তাওহিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

তাওহীদ (আরবি ভাষায় توحيد) ইসলাম ধর্মে এক আল্লাহর ধারণাকে বোঝায়।[১] তাওহীদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ[২] ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহ তাঅালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে তাওহীদ বলে৷ এটাই তাওহীদের মূল কথা।[৩]

কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন,[৪]

"কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।"[৫]

কুরআনের অন্যস্থানে আল্লাহ বলেন,

"বল, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর কোনো সমকক্ষও নেই।"[৬]

শির্‌ক[সম্পাদনা]

তাওহীদের বিপরীত ধারণা হল শির্‌ক। ইসলামে শির্ক হল আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা। সাধারণত বিভিন্ন মূর্তি, পাথর, গাছ, নক্ষত্র, ফেরেশতা, জ্বিন, মৃতব্যক্তি ইত্যাদি বস্তু ও জীবের ইবাদত বা উপাসনা করা হয়। এসব উপাস্যকে ভয়-ভীতি, আশা-আকাঙ্খার সাথে ডাকা, বিপদে তাদের কাছে সাহায্য, আশ্রয়, উদ্ধার প্রার্থনা করা, তাদের নামে যবাইমানত করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড শির্কের অন্তর্ভুক্ত।

তাওহিদের গুরুত্ব[সম্পাদনা]

ইসলামে ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো তাওহিদ৷[৭] অর্থাৎ মুমিন বা মুসলিম হতে হলে একজন মানুষকে সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলার একত্ববাদে বিশ্বাস অানতে হবে৷ তাওহিদে বিশ্বাস ব্যতীত কোনো ব্যক্তিই ইসলামে প্রবেশ করতে পারেনা। ইসলামের সকল শিক্ষা ও অাদর্শ তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত৷ দুনিয়াতে যত নবি-রাসূল এসেছেন সকলেই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন৷ সকলের দাওয়াতের মূলকথা ছিল :— "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বা অাল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই"৷ তাওহিদ প্রতিষ্ঠার জন্য নবি-রাসূলগণ অাজীবন সংগ্রাম করেছেন৷ হযরত ইব্রাহীম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছেন৷ বস্তুত, তাওহিদই হলো ইসলামের মূল৷[৮]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "From the article on Tawhid in Oxford Islamic Studies Online" (ইংরেজি ভাষায়)। Oxfordislamicstudies.com। ২০০৮-০৫-০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-২৪ 
  2. "Allah"Encyclopædia Britannica Online (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৮ 
  3. "The Fundamentals of Tawhid (Islamic Monotheism)" (ইংরেজি ভাষায়)। ICRS (Indonesian Consortium of Religious Studies। ২০১০-১০-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-১০-২৮ 
  4. Vincent J. Cornell, Encyclopedia of Religion, Vol 5, pp.3561-3562 (ইংরেজি ভাষায়)
  5. সূরা শুরা ৪২:১১
  6. সূরা ইখলাস
  7. D. Gimaret, Tawhid, Encyclopedia of Islam (ইংরেজি ভাষায়)
  8. Tariq Ramadan (2005), p.203 (ইংরেজি ভাষায়)