উপজাতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

উপজাতি এমন জনগোষ্ঠীগুলোকে বুঝায় যারা আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে পারেনি কিন্তু নিজস্ব একটি আলাদা সংস্কৃতি গড়ে তুলেতে সমর্থ হয়েছে। মূলত‍ঃ রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে জাতি বা উপজাতি নির্দিষ্টকরণ হয়ে থাকে।

উপজাতি বা নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীসমূহ হচ্ছেঃ- মগ, মুরং, মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, হাজং ইত্যাদি। বাংলাদেশে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর শীর্ষস্থানে রয়েছে চাকমা উপজাতির লোকজন।

বাংলাদেশের উপজাতীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো এদেশের আদিবাসী বা ভূমিপুত্র নয় তার প্রমাণ প্রখ্যাত উপজাতি গবেষক ও নৃতত্ত্ববিদ Robert Henry Sneyd Hutchinson তাঁর বই An Account of Chittagong Hill Tracts (1906), Captain Thomas Herbart Lewin (1869), তাঁর বই The Chittagong Hill Tracts and Dwellers Therein (1869), অমেরেন্দ্র লাল খিসা (১৯৯৬) প্রমুখের লেখা, গবেষণাপত্র, থিসিস এবং রিপোর্ট বিশ্লেষণে পাওয়া যায়। তারা সবাই একবাক্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজাতীয়দের নিকট অতীতের কয়েক দশক থেকে নিয়ে মাত্র কয়েক শতাব্দী আগে এদেশে স্থানান্তরিত বা অভিবাসিত হওয়ার যুক্তি প্রমাণ ও ইতিহাস তুলে ধরেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কুকি জাতি বহির্ভূত অন্য সকল উপজাতীয় গোষ্ঠীই এখানে তুলনামূলকভাবে নতুন বসতি স্থাপনকারী। এখানকার সবচেয়ে আগের জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ম্রো, খিয়াং, পাংখো এবং কুকিরা মূল ‘কুকি’ উপজাতির ধারাভুক্ত। ধারণা করা হয়, এরা প্রায় তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেছিল। চাকমারা আজ থেকে মাত্র আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ বছর পূর্বে মোগল শাসনামলের শেষ থেকে ব্রিটিশ শাসনামলের প্রথম দিকে মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করে (খবরিহ ১৮৬৯)।

প্রখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ এবং ব্রিটিশ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম জেলা প্রশাসক Thomas Herbart Lewin - এর মতে, A greater portion of the hill tribes at present living in the Chittagong Hill Tract undoubtedly came about two generations ago from Arakan. This is asserted both by their own traditions and by records in Chittagong Collect-orate. It was in some measure due to the exodus of our hill tribes from Arakan that the Burmese war of 1824 took place … hired in a great measure upon refugee from hill tribes who, fleeing from Arakan into territory, were purshed and demanded at our hands by the Burmese. (Lewin 1869, pp 28–29). অর্থাৎ মাত্র দুই পুরুষ আগে ব্রিটিশদের সাথে বার্মা যুদ্ধের সময় চাকমারা পার্বত্য অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে যা চট্টগ্রাম কালেক্টরেট অফিসে দলিল দস্তাবেজ থেকে নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলের মারমা জনগোষ্ঠী ১৭৮৪ সনে এ অঞ্চলে বার্মা থেকে দলে দলে অনুপ্রবেশ করে এবং বসবাস শুরু করে (Shelley, 1992 and Lewin, 1869).

পার্বত্য চট্টগ্রামের এসব উপজাতীয় জনগোষ্ঠীগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এসব জনগোষ্ঠীগুলোর প্রায় সবাই যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং হিংস্র দাঙ্গা-হাঙ্গামার ফলে তাদের পুরাতন আবাসস্থল থেকে এখানে পালিয়ে এসেছ অথবা এক জনগোষ্ঠী অন্য জনগোষ্ঠীর পশ্চাদ্ধাবন করে আক্রমণকারী হিসেব এদেশে প্রবেশ করেছে।

বিশিষ্ট চাকমা পন্ডিত অমেরেন্দ্র লাল খিসা ‘অরিজিনস অব চাকমা পিপলস অব হিলট্রেক্ট চিটাগং’-এ লিখেছে, ‘তারা (চাকমারা) এসেছেন মংখেমারের আখড়া থেকে। পরবর্তীতে আরাকান এবং মগ কর্তৃক তাড়িত হয়ে বান্দরবানে অনুপ্রবেশ করে। আজ থেকে আড়াইশ-তিনশ বছর পূর্বে তারা উত্তর দিকে রাঙামাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।’ বাংলাদেশে এ বিষয়ে যারা গবেষণা করেছেন এবং প্রবন্ধ লিখেছেন যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.আবদুর রব, অধ্যাপক ড.সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড.খুরশীদা বেগম , বিজয় কী বোর্ডের উদ্ভাবক মোস্তফা জব্বার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করছেন এমন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছেন যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নয়।