ঈশ্বর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে


ঈশ্বর (ইংরেজি: God[১১]) তিনি যিনি সর্বসৃজক-পালক-নিয়ামক এবং ক্ষমতার সর্বোচ্চস্থানে অবস্থানকারী কোন সর্বশক্তিময় অস্তিত্ব ।

প্রধান ধর্মাদির অনুসারী কোনো জাতির কাছে তিনি সদাপ্রভু (য়েহোভা Yahweh) [১২] কিংবা উপাস্যম (আল্লাহ্[১৩] Allah) বা সৃজক (Creator)-পালক(Survivor)-নিয়ামক(Destroyer) (ব্রহ্ম-বিষ্ণু-শিব) বা শুধুই হরি (সর্বহরক) নয়তো আমিই বা মহাশক্তিময় (আহুরামাজদা Ahuramajda) অথবা শুধুমাত্র শান্তি(ৎস) ( নিরীশ্বর বৌদ্ধ , জৈন প্রভৃতি জীবনাচারী দর্শনে ) ।

সাধারণ ধারণা[সম্পাদনা]

ঈশ্বর-বিশ্বাসী(আস্তিক)দের মননে ও অস্তিত্বে তিনি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য এ সৃষ্টিজগৎ তথা মহাবিশ্বের জীব-জড় সকলসত্ত্বার স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তা , নিয়ন্ত্রকপ্রতিপালক প্রভুঈশ্বর-বিশ্বাসীরা ঈশ্বরের প্রত্যাদিষ্ট কোনো না কোনো ধর্মশাস্ত্র অনুসরণে সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান তাঁর উপাসনা করে । বিশ্বাসীদের কাছে তিনিউপাস্যম বা উপাস্য হওয়ার এককাধিকারী । আর অনেকে জ্ঞানত বা অজ্ঞানত আপন সৃজককে অস্বীকার ক'রে নিজেদের কল্পিত উপাস্যের অকল্যাণমুখী প্রভাববলয়ে ঘুরপাক খেতে থাকে , এদেরকে বলা হয় নাস্তিক

বিভিন্নতা[সম্পাদনা]

ঈশ্বর সম্পর্কে জাতি , সমাজ , পরিবারব্যক্তি পর্যায়ে ধর্ম , ভাষাভাবনা ভেদে বহুরূপী ভিন্নতা বিদ্যমান । এ বিভিন্নতাকে ৩ ধারাভুক্ত ক'রে বিন্যস্ত করা যায় : ১.একেশ্বরমুখী , ২.সর্বেশ্বরমুখী ও ৩.অনিশ্বরমুখী

ধর্মগ্রন্থভেদে[সম্পাদনা]

সর্বশেষ প্রত্যাদিষ্ট পবিত্র কুরআন বলছে ঈশ্বর সর্বজ্ঞ আর প্রাচীন প্রার্থনাগাথা বেদ পাঠে জানা যায় তিনি সহস্রশীর্ষ

ভাষাভেদে[সম্পাদনা]

ভাষাভেদে একে ইংরেজি ভাষায় গড, আরবি ভাষায় ইলাহ এবং বাংলাসংস্কৃত ভাষায় ঈশ্বর ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয় ।

ভাবভেদে[সম্পাদনা]

একেশ্বরবাদবহুরূপবাদ বা সর্বেশ্বরবাদ ঈশ্বরবাদের প্রধান দুটি শাখা ।

একেশ্বরবাদী স্রষ্টার নৈকট্য চায় তাঁর আজ্ঞানুসরণের মাধ্যমে আর আমাদের পার্থিব চোখে নয় বরং তাঁকে শুধুমাত্র শুদ্ধ অন্তর দিয়ে অনুভব করার প্রচেষ্টায় । এমন শুদ্ধমুখী জীবনযাত্রার অজস্র উদাহরণ একেশ্বরবাদীদের জীবনে ও স্মরণে অহর্নিশ সতেজ ।

বহুরূপবাদীতায় ক্ষমতার তারতম্য অনুযায়ী একাধিক ঈশ্বর বা অনেক সময় ঐশ্বরিক সমাজে বিশ্বাস করা হয় এবং প্রতিমা প্রতিকৃতি আকারে পরোক্ষভাবে এর উপাসনা করা হয় যেন মনোদিত রূপটিই ঈশ্বর আর শুধুমাত্র একজন সার্বভৌম ঈশ্বরের ধারণাকে বলা হয় একেশ্বরবাদ


ধর্মগ্রন্থাদিতে প্রাপ্ত ঈশ্বরএর পরিচয়দায়ী ও মহিমাপ্রকাশক নাম[সম্পাদনা]

ঈশ্বরের নাম ব্যাখ্যান উৎস ধর্মগ্রন্থ উৎস ধর্মগ্রন্থীয় প্রতিশব্দ
অংশীমুক্ত যাঁর কোনো ধরণের অংশী(দার) নেই পবিত্র কুরাান
অংশীহীন যাঁর ইচ্ছেশক্তির কোনো অংশী(দার) নেই পবিত্র কুরাান
অংশুল জ্যোতির অধিকারী পবিত্র কুরাান
অংশুময়ম আলোকময়তায় সর্বোত্তম পবিত্র কুরাান
অকটু নির্ভরশীলদের প্রতি কটু নন
অকঠোর বিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর নন
অকপট সত্য প্রকাশে অকপট পবিত্র কুরাান
অকল্যাণক ঈশ্বরাজ্ঞা অমান্যকারীর অকল্যাণকারী পবিত্র কুরাান
অকল্যাণপ্রতিরোধক ঈশ্বরাজ্ঞা অনুসারীকে অকল্যাণ থেকে রক্ষাকারী পবিত্র কুরাান ৬৭:২১ আল-মানীঊ (আরবী)
অগ্রসারক বিশ্বাসীর অগ্রগতি দানকারী পবিত্র কুরাান ১৬:৬১ আল-মুক্বাাদ্বীম (আরবী)
অজন্মক যিনি কাউকে জন্ম দেন না , সৃজেন পবিত্র কুরাান ১১২:৪
অজাত ঈশ্বর কারো দ্বারা জাত হন না পবিত্র কুরাান ১১২:৪
অজেয় ঈশ্বরকে কেউ পরাজিত করতে পারে না পবিত্র কুরাান ৫৯:২৩ অাল-জব্বার
অতুল্য লৌকিক বা অলৌকিক কোনো সত্ত্বা ঈশ্বরতুল্য হতে সক্ষম নয় পবিত্র কুরাান ১১২:২৩
অধিপতি সৃজিত সর্বসত্ত্বার একক কর্তৃত্বকারী পবিত্র কুরাান ১৩:১১ , ২২:৭ আল-ওয়ালিউ
অন্ত যার পর আর কিছু নেই পবিত্র কুরাান ৫৭:৩ আল-আখির
অনিষ্টক অবিশ্বাসীর অনিষ্টকারী পবিত্র কুরাান ৬:১৭ আদ্দ্বার্রূ/আয্যর
অনুগ্রাহক বিশ্বাসীকে অনুগ্রহ দাতৃ পবিত্র কুরাান ২৭:৪০ , ৮২:৬ আল-ক্বারীম
অনুপুঙ্খহিসাবরক্ষক সৃজিত সর্বসত্ত্বাকৃত সর্বকর্মের পুঙ্খাণুপুঙ্খ হিসাবরক্ষাকারী পবিত্র কুরাান ৭২:২৮ , ৭৮:২৯ , ৮২:১০-১২ আল-মূহস্যীয়ু
অনুশোচণাগ্রাহক ঈশ্বরাজ্ঞাবিরোধীর ক্ষমাপ্রার্থণা গ্রহণকারী পবিত্র কুরাান ২:১২ আত্তাওয়াবু
অপ্রকাশ্যম পার্থিব সকলের অপ্রকাশ্য সত্ত্বা পবিত্র কুরাান ৫৭:৩ আল-বাতিন
অবনতক অবনতকারী পবিত্র কুরাান ৫৩:৬ আল-খাফিদ

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. পবিত্র কুরআন ১:১ পবিত্র গীতা ৭:২২
  2. পবিত্র গীতা ৭:২৬
  3. মুহম্মদীয় সুফিবাদী ভাববাদীদের মননে
  4. ভারতীয় দার্শনিকদের মননে
  5. ঈছায়ী ভাববাদীদের মননে
  6. গ্রীকদর্শনে
  7. ভারত্য সাংখ্যদর্শনে
  8. ঈছায়ী ভাববাদীদের মননে
  9. হিন্দুধর্মে
  10. ইসলামধর্মে
  11. পবিত্র তোড়া , আদিপুস্তক ১:১
  12. যাত্রাপুস্তক ৩:১৫
  13. পবিত্র কুরআন ১:১

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]