ইসলামের দৃষ্টিতে বিবর্তনবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বিবর্তনবাদ সম্পর্কিত ইসলামি আলোচনা বৈচিত্র্যময়, যেটি আস্তিক্যবাদী বিবর্তন থেকে শুরু করে প্রাচীন পৃথিবী সৃষ্টিবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত।[১] বিশ্বজুড়ে কিছু মুসলমান বিশ্বাস করেন যে "সময়ের সাথে সাথে মানুষ ও অন্যান্য জীবন্ত বস্তুসমূহ বিবর্তিত হয়েছে", আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে "মানুষ সর্বদা বর্তমান রূপেই বিদ্যমান ছিল।"[২] মুসলিম চিন্তাবিদগণ বিবর্তন তত্ত্বের উপাদানসমূহের প্রস্তাব ও স্বীকৃতি দিয়েছেন, কারও কারও বিশ্বাস রয়েছে ঈশ্বরের আধিপত্যের প্রক্রিয়ার ওপর। উসামা আল-আযামি সৃষ্টি এবং বিবর্তনের উভয় বর্ণনাকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন, আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা উপলব্ধ হিসেবে আধুনিক মুসলমানরা দুটি ভিন্ন ধরণের সত্যকে প্রকাশিত ও অভিজ্ঞতামূলক হিসেবে সম্বোধন করে বিশ্বাস করতে পারে।[৩] মুনির আল-আলি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, বিশ্বাসবিজ্ঞান একীভূত হতে পারে এবং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।

ইসলামের ইতিহাস বলে হাজার বছর আগেই মুসলমান বিজ্ঞানীরা, যেমন ইবনে সিনা, ইবনে খালদুন, ইবনে কাসির, ইবনে আরাবি ইত্যাদি ইখওয়ান মতবাদের চিন্তাধারার অনুসারী বিজ্ঞানীরা চার্লস ডারউইনের মতোই বিবর্তনবাদের স্বপেক্ষে যুক্তি-প্রমাণসহ একই মত পোষণ করতেন। কয়েকশো বছর আগে পর্যন্ত প্রতিটি মাদরাসামসজিদে বিবর্তনবাদ পড়ানো হতো। কিছু সংখ্যক পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা, এমনকি চার্লস ডারউইন এর সমসাময়িক বিজ্ঞানী স্যার উইলিয়াম ড্রেপার বিবর্তনবাদ তত্ত্বের নামকরণ করেছিলেন- "মোহামেডান থিওরি অফ ইভোলিউশন" (মুহাম্মাদীয় বিবর্তন তত্ত্ব)। ড্রেপার স্বীকার করেছিলেন যে, মোহামেডান থিওরি অফ ইভোলিউশন ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব থেকে উন্নততর। কারণ মুসলিম বর্ণনা অনুযায়ী বিবর্তন শুরু হয়েছিল খনিজ পদার্থ থেকে। মুসলমান বিজ্ঞানীরা তাদের দিগনির্দেশনা কুরআন থেকে পেয়েছিলেন।[৪]

ধর্মতত্ত্ব[সম্পাদনা]

বাইবেলের বিপরীতে কুরআনে সৃষ্টির বিবরণটি এক অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়নি, বরং সমগ্র কুরআনের বিভিন্ন সুরাগুলি থেকে এই সম্পর্কিত আয়াতগুলি একসাথে উদঘাটন করা যেতে পারে ।[৫]

মহাবিশ্বের সৃষ্টি[সম্পাদনা]

মুসলিম ধর্মগ্রন্থ কুরআনের সুরাতুল আম্বিয়াতে আকাশ ও পৃথিবী দুটি পৃথক হওয়ার আগের অবস্থাটি সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে যে,

"আকাশ ও পৃথিবী একটি দেহ ছিল।"[৬]

জীবনের সৃষ্টি[সম্পাদনা]

জীবনের উত্থানের বিষয়টি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানব সৃষ্টির আলোচনার সময় কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

মানুষের সৃষ্টি[সম্পাদনা]

প্রথম মানুষ আদম ও তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে কুরআনে প্রথম পুরুষ ও নারী হিসাবে উপস্থিত হয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নবম শতাব্দীর মুসলিম পণ্ডিত আল-জাহিজ কিতাবুল হাযইওয়ান (প্রাণীদের পুস্তক)-এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের বিভিন্ন দিক যেমন- প্রাণী ভ্রূণ, অভিযোজন ও প্রাণী মনোবিজ্ঞানের উল্লেখ করেছেন। আল-জাহিজেরর একটি উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ হলো শক্তিশালী ইঁদুরগুলো ক্ষুদ্র পাখির চেয়ে খাদ্যের জন্য আরও ভালো প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয়েছিল, এটি ডারউইনের আধুনিক কালের "অস্তিত্বের সংগ্রাম" তত্ত্বের অনুরূপ।[৭]

কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে[সম্পাদনা]

কুরআনে বিভিন্ন স্থানে মানুষসহ অন্যান্য জীব সৃষ্টি সম্পর্কে উল্লেখিত রয়েছে। বিবর্তনের ব্যাপার ব্যাখ্যাও পাওয়া যায় অনেক আয়াতে।[৪]

মানুষের সৃষ্টির সময়সীমা[সম্পাদনা]

"আর আমি (আল্লাহ) আপনার সৃষ্টির সূচনা করেছি (বিবর্তন) এবং তারপর আপনাকে আকার প্রদান করেছি। [কুরআন ৭:১১]

উল্লেখ্য, এখানে "সৃষ্টির সূচনা" বলতে জৈবিক বিকাশ, সহজ অর্থে বিবর্তনকে নির্দেশ করে।

লক্ষণীয় যে, এই আয়াতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কথা বলা হয় নি। সৃষ্টির শুরুর পর ধাপে ধাপে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীকে আকার-আকৃতি দেওয়া হয়েছে। এমন নয়, যে সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ তৈরি হয়ে গেল বা আকার প্রদান করা হলো। যখন তাদের আকার প্রদান করা হচ্ছিল, তখনো তারা জীবিত ছিল। এটাই ইঙ্গিত করে, যে প্রথম আদি জীবন খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ কাদামাটি থেকে শুরু হয় এবং পরবর্তীতে এটি ধীরে ধীরে বিকাশ করতে থাকে, ফলস্বরূপ আজকের আধুনিক মানুষ (Homo sapiens)-সহ অন্যান্য জীবের জন্ম হয়েছে। আর এটাই হলো বিবর্তন।[৪]

মানুষকে যে একেবারে সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি করা হয় নি, একটা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তৈরি ও বিকাশিত করা হয়েছে, নিম্নের আয়াতে তা উল্লেখ করা হয়েছে-

"[নবি মুহাম্মাদ] দেখুন! আপনার পালনকর্তা ফেরেশতাদের বললেন, অবশ্যই আমি পচা কর্দম থেকে সৃষ্ট শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে মরণশীল মানুষের সৃষ্টির সূচনা করবো। অতঃপর তাকে [ধীরে ধীরে (কারণ সময়ের কথা উল্লেখ করা হয় নি)] আকার প্রদান করবো এবং তাতে আত্মা দিব (জীবন সঞ্চার করা), তখন তোমরা (ফেরেশতা) তাকে (সৃষ্ট মানুষ) সিজদাহ্‌ করবে।"[কুরআন ১৫:২৮-২৯]

কুরআনের আরও একটি আয়াতে বলা হয়েছে-

"মানুষ কি এমন সময়ের কথা ভাবেও নি, যখন তারা উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না? প্রকৃতপক্ষে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুক্রাণুর একটি ফোঁটার সঙ্গে ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে, অতঃপর আমি তাকে শ্রবণ এবং দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন জীব করে দিয়েছি।"[কুরআন ৭৬:১-২]

মুসলিম বিবর্তনবাদীদের মতে, এই আয়াতে "উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না" বলতে সেই সময়কেই নির্দেশ করে যখন তার (Homo Sapiens) বিবর্তন হচ্ছিল, যখন মানুষ আজকের হোমো সেপিয়েন্স নয়, বরং অন্য কোনো রূপে ছিল।[৪]

মানুষের সৃষ্টি যে ধাপে ধাপে করা হয়েছিল, সেই সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে-

"অথচ তিনি (আল্লাহ) তোমাদের (মানুষ) বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন।" [কুরআন ৭১:১৪]

মৃত্তিকা থেকে মানুষের সৃষ্টি[সম্পাদনা]

কুরআনে আছে,

"এবং আল্লাহ তোমাদের (মানুষ) মৃত্তিকা থেকে [ধীরে ধীরে] উদগত করেছেন।" [কুরআন ৭১:১৭]

".......তুমি কি তাকে অস্বীকার করেছো, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে, তারপর বীর্য থেকে, অতঃপর পূর্ণাঙ্গভাবে তোমাকে মানবাকৃতিতে [তৈরি করেছেন]?" [কুরআন ১৮:৩৭]

"আমি তাদের সৃষ্টির সূচনা করেছি এবং [ধীরে ধীরে] তাদের মজবুত (শক্তি প্রদান) করেছি।" [কুরআন ৭৬:২৮]

"তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আকার দান করেছেন, অতঃপর সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি [ধীরে ধীরে]।" [কুরআন ৬৩:৩]

[৪]

আদম ও হাওয়ার সৃষ্টি[সম্পাদনা]

আদম ও হাওয়ার সৃষ্টির স্থান[সম্পাদনা]

অধিকাংশ ইব্রাহিমীয় ধর্মে উল্লেখিত রয়েছে, সৃষ্টিকর্তা আদমকে মৃত্তিকা হতে এবং হাওয়াকে (অন্য নাম হবা, ইভ) আদমের বুকের পাজড়ের হাড় থেকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আদমের সৃষ্টি পৃথিবীর মাটি থেকে হয়েছে- এই বিষয়টি কুরআনে উল্লেখ থাকলেও কোথায় হয়েছে তা নিয়ে একটি বিতর্ক রয়েছে। ইসলামের সমালোচকদের মতে, কুরআন অনুযায়ী যদি আদি মানব আদম ও হাওয়ার জীবনের প্রথমাংশ বেহেশতেই কেটে থাকে, তবে তাদের বেহেশতেই সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু কুরআনে উল্লেখিত বিবর্তনবাদ (যদি কুরআনে বিবর্তনবাদের কথা উল্লেখ থাকে, কেননা কুরআনে স্পষ্টভাবে বিবর্তনবাদের কথা উল্লেখ করা হয় নি) তার মূল তত্ত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। অর্থাৎ কুরআন বিজ্ঞান বিরোধী। অবশ্য, কুরআনেই বলা আছে, সৃষ্টি বা সৃষ্টির প্রক্রিয়ার কোনো সাক্ষী নেই। তবুও কুরআনের কিছু সংখ্যক আয়াতে আদম ও হাওয়ার সৃষ্টির স্থান সম্পর্কে কিছু সংকেত দেওয়া আছে।

"অতঃপর শয়তান তাকে (আদম) কুমন্ত্রণা দিয়ে বললো, হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দিবো অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা ও অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?" [কুরআন ২০:১২০]

কুরআনের বর্ণনা মতে বেহেশত বা জান্নাতে কোনো রোগ বা মৃত্যু নেই, যদি আদমকে বেহেশতে সৃষ্টি করা হতো, তাহলেতো তিনি এমনিতেই অমর, অবিনশ্বর হতেন, কিন্তু তিনি জানতেন তিনি একদিন মৃত্যুবরণ করবেন, যা কেবল পৃথিবীতে জন্ম নিলে বা পৃথিবীতে সৃষ্টি হলেই সম্ভব। তাহলেতো আদম ও হাওয়াকে সেই বৃক্ষের ফল খাওয়ানোর প্রয়োজনই পরতো না, কারণ বেহেশতে সৃষ্ট হলে তারা এমনিতেই অবিনশ্বর হতেন। অনেক মুসলিম বিবর্তনবিদেরা এই আয়াতের উপর ভিত্তি করেই এই বিষয়ে মত দিয়েছেন যে, আদম ও হাওয়ার সৃষ্টি ও প্রারম্ভিক জীবন পৃথিবীতেই ঘটেছে। তাহলেই কেবল আরো ভালো রাজত্বের (বেহেশত) লোভ দেখানো সম্ভব।[৪]

"এবং তোমার পিপাসাও হবে না ও রৌদ্র কষ্টও হবে না।" [কুরআন ২০:১১৯]

এর অর্থ দাড়াতে পারে যে, আদম ও হাওয়া যেখানে বসবাস করতেন সেখানে রোদ ছিল, সূর্য ছিল। সূর্য একটাই এবং সেটা সৌরজগতেই রয়েছে এবং মানুষের উৎপত্তির যুগে সৌরজগতে এই পৃথিবী ছাড়া যেহেতু বসবাসের আর কোনো গ্রহ বা স্থান ছিল না, অর্থাৎ আদম ও হাওয়ার সৃষ্টি ও প্রারম্ভিক জীবন এই পৃথিবীতেই ঘটেছিল।[৪]

হাওয়ার সৃষ্টি[সম্পাদনা]

অধিকাংশ মুসলমানই বিশ্বাস করেন, হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছে আদমের পাজড়ের হাড় থেকে। অর্থাৎ স্ত্রীদের সৃষ্টি স্বামী/পুরুষদের পাজড়ের হাড় থেকে। এই বিষয়টি বিজ্ঞান ও বিবর্তনবাদের বিরোধী, কেননা আধুনিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে এই বিষয়টি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

তবে কুরআনের কিছু বিশ্লেষকদের মতে, কুরআনে এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এটি খ্রিষ্টধর্মের মতবাদ। বাইবেলে এমন তথ্য থাকলেও কুরআনে এধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

"হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি (আরবি نفس) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তাঁর থেকে তাঁর সঙ্গী[নী]কে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী।" (কুরআন)

এখানে আরবি "نفس" (নাফ্‌স) শব্দটির বাংলা অর্থ প্রবৃত্তি এবং এটি স্ত্রীলিঙ্গ। কুরআনে বলা হয়েছে সঙ্গী[নী]কে প্রথম নাফ্‌স থেকে সৃষ্টিকরা হয়েছে কিন্তু কি প্রক্রিয়ায় (পাজড়াকাঠি থেকে কিনা) তৈরি করা হয়েছে, তা কিন্তু বলা হয়নি।[৪] এই বিষয়ে মুহম্মদ আসাদ বলেছেন–

Out of the many meanings attributable to the term nafs – soul, spirit, mind, animate being, living entity, human being, person, self (in the sense of a personal identity), humankind, life-essence, vital principle, and so forth – most of the classical commentators choose "human being", and assume that it refers here to Adam. Muhammad 'Abduh, however, rejects this interpretation (Manar IV, 323 ff.) and gives, instead, his preference to "humankind" inasmuch as this term stresses the common origin and brotherhood of the human race (which, undoubtedly, is the purport of the above verse), without, at the same time, unwarrantably tying it to the Biblical account of the creation of Adam and Eve. My rendering of nafs, in this context, as "living entity" follows the same reasoning – As regards the expression zawjaha ("its mate"), it is to be noted that, with reference to animate beings, the term zawj ("a pair", "one of a pair" or "a mate") applies to the male as well as to the female component of a pair or couple; hence, with reference to human beings, it signifies a woman's mate (husband) as well as a man's mate (wife). Abu Muslim – as quoted by Razi – interprets the phrase "He created out of it (minha) its mate" as meaning "He created its mate [i.e., its sexual counterpart] out of its own kind (min jinsiha)", thus supporting the view of Muhammad 'Abduh referred to above. The literal translation of minha as "out of it" clearly alludes, in conformity with the text, to the biological fact that both sexes have originated from "one living entity".[৮]

আদম ও ইভ (হাওয়া) নাম দুটি হিব্রু বাইবেলে আছে। হিব্রু ভাষায় আদমের অর্থ – কৃষ্ণাঙ্গ জন বা মানবজাতি ('the dark-colored one' or 'humankind') এবং ইভ অর্থ – মানুষের মাতা (mother of the people)। কিন্তু যে ইভ বা হাওয়া নামটি কুরআনের কোথাও নেই, এটি হাদিস থেকে প্রাপ্ত।[৯][৪]

"বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো, কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্মের সূচনা করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পুর্নবার সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।" [কুরআন ২৯:২০]

ডারউইনীয় বিবর্তন ও ইসলামি বিবর্তন[সম্পাদনা]

বিবর্তনবাদ শিক্ষা[সম্পাদনা]

একটি সাম্প্রতিক পিউ গবেষণা প্রকাশ করে যে, ২২ টি দেশের মধ্যে মাত্র চারটি দেশের অন্ততপক্ষে ৫০ শতাংশ মানুষ বিবর্তন প্রত্যাখ্যান করেছে। উদাহরণস্বরূপ, তুলনামূলকভাবে বৃহৎ সংখ্যক মানুষ কাজাখস্তান (৭৯%) ও লেবানন (৭৮%) মানুষের মধ্যে মানুষের বিবর্তনকে গ্রহণ করে, তবে তুলনামূলকভাবে কম আফগানিস্তান (২৬%), ইরাক (২৭%) ও পাকিস্তানে (৩০%); মোট জরিপের ১৩ টি দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ জনসংখ্যার সমীক্ষায় দেখা গেছে যারা সময়ের সাথে মানুষের বিবর্তিত বিবৃতির সাথে একমত হন। অটোমান বুদ্ধিজীবী ইসমাইল ফেনী ব্যক্তিগতভাবে ডারউইনবাদকে প্রত্যাখ্যান করলেও জোর দিয়েছিলেন যে এটি স্কুলে শেখানো উচিত। কারণ মিথ্যা তত্ত্বগুলো বিজ্ঞানের উন্নতিতে অবদান রাখে। তিনি মনে করেন যে কুরআনের ব্যাখ্যাগুলোর সংশোধনীর প্রয়োজন হতে পারে যদি ডারউইনবাদকে সত্য বলে মেনে নেয়া হয়।[১০]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ছাং, কেনেথ (২০০৯-১১-০২)। "Creationism, Without a Young Earth, Emerges in the Islamic World"দ্য নিউইয়র্ক টাইমসআইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৪-২৪ 
  2. "The World's Muslims: Religion, Politics and Society" (PDF)। পিউ রিসার্চ সেন্টার। এপ্রিল ৩০, ২০১৩। 
  3. আল-আযামি, উসামা (২০১৩-০২-১৪)। "Muslims and Evolution in the 21st Century: A Galileo Moment?"হাফিংটন পোস্ট রিলিজিয়ন ব্লগ। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  4. "বিবর্তনবাদ ও কোরান" 
  5. ডজ, ক্রিস্টিন হুদা (২০০৩)। The Everything Understanding Islam Book: A Complete and Easy to Read Guide to Muslim Beliefs, Practices, Traditions, and Culture। সাইমন অ্যান্ড শাস্টার। পৃষ্ঠা 221। আইএসবিএন 9781605505459 
  6. কুরআন ২১:৩০
  7. জার্কেল, কনওয়ে (১৯৪১)। "Natural Selection before the "Origin of Species""। প্রোসিডিংস অফ দ্য আমেরিকান ফিলোসোফিকাল সোসাইটি৮৪ (১): ৮৪–৮৫। জেস্টোর 984852 
  8. Muhammad Asad – (4:1)
  9. বিয়ন্ড দ্য এক্সোটিক: উইমেন্স হিস্টোরিস ইন ইসলামিক সোসাইটিজ – পৃষ্ঠা ৯, আমিরা এল আযহারি সনবল – ২০০৫
  10. "Science in The Qur'an" Evidence That Islam is True"। ২৪ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮