ঈশ্বর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

ঈশ্বর (ইংরেজি: God) হল জাগতিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ অবস্থানে অবস্থানকারী কোন অস্তিত্ব । অনেকের মতে , এই মহাবিশ্বের জীবজড় সমস্তকিছুর সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রক আছে মনে করা হয় । এ অস্তিত্বে বিশ্বাসীগণ ঈশ্বরেউপাসনা করে , তাদেরকে আস্তিক বলা হয় । আর অনেকে এ ধারণাকে অস্বীকার করে , এদেরকে বলা হয় নাস্তিক

আস্তিক সমাজে , ঈশ্বরের ধারণা ধর্ম , ভাষাসংষ্কৃতি ভেদে নানারূপী । ভাষাভেদে একে ইংরেজি ভাষায় গড , আরবি ভাষায় ইলাহ এবং বাংলাসংষ্কৃত ভাষায় ঈশ্বর ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয় ।

সর্বেশ্বরবাদএকেশ্বরবাদ হল ঈশ্বরবাদের প্রধান দুটি শাখা । সর্বেশ্বরবাদে ক্ষমতার তারতম্য অণুযায়ী একাধিক ঈশ্বর বা অনেক সময় ঐশ্বরিক সমাজে বিশ্বাস করা হয় এবং প্রতিমা প্রতিকৃতি আকারে পরোক্ষভাবে এর উপাসনা করা হয় । আর শুধুমাত্র একজন সার্বভৌম ঈশ্বরের ধারণাকে বলা হয় একেশ্বরবাদ

বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্রাদিতে ঈশ্বর[সম্পাদনা]

ইহুদী ধর্মশাস্ত্রে[সম্পাদনা]

হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে ঈশ্বর[সম্পাদনা]

একেশ্বরবাদ, বহুদেববাদ,[১] সর্বেশ্বরময়বাদ, অদ্বৈতবাদ, নাস্তিক্যবাদ – সকল প্রকার বিশ্বাসের সমাহার দেখা যায় হিন্দুধর্মে। তাই হিন্দুধর্মে ঈশ্বরধারণাটি অত্যন্ত জটিল। এই ধারণা মূলত নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহ্য অথবা দর্শনের উপর নির্ভরশীল। কখনও কখনও হিন্দুধর্মকে হেনোথেইস্টিক ধর্ম (অর্থাৎ, বহু দেবতা অস্তিত্ব স্বীকার করার পাশাপাশি এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী ধর্মব্যবস্থা) বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এধরনের বর্গীকরণ অতিসরলীকরণের নামান্তর।[২]

হিন্দুরা বিশ্বাস করেন যে মানুষের আত্মা শাশ্বত।[৩] অদ্বৈত বেদান্তের ন্যায় অদ্বৈতবাদী/সর্বেশ্বরময়বাদী দর্শন অণুসারে, আত্মা সর্বশেষে পরমাত্মা ব্রহ্মে বিলীন হয়। এই কারণেই এই দর্শন অদ্বৈত দর্শন নামে পরিচিত।[৪] অদ্বৈত দর্শনের মতে, জীবনের উদ্দেশ্য হল আত্মা ও ব্রহ্মের অভিন্নতা অণুভব করা।[৫] উপনিষদে বলা হয়েছে, মানুষের পরমসত্ত্বা আত্মাকে যিনি ব্রহ্মের সঙ্গে অভিন্ন রূপে অণুভব করতে সক্ষম হন, তিনিই মোক্ষ বা মহামুক্তি লাভ করেন।[৩][৬]

দ্বৈতভক্তিবাদী দর্শনে ব্রহ্মের উপর ব্যক্তিত্ব আরোপিত হয়েছে। এই মতানুসারে সম্প্রদায়বিশেষে তাঁকে বিষ্ণু, ব্রহ্মা, শিব বা শক্তিরূপে পূজা করা হয়। আত্মা এখানে ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল এবং মোক্ষ নির্ভরশীল ঈশ্বরের প্রতি প্রেম অথবা ঈশ্বরের অণুগ্রহের উপর ।[৭] পরমসত্ত্বা রূপে ঈশ্বর হিন্দুধর্মে ঈশ্বর (প্রভু[৮]), ভগবান (পবিত্র ব্যক্তি[৮]) বা পরমেশ্বর (সর্বোচ্চ প্রভু[৮]) নামে আখ্যাত।[৪] অবশ্য ঈশ্বর শব্দের একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে। মীমাংসাবাদীরা ঈশ্বরে অবিশ্বাস করেন; আবার অদ্বৈতবাদীরা ব্রহ্মঈশ্বরকে অভিন্ন মনে করেন।[৪] অধিকাংশ বৈষ্ণব ঐতিহ্যে তিনি বিষ্ণু। বৈষ্ণব শাস্ত্রগুলি তাঁকে কৃষ্ণ বা কখনও কখনও স্বয়ং ভগবানের রূপে দর্শিয়েছে । আবার সাংখ্য দর্শন নাস্তিক্যবাদী মনোভাবাপন্ন ।[৯]

জৈন ধর্মশাস্ত্রে[সম্পাদনা]

বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্রে[সম্পাদনা]

খ্রিস্ট ধর্মশাস্ত্রে[সম্পাদনা]

ইসলাম ধর্মশাস্ত্রে ঈশ্বর[সম্পাদনা]

আল্লাহ্ (আরবি: الله‎‎) একটি আরবি শব্দ, ইসলাম ধর্মানুযায়ী যার দ্বারা "বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং প্রতিপালকের নাম" বোঝায়। "আল্লাহ" শব্দটি প্রধানতঃ মুসলমানরাই ব্যবহার করে থাকেন। মূলতঃ “আল্লাহ্” নামটি ইসলাম ধর্মে বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তার সাধারণভাবে বহুল-ব্যবহৃত নাম; এটি ছাড়াও মুসলমানরা তাকে আরো কিছু নামে সম্বোধন করে থাকে যেমন খোদা। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনে আল্লাহ্‌র নিরানব্বইটি নামের কথা উল্লেখ আছে; তার মধ্যে কয়েকটি হল: সৃষ্টিকর্তা, ক্ষমাকারী, দয়ালু, অতিদয়ালু, বিচারদিনের মালিক, খাদ্যদাতা, বিশ্বজগতের মালিক প্রভৃতি।

তবে আরবি খ্রিস্টানরাও প্রাচীনকাল থেকে "আল্লাহ" শব্দটি ব্যবহার করে আসছেন। বাহাইমাল্টাবাসী, মিজরাহী ইহুদি এবং শিখ সম্প্রদায়ও "আল্লাহ" শব্দ ব্যবহার করে থাকেন।

ইসলামের নবী মুহাম্মদ বলেছেন যে, আল্লাহ তা'আলার আসমাউল হুসনা হলো মোট ৯৯ টি| আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে এ সকল নামের মাধ্যমে তার নিকট দোয়া প্রার্থনা করতে আদেশ করেছেন| যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র এ গুণবাচক ৯৯টি নাম মুখস্হ করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে| অন্য এক বর্ণনায় আছে, 'যে ব্যক্তি ৯৯টি গুণবাচক নাম মুখস্থ করবে এবং সর্বদা পড়বে, সে অবশ্যই বেহেশতে প্রবেশ করবে|' ---সহীহ মুসলিম

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Polytheism"Encyclopædia Britannica। Encyclopædia Britannica Online। ২০০৭। সংগৃহীত ২০০৭-০৭-০৫ 
  2. See Michaels 2004, পৃ. xiv and Gill, N.S। ""Henotheism""About, Inc। সংগৃহীত ২০০৭-০৭-০৫ 
  3. Monier-Williams 1974, পৃ. 20–37
  4. ও Bhaskarananda 1994
  5. Vivekananda 1987
  6. Werner 1994, পৃ. p37
  7. Werner 1994, পৃ. 7
  8. Monier-Williams 2001
  9. Sen Gupta 1986, পৃ. viii

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]