ইসলাম ধর্মে দাসত্ব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন বিলাল ইবনে রাবাহ, যিনি প্রাথমিক জীবনে একজন ইথিয়োপীয় ক্রীতদাস ছিলেন, ইসলাম গ্রহণের ফলে নির্যাতিত হওয়ার সময় নবী মুহাম্মাদ (সা) এর নির্দেশে আবু বকর তাকে দাসত্ব হতে মুক্ত করেন। এটি সিয়ারে নবী নামক ফারসি গ্রন্থের একটি চিত্রাঙ্কন, যেখানে মক্কা বিজয়ের দিন কাবাগৃহের উপরে উঠে বিলালের আযান দেয়ার দৃশ্যকে চিত্রায়িত করা হয়েছে।
মুহাম্মাদ
উপরে উল্লেখিত বিষয়ের উপর ধারাবাহিকের একটি অংশ
Muhammad

দাসত্ব মানে হল কোনো মানুষকে জোর পূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা। সাধারণত দাসকে তাঁর মনিবের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। এক্ষেত্রে কাউকে তাঁর ইচ্ছার পরিবর্তেও দাস করা যেতে পারে। এটি হতে পারে তাঁর আটক, জন্ম, ক্রয় করা সময় থেকে। দাসদের স্থান বা মালিককে ত্যাগ করা, কাজ না করার বা শ্রমের মজুরি পাবার অধিকার নেই। [১]

ইসলাম ধর্মে দাসত্বের অস্তিত্ব রয়েছে। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনের সূরা নাহলে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে,

"আল্লাহ তোমাদের কারো ওপর রিযিকের ব্যপারে প্রাধান্য দিয়েছেন। অতঃপর যাঁদের শ্রেষ্টত্ব দিয়ে রেখেছেন, তাঁরা তাঁদের অধীনস্থ দাস-দাসীদের নিজেদের সামগ্রী থেকে কিছুই দিতে চায় না। (তাঁদের আশঙ্কা হচ্ছে এমনটি করলে) এ ব্যপারে তাঁরা উভয়ই সমান (পর্যায়ের) হবে। তবে, কী এঁরা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে?" 16:71"[২]

ইসলাম ধর্ম দাসত্বের বাস্তবতাকে সরাসরি অস্বীকার না করে, এর অস্তত্বকে স্বীকারের মাধ্যমে দাস-দাসীদের তাঁদের প্রাপ্য মানুষের অধিকার প্রদানে উৎসাহ দেয়। এবং তা মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করাকে উত্তম কাজ বলে মনে করে। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে,

"আবু হুরায়রা বলেন, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করবে, তাঁর প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে আল্লাহ তাঁর প্রতিটি অঙ্গকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করবেন।"২৩৫১[৩]

দ্রঃ এ সংক্রান্ত আরও হাদিস সমূহ হল সহীহ বোখারী ২৩৭৬, ২৩৫৩, ২৩৫৪, ২৩৫২

তাছাড়া সহীহ সহিহ মুসলিম এর হাদিসে বলা হয়েছে,

"রাসূল (সাঃ) বলেন, হে আবু যর। তোমাদের মধ্যে বর্বর যুগের ভাবধারা রয়ে গেছে। তাঁরা (দাস) তোমাদের ভাই। আল্লাহ পাক তাঁদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। তোমরা যা খাবে, তাঁদেরকে তাই খেতে দেবে। তোমরা যে বস্ত্র পরবে, তাঁদেরকেও তাই পরতে দেবে। তোমরা তাঁদের ওপর এমন কোনো কাজের বোঝা চাপাবে না, যা বহন করতে তাঁরা অপারগ হয়। যদি তোমাদের দেয়া কোনো কাজ করতে তাঁরা অসমর্থ হয়, তাহলে তোমরা তাঁদের কাজে সাহায্য করবে।"৪১৬৯"[৩]

ইসলাম মূলত অধিকার ভূক্ত অসহায় মানুষদের দাস-দাসী হিসেবে বিবেচনা করতে বাধা প্রদান করে। ইসলাম মনে করে, তাঁদের পরিচয় হবে পোষ্য। সেটা পোষ্য ভাই, পোষ্য সন্তান ইত্যাদি হতে পারে। এ সম্পর্কে সহীহ বুখারীর হাদিসে বলা হয়েছে,

"আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ যেন না বলে, তোমার প্রভুকে আহার করাও, তোমার প্রভুকে পান করাও। আর যেন অধিকার ভূক্তরা এরূপ না বলে, আমার মনিব, আমার অভিভাবক। তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে, আমার দাস, আমার দাসী। বরং বলবে, আমার বালক, আমার বালিকা, আমার খাদিম।"২৩৮৪"[৩]

আর যদি দাস-দাসীর সাথে খারাপ আচরণ করা হয়, তাহলে ইসলাম নির্দেশ প্রদান করে যে, কাফফারা স্বরুপ উক্ত দাস বা দাসীকে মুক্ত করে দিতে হবে। এ সম্পর্কে সহিহ মুসলিম এর হাদিসে বলা হয়েছে,

"ইবনে ওমর বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তাঁর ক্রীতদাসকে চড় মারল কিংবা প্রহার করল, তার কাফফারা তাঁকে মুক্ত করে দেয়া।"৪১৫৪"[৩]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Habeeb Akande, Illuminating the Darkness: Blacks and North Africans in Islam (Ta Ha 2012)
  • Al-Hibri, Azizah Y. (২০০৩)। "An Islamic Perspective on Domestic Violence"। 27 Fordham International Law Journal 195 
  • P.J. Bearman, Th. Bianquis, C.E. Bosworth, E. van Donzel and W.P. Heinrichs (সম্পাদক)। "Abd"। Encyclopaedia of Islam Online। Brill Academic Publishers। ISSN 1573-3912। 
  • Bloom, Jonathan; Blair, Sheila (২০০২)। Islam: A Thousand Years of Faith and Power। Yale University Press। আইএসবিএন 0-300-09422-1 
  • Davis, Robert C. (২০০৪)। Christian Slaves, Muslim Masters। Palgrave, macmillian। আইএসবিএন 1-4039-4551-9  [৪]
  • Esposito, John (১৯৯৮)। Islam: The Straight Path। Oxford University Press। আইএসবিএন 0-19-511233-4  - First Edition 1991; Expanded Edition : 1992.
  • Javed Ahmed Ghamidi (২০০১)। Mizan। Lahore: Al-Mawrid। OCLC 52901690। 
  • Hasan, Yusuf Fadl; Gray, Richard (২০০২)। Religion and Conflict in Sudan। Nairobi: Paulines Publications Africa। আইএসবিএন 9966-21-831-9 
  • Hughes, Thomas Patrick; Patrick (১৯৯৬)। A Dictionary of Islam। Asian Educational Services। আইএসবিএন 978-81-206-0672-2 
  • Ed.: Holt, P. M ; Lambton, Ann; Lewis, Bernard (১৯৭৭)। The Cambridge History of Islam। Cambridge University Press। আইএসবিএন 0-521-29137-2 
  • Jok, Madut Jok (২০০১)। War and Slavery in Sudan। University of Pennsylvania Press। আইএসবিএন 0-8122-1762-4 
  • Juynboll (১৯১০)। Handbuch des Islamischen Gesetzes। Leyden। 
  • Khalil bin Ishaq। Mukhtasar tr. Guidi and Santillana (Milan, 1919) 
  • Levy, Reuben (১৯৫৭)। The Social Structure of Islam। UK: Cambridge University Press। 
  • Mendelsohn, Isaac (১৯৪৯)। Slavery in the Ancient Near East। New York: Oxford University Press। OCLC 67564625। 
  • Martin, Vanessa (২০০৫)। The Qajar Pact। I.B.Tauris। আইএসবিএন 1-85043-763-7 
  • Nasr, Seyyed (২০০২)। The Heart of Islam: Enduring Values for Humanity। US: HarperSanFrancisco। আইএসবিএন 0-06-009924-0 
  • Pankhurst, Richard (১৯৯৭)। The Ethiopian Borderlands: Essays in Regional History from Ancient Times to the End of the 18th Century। The Red Sea Press। আইএসবিএন 0-932415-19-9 
  • Sachau (১৮৯৭)। Muhammedanisches Recht [cited extensively in Levy,R 'Social Structure of Islam']। Berlin, Germany। 
  • Schimmel, Annemarie (১৯৯২)। Islam: An Introduction। US: SUNY Press। আইএসবিএন 0-7914-1327-6 
  • Sikainga, Ahmad A. (১৯৯৬)। Slaves Into Workers: Emancipation and Labor in Colonial Sudan। University of Texas Press। আইএসবিএন 0-292-77694-2 
  • Tucker, Judith E.; Nashat, Guity (১৯৯৯)। Women in the Middle East and North Africa। Indiana University Press। আইএসবিএন 0-253-21264-2 
  • Ahmad A. Sikainga, "Shari'a Courts and the Manumission of Female Slaves in the Sudan 1898-1939", The International Journal of African Historical Studies > Vol. 28, No. 1 (1995), pp. 1–24

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

  • Lewis, Bernard (১৯৯০)। Race and Slavery in the Middle East। New York: Oxford University Press। আইএসবিএন 0-19-505326-5 
  • Lovejoy, Paul E. (২০০০)। Transformations in Slavery। Cambridge University Press। আইএসবিএন 0-521-78430-1 
  • Manning, Patrick (১৯৯০)। Slavery and African Life: Occidental, Oriental, and African Slave Trades। Cambridge University Press। আইএসবিএন 0-521-34867-6 
  • Gordon, Murray (১৯৮৭)। Slavery in the Arab World। New York: New Amsterdam Press। 
  • Clarence-Smith, Willian Gervase (২০০৬)। Islam and the Abolition of Slavery। Oxford University Press। 
  • Segal, Ronald (২০০১)। Islam's Black Slaves: The Other Black Diaspora। New York: Farrar, Straus and Giroux। 
  • Ingrams, W. H. (১৯৬৭)। Zanzibar। UK: Routledge। আইএসবিএন 0-7146-1102-6 

টীকা[সম্পাদনা]

  1. "Welcome to Encyclopćdia Britannica's Guide to Black History"। Britannica.com। সংগৃহীত ২০১০-০৩-১৪ 
  2. পবিত্র কোরআনুল করীম (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তফসীর)। খাদেমুল-হারমাইন বাদশাহ ফাহদ, কোরআন মুদ্রণ প্রকল্প। ১৪১৩ হিজরী। পৃ: ১৪৮০ পাতা। 
  3. সহীহ বোখারী শরীফ [১ম হইতে ১০ম খন্ড এক ভলিয়মে সমাপ্ত] অনুবাদ: শায়খুল হাদিস মাওলানা মোহাম্মদ আজীজুল হক। আলহাজ্ব মোঃ সোলায়মান চৌধুরী, একুশে বই মেলা। ২০০৬ সন। পৃ: ১১২০ পাতা।  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "সোলায়মান" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "সোলায়মান" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "সোলায়মান" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  4. When Europeans Were Slaves: Research Suggests White Slavery Was Much More Common Than Previously Believed

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]