ঈদের নামাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
Eid prayer during Eid al-Fitr at Taipei Grand Mosque, Taiwan
Muslim males can be seen attending Khutbah as part of the Eid-ul-Adha prayers. Photo taken at Barashalghar union of Comilla's Debidwar upazila.
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গ্রামের ঈদের নামাজ পড়ার দৃশ্য।

ঈদের নামাজ আরবীতে সালাতুল ঈদ (صلاة العيد‎) এবং সালাতুল ঈদিন(صلاة العيدين‎) নামে পরিচিত। ঈদ মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ঈদের দিন স্রষ্টার উদ্দেশে মুসলমানগণ মাঠে জমায়েত হয়ে যে নামাজ পড়েন তাকে ঈদের নামাজ বলা হয়। ঈদের নামাজ সাধারনত ঈদগাহে পড়া হয়। ঈদগাহ হচ্ছে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য নির্ধারিত খোলা স্থান। এই স্থানে সাধারনত দুই ঈদঃ ঈদুল ফিত্‌র এবং ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা হয়।

  • ঈদুল ফিত্‌র (عيد الفطر‎) হিজরী সনের ১০ মাস, শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে উদযাপন করা হয়।
  • ঈদুল আজহা ( عيد الأضحى‎) ইসলামী বর্ষপঞ্জীর দ্বাদশ মাস জ্বিলহজ্ব মাসের দশম দিনে উদযাপন করা হয়।

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

ঈদের নামাজের ব্যাপারে ইসলামী চিন্তাবিদগণ ভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। হানাফী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ওয়াজিব। মালিকি ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসারে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং হানবলী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ফরজ। অনেক মনীষীর মতে এটা ফরজে আইন এবং অনেকের মতে এটি ফরজে কেফায়া[১]

মহিলাদের অংশগ্রহন[সম্পাদনা]

বেশিরভাগ ইসলামী চিন্তাবিদ মহিলাদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহন করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সহ ভারতীয় উপমহাদেশে মহিলাদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহন করার হার তুলনামূলক ভাবে কম।

সময়[সম্পাদনা]

সূর্য দিগন্ত থেকে আনুমানিক দুই মিটার উচ্চতায় পৌঁছালে ঈদের নামাজ পড়া হয়। জোহর এর নামাজের আগেই ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। সুন্নাত হিসেবে ঈদুল ফিতরের নামাজ কিছুটা দেরী করে এবং ইদুল আজহার নামাজ দ্রুত আদায় করা হয়। ইদুল ফিতরে ফিতরা প্রদান করতে হয়। ঈদ সকালে কিছুটা সময় পাওয়া গেলে ফিতরা আদায়ে সুবিধা হবে। অন্যদিকে ঈদুল আজহায় ঈদের নামাজ সম্পন্ন করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কুরবানী করা হয়। সেজন্য ঈদের নামাজ যত দ্রুত সম্ভব আদায় করতে হবে। এই ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ[সম্পাদনা]

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।[২] প্রতিবছর এ ময়দানে ঈদ-উল-ফিতরঈদুল আজহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কালের স্রোতে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানটি পরিণত হয়ে উঠেছে একটি ঐতিহাসিক স্থানে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এ ময়দানের বিশাল জামাত গৌরবান্বিত ও ঐতিহ্যবাহী করেছে কিশোরগঞ্জকে। বর্তমানে এখানে একসঙ্গে তিন লক্ষাধিক মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শুরুর আগে শর্টগানের ফাঁকা গুলির শব্দে সবাইকে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সঙ্কেত দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্বে নরসুন্দা নদীর তীরে এর অবস্থান।

তথ্য উৎস[সম্পাদনা]

  1. "Ruling on Eid prayers"Islam Question and Answer 
  2. Eid-ul Fitr; Banglapedia; Retrieved on 2007-08-26.