আকীদা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

আকীদা (আরবি: عقيدة‎‎, বহুবচন: আরবি: عقائد‎‎, আকা'ইদ, কখনো কখনো উচ্চারণ করা হয় আকীইদাহ, আক্বিদাহ) এটি একটি ইসলামী পরিভাষা যার অর্থ 'কিছু মূল ভিত্তির উপর বিশ্বাস'।

বিশ্বাস বা ধর্মবিশ্বাস বুঝাতে মুসলিম সমাজে সাধারণত দুটি শব্দ ব্যবহৃত হয়: ঈমান ও আকীদা। কুরআন কারীমহাদীস শরীফে সর্বদা 'ঈমান' শব্দটিই ব্যবহার করা হয়েছে। 'আকীদা' বা অন্য কোনো শব্দ কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীগণ বা মুহাম্মাদের (সা.) সাথীদের যুগে ব্যবহৃত হয় নি। দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকে তাবিয়ী (সাহাবীদের ছাত্র) ও পরবর্তী যুগের ঈমামগণ (ধর্মীয় নেতা) ধর্মবিশ্বাসের খুটিনাটি বিষয় আলোচনার জন্য 'ঈমান' ছাড়াও অন্যান্য কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেন। এসকল পরিভাষার মধ্যে রয়েছে 'আল-ফিকহুল আকবার', 'ইলমুত তাওহীদ', 'আস-সুন্নাহ', 'আশ-শরীয়াহ', 'উসূলুদ্দীন', 'আল-আক্বীদাহ' ইত্যাদি।[১] এগুলোর মধ্যে 'আকীদাহ' শব্দটিই অধিক প্রচলিত।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইসলামী আকীদার উৎস[সম্পাদনা]

ইসলামী আকীদার একমাত্র উৎস হচ্ছে ওহী। আল্লাহ্-র রাসূলের (সা.) প্রতি দু প্রকারের ওহী প্রেরিত হয়েছে : কিতাব (কুরআন) ও হিকমাহ বা সুন্নাত (হাদীস)।

কুরআনে বলা হয়েছে,

"...আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।"[কুরআন 4:113]

‘হিকমত’ শব্দটি আরবী অভিধানে একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ইমাম রাগেব বলেন, এ শব্দটি আল্লাহ্‌-র জন্য ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হয় সকল বস্তুর পূর্ণজ্ঞান ও সুদৃঢ় উদ্ভাবন। অন্যের জন্য ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হয়, বিদ্যমান বস্তুসমূহের বিশুদ্ধ জ্ঞান, সৎকর্ম, ন্যায়, সুবিচার, সত্য কথা ইত্যাদি। এই আয়াতে উল্লেখিত ‘হিকমত’ শব্দের অর্থ রাসূলের (সা.) সুন্নাহ। হিকমত অর্থ কেউ কুরআনের তাফসীর, কেউ দ্বীনের গভীর জ্ঞান, কেউ শরীআতের বিধি-বিধানের জ্ঞান, কেউ এমন বিধিবিধানের জ্ঞান অর্জন বলেছেন, যা শুধু রাসূলের (সা.) বর্ণনা থেকেই জানা যায়। কুরআন অনুসারে, রাসূলের (সা.) সুন্নাহ বা হেকমতও আল্লাহ্ তা’আলারই নাযিলকৃত। তবে পার্থক্য হল, সুন্নাহর শব্দাবলী আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। এ কারণেই তা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টিরই তথ্যসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত।[২]

কর্ম বা আমলের বিষয়ে কিয়াস বা অনুমানের উপরে নির্ভর করা যায়। কিন্তু ইসলামী বিশ্বাস গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ের উপর। মুসলিম পণ্ডিতদের মতে, এ সকল বিষয়ে মানুষ ওহীর নির্দেশনা ছাড়া কোনো সমাধান দিতে সক্ষম নয়। এক্ষেত্রে ইজতিহাদ বা গবেষণা অচল। আর ওহীর ব্যাখ্যা সেভাবেই করতে হয়, যেভাবে সাহাবী ও তাবেয়ীগণ ব্যাখ্যা করেছেন।

হাদীসের প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় যে হাদীসের মধ্যে ৫টি শর্ত পূরণ হয়েছে তাকে সহীহ হাদীস বলা হয় -

  1. হাদীসের সকল বর্ণনাকারী সৎ ও বিশ্বস্ত
  2. বর্ণনাকারীদের নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতা পূর্ণরূপে বিদ্যমান
  3. প্রত্যেক বর্ণনাকারী তার উর্ধ্বতন বর্ণনাকারী থেকে হাদীসটি স্বকর্ণে শুনেছেন বলে প্রমাণিত
  4. অন্যান্য প্রামাণ্য বর্ণনার বিপরীত নয় বলে প্রমাণিত
  5. সনদগত বা অর্থগত কোনো সুক্ষ্ম ত্রুটি নেই বলে প্রমাণিত

দ্বিতীয় শর্তে সামান্য দুর্বলতা থাকলে হাদীসটি হাসান বলে গণ্য হতে পারে। শর্তগুলোর অবর্তমানে হাদীসটি যয়ীফ বা দুর্বল অথবা মাউযূ বা বানোয়াট হাদীস বলে গণ্য হতে পারে।[১] ইসলামে দুর্বল ও বানোয়াট হাদীস আকীদা ও আমলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।

সহিহ হাদীসের প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

বর্ণনাকারীদের সংখ্যার দিক থেকে মুহাদ্দিসগণ সহীহ বা বিশুদ্ধ হাদীসকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন -

  1. যেসকল হাদীস সাহাবীগণের যুগ থেকে সংকলন পর্যন্ত সকল স্তরে অনেক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তাকে মুতাওয়াতির বা অতি প্রসিদ্ধ হাদীস বলা হয়।
  2. যেসকল হাদীস সাহাবীগণের যুগ থেকে সংকলন পর্যন্ত কোনো যুগে অল্প কয়েকজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তাকে আহাদ বা খাবারুল ওয়াহিদ হাদীস বলা হয়।

আকীদার ক্ষেত্রের মুতাওয়াতির বা অতি প্রসিদ্ধ হাদীস দ্বারা সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায়। অন্যদিকে খাবারুল ওয়াহিদ হাদীস দ্বারা সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা না গেলেও তা কার্যকর ধারণা প্রদান করে। কর্ম বিষয়ক বৈধ, অবৈধ ইত্যাদি বিধিবিধানের ক্ষেত্রে এই ধরনের হাদীসের উপরে নির্ভর করা হয়। আকীদার মূল বিষয় প্রমাণের জন্য সাধারণত এরূপ হাদীসের উপর নির্ভর করা হয় না। তবে মূল বিষয়ের ব্যাখ্যায় এর উপর নির্ভর করা হয়।

কুরআনে উল্লেখিত বা মুতাওয়াতির হাদীসের মাধ্যমে জানা কোনো বিষয় অস্বীকার করলে তা কুফরী হিসেবে গণ্য হয়। আর খাবারুল ওয়াহিদের মাধ্যমে জানা বিষয় অস্বীকার করলে তা বিভ্রান্তি হিসেবে গণ্য হয়। মুসলিমরা বিশ্বাস করে কুরআন পুরোপুরিই 'মুতাওয়াতির'ভাবে বর্ণিত। কেউ একটি শব্দকেও সমার্থক কোনো শব্দ দিয়ে পরিবর্তন করেন নি। অন্যদিকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবী তাবিয়ীগণ অর্থের দিকে বেশি লক্ষ্য রাখতেন। তারা প্রয়োজনে একটি শব্দের পরিবর্তে সমার্থক অন্য শব্দ ব্যবহার করতেন।[১]

বিশুদ্ধ হাদীসের উৎস[সম্পাদনা]

অল্প সংখ্যক মুহাদ্দিস কেবলমাত্র সহীহ হাদীস সংকলনের চেষ্টা করেন। অধিকাংশ মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও আলিম সনদসহ হাদীস উল্লেখ করলে তা সহীহ না বানোয়াট তা বলার প্রয়োজন মনে করতেন না।

আল্লামা ইবনুস সালাহ বলেন -

বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থের বাইরে সহীহ হাদীস খুঁজতে হবে মাশহুর হাদীসের গ্রন্থগুলোতে, যেমন - আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু খুযাইমা, দারাকুতনী ও অন্যান্যদের সংকলিত গ্রন্থ। তবে এ সকল গ্রন্থে যদি কোনো হাদীস উদ্ধৃত করে তাকে সুস্পষ্টত 'সহীহ' বলে উল্লেখ করা হয় তবেই তা সহীহ বলে গণ্য হবে, শুধুমাত্র এ সকল গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে বলেই হাদীসটিকে সহীহ মনে করা যাবে না। কারণ এ সকল গ্রন্থে সহীহ এবং যয়ীফ সব রকমের হাদীসই রয়েছে।

আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানী বলেন -

দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দী থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল যুগের অধিকাংশ মুহাদ্দিসের রীতি ছিল যে, সহীহ, যয়ীফ, মাউযূ, বাতিল সকল প্রকার হাদীস সনদসহ সংকলন করা। তাঁদের মূলনীতি ছিল যে, সনদ উল্লেখ করার অর্থই হাদীসটি বর্ণনার দায়ভায় বর্ণনাকারীদের উপর ছেড়ে দেয়া, সংকলকের আর কোনো দায় থাকে না।

[১]

ইলমুল কালাম[সম্পাদনা]

আল কালাম শব্দের অর্থ কথা, বাক্য, বক্তব্য, বিতর্ক (word, speech, conversation, debate) ইত্যাদি। ইলমুল কালাম বলতে মূলত ধর্মবিশ্বাসের বিষয়ে দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা ভিত্তিক আলোচনা বুঝানো হয়। দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকে মুসলিম জাতির মধ্যে গ্রীক, ভারতীয় ও পারসিক দর্শন প্রচার ও প্রসার লাভ করে। তবে সাহাবীগণের অনুসারী মূলধারার তাবিয়ীগণ ও তাঁদের অনুসারী আলিমগণ ঈমান বা আকীদার বিষয়ে বা গাইবী বিষয়ে দার্শনিক বিতর্ক কঠিনভাবে অপছন্দ করতেন।[১]

ইসলামী আকীদা বিষয়ক গ্রন্থ[সম্পাদনা]

ইসলামী আকীদা বিষয়ে প্রথম বই লেখেন ইমাম আবু হানিফা। বইটি "ফিকহুল আকবর" নামে পরিচিত।[৩] আকীদা বিষয়ে অসংখ্য বই লেখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাচীন কয়েকটি বই হল - ইমাম আহমাদ লিখিত "আস-সুন্নাহ", ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান লিখিত "আস-সুন্নাহ", ইমাম আবু জাফর ত্বহাবী লিখিত "আকীদাতু আহলিস সুন্নাহ", ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখিত "আল আক্বীদাতুল ওয়াসেত্বীয়া", ইমাম ইবনু রজাব হাম্বালী লিখিত "কিতাবুত তাওহীদ" ইত্যাদি। ইমাম ইবনে আবীল ইয আল-হানাফী ইমাম ত্বহাবীর লেখা আকীদার বইয়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যা "শারহুল আকীদা আত্-ত্বহাবীয়া" নামে পরিচিত।

বিশ্বাসের ছয়টি স্তম্ভ[সম্পাদনা]

ইসলামী দৃঢ় বিশ্বাস বা বিশ্বাসের ছয়টি স্তম্ভ এসেছে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে (আরকান আল-ঈমান)[৪]। যা সব মুসলমানদের দ্বারা গৃহীত হয়েছে। বিশ্বাসের স্তম্ভগুলো হল:

  1. আল্লাহকে বিশ্বাস
  2. ফেরেস্তাগণকে বিশ্বাস
  3. আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রেরিত কিতাবসমূহে বিশ্বাস (কুরআনসহ)
  4. আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রেরিত সকল নবী এবং রাসুলকে বিশ্বাস
  5. আখিরাত বা পরকালে বিশ্বাস
  6. তাকদীরে বিশ্বাস

কুরআনে বলা হয়েছে,

"রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।"[কুরআন 2:285]

উমার (রা.) বলেন,

একদিন আমরা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয় ..... এরপর বলল: "আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন"। তিনি বললেন: "তা হচ্ছে এই- আল্লাহ্, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও আখেরাতের উপর ঈমান আনা এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।"..... [সহীহ্ মুসলিম][৫]

আল্লাহ সম্পর্কে ইসলামী আকীদা[সম্পাদনা]

একমাত্র স্রষ্টা ও প্রতিপালক[সম্পাদনা]

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী মহাবিশ্ব আপনাআপনি সৃষ্টি হয়নি। আল্লাহই তা সৃষ্টি করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে,

"তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারাই স্রষ্টা? তারা কি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।"[কুরআন 52:35–36]

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ্ একমাত্র রব। রব (আরবি: ﺭﺏ‎‎) বলা হয় তাঁকে যিনি সৃষ্টি করেন, পরিচালনা করেন এবং মালিকানা যাঁর জন্য। কুরআনে বলা হয়েছে,

"...জেনে রাখুন, সৃষ্টি করা ও হুকুমের মালিক তিনি। বরকতময় আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক।"[কুরআন 7:54]

"তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সকল কার্য পরিচালনা করেন। তারপর তা একদিন তাঁর কাছেই উঠবে।..."[কুরআন 32:5]

"বলুন, ‘কে তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে জীবনোপকরণ সরবারহ করেন অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, জীবিতকে মৃত থেকে কে বের করেন এবং মৃতকে কে জীবিত হতে কে বের করেন এবং সব বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করেন?’ তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ্‌’। সুতরাং বলুন, ‘তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’"[কুরআন 10:31]

"...তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের প্রতিপালক। সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁরই। আর তোমরা আল্লাহ্-র পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো (যেসব উপাস্যের কাছে দুআ করো), তারা তো খেজুর আঁটির উপরে পাতলা আবরণেরও (অতি তুচ্ছ কিছুরও) মালিক নয়।"[কুরআন 35:13]

একমাত্র উপাস্য[সম্পাদনা]

মুসলিমরা আরও বিশ্বাস করে আল্লাহ্ই একমাত্র ইলাহ্ তথা সত্য উপাস্য। ইলাহ্ (আরবি: ﺍﻻﻟﻪ‎‎) অর্থ হলো: সম্মান ও বড়ত্বের কারণে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় যার উপাসনা করা হয়। আর ইবাদত বা উপাসনা সেই সব কাজকে বলা হয়, যা কোনো ইলাহ্-র সন্তুষ্টি লাভের আশায় অথবা তাঁর অসন্তুষ্টির ভয়ে করা হয়। কোনো ফেরেশতা কিংবা নবী কিংবা অন্য কেউ উপাসনার ক্ষেত্রে আল্লাহ্-র অংশীদার হতে পারে না। কুরআনে বলা হয়েছে,

" আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি অতি দয়াময়, পরম দয়ালু।"[কুরআন 2:163]

"...নিশ্চয় আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে, অবশ্যই তা বাতিল। আর নিশ্চয় আল্লাহ তো সমুচ্চ, সুমহান।"[কুরআন 22:62]

মক্কার মূর্তিপুজারিরা লাত, মানাত, উজ্জাসহ বিভিন্ন মূর্তির উপাসনা করত। এগুলোর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,

"এগুলো কেবল কতিপয় নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলীল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে।..."[কুরআন 53:23]

"আমি প্রত্যেক জাতির কাছে রসূল পাঠিয়েছি (এ নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর আর তাগুতকে বর্জন করো।..."[কুরআন 16:36]

নাম ও গুণাবলী[সম্পাদনা]

কুরআনে বলা হয়েছে,

"আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।"[কুরআন 7:180]

"...আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"[কুরআন 30:27]

আল্লাহর নাম ও গুণের ব্যাপারে মুসলিমরা যা যা করা থেকে বিরত থাকে:

  • আল্লাহ্-র নাম ও গুণ সংক্রান্ত কুরআন-হাদিসের নস্সমূহকে (স্পষ্ট দলীলসমূহকে) এর সঠিক অর্থ থেকে সরিয়ে নিয়ে এমন অর্থ করা যা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল উদ্দেশ্য করেননি।
  • আল্লাহর নাম ও গুণসমূহের কোনো একটিকেও অস্বীকার করা।
  • সৃষ্টজীব বা সৃষ্টবস্তুর গুণের সাথে সাদৃশ্য প্রদান করা। এভাবে বলা যে- ‘আল্লাহ্-র হাত মানুষের হাতের মতই বা সৃষ্টজীব যেভাবে শোনে আল্লাহ্ও সেভাবে শোনেন কিংবা আল্লাহ্ আরশের উপরে সেভাবেই বসে আছেন যেভাবে মানুষ চেয়ারে বসে…’। অথচ কুরআনে বলা হয়েছে,

    "...কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সব শোনেন, সব দেখেন।"[কুরআন 42:11]

  • আল্লাহ্-র সিফাত তথা বৈশিষ্ট্যসমূহের আকৃতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করা। অর্থাৎ কল্পনার দৌড় অনুযায়ী বা ভাষার চতুরতার আশ্রয় নিয়ে আল্লাহ্-র গুণাবলীর ধরণ নির্ধারণ করা। ইসলাম অনুসারে আল্লাহ্-র গুণাবলীর ধরণ জানা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কুরআনে বলা হয়েছে,

    "...তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারবে না।"[কুরআন 20:110]

[৬]

ফেরেশতাদের সম্পর্কে ইসলামী আকীদা[সম্পাদনা]

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে নূর বা আলো দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তারা আল্লাহর নির্দেশ পালনে রত আছেন।

"তারা আল্লাহ তা'আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।"[কুরআন 66:6]

"তারা অহঙ্কারবশতঃ তাঁর ইবাদত হতে বিমুখ হয় না এবং ক্লান্তিও বোধ করে না। তারা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, তারা ক্লান্তও হয় না।"[কুরআন 21:19–20]

হাদীস অনুসারে জিব্রাইলের দিগন্ত জুড়ানো ছয়শত ডানা রয়েছে। কয়েকজন ফেরেশতার কাজ সম্পর্কে হাদীসে জানা যায়। যেমন- অহী বহনের দায়িত্বে আছেন জিব্রাইল, শিংগায় ফুঁ দেওয়ার দায়িত্বে আছেন ইস্রাফিল, বৃষ্টি বর্ষণের দায়িত্বে আছেন মিকাইল, জাহান্নামের দায়িত্বে আছেন মালিক, মৃত্যুর দায়িত্বে আছেন মালাকুল মাউত।[৭] এছাড়াও মুসলিমরা বিশ্বাস করে প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে দুইজন করে ফেরেশতা থাকে। এ ফেরেশতাদ্বয় ব্যক্তির আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করেন।

"স্মরণ করুন! দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।"[কুরআন 50:17–18]

নবী-রসূল সম্পর্কে ইসলামী আকীদা[সম্পাদনা]

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জাতির জন্য একজন মানুষকে রাসূল (বার্তাবাহক) করে পাঠিয়েছেন। যিনি তাদেরকে এক আল্লাহর উপাসনা করার এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর উপাসনাকে অস্বীকার করতে আহ্বান জানান এবং মানুষকে সঠিকপথের সন্ধান দেন। সকল রাসূল সত্যবাদী, সত্যায়নকারী, পুণ্যবান, সঠিক পথের দিশারী ও বিশ্বস্ত। আল্লাহ তাঁদেরকে যে বাণী দিয়ে প্রেরণ করেছেন তারা তা সঠিকভাবে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। কোনো অংশ গোপন বা পরিবর্তন করেননি। কুরআনে বলা হয়েছে,

"...সুতরাং স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া ছাড়া রাসূলদের কি কোনো কর্তব্য আছে?"[কুরআন 16:35]

কিন্তু ভিন্ন রাসূলের ক্ষেত্রে বিধিবিধান ও আইন-কানুন ভিন্ন হতে পারে। এক রাসূলের উম্মত বা সম্প্রদায়ের উপর যে ইবাদাত ফরজ করা হয়েছে তা অন্য রাসূলের উম্মতের উপরে ফরজ করা হয়নি। এক রাসূলের উম্মতের উপরে যে বিষয়গুলো হারাম করা হয়েছে তা অন্য রাসূলের উম্মতের জন্য হয়তো হালাল করা হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে:

"...তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি শরীআত ও স্পষ্ট পন্থা (আইন ও পথ) এবং আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তোমাদেরকে এক উম্মত বানাতেন। কিন্তু তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা ভাল কাজে প্রতিযোগিতা কর।..."[কুরআন 5:48]

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে কেউ কোনো একজন রাসূলের রাসূলত্বকে অস্বীকার করে সে যেন সকল রাসূলকে অস্বীকার করে। কুরআনের সূরা আশ-শু'আরার ১০৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, নূহের সম্প্রদায়ের সকল রাসূলকে অস্বীকার করেছে। কিন্তু তখন পর্যন্ত নূহ ছাড়া আর কোনো রাসূল প্রেরিত হননি। কুরআন ও হাদীসে রাসূলদের মধ্যে কারো কারো নাম জানা যায়। যেমন- মুহাম্মদ, ঈসা, দাউদ, মূসা, ইব্রাহিম, নূহ। তবে সব নবী-রাসূলদের নাম ও তাদের বর্ণনা জানানো হয়নি। কুরআনে বলা হয়েছে,

"আর অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে অনেক রাসূল পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে কারো কারো কাহিনী আমি তোমার কাছে বর্ণনা করেছি আর কারো কারো কাহিনী তোমার কাছে বর্ণনা করিনি।..."[কুরআন 40:78]

সর্বশেষ নবী[সম্পাদনা]

মুসলিমরা আরও বিশ্বাস করে সর্বশেষ রাসূল হচ্ছেন মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসূল নেই। কুরআনে বলা হয়েছে,

"মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়; তবে আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। আর আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ।"[কুরআন 33:40]

হাদীসে বলা হয়েছে,

মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী (রাঃ)-কে মদীনায় নায়েব বানিয়ে তবুক যুদ্ধে বের হয়ে যাচ্ছেন। ... তাকে সান্তনা দিয়ে বলছেন, 'তুমি কি চাও না যে, হারুন যেমন মূসার নায়েব হয়েছিলেন, তুমি তেমনি আমার নায়েব হবে? তবে আমার পরে কোনো নবী নেই।'[৮]

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা অন্য নবীদের উপর শেষনবীকে (সা.) বেশ কিছু বিশেষত্ব দিয়েছেন। যেমন-

  • আল্লাহ তাআলা তাঁকে সমস্ত জিন ও মানুষের নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন। অথচ পূর্ববর্তী নবীগণ শুধু তাঁদের কওম বা জাতির নিকট প্রেরিত হত।
  • একমাসের সমপরিমাণ দূরত্বে অবস্থানরত শত্রুর অন্তরে ভয়ের সঞ্চার করার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করতেন।
  • সমস্ত জমিনকে তাঁর উম্মতের জন্য সিজদার স্থান করা হয়েছে।
  • তাঁর জন্য গণিমতের মাল খাওয়া হালাল করা হয়েছে, অথচ তাঁর পূর্বে কারো জন্য তা হালাল ছিল না।
  • মহা শাফায়াত

এগুলো ছাড়াও আরো অনেক বিশেষত্ব আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন। মুসলিমরা সত্য সংবাদের ভিত্তিতে রসূলদের ব্যাপারে যা কিছু জানা যায় সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস রাখে। আর তারা সর্বশেষ নবী মুহাম্মদের (সা.) শরিয়তের আলোকে আমল করে। কুরআনে বলা হয়েছে,

"অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজদের অন্তরে কোন দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়।"[কুরআন 4:65]

[৯]

আসমানী গ্রন্থ সম্পর্কে ইসলামী আকীদা[সম্পাদনা]

মুসলিমরা বিশ্বাস করে, আসমানী কিতাবসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে। বাস্তবে আল্লাহ তাআলা এই বাণীসমূহ দিয়ে কথা বলেছেন। এ বাণীসমূহের মধ্যে কোনোটি ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়া পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি আল্লাহর নিকট হতে শ্রবণীয়। এর মধ্যে কোনোটি ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলের নিকট পৌঁছেছে। এর মধ্যে কোনোটি আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজ হাতে লিপিবদ্ধ করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে,

"কোনো মানুষের এ মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম, পর্দার আড়াল অথবা কোন দূত পাঠানো ছাড়া। তারপর আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যা চান তাই ওহী প্রেরণ করেন। তিনি তো মহীয়ান, প্রজ্ঞাময়।"[কুরআন 42:51]

"আর অবশ্যই আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন।"[কুরআন 4:164]

তাওরাতের ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়েছে,

"আর আমি তার জন্য ফলকসমূহে লিখে দিয়েছি প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ এবং প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা।"[কুরআন 7:185]

কিতাবসমূহের মধ্যে কয়েকটির নাম কুরআনে বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- কুরআন, তওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর, সহিফায়ে ইব্রাহিম ও সহিফায়ে মূসা। কুরআনে আল্লাহ তাঁর রসূলকে (স.) বলতে বলেছেন,

"বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি।"[কুরআন 42:15]

মুসলিমরা এ কিতাবসমূহে উল্লেখিত যে সংবাদগুলো বিশুদ্ধভাবে জানা গেছে সেগুলো বিশ্বাস করে। যেমন- কুরআনের সংবাদসমূহ। অনুরূপভাবে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের যে সংবাদগুলোতে পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটেনি সে সংবাদসমূহের প্রতি ঈমান আনে। [১০]

সত্যায়নকারী কিতাব[সম্পাদনা]

মুসলিমদের বিশ্বাস অনুসারে, কুরআন এর পূর্বের কিতাবসমূহের সত্য বিষয়গুলোর সত্যায়ন করে, ঐ কিতাবগুলোতে যেসব বিকৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে কুরআন সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে,

"আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যথাযথভাবে, এর পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী ও এর উপর তদারককারীরূপে।..."[কুরআন 5:48]

তাকদীর সম্পর্কে ইসলামী আকীদা[সম্পাদনা]

এ মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটবে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর পূর্বজ্ঞান ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী সেসব কিছু নির্ধারণ করে রাখাকে তাকদীর বলা হয়। মুসলিমরা বিশ্বাস করে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে জানেন এবং তিনি লওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রেখেছেন।

এ বিষয়ে কুরআনে বলা হয়েছে,

"তুমি কি জানো না যে, আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয় তা একটি কিতাবে রয়েছে। অবশ্যই এটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।"[কুরআন 22:70]

হাদিসে বলা হয়েছে,

"আল্লাহ তা'আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন।"[১১]

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে,

"আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন কলম, তিনি বলেন: লেখ। সে বলল: হে আমার রব, কি লিখব? তিনি বলেন: কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক জিনিসের তাকদির লিখ"[১২]

মুসলিরা আরও বিশ্বাস করে, কোনো কিছুই আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে ঘটে না।

কুরআনে বলা হয়েছে,

"আর তোমার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন, তাদের কোনো এখতিয়ার নাই।..."[কুরআন 28:68]

"এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা সেটাই করেন"[কুরআন 14:27]

বান্দার কর্ম সম্পর্কে বলা হয়েছে,

"...এবং তোমার রব যদি চাইতেন, তবে তারা তা করত না।..."[কুরআন 6:112]

ইসলাম অনুসারে, সবকিছুর জাত-বৈশিষ্ট্য আল্লাহর-ই সৃষ্টি। কুরআনে বলা হয়েছে,

"আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক।"[কুরআন 39:62]

"তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে যথোচিত আকৃতি দান করেছেন।"[কুরআন 25:2]

নবী ইব্রাহিম সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি তাঁর জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন,

"অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন?"[কুরআন 37:96]

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, তাকদিরে বিশ্বাস জীবের ইচ্ছাশক্তি থাকা ও ক্ষমতা থাকার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কুরআনে বলা হয়েছে,

"ঐ দিনটি সত্য। অতএব যে চায়, সে তার রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করুক।"[কুরআন 78:39]

"নিশ্চয় আমি তাকে পথ নির্দেশ দিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে"[কুরআন 76:3]

মানুষের সক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে,

"অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহ্কে ভয় করো..."[কুরআন 64:16]

মানুষের ইচ্ছায় সাধিত কর্ম যেমন- হাঁটা এবং অনিচ্ছায় সাধিত কর্ম যেমন- রোগীর কাঁপুনি এদুটোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে ইসলামে মানুষের ইচ্ছা ও ক্ষমতা আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার অনুবর্তী। কুরআনে বলা হয়েছে,

"আর তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন।"[কুরআন 81:29]

[১৩]

আখিরাত/পরকাল সম্পর্কে ইসলামী আকীদা[সম্পাদনা]

মুসলিমরা বিশ্বাস করে, পার্থিব জীবন শেষ হয়ে মৃত্যু ও কবর জীবনের মাধ্যমে অন্য জগত শুরু হবে। একসময় কিয়ামত সংঘটিত হবে, তারপর পুনরুত্থান, হাশর, নাশর ও হিসাব-নিকাশের পর ফলাফল প্রাপ্ত হয়ে জান্নাতীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাবে।

কবর[সম্পাদনা]

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর তাকে তার রব, দীন ও নবী মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন করা হবে। মানুষ তাদের কর্ম অনুসারে কবরে শাস্তি বা শান্তি ভোগ করবে।[১৪] মৃত ব্যক্তি কবর জীবনের শাস্তি অথবা শান্তি প্রাপ্ত হবে, যদিও তাকে ভূগর্ভস্থ করা না হয়।

কিয়ামতের পুর্বাভাস[সম্পাদনা]

ইসলাম অনুসারে কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের পূর্বে এর পুর্বাভাস বা আলামত প্রকাশ পাবে। আলেমগণ এ আলামতগুলোকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন:

1. ছোট আলামত: ছোট পুর্বাভাসগুলোর মধ্যে রয়েছে - ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা বেড়ে যাবে, বড় বড় অট্টালিকা নিয়ে রাখালদের গর্ব করা, নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, অধিক হত্যা হওয়া, ব্যভিচার ও অন্যায় কাজ অধিক মাত্রায় হওয়া, নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারদের আত্মপ্রকাশ, ইউফ্রেটিস নদী থেকে স্বর্ণের পাহাড় আবিষ্কৃত হওয়া ইত্যাদি।

2. বড় আলামত: যা কিয়ামতের পূর্ব মূহুর্তে সংঘটিত হবে। এমন বড় পুর্বাভাস দশটি। যেগুলো এখনো প্রকাশিত হয় নি। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে কিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদী ও দাজ্জালের আগমন ঘটবে। ঈসা আ. আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। তিনি খৃষ্টানদের ক্রুশ ভেঙ্গে দিবেন, দাজ্জাল ও শুকর হত্যা করবেন। জিযিয়া করের আইন রহিত করবেন। ইসলামী শরী‘আত অনুসারে বিচার পরিচালনা করবেন। একসময় ইয়াজুজ-মাজুজ বের হবে। তাদের ধ্বংসের জন্য তিনি দুআ করবেন, অতঃপর তারা মারা যাবে। তিনটি বড় ভূমিকম্প হবে। পূর্বে একটি, পশ্চিমে একটি, জাযিরাতুল আরবে একটি। আকাশ থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়া নেমে এসে সকল মানুষকে ঢেকে নিবে। পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হবে। এক অদ্ভুত চতুস্পদ জন্তু বের হবে। ইয়ামানের আদন থেকে ভয়ানক আগুন বের হয়ে মানুষদের শামের দিকে নিয়ে আসবে। বর্ণিত আছে যে, এ নিদর্শনগুলো পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হবে। এ দশটি নিদর্শন সংঘটিত হওয়ার পর পরই আল্লাহর আদেশে কিয়ামত সংঘটিত হবে।[১৫]

কিয়ামত, হাশর, হাউয[সম্পাদনা]

ইসলামী আকীদা অনুসারে, ইসরাফীল (আ.) শিঙ্গায় ফুৎকার দিলে কিয়ামত হবে, অর্থাৎ বিশ্বজগৎ ধ্বংস হবে। প্রথম ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহ যা জীবিত রাখবেন তাছাড়া সকল সৃষ্টজীব মারা যাবে। দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথেই পৃথিবী সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত সৃষ্টজীবের আর্বিভাব হয়েছিল, তারা সকলেই জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে।[১৬] এরপর তাদের হিসাব-নিকাশের জন্য ময়দানে একত্রিত করা হবে। এই একত্রিত করাকে হাশর বলা হয়।

কুরআনে বলা হয়েছে,

"সে বলে, কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো গলে পচে যাবে? বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্ব প্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে অবগত।"[কুরআন 36:78–79]

ময়দানে অবস্থানকালে সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে। এ উত্তপ্ত ও কঠিন অবস্থান দীর্ঘ হওয়ায় শরীর থেকে নির্গত ঘামে হাবু-ডুবু খাবে, কারো ঘাম পায়ের দু গিরা পর্যন্ত, কারো দু হাটু পর্যন্ত, কারো মাজা পর্যন্ত, কারো বক্ষ পর্যন্ত, কারো দু কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছবে। আর কেউ-সম্পূর্ণভাবে হাবুডুবু খাবে, এসব হলো তাদের (ভালো-মন্দ) কর্ম অনুপাতে।[১৭]

হাউয হলো এমন এক বিরাট পানির ধারা যা আল্লাহ্ আমাদের নবীকে (সা.) হাশরের মাঠে দান করেছেন। নবীর (সা.) হাউযের পানি দুধের চেয়ে সাদা, বরফের চেয়ে ঠাণ্ডা, মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি। মিশকের চেয়ে সুগন্ধি, যা সুপ্রশস্ত, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান, এর প্রতিটি প্রান্তের আয়তন এক মাসের পথের সমান। এতে জান্নাত থেকে প্রবাহিত দু’টি নালা রয়েছে। আর এর পান-পাত্র আকাশের তারকারাজির চাইতে অধিক। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পানি পান করবে, সে আর কখনও পিপাসার্ত হবে না।[২]

শাফায়াত[সম্পাদনা]

মানুষ বিচার দিবসের ভয়াবহ বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে তাদের রবের নিকট সুপারিশ পেশ করার চেষ্টা করবে। এসময় রাসূলুল্লাহ (সা.) সাজদাহ করবেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর মর্যাদা বর্ণনা করবেন। তারপর তিনি তাঁর রবের নিকট সুপারিশ করার অনুমতি চাইবেন। আল্লাহ তা‘আলা তাকে অনুমতি দিবেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) (তাদের জন্য) সুপারিশ করবেন। কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা করা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হবে। নবী-রাসুল, ফেরেশতা ও নেককার ব্যক্তিরা সুপারিশ করার অনুমতি পাবে। কুরআনসিয়াম সুপারিশ করবে বলেও হাদিসে উল্লেখ আছে। যে ব্যক্তিদের প্রতি স্বয়ং আল্লাহ সন্তুষ্ট রয়েছেন, তাদের ছাড়া অন্য কারো জন্য কেউ সুপারিশ করবে না[১৮]

বিচার, মীযান[সম্পাদনা]

কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর উম্মাতের। সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে আর মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম রক্তপাতের ফায়সালা করা হবে।

আল্লাহ বিচার দিবসে মীযান স্থাপন করবেন, বান্দাদের আমল মাপার ও তাদের কর্মের প্রতিদান প্রদানের জন্য।[১৯] এর দুটি পাল্লা ও রশি রয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে,

"আর সেদিন পরিমাপ হবে যথাযথ। সুতরাং যাদের পাল্লা ভারি হবে তারাই হবে সফলকাম। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই হবে সেই সব লোক, যারা নিজদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি (অস্বীকার করার মাধ্যমে) যুলম করত।"[কুরআন 7:8–9]

পুলসিরাত[সম্পাদনা]

মুসলিমরা পুলসিরাতে বিশ্বাস করে। আর তা হলো জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুল, যা ভয়-ভীতি সন্ত্রস্ত পথ। এর উপর দিয়ে মানুষ জান্নাতের দিকে অতিক্রম করবে। কেউ অতি দ্রুত অতিক্রম করবে আবার কেউ অনেক ধীর গতিতে। সকলেই অতিক্রম করবে তাদের কর্মের ফলাফল অনুপাতে। পুলসিরাতের দুই ধারে হুকের মত কন্টক থাকবে, এর সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা। পুলসিরাত হবে তরবারীর চেয়ে ধারালো, আর চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম ও পিচ্ছিল জাতীয়। এতে আল্লাহ যাদের পা স্থির রাখবেন, শুধুমাত্র তাদেরই পা স্থির থাকবে, আর তা অন্ধকারে স্থাপিত হবে। জাহান্নামীদেরকে থাবা মেরে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি পুল সিরাত অতিক্রম করতে পারবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সর্বপ্রথম নবী মুহাম্মাদ (সা.) অতঃপর তাঁর উম্মাত পুলসিরাত পাড়ি দিবেন। আর সেদিন একমাত্র রাসূলগণ কথা বলবেন। রাসূলদের (আ.) কথা হবে, "হে আল্লাহ মুক্তি দাও, মুক্তি দাও"।[১৫]

কানত্বারাহ্[সম্পাদনা]

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, মুমিনেরা পুলসিরাত অতিক্রম করে কানত্বারাতে অবস্থান করবে। আর তা (কানত্বারাহ্) হলো জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থান। এখানে জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে একে অপরের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যে দাঁড় করানো হবে। অতঃপর তাদের পরিশুদ্ধির পর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।[১৫]

জান্নাত, জাহান্নাম[সম্পাদনা]

মুসলিমরা বিশ্বাস করে জান্নাতজাহান্নাম সত্য এবং এ দুটি বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে, আর তা সর্বদা থাকবে। জান্নাতবাসীদের নি‘আমত শেষ হবে না, অনুরূপ জাহান্নামীদের মধ্যে যার ব্যাপারে আল্লাহ চিরস্থায়ী শাস্তির ফায়সালা করেছেন তার শাস্তি কখনও বিরত ও শেষ হবে না।

ইসলাম অনুসারে, জান্নাত হলো অতিথিশালা, যা আল্লাহ মুত্তাকীদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন। সেখানে রয়েছে প্রবাহিত নদী, সুউচ্চ কক্ষ, মনোলোভা রমণীগণ। আরো রয়েছে এমন সব সামগ্রী যা কোনো দিন কোনো চক্ষু দেখে নি, কোনো কর্ণ শ্রবণ করে নি, আর কোনো মানুষের অন্তরেও কোনো দিন কল্পনায় আসে নি। জান্নাতের চাবুক সমতুল্য জায়গা দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম। আর জান্নাতের সুগন্ধি চল্লিশ বৎসর দূরত্বের রাস্তা থেকে পাওয়া যাবে। জান্নাতে মুমিনদের জন্য সব চাইতে বড় নি‘আমত হলো আল্লাহকে সরাসরি স্বচক্ষে দর্শন লাভ করা। জাহান্নামীরা আল্লাহর দর্শনলাভ থেকে বঞ্চিত হবে। আর জান্নাতে একশতটি ধাপ রয়েছে, এক ধাপ থেকে অপর ধাপের দূরত্ব আসমান থেকে জমিনের দূরত্ব অনুরূপ। আর সবচেয়ে উন্নত ও উত্তম জান্নাত হল, জান্নাতুল ফিরদাউস আল-আ‘লা। এর ছাদ হলো আল্লাহর ‘আরশ। আর জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে, প্রত্যেক দরজার পার্শ্বের দৈর্ঘ্য ‘মক্কা’ থেকে ‘হাজর’ এর দূরত্বের সমান। আর এমন দিন আসবে যে দিনে তা ভীড়ে পরিপূর্ণ হবে, আর জান্নাতে নূন্যতম মর্যাদার অধিকারী যে হবে তার জন্য দুনিয়া ও আরো দশ দুনিয়ার পরিমাণ জায়গা হবে।

আর জাহান্নাম হল শাস্তির ঘর যা আল্লাহ কাফির ও অবাধ্যদের জন্য তৈরি করে রেখেছেন। তার পাহারাদার হবে নিষ্ঠুর ও নির্দয় ফিরিশতারা। কাফিরদের খাদ্য হবে যাক্কুম (কাঁটাযুক্ত) আর পানীয় হবে পুঁজ, দুনিয়ার আগুনের তুলনায় ৭০ গুণ তাপমাত্রার আগুনে তাদের শাস্তি দেয়া হবে। জাহান্নামের সাতটি দরজা হবে। [১৫]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "প্রথম অধ্যায় : পরিচিতি, উৎস ও গুরুত্ব"। কুরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স। ২০০৭। 
  2. কুরআনুল কারীম (অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর)। কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স। পৃষ্ঠা ১২৪, ৪৭৯, ২৯০০–২৯০১। 
  3. Glasse, Cyril (2001).New Encyclopedia of Islam (Revised Edition ed.). Rowman & Littlefield Publishers. p.105.
  4. Joel Beversluis (ed.) Sourcebook of the World's Religions: An Interfaith Guide to Religion and .... New World Library. pp.68–90
  5. "৪০ হাদিস, ২"ihadis.com 
  6. "আল্লাহর প্রতি ঈমান"islamqa.info 
  7. "ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান"islamqa.info 
  8. "হাদিস সম্ভার, আন্তরিক কর্মাবলী অধ্যায়, ৩৮০"ihadis.com 
  9. "রাসূলদের প্রতি ঈমান"islamqa.info 
  10. "আসমানী কিতাবের প্রতি ঈমান"islamqa.info 
  11. "সহিহ মুসলিম, তাকদীর, ৬৬৪১"ihadis.com 
  12. "সহিহ হাদিসে কুদসি ১২৩"ihadis.com 
  13. "তাকদীরের প্রতি ঈমান"islamqa.info 
  14. "মিশকাতুল মাসাবিহ, ১৩১"ihadis.com 
  15. "পঞ্চম রুকন : শেষ দিবসের ওপর ঈমান"। ঈমানের রুকনসমূহ। ইসলাম হাউজ। ২০০৬। 
  16. কুরআন 39:68
  17. "রিয়াদুস সলেহিন, ৪০৭"ihadis.com 
  18. কুরআন 21:28
  19. কুরআন 21:47