নূহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
হযরত নূহ
আলাইহি ওয়াস-সাল্লাম -
 ( عليه السلام )
Nuh (Noah)1.png
নুহ ইসলামী লিপিবিদ্যা অনুযায়ী লেখা
স্থানীয় নাম নূহ - نوح [১]
যে জন্য পরিচিত মহাপ্লাবনের সময়ে নুহ
সন্তান শেম, হাম, জাফেথ, কেনান (ইসলামী ঐতিহ্য)

নূহ (আরবি: نوح; হিব্রু ভাষায়: נוֹחַ or נֹחַ, আধুনিক হিব্রু: Nóaḥ, তিবেরিয়ান: Nōªḥ; Nūḥ; আর্মেনীয়: "Noe" অথবা նօի) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের বর্ণনা অনুসারে, একজন নবী ছিলেন। কুরআনে নূহ শিরোনামে একটি পূর্নাঙ্গ সূরা নাযিল হয়েছে যেখানে তার এবং সমকালীন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। মুসলমানগন তাকে হযরত নূহ আলাইহিসালাম (সংক্ষেপে: হযরত নূহ (আঃ)) নামে সম্বোধন করেন। খ্রিস্ট ধর্মের মূল ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেলও তার সম্পর্কে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়।

ইসলাম ধর্মের বর্ণনা অনুসারে, নূহ আল্লাহর আদেশে বিশাল এক নৌকা নির্মাণ করেন এবং প্রত্যেক প্রানীকুল এক জোড়া করে এবং তার সময়ের ঈমানদার অর্থাৎ যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল তাদের নিয়ে সাগরে রওনা দেন। এর পর আল্লাহ তার গোত্রে মহা প্লাবনের সৃষ্টি করেন। এতে পাহাড় পর্বতও পানির নিচে তলিয়ে যায়। এবং কাফের সহ সব প্রানীকুল ধ্বংস হয়ে যায়। পরে আল্লাহর নির্দেশে প্লাবনের পানি কমে গেলে নবী তার সহযাত্রীদের নিয়ে আবার নতুন করে জীবন ধারণ করা শুরু করেন।

ইসলামের ঐতিহাসিক আখ্যান[সম্পাদনা]

ইসলামের বর্ণনায় হযরত আদম (আঃ) এর ব্বংশের নারী পুরুষরা তাঁর প্রকৃত শিক্ষা অনুসারে এক আল্লাহর ইবাদত ও অন্যান্য আচার পালন করতে থাকে।[২] আদম (আঃ) এর সন্তানদের মধ্যে অনেক ধার্মিক ব্যাক্তি ছিলেন যাদেরকে তার সমপ্রদাদের মানুষ সম্মান ও মান্য করত।[২] বলা হয় যে, এসকল সম্মানিত ব্যাক্তিদের মৃত্যুর পর তাদের সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের শোক ও হতাশা থেকে সেসব মানুষদের স্মরনে মূর্তী তৈরী করে।[২] কালক্রমে তাদের পরবর্তী ব্বংশধররা এসব মূর্তী তৈরীর আসল কারণ ভুলে গিয়ে শয়তানের প্ররচনায় তাদের পূজা করতে শুরু করে। এসব পথভ্রষ্ট মানুষদের সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহ হযরত নূহ (আঃ)কে তাদের মাঝে পয়গম্বর হিসাবে প্রেরন করেন। [২]

নুহ (আঃ) ইসলামের একজন গুরুত্বপূর্ণ নবী। পবত্রি কোরানে ৪৩ বার নূহ নবীর উল্লেখ পাওয়া গেছে। ৭১ নম্বর সূরা তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।Sūrat Nūḥ (আরবি ভাষায়: سورة نوح‎)।

বাইবেলের বর্ণনা[সম্পাদনা]

বাইবেলে বর্ণিত নোয়াহ ছিলেন প্লাবন পূর্ব যুগের দশম শ্রদ্ধেয় নেতা। তার পিতা ছিলেন একজন গোত্রপতি। মাতার পরিচয় জানা যায়নি।[৩] নোয়াহর বয়স যখন পাঁচশত বছর তখন সেম, হামম্ এবং যাপেট নামে তার তিন পুত্রের জন্ম হয়।(Genesis 5:32).

বুক অব জেনেসিসের বর্ননা[সম্পাদনা]

বুক অব জেনেসিসের ৬-৯ পরিচ্ছেদে নূহের প্লাবনের বিশদ বর্ণনা আছে।[৪] বর্ণনায় করা হয়েছে, পৃথিবীর মানুষের বিশাল পাপের কারণে ঈশ্বর পৃথিবীতে মহাপ্লাবনের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংস করেন।[৫] নূহের নৌকায় তুলে নেয়া পৃথিবীর সমস্ত প্রানীর জোড়া থেকে পুনরায় তাদের সৃষ্টি করেন। ঈশ্বর এই মর্মে প্রতিজ্ঞা করেন যে, তিনি আর কোন প্লাবন সৃষ্টি করবেন না।[৬]

নুহ নবীর দরগার ছবির গ্যালারি[সম্পাদনা]

সিজরে, তুর্কিতে নুহ নবীর দরগা
নুহর দরগা থেকে রাস্তার চিহ্ন 
নুহর দরগা থেকে প্রবেশ পথ 
নুহ নবীর জন্য মুসলিম প্রার্থনা 
নুহর ইতিহাস 
নুহর কবর 
নুহর দরগার ভিতরের দিক 
নুহর দরগার সামনে থেকে 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hughes, Thomas Patrick (১৯৯৫)। Dictionary of Islam : being a cyclopaedia of the doctrines, rites, ceremonies, and customs, together with the technical and theological terms of the Muhammadan religion (Reprint সংস্করণ)। New Delhi: Asian Educational Services। পৃ: ৪৩৫। আইএসবিএন 9788120606722 
  2. Lives of the Prophets, Leila Azzam, Noah and The Ark
  3. Fullom, SW., The History of Woman, and Her Connexion with Religion, Civilization, & Domestic Manners, from the Earliest Period, 1855, p.10
  4. Silverman, Jason (২০১৩)। Opening Heaven's Floodgates: The Genesis Flood Narrative, Its Context, and ReceptionGorgias Press 
  5. Bandstra 2009, পৃ. 61।
  6. Cotter 2003, পৃ. 49, 50।