অবতার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বিষ্ণুর দশাবতার: (উপরের বাঁদিক থেকে ঘড়ির কাঁটার ক্রম অনুসারে) মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, বামন, কৃষ্ণ, কল্কি, বুদ্ধ, পরশুরাম, রামনৃসিংহ এবং (মধ্যস্থলে) রাধাকৃষ্ণ, জয়পুর চিত্রকলা, ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে রক্ষিত।

অবতার (সংস্কৃত: अवतार, IAST: avatāra, "আবির্ভূত দেবতা" ও "অবতরণ"[১] বা "জীবদেহধারী ঈশ্বর বা দেবতা" ও "অবতরণ"[২]) হল হিন্দুধর্মের একটি মতবাদ। পৃথিবীতে কোনও দেবতার আবির্ভাব বা আবির্ভূত জীবদেহকে "অবতার" বলা হয়।[৩][৪] শব্দটি সাধারণ ক্ষেত্রে "ব্যক্তিবিশেষের [দেবতা] আবির্ভাবের জন্য অবতরণ" অর্থে ব্যবহৃত হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্মানীয় গুরু বা কোনও মানুষকেও অবতার বলে উল্লেখ করা হয়।[৫][৬]

বৈদিক সাহিত্যে অবতার শব্দটি পাওয়া যায় না। [৭] তবে বেদ-পরবর্তী সাহিত্যে এটি ক্রিয়াপদ আকারে উল্লিখিত হয়েছে। খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীর পরে রচিত পৌরাণিক সাহিত্যেই এই শব্দটিকে স্বতন্ত্রভাবে বিশেষ্য পদের আকারে ব্যবহার করা হয়েছে।[৮] ঋগ্বেদের বর্ণনা অনুসারে, ইন্দ্র একটি রহস্যময় শক্তির বলে ইচ্ছামতো যে কোনও রূপ ধারণ করতে পারেন।[৯][১০] ভগবদ্গীতা গ্রন্থে অবতার মতবাদটি বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা হলেও সেখানে অবতার শব্দটির পরিবর্তে অন্যান্য পারিভাষিক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।[৮][১১]

হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর সঙ্গেই অবতারবাদের বিশেষ সম্পর্ক। যদিও এই মতবাদ কিছু ক্ষেত্রে অন্য কয়েকজন দেবদেবীদের ক্ষেত্রেও প্রযুক্ত হয়।[১২] হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলিতে বিষ্ণুর অবতারগুলির ভিন্ন ভিন্ন তালিকা পাওয়া যায়। গরুড় পুরাণ গ্রন্থে বিষ্ণুর দশাবতারভাগবত পুরাণ গ্রন্থে বিষ্ণুর বাইশটি অবতারের বর্ণনা পাওয়া যায়। যদিও শেষোক্ত পুরাণটিতে এও বলা হয়েছে বিষ্ণুর অবতারের সংখ্যা অগণিত।[১৩] বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্বে অবতারবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মতবাদ। হিন্দুধর্মের দেবী-কেন্দ্রিক শাক্তধর্মে মহাশক্তির বিভিন্ন অবতারের রূপ বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কালী, দুর্গাত্রিপুরাসুন্দরী সর্বাধিক পরিচিত।[১৪][১৫][১৬] মধ্যযুগে রচিত কয়েকটি হিন্দু ধর্মগ্রন্থে গণেশশিব প্রমুখ অন্য কয়েকজন দেবতার অবতারের কথা উল্লিখিত হলেও সেই গ্রন্থগুলি অপ্রধান ও স্বল্পপরিচিত।[১৭] উল্লেখ্য, হিন্দুধর্মের বৈষ্ণব ও শৈব সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যতম প্রধান পার্থক্যই হল এই অবতারবাদ।[১৮][১৯]

বৌদ্ধধর্ম,[২০] খ্রিস্টধর্ম[২০] ও অন্যান্য কয়েকটি ধর্মেও[২০] অবতারবাদের অনুরূপ ধারণা দেখা যায়। শিখধর্মের ধর্মগ্রন্থগুলিতে অসংখ্য হিন্দু দেবদেবীর নাম উল্লিখিত হলেও সেখানে মানুষের ত্রাণকর্তা অবতারের ধারণাটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শিখেরা এই ব্যাপারে নামদেব প্রমুখ হিন্দু ভক্তিবাদী সন্তদের মত অনুসরণ করেন। তাঁদের মতে, নিরাকার নিত্য ঈশ্বর মানব হৃদয়ে অবস্থান করেন এবং মানুষ নিজেই নিজের রক্ষাকর্তা।[২১][২২]

বিষ্ণুর অবতার[সম্পাদনা]

হিন্দুধর্মে অবতারবাদ মূলত বিষ্ণুকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। বিষ্ণু ত্রিমূর্তির অন্যতম দেবতা ও হিন্দু বিশ্বাস অণুযায়ী জগতের পালক ও রক্ষাকর্তা।অবতার হল, হিন্দু শাস্ত্রমতে ভগবানের বিষ্ণুর মনুষ্যরূপে অথবা প্রানিরূপে পৃথিবীতে আগমন। বিভিন্ন গ্রন্থে অবতারের মোট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। অবতারের সংখ্যা চার থেকে ঊনচল্লিশ যে কোন একটি সংখ্যা হতে পারে। অবতার দুই প্রকার আংশিক ও পূর্ণাবতার। বিষ্ণু পরিপূর্ণভাবে আভির্ভূত হলে তাকে বলে পূর্ণবতার এবং আংশিকভাবে আভির্ভূত হলে তাকে বলে অংশাবতার।

দশাবতার : গরুড় পুরাণ মতে বিষ্ণুর দশ অবতার[সম্পাদনা]

বিষ্ণুর প্রথম অবতার মৎস্য

বিষ্ণুর দশ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ অবতার দশাবতার নামে পরিচিত। দশাবতারের তালিকাটি পাওয়া যায় গরুড় পুরাণ গ্রন্থে।[২৩] এই দশ অবতারই মানব সমাজে তাঁদের প্রভাবের ভিত্তিতে সর্বাপেক্ষা অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হন।

দশাবতারের প্রথম চার জন অবতীর্ণ হয়েছিলেন সত্যযুগে। পরবর্তী তিন অবতারের আবির্ভাব ত্রেতাযুগে। অষ্টম অবতার দ্বাপরযুগে এবং নবম অবতার কলিযুগে অবতীর্ণ হন। পুরাণ অনুসারে, দশম অবতার এখনো অবতীর্ণ হননি। তিনি ৪২৭,০০০ বছর পর কলিযুগের শেষ পর্বে অবতীর্ণ হবেন।[২৪]

গরুড় পুরাণ অনুসারে বিষ্ণুর দশ অবতার হলেন:

১.   মৎস্য, মাছের রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
২.   কূর্ম, কচ্ছপের রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৩.   বরাহ, শূকরের রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৪.   নৃসিংহ, অর্ধনরসিংহ রূপে সত্যযুগে অবতীর্ণ
৫.   বামন, বামনের রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৬.   পরশুরাম, পরশু অর্থাৎ কুঠারধারী রামের রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৭.   রাম, রামচন্দ্র, অযোধ্যার রাজপুত্রের রূপে ত্রেতাযুগে অবতীর্ণ
৮.   কৃষ্ণ, দ্বাপরযুগে ভ্রাতা বলরামের সঙ্গে অবতীর্ণ।
৯.   বুদ্ধ, কলিযুগে অবতীর্ণ হন।
১০.   কল্কি, সর্বশেষ অবতার। হিন্দু বিশ্বাস অণুযায়ী, কলিযুগের অন্তে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে।

ভাগবত পুরাণ অনুসারে বলরাম শেষনাগের অবতার। কোনো কোনো বৈষ্ণব শাস্ত্রে তাঁকে বিষ্ণুর নবম অবতার মনে করা হয়। উল্লেখ্য, এই সকল গ্রন্থে বুদ্ধের কোনো উল্লেখ নেই।

মৎস্য হল বিষ্ণুর প্রথম অবতার। মহাপ্লাবনের সময় বিষ্ণু একটি মাছরূপে পৃথিবীতে আসেন। অবতারবেশে বিষ্ণু, এ সময়ে তাঁর শিং এর সাথে মনুর নৌকা বেঁধে রাখেন। প্লাবন শেষে মনু পুনারায় এই সৃষ্ঠি তৈরী করেন। মহাপ্লাবনের সময় বিষ্ণু একটি মাছরূপে পৃথিবীতে আসেন। অবতারবেশে বিষ্ণু, এ সময়ে তাঁর শিং এর সাথে মনুর নৌকা বেঁধে রাখেন। প্লাবন শেষে মনু পুনারায় এই বিশ্ব সৃষ্টি তৈরী করেন।

বরাহ বিষ্ণুর তৃতীয় অবতার। বরাহ অর্থ শূকর। দানব হিরণ্যক্ষ পৃথিবীকে সমুদ্রতলে নিয়ে গেলে বরাহ তার সাথে এক হাজার বছর যুদ্ধ করে তাকে বধ করেন।

নৃসিংহ বিষ্ণুর চতুর্থ অবতার। হিরণ্যকশিপু নামে এক দানব তার পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যা করতে গেলে বিষ্ণু নৃসিংহরূপে আবির্ভূত হন এবং প্রহ্লাদকে উদ্ধার করেন।

বামন বিষ্ণুর পঞ্চম অবতার। দানবরাজ বলি স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল দখল করে নেয় এবং প্রচন্ড অত্যাচার শুরু করে। তার হাত থেকে মানব ও দেবতাদের রক্ষা করার জন্য মানবরূপে বিষ্ণুর আবির্ভাব হয়। তিনি বলির নিকট তিন পদক্ষেপ সমপরিমান জমি পাবার জন্য আবেদন করেন। ক্ষুদ্রকায় বামনের তিন পদক্ষেপ জমি খুবই সামান্য বিবেচন করে বলি তা দিতে রাজি হন। বামন দুই পদক্ষেপে স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করে নেন। বলি তখন বামনরূপী বিষ্ণুকে চিনতে পারেন এবং তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে নেন। [২৫]

ভাগবত পুরাণ মতে বিষ্ণুর অবতার[সম্পাদনা]

ভাগবত পুরাণ–এর প্রথম স্কন্দে সংখ্যাক্রম অনুসারে বিষ্ণুর যে বাইশ অবতারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা নিম্নরূপ:[২৬]

১.    চতুর্সন [ভাগবত ১।৩।৬] (ব্রহ্মার চার পুত্র)
২.    বরাহ [ভাগবত ১।৩।৭] (বন্য শূকর)
৩.    নারদ [ভাগবত ১।৩।৮] (ভ্রাম্যমাণ ঋষি)
৪.    নর-নারায়ণ [ভাগবত ১।৩।৯] (যমজ)
৫.    কপিল [ভাগবত ১।৩।১০] (দার্শনিক)
৬.    দত্তাত্রেয় [ভাগবত ১।৩।১১] (ত্রিমূর্তির যুগ্ম অবতার)
৭.    যজ্ঞ [ভাগবত ১।৩।১২] (সাময়িকভাবে ইন্দ্রের ভূমিকা গ্রহণ করা বিষ্ণু)
৮.    ঋষভ [ভাগবত ১।৩।১৩] (রাজা ভরত ও বাহুবলীর পিতা)
৯.    পৃথু [ভাগবত ১।৩।১৪] (যে রাজা পৃথিবীকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন)
১০.    মৎস্য [ভাগবত ১।৩।১৫] (মাছ)
১১.    কূর্ম [ভাগবত ১।৩।১৬] (কচ্ছপ)
১২.    ধন্বন্তরী [ভাগবত ১।৩।১৭] (আয়ুর্বেদের জনক)
১৩.    মোহিনী [ভাগবত ১।৩।১৭] (সুন্দরী নারী)
১৪.    নৃসিংহ [ভাগবত ১।৩।১৮] (নর-সিংহ)
১৫.    বামন [ভাগবত ১।৩।১৯] (খর্বকায়)
১৬.    পরশুরাম [ভাগবত ১।৩।২০] (পরশু অর্থাৎ কুঠার সহ রাম)
১৭.    ব্যাসদেব [ভাগবত ১।৩।২১] (বেদ সংকলক)
১৮.    রাম [ভাগবত ১।৩।২২] (অযোধ্যার রাজা)
১৯.    বলরাম [ভাগবত ১।৩।২৩] (কৃষ্ণের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা)
২০.    কৃষ্ণ [ভাগবত ১।৩।২৩] (রাখাল বা স্বয়ং ভগবান)
২১.    বুদ্ধ [ভাগবত ১।৩।২৪] (জ্ঞানী)
২২.    কল্কি [ভাগবত ১।৩।২৫] (ধ্বংসকারী)

এই বাইশ অবতার ছাড়াও উক্ত গ্রন্থের পরবর্তী অংশে আরও তিন অবতারের কথা আছে:

১.    প্রশ্নিগর্ভ [ভাগবত ১।৩।৪১] (প্রশ্নির সন্তান)
২.    হয়গ্রীব [ভাগবত ২।৭।১১] (অশ্ব)
১.    হংস [ভাগবত ১১।১৩।১৯] (রাজহংস)

কল্কি অবতারের বর্ণনা দেওয়ার পর ভাগবত পুরাণ–এ ঘোষিত হয়েছে, বিষ্ণুর অবতার অসংখ্য।[২৭] যদিও উপরি উল্লিখিত পঁচিশ অবতারের গুরুত্বই সর্বাধিক।

ভাগবত পুরাণ–এর একটি শ্লোক,[২৮] মহাভারত-এর কতকাংশ এবং অন্যান্য পৌরাণিক ধর্মগ্রন্থের মতে,[২৯] চৈতন্য মহাপ্রভু হলেন বিষ্ণুর অন্যতম অবতার। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্য অনুসারে তাঁকে অবতার রূপে পূজা করার বিধান রয়েছে। এই কারণেই চৈতন্য মহাপ্রভুকে গৌরাঙ্গ অবতার নামে অভিহিত করা হয়।

বৈষ্ণবধর্মে অন্যান্য অবতার[সম্পাদনা]

সাধারণত বিষ্ণুকে সকল অবতারের উৎস বলে গণ্য করা হলেও, হিন্দু বৈষ্ণব শাখায় বিষ্ণু একক দিব্য সত্ত্বা যা নানা রূপে প্রকাশিত হয়েছে। এই ধর্ম মতে নারায়ণ, বাসুদেবকৃষ্ণ দিব্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে একাধিক নামে অভিহিত হন, যা অনেক সময়েই অবতারকল্প রূপ ধারণ করে।[৩০] এছাড়াও হিন্দুধর্মে অবতার শব্দের অন্য অর্থ ও ব্যাখ্যাও রয়েছে।

পুরুষ অবতার[সম্পাদনা]

অনেক সময় নিম্নোক্ত পুরুষ অবতারদের মহাবিশ্বে বিষ্ণু বা কৃষ্ণের প্রকৃত অবতার বলে গণ্য করা হয়:[৩১][৩২]

গুণ অবতার[সম্পাদনা]

হিন্দু ত্রয়ী দেবতা ত্রিমূর্তি অনেক সময় গুণ অবতার নামে অভিহিত হয়ে থাকেন। এর কারণ তাঁদের প্রকৃতির এক-একটি গুণের নিয়ন্ত্রক রূপে কল্পনা করা হয়।[৩২] যদিও তাঁরা কখনই জীবের রূপ ধারণ করে মর্ত্যে অবতীর্ণ হন না, তবুও তাঁদের অভিধার সঙ্গে অবতার কথাটি যুক্ত করা হয়:

মন্বন্তর অবতার[সম্পাদনা]

মন্বন্তর অবতারগণ বিশ্বজুড়ে বংশধর উৎপাদনের জন্য দায়ী। তাঁরা সংখ্যায় অসংখ্য[৩৩] এবং তাঁদের কোনোপ্রকার জন্মগ্রহণ নেই।

শাক্ত্যাবেস ও অবেস অবতার[সম্পাদনা]

অবতারদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

  • সাক্ষাৎ
  • অবেস

যখন বিষ্ণু স্বয়ং অবতীর্ণ হন, তখন তাকে সাক্ষাৎ বা শাক্ত্যবেসাবতার বলা হয়। কিন্তু যখন তিনি নিজে অবতীর্ণ না হয়ে কারোর মাধ্যমে প্রকাশিত হন, তখন তাকে বলা হয় অবেস অবতার।[৩৪]

মনে করা হয়, অবেস অবতারের সংখ্যা অনেক। বিশিষ্ট অবেস অবতার হলেন নারদ, শাক্যমুণি বুদ্ধপরশুরাম। পরশুরামই প্রসিদ্ধ দশাবতারের অন্যতম যিনি প্রত্যক্ষভাবে বিষ্ণুর অংশসম্ভূত নন।

হিন্দুধর্মের শ্রী বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মতে প্রধান ও প্রত্যক্ষ অবতারদের দুটি শ্রেণি, পূর্ণ অবতার ও অংশরূপাবতার:

  • পূর্ণ অবতার সেইগুলিই যেগুলির ক্ষেত্রে বিষ্ণু প্রত্যক্ষভাবে অবতীর্ণ হন এবং ঈশ্বরের সকল শক্তি ও গুণাবলি প্রদর্শন করেন। (যেমন, নৃসিংহ, রামকৃষ্ণ) [৩৫]
  • অংশরূপাবতারের ক্ষেত্রেও বিষ্ণু প্রত্যক্ষভাবে অবতীর্ণ হন, কিন্তু তিনি আংশিকভাবে সেই রূপে আত্মপ্রকাশ করেন। (যেমন, মৎস্যপরশুরাম)।

অবেস অবতারগণ পরমেশ্বর রূপে পূজিত হন না। কেবলমাত্র প্রত্যক্ষ ও প্রধান অবতারগণই ওইরূপে পূজিত হন। প্রকৃতপক্ষে যে সকল প্রত্যক্ষ অবতার আজ পূজিত হন তাঁরা হলেন পূর্ণ অবতার নৃসিংহ, রাম ও কৃষ্ণ। অধিকাংশ বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মতে, কৃষ্ণ হলেন সর্বোচ্চ পূর্ণ অবতার। যদিও ইসকন সহ চৈতন্য মহাপ্রভু, নিম্বার্কবল্লভ আচার্যের অনুগামীদের দার্শনিক মত রামানুজাচার্যমাধবাচার্যের মতো অপরাপর বৈষ্ণবদের থেকে পৃথক। তাঁরা কেবল কৃষ্ণকে অবতার বলেই মানেন না, তাঁকে সর্বোচ্চ ঈশ্বর মনে করেন। তবে সকল হিন্দুই বিশ্বাস করেন বিষ্ণু ও তাঁর অবতারদের পূজার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ সকলেই বিষ্ণুর সঙ্গে সংযুক্ত। দ্বৈত দর্শনের প্রবক্তা মাধবাচার্যের মতে, বিষ্ণুর সকল অবতার শক্তি ও অন্যান্য গুণে একে অপরের সমান। তাঁদের উচ্চনিচ ক্রম নেই। তাঁদের মধ্যে ভেদবুদ্ধি করা মহাপাপ।

অবতারত্ব দাবিদার[সম্পাদনা]

পুরাণ-বর্ণিত অবতারগণের পাশাপাশি ভারতে অনেক ব্যক্তি নিজের বা তাঁদের গুরুদের অবতারত্বও দাবি করেন। এই রকম কয়েকটি উদাহরণ হল:

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. বাঙ্গালা ভাষার অভিধান, প্রথম ভাগ, সংকলন ও সম্পাদনা: জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ২০০০ মুদ্রণ, পৃ. ৯৫
  2. আকাদেমি বিদ্যার্থী বাংলা অভিধান, সম্পাদনা: বিজিতকুমার দত্ত, পবিত্র সরকার, জ্যোতিভূষণ চাকি, সুবোধরঞ্জন রায়, অশোক মুখোপাধ্যায়, অমিতাভ মুখোপাধ্যায়, সনৎকুমার চট্টোপাধ্যায় ও নৃপেন্দ্র সাহা, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা, ২০০৯ মুদ্রণ, পৃ. ৪৫
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; jameslochtefeldavatar নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. Geoffrey Parrinder (১৯৯৭)। Avatar and Incarnation: The Divine in Human Form in the World's Religions। Oneworld। পৃ: 19–20। আইএসবিএন 978-1-85168-130-3 
  5. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; monierwilliamsavatar নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  6. Sheth 2002, পৃ. 98-99।
  7. Daniel E Bassuk (১৯৮৭)। Incarnation in Hinduism and Christianity: The Myth of the God-Man। Palgrave Macmillan। পৃ: 2–4। আইএসবিএন 978-1-349-08642-9 
  8. Paul Hacker 1978, পৃ. 424, also 405–409, 414–417।
  9. Rig Veda 3.53.8 (Maghavan); 6.47.18 (Indra)
  10. Swami Harshananda, A Concise Encyclopaedia of Hinduism, Ramakrishna Math, Bangalore (2008) Vol.1, page 221
  11. Sheth 2002, পৃ. 98–99।
  12. Kinsley, David (২০০৫)। Lindsay Jones, সম্পাদক। Gale's Encyclopedia of Religion 2 (Second সংস্করণ)। Thomson Gale। পৃ: 707–708। আইএসবিএন 0-02-865735-7 
  13. Bryant, Edwin Francis (২০০৭)। Krishna: A SourcebookOxford University Press US। পৃ: ১৮। আইএসবিএন 978-0-19-514891-6 
  14. Sheth 2002, পৃ. 98–125।
  15. Hawley, John Stratton; Vasudha Narayanan (২০০৬)। The life of HinduismUniversity of California Press। পৃ: ১৭৪। আইএসবিএন 978-0-520-24914-1 
  16. David R. Kinsley (১৯৯৮)। Tantric Visions of the Divine Feminine: The Ten Mahāvidyās। Motilal Banarsidass। পৃ: 115–119। আইএসবিএন 978-81-208-1522-3 
  17. James Lochtefeld (2002), "Shiva" in The Illustrated Encyclopedia of Hinduism, Vol. 2: N-Z, Rosen Publishing, আইএসবিএন ০-৮২৩৯-২২৮৭-১, page 635
  18. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; laiengavatar নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  19. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; ryanjonesavatar নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  20. Sheth 2002, পৃ. 115-116 with note 2।
  21. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; enesbittavatar নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  22. Christopher Shackle and Arvind Mandair (2005), Teachings of the Sikh Gurus, Routledge, আইএসবিএন ৯৭৮-০৪১৫২৬৬০৪৮, pages xxxiv-xli
  23. Garuda Purana (1.86.10–11)
  24. B-Gita 8.17 "And finally in Kali-yuga (the yuga we have now been experiencing over the past 5,000 years) there is an abundance of strife, ignorance, irreligion and vice, true virtue being practically nonexistent, and this yuga lasts 432,000 years. In Kali-yuga vice increases to such a point that at the termination of the yuga the Supreme Lord Himself appears as the Kalki avatar."
  25. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0
  26. Bhag-P 1.3 Canto 1, Chapter 3
  27. Bhag-P 1.3.26
  28. Bhag-P 11.5.32 "In the age of Kali, intelligent persons perform congregational chanting to worship the incarnation of Godhead who constantly sings the names of Krishna. Although His complexion is not blackish, He is Krishna Himself."
  29. Vedic Encyclopedia "Sri Caitanya Mahaprabhu predicted"
  30. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; autogenerated2 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  31. Avatar - Categories of Incarnations
  32. gaudiya.com - theology
  33. Avatar - Categories of Incarnations, by Atmatattva Das, 06/17/2005
  34. Teachings of Lord Chaitanya - Avatars
  35. Types of Avatars; answers to questions #67-70.
  36. Purdom, Charles B.: "The God-Man: The Life, Journeys & Work of Meher Baba with an Interpretation of His Silence & Spiritual Teaching", George Allen & Unwin, London, 1962. p. 15.
  37. Meher Prabhu: Lord Meher, The Biography of the Avatar of the Age, Meher Baba, Manifestation, Inc. 1986, by Bhau Kalchuri, pp. 1349, 4973, 6018, 6051.
  38. Adilakshmi, "The Mother", page 4.
  39. "The Revelation", Sathya Sai Speaks VI, 210–213, 17 May 1968.
  40. Adi Da Samraj, Da Love-Ananda Gita, The Free Gift Of The Divine Love-Bliss, Dawn Horse Press, 1998, "First Word" pg. 41

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]