সাথে তুলনা করে এটি নির্দেশ করা হয়েছে যে, ইসলামে ইচ্ছেমত যে কোন পন্থায় শুধুমাত্র জরায়ুপথেই সঙ্গম করাকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে, কারণ শস্যক্ষেত্রে বীজ বপনের ফলে যেমন ফসল উৎপন্ন হয় ঠিক সেভাবে জরায়ুপথে সঙ্গমের ফলেই সন্তানের জন্ম হয়।

এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী মুহাম্মাদ (সা) ওমর বিন খাত্তাবকে উত্তর দেন, "সামনে বা পেছনে যে কোন দিক থেকে [নিজের স্ত্রীর সাথে জরায়ুপথে সংগম কর], কিন্তু পায়ুপথকে পরিহার কর এবং রজস্রাবকালে সঙ্গম থেকে বিরত থাকো।" (আহমাদ এবং তিরমিজী হতে বর্ণিত)

ব্যক্তিগত যৌন গোপনীয়তা[সম্পাদনা]

ইসলামে যৌনতার ক্ষেত্রে গোপনীয়তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। সম্পর্কের সতীত্ব ও শালীনতা রক্ষার জন্য জন্য ইসলামে প্রকাশ্য যৌনাচার, নগ্নতা, প্রকাশ্য যৌন উদ্দীপক আচরণ ও পোশাক অন্যান্য সকল ক্ষেত্র সহ বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।[১৬][১৭] কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,

“হে মুমিনগণ! তোমাদের দাসদাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের নামাযের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা বস্ত্র খুলে রাখ এবং এশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের জন্য গোপনীয়তার। এ সময়ে ছাড়া তোমাদের ও তাদের যোগাযোগে কোন দোষ নেই। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়, এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিবৃত করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বায়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।অন্ধের জন্যে দোষ নেই, খোঁড়ার জন্যে দোষ নেই, রোগীর জন্যে দোষ নেই, এবং তোমাদের নিজেদের জন্যেও দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতাদের গৃহে অথবা তোমাদের মাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভ্রাতাদের গৃহে অথবা তোমাদের ভগিণীদের গৃহে অথবা তোমাদের পিতৃব্যদের গৃহে অথবা তোমাদের ফুফুদের গৃহে অথবা তোমাদের মামাদের গৃহে অথবা তোমাদের খালাদের গৃহে অথবা সেই গৃহে, যার চাবি আছে তোমাদের হাতে অথবা তোমাদের বন্ধুদের গৃহে। তোমরা একত্রে আহার কর অথবা পৃথকভবে আহার কর, তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই। অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ কর, তখন তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম বলবে। এটা আল্লাহর কাছ থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র দোয়া। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ননা করেন, যাতে তোমরা বুঝে নাও।”

আন-নূর ২৪:৫৮-৬১

অপর এক আয়াতে, উল্লেখ করা হয়েছে[১৬],

সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগত এবং বিনম্র ৷ স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা তাঁর অধিকার ও গোপন বিষয় রক্ষা করে৷ আল্লাহই গোপনীয় বিষয় গোপন রাখেন।

সূরা নিসা ৪:৩৪

একটি হাদিসে বলা হয়েছে[১৬],

আল্লাহর রাসুল বলেন: বিচার দিবসে আল্লাহর দৃষ্টিতে মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট হবে সেই পুরুষ যে তার স্ত্রীর কাছে যায় এবং স্ত্রীও তার কাছে আসে, আর তারপর সেই পুরুষ তার স্ত্রীর গোপনীয়তা অপরদের কাছে ফাঁস করে দেয়।

Sahih Muslim - 3369

অপর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন: “সাত বছর বয়সে তোমার সন্তানদের সালাতের নির্দেশ দাও, আর ১০ বছর বয়স থেকে তাঁদের প্রহার করো যদি তারা সালাত আদায় না করে, এবং (সেই বয়সে) তাঁদের বিছানা (শয়নের স্থান) আলাদা করে দাও।”

আবু দাউদ ৪৯৫

যদি কেউ ব্যভিচারও করে (অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃতভাবে), তার জন্য হাদিসে প্রাথমিক পরামর্শ হল তা গোপন রেখে সংশোধিত হওয়া। কিন্তু যদি তা প্রকাশিত হয় অথবা কেও তা প্রকাশ্যে স্বীকার করে তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী তাকে হুদুদ আইনে শাস্তি দিতে হবে। আল মুয়াত্তায় উল্লেখিত নিম্নোক্ত হাদিসটিতে এটি উল্লেখ করা হয়েছে:

জায়িদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, “আল্লাহ্‌র রাসূল (সা) এর সময়ে এক লোক যখন স্বীকার করল যে, সে ব্যভিচার করেছে, তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (সা) একটি চাবুক চাইলেন। যখন তাকে একটি ছেঁড়া/পুরানো চাবুক দেওয়া হল তিনি বললেন, “এটার চেয়ে ভাল নেই?” তখন একটি নতুন চাবুক আনা হলে তিনি বললেন, “এটার চাইতে একটু পুরাতন দেখে নিয়ে আস”। এরপর এমন একটা চাবুক আনা হল যেটা ছিল (ব্যবহারের ফলে) একটু পুরানো/নরম। তখন তিনি ওটা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে একশো দোর্‌রা মারার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, “হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহ্‌র সীমা অতিক্রম করোনা। কেউ এই ধরনের ঘৃণিত কোন অপরাধ (যেমন ব্যভিচার) করে বসলে, সে যেন তা গোপন রাখে, কারন কেউ যদি তা প্রকাশ করে বসে, তবে আমরা তার ব্যাপারে বর্ণিত শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র কিতাবের বিধান কার্যকর করব”"

আল-মুয়াত্তা, ৪১ ২.১২ (ইংরেজি)

এছাড়াও, একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,

"যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্য অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে প্লেগ মহামারির আকারে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব ঘটে, যা পূর্বেকার লোকেদের মাঝে দেখা যায় নি।"

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ৪,০১৯

যৌনতায় সীমারেখা ও বিধিনিষেধসমূহ[সম্পাদনা]

চারটি ক্ষেত্রে বৈবাহিক সঙ্গমের ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এগুলো হলঃ

  • পায়ুমৈথুন
  • রজঃস্রাবকালীন সময়
  • সন্তান জন্মের পর প্রথম চল্লিশদিন,
  • রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় এবং হজ্জ ও ওমরাহ পালনের সময়। হজ্জ বা ওমরা চলাকালীন সময়ে বিবাহ হলে তা সক্রিয় বলে গণ্য হবে না।[১৮]

মুসলিম পুরুষদের জন্য মূর্তিপূজারী নারীর সঙ্গে বিবাহ (ও সঙ্গম) নিষিদ্ধ। (২ঃ২২১)।[১৯] একইভাবে, পিতার স্ত্রীগণ (৪ঃ২২), মাতা, কন্যা, বোন, পিতার বোন, মাতার বোন, ভাইয়ের কন্যা, বোনের কন্যা, দুধ-মাতা, দুধ-বোন, শাশুড়ি, পূর্বে বৈবাহিক বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এমন নারীর কন্যা, পালক পুত্রের মাতা, এবং একই পরিবারের দুই বোন (৪ঃ২৩) ও নিজ ক্রয়কৃত দাসী ব্যতীত সকল বিবাহিত নারী (৩ঃ২৪)।[১৯]

পবিত্রতা অর্জন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা[সম্পাদনা]

যৌনক্রিয়া বা সহবাসের সময় দম্পতির যৌনাঙ্গদ্বয়ের পারস্পারিক অনুপ্রবেশ অথবা অনুপ্রবেশের পর বীর্যস্খলন হলে সহবাসের পর স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের পূর্ণরুপে ধর্মীয় পরামর্শ অনুযায়ী পূর্ণ শরীর স্নান বা গোসল করা প্রয়োজন, যাতে তারা পরবর্তী উপাসনা বা সালাতের পূর্বে ধর্মীয় পবিত্রতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে।[২০] গোসলের জন্য প্রয়োজন এমন পরিষ্কার ও দুর্গন্ধবিহীন পবিত্র পানি যা ইতিপূর্বে গোসল বা শৌচকাজে ব্যবহৃত হয় নি, এবং উপাসনার স্বার্থে পবিত্র হওয়ার মনসংকল্প বিবৃতকরণের মাধ্যমে স্নানকার্যের সূচনা করা হয়।[২১] এরপর দেহের কোন স্থান শুকনো না থাকে এমনভাবে সম্পূর্ণ শরীরে পানি ঢালার পর দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিষ্কার করা হয়।[২১]

উপবাস এবং রমজান[সম্পাদনা]

উপবাসের রাতে স্ত্রীগমণ তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে; তারা তোমাদের জন্য একটি পরিচ্ছদস্বরূপ ও তোমরা তাদের জন্য একটি পরিচ্ছদস্বরূপ; আল্লাহ জানেন যে তোমরা তোমাদের প্রতি অবিচার করেছিলে, তাই তিনি তোমাদের দিকে (করুণার সাথে) মুখ তুলে তাকিয়েছেন এবং তোমাদেরকে (এই কষ্ট থেকে) মুক্তি দিয়েছেন; তাই এখন থেকে তোমাদের স্ত্রীর সংস্পর্শে বসবাস কর এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা প্রার্থনা কর, ভোরবেলায় দিনের শুভ্রতা রাতের অন্ধকার থেকে পৃথক না হওয়া পর্যন্ত খাও ও পান কর, এরপর (পরবর্তী) রাতের আগ পর্যন্ত উপবাস পূর্ণ কর, এবং মসজিদে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত রাখো; এগুলোই আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, তাই এগুলোর কাছে যেয়ো না। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তার বার্তাকে স্পষ্ট করেছেন যেন তারা (মন্দের বিরুদ্ধে) সুরক্ষিত থাকতে পারে।

রমজান মাসে ধর্মীয় উপবাস বা রোজার সময় যৌনসঙ্গম নিষিদ্ধ, এ সময় যৌনসঙ্গম করলে বা কোন কারণে বীর্যপাত ঘটালে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। যৌন উত্তেজনা বশত: বীর্য-তরল বা কামঃরস নির্গত হলে রোজা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।[২২] তবে রোজাবিহীন অবস্থায় রাত্রিকালীন সময়ে তা নিষিদ্ধ নয়।[২৩][২৪]

ব্যভিচার ও পরকীয়া (বিবাহবহির্ভূত যৌনতা)[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: যিনা

যে কোন বিবাহবহির্ভূত যৌনাচারকে যিনা বলে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। হাদীসে বলা হয়েছে,মানুষের অন্তর ও অঙ্গগুলোর বিবাহবহির্ভূত যৌনকামনা ও সেদিকে অভিমূখী কর্মকাণ্ডসমূহও যিনার অন্তর্ভূক্ত। সমাজ থেকে যিনাকে নির্মুল করার জন্য ইসলামে ব্যক্তিবিশেষের চাহিদা ও বয়ঃপ্রাপ্তি অনুযায়ী সঠিক সময়ে ও সহজ পদ্ধতিতে পারিবারিক বিয়ের জন্য জোর দেয়া হয়েছে।যার সঙ্গে বিবাহ স্থির হয়েছে তার সঙ্গে যথাযথ পদ্ধতিতে বিবাহ নিষ্পন্ন না-হওয়া পর্যন্তও পারষ্পারিক মেলামেশা বা যোগাযোগ নিষিদ্ধ।ইসলামী বিচারব্যবস্থায় ব্যভিচারের অভিযোগে কেউ অভিযুক্ত হলে তা প্রমাণ করার জন্য কমপক্ষে চারজন পুরুষ সাক্ষী বা প্রতি একজন পুরুষ সাক্ষীর বদলে দুইজন নারী সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে একশতটি বেত্রাঘাত এবং পরকিয়াকারী অর্থাৎ বিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।[২৫] আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে বা মিথ্যা প্রমাণিত হলে মিথ্যা অপবাদ রটনাকারীকে আশিটি বেত্রাঘাত প্রদান করতে হবে। শাস্তি প্রদানের পর একজন ব্যভাচারী নারী বা পুরুষ অপর ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকেই শুধুমাত্র বিয়ে করতে পারবে, কোন সতীসাধ্বী পুরুষ বা নারীর সঙ্গে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবার অনুমতি পাবে না।[২৬]

সডোমিঃ পায়ুসঙ্গম ও অজাচার[সম্পাদনা]

যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ (মাহরাম) তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করাকে অজাচার বলে।[২৭] কওমে লূতের (লূত-এর সম্প্রদায়ের) সীমালঙ্ঘনের কাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল অজাচার। হাদীসে আছে, রাসূল (সাঃ) মানুষের মাঝে কওমে লূতের পাপ-অভ্যাসসমূহ সঙ্ঘটিত হওয়া নিয়ে সর্বাধিক দুশ্চিন্তা করতেন এবং স্বেচ্ছায় এসব কর্মে রত ব্যক্তিদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার আদেশ দিতেন। আবু বকর তার খিলাফতের সময় এ ধরনের ব্যক্তিদের উপর দেয়াল ধ্বসিয়ে দিতেন এবং আলী তার খিলাফতের সময় এদের আগুনে পুড়িয়ে মারতেন। ইসলামের দৃষ্টিতে অজাচার একটি মনুষত্ববোধহীন অমানবিক ও পশুসুলভ আচরণ হিসেবে সর্বোচ্চরুপে নিষিদ্ধ[২৮] যা ইসলামের দৃষ্টিতে মানবিক সম্পর্ককে ধ্বংস ও নিঃশেষ করে দেয়। ইসলামের প্রাথমিক ও সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পুরুষ জাতি পরষ্পর ভ্রাতা এবং নারী জাতি পরস্পর ভগ্নিস্বরূপ; আর তাই ইসলামের দৃষ্টিতে সমকামিতাও অজাচার শ্রেণীর অন্তর্গত।[২৭]ইসলামী বিধান অনুযায়ী মানবদেহে পায়ূতে লিঙ্গ প্রবেশ হারাম।[২৯] নিজ স্ত্রীর সঙ্গেও পায়ূমৈথুন হারাম বা নিষিদ্ধ।[৩০][৩১] কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে পায়ুসঙ্গমের প্রস্তাব স্ত্রীর কর্তব্য হল তা বাধা দেয়া, এবং স্বামী যদি জোর করে তবে স্ত্রী চাইলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে।[৩২] স্বামী স্ত্রীর পায়ুসঙ্গমে বিবাহ বাতিল না হলেও স্ত্রী যদি চায় এ অভিযোগে তালাকের আবেদন করতে পারবে।[৩৩] ইসলামী বিধান অনুসারে, পায়ুসঙ্গম কবিরা গুনাহ বা সর্বোচ্চ পাপসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে, কিছু মুসলিম দেশে পায়ুমৈথুন বা সডোমি মৃত্যুদণ্ড-যোগ্য অপরাধ, যাদের অন্যতম হল সৌদি আরব, ইয়েমেন ও নাইজেরিয়ার শরিয়া আদালত।[২৭]

সমকামিতা[সম্পাদনা]

ইসলাম কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অর্থাৎ বৈধভাবে বিবাহিত নারী ও পুরুষের মধ্যে এবং মুসলিম পুরুষ ও তার নিজ উপপত্নীর মধ্যে যৌনসঙ্গম অনুমোদন করে।[৩৪] একারণে এর বাইরে সমলিঙ্গীয় যৌনাচার বা সমকামিতা সহ অন্যান্য সকল যৌনাচার ইসলামে নিষিদ্ধ[৩৪], এছাড়াও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি নিকৃষ্টতম কবিরা গুনাহ।[৩৫][৩৬][৩৭][৩৮][৩৫][৩৯] ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি বিকৃত ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট যৌনাচার যা আল্লাহর দেয়া মানব জাতির নারী-পুরুষ যৌনতার স্বাভাবিকতাবিবর্জিত এবং আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্টিগতভাবে মানব যৌনতার মৌলিক ও কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য "প্রাকৃতিকভাবে সহজাত প্রজনন"-এর পরিপন্থী।[৪০] ইসলামের দৃষ্টিতে এটি ব্যভিচার ও পরকীয়া থেকেও খারাপ একটি কাজ। সমলিঙ্গীয় যৌনাচারের কারণে অতীতে নবী লূত-এর সম্প্রদায়কে আল্লাহ ধ্বংস করে দেয়ার সাবধানকারী ঘটনা কুরআনের একাধিক সূরা ও একাধিক হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া নবী মুহাম্মদ(সাঃ) সমকামীদের অভিসম্পাত করেছেন, নারী ও পুরুষ উভয়ের আন্তঃলিঙ্গীয় আচরণকে (ক্রস জেন্ডার বিহেভিয়ার) অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সমাজকে সমকামিতার প্রভাবমুক্ত করতে সমকামীদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন[৩৭][৪১][৪২]: এছাড়া চারখলিফা সহ প্রাথমিক খলিফাগণও এ ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছেন।[২৮] সমকামিতা রোধ করার জন্য ইসলামে নারী পুরুষকে লিঙ্গ অনুযায়ী পোশাকীয় ও আচরণিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে বলা হয়েছে এবং নারীকে পুরূষের পোশাক ও আচরণ এবং পুরুষকে নারীর পোশাক ও আচরণ অণুকরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়াও কেবল নারী বা পুরুষদের পারস্পারিক অবস্থানকালে নগ্নতাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উপপত্নী[সম্পাদনা]

উপপত্নী হল কোন মুসলিম পুরুষের সাথে তাঁর "অধিকৃত ক্রীতদাসী এবং অধিকৃত যুদ্ধবন্দী দাসী"র (মা মালাকাত আইমানুকুম) যৌন সম্পর্ক।[৪৩] ইসলাম পূর্ব আরবে এটি বৈধ ছিল এবং ইসলাম আগমনের পর এর উপর কিছু সীমারেখা ও নীতি নির্ধারণ করে একে বৈধতা দেয়া হয়। একজন মুসলিম পুরুষ তার ক্রয়কৃত ক্রীতদাসী বা অধিকৃত যুদ্ধবন্দিনীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়তে পারবে এবং তার সন্তানের পিতা হতে পারবে, তবে যৌনসংগমের পর তাকে আর কখনোই অন্য কোথাও বিক্রি করতে পারবে না। একজন মুসলিম পুরুষ তার নিজের মালিকানাধীন একাধিক দাসী এবং/অথবা যুদ্ধবন্দীনীর সাথে এ সম্পর্ক করতে পারবে, কিন্তু সে তাঁর স্ত্রীর অধিকৃত দাসীর সাথে এ ধরনের সম্পর্ক করতে পারবে না। একজন মুসলিম চাইলে তার অধিকৃত দাসী/বন্দীনীকে বিয়ে করতে পারবে। বিশুদ্ধ হাদিসেও দাসীকে উত্তম আচার ব্যবহার শিক্ষা প্রদানপূর্বক মুক্তি দিয়ে তাকে বিয়ে করার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে।[৪৪][৪৫] দাসীদের গর্ভে জন্ম নেয়া তার সন্তানসন্তদি বৈধ বলে বিবেচিত হবে এবং তার মৃত্যুর সাথে সাথে উক্ত দাসীগণ ও সন্তানগণ মুক্ত বা স্বাধীন বলে বিবেচিত হবে[৩৪], পাশাপাশি তার বিবাহিত স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের অনুরুপ তারাও একই পরিমাণে উক্ত মুসলিম পুরুষের সম্পত্তির ভাগ পাবেন।

ধর্ষণ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধগুলি: যিনা § ধর্ষণ এবং ইসলামে নারী

ধর্ষণ বা যিনা-আল জিবর হল জোরপূর্বক বিবাহ বহির্ভূত জোরপূর্বক যৌনসঙ্গম, যা অপর ব্যক্তির উপর এক প্রকার অত্যাচার ও নির্যাতন। তাই ধর্ষণ ইসলামে নিষিদ্ধ, যা ইসলামী আইন অনুযায়ী হিরাবাহ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী আইন অনুসারে, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমানিত হলে অভিযুক্ত ধর্ষক বিবাহিত হলে তাকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে মৃত্যুদন্ড প্রদান করতে হয় আর অবিবাহিত হলে তাকে একশত বেত্রাঘাত প্রদান এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দিতে হয়। ধর্ষিতাকে কোন প্রকার শাস্তি দেয়া হয় না, কারণ ধর্ষিতাদের সাধারণত প্রতিরোধ ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বল হয়ে থাকেন।[৪৬] সাধারণত, শাস্তি প্রকাশ্যে জনসম্মুখে প্রদান করা হয়।

মুখমৈথুন[সম্পাদনা]

ইসলামে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মুখমৈথুনের ব্যপারে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয় নি। সে কারণে অনেক আলেমই এটির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা বৈধতা প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছেন। আবার অনেক আলেম এটিকে মাকরুহ তাহরীমী[৪৭][৪৮] বা অপছন্দনীয় মাকরুহ বলে স্বাব্যস্ত করেছেন।[৪৯] এর পেছনে কারণটি কুরআন ও হাদিসে একে উৎসাহিত করা হয় নি সে কারণে নয়, বরং তা হল শালীনতা, পবিত্রতা(ইসলামে ধর্মীয় রীতিনীতিগত পবিত্রতা বা তাহারাত) ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক দ্বন্দ্ব।[৫০] এর পেছনে সবচেয়ে সাধারণ দাবিটি হল,[৪৮] যে, মুখ এবং জিহ্বা কুরআন পঠন ও ঈশ্বরের স্মরণে ব্যবহৃত হয়, তাই তা অপবিত্রতায় ব্যবহার করা উচিৎ নয়।[৫১] চারটি সুন্নি মাজহাবের পণ্ডিতগণের মধ্যে বীর্য নিঃসরণ পবিত্র কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কিছু পণ্ডিত একে অপবিত্র মনে করেন এবং কিছু পণ্ডিত করেন না।

হস্তমৈথুন[সম্পাদনা]

ইসলাম কেবল স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে যৌনসঙ্গম অনুমোদন করে। তাই, সাধারণভাবে হস্তমৈথুন বা স্বকাম ইসলামে অনুমোদিত নয়। তবে হস্তমৈথুন নিয়ে ইসলামী পণ্ডিতগণের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে।[৫২] কুরআনে হস্তমৈথুন নিয়ে কিছু বলা হয় নি, তবে কিছু হাদিসে তা পরোক্ষভাবে উল্লেখ হলেও তা সরাসরি বা স্পষ্টভাবে নির্দেশিত হয় নি অথবা হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। ইবনে কাসীর সহ কিছু অপ্রধান হাদীসগ্রন্থের হাদীসে হস্তমৈথুনকারীকে অভিশপ্ত এবং হস্তমৈথূনকে স্বীয় হস্তের সাথে ব্যভিচার বলা হয়েছে। প্রাথমিকযূগের অধিকাংশ আলেমগণ একে অবৈধ বলে সাব্যস্ত করেছেন এবং আল-তারিবিয়াহসহ পরবর্তী সময়ের কিছু আলেম ব্যভিচারের আশঙ্কা থাকলে যদি হস্তমৈথুন করে তা থেকে মুক্তি পাওয়া তবে সেরকম ক্ষেত্রে একে বৈধ বলে অভিমত দিয়েছেন।[৫৩][৫৪] আহমদ ইবনে হাম্বলের মতে বৈধ যৌনসঙ্গীর অভাবে সমস্যায় ভুগছেন এমন নারী পুরুষ, মুসাফির ও বন্দীদের জন্য তা বৈধ।[৫৫] প্রাপ্ত হাদীস অনুসারে সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে, সাধারণ অবস্থায় এটি পাপ এবং তারা এই প্রবণতাকে সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া, অবিবাহিত যুবকদের ইসলামে সামর্থ থাকলে দ্রুত বিয়ে করার আদেশ দেয়া হয়েছে এবং সামর্থ না থাকলে রোজা রেখে ধৈর্য্য ধারনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পূর্ব থেকেই সর্বদা একটি অভিমত প্রচলিত ছিল যে, ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে তার তুলনায় ছোট পাপ হিসেবে সে সময় হস্তমৈথুনের অনুমতি দেয়া যেতে পারে। [৫৬]তাই শ্রেণিগতভাবে এটি বলা ভুল হবে যে, প্রাথমিক ইসলামী যুগের সকল ইসলামী পণ্ডিতগণ এর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞায় সর্বসম্মতভাবে রাজি ছিলেন। হস্তমৈথুনকারীদের মধ্যে যারা নিজ সতীত্ব রক্ষার স্বার্থে হস্তমৈথুন করে এবং যারা সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও যৌন আকাঙ্ক্ষাকে তৃপ্ত করতে হস্তমৈথুন করে, এই দুই দলকে ফিকহবিদগণ আলাদা আলাদা দৃষ্টিতে বিচার করে থাকেন।[৫২]

রজঃস্রাব[সম্পাদনা]

রজঃস্রাবকে (হায়েজ/নিফাস) ইসলামে নারীর একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে। রজঃস্রাব দশায় নারীদের সালাত ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হতে অব্যহতি দেয়া হয়।[৫৭] পাশাপাশি গোসলের মাধ্যমে নিয়মিত পবিত্র হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্ত্রীর রজ:স্রাব কালে যৌনসঙ্গম নিষিদ্ধ[৪৩], তবে যৌনমিলন ব্যতীত শারীরিক মিলন নিষিদ্ধ নয়।[৫৮] ইবনে কাসির, নামক একজন হাদিসবিদ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যাতে রজঃস্রাবী স্ত্রীদের সঙ্গে মুহাম্মাদের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এই হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যে, মুহাম্মাদ (সা) রজঃস্রাব চলাকালে জরায়ুজ সঙ্গম ছাড়া দাম্পত্য সম্পর্কের অন্য সব বৈধ আন্তরিক কর্মকাণ্ডকে অনুমোদন দিয়েছেন। রজচক্র শেষ হওয়ার পর ধর্মীয় কাজ ও দাম্পত্য সম্পর্কে অংশ নেয়ার পূর্বে নারীদেরকে স্নান (গোসল )করে পরিচ্ছন্ন হতে হয়।[৫৯]

গর্ভনিরোধ[সম্পাদনা]

ইসলামী বিধান অনুযায়ী যৌনসঙ্গমকালে বীর্যপাতের পূর্ব মুহূর্তে লিঙ্গ প্রত্যাহার করে গর্ভনিরোধ করা যায়, যাকে আজল বলা হয়। সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ-এর বর্ননা থেকে জানা যায় যে, মুহাম্মাদ(সাঃ)-এর জীবদ্দশায় অনেক সাহাবী আজল করতেন,[৬০] এবং নবী মুহাম্মাদ তার অনুমতি দিয়েছিলেন।[৬১][৬২][৬৩] চার মাজহাবের ইমামগণের মতে, আযল তখনই করা যাবে যখন স্ত্রী তার অনুমতি দেবেন। এছাড়া কিছু আলেম বলেছেন, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে আযল করার ব্যপারে একমত হয়ে সম্মত হলে তা বৈধ হবে। আধুনিককালে কনডম ব্যবহারও আজলের অন্তর্ভূক্ত বলে অনেক আলেম ফতোয়া দিয়েছেন।[৬৪] তবে এ ব্যাপারে সকল আলেম একমত যে, যে সকল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে জীবন্ত ভ্রুণকে নষ্ট করা হয় অর্থাৎ হত্যা করা হয়, যেমন পিল ইত্যাদি সেগুলো নিষিদ্ধ। এছাড়া সকল আলেম একমত যে, আধুনিককালে প্রচলিত চিরস্থায়ী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে।[৬৫]

গর্ভপাত[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ইসলাম ও গর্ভপাত

সাধারণ অবস্থায়, ইসলামে গর্ভের সন্তান হত্যা করা বা গর্ভপাত করা নিষিদ্ধ।[৬৬] সকল আলেমই গর্ভে সন্তান আসার পর গর্ভপাত না করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। নবজাতক ভরণ-পোষণের অর্থের অভাবে হলেওইসলামের দৃষ্টিতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। কোরআনে বলা হয়েছে,

... স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই,

অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিয্ক দেই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।

তবে আলেমদের মতে, গর্ভধারণের কারণে মায়ের অত্যাধিক স্বাস্থ্যঝুঁকি অথবা জীবনের ঝুঁকি থাকলে যদি গর্ভপাত করার কারণে মায়ের জীবন বাঁচে তবে এমন পরিস্থিতিতে গর্ভপাত করা বৈধ হবে। হাদিসে আছে, মায়ের গর্ভে সন্তানের ভ্রুনের বয়স ৪ মাস হলে আল্লাহ ফেরেশতার মাধ্যমে তাঁর মাঝে রুহ ফুঁকে দেন অর্থাৎ তাঁতে আত্মা প্রবিষ্ট করেন। ইসলামিক নবী মুহাম্মাদ মাতৃগর্ভে মানব শিশু জন্মের স্তর সম্পর্কে এভাবে বলেছেন,

তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান আপন মাতৃগর্ভে বীর্যের আকারে ৪০ দিন, জমাট বাধা রক্তে পরিণত হয়ে ৪০ দিন, গোশত আকারে ৪০ দিন। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাঠান এবং চারটি বিষয়ে আদেশ দেন যে, তার (শিশুর) কর্ম, জীবিকা, আয়ুষ্কাল ও ভালো না মন্দ সব লিপিবদ্ধ কর। অতঃপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়’।

— সহিহ বুখারী, হাদিস নং- ৩২০৮

অর্থাৎ, ৪ মাস বয়সে সন্তান মায়ের গর্ভে জীবিত হয়ে ওঠে এবং এ কারণে অনেক আলেম ৪ মাসের বেশী বয়সের ভ্রুনের গর্ভপাত করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন যা তাঁদের মতে মায়ের জীবনের জন্যেও ঝুঁকিপূর্ণ।[৬৭]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Dr. Shahid Athar। "Sex education, teenage pregnancy, sex in Islam and marriage"। /www.islam-usa.com। সংগৃহীত ১৩ জুন ২০১৫ 
  2. Sunnah of the wedding night
  3. ৩.০ ৩.১ "Importance of Marriage in Islam"। al-islam.org। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৫ 
  4. Dr. Shahid Athar। "Sex education, teenage pregnancy, sex in Islam and marriage"। /www.islam-usa.com। সংগৃহীত ১৩ জুন ২০১৫ 
  5. Sunnah of the wedding night
  6. Masud, Islamic Legal Interpretation, Muftis and Their Fatwas, Harvard University Press, 1996
  7. "Teaching the Child Islamic Rules Regarding Puberty"। www.missionislam.com। সংগৃহীত ২২০১৪-১১-২৯ 
  8. https://askislambd.weebly.com/gqa42.html
  9. - _ftn7 "Importance of Marriage in Islam"। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 
  10. "ইসলামে বিয়ের প্রয়োজন" 
  11. "Sex & Marriage in Islam"। zawaj.com। সংগৃহীত ২৪ জুলাই ২০১৫ 
  12. "Importance of Marriage in Islam"। Al-Islam.org। সংগৃহীত ২৪ জুলাই ২০১৫ 
  13. ১৩.০ ১৩.১ S.H. Rizvi, Syed Athar Husain। - _ftn8[8 "Islamic Marriage"]। World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 
  14. "Masturbation between husband and wife"Muhammad Saalih al-Munajjidislamqa.info। সংগৃহীত ২ আগস্ট ২০১৫ 
  15. "Sex Technique"। islamawareness.net। সংগৃহীত ২৭ জুলাই ২০১৫ 
  16. ১৬.০ ১৬.১ ১৬.২ "Marital privacy in Islam"। সংগৃহীত ১ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  17. "What is the appropriate age to teach children sex education?"islamqa.info। সংগৃহীত ২৭ নভেম্বর ২০১৫ 
  18. Wheeler, Brannon। "Encyclopedia of Islam and the Muslim World"। Macmillan Reference USA। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  19. ১৯.০ ১৯.১ Kassam, Zayn। "Encyclopedia of Islam and the Muslim World"। Macmillan Reference USA। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  20. Ali, Kecia (২০০৬)। Sexual Ethics and Islam: feminist reflections on on Qur'an, hadith, and jurisprudence। Oxford: Oneworld। 
  21. ২১.০ ২১.১ Esposito, John। "Oxford Islamic Studies Online"। Oxford University Press। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  22. Ahmad, Anis। "Oxford Islamic Studies Online"। Oxford University Press। 
  23. Ahmad, Anis। "Oxford Islamic Studies Online"। Oxford University Press। 
  24. Ali, Kecia (২০০৬)। Sexual Ethics and Islam: feminist reflections on Qur'an, hadith, and jurisprudence। Oxford: Oneworld। পৃ: ১২৮। 
  25. http://sorolpath.wordpress.com/2011/04/26/ব্যভিচার/ en:Zina
  26. Suad, Joseph (২০০৭)। Encyclopedia of Women and Islamic Cultures। Boston: Brill, Leiden। পৃ: ৫৩১। 
  27. ২৭.০ ২৭.১ ২৭.২ Omar, Sara। "The Oxford Encyclopedia of Islam and Law"। Oxford Islamic Studies Online। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  28. ২৮.০ ২৮.১ Rowson, Everett। "Encyclopedia of Islam and the Muslim World"। Macmillan Reference USA। সংগৃহীত ১ মে ২০১৩ 
  29. When Husband Insists on Anal Sex with His Wife - IslamonLine.net - Ask The Scholar
  30. When Husband Insists on Anal Sex with His Wife - IslamonLine.net - Ask The Scholar
  31. Anal Sex with the Wife: Does It Nullify Marriage? - IslamonLine.net - Ask The Scholar
  32. When Husband Insists on Anal Sex with His Wife - IslamonLine.net - Ask The Scholar
  33. Anal Sex with the Wife: Does It Nullify Marriage? - IslamonLine.net - Ask The Scholar
  34. ৩৪.০ ৩৪.১ ৩৪.২ Suad, Joseph (২০০৬)। Encyclopedia of Women and Islamic Cultures। Leiden, Boston: Brill। 
  35. ৩৫.০ ৩৫.১ Muhammed Salih Al-Munajjid"Why does Islam forbid lesbianism and homosexuality?"Islamqa.info। সংগৃহীত ৯ মে ২০১৫ 
  36. Camilla Adang (2003), Ibn Hazam on Homosexuality, Al Qantara, Vol. 25, No. 1, pp. 5-31
  37. ৩৭.০ ৩৭.১ Stephen O. Murray and Will Roscoe (1997), Islamic Homosexualities: Culture, History, and Literature, ISBN 978-0814774687, New York University Press, pp. 88-94
  38. Michaelson, Jay (২০১১)। God Vs. Gay? The Religious Case for Equality। Boston: Beacon Press। পৃ: 68–69। আইএসবিএন 9780807001592 
  39. See, for example, this website
  40. "Homosexuality in the Light of Islam", 20 September 2003
  41. Mohamed S. El-Awa (1993), Punishment In Islamic Law, American Trust Publications, ISBN 978-0892591428
  42. Muhammed Salih Al-Munajjid"The punishment for homosexuality"Islamqa.info। সংগৃহীত ৯ মে ২০১৫ 
  43. ৪৩.০ ৪৩.১ Suad, Joseph (২০০৭)। Encyclopedia। Boston: Brill, Leiden। পৃ: ৫৩১। 
  44. "মানবাধিকার ও ইসলাম"। www.at-tahreek.com। ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগৃহীত ৭ জুন ২০১৫ 
  45. "Al-Adab Al-Mufrad / Book-9 / Hadith-48"। quranx.com। সংগৃহীত ৭ জুন ২০১৫ 
  46. Kassam, Zayn। "The Oxford Encyclopedia of Islam and Law"। Oxford Islamic Studies Online। সংগৃহীত ৩ মে ২০১৩ 
  47. "Oral Sex in Islam"The Majlis। Vol. 6 No. 8: JamiatKZN, Central-Mosque.com। ১৪ জুন ২০০৩। সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১২ 
  48. ৪৮.০ ৪৮.১ "Are partners allowed to lick each other’s private parts?"Mawlana Saeed Ahmed Golaub। Moulana Ismail Desai। সংগৃহীত ৯ অক্টোবর ২০১২ 
  49. "Ask The Scholar: What is meant by makruh?"Shaik Ahmad Kutty। Ahmad Kutty। সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১২ 
  50. Hajj Gibril। "Questions On Sexuality, Oral sex"Living Islam। GF Haddad। সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১২ 
  51. 'Alî Abd-ur-Rahmân al-Hudhaifî (৪ মে ২০০১)। "Remembrance of Allaah"Islamic Network.। Islamic Network.। সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১২ 
  52. ৫২.০ ৫২.১ Omar, Sara। "Oxford Islamic Studies Online"। Oxford University Press। 
  53. Islam, Gender, and Social Change - Page 28, Yvonne Yazbeck Haddad, John L. Esposito - 1998
  54. http://www.abdurrazzaqbinyousuf.com/?p=372
  55. The New Arab Man: Emergent Masculinities, Technologies, and Islam in the Middle East, p 168, Marcia C. Inhorn - 2012
  56. Inhorn, Marcia (২০০৭)। "Masturbation, Semen Collection and Men's IVF Experiences: Anxieties in"। Body & Society 13 (37)। 
  57. http://shorolpoth.com/wp-content/uploads/2012/04/hayez_o_nefas-er_60_ti_prosno.pdf
  58. Joseph, Suad (২০০৭)। Encyclopedia of Women and Islamic Cultures। Brill। 
  59. Baugh, Carolyn। "Oxford Islamic Studies Online"। Oxford University Press। 
  60. Sachedina, Zulie (১৯৯০)। "Islam, Procreation and the Law"। International Family Planning Perspectives 16 (3)। 
  61. ১১:২১৬৬ (ইংরেজি)
  62. সহীহ বুখারী, ৩:৩৪:৪৩২ (ইংরেজি)
  63. Sachedina, Zulie (১৯৯০)। "Islam, Procreation and the Law"। International Family Planning Perspectives 16 (3)। 
  64. Esposito, John। "Oxford Islamic Studies Online"। Oxford University Press। 
  65. ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ: জাকির নায়েক
  66. Sachedina, Zulie (১৯৯০)। "Islam, Procreation and the Law"। International Family Planning Perspectives 16 (3): 111। 
  67. "Her foetus died after 66 days gestation and was miscarried after 100 days. Is her bleeding nifaas?"। Islamqa.info। সংগৃহীত ২৪ জুলাই ২০১৫ 
  1. S.H. Rizvi, Syed Athar Husain। "Islamic Marriage"। World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 
  2. S.H. Rizvi, Syed Athar Husain। "Islamic Marriage"। World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 
  3. S.H. Rizvi, Syed Athar Husain। "Islamic Marriage"। World Islamic Network। সংগৃহীত এপ্রিল ২৮, ২০১৩ 


বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]