দাওয়াত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

দাওয়াত (দা'ওয়াহ নামেও পরিচিত  ; আরবি : دعوة‎ "আমন্ত্রণ") অর্থ ধর্মপ্রচার বা ইসলামের প্রচার । দাওয়াত এর আক্ষরিক অর্থ হল " একটা সমন জারি করা " বা "একটি আমন্ত্রণের কাজ করা ", একটা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হওয়ার কারনে বিভিন্ন অর্থ বোঝায় "ডাকা" বা আহ্বান করা , (যার ক্রিয়ামূল হচ্ছে d-ʕ-w دعو) । একজন মুসলিম যিঁনি দাওয়াতের কাজ করেন, একজন ধর্মীয় কর্মী হিসাবে বা স্বেচ্ছাসেবী সাম্প্রদায়ীক প্রচেষ্টা হিসাবে , যেভাবেই হোক তাঁকে বলা হয় একজন দাঈ , dā‘ī (داعي,বহুবচন দু'য়া , du‘āh/du‘āt ) ।

একজন দাঈ হচ্ছেন সেই ব্যাক্তি যিঁনি ইসলামকে বোঝার জন্য আমন্ত্রণ জানান সংলাপের মাধ্যমে , অনেকটা যেন ধর্মপ্রচারক (মিশনারী) দের ইসলামিক সমতুল্য , আহ্বান করছেন ইসলামিক জীবনের দৃঢ় বিশ্বাস (ঈমান), প্রার্থনা এবং সৌজন্যের (আদব-কায়দা) প্রতি ।.

.

ইসলামের প্রাথমিক যুগে[সম্পাদনা]

কুরআনে দাওয়াত শব্দটির অন্য ভাবার্থও রয়েছে । উদাহরণস্বরূপ  সূরা ( আর রুম , ৩০ : ২৫  এ ) , এটা বোঝায় কেয়ামতের দিন মৃতদেরকে পুনরুত্থানের জন্য আল্লাহর ডাক (আদেশ) । কুরআনে এটা সাধারনত  নিদেশ করে জীবিতদের প্রতি আল্লাহর আহ্বানকে , তাঁর ইচ্ছানুসারে ।একইভাবে , ইসলামের প্রথম শতকগুলোতে  যখন   ব্যাবহৃত হত , এটা প্রায়শই  নিদেশ করত ঐ আহ্বানকে , এবং কখনো কখনো  শরিয়া এবং দ্বীন এর সাথে বিনিময় করে ব্যাবহৃত হত । 

দাওয়াত কর্তব্য হিসাবেও বনিত হয়েছে তাদের প্রতি , " সক্রিয়ভাবে প্রণোদিত মুসলমান সাথীরা জীবনের সবোক্ষেত্রে আরও অধিক ধর্মনিষ্ঠা লাভের চেষ্টায় (পাওয়ার লক্ষে ) " , এই সংজ্ঞাটি , যেটা সমকালীন ইসলামী দর্শনের (প্রাথমিক যুগেের) কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছিল ।

মহানবী (সা :) এঁর যুগে[সম্পাদনা]

৬২৫ ঈসায়ীতে আল রাযী অভিযানের সময় , নবী মুহাম্মদ (সা :) অনেকগুলো আলাদা গোত্রে কিছু সাহাবা পাঠান , ধর্মপ্রচারক হিসাবে । কিছু ব্যাক্তি মুহাম্মদ (সা :)  এঁর কাছে এসে এই অনুরোধ করেন যে ,  নবী (সা :) যেন ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষকদের পাঠান , কিন্তু

তারা ঘুষ পেয়েছিল খুজাইমাহ্ এর দুই গোত্রের মাধ্যমে ।  যে আসলে বদলা নিতে চাচ্ছিল খালিদ বিন সুফিয়ানের হত্যার (বনু লাহিয়ান গোত্রের সদার ) , যাকে নবী (সা :) সাহাবারা কতল করেছিল । এই  অভিযানে ৮ জন মুসলমান ধর্মপ্রচারক (দাঈ) কে শহীদ করে দেওয়া হয়েছিল , আরেক বননায় এসেছে ১০ জন মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল ।

তারপর জুলাই ৬২৫ ঈসায়ীতে বীর মোনা অভিযানের সময় , নবী  (সা :)  বনু আমির গোত্রের কিছু ব্যাক্তির অনুরোধ পেয়ে কয়েকজন ধর্মপ্রচারককে  পাঠান , কিন্তু একই ঘটনার জের ধরে তাঁদেরকও হত্যা করা হয় (প্রতিশোধস্বরূপ )। এই অভিযানে ৭০ জন মুসলমান ধর্মপ্রচারক (দাঈ) কে শহীদ করে দেওয়া হয়েছিল ।

তারপর জানুয়ারী  ৬৩০ ঈসায়ীতে খালিদ বিন ওয়ালিদ (বনু  জাদীমাহ্ )  এঁর অভিযানের সময় , নবী (সা :)  বনু জাদীমাহ্ গোত্রকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য খালিদ বিন ওয়ালিদকে  পাঠান । এটা উল্লেখ করা হয়েছে সহীহ বুখারীর (৫:৫৯:৬২৮ ), হাদীসে ।

দাওয়াতের উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

ইসলামী ধর্মতত্ত্বে (আকিদা ) , দাওয়াতের উদ্দেশ্য হল আহ্বান করা , মুসলমান ও অমুসলমান উভয়কেই । নবী (সা :)  এঁর  কুরআন এবং হাদীসে যেভাবে বণিত হয়েছে  সেভাবেই যেন আল্লাহর আনুগত্য (ইবাদত ) কে বুঝতে পারা যায় এবং  নবী (সা :) এঁর সম্পকে তাদেরকে শুনানো ।

Footnotes[সম্পাদনা]