ইসলামী যৌন আইনশাস্ত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

যৌনচার বিষয়ে ইসলাম বলতে সেইসব ইসলামিক অনুশাসন বোঝায় যেগুলো দ্বারা মানু্ষের যৌনাচার নিয়ন্ত্রিত হবে। এইসব অনুশাসন বহির্ভুত সকল প্রকার যৌনাচার ইসলামী মতে নিষিদ্ধ বা হারাম। মানব জীবনের যৌন চাহিদা ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত কিন্তু যৌনাচারের পন্থা সম্পর্কে রয়েছে অনুশাসন। মানুষের বিবিধ যৌনাচার অনুমোদনযোগ্য কি-না তা দুটি বিষয় থেকে অনুমানযোগ্য। প্রথমত: যৌনাচারের মূল উদ্দেশ্য বংশবৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত: নারী ও পুরুষ কেবল রীতিসিদ্ধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে যৌনাচারের প্রাধিকার অর্জন করে। যৌনতা বিষয়ক ফিকহ বা ইসলামিক যৌন আইনশাস্ত্র এবং ইসলামে যৌনতা বিষয়ক নিয়মাবলি ইসলামী প্রধান ধর্মগ্রন্থ কুরআন, হাদীস নামে পরিচিত ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণী ও কর্ম, ইসলামিক নেতৃবৃন্দ কর্তৃক প্রদত্ত ফতোয়া প্রভৃতিতে ব্যাপক ও বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে, যা নারী ও পুরুষের মধ্যকার নিয়মতান্ত্রিক যৌন সম্পর্কের মধ্যে সীমিত|

পরিচ্ছেদসমূহ

বয়ঃসন্ধিকাল[সম্পাদনা]

বয়ঃসন্ধিকালকে ইসলামে বুলুগ ও বয়ঃস্বন্ধিতে পৌছানো ছেলেকে বালেগ ও মেয়েকে বালেগা বলা হয়ে থাকে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকে নারী ও পুরুষের যৌন বৈশিষ্টসমূহ সক্রিয় হতে শুরু করে। তাই এই সময় থেকেই ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য মনোদৈহিক ভারসাম্য, স্থিরতা ও নিরাপত্তার জন্য নামাজ, রোজা, নিজ নিজ আওরাহ ও পবিত্রতার বিধান ফরজ বা বাধ্যতামুলক করা হয়।[১]

স্বপ্নদোষ[সম্পাদনা]

ইসলামী তথ্যলিপিসমূহে স্বপ্নদোষ অতি সাধারণ ও স্বাভাবিক ঘটনা বলে প্রতীয়মান হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নদোষ কোন গুনাহ বা পাপ নয়| এছাড়া স্বপ্নদোষের ফলে সাওম ভঙ্গ হয় না[২]| স্বপ্নদোষ হলে গোসল করে পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঋতুস্রাব[সম্পাদনা]

রজঃস্রাব ও ঋতুস্রাব বা হায়েজ ও নেফাসকে ইসলামে সরাসরি নারী জাতির জন্য একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময়ে নারীদের নামাজ ও রোজার মত বাধ্যতামুলক প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।[৩] পাশাপাশি গোসলের মাধ্যমে নিয়মিত পবিত্র হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৈবাহিক যৌনাচার[সম্পাদনা]

হাদীস[সম্পাদনা]

ইসলামে দৈহিক ও মানসিক যৌন চাহিদা পূরণের জন্য বিবাহের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।[৪] হাদীসে আছে,

"হে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সামর্থ আছে তাদের উচিৎ বিয়ে করা; এটি দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। আর যাদের বিয়ে করার সামর্থ নেই তারা যেন রোজা রাখে, কেননা তা যৌন উত্তেজনাকে প্রশমিত করে।"
—(বুখারী, মুসলিম)

[৪]

এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীসে এসেছে যে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন,

"তোমাদের মাঝে যার কোন (পুত্র বা কন্যা)সন্তান জন্ম হয় সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে এবং তাকে উত্তম আদব কায়দা শিক্ষা দেয়; যখন সে বালেগ অর্থাৎ সাবালক/সাবালিকা হয়, তখন যেন তার বিয়ে দেয়; যদি সে বালেগ হয় এবং তার বিয়ে না দেয় তাহলে, সে কোন পাপ করলে উক্ত পাপের দায়ভার তার পিতার উপর বর্তাবে"
—(বায়হাকি, মিশকাত: হাদীস নং - ৩১৩৮)

[৪]

নীতি[সম্পাদনা]

ইসলামী আইন অনুসারে, বিবাহের মাধ্যমে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যকার শারীরিক সম্পর্ক ও যৌনমিলন বৈধ করা হয়। বিয়ে ইসলামী বিবাহের মৌলিক বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। বিয়ে পড়ানোর পর শারীরিক সম্পর্কের আগে মোহরানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল যৌনসম্পর্ক। তাই অন্যান্য শর্ত পূরণ হলেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌনসঙ্গম হওয়ার পরই বিবাহ পরিপূর্ণ হয়। ইসলামে তালাক প্রদান অতিশয় অপছন্দনীয় তবে এর অনুমতি আছে। কোন কারণে যদি তালাক হয়েই যায় তবে সে সময় থেকে উক্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা অর্থাৎ যৌনসম্পর্ক ও পারস্পারিক মেলামেশার বৈধতা ও অনুমতি বাতিল ও সমাপ্ত হয়ে যায়।

স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্পর্ক[সম্পাদনা]

ইসলামে স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ককে বৈধ করা হয়েছে এবং একে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। উপরন্তু, ইসলামে এটিকে সদকার সমতুল্য বলা হয়েছে এবং নফল ইবাদতের চেয়েও অনেক বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ইসলামে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কই একমাত্র সম্পর্ক যেখানে পর্দার কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে পায়ুমৈথুন, রজঃস্রাবকালীন সময় ,সন্তান জন্মের পর প্রথম চল্লিশদিন, রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় এবং হজ্জ ও ওমরাহ পালনের সময়ে যৌনমিলন করার ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে।

যৌনতার বিধিনিষেধসমূহ[সম্পাদনা]

জনসম্মুখে প্রকাশ্য যৌনতা[সম্পাদনা]

ইসলামে যৌনতা কেবল স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বৈধ এবং অবশ্যই তা লোকচক্ষুর আড়ালে নির্জন স্থানে হতে হবে। ইসলামে জনসম্মুখে প্রকাশ্য যৌনাচার ও নগ্নতা, জনসম্মুখে যৌন উষ্কানিমুলক আচরণ ও পোশাক পরিধান অন্যান্য সকল ক্ষেত্র সহ বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ। একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,

"যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্য অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে প্লেগ মহামারির আকারে রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব ঘটে, যা পূর্বেকার লোকেদের মাঝে দেখা যায় নি।"
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ৪,০১৯

পবিত্রতা অর্জন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা[সম্পাদনা]

যৌনক্রিয়া বা সহবাসের সময় যদি শুধুমাত্র দম্পতির যৌনাঙ্গদ্বয়ের পারস্পারিক অনুপ্রবেশ ঘটে অথবা অনুপ্রবেশের পর বীর্যস্খলন ঘটে তবে এই উভয় ক্ষেত্রেই স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের পূর্ণরুপে গোসল করা প্রয়োজন, যাতে তারা পরবর্তী সালাতের পূর্বে পবিত্র হতে পারে। গোসলের জন্য প্রয়োজন এমন পরিষ্কার ও দুর্গন্ধবিহীন পবিত্র পানি যা ইতিপূর্বে গোসল বা শৌচকাজে ব্যবহৃত হয় নি। গোসলের জন্য প্রথমে পবিত্রতা ও ইবাদতের নিয়ত বা মনসংকল্প করতে হবে। এরপর বিসমিল্লাহ বলে অযু করার পর পূর্ণরুপে শরীরের প্রতিটি অংশ ধুয়ে পরিষ্কার হবে যাতে একটি পশম পরিমাণ স্থানও শুকনো না থাকে, যাকে ফরজ গোসল বলে।

রোজা এবং রমজান মাস[সম্পাদনা]

রমজান মাসে রোজার সময় যৌনসঙ্গম নিষিদ্ধ। এ সময় যৌনসঙ্গম করলে বা কোন কারণে বীর্যপাত ঘটালে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। যৌন উত্তেজনা বশত: কামরস নির্গত হলে রোজা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

রজঃস্রাব[সম্পাদনা]

স্ত্রীর রজ:স্রাব কালে যৌনসঙ্গম করা হারাম বা নিষিদ্ধ। নবীজী (সাঃ) এর মৃত্যুপরবর্তী কোন এক সময়ে, এক মহিলার রজ:স্রাবকালে যৌনসঙ্গম করার কারণে হিজড়া সন্তানের জন্ম হয়েছিল এমন একটি ঘটনা একজন সাহাবীর নিজস্ব বর্ননায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গর্ভনিরোধ[সম্পাদনা]

ইসলামী বিধান অনুযায়ী যৌনসঙ্গমকালে বীর্যপাতের পূর্ব মুহূর্তে লিঙ্গ প্রত্যাহার করে গর্ভনিরোধ করা যায়। একে আজল বলে। সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) এর বর্ননা থেকে জানা যায় যে, রাসূল(সাঃ) এর জীবদ্দশায় অনেক সাহাবী আজল করতেন।[৫] চার মাজহাবের ইমামগণের মতে, আযল তখনই করা যাবে যখন স্ত্রী তার অনুমতি দেবেন। এছাড়া কিছু আলেম বলেছেন, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে আযল করার ব্যপারে একমত হয়ে সম্মত হলে তা বৈধ হবে। আধুনিককালে কনডম ব্যবহারও আজলের অন্তর্ভূক্ত বলে অনেক আলেম ফতোয়া দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে সকল আলেম একমত যে, যে সকল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে জীবন্ত ভ্রুণকে নষ্ট করা হয় অর্থাৎ হত্যা করা হয়, যেমন পিল ইত্যাদি সেগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া সকল আলেম একমত যে, আধুনিককালে প্রচলিত চিরস্থায়ী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ।[৬]

গর্ভপাত[সম্পাদনা]

সাধারণ অবস্থায়, ইসলামে গর্ভের সন্তান হত্যা করা বা গর্ভপাত করা নিষিদ্ধ। সকল আলেমই গর্ভে সন্তান আসার পর গর্ভপাত না করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। তবে আলেমদের মতে, গর্ভধারণের কারণে মায়ের অত্যাধিক স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে যদি গর্ভপাত করার কারণে মায়ের জীবন বাঁচে তবে গর্ভপাত করা বৈধ হবে। এছাড়া নবজাতক ভরণ-পোষণের অর্থের অভাবে হলেও গর্ভপাত নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতাআলা অর্থাভাবে হলেও সন্তান হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

পায়ূমৈথুন[সম্পাদনা]

ইসলামী বিধান অনুযায়ী মানবদেহে পায়ূতে লিঙ্গ প্রবেশ হারাম। নিজ স্ত্রীর সঙ্গেও পায়ূমৈথুন হারাম বা নিষিদ্ধ। ইসলামী বিধান অনুসারে, এ কাজ কবিরা গুনাহ বা সর্বোচ্চ পাপ।

ইসলামের দৃ্ষ্টিতে বিবিধ যৌনাচার[সম্পাদনা]

বিবাহবহির্ভূত যৌনতা (ব্যভিচার ও পরকীয়া)[সম্পাদনা]

যে কোন বিবাহবহির্ভূত যৌনাচারকে যিনা বলে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। হাদীসে বলা হয়েছে,মানুষের অন্তর ও অঙ্গগুলোর বিবাহবহির্ভূত যৌনকামনা ও সেদিকে অভিমূখী কর্মকাণ্ডসমূহও যিনার অন্তর্ভূক্ত। সমাজ থেকে যিনাকে নির্মুল করার জন্য ইসলামে ব্যক্তিবিশেষের চাহিদা ও বয়ঃপ্রাপ্তি অনুযায়ী সঠিক সময়ে ও সহজ পদ্ধতিতে পারিবারিক বিয়ের জন্য জোর দেয়া হয়েছে।যার সঙ্গে বিবাহ স্থির হয়েছে তার সঙ্গে যথাযথ পদ্ধতিতে বিবাহ নিষ্পন্ন না-হওয়া পর্যন্তও পারষ্পারিক মেলামেশা বা যোগাযোগ নিষিদ্ধ।ইসলামী বিচারব্যবস্থায় ব্যভিচারের অভিযোগে কেউ অভিযুক্ত হলে তা প্রমাণ করার জন্য কমপক্ষে চারজন পুরুষ সাক্ষী বা প্রতি একজন পুরুষ সাক্ষীর বদলে দুইজন নারী সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে একশতটি বেত্রাঘাত এবং পরকিয়াকারী অর্থাৎ বিবাহিত ব্যভিচারী পুরুষ বা নারীকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে।[৭] আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে বা মিথ্যা প্রমাণিত হলে মিথ্যা অপবাদ রটনাকারীকে আশিটি বেত্রাঘাত প্রদান করতে হবে।

সমকামী যৌনাচার[সম্পাদনা]

ইসলাম কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অর্থাৎ বৈধভাবে নারী এবং পুরুষের মধ্যে যৌনসঙ্গম অনুমোদন করে।একারণে সমকামী যৌনাচার ইসলামে নিষিদ্ধ।ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি বিকৃত ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট যৌনাচার যা নারী-পুরুষ যৌনতার স্বাভাবিকতাবিবর্জিত এবং যৌনতার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে প্রজননের পরিপন্থী,যা সৃষ্টিগতভবে যৌনতার মৌলিক ও কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য।ইসলামের দৃষ্টিতে এটি ব্যভিচার ও পরকীয়া থেকেও খারাপ একটি কাজ।সমকামীযৌনাচারের কারণে অতীতে নবী লূত(আঃ)এর সম্প্রদায়কে আল্লাহ ধ্বংস করে দেয়ার সাবধানকারী ঘটনা কুরআনের একাধিক সূরা ও একাধিক হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।এছাড়া নবী মুহাম্মদ(সাঃ) সমকামীদের অভিসম্পাত করেছেন,সমাজকে সমকামিতার প্রভাব থেকে মুক্ত করতে এদের হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন;এছাড়া চারখলিফাও এ ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছেন।সমকামিতা রোধ করার জন্য ইসলামে নারী পুরুষকে লিঙ্গ অনুযায়ী পোশাকীয় ও আচরণিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে বলা হয়েছে এবং নারীকে পুরূষের বেশভুষা ও আচরণ এবং পুরুষকে নারীর বেশভুষা ও আচরণ অণুকরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।পাশাপাশি নারী বা পুরুষ সমাজেও উষ্কানিমূলক নগ্নতাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে|

অজাচার[সম্পাদনা]

যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করাকে অজাচার বলে। কওমে লূতের (লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের) সীমালঙ্ঘনের কাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল অজাচার। হাদীসে আছে, রাসূল (সাঃ) মানুষের মাঝে কওমে লূতের কুঅভ্যাসসমূহ সঙ্ঘটিত হওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করতেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে এসব কুকর্মে রত ব্যক্তিদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার আদেশ দিতেন। আবু বকর (রাঃ) তার খিলাফতের সময় এ ধরনের ব্যক্তিদের উপর দেয়াল ধ্বসিয়ে দিতেন এবং আলী (রাঃ) তার খিলাফতের সময় এদের আগুনে পুড়িয়ে মারতেন। ইসলামের দৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃত অজাচার একটি কুফরি বা আল্লাহর অবাধ্যতা এবং মনুষত্ববোধহীন অমানবিক ও পশুসুলভ আচরণ হিসেবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি মানবিক সম্পর্ককে ধ্বংস ও নিঃশেষ করে দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সকল পুরুষ পরষ্পরের ভাই এবং সকল নারী পরস্পরের বোন। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে সমকামিতাও একটি অজাচার।

উপপত্নী[সম্পাদনা]

ধর্ষণ[সম্পাদনা]

ধর্ষণ বিবাহ বহির্ভূত জোরপূর্বক যৌনসঙ্গম, যা এক প্রকার অত্যাচার ও নির্যাতন। তাই ধর্ষণ ইসলামে নিষিদ্ধ। ইসলামী আইন অনুসারে, ধর্ষণের অভিযোগ প্রমানিত হলে অভিযুক্ত ধর্ষককে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে মৃত্যুদন্ড প্রদান করতে হয়, যেন উপস্থিত জনতা শাস্তি দেখে ভীত হয়ে ধর্ষণ থেকে বিরত থাকে

হস্তমৈথুন[সম্পাদনা]

ইসলাম কেবল স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে যৌনসঙ্গম অনুমোদন করে। হস্তমৈথুন বা স্বকাম তাই ইসলামে অনুমোদিত নয়। ইবনে কাসীর সহ বেশ কিছু হাদীসগ্রন্থের হাদীসে হস্তমৈথুনকারীকে অভিশপ্ত এবং হস্তমৈথূনকে স্বীয় হস্তের সাথে ব্যভিচার বলা হয়েছে, এছাড়াও হাদীসে বলা হয়েছে, হস্তমৈথুনকারীকে আল্লাহ জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, কিন্তু যারা অনুশোচনা ও তওবা করবে আল্লাহ শুধু তাদেরকেই ক্ষমা করবেন। প্রাথমিকযূগের সকল আলেমগণ একে হারাম বলে সাব্যস্ত করেছেন এবং পরবর্তী সময়ের কিছু আলেম ব্যভিচারের আশঙ্কা থাকলে যদি হস্তমৈথুন করে তা থেকে বাচা যায় তবে শুধুমাত্র সেরকম ক্ষেত্রে তা হারাম হবে না বলে চিহ্নিত করেছেন।[৮] প্রাপ্ত হাদীস ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মত অনুযায়ী এটি একটি বড় গুনাহের কাজ এবং এই কাজে লিপ্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, তওবা না করলে আল্লাহ এই অপরাধ ক্ষমা করবেন না। এছাড়া, অবিবাহিত যুবকদের ইসলামে সামর্থ থাকলে দ্রুত বিয়ে করার আদেশ দেয়া হয়েছে এবং সামর্থ না থাকলে রোজা রেখে ধৈর্য্য ধারনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মুখমৈথুন[সম্পাদনা]

ইসলামে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মুখমৈথুনের ব্যপারে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয় নি। সে কারণে অনেক আলেমই এটির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা বৈধতা প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছেন। আবার অনেক আলেম এটিকে মাকরুহ বলে স্বাব্যস্ত করেছেন।

শিশুবিবাহ[সম্পাদনা]

ইসলামে বয়ঃস্বন্ধিক পরিপক্কতা লাভের পূর্ববর্তী সময়কালকে শৈশবকাল বলা হয়। ইসলামী নিয়মানুসারে অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে শিশুবিবাহের অনুমতি রয়েছে। তবে বয়ঃসন্ধির পূর্বে অর্থাৎ দৈহিক ও মানসিক পরিপক্কতা, সহ্যক্ষমতা, আগ্রহ ও ইচ্ছা তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্ক ও যৌনসঙ্গম স্থগিত থাকবে।

পশুকামিতা ও পশুর সঙ্গে যৌনাচার[সম্পাদনা]

ইসলামে পশুকামিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি একটি বিকৃত যৌনাচার। হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি শিকার বা পাহারা ব্যতিরেকে অকারণে কুকুর পালন করবে, তার প্রতিদিনের কর্মফল থেকে এক কিরাত পরিমাণ (এক উহুদ পাহাড় সমান) পুণ্য কেটে নেয়া হবে।

কেয়ামতের লক্ষণ[সম্পাদনা]

সহীহ হাদীসে বেশ কিছু নিষিদ্ধ যৌনতার সমাজে ছড়িয়ে পড়াকে কেয়ামতের পূর্বলক্ষণ হিসেবে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা হয়েছে। এগুলো হল প্রকাশ্যে অবৈধ যৌনাচার, সমকামিতা, সমাজে অবৈধ যৌন সম্পর্ক সহজ হয়ে যাওয়া এবং অজাচার[৯]

অবৈধ যৌনতার শাস্তি, সংশোধন ও অনুশোচনা[সম্পাদনা]

পবিত্র কোরআনের সূরা নিসা'য় আল্লাহ তাআলা বলেন,

"(১৬) তোমাদের মধ্যে যে দুজন সেই কুকর্মে (ব্যভিচারে) লিপ্ত হয়, তাদেরকে শাস্তি প্রদান কর, অতঃপর তারা যদি উভয়ে তওবা (অনুশোচনা,অনুতাপ) করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও। নিশ্চই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু। (১৭) অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে, এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন; আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ। (১৮)আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমনকি যখন মাথার উপর মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে - আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফুরি(অবাধ্য) অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।"
—সূরা: নিসা, আয়াত: ১৬-১৮

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Teaching the Child Islamic Rules Regarding Puberty"। www.missionislam.com। সংগৃহীত 22014-11-29 
  2. https://askislambd.weebly.com/gqa42.html
  3. http://shorolpoth.com/wp-content/uploads/2012/04/hayez_o_nefas-er_60_ti_prosno.pdf
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ http://islam.masudkabir.com/others/ইসলামে-বিয়ের-প্রয়োজন-ও/
  5. Sachedina, Zulie (1990)। "Islam, Procreation and the Law"। International Family Planning Perspectives 16 (3)। 
  6. ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ: ডাঃ জাকির নায়েক
  7. http://sorolpath.wordpress.com/2011/04/26/ব্যভিচার/ en:Zina
  8. http://www.abdurrazzaqbinyousuf.com/?p=372
  9. Islamic eschatology: Signs of Armagedon/epocalypto

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]