আবুল হাসান আল-আশআরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবুল হাসান আল-আশআরি
PARSONS(1808) p008 View of Bagdad on the Persian side of the Tigris.jpg
১৮০৮ সালের বাগদাদের একটি চিত্র, ট্র্যাভেলস এশিয়া এবং আফ্রিকা ইত্যাদির মুদ্রণ সংগ্রহ থেকে নেওয়া।(ed. J. P. Berjew, British Library); আল-আশারিয়া তাঁর পুরো জীবন দশম শতাব্দীতে এই শহরে কাটিয়েছিলেন ।
বিদ্বান ধর্মতত্ত্ববিদ;
ইসলামের খ্যতিসম্পন্ন পণ্ডিত
বিদ্বান ধর্মতত্ত্ববিদদের ইমাম
সুন্নী ইমাম
শ্রদ্ধাজ্ঞাপনসুন্নী ইসলাম
প্রধান স্মৃতিযুক্ত স্থানTomb of al-Ashʿarī, বাগদাদ, ইরাক
আবুল হাসান আল-আশআরী
الأشعري.png
Abū al-Ḥasan al-Ashʿarī in Arabic calligraphy আরবি ক্যালিগ্রাফিতে আবুল হাসান আল-আশআরি
উপাধিইমাম আল-মুতাকাল্লিমুন , ইমাম আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত
ব্যক্তিগত
জন্মহিজরি 260 (৮৭৩/৮৭৪)
মৃত্যুহিজরি 324 (৯৩৫/৯৩৬) (বয়স ৬৪)
ধর্মIslam
জাতিসত্তাআরব
যুগইসলামি স্বর্ণযুগ
আখ্যাসুন্নী
শিক্ষালয়মালিকি
ধর্মীয় মতবিশ্বাসআশআরি
প্রধান আগ্রহইসলামিক ধর্মতত্ত্ব 'ইলমুল কালাম'
উল্লেখযোগ্য কাজমাকালাতুল ইসলামিইয়্যিন ওয়া ইখতিলাফ আল-মুসাল্লিন (The Treatises of the Islamic Schools), আল-লুমআ'ফি আল-রাদ আলা আহলিল জিয়াঘ ওয়াল বিদআ' (Refutation to Heresy), Al-Ibanah 'an Usul al-Diyanah, Risalah ila Ahl al-Thaghr
ঊর্ধ্বতন পদ

আবুল হাসান আল-আশআরি ( الأشعري; পুরো নাম: Abū al-Ḥasan ʿAlī ibn Ismāʿīl ibn Isḥāq al-Ashʿarī আবুল হাসান আলি ইবনে ইসমাইল ইবনে ইসহাক আল-আশআরি(৮৭৪-৯৩৬ খ্রি:/ ২৬০-৩২৪ হি:),তাকে শ্রদ্ধার সাথে ইমাম আল-আশআরি নামে ডাকা হয় । তিনি ছিলেন একজন আরবি,সুন্নি মুসলিম, বিজ্ঞ সুপণ্ডিত, ধর্মতত্ত্ববিদ এবং আশআরি উপাধির বা আশআরি মতবাদ বিষয়ক ধর্মতত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা, যা তার সময়সহ পরবর্তীতে "সুন্নি ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মতাত্ত্বিক মতবাদ" হয়ে উঠে ।[১]

নাম ও বংশ[সম্পাদনা]

আলী ইবনে ইসমাাইল ইবনে ইসহাক ইবনে সালিম ইবনে ইসমাইল ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে মুুুসা ইবনে বিলাল ইবনে আবি বুুরদা ইবনে আবি মুুসা আল-আশআরি । ( আরবি : علي بن إسماعيل بن إسحاق بن سالم بن إسماعيل بن عبد الله بن موسى بن بلال بن أبي بردة بن أبي موسى الأشعري )

জীবনী[সম্পাদনা]

আল-আশআরি ইরাকের বসরায় জন্ম গ্রহণ করেন । [২] ইসলামের নবী মুহাম্মদ (দঃ) এর বিশিষ্ট সাহাবি আবু মুসা আশয়ারী ছিলেন তার পূর্বপুরুষ ।[৩] আশআরি" নামের নিসবত এখান থেকেই ব্যবহৃত । তারুণ্যে তিনি মুতাজিলি ধর্মতত্ত্ববিদ ও দার্শনিক গুরু আল-জুব্বাই এর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা অর্জন করেন ।[৪]

শিক্ষকগণ[সম্পাদনা]

  1. আবদুর রহমান ইবনে খালফ আল-জাবি আল-বসরি
  2. আবু খলিফা আল-জামহি
  3. ইবনে সারিজ
  4. জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-সাজি
  5. মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-মুকরি
  6. আবু ইসহাক আল-মারুজি

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

অষ্টাদশ শতকের মুসলিম পণ্ডিত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি বলেন , - প্রতি শতাব্দীর শেষে একজন মুজাদ্দিদ এর আবির্ভাব হয় । প্রথম শতাব্দির মুজাদ্দিদ ছিলেন ইমামুল আহলে সুন্নাহ দ্বিতীয় ওমর দ্বিতীয় শতাব্দির মুজাদ্দিদ ছিলেন ইমামুল আহলুস সুন্নাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ । তৃতীয় শতাব্দির মুজাদ্দিদ ছিলেন ইমামুল আহলুস সুন্নাহ, আবুল হাসান আল-আশআরি । চতুর্থ শতাব্দির মুজাদ্দিদ ছিলেন ইমামুল আহলুস সুন্নাহ আবু আবদুল্লাহ হাকিম নিশাপুরী[৫]

এর আগে বড় বড় আলেমরাও আল-আশআরী এবং তার প্রচেষ্টা সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে কাজী আয়াজ ও তাজ উদ্দিন আল-সুবকি ছিলেন ।[৬]

রচনাবলি[সম্পাদনা]

আশআরি পণ্ডিত ইবনে ফুরাক আবুল হাসান আল-আশআরিএর রচনা-কর্মের সংখ্যা ৩০০ বলে পরিগনিত করেন । জীবনীকার ইবনে খাল্লিকান ৫৫ টি বলে উল্লেখ করেন ।[৭] I

  • মাকালাতুল ইসলামিইয়্যিন ওয়া ইখতিলাফ আল-মুসাল্লিন
  • আল-ইবানা ফি উসুলিদ দিয়ানা - এই গ্রন্থটিতে আল-আশআরি তার নিজ দলীয় আকিদার বিবরণে না গিয়ে অন্য ইসলামি দলগুলোর আকিদা খন্ডনে প্রমাণাদি (দলিল) উপস্থাপন করেছেন । গ্রন্থটি ১৩২১ হিজরিতে হায়দরাবাদে এবং ১৩৪৪ হিজরিতে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে । Walter C.Klien অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ইংরেজিতেত এর অনুবাদ করেছেন । তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকাও প্রকাশ করেছেন ।[৮]
  • আল লুমা'
  1. আল-লুমা' আল-কাবির
  2. আল-লুমা' আল-সাগির
  • আদাব আল- জাদাল ("The Etiquette of Disputation").
  • আল-আসমা ওয়াল আহকাম
  • আল-ফুনুন ("The Disciplines") ।
  • আল-ফুসুল ("উপশিরুনাম") এটি বারো খণ্ডে প্রণীত । দার্শনিক, বহুবর্ষজীবী এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের যেমন ব্রাহ্মণ, ইহুদি, খ্রিস্টান এবং জরুথ্রোস্টবাদিদের দাবির খণ্ডন । পৃথিবী সৃষ্টি-সূচনা ব্যতীতই বিদ্যমান ইবনে আল-রাওয়ান্দির এই দাবিরও খন্ডন করা হয়েছে এই গ্রন্থটিতে ।
  • আল-ইদরাক ("সচেতনতা")।
  • আল-জাওহারু ফির-রাদ আলা আহলিল জাইগ ওয়াল মুনকার ("The Essence: Refutation of the People of Heresy and Transgression").
  • আল-জিসম ("শরীর") ।
  • জুমালুল মাকালাত ("The Sum of Sayings")

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Anvari, Mohammad Javad and Koushki, Matthew Melvin, “al-Ashʿarī”, in: Encyclopaedia Islamica, Editors-in-Chief: Wilferd Madelung and, Farhad Daftary.
  2. John L. Esposito, The Islamic World: Abbasid-Historian, p 54. আইএসবিএন ০১৯৫১৬৫২০৯
  3. I.M.N. Al-Jubouri, History of Islamic Philosophy: With View of Greek Philosophy and Early History of Islam, p 182. আইএসবিএন ০৭৫৫২১০১১৫
  4. Marshall Cavendish Reference, Illustrated Dictionary of the Muslim World, p 87. আইএসবিএন ০৭৬১৪৭৯২৯৫
  5. Izalat al-Khafa, p. 77, part 7.
  6. Fatwa No. 8001. Who are the Ash'arites? - Dar al-Ifta' al-Misriyyah
  7. Beirut, III, p.286, tr. de Slaine, II, p.228
  8. The Elucidation of Islam's foundation , নিউইয়র্ক ১৯৪০ খ্রি. এবং American Oriental সিরিজ ১৯ ।