বিষয়বস্তুতে চলুন

ইউসুফ-জুলেখা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ক্ষুদ্রাকার মুঘল চিত্রকলাটিতে ইউসুফ - জুলেখার কাহিনী চিত্রিত হয়েছে।

ইউসুফ-জোলেখা মধ্যযুগের পুঁথি লেখকদের রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি প্রণয়-কাব্য। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর[] তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৯৩-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন।[] শাহ মুহম্মদ সগীর ছাড়াও মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ-জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেন। তার মধ্যে আবদুল হাকিম, শাহ গরিবুল্লাহ, গোলাম সফাতুল্লাহ, সাদেক আলী এবং ফকির মোহাম্মদ উল্লেখযোগ্য।[]

শাহ মুহম্মদ সগীর এর ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে সুপ্রাচীন প্রণয়কাহিনী উপজীব্য করা হয়েছে। বাইবেলকুরআন এ নৈতিক উপাখ্যান হিসেবে সংক্ষেপে এই কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। ইরানের মহাকবি ফেরদৌসী (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এবং সূফীকবি জামী (মৃত্যু ১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দ) মূল কাহিনী পল্লবিত করে ইউসুফ-জোলেখা নামে কাব্য রচনা করেছিলেন। তবে ফেরদৌসীর কাব্যের রোমান্টিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যের যথেষ্ট সামঞ্জস্য বিদ্যমান।

বিষয়বস্তু

[সম্পাদনা]

ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের বিষয়বস্তু ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনী। কাব্যের শুরুতে আল্লাহ ও রাসুলের বন্দনা, মাতাপিতা ও গুরুজনের প্রশংসা এবং রাজবন্দনা স্থান পেয়েছে। তৈমুস বাদশাহের কন্যা জোলেখা আজিজ মিশরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও ক্রীতদাস ইউসুফের প্রতি গভীরভাবে প্রেমাসক্ত হন। নানাভাবে আকৃষ্ট করেও তিনি ইউসুফকে বশীভূত করতে পারেননি। বহু ঘটনার মধ্য দিয়ে ইউসুফ মিশরের অধিপতি হন। ঘটনাক্রমে জোলেখা তখনও তার আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করেননি এবং পরে ইউসুফের মনেরও পরিবর্তন ঘটে। ফলে তাদের মিলন হয়। কাব্যের এই প্রধান কাহিনীর সাথে আরও অসংখ্য উপকাহিনী স্থান পেয়েছে। পরবর্তীত ইতিহাসে মুসলিম সাহিত্য এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকায় স্থায় পায়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Islam, Sirajul (১৯৯২)। History of Bangladesh, 1704-1971: Social and cultural history (ইংরেজি ভাষায়)। Asiatic Society of Bangladesh। পৃ. ৩৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৫১২-৩৩৭-২
  2. Ahmed, Salahuddin (২০০৪)। Bangladesh: Past and Present (ইংরেজি ভাষায়)। APH Publishing। পৃ. ৬৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৬৪৮-৪৬৯-৫
  3. "বাংলাপেডিয়ায় ইউসুফ-জোলেখা"। ২৬ মে ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৩