ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ওআইসি থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা

Organisation de la Coopération Islamique  (ফরাসি)
Organisation of Islamic Cooperation  (ইংরেজি)
منظمة التعاون الإسلامي (আরবি)
নীতিবাক্য: "মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা ও অগ্রগতি ও মঙ্গল নিশ্চিতকরণ"
  সদস্য রাষ্ট্র   পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র   স্থগিত রাষ্ট্র
  সদস্য রাষ্ট্র
  পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র
  স্থগিত রাষ্ট্র
প্রশাসনিক কেন্দ্রসৌদি আরব জেদ্দা, সৌদি আরব
দাপ্তরিক ভাষাসমূহ
ধরনধর্মীয়
সদস্য৫৭টি সদস্য রাষ্ট্র
নেতৃবৃন্দ
• মহাপরিচালক
ইউসেফ আল-ওথাইমিন
প্রতিষ্ঠিত
• সনদে স্বাক্ষর
২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯
জনসংখ্যা
• ২০১৮ আনুমানিক
১.৮১ বিলিয়ন
জিডিপি (পিপিপি)২০১৯ আনুমানিক
• মোট
$২৭,৯৪৯ ট্রিলিয়ন
• মাথাপিছু
$১৯,৪৫১
জিডিপি (মনোনীত)২০১৯ আনুমানিক
• মোট
$৯.৯০৪ ট্রিলিয়ন
• মাথাপিছু
$৯,৩৬১
এইচডিআই (২০১৮)বৃদ্ধি ০.৬৭২
মধ্যম · ১২২তম
ওয়েবসাইট
www.oic-oci.org

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা সংক্ষেপে ওআইসি একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের পর ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ইসরাইল জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে। এতে মসজিদের কাঠের তৈরি ছাদ,আট শ বছরের পুরনো কার্পেটসহ অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস হয়ে যায়। উল্লেখ্য, মক্কা মুয়াজ্জেমায় অবস্থিত বায়তুল্লাহ মুসলমানের কিবলাহ নির্ধারণের আগে মসজিদুল আকসা ছিল মুসলমানদের সর্ব প্রথম কিবলাহ। অগ্নিসংযোগের সময় জেরুজালেমের প্রধান মুফতি ছিলেন আমিন আল হুসাইনি। তিনিই সর্বপ্রথম ঘটনাটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর গোচরীভূত করেছিলেন। ফলে মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি বিদ্যুৎগতিতে মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় সৌদী আরবের তৎকালীন বাদশাহ ফয়সাল ইবনে আবদুল আজিজ তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় কর্তব্য নির্ধারণে বিশ্বের অপরাপর মুসলিম দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের এক জরুরী সম্মেলন আহবানের প্রস্তাব করেছিলেন যাতে আরব-অনারব নির্বিশেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর এই স্পর্শকাতর বিষয়টির ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যােগ গ্রহণ করা সম্ভবপর হয়। উক্ত আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট ১৪ টি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ মিশরের রাজধানী কায়রোতে এক জরুরী বৈঠকে মিলিত হন। ১ মাস পর অর্থাৎ ২২-২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাবাতে আরব-অনারব নির্বিশেষে ২৫ টি মুসলিম দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন স্ব-স্ব দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা। এটিই ছিল ওআইসির প্রথম শীর্ষ সম্মেলন। পরবর্তিতে ওআইসির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে ১৯৭০ সালের মার্চে সৌদি আরবের জেদ্দায় মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিলিত হন। উক্ত সম্মেলনে ২৫ টি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণের সিদ্ধান্তক্রমে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা নামে এই প্রতিষ্ঠানটি আত্মপ্রকাশ করে। একই দিন তাঁরা ওআইসি চার্টার স্বাক্ষর করেন। শুরুতে ওআইসির সদস্য সংখ্যা ছিল ২৪। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর পশ্চিম আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ মোট সদস্য দেশের সংখ্যা ৫৭। এই সংস্থা মূলতঃ মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ওআইসি। এতে পর্যবেক্ষক হিসেবে ওআইসির সঙ্গে যুক্ত আছে পাঁচটি দেশ (রাশিয়া, বসনিয়া, থাইল্যান্ড, সিএআর ও তুর্কি সাইপ্রাস) এবং সাতটি সংগঠন ও সংস্থা।

জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধিত্বমূলক সংস্থা হিসেবে ওআইসির একটি জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি দল রয়েছে। জাতিসংঘের পরই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ আন্ত:দেশীয় সংগঠন হচ্ছে ওআইসি। ওআইসি চার্টার অনুসারে সংগঠনটি ইসলামিক মূল্যবোধ রক্ষায় সারাবিশ্বে কাজ করছে । এছাড়া,সংস্থা মুসলিম উম্মাহর একক মুখপত্র হিসেবে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক ইসলামী কৃষ্টি-সংস্কৃতি, শিক্ষা-বিজ্ঞানভিত্তিক সৌভ্রাতৃত্বমূলক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায়ে তৎপর । এককথায় বলা যায় ওআইসি মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত কন্ঠস্বর।

মহাসচিবই ওআইসির নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। ওআইসির প্রথম মহাসচিব ছিলেন মালয়েশিয়ার টুংকু আবদুর রহমান এবং বর্তমান (১১তম) মহাসচিব সৌদি আরবের ড. ইউসুফ বিন আহমদ আল উসাইমিন। সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মহাসচিব নির্বাচনে ভোট দেন। ওআইসি চার্টার মতে একজন ব্যক্তি পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সর্বোচ্চ দুইবার মহাসচিব হতে পারেন।

মূল সংগঠনের বাইরে ওআইসির ছয়টি সহযোগী, ১৮টি অধিভুক্ত, সাতটি বিশেষায়িত সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এবং চারটি স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া ওআইসি চারটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ছয়টি আঞ্চলিক অফিস পরিচালনা করে। সৌদি আরবের জেদ্দায় সংগঠনটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

মুসলিম রাষ্ট্রনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন ওআইসির প্রধান কার্যক্রম। তিন বছর পর পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিশেষ প্রয়োজনেও মহাসচিব ওআইসির শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করতে পারেন। এ পর্যন্ত ১৪টি সাধারণ এবং সাতটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৬৯ সালে মরোক্কোর রাবাতে ওআইসির প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ওআইসির ১৪ তম শীর্ষ সম্মেলন ৩১ মে এবং ১ জুন ২০১৯ তারিখে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়। এর বাইরে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়েও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেমন—পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, শ্রম, নারী ইত্যাদি বিষয়ক মন্ত্রীরা পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নচিন্তা থেকে বৈঠক করেন। ১৯৯০ সালের ৫ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে ইসলামে মানবাধিকারবিষয়ক কায়রো ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি গঠনমূলক মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সুশাসন ও সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার করা হয়। (সূত্রঃ ওআইসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট)

পটভূমি[সম্পাদনা]

ইসলামী সম্মেলন মিনার, লাহোর, পাকিস্তান

১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের পর ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ইসরাইল জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগ করে। এর ফলে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় ২৫ আগস্ট ১৪ টি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ মিশরের রাজধানী কায়রোতে এক বৈঠকে মিলিত হয়। সৌদি আরব প্রস্তাব করে যেহেতু বিষয়টি মুসলিম বিশ্বের জন্য স্পর্শকাতর তাই সকল মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নিয়েই শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের। মরক্কো, সৌদি আরব, ইরান, পাকিস্তান, সোমালিয়া, মালয়েশিয়া এবং নাইজারকে নিয়ে প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয়। এই বছরে ২২-২৫ সেপ্টেম্বর রাবাতে ২৫ টি মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে রাবাতে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ওআইসি প্রতিষ্ঠিত হয়।[১]

নাম পরিবর্তন[সম্পাদনা]

২০১১ সালের ২৮ জুন আস্তানা, কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলে প্রতিষ্ঠানটির নাম ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (আরবি: منظمة المؤتمر الإسلامي‎‎; ফরাসি: Organisation de la Conférence Islamique) পরিবর্তন করে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা করা হয়।[২] এই সময়ে ওআইসির লোগোও পরিবর্তন করা হয়।

OIC এর সদর দপ্তর-সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

ওআইসির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ৭ টি।

  • ১। সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে ইসলামী সংহতি বৃদ্ধি করা।
  • ২। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রসমূহে সদস্যরাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সহযোগিতা সংহত করা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামসমূহে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করা।[১]
  • ৩। বর্ণ বৈষম্যের মূলোচ্ছেদ এবং উপনিবেশবাদ বিলোপের চেষ্টা অব্যহত রাখা।[৩]
  • ৪। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করা।[৪]
  • ৫। পবিত্র স্থান সমূহের নিরাপত্তা বিধানের সংগ্রামকে সমন্বিত এবং সুসংহত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য সংগ্রামকে সমর্থন করা এবং তাদের অধিকার আদায় এবং স্বদেশ রক্ষা করার কাজে সাহায্য প্রদান।
  • ৬। মুসলমানদের মান মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং জাতীয় অধিকার সংরক্ষণের সকল সংগ্রামে মুসলিম জনগণকে শক্তি যোগানো।
  • ৭। সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে সহযোগীতা এবং সমঝোতা বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।

সদস্য রাষ্ট্রসমূহ[সম্পাদনা]

ওআইসি সদস্য রাষ্ট্র

আফ্রিকা[সম্পাদনা]

এশিয়া[সম্পাদনা]

ইউরোপ[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আমেরিকা[সম্পাদনা]

মহাপরিচালক[সম্পাদনা]

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মহাপরিচালক[৫]
নং নাম দেশ কার্যকাল শুরু কার্যকাল শেষ
টুঙ্কু আবদুর রহমান  মালয়েশিয়া ১৯৭০ ১৯৭৪
হাসান আল-তৌহামি  মিশর ১৯৭৪ ১৯৭৫
আমাদো করিম গাই  সেনেগাল ১৯৭৫ ১৯৭৯
হাবিব চাট্টি  তিউনিসিয়া ১৯৭৯ ১৯৮৪
সৈয়দ শরিফুদ্দিন পীরজাদা  পাকিস্তান ১৯৮৪ ১৯৮৮
হামিদ অলগাবিদ  নাইজার ১৯৮৮ ১৯৯৬
আজেদ্দিন লারাকি  মরক্কো ১৯৯৬ ২০০০
আবদেলাহেদ বেলকেজিজ  মরক্কো ২০০০ ২০০৪
একমেলেদ্দিন ইহসানলু  তুরস্ক ২০০৪ ২০১৪
১০ আইয়াদ বিন আমিন মাদানি  সৌদি আরব ২০১৪ ২০১৬
১১ ইউসেফ আল-ওথাইমিন  সৌদি আরব ২০১৬ বর্তমান

ওআইসি সম্মেলন[সম্পাদনা]

১৫ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে ইস্তাম্বুলে ওআইসির ১৩তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

নং তারিখ দেশ স্থান
১ম ২২–২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯  মরক্কো রাবাত
২য়[৬] ২২–২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪  পাকিস্তান লাহোর
৩য়[৭] ২৫–২৯ জানুয়ারি ১৯৮১  সৌদি আরব মক্কাতায়েফ
৪র্থ ১৬–১৯ জানুয়ারি ১৯৮৪  মরক্কো কাসাব্লাংকা
৫ম[৮] ২৬–২৯ জানুয়ারি ১৯৮৭  কুয়েত কুয়েত সিটি
৬ষ্ঠ[৯] ৯–১১ ডিসেম্বর ১৯৯১  সেনেগাল ডাকার
৭ম ১৩–১৫ ডিসেম্বর ১৯৯৪  মরক্কো কাসাব্লাংকা
১ম বিশেষ ২৩–২৪ মার্চ ১৯৯৭  পাকিস্তান ইসলামাবাদ
৮ম ৯–১১ ডিসেম্বর ১৯৯৭  ইরান তেহরান
৯ম ১২–১৩ নভেম্বর ২০০০  কাতার দোহা
২য় বিশেষ[১০] ৪–৫ মার্চ ২০০৩  কাতার দোহা
১০ম ১৬–১৭ অক্টোবর ২০০৩  মালয়েশিয়া পুত্রজায়া
৩য় বিশেষ ৭–৮ ডিসেম্বর ২০০৫  সৌদি আরব মক্কা
১১তম[১১] ১৩–১৪ মার্চ ২০০৮  সেনেগাল ডাকার
৪র্থ বিশেষ[১২] ১৪–১৫ আগস্ট ২০১২  সৌদি আরব মক্কা
১২তম[১৩] ৬–৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩  মিশর কায়রো
৫ম[১৪] ৬–৭ মার্চ ২০১৬  ইন্দোনেশিয়া জাকার্তা
১৩তম[১৫] ১৪–১৫ এপ্রিল ২০১৬  তুরস্ক ইস্তাম্বুল


ওআইসির সংস্কার প্রস্তাবনা[সম্পাদনা]

ওআইসি'র সংস্কারবিষয়ক প্রথম জেদ্দা কর্মশালা: মুসলিম বিশ্বের চাহিদা পূরণকল্পে উম্মাহর যথাযথভাবে নেতৃত্বদানের লক্ষ্যে বিদ্যমান ওআইসির সাংগঠনিক  দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যেম সংকট উত্তরণে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ঐকমত্যে পৌঁছার জন্য বিগত ২৩-২৫ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে সৌদি আরবের জেদ্দায় তিন দিনব্যাপী ওআইসির সংস্কারবিষয়ক প্রথম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে এবং তুরস্ক ও সৌদি আরবের স্থায়ী ওআইসি প্রতিনিধির সহযোগী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ওআইসি সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও এতে অঙ্গভুক্ত সংগঠন ও সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উক্ত কর্মশালায় মুসলিম দেশসমূহের নিজেদের মধ্যে সংঘাত নিরসনে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করা, মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিবাদমান রাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা চালুকরণ ও মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্থাটির জোরালো অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান ও রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন মুসলিম বিশ্বে বিরাজমান মানবিক বিপর্যয়ে সুষ্ঠু সমাধানে সংস্থাটি জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। এ কর্মশালায় বিরাজমান আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান ও নাগরিকদের সুরক্ষা এবং রোহিঙ্গা সমস্যাসহ সংস্থাটির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে গত মে ২০১৮ মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ওআইসির সংস্কার বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ঐকমত্যে এ কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কর্মশালায় বাংলাদেশ তার প্রস্তাবনায় ওআইসি ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং এ বিষয়ে একটি কার্যকর দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা প্রবর্তন, সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন, সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মানবিক বিপর্যয়ের আশু সমাধানকল্পে পদ্ধতি অবলম্বনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রদান করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমির অধ্যক্ষ কর্মশালার একটি সেশন সঞ্চালনা করেন এবং রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মশালায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

উক্ত কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে ওআইসির মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে বৃহত্তম এই মুসলিম সংস্থাটির সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। পরিশেষে ওআইসির সংস্কার বিষয়ে পরবর্তী দ্বিতীয় কর্মশালা ঢাকায় অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। (সূত্রঃ ওআইসি সংক্রান্ত প্রেসনোট)

জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসির সংস্কার বিষয়ক প্রথম কর্মশালার সিদ্ধান্তমতে সংস্থার ব্যাপক সংস্কারের জন্য দ্বিতীয় বুদ্ধিদীপ্ত (ব্রেইনস্টর্মিং) সেমিনার  গত ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ তারিখ বুধবার বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকাস্থিত হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যাগে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব ড. এ,কে, আবদুল মোমিন বলেন, মুসলিম বিশ্ব নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত। আমরা অন্যের হয়ে নিজেদের মধ্যেই যুদ্ধ করি। এটা ঠিক নয়। ওআইসি এখন বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমরা এটাকে আরও শক্তিশালী কীভাবে করতে পারি সে ব্যাপারে পরিপূরক এবং কৌশলগত পন্থা অবলম্বন করে মুসলিম বিশ্বকে কাজ করতে হবে। শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে উন্নয়নও আমাদের অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হলে অনেক সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হবে। বিশ্বজুড়ে যে সংঘাতের তীব্রতা আমরা দেখছি, তা বিবেচনা করে মুসলিম উম্মাহর অংশ হিসেবে নিজেদের বিরোধ নিজেদেরকে মেটাতে হবে। উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতা, সালিশি, যৌথ কূটনৈতিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ উপায়ে কাজ করতে হবে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ওআইসি মুসলিম উম্মাহর আশা- আকাঙ্খার কণ্ঠস্বর।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় বাংলাদেশসহ ওআইসির ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের শতাধিক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, ওআইসির স্থায়ী মিশন, জেনারেল সেক্রেটারিয়েট, ওআইসির ছয় প্রধান সহায়ক অঙ্গ সংস্থা এবং ওআইসি সংশ্লিষ্ট অ্যাফিলিয়াটেড (affiliated) সদস্যবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। (তথ্য সূত্রঃ https://bangladeshpost.net/posts/oic-brainstorming-session-ends-26529).

বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহে ওআইসির নীতিগত অবস্থান[সম্পাদনা]

মহানবি মুহাম্মাদের কার্টুনের নিন্দায় ওআইসি[সম্পাদনা]

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর একক মুখপত্র ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) কর্তৃক সম্প্রতি ডেনিশ পত্রিকায় প্রকাশিত মহানবি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কার্টুন-এর তীব্র নিন্দা করা হয়। 

প্যালেস্টাইন ইস্যু[সম্পাদনা]

এই সংগঠন দ্বি রাষ্ট্র নীতি সমর্থন করে।

পূর্ব জেরুজালেম সংক্রান্ত ওআইসির নীতিমালা: 'মধ্যপ্রাচ্য' (Middle East) হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সামরিক এবং ধর্মীয় জনগুরুত্বসম্পন্ন এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশ কেন্দ্রিক এক বিশাল ভূখন্ডের আঞ্চলিক নাম। ওআইসির প্রতিষ্ঠাতা এবং মক্কা মুয়াজ্জিমা-মদিনা মুনওয়ারা তথা হারামাইন শারিফাইন অধ্যুষিত সৌদী আরবসহ জাতিসংঘের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র এই মধ্যপ্রাচ্যেই অবস্থিত। জাতিসংঘ বিশ্ব সমস্যা কেন্দ্রিক যে সকল জটিল ইস্যুতে ভারাক্রান্ত তন্মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা- যার উপর বিশ্ব শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা নিবিড়ভাবে জড়িত। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান জটিল সমস্যাবলীর মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেম সংশ্লিষ্ট সমস্যা। পূর্ব জেরুজালেম তথা আল কুদস সংক্রান্ত ওআইসির গৃহীত নীতিমালা অনুসারে "ভবিষ্যত স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রস্তাবিত রাজধানী পূর্ব জেরুজালেম"। পূর্ব জেরুজালেম সংক্রান্ত ওআইসি অনুস্মৃত এই নীতিকে আরও সুস্পষ্টরূপে তুলে ধরার জন্য ২০১৮ সালের ১৩ ই ডিসেম্বর তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে ওআইসির চেয়ারম্যান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান কর্তৃক আহুত ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে গৃহীত 'ইস্তাম্বুল ঘোষণাপত্রে' ফিলিস্তিনকে একটি 'স্বাধীন রাষ্ট্র' এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর 'রাজধানী' হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বিশ্বের সকল দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয়। বিশেষ ইস্তাম্বুল সম্মেলনে পূর্ব জেরুজালেম ইস্যু ছাড়াও পবিত্র ইসলাম এবং মুসলমানদের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও ব্যাপক আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, তেলআবিবের পরিবর্তে পূর্ব জেরুজালেমকে একতরফাভাবে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনকল্পে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ ব্যাপারে যে ভোটাভুটি হয় তাতে  ওআইসি'র ইস্তাম্বুল ঘোষণার সাথে সংহতি প্রকাশ করে ১২৮টি দেশ এবং বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৯টি দেশ ভোট প্রদান করে পক্ষান্তরে ৩৫টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে।

রোহিঙ্গা ইস্যুঃ ২০১৬-১৭ মায়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন বা নিপীড়ন বলতে মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের দ্বারা দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর চলমান সামরিক অভিযানকে বুঝানো হয়। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৮২ সালের বার্মিজ নাগরিকত্ব আইন অনুসারে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৮২ সালের বার্মিজ নাগরিকত্ব আইন অনুসারে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, ১৯৮২ সালের আইনে “রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা অর্জনের সম্ভাবনা কার্যকরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ৮ম শতাব্দী পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া সত্ত্বেও, বার্মার আইন এই সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে তাদের জাতীয় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে।” এছাড়াও তাদের আন্দোলনের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা এবং সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা ১৯৭৮, ১৯৯১-১৯৯২, ২০১২, ২০১৫, ২০১৬ এবং সর্বশেষ ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে অজ্ঞাত বিদ্রোহীর দ্বারা বার্মা সীমান্তে হামলার জের ধরে সামরিক নির্যাতন এবং দমনের সম্মুখীন হয়েছে। জাতিসংঘহিউম্যান রাইটস ওয়াচ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর চালানো দমন ও নির্যাতনকে জাতিগত নির্মূলতা হিসেবে অাখ্যা দিয়েছে এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও শিশুহত্যাসহ অত্যধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মায়ানমার কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত হয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগণের ওপর সামরিক অভিযান জাতিসংঘ (যা "মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ" হিসেবে চিহ্নিত), মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট, প্রতিবেশী বাংলাদেশ সরকার এবং মালয়েশিয়ার সরকার থেকে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে ( যেখানে অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে গেছে)। মায়ানমার সরকার প্রধান, অং সান সু চি, বিশেষ করে তার নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতার জন্য এবং এই সামরিক অপব্যবহার প্রতিরোধে বলতে গেলে কোন কাজ না করার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬-২০১৭ সালে সংঘটিত মানবোতিহাসের অত্যন্ত নৃশংস কায়দায় মিয়ানমারে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের নিন্দা এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে ওআইসির ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিম নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধার প্রতি চরম মানবাধিকার লংঘনের দায়ে অতি সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আদালত কর্তৃক সমন জারীতে ওআইসির রয়েছে বৈপ্লবিক ভূমিকা। ওআইসির বর্তমান মহাসচিব  ড. ইউসুফ বিন আহমদ আল উসাইমিন মুসলিম নির্যাতনের সময় সরেজমিনে অত্যাচারিত রোহিঙ্গাদের প্রতি ওআইসির সংহতি প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিলেন এবং কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরে এসে রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

ওআইসি সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর নিন্দা এবং সুইডিশ সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার প্রশংসাঃ ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) জেনারেল সেক্রেটারিয়েট, জেদ্দা এক শ্রেণীর ইসলাম বিদ্বেষী কর্তৃক সুইডিশ শহর মালমোতে গত আগস্ট ২০২০ মাসে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর মতো বর্বর কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ ঘটনাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে ক্ষোভ উস্কে দেয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা সৃষ্টির একটি হীন প্রয়াস মর্মে উল্লেখ্য ‌করে বলা হয় এটি সুস্পষ্ট অপরাধ। এতে আরও বলা হয়, ধর্ম ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে চরমপন্থা ও বিদ্বেষকে পরাভূত করার ওআইসির বৈশ্বিক প্রচেষ্টা‌য় এ ঘটনা স্পষ্ট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী। এ ঘটনাকে তীব্র ঘৃণার সাথে ওআইসি প্রত্যাখ্যান করছে। গত ৩০ আগস্ট, ২০২০ তারিখে ওআইসি ওয়েব সাইট থেকে উপরোক্ত মন্তব্য করা হয়।

পাশাপাশি ওআইসি এর ইসলামফোবিয়া অবজারভেটরি [Islam Phobia Observatory) যা বিশ্বজুড়ে ইসলাম বিদ্বেষী ঘটনাবলী নথিভুক্ত করে] কর্তৃক এই উস্কানিমূলক আচরণকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুইডিশ সরকারের গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের প্রশংসা করে এবং সহিংসতা এড়িয়ে সংযম প্রদর্শন করতঃ বিদ্যমান আইন মোতাবেক এগিয়ে যাওয়ার জন্য সুইডেনের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে। ওআইসি নিশ্চিত করেছে যে, সংস্থা এই ধরণের উস্কানীমূলক ক্ষতিকারক ঘটনা মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

ওআইসি-তে ভারতভুক্তির ব্যাপারে কাশ্মির ইস্যুর প্রভাবঃ

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ভারত উপমহাদেশের অর্জিত স্বাধীনতা ছিল হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের অভূতপূর্ব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জীবন্ত ফসল। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর কাশ্মির ইস্যুতে সৃষ্ট পাক-ভারত দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক প্রভাব ফেলেছে ওআইসি নামক এই সংগঠনের সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায়। পাকিস্তান সংগঠনটির গোড়াপত্তনকারী সদস্য। অপরদিকে ভারত বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম মুসলিম জনবহুল দেশ। বিগত শতাব্দীর সত্তর দশকে বাংলাদেশ ওআইসির সদস্য লাভের প্রচেষ্টায় ভারতও মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে এই সংগঠনের সদস্য পদ লাভে উৎসাহিত হয়েছিল । কিন্তু তা বারবার পাকিস্তানের কূটনৈতিক বাধায় বিফল হয়। তাছাড়া ওআইসির চার্টারে সংস্থার সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মুসলিম জনসংখ্যা ছাড়াও মুসলিম রাষ্ট্রীয় স্ট্যাটাসের বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে। ফলে ভারত ও রাশিয়ায় বিপুল সংখ্যক মুসলিমের বসবাস সত্ত্বেও ওআইসির গঠনতান্ত্রিক উল্লেখিত শর্ত উক্ত রাষ্ট্রদ্বয়ের ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় ।


তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

  1. About OIC ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩০ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে. Oic-oci.org. Retrieved on 2014-11-07.
  2. OIC changes name, emblem ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৩ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে পাকিস্তান অবজার্ভার
  3. Resolution No ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে. Oic-oci.org. Retrieved on 2013-09-27.
  4. "Cairo Declaration on Human Rights in Islam, 5 August 1990, U.N. GAOR, World Conf. on Hum. Rts., 4th Sess., Agenda Item 5, U.N. Doc. A/CONF.157/PC/62/Add.18 (1993) [English translation]"। University of Minnesota। ৫ আগস্ট ১৯৯০। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০১১ 
  5. Former Secretaries-General–OIC
  6. "Second Islamic summit conference" (PDF)। Formun। ২৬ জুন ২০১৩ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৩ 
  7. "Mecca Declaration"। JANG। ২৬ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০১৩ 
  8. "Resolution of the Fifth Islamic Summit Conference"। IRCICA। ২৬ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৩ 
  9. "Dakar Declaration" (PDF)। IFRC। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  10. Darwish, Adel (১ এপ্রিল ২০০৩)। "OIC meet in Doha: mudslinging dominated the OIC conference in Qatar"। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৩ 
  11. Shah, S. Mudassir Ali (১২ মার্চ ২০০৮)। "Karzai flies to Senegal for 11th OIC summit"Pajhwok Afghan News। Kabul। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৩ 
  12. Knipp, Kersten (১৫ আগস্ট ২০১২)। "Islamic group hopes to limit Syrian conflict"Deutsche Welle। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০১২ 
  13. Arrott, Elizabeth (৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Islamic Summit Leaders Urge Action on Mali, Syria"Voice of America। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  14. Karensa, Edo (৬ মার্চ ২০১৬)। "OIC Extraordinary Summit on Palestine Kicks Off in Jakarta"The Jakarta Globe। ৭ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৬ 
  15. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১২ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৭