ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শতকরা হিসেবে পৃথিবীতে মুসলিম জনসংখ্যা (পিউ রিসার্চ সেন্টার, ২০১৪ খৃ.)

কয়েক শতাব্দী ধরে ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় মুসলিম শাসক, ওলামা এবং সাধারণ মুসলিমরা বিভিন্ন ধারণা পোষণ করেছেন অন্যান্য ধর্মের প্রতি। সময়ের সাথে সাথে এই ধারণাগুলি পরিবর্তিত হয়েছে।

ইসলাম কী[সম্পাদনা]

ইসলাম (আরবি: الإسلام‎‎‎) শব্দটি এসেছে আরবি س-ل-م থেকে যার দু'টি অর্থ।

  1. শান্তি
  2. আত্মসমর্পণ করা।

বলা হয় ইসলাম হলো শান্তি (প্রতিষ্ঠা)'র উদ্দেশ্যে এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বর (আল্লাহ)-এর কাছে আত্মসমর্পণ করা।

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস (আক্বীদা)[সম্পাদনা]

ইসলামের আক্বীদা বা ঈমানই ইসলামকে অন্যান্য ধর্ম থেকে পৃথক করে। আক্বীদার অন্যতম বিশ্বাসগুলি হলো তওহীদ, ফেরেশতা, কিতাব, নবী-রাসূল, আখিরাত, ত্বকদীর -এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।

তওহীদ[সম্পাদনা]

তাওহীদ (আরবি: توحيد‎‎ tawḥīd, তাওহীদ) ইসলাম ধর্মে এক আল্লাহর ধারণাকে বোঝায়।[১] তাওহীদ শব্দের বাংলা অর্থ একত্ববাদ ৷[২] ইসলামের পরিভাষায় তাওহীদ হল সৃষ্টি ও পরিচালনায় আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে বিশ্বাস করা, সকল ইবাদাত-উপাসনা কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য করা, অন্য সবকিছুর উপাসনা ত্যাগ করা, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলীকে তার জন্য সাব্যস্ত করা এবং দোষ ত্রুটি থেকে আল্লাহকে পবিত্র ও মুক্ত ঘোষণা করা।[৩] কুরআনে বলা হয়েছে,

"... কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"[৪]

— অনুবাদ: মুজিবুর রহমান

ফেরেশতা[সম্পাদনা]

ফিরিশতা বা ফেরেশতা(আরবি: ملاءكة‎‎)(ইংরেজি: Angels) ইসলামী বিশ্বাসমতে স্বর্গীয় দূত। আরবিতে ফেরেশতাদের একবচনে মালাইকা ও বহুবচনে মালাক বলে। বলা হয় এদেরকে আল্লাহ নূর বা আলো দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। ফেরেশতারা সর্বদা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তারা আল্লাহর অবাধ্য হয় না।[৫] তারা খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে না। ইসলাম, খ্রিস্টানইহুদি ধর্ম ছাড়া হিন্দু ধর্মেও ফেরেশতা তথা স্বর্গীয় দূতদের অস্তিত্ত্বের কথা বলা হয়েছে।

কিতাব[সম্পাদনা]

আসমানী কিতাব বা ঐশ্বিক গ্রন্থ বলতে এমন কতকগুলো গ্রন্থকে বোঝানো হয়, ইসলাম ধর্মমতে মুসলমানগণ যে গ্রন্থগুলোকে ঈশ্বরপ্রদত্ত গ্রন্থ বলে বিশ্বাস করেন।

পয়গম্বর[সম্পাদনা]

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জাতির জন্য একজন বা একাধিক মানুষকে রাসূল (বার্তাবাহক) হিসেবে পাঠিয়েছেন। তারা পরকালের পুরষ্কারের সুসংবাদ দেন ও শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

আমি তোমাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছি সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী রূপে; এমন কোন সম্প্রদায় নেই যার নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি।[৬]

— অনুবাদ: মুজিবুর রহমান

আখিরাত বা পরকাল[সম্পাদনা]

ত্বকদীর[সম্পাদনা]

তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থ হচ্ছে, এই বিশ্বাস করতে হবে যে, সবকিছুকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, সেগুলি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তিনি সে সম্পর্কে জানেন, তিনি তা লাওহে মাহফূযে লিখে রেখেছেন এবং সবকিছু তার ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে,

"তুমি কি জান না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয় তা একটি কিতাবে রয়েছে। অবশ্যই এটা আল্লাহর জন্য অতি সহজ।"

"আর তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন।"

হাদীসে বলা হয়েছে,

"...যদি সমগ্র উম্মত তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ (তাকদীরের লিপি) শুকিয়ে গেছে।"

— তিরমিযী ২৫১৬ (হাসান সহীহ)[৭]

একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম[সম্পাদনা]

কুরআন অনুসারে ইসলামই একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম। বলা হয়েছে,

আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইসলাম গ্রহণের আহ্বান[সম্পাদনা]

ইসলাম অনুসারে যেকেউ ইসলাম গ্রহণ করে ধর্মান্তরিত হতে পারে। অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানানো ইসলামে পূণ্যের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ[সম্পাদনা]

কুরআনে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দিয়ে বলা হয়েছে,

"যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে, যাদেরকে আক্রমণ করা হচ্ছে। কারণ তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে বিজয় দানে সক্ষম। যাদেরকে তাদের নিজ বাড়ী-ঘর থেকে অন্যায়ভাবে শুধু এ কারণে বের করে দেয়া হয়েছে যে, তারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’। আর আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা দমন না করতেন, তবে বিধস্ত হয়ে যেত খৃস্টান সন্ন্যাসীদের আশ্রম, গির্জা, ইয়াহূদীদের উপাসনালয় ও মসজিদসমূহ- যেখানে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী। তারা এমন যাদেরকে আমি যমীনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।"

তবে যারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করেনা তাদের সাথে ভাল আচরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করছেন না বলে কুরআনে বলা হয়েছে,

"দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করছেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদেরকে ভালবাসেন। আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা দীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে ও তোমাদেরকে বের করে দেয়ার ব্যাপারে সহায়তা করেছে। আর যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তারাই তো যালিম।"

জোর পূর্বক ধর্মান্তর[সম্পাদনা]

কুরআনে জোর পূর্বক ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই। নিশ্চয়ই ভ্রান্তি হতে সুপথ প্রকাশিত হয়েছে। অতএব যে তাগুতকে অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে দৃঢ়তর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরলো যা কখনও ছিন্ন হবার নয় এবং আল্লাহ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

— অনুবাদ: মুজিবুর রহমান

[৮]

ইসলাম ধর্মত্যাগ[সম্পাদনা]

অনেক ইসলামের সমালোচকই বলে থাকেন যে ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারীকে ইসলামে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও মুসলিম পন্ডিতদের মতে, ইসলামে ধর্ম ত্যাগকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না, যদি না তারা ধর্ম ত্যাগ করার পর ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

অ-মুসলিম ও ইসলাম[সম্পাদনা]

ইসলামে কিছু বিধানের ক্ষেত্রে আহলে কিতাবরা (ইহুদি, খ্রীস্টান, এবং অন্যান্য) অন্য অ-মুসলিমদের থেকে ভিন্ন। যেমন মুসলিম পুরুষেরা আহলে কিতাবের মহিলাদের বিয়ে করতে পারবে। যদিও, মুসলিম মহিলারা আহলে কিতাবের পুরুষদের বিয়ে করতে পারে না।

সমকালীন ইসলামী অনুশীলন[সম্পাদনা]

উনিশ ও বিশ শতকে, বেশির ভাগ ইসলামী রাষ্ট্র শ্লথগতি হয়ে যায় ইউরোপীয় কলোনিয়াল ব্যবস্থার সাথে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, কলোনিয়াল শাসনব্যবস্থায় পূর্বের মুসলিম শাসিত দেশগুলি পুনরায় অ-মুসলিমদের ওপর নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "From the article on Tawhid in Oxford Islamic Studies Online" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxfordislamicstudies.com। ২০০৮-০৫-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-২৪ 
  2. "Allah"Encyclopædia Britannica Online (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৮ 
  3. ড. সালিহ বিন ফাওযান আল ফাওযান (আগষ্ট ২০১৬)। আক্বীদাতুত তাওহীদ। শাইখ মুখলিসুর রহমান মানসুর কর্তৃক অনূদিত। মাকতাবাতুস সুন্নাহ। 
  4. "কুরআন ৪২:১১" 
  5. "Angels"। ১০ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  6. "কুরআন ২:২৫৬" 
  7. রিয়াদুস সলেহিন ৬৩, iHadis.com
  8. "কুরআন ২:২৫৬" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]