আবিসিনিয়ায় হিজরত
| মুহাম্মদের কূটনৈতিক তৎপরতারের অংশ অংশ | |
১৩১৪ সালের একটি পান্ডুলিপিতে চিত্রিত, যেখানে মধ্যযুগীয় আবিসিনিয়ার নেগাস একটি মক্কান প্রতিনিধিদলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করছেন—তাঁরা প্রাথমিক মুসলিমদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছিলেন। | |
| স্থানীয় নাম | الهجرة إلى الحبشة |
|---|---|
| তারিখ | আনুমানিক ৬১৩–৬১৫ খ্রিষ্টাব্দ (৯–৭ পূর্ব হিজরি) |
| অন্যনাম | প্রথম হিজরত (الهجرة الأولى إلى الحبشة) অথবা হিজরত ইলা আল-হাবশাহ (الهجرة إلى الحبشة) |
| উদ্দেশ্য | কুরাইশদের নিপীড়ন থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে |
| অংশগ্রহণকারী | প্রথমদিকের সাহাবায়ে কেরাম: এগারো জন পুরুষ ও চারজন নারী |
| ফলাফল | কিছু প্রাথমিক মুসলিম আকসুমে বসতি স্থাপন করেন |
| প্রস্থানস্থল | মক্কা, হেজাজ, আরবিয়া |
| গন্তব্যস্থল | আকসুম, আকসুম রাজ্য |
আবিসিনিয়ায় হিজরত (আরবি: الهجرة إلى الحبشة), যা প্রথম হিজরত নামেও পরিচিত (আরবি: الهجرة الأولى), ইসলামের প্রারম্ভিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এতে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মদ (স.)-এর প্রথম অনুসারীরা, যাঁদেরকে সাহাবি বলা হয়, আরবিয়া থেকে হিজরত করে আবিসিনিয়া যান। কারণ মক্কার কুরাইশ গোত্রের দ্বারা তাঁরা তীব্র নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলেন।
এই অনুসারীরা আশ্রয়ের জন্য আকসুম রাজ্যে পাড়ি জমান, যা ছিল একটি প্রাচীন খ্রিষ্টান রাষ্ট্র এবং বর্তমানের উত্তর ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া অঞ্চলে অবস্থিত ছিল।[১] এই হিজরত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব হিজরি ৯ বা ৭-এ, অর্থাৎ আনুমানিক ৬১৩ বা ৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে। রাজ্যের রাজধানী ছিল আকসুম, যা বর্তমান ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রাচীন নগরী।
তাঁদেরকে যে রাজা আশ্রয় দেন, ইসলামী সূত্রে তাঁকে নজাশী (আরবি: نجاشي) নামে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ছিলেন রাজ্যের নেগাস। আধুনিক ইতিহাসবিদেরা ধারণা করেন, তিনি ছিলেন আকসুমের রাজা আর্মাহ অথবা এল্লা সাহাম।[২]
এই সাহাবিদের মধ্যে কিছুজন পরবর্তীতে মক্কায় ফিরে আসেন এবং পরে মুহাম্মদের সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। বাকিরা আকসুমেই থেকে যান এবং ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় পৌঁছান।[৩]
আবিসিনিয়ায় হিজরতের এই ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এতে মুসলিমরা মক্কার নেতাদের নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় খুঁজে পায়। প্রথম হিজরত হয় নবুয়তের পঞ্চম বছরে, রজব মাসে। এ সময় মোট ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী হিজরত করেন, যাঁদের নেতা ছিলেন উসমান ইবন মাজউন।
তাঁরা আবিসিনিয়ায় অবস্থানকালে মক্কার লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেছে—এমন গুজব শোনেন। তখন তাঁদের কিছুজন মক্কায় ফিরে যান, কিন্তু ফিরে গিয়ে দেখেন তথ্যটি ভুল। তখন তাঁরা আবার আবিসিনিয়ায় ফিরে যান এবং আরও একদল তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। এটিই ছিল দ্বিতীয় হিজরত। এই দলে ছিল ৮৩ জন পুরুষ, তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানরা, এবং তাঁদের নেতা ছিলেন জাফর ইবন আবু তালিব।[৪]
পটভূমি
[সম্পাদনা]প্রচলিত মতে, মক্কার প্রারম্ভিক মুসলিম সম্প্রদায় নিপীড়নের শিকার হন। এ কারণে মুহাম্মদ (স.) তাঁদেরকে আকসুমে আশ্রয় নিতে উপদেশ দেন। এই ঘটনার প্রাচীনতম প্রামাণ্য বিবরণ পাওয়া যায় অষ্টম শতাব্দীর মুসলিম ইতিহাসবিদ ইবন ইসহাক-এর লিখিত সীরাতে:[৫][৬]
যখন রাসূল (স.) তাঁর সাহাবিদের উপর অত্যাচার লক্ষ্য করলেন, [...] তখন তিনি তাঁদের বললেন: “তোমরা যদি আবিসিনিয়ায় চলে যাও, তাহলে তা তোমাদের জন্য উত্তম হবে। কারণ সেখানে এমন এক রাজা আছেন যিনি কারো উপর জুলুম বরদাশত করেন না এবং সে দেশ তোমাদের জন্য নিরাপদ। তোমরা সেখানে অবস্থান করো যতদিন না আল্লাহ তোমাদের কষ্ট লাঘব করেন।” এরপর সাহাবিরা ইসলামের উপর অটল থেকে, ধর্ম রক্ষার উদ্দেশ্যে ও মুরতাদ হওয়ার ভয়ে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। এটাই ইসলামের প্রথম হিজরত ছিল।
আরও একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যা ঐ সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। ৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে সাসানীয়দের জেরুজালেম দখলের পর অনেক মুসলিম বিশ্বাসী মনে করেছিলেন যে, তাঁদের সম্প্রদায় বিপদের মুখোমুখি হতে পারে। কারণ তাঁরা পারসিকদের অনুসারী ছিলেন না, যারা জরথুস্ট্রবাদ পালন করত এবং পূর্বে আরবের ইহুদিদের হিমিয়ার রাজ্যে সমর্থন দিয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে, মুসলিমদের আকসুমে আশ্রয় গ্রহণ—যা ঘটেছিল লেভান্টে পারসিক বিজয়ের সময়ে—আকসুমের বিগত শতকের পররাষ্ট্রনীতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন তারা আরব উপদ্বীপে সাসানীয়দের সঙ্গে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।[৭]
হিজরতসমূহ
[সম্পাদনা]ইসলামী ইতিহাসবিদদের মতে[কোনটি?], আবিসিনিয়ায় দুইবার হিজরত সংঘটিত হয়েছিল। যদিও তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।[৬][৮][৯][১০]
প্রথম দলে ছিলেন ১২ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী, যাঁরা আরব ত্যাগ করেন ৭ হিজরি (৬১৫ খ্রিস্টাব্দ) বা অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী ৯ হিজরি (৬১৩ খ্রিস্টাব্দ) সালে।[৯] তাঁদেরকে আশ্রয় দেন আকসুমের নেগাস রাজা নজাশী। এটি ছিল একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র, যা বর্তমান ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়াতে অবস্থিত ছিল। এই দলে ছিলেন মুহাম্মদ (স.)-এর কন্যা রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ এবং তাঁর জামাতা উসমান ইবন আফফান, যিনি পরবর্তীতে রাশিদুন খলিফাদের মধ্যে তৃতীয় খলিফা হন।
এই হিজরতের পূর্বে নবী মুহাম্মদ (স.) উসমান ইবন মাজউনকে—যিনি ছিলেন তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহাবি—এই দলের নেতা নিযুক্ত করেন। তাবকাতে ইবন সা‘দের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁরা শুআইবা বন্দর থেকে একটি বণিক জাহাজে আরোহন করেন এবং প্রত্যেকে অর্ধ-দিনার ভাড়া দিয়ে লাল সাগর পার হয়ে পূর্ব আফ্রিকায় পৌঁছান।[১১]
এক বছর পর এই নির্বাসিতরা শুনতে পান যে কুরাইশরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। এ খবরে তাঁরা মক্কায় ফিরে যান। কিন্তু ফিরে গিয়ে দেখেন, বাস্তবতা ভিন্ন। তখন তাঁরা পুনরায় আকসুমের উদ্দেশ্যে হিজরত করেন ৬ হিজরি (৬১৬ খ্রিস্টাব্দ) বা অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী ৭ হিজরি (৬১৫ খ্রিস্টাব্দ) সালে।[১০][স্পষ্টকরণ প্রয়োজন] এবার তাঁদের সঙ্গে আরও নতুন মুসলমানরা যোগ দেন। এ দফায় দলে ছিলেন ৮৩ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী।[৮]
তবে কিছু পশ্চিমা ইতিহাসবিদ—যেমন লিওনে কায়েতানি (১৮৬৯–১৯৩৫) ও উ. মন্টগোমারি ওয়াট (১৯০৯–২০০৬)—এই দুই দফা হিজরতের কাহিনি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।[৬] ইবন ইসহাক দুইটি আংশিকভাবে ওভারল্যাপিং তালিকা দিয়েছেন, তবে তিনি উল্লেখ করেননি যে প্রথম দলটি ফিরে এসে আবার গিয়েছিল।[৬]
ওয়াট যুক্তি দেন যে, ইবন ইসহাক যে শব্দটি ব্যবহার করেছেন—তাতাবা‘আ (অনু. একজনের পর আরেকজন অনুসরণ করল)—এবং যেভাবে নামগুলো তালিকায় এসেছে, তাতে বোঝা যায়, এই হিজরত হয়তো কয়েকটি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সংঘটিত হয়েছিল, দুটি বড় দলের পরিবর্তে। আর এই দুই তালিকা তৈরি হয়েছিল রাশিদুন খলিফা উমরের শাসনামলে সরকারি রেকর্ডে অগ্রাধিকার নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে।[৬]
প্রবাসীরা যখন মক্কায় ফিরে এলেন, তখন নবী তাঁদেরকে পুনরায় আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দেন। তখন তাঁরা দ্বিতীয়বারের মতো যাত্রা করেন। এই দফায় তাঁদের সংখ্যা ছিল ৮৩ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী; কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, ১৮ জন নারী। ইতিহাসবিদ আল-তাবারী লিখেছেন, তাঁদের সংখ্যা ছিল ৮২ জন পুরুষ, তাদের স্ত্রী ও সন্তান ছাড়াও। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, আম্মার ইবন ইয়াসির তাঁদের মধ্যে ছিলেন কি না—যদি থাকেন, তবে সংখ্যা ৮৩ হবে। এ দলে প্রধান ছিলেন জাফর ইবন আবু তালিব, যিনি তাঁদের নেতা ছিলেন এবং নেগাসের কাছে অনুবাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আকসুমে
[সম্পাদনা]এই ঘটনার অধিকাংশ বিবরণ পাওয়া যায় ইতিহাসবিদ ইবন ইসহাক-এর লেখনীতে।[১২][১৩]
কুরাইশরা যখন জানতে পারল যে প্রাথমিক মুসলিমরা আকসুমে আশ্রয় নিতে যাচ্ছে, তখন তারা নজাশীর নিকট মুসলিম অভিবাসীদের ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়। তারা দুইজন দূত নির্বাচন করে—আমর ইবন আল-আস এবং আবদুল্লাহ ইবন রাবিয়া। এই দূতেরা আকসুমের রাজা ও তাঁর সেনাপতিদের জন্য উপহারস্বরূপ উন্নত চামড়ার বস্তু নিয়ে যান।[১২][১৩]
এই মক্কান দূতেরা সেনানায়কদের বোঝাতে চেষ্টা করে যে, মুসলিমরা বিদ্রোহী এবং একটি নতুন ধর্ম উদ্ভাবন করেছে, যার কোনো নজির মক্কা বা আকসুমে আগে দেখা যায়নি। তাঁরা দাবি করেন, মুসলিম অভিবাসীদের আত্মীয়রা তাঁদের ফিরিয়ে নিতে চায়। এর পর রাজা নজাশী মুসলিমদের বক্তব্য শুনার জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করেন, কিন্তু তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কাউকে ফিরিয়ে দেননি।[১২][১৩]
পরবর্তীতে সাহাবিদের রাজা ও তাঁর বিশপদের সামনে উপস্থিত করা হয়। সেখানে নির্বাসিতদের নেতা জাফর ইবন আবু তালিব তাঁদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন:
হে রাজা, আমরা এক সময় অজ্ঞ ও পাপপূর্ণ জাতি ছিলাম। আমরা মূর্তি পূজা করতাম, মৃতদের মাংস খেতাম। সবধরনের অনাচার করতাম, প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের প্রতি দায়িত্ব পালন করতাম না। আমাদের মধ্যে শক্তিশালী দুর্বলদের উপর জুলুম চালাত। এরপর আল্লাহ আমাদের মাঝে একজন নবী প্রেরণ করেন, যাঁর সততা, চরিত্র ও জীবনধারা আমরা জানতাম। তিনি আমাদের এক আল্লাহর উপাসনায় আহ্বান করেন, মূর্তিপূজা ত্যাগ করতে বলেন। তিনি আমাদের সত্য কথা বলা, অঙ্গীকার পালন, আত্মীয় ও প্রতিবেশীর অধিকার স্বীকার করতে শেখান। তিনি আমাদের অশ্লীলতা, রক্তপাত, মিথ্যাচার, এতিমদের সম্পদ হরণ, এবং যেকোনো নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন। তিনি আমাদের আল্লাহর কিতাব শিখান। আমরা তাঁর ওপর ঈমান আনলে আমাদের জাতি আমাদের নির্যাতন করে, আমাদের কষ্ট দেয়। তখন আমরা আপনার দেশে আশ্রয় নিই, আমাদের নবীর অনুমতিতে।
খ্রিষ্টান রাজা তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের নাজিলকৃত কোনো ওহির অংশ শুনতে চান। তখন জাফর মারইয়াম সূরা থেকে তিলাওয়াত করেন (আক্ষ. অনু. মারইয়াম অর্থাৎ মারিয়াম এর সূরা)। এই শ্রবণে রাজা অশ্রুসিক্ত হয়ে বলেন: “নিশ্চয়ই এটি ঈসা (আঃ)-এর বাণীর মতোই এক উৎস থেকে এসেছে (মিশকাত)।”
তবে, মক্কান দূতদের একজন, আমর ইবন আল-আস, ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেন। পরদিন তিনি রাজাকে বলেন যে, মুসলিমরা ঈসা (আঃ)-কে অবমাননা করে। এই সংবাদে রাজা আবার মুসলিমদের ডেকে পাঠান। সাহাবারা বিষয়টি কৌশলে মোকাবিলা করার কথা চিন্তা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওহির ভিত্তিতে সত্য কথাই বলার সিদ্ধান্ত নেন।
জাফর যখন রাজার সামনে উত্তর দেন, তিনি বলেন যে, মুসলিমরা ঈসা (আঃ)-কে মনে করে “আল্লাহর রূহ (Quran 4:171), চিরস্থায়ী, পাপমুক্ত (Corinthians 5:21, সহীহ বুখারী, ভলিউম ৪, বই ৫৪, হাদীস ৫০৬), পবিত্র সন্তান (Quran 19:19), সর্বত্র উপস্থিত এবং সর্বশক্তিমান; এবং আল্লাহর বাণী (Quran 3:39), যেটি জীবিত ও মৃতদেরকে পথ দেখায়। তিনি কুমারী মারিয়ামের গর্ভে প্রেরিত হয়েছিলেন।”
ইসলামী বর্ণনানুসারে, এই কথাগুলি শুনে নজাশী বলেন, “ঈসা এর চেয়ে বেশি কিছু নন”—এ কথা বলে তিনি মুসলিমদের আশ্বস্ত করেন: “তোমরা আমার দেশে নিরাপদ।” এরপর তিনি মক্কান দূতদের উপহার ফিরিয়ে দেন এবং তাঁদের বিদায় দেন।[১২][১৩]
মুসলিম নির্বাসনের সমাপ্তি
[সম্পাদনা]আকসুমে অবস্থানরত অনেক মুসলিম নির্বাসিত ব্যক্তি ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় ফিরে আসেন এবং নবী মুহাম্মদ (স.)-এর সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। এরপর দ্বিতীয় দফার একটি দল ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় পৌঁছায়।[৩][১৪]
প্রথম হিজরতের তালিকা
[সম্পাদনা]ইবন ইসহাক যে প্রথম হিজরতের তালিকা প্রদান করেছেন, তাতে মোট এগারো জন পুরুষ ও চারজন নারীর নাম উল্লেখ আছে:[৫]
- সা‘দ ইবন আবি ওয়াক্কাস
- জাহশ ইবন রিয়াব[১৫]
- আবদুল্লাহ ইবন জাহশ
- জাফর ইবন আবু তালিব – দলের মুখপাত্র
- উসমান ইবন আফফান – রাসূলের জামাতা ও সাহাবি, রুকাইয়ার স্বামী এবং তৃতীয় খলিফা
- রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ – উসমানের স্ত্রী ও রাসূলের কন্যা
- আবু হুযাইফা ইবন উতবা
- সাহলা বিনতে সুহাইল – আবু হুযাইফার স্ত্রী
- যুবায়ের ইবন আওয়াম
- মুসআব ইবন উমায়ের
- আবদুর রহমান ইবন আওফ
- আবু সালামা আবদুল্লাহ ইবন আবদুল আসাদ
- উম্মে সালামা – আবু সালামার স্ত্রী
- উসমান ইবন মাজউন – দলের নেতা
- আমির ইবন রাবি'আহ
- লাইলা বিনতে আবি আসমাহ – আমিরের স্ত্রী[১৬][ভালো উৎস প্রয়োজন]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ E. A. Wallis Budge (১ আগস্ট ২০১৪)। A History of Ethiopia: Volume I: Nubia and Abyssinia। Routledge। পৃ. vii। আইএসবিএন ৯৭৮১৩১৭৬৪৯১৫১।
- ↑ M. Elfasi, Ivan Hrbek (১৯৮৮)। Africa from the Seventh to the Eleventh Century। UNESCO। পৃ. ৫৬০। আইএসবিএন ৯৭৮৯২৩১০১৭০৯৪।
- 1 2 William Montgomery Watt (১৯৬১)। Muhammad: Prophet and Statesman। Oxford University Press। পৃ. ৬৬। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৮৮১০৭৮০।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য) - ↑ "إسلام ويب - المستدرك على الصحيحين - كتاب الهجرة الأولى إلى الحبشة- الجزء رقم3"। www.islamweb.net (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- 1 2 Ibn Ishāq (২০০৪)। Sīratu Rasūlillāh (tr. Alfred Guillaume)। Oxford University Press। পৃ. ১৪৬।
- 1 2 3 4 5 W. Montgomery Watt (১৯৮০)। Muhammad at Mecca। Oxford University Press। পৃ. ১১০–১১১।
- ↑ Bowersock, G.W (Dr). The Throne of Adulis: Red Sea Wars on the Eve of Islam. Oxford University Press, 2013. আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯৭৩৯৩২-৫
- 1 2 "The Two Migrations of Muslims to Abyssinia"। Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project। ১০ নভেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫।
- 1 2 John L. Esposito, সম্পাদক (২০০৩)। The Oxford Dictionary of Islam। Oxford University Press। পৃ. ৩৫১। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৯৭৫৭২৬৮।
- 1 2 Rafiq Zakaria, 1991, Muhammad and The Quran, New Delhi: Penguin Books, pp. 403-4. আইএসবিএন ০-১৪-০১৪৪২৩-৪
- ↑ "First Hijrah: Migration to Abyssinia"। Madain Project। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৯।
- 1 2 3 4 Ibn Ishāq (২০০৪)। Sīratu Rasūlillāh (tr. Alfred Guillaume)। Oxford University Press। পৃ. ১৫০–১৫৩।
- 1 2 3 4 Martin Lings (২০০৬)। Muhammad: His Life Based on the Earliest Sources। Inner Traditions। পৃ. ৮১–৮৪।
- ↑ Timothy Power (২০১২)। The Red Sea from Byzantium to the Caliphate: AD 500 - 1000। I.B. Tauris। পৃ. ৮৭। আইএসবিএন ৯৭৮১৬১৭৯৭৩৫০৫।
- ↑ তিনি ছিলেন জয়নাব (রাঃ)-এর পিতা এবং মুহাম্মদ (স.)-এর শ্বশুর। কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, চীনের সাহাবিদের প্রসঙ্গে তাঁকে “গেইস” নামে উল্লেখ করা হয়েছে। কাম্বোডিয়ার চাম মুসলিমরা তাঁদের বংশধারা এই শ্বশুরের (জাহশ/গেইস) মাধ্যমে রাসূল (স.)-এর সঙ্গে সংযুক্ত করে থাকেন। বিস্তারিত দেখুন: টি. ডব্লিউ. আর্নল্ড, The Preaching of Islam, 294n8।
- ↑ "Authentic History of King Negash of Abyssinia (Currently Ethiopia)"। tripod.com। ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১০।