বিষয়বস্তুতে চলুন

হেরা গুহা

স্থানাঙ্ক: ২১°২৭′২৭.২″ উত্তর ০৩৯°৫১′৩৩.৯″ পূর্ব / ২১.৪৫৭৫৫৬° উত্তর ৩৯.৮৫৯৪১৭° পূর্ব
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হেরা গুহা
হেরা গুহার প্রবেশদ্বার
মানচিত্র
অবস্থানমক্কা মুকাররমা, সৌদি আরব
ধরনগুহা
নিবেদিতধর্মীয় স্মৃতিস্তম্ভ

হেরা (আরবি: حراء Ḥirāʾ ) বা হেরা গুহা (غار حراء Ġār Ḥirāʾ ) সৌদি আরবের মক্কায় জাবালে নূর পর্বতে অবস্থিত একটি গুহা।

সর্বপ্রথম কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার স্থান হিসেবে এই গুহা প্রসিদ্ধ। ইসলাম অনুযায়ী শবে কদরে আল্লাহর তরফ থেকে ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই গুহায় সর্বপ্রথম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কুরআনের বাণী নিয়ে এসেছিলেন।

বর্ণনা

[সম্পাদনা]
পাহাড়ে হেরা গুহার প্রবেশদ্বার

এর নাম এসেছে হিরা (রত্ন) থেকে। ১৭৫০টি ধাপ অতিক্রম করে এই গুহায় পৌঁছানো যায়। এটি লম্বায় প্রায় ৩.৭ মি (১২ ফু) এবং প্রস্থে ১.৬০ মি (৫ ফু ৩ ইঞ্চি)[] এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭০ মি (৮৯০ ফু) উচ্চতায় অবস্থিত।[] হজ্জ (তীর্থযাত্রা) -এর সময়, আনুমানিক পাঁচ হাজার দর্শনার্থী প্রতিদিন এই গুহায় আরোহণ করেন।

সীরাতে ইবনে হিশাম অনুযায়ী উবাইদ ইবনে ‘উমাইর থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর এক মাস হেরা গুহায় কাটাতেন। জাহিলিয়াতের যুগে কুরাইশরাও এই একইভাবে মূর্তিপূজা বাদ দিয়ে নিভৃত তপস্যায় মগ্ন হতো। প্রতি বছর একটা মাস তিনি এভাবে নির্জনে ইবাদাত করে কাটাতেন। এক মাসের এই নির্জনবাস সমাপ্ত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বাড়ীতে ফিরে যাবার আগে সর্বপ্রথম কা’বা শরীফে প্রবেশ করে সাতবার বা ততোধিক বার তাওয়াফ করতেন ।[]

এই স্থানেই লাইলাতুল কদর (শবে কদর) -এর রাতে, ফেরেশতা জিব্রাইল (গ্যাব্রিয়েল) -এর মাধ্যমে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর উপর কোরআনের প্রথম ওহী নাজিল হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। অধিকাংশ মুসলমান এই গুহা পরিদর্শনকে হজ্জের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন না। তবুও অনেকে ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং আধ্যাত্মিকতার টানে এখানে আসেন। যদিও কেউ কেউ এটিকে উপাসনালয় বলে মনে করেন, এই ধারণাটি ইসলামী রীতিনীতির সালাফি ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক। আস-সিরাহ আন-নববিয়্যাহ (নবীর জীবনী) -তে এই গুহাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবুও মক্কার মসজিদুল হারাম -এর মতো অন্যান্য স্থানের মতো এটিকে পবিত্র বলে মনে করা হয় না। তাই ইসলাম -এর অধিকাংশ ব্যাখ্যা অনুসারে, এখানে নামাজ পড়ার জন্য মক্কার অন্য যেকোনো স্থানে নামাজ পড়ার মতোই সওয়াব পাওয়া যায়।[]

মহানবী (সাঃ) -এর উপর প্রথম ওহী নাজিলের পূর্বে, তিনি আধ্যাত্মিক স্বপ্ন দেখতেন। এই স্বপ্নগুলোতে এমন সব ইঙ্গিত ছিল যে তাঁর নবুয়ত শুরু হয়েছে এবং মক্কার পাথরগুলো তাঁকে সালাম দিয়ে অভ্যর্থনা জানাবে। এই স্বপ্নগুলো ছয় মাস ধরে চলেছিল।[]

একাকিত্বের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনের তাগিদে মহানবী (সাঃ) মক্কার পার্শ্ববর্তী পাথুরে পাহাড়ে নির্জনতা এবং ধ্যান (মুরাকাবা) করার জন্য স্থান খুঁজছিলেন।[] তিনি প্রতি বছর এক মাসের জন্য এই গুহায় নির্জনতা (তাহান্নুছ) অবলম্বন করতেন।[][][১০] তিনি রসদ নিয়ে যেতেন এবং তাঁর কাছে আগত দরিদ্রদের খাওয়াতেন। রসদের জন্য বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আগে, তিনি কাবা ঘর সাতবার প্রদক্ষিণ করতেন।

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]
গুহার প্রবেশপথ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "icoh" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. "সৌদি পর্যটন"। সৌদি পর্যটন। ৮ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৮
  3. সীরাতে ইবনে হিশাম। ইবনে হিশাম (রহঃ)। পৃ. ৫৩।
  4. "মক্কা ও মদিনায় নামাজ পড়ার সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি - ইসলামওয়েব - ফতোয়া"www.islamweb.net। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২১
  5. মুবারকপুরী, শফিউর রহমান (১৯৯৮)। আর-রাহীকুল মাখতূম। রিয়াদ: দারুসসালাম। পৃ. ৩২।
  6. Peterson, Daniel C. (২০১৩)। Muhammad, prophet of Allah। Grand Rapids, Mich.।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  7. "Taḥannut̲h̲", Encyclopedia of Islam (2 সংস্করণ), Brill, ২০১৭, সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৮
  8. Kister, M. J. (১৯৬৮), ""Al-Taḥannuth": An Inquiry into the Meaning of a Term" (পিডিএফ), Kister.huji.ac.il, পৃ. ২২৩–২৩৬, ২৯ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০১৮
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Weir" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  10. আত-তাবারী, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির (১৯৮৮)। Watt, W. Montgomery; McDonald, M.V. (সম্পাদকগণ)। তারিখুর রসুল ওয়াল মুলুক [আত-তাবারীর ইতিহাস]। খণ্ড ৬। Albany, N.Y.: State University of New York Press।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  1. তাহান্নুছ এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে,[][] তার মধ্যে একটি হল 'আত্ম-ন্যায্যতা', যেমনটি জাহেলিয়াত যুগে কুরাইশ গোত্র দ্বারা চর্চা করা হত।
উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি