সক্রেটিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সক্রেটিস
Socrates.png
যুগপ্রাচীন দর্শন
অঞ্চলপশ্চিমি দর্শন
ধারাচিরায়ত গ্রিক, সক্রেটীয় ধারা
প্রধান আগ্রহ
epistemology, নৈতিকতা
উল্লেখযোগ্য অবদান
সক্রেটীয় পদ্ধতি, Socratic irony
ভাবশিষ্য

সক্রেটিস (প্রাচীন গ্রিক ভাষায় Σωκράτης সক্রাত্যাস্‌) (৪৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক। এই মহান দার্শনিকের সম্পর্কে তথ্য লিখিতভাবে পাওয়া যায় কেবলমাত্র তাঁর শিষ্য প্লেটোর ডায়ালগ এবং সৈনিক জেনোফনের রচনা থেকে। তৎকালীন শাসকদের কোপানলে পড়ে তাঁকে হেমলক বিষ পানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাকে পশ্চিমি দর্শনের ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারার জন্ম দিয়েছেন যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। সক্রেটিস ছিলেন এক মহান সাধারণ শিক্ষক, যিনি কেবল শিষ্য গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানে বিশ্বাসী ছিলেন না। তার কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষায়তন ছিলনা। যেখানেই যাকে পেতেন তাকেই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর বোঝানোর চেষ্টা করতেন। তিনি মানব চেতনায় আমাদের ইচ্ছাকে নিন্দা করেছেন, কিন্তু সৌন্দর্য দ্বারা নিজেও আনন্দিত হয়েছেন।

জীবনী[সম্পাদনা]

জীবন ও কর্ম[সম্পাদনা]

সক্রেটিসের জীবনের বিস্তৃত সূত্র হিসেবে বর্তমানকালে তিনটি উৎসের উল্লেখ করা যেতে পারে: প্লেটোর ডায়ালগসমূহ, এরিস্টোফেনিসের নাটকসমূহ এবং জেনোফেনোর ডায়ালগসমূহ। সক্রেটিস নিজে কিছু লিখেছেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরিস্টোফেনিসের নাটক দ্য ক্লাউডে সক্রেটিসকে দেখানো হয়েছে একজন ভাঁড় হিসেবে যে তার ছাত্রদের শিক্ষা দেয় কীভাবে ঋণের দায় থেকে বুদ্ধি খাটিয়ে মুক্তি পাওয়া যায়। এরিস্টোফেনিসের অধিকাংশ রচনাই যেহেতু ব্যঙ্গাত্মক ছিল সেহেতু এই রচনায় সক্রেটিসকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য নয়।

প্লেটোর বর্ণনামতে সক্রেটিসের বাবার নাম সফ্রোনিস্কাস এবং মায়ের নাম ফিনারিটি যিনি একজন ধাত্রী ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম জানথিপি যার বয়স ছিল সক্রেটিসের থেকে অনেক কম। সংসার জীবনে তাঁদের তিন পুত্রসন্তানের জন্ম হয় যাঁদের নাম ছিল লামপ্রোক্লিস, সফ্রোনিস্কাস এবং মেনেজেনাস। সক্রেটিস তাঁর শাস্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বে পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। এর পর নিজ পুত্রদের ত্যাগ করার জন্য সক্রেটিসের বন্ধু ক্রিটো তার সমালোচনা করেছিলেন। সক্রেটিসের জন্ম ৪৭০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিসের এথেন্স নগরীতে এলোপাকি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

ইন্দ্রিয়গত আমোদের কবল থেকে আলসিবিয়াডিসকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সক্রেটিস। ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে জ্যাঁ-ব্যাপ্টিস্ট রেনোঁ কর্তৃক অঙ্কিত চিত্র।

তিনি ঠিক কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন তা পরিষ্কার নয়। ফিলাসের টিমোন এবং পরবর্তী আরো কিছু উৎস অনুসারে প্রথম জীবনে তিনি তাঁর বাবার পেশা অবলম্বন করেছিলেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন ভাস্কর। সে হিসেবে তাঁর প্রথম জীবন কেটেছে ভাস্করের কাজ করে। প্রাচীনকালে অনেকেই মনে করত গ্রিসের অ্যাক্রোপলিসে দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত বিরাজমান ঈশ্বরের করুণা চিহ্নিতকারী মূর্তিগুলো সক্রেটিসের হাতে তৈরি। অবশ্য বর্তমান কালের বুদ্ধিজীবীরা এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ খুঁজে পাননি।[১] অপরদিকে সক্রেটিস কোনো পেশা অবলম্বন করেননি এমন প্রমাণও রয়েছে। জেনোফোন রচিত সিম্পোজিয়ামে সক্রেটিসকে বলতে শোনা যায়, তিনি কখনো কোনো পেশা অবলম্বন করবেননা, কারণ তিনি ঠিক তা-ই করবেন যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আর তা হচ্ছে দর্শন সম্বন্ধে আলোচনা। এরিস্টোফেনিসের বর্ণনায় দেখা যায় সক্রেটিস শিক্ষার বিনিময়ে অর্থ নিতেন এবং গ্রিসের চেরিফোনে একটি সোফিস্ট বিদ্যালয়ও পরিচালনা করতেন। তার দ্য ক্লাউডস্‌ রচনায় এই ভাষ্য পাওয়া গিয়েছে। আবার প্লেটোর অ্যাপোলজি এবং জেনোফোনের সিম্পোজিয়ামে দেখা যায় সক্রেটিস কখনোই শিক্ষার বিনিময়ে অর্থ নেননি। বরঞ্চ তিনি তার দারিদ্র্যের দিকে নির্দেশ করেই প্রমাণ দিতেন যে, তিনি কোনো পেশাদার শিক্ষক নন। তাকে বলতে শোনা যায়:

প্লেটোর ডায়ালগগুলোর বিভিন্ন স্থানে লেখা হয়েছে যে, সক্রেটিস কোনো এক সময় সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। প্লেটোর বর্ণনায় সক্রেটিস বলেন, তিনি তিন তিনটি অভিযানে এথেনীয় সেনাবাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছেন। এই অভিযানগুলো সংঘটিত হয়েছিল যখাক্রমে পটিডিয়া, অ্যাম্‌ফিপোলিস এবং ডেলিয়ামে। সিম্পোজিয়ামে আলসিবিয়াডিস নামক চরিত্র বর্ণনা করে পটিডিয়া এবং ডেলিয়ামের যুদ্ধে সক্রেটিসের বীরত্বের কথা এবং এর আগের যুদ্ধে তিনি কিভাবে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন সেকথা। ডেলিয়ামের যুদ্ধে তাঁর অসাধারণ অবদানের কথা লাকিস নামক রচনাতেও বর্ণীত হয়েছে। মাঝেমধ্যেই সক্রেটিস বিচারালয়ের সমস্যাকে যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন একজন বিচারক দর্শন থেকে সরে আসবেন কী-না তা ভেবে দেখা তেমনই প্রয়োজন যেমন উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করবে কী-না তা একজন সৈন্যের ভেবে দেখা প্রয়োজন।

সক্রেটিস দেখতে মোটেও সুদর্শন ছিলেননা। টাকবিশিষ্ট মাথা, চ্যাপ্টা অবনত নাক, ছোটো ছোটো চোখ, স্ফীত উদর এবং অস্বাভাবিক গতিভঙ্গির সমন্বয়ে গঠিত ছিল তার সামগ্রিক চেহারা। দেহের শ্রী তেমন না-থাকলেও তার রসবোধ ছিল প্রখর। রঙ্গ করে প্রায়শই বলতেন: "নাসারন্ধ্রটি বড়ো হওয়ায় ঘ্রাণ নেওয়ার বিশেষ সুবিধা হয়েছে; নাকটি বেশি চ্যাপ্টা হওয়াতে দৃষ্টি কোথাও বাধা পায়না।" কথাবার্তা ও আচার-আচরণে তিনি ছিলেন মধুর ব্যক্তি। তাই যে-ই তার সঙ্গে কথা বলত সে-ই তার কথাবার্তা ও চরিত্রসৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যেতো। অধিকাংশের বর্ণনামতেই তিনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রদান করতেননা। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারই ছিল তার শিক্ষায়তন। দর্শন অনুশীলন করতে গিয়ে সংসার ও জীবিকা সম্পর্কে খুবই উদাসীন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এ কারণে শেষ জীবনে তাঁর পুরো পরিবারকেই দারিদ্র্য ও অনাহারের মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়। বেশির ভাগ সময়েই তিনি তাঁর শিষ্যদের বাড়িতে পানাহার করতেন। স্ত্রী জানথিপির কাছে তিনি ছিলেন অবজ্ঞার পাত্র। জানথিপি প্রায়ই বলতেন, তার নিষ্কর্মা স্বামী পরিবারের জন্য সৌভাগ্য না-এনে দুঃখ কষ্টই এনেছেন বেশি। তবে বাইরে বাইরে যতই তিক্ততা থাকুক অন্তরের অন্তস্থলে স্বামীর জন্য ভালোবাসা ছিল জানথিপির। সক্রেটিসের মৃত্যুতে তিনি যেভাবে শোক প্রকাশ করছেন তা থেকেই এই ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যায়।[২]

উৎস এবং সক্রেটিক সমস্যা[সম্পাদনা]

সক্রেটিস তার শিক্ষা নথিভুক্ত করেননি। আমরা তাঁর সম্পর্কে যা জানি তা অন্যদের বিবরণ থেকে আসে: প্রধানত দার্শনিক প্লেটো এবং ঐতিহাসিক জেনোফোন, যারা উভয়েই তাঁর ছাত্র ছিলেন; এথেনীয় কমিক নাট্যকার অ্যারিস্টোফেনেস (সক্রেটিসের সমসাময়িক); এবং প্লেটোর ছাত্র অ্যারিস্টটল, যিনি সক্রেটিসের মৃত্যুর পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই প্রাচীন বিবরণগুলি থেকে প্রায়শই পরস্পরবিরোধী গল্পগুলি শুধুমাত্র পণ্ডিতদের সক্রেটিসের সত্যিকারের চিন্তাগুলিকে নির্ভরযোগ্যভাবে পুনর্গঠনের ক্ষমতাকে জটিল করে তোলে, যা সক্রেটিক সমস্যা হিসাবে পরিচিত।[৩] প্লেটো, জেনোফোন এবং অন্যান্য লেখকদের কাজ যারা সক্রেটিসের চরিত্রটিকে একটি অনুসন্ধানী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, সক্রেটিস এবং তার কথোপকথনের মধ্যে একটি কথোপকথনের আকারে রচিত এবং সক্রেটিসের জীবন ও চিন্তার তথ্যের মূল উৎস প্রদান করে। সক্রেটিক সংলাপ (লোগোস সোক্র্যাটিকোস) এই নবগঠিত সাহিত্য ধারাকে বর্ণনা করার জন্য অ্যারিস্টটল দ্বারা উদ্ভাবিত একটি শব্দ। যদিও তাদের রচনার সঠিক তারিখ অজানা, কিছু সম্ভবত সক্রেটিসের মৃত্যুর পরে লেখা হয়েছিল। অ্যারিস্টটল যেমন প্রথম উল্লেখ করেছিলেন, সংলাপগুলি সক্রেটিসকে কতটা প্রামাণিকভাবে চিত্রিত করেছে তা কিছু বিতর্কের বিষয়।

প্লেটো এবং জেনোফোন[সম্পাদনা]

একজন সৎ মানুষ, জেনোফোন প্রশিক্ষিত দার্শনিক ছিলেন না। তিনি সক্রেটিসের যুক্তিকে ধারণা বা ব্যাখ্যা করতে পারেননি। যুদ্ধক্ষেত্রে তার বুদ্ধিমত্তা, দেশপ্রেম এবং সাহসের জন্য তিনি সক্রেটিসের প্রশংসা করেছিলেন। তিনি চারটি রচনায় সক্রেটিস নিয়ে আলোচনা করেছেন: মেমোরাবিলিয়া, দ্য ইকোনমিকাস, সিম্পোজিয়াম এবং সক্রেটিসের ক্ষমা। তিনি তার অ্যানাবাসিস-এ সক্রেটিসকে সমন্বিত একটি গল্প উল্লেখ করেছেন। অইকোনমিকাস ব্যবহারিক কৃষি বিষয়ক আলোচনার বর্ণনা দেয়।[৪] প্লেটোর এপোলজির মতো, জেনোফোনের এপোলজিয়া সক্রেটিসের বিচারের বর্ণনা দেয়, কিন্তু কাজগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়ে যায় এবং ডব্লিউ কে সি গুথরির মতে, জেনোফোনের বিবরণ সক্রেটিসকে "অসহনীয় ধোঁয়া ও আত্মতুষ্টি" চিত্রিত করে।[৫] সিম্পোজিয়াম হল ডিনার-পরবর্তী আলোচনার সময় অন্যান্য বিশিষ্ট এথেনিয়ানদের সাথে সক্রেটিসের একটি কথোপকথন, কিন্তু প্লেটোর সিম্পোজিয়াম থেকে একেবারেই আলাদা: অতিথি তালিকায় কোন ওভারল্যাপ নেই, এবং দেবতাদের বিরুদ্ধে;[৬] মূলত, এটি সক্রেটিসের জন্য একটি নতুন ক্ষমা প্রার্থনার জন্য একত্রিত বিভিন্ন গল্পের একটি সংগ্রহ।[৭]

প্লেটোর সক্রেটিসের প্রতিনিধিত্ব সহজবোধ্য নয়।[৮] প্লেটো সক্রেটিসের একজন ছাত্র ছিলেন এবং পাঁচ দশক ধরে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন।[৯] সক্রেটিসের গুণাবলী উপস্থাপনে প্লেটো কতটা বিশ্বস্ত তা বিতর্কের বিষয়; তিনি সক্রেটিসের নিজস্ব মতামত ব্যতীত অন্য কোন মতের প্রতিনিধিত্ব করেননি এমন দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সমসাময়িক পণ্ডিতদের দ্বারা শেয়ার করা হয়নি।[১০] এই সন্দেহের চালক হল সক্রেটিসের চরিত্রের অসঙ্গতি যা তিনি উপস্থাপন করেছেন।[১১] এই অসামঞ্জস্যতার একটি সাধারণ ব্যাখ্যা হল যে প্লেটো প্রাথমিকভাবে ঐতিহাসিক সক্রেটিসকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন, পরে তার লেখায় তিনি সক্রেটিসের কথায় তার নিজস্ব মতামত সন্নিবেশিত করতে পেরে খুশি ছিলেন। এই বোঝাপড়ার অধীনে, প্লেটোর আগের রচনাগুলির সক্রেটিক সক্রেটিস এবং প্লেটোর পরবর্তী লেখাগুলির প্লেটোনিক সক্রেটিসগুলির মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে, যদিও উভয়ের মধ্যে সীমানাটি অস্পষ্ট বলে মনে হয়।[১২]

জেনোফোন এবং প্লেটোর বিবরণ ব্যক্তি হিসাবে সক্রেটিসের উপস্থাপনায় ভিন্ন। জেনোফোনের সক্রেটিস প্লেটোর চেয়ে নিস্তেজ, কম হাস্যকর এবং কম বিদ্রুপাত্মক।[১৩][১৪] জেনোফোনের সক্রেটিসেরও দার্শনিক বৈশিষ্ট্যের অভাব রয়েছে- প্লেটোর সক্রেটিসের অজ্ঞতা, সক্রেটিক পদ্ধতি বা এলেঞ্চাস- এবং মনে করেন এনক্রেটিয়া (আত্ম-নিয়ন্ত্রণ) গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব, যা প্লেটোর সক্রেটিসের ক্ষেত্রে নয়।[১৫] মূলত, ঐতিহাসিক সক্রেটিসকে পুনর্গঠন করতে আমাদের সাহায্য করতে পারে না এমনকি তাদের বর্ণনাগুলি ওভারল্যাপ করার ক্ষেত্রেও, কারণ লেখকরা একে অপরের বিবরণকে প্রভাবিত করতে পারেন।[১৬]

অ্যারিস্টোফেনস এবং অন্যান্য উৎস[সম্পাদনা]

অ্যারিস্টোফেনেস সহ অ্যাথেনিয়ান কমেডির লেখকরাও সক্রেটিস সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন। সক্রেটিসকে নিয়ে অ্যারিস্টোফেনেসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমেডি হল দ্য ক্লাউডস, যেখানে সক্রেটিস একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র। এই নাটকে, অ্যারিস্টোফেনেস সক্রেটিসের একটি ব্যঙ্গচিত্র উপস্থাপন করেন যা সফিজমের দিকে ঝুঁকে পড়ে,[23] সক্রেটিসকে একজন অযৌক্তিক নাস্তিক বলে উপহাস করে। সক্রেটিস ইন ক্লাউডস প্রাকৃতিক দর্শনে আগ্রহী, যা প্লেটোর ফায়েডোতে তাকে চিত্রিত করেছে। কি নিশ্চিত যে ৪৫ বছর বয়সে, সক্রেটিস ইতিমধ্যেই একজন দার্শনিক হিসাবে এথেনিয়ানদের আগ্রহকে ধরে ফেলেছিলেন। ঐতিহাসিক সক্রেটিসের পুনর্গঠনে অ্যারিস্টোফেনেসের কাজ কার্যকর কিনা তা স্পষ্ট নয়।

অন্যান্য প্রাচীন লেখক যারা সক্রেটিস সম্পর্কে লিখেছেন তারা হলেন স্ফেটাস, অ্যান্টিসথেনিস, অ্যারিস্টিপাস, ব্রাইসন, সেবেস, ক্রিটো, ইউক্লিড অফ মেগার, ফেডো এবং অ্যারিস্টটল, যাদের সকলেই সক্রেটিসের মৃত্যুর পরে লিখেছিলেন।  অ্যারিস্টটল সক্রেটিসের সমসাময়িক ছিলেন না;  তিনি প্লেটোর অধীনে বিশ বছর অধ্যয়ন করেন।  অ্যারিস্টটল জেনোফোন এবং প্লেটোর পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সক্রেটিসের সাথে আচরণ করেন, যার সক্রেটিসের সাথে মানসিক বন্ধন ছিল এবং তিনি একজন দার্শনিক হিসাবে সক্রেটিসের মতবাদগুলি যাচাই করেন।  অ্যারিস্টটল সক্রেটিসের বিভিন্ন লিখিত ও অলিখিত গল্পের সাথে পরিচিত ছিলেন।  সক্রেটিসকে বোঝার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা সীমিত।  তিনি সক্রেটিসের উপর ব্যাপকভাবে লেখেন না;  এবং, যখন তিনি করেন, তিনি প্রধানত প্লেটোর প্রথম দিকের সংলাপগুলি নিয়েই ব্যস্ত থাকেন৷[31]  দর্শনের ইতিহাসে তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও সাধারণ সন্দেহ রয়েছে।  তবুও, সক্রেটিসকে বোঝার জন্য তার সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ।

সক্রেটিক সমস্যা

"দার্শনিক হিসাবে সক্রেটিস এর মূল্য" (১৮১৮) শিরোনামের একটি মূল রচনায়, দার্শনিক ফ্রেডরিখ শ্লেইরমাচার জেনোফোনের বিবরণ আক্রমণ করেছিলেন;  তার আক্রমণ ব্যাপকভাবে গৃহীত হয় এবং সক্রেটিক সমস্যার জন্ম দেয়।  শ্লেইরমাচার জেনোফোনের সমালোচনা করেছিলেন সক্রেটিসের নির্বোধ উপস্থাপনার জন্য।  জেনোফন একজন সৈনিক ছিলেন, শ্লেইরমাকার যুক্তি দিয়েছিলেন, এবং তাই সক্রেটিক ধারণাগুলিকে প্রকাশ করার জন্য তাকে ভালভাবে স্থাপন করা হয়নি।  তদুপরি, জেনোফোন তার প্রাক্তন বন্ধু এবং শিক্ষকের চিত্রণে পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন: তিনি বিশ্বাস করতেন সক্রেটিসকে এথেন্সের দ্বারা অন্যায়ভাবে আচরণ করা হয়েছিল, এবং একটি নিরপেক্ষ বিবরণ দেওয়ার পরিবর্তে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন।  শ্লেইরমাকার বলেন, ফলাফল হল যে জেনোফন সক্রেটিসকে একজন অনুপ্রেরণাদায়ক দার্শনিক হিসাবে চিত্রিত করেছিলেন।  ২০ শতকের গোড়ার দিকে, জেনোফোনের অ্যাকাউন্ট মূলত প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
দার্শনিক কার্ল জোয়েল, অ্যারিস্টটলের লোগো সোক্র্যাটিকোসের ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে তার যুক্তি তুলে ধরেন যে সক্রেটিক সংলাপগুলি বেশিরভাগই কাল্পনিক: জোয়েলের মতে, সংলাপের লেখকরা সংলাপের কিছু সক্রেটিক বৈশিষ্ট্যের অনুকরণ করছিলেন। ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, জোয়েলের যুক্তির ভিত্তিতে ওলোফ গিগন এবং ইউজিন ডুপ্রেলের মতো দার্শনিকরা প্রস্তাব করেছিলেন যে সক্রেটিসের অধ্যয়ন একটি ঐতিহাসিক সক্রেটিসকে পুনর্গঠনের লক্ষ্য না করে তার চরিত্র এবং বিশ্বাসের বিভিন্ন সংস্করণের উপর ফোকাস করা উচিত।[38]  পরে, প্রাচীন দর্শনের পণ্ডিত গ্রেগরি ভ্লাস্টোস পরামর্শ দেন যে প্লেটোর প্রথম দিকের সক্রেটিক কথোপকথনগুলি তার পরবর্তী লেখাগুলির চেয়ে ঐতিহাসিক সক্রেটিসের পক্ষে অন্যান্য প্রমাণের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, একটি যুক্তি যা সক্রেটিসের নিজস্ব বিবর্তিত চিত্রণে প্লেটোর অসঙ্গতির উপর ভিত্তি করে।  প্লেটোর সাথে সম্মত হওয়া ছাড়া ভ্লাস্টোস জেনোফোনের অ্যাকাউন্টকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছিলেন।  অতি সম্প্রতি, চার্লস এইচ কান অমীমাংসিত সক্রেটিক সমস্যার উপর সংশয়বাদী অবস্থানকে শক্তিশালী করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন যে শুধুমাত্র প্লেটোর ক্ষমা প্রার্থনার কোনো ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে।

জীবনী[সম্পাদনা]

সক্রেটিস ৪৭০ বা ৪৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যালোপেসের অ্যাথেনিয়ান ডেমে যথাক্রমে সোফ্রোনিস্কাস এবং ফেনারেতে, একজন পাথরকর্মী এবং একজন ধাত্রী হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন; অতএব, তিনি একজন এথেনীয় নাগরিক ছিলেন, তুলনামূলকভাবে সমৃদ্ধ এথেনিয়ানদের কাছে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তার পিতার আত্মীয়দের কাছাকাছি থাকতেন এবং উত্তরাধিকারসূত্রে, প্রথা অনুযায়ী, তার পিতার সম্পত্তির অংশ, আর্থিক উদ্বেগমুক্ত একটি জীবন রক্ষা করেছিলেন। তার শিক্ষা এথেন্সের আইন ও রীতিনীতি অনুসরণ করে। তিনি পড়া এবং লেখার মৌলিক দক্ষতা শিখেছিলেন এবং বেশিরভাগ ধনী এথেনিয়ানদের মতো, জিমন্যাস্টিকস, কবিতা এবং সঙ্গীতের মতো অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পাঠ পেয়েছিলেন। তিনি দুবার বিয়ে করেছিলেন (যা প্রথম এসেছে তা স্পষ্ট নয়): জ্যানথিপের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল যখন সক্রেটিসের বয়স পঞ্চাশে, এবং আরেকটি বিয়ে হয়েছিল অ্যারিস্টিডেসের কন্যার সাথে, একজন এথেনীয় রাষ্ট্রনায়ক। এখানে এক্সাথিপির সঙ্গে তার তিনটি পুত্র ছিল. প্লেটোর মতে সক্রেটিস পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের সময় তার সামরিক সেবা সম্পন্ন করেন এবং তিনটি অভিযানে নিজেকে আলাদা করেন।

আরেকটি ঘটনা যা আইনের প্রতি সক্রেটিসের শ্রদ্ধাকে প্রতিফলিত করে তা হল লিওন দ্য সালামিনিয়ানের গ্রেফতার।  প্লেটো যেমন তার ক্ষমাপ্রার্থীতে বর্ণনা করেছেন, সক্রেটিস এবং অন্য চারজনকে থলোসের কাছে তলব করা হয়েছিল এবং ত্রিশ অত্যাচারীদের (যা 404 খ্রিস্টপূর্বাব্দে শাসন শুরু করেছিল) প্রতিনিধিদের দ্বারা লিওনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য গ্রেপ্তার করার জন্য বলা হয়েছিল।  আবার সক্রেটিসই একমাত্র বিরত ছিলেন, তিনি যাকে অপরাধ বলে মনে করেন তাতে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে অত্যাচারীদের ক্রোধ এবং প্রতিশোধের ঝুঁকি নেওয়া বেছে নিয়েছিলেন।
সক্রেটিস এথেনীয় জনসাধারণের এবং বিশেষ করে এথেনীয় যুবকদের কাছ থেকে প্রচুর আগ্রহ আকর্ষণ করেছিলেন।  তিনি কুখ্যাতভাবে কুৎসিত ছিলেন, তার একটি চ্যাপ্টা নাক, চোখ বুলিয়ে যাওয়া এবং একটি বড় পেট ছিল;  তার বন্ধুরা তার চেহারা নিয়ে মজা করে।  সক্রেটিস তার নিজের চেহারা এবং ব্যক্তিগত আরাম সহ বস্তুগত আনন্দের প্রতি উদাসীন ছিলেন।  তিনি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অবহেলা করতেন, খুব কমই স্নান করতেন, খালি পায়ে হাঁটতেন, এবং শুধুমাত্র একটি ন্যাকড়াযুক্ত কোটের মালিক ছিলেন।  তিনি তার খাওয়া, মদ্যপান, এবং যৌনতা সংযত করেছিলেন, যদিও তিনি সম্পূর্ণ বিরত থাকার অভ্যাস করেননি।  যদিও সক্রেটিস তারুণ্যের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন, যেমনটি প্রাচীন গ্রীসে সাধারণ এবং গৃহীত ছিল, তিনি যুবকদের প্রতি তার আবেগকে প্রতিরোধ করেছিলেন কারণ প্লেটো বর্ণনা করেছেন, তিনি তাদের আত্মাকে শিক্ষিত করতে আরও আগ্রহী ছিলেন।  সক্রেটিস তার শিষ্যদের কাছ থেকে যৌনতা কামনা করেননি, যেমনটি প্রায়শই এথেন্সে বয়স্ক এবং কম বয়সী পুরুষদের মধ্যে ছিল।  রাজনৈতিকভাবে, তিনি এথেন্সের গণতন্ত্রী এবং অলিগার্চদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পক্ষ নেননি;  তিনি উভয়ের সমালোচনা করেন।  অ্যাপোলজি, ক্রিটো, ফেডো এবং সিম্পোজিয়ামে প্রদর্শিত সক্রেটিসের চরিত্রটি অন্যান্য উত্সের সাথে একমত হয় যা প্লেটোর সক্রেটিসকে বাস্তব সক্রেটিসের প্রতিনিধি হিসাবে চিত্রিত করার আস্থা দেয়।
সক্রেটিস ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এথেন্সে অশুভতা এবং তরুণদের দুর্নীতির বিচারের পর মারা যান যা মাত্র একদিনের জন্য স্থায়ী হয়েছিল।  তিনি তার শেষ দিনটি কারাগারে বন্ধু এবং অনুসারীদের মধ্যে কাটিয়েছেন যারা তাকে পালানোর পথ প্রস্তাব করেছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।  পরের দিন সকালে তার সাজা অনুসারে হেমলক বিষ পান করে তিনি মারা যান।  তিনি কখনোই এথেন্স ছেড়ে যাননি, শুধুমাত্র সামরিক অভিযানের সময় যা তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বিচার ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

দ্য ডেথ অফ সক্রেটিস, ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে জ্যাক লুই ডেভিড কর্তৃক অঙ্কিত চিত্র

এথেনীয় সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ ক্ষমতার যুগ থেকে পেলোপনেশীয় যুদ্ধে স্পার্টা ও তার মিত্রবাহিনীর কাছে হেরে যাওয়া পর্যন্ত পুরো সময়টাই সক্রেটিস বেঁচে ছিলেন। পরাজয়ের গ্লানি ভুলে এথেন্স যখন পুনরায় স্থিত হওয়ার চেষ্টা করছিল তখনই সেখানকার জনগণ একটি কর্মক্ষম সরকার পদ্ধতি হিসেবে গণতন্ত্রের সঠিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেছিল। সক্রেটিসও গণতন্ত্রের একজন সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাই অনেকে সক্রেটিসের বিচার ও মৃত্যুটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

এথেনীয় সরকার সক্রেটিসকে এমন দোষে দোষী বলে সাব্যস্ত করেছিল যাতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হতে পারে। কিন্তু তাঁর গুণাবলি ও সত্যের প্রতি অটল মনোভাব সত্যিকার অর্থেই তৎকালীন সরকারি নীতি ও সমাজের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টিতে সমর্থ হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে থুসিডাইডিস বলেছেন: "এক কথায় তার উদ্দেশ্যে হাততালি দেয়া যেতে পারে যে, প্রথমবারের মতো কোনো একটি অনৈতিক আইন প্রণয়ন করেছে এবং যে অন্য এমন একজনকে কোনো একটি অপরাধ করতে উৎসাহিত করে যে, অপরাধের চিন্তা সে নিজেই কখনো করেনি।"[১৭] সক্রেটিস সরাসরি বা অন্য কোনোভাবে বিভিন্ন সময়ে স্পার্টার অনেক নীতির প্রশংসা করেছে যে, স্পার্টা ছিল এথেন্সের ঘোর শত্রু। এসব সত্ত্বেও ঐতিহাসিকভাবে সমাজের চোখে তার সবচেয়ে বড়ো অপরাধ ছিল সামাজিক ও নৈতিক ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে তীব্র সমালোচনা। প্লেটোর মতে সক্রেটিস সরকারের জন্য একটি বিষফোঁড়ার কাজ করেছিলেন যার মূলে ছিল বিচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা ও ভালোর উদ্দেশ্য নিয়ে সমালোচনা। এথেনীয়দের সুবিচারের প্রতি নিষ্ঠা বাড়ানোর চেষ্টাকেই তাঁর শাস্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

প্লেটোর অ্যাপোলজি গ্রন্থের ভাষ্যমতে, সক্রেটিসের বন্ধু চেরিফোন একদিন ডেলফির ওরাক্‌লের কাছে গিয়ে প্রশ্নে করে যে, সক্রেটিসের চেয়ে প্রাজ্ঞ কেউ আছে কী-না। উত্তরে ওরাক্‌ল জানায় সক্রেটিসের চেয়ে প্রাজ্ঞ কেউ নেই। এর পর থেকেই সক্রেটিসকে সমাজের চোখে একজন রাষ্ট্রীয় অপরাধী ও সরকারের জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে দেখা হতে থাকে। সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন ওরাক্‌লের কথাটি ছিল নিছক হেঁয়ালি। কারণ ওরাক্‌ল কখনো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে জ্ঞান অর্জনের কারণে প্রশংসা করেনা। এটি আদৌ হেঁয়ালি ছিল কী-না তা পরীক্ষা করার জন্য সক্রেটিস সাধারণ এথেনীয়রা যে লোকদের জ্ঞানী বিবেচনা করত তাদের কাছে গিয়ে কিছু প্রশ্ন করতে শুরু করেন। তিনি এথেন্সের মানুষদেরকে উত্তম, সৌন্দর্য এবং গুণ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। উত্তর শুনে তিনি বুঝতে পারেন এদের কেউই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানেনা কিন্তু মনে করে যে তারা সব জানে। এ থেকে তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হন এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সক্রেটিস সবচেয়ে প্রাজ্ঞ ও জ্ঞানী যে, সে যা জানে না তা জানে বলে কখনো মনে করেনা। তার এ ধরনের হেঁয়ালিসূচক প্রজ্ঞা ও জ্ঞান তখনকার স্বনামধন্য এথেনীয়দের বিব্রত অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়। সক্রেটিসের সামনে গেলে তাদের মুখ শুকিয়ে যেতে শুরু করে। কারণ তারা কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারতনা। এ থেকেই সবাই তাঁর বিরোধিতা শুরু করে।

এছাড়াও সক্রেটিসকে তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে চরিত্রহীনতা ও দুর্নীতি প্রবেশ করানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। সব অভিযোগ বিবেচনায় এনে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। মৃত্যুর মাধ্যম নির্দিষ্ট হয় হেমলক বিষ পান। প্লেটোর ফিডো গ্রন্থের শেষে সক্রেটিসের মৃত্যুর পর্বের বর্ণনা উদ্ধৃত আছে। কারাগার থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে সক্রেটিস ক্রিটোর অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। বিষ পানের পর সক্রেটিসকে হাঁটতে আদেশ করা হয় যতক্ষণ না তাঁর পদযুগল ভারী মনে হয়। শুয়ে পড়ার পর যে লোকটি সক্রেটিসের হাতে বিষ তুলে দিয়েছিল সে তাঁর পায়ের পাতায় চিমটি কাটে। সক্রেটিস সে চিমটি অনুভব করতে পারেননি। তার দেহ বেয়ে অবশতা নেমে আসে। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুর পূর্বে তার বলা শেষ বাক্য ছিল: "ক্রিটো, অ্যাসক্লেপিয়াস আমাদের কাছে একটি মোরগ পায়, তার ঋণ পরিশোধ করতে ভুলোনা যেন।" অ্যাসক্লেপিয়াস হচ্ছে গ্রিকদের আরোগ্য লাভের দেবতা। সক্রেটিসের শেষ কথা থেকে বোঝা যায়, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন মৃত্যু হল আরোগ্য এবং দেহ থেকে আত্মার মুক্তি। রোমান দার্শনিক সেনেকা তাঁর মৃত্যুর সময় সক্রেটিসের নকল করার চেষ্টা করেছিলেন। সেনেকাও সম্রাট নিরোর আদেশে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

দার্শনিক পদ্ধতি[সম্পাদনা]

সক্রেটিসের পদ্ধতি

সক্রেটিস দার্শনিক জেনোর মত দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। এই পদ্ধতিতে প্রথমে প্রতিপক্ষের মত স্বীকার করে নেওয়া হয়, কিন্তু এর পর যুক্তির মাধ্যমে সেই মতকে খণ্ডন করা হয়। এই পদ্ধতির একটি প্রধান বাহন হল প্রশ্ন-উত্তর। সক্রেটিস প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেই দার্শনিক আলোচনা চালিয়ে যেতেন। প্রথমে প্রতিপক্ষের জন্য যুক্তির ফাঁদ পাততেন এবং একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকতেন। যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ পরাজিত হয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে নেয় ততক্ষণ প্রশ্ন চলতেই থাকত। সক্রেটিসের এই পদ্ধতির অপর নাম সক্রেটিসের শ্লেষ (Socratic irony)।

সংজ্ঞার সক্রেটিক অগ্রাধিকার

সক্রেটিস সংজ্ঞার অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার আলোচনা শুরু করেন।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, সক্রেটিস একটি বিষয়ের একজন বিশেষজ্ঞের সাথে একটি সংজ্ঞা খোঁজার মাধ্যমে তার বক্তৃতা শুরু করেন - উদাহরণস্বরূপ, পুণ্য, মঙ্গল, ন্যায়বিচার বা সাহস কী তা জিজ্ঞাসা করে।  একটি সংজ্ঞা প্রতিষ্ঠার জন্য, সক্রেটিস প্রথমে একটি গুণের স্পষ্ট উদাহরণ সংগ্রহ করেন এবং তারপরে তাদের মধ্যে কী মিল ছিল তা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন।  গুথরির মতে, সক্রেটিস এমন এক যুগে বাস করতেন যখন সোফিস্টরা বিভিন্ন গুণের অর্থকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, তাদের পদার্থ নিয়ে প্রশ্ন করেছিল;  একটি সংজ্ঞার জন্য সক্রেটিসের অনুসন্ধান ছিল তাদের আমূল সংশয়বাদ থেকে বায়ুমণ্ডল পরিষ্কার করার একটি প্রচেষ্টা।
কিছু পণ্ডিত যুক্তি দিয়েছেন যে সক্রেটিস একটি নীতি হিসাবে সংজ্ঞার অগ্রাধিকারকে সমর্থন করেন না, কারণ তারা এমন ক্ষেত্রে চিহ্নিত করেছেন যেখানে তিনি তা করেন না।[93]  কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে সংজ্ঞার এই অগ্রাধিকারটি সক্রেটিসের পরিবর্তে প্লেটো থেকে এসেছে।  দার্শনিক পিটার গেচ, স্বীকার করেছেন যে সক্রেটিস সংজ্ঞার অগ্রাধিকারকে সমর্থন করেছেন, কৌশলটিকে ভুল বলে মনে করেন।  Α Geach-এর মতে, কেউ একটি প্রস্তাব জানতে পারে এমনকি যদি কেউ সেই শর্তগুলিকে সংজ্ঞায়িত করতে না পারে যেখানে প্রস্তাবটি বলা হয়েছে৷

সক্রেটিক অজ্ঞতা

ডেলফির অ্যাপোলো মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, যেখানে পিথিয়া ছিল।  ডেলফিক অ্যাফোরিজম সক্রেটিসের কাছে নিজেকে জানুন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা প্লেটোর অনেক সক্রেটিক সংলাপে, বিশেষ করে ক্ষমাপ্রার্থীতে স্পষ্ট।
প্লেটোর সক্রেটিস প্রায়ই দাবি করেন যে তিনি তার নিজের জ্ঞানের অভাব সম্পর্কে সচেতন, বিশেষ করে যখন নৈতিক ধারণা যেমন আরেটে (অর্থাৎ, ভালতা, সাহস) নিয়ে আলোচনা করেন কারণ তিনি এই ধরনের ধারণার প্রকৃতি জানেন না। [97]  উদাহরণস্বরূপ, তার বিচারের সময়, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে, সক্রেটিস বলেছেন: "আমি ভেবেছিলাম ইভেনস একজন সুখী মানুষ, যদি সে সত্যিই এই শিল্পের অধিকারী হয় (টেকনে), এবং এত মাঝারি পারিশ্রমিকে শেখায়। অবশ্যই আমি গর্ব করব এবং নিজেকে প্রিপেইন করব যদি  আমি এই জিনিসগুলি (এপিস্তামাই) জানতাম, কিন্তু ভদ্রলোক, আমি সেগুলি (এপিস্তামাই) জানি না।"[98]  প্লেটোর কিছু কথোপকথনে, সক্রেটিস নিজেকে কিছু জ্ঞানের সাথে কৃতিত্ব দিয়েছেন বলে মনে হয়, এবং এমনকি এমন একজন ব্যক্তির পক্ষে দৃঢ়ভাবে মতপ্রকাশিত বলে মনে হতে পারে যে তার নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করে।[99]
সক্রেটিক অসামঞ্জস্যতার বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে (যা ছাড়া সক্রেটিস কেবল অসামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছেন) [100]  একটি ব্যাখ্যা হল যে সক্রেটিস শিক্ষাগত উদ্দেশ্যে বিদ্রূপাত্মক বা বিনয়ী হচ্ছেন: তিনি তার দার্শনিক প্রশ্নের একটি প্রিফিক্সড উত্তরের জন্য তাকে গাইড করার পরিবর্তে তার কথোপকথককে নিজের জন্য চিন্তা করতে দিতে চান।  আরেকটি ব্যাখ্যা হল যে সক্রেটিস "জ্ঞান" এর অর্থের বিভিন্ন ব্যাখ্যা ধারণ করেছেন।  জ্ঞান, তার জন্য, একটি নৈতিক বিষয়ের পদ্ধতিগত বোঝার অর্থ হতে পারে, যার উপর সক্রেটিস দৃঢ়ভাবে কোনো ধরনের প্রভুত্ব প্রত্যাখ্যান করেন;  অথবা নিম্ন-স্তরের জ্ঞানকে উল্লেখ করতে পারে, যা সক্রেটিস স্বীকার করতে পারে যে তার অধিকার রয়েছে।  যাই হোক না কেন, সক্রেটিস স্বীকার করেছেন যে নিজের জ্ঞানের অভাব স্বীকার করা প্রজ্ঞার দিকে প্রথম পদক্ষেপ।

সক্রেটিক বিড়ম্বনা

একটি বিস্তৃত অনুমান রয়েছে যে সক্রেটিস একজন লৌহবাদী ছিলেন, বেশিরভাগ প্লেটো এবং অ্যারিস্টটল দ্বারা সক্রেটিসের বর্ণনার উপর ভিত্তি করে।  সক্রেটিসের বিড়ম্বনা এত সূক্ষ্ম এবং সামান্য হাস্যকর যে এটি পাঠককে প্রায়ই ভাবতে থাকে যে সক্রেটিস ইচ্ছাকৃত শ্লেষ করছেন কিনা।  প্লেটোর ইউথিফ্রো সক্রেটিক বিড়ম্বনায় ভরা।  গল্পটি শুরু হয় যখন সক্রেটিস ইউথিফ্রোর সাথে দেখা করেন, একজন ব্যক্তি যিনি তার নিজের পিতাকে হত্যার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন।  সক্রেটিস যখন প্রথম গল্পের বিশদটি শুনেন, তখন তিনি মন্তব্য করেন, "এটি নয়, আমার মনে হয়, কোন এলোমেলো ব্যক্তি যে এটি [একজনের পিতার বিচার] সঠিকভাবে করতে পারে, তবে অবশ্যই একজন যিনি ইতিমধ্যেই জ্ঞানে অনেক এগিয়ে গেছেন"।  যখন ইউথিফ্রো তার দেবত্ব বোঝার বিষয়ে গর্ব করেন, তখন সক্রেটিস উত্তর দেন যে "আমি আপনার ছাত্র হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ"।  সক্রেটিসকে সাধারণত বিদ্রূপাত্মক হিসাবে দেখা হয় যখন প্রশংসা করার জন্য বা তার কথোপকথনকে সম্বোধন করার সময়।
কেন সক্রেটিস বিদ্রুপ ব্যবহার করেন তা নিয়ে পণ্ডিতরা বিভক্ত।  হেলেনিস্টিক সময়কাল থেকে উন্নত একটি মতামত অনুসারে, সক্রেটিক বিড়ম্বনা হল দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করার একটি কৌতুকপূর্ণ উপায়।  চিন্তার আরেকটি লাইন ধরে রাখে যে সক্রেটিস তার দার্শনিক বার্তাকে বিদ্রুপের সাথে লুকিয়ে রেখেছেন, এটি কেবল তাদের কাছেই অ্যাক্সেসযোগ্য করে তোলে যারা তার বক্তব্যের অংশগুলিকে আলাদা করতে পারে যা বিদ্রূপাত্মক সেগুলি থেকে যা নয়।  গ্রেগরি ভ্লাস্টোস সক্রেটিসের বিড়ম্বনার আরও জটিল প্যাটার্ন চিহ্নিত করেছেন।  ভ্লাস্টোসের দৃষ্টিভঙ্গিতে, সক্রেটিসের কথার দ্বৈত অর্থ রয়েছে, উভয়ই বিদ্রূপাত্মক এবং নয়।  একটি উদাহরণ হল যখন সে জ্ঞান থাকাকে অস্বীকার করে।  ভ্লাস্টোস পরামর্শ দেন যে সক্রেটিস বিদ্রূপাত্মক আচরণ করছেন যখন তিনি বলেছেন যে তার কোন জ্ঞান নেই (যেখানে "জ্ঞান" অর্থ জ্ঞানের নিম্ন রূপ);  অন্যদিকে, "জ্ঞান" এর আরেকটি অর্থ অনুসারে, সক্রেটিস যখন বলেন যে তার নৈতিক বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই তখন তিনি গুরুতর।  এই মতামত অন্যান্য অনেক পণ্ডিত দ্বারা ভাগ করা হয় না।

সক্রেটিক ইউডাইমনিজম এবং বুদ্ধিবৃত্তিকতা

সক্রেটিসের জন্য, ইউডাইমোনিয়ার সাধনা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমস্ত মানুষের কর্মকে অনুপ্রাণিত করে।  সক্রেটিসের দৃষ্টিতে সদগুণ এবং জ্ঞান ইউডাইমোনিয়ার সাথে যুক্ত, কিন্তু তিনি তাদের কতটা ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত মনে করেছিলেন তা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।  কেউ কেউ যুক্তি দেন যে সক্রেটিস মনে করতেন যে পুণ্য এবং ইউডাইমোনিয়া অভিন্ন।  অন্য একটি মতানুসারে, সদগুণ ইউডাইমোনিয়ার একটি উপায় হিসেবে কাজ করে (যথাক্রমে "অভিন্ন" এবং "পর্যাপ্ততা" থিসিস)।  বিতর্কের আরেকটি বিষয় হল, সক্রেটিসের মতে, মানুষ প্রকৃতপক্ষে যা ভালো তা-ই চায় বা, বরং, তারা যা ভালো বলে মনে করে তা চায় কিনা।
নৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিকতা বলতে সক্রেটিস জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ভূমিকাকে বোঝায়।  তিনি বিশ্বাস করতেন যে সমস্ত গুণাবলী জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে (তাই সক্রেটিসকে একজন গুণী বুদ্ধিজীবী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়)।  তিনি আরও বিশ্বাস করতেন যে মানুষ যা ইচ্ছা করে তা বোঝার জন্য জ্ঞানীয় শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়, যখন আবেগের ভূমিকা হ্রাস করে (একটি দৃষ্টিভঙ্গি যাকে উদ্দেশ্যমূলক বুদ্ধিবৃত্তি বলে)।  প্লেটোর প্রোটাগোরাসে (345c4–e6), সক্রেটিস ইঙ্গিত করেছেন যে "কেউ স্বেচ্ছায় ভুল করে না", যা সক্রেটিক সদগুণ বুদ্ধিবৃত্তির বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। [114]  সক্রেটিক নৈতিক দর্শনে, বুদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় একটি ভাল জীবনযাপনের উপায় হিসাবে;  সক্রেটিস অযৌক্তিক বিশ্বাস বা আবেগ deemphasises. [115]  প্লেটোর কথোপকথন যা সক্রেটিসের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেরণাবাদকে সমর্থন করে—যেমন এই থিসিসটির নামকরণ করা হয়েছে—প্রধানত গর্গিয়াস (467c–8e, যেখানে সক্রেটিস একজন অত্যাচারীর ক্রিয়াকলাপ নিয়ে আলোচনা করেছেন যা তার উপকারে আসে না) এবং মেনো (77d–8b, যেখানে সক্রেটিস মেনোকে ব্যাখ্যা করেন তার  দৃষ্টিভঙ্গি যে কেউ খারাপ জিনিস চায় না, যদি না তারা প্রথম স্থানে ভাল এবং মন্দ কি জানেন না) [116]  পণ্ডিতরা সক্রেটিসের দৃষ্টিভঙ্গি দেখে বিস্মিত হয়েছেন যে আক্রাসিয়া (কারুর অযৌক্তিক আবেগের কারণে, কারও জ্ঞান বা বিশ্বাসের বিপরীতে অভিনয় করা) অসম্ভব।  বেশিরভাগই বিশ্বাস করেন যে সক্রেটিস অযৌক্তিক আকাঙ্ক্ষার জন্য কোন স্থান ছেড়ে দেননি, যদিও কেউ কেউ দাবি করেন যে সক্রেটিস অযৌক্তিক প্রেরণার অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন, কিন্তু অস্বীকার করেছেন যে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে।

ধর্ম [১২০] প্রাচীন গ্রীসে, সংগঠিত ধর্ম খণ্ডিত ছিল, নির্দিষ্ট দেবতাদের জন্য বেশ কয়েকটি উৎসবে উদযাপন করা হতো, যেমন সিটি ডায়োনিসিয়া বা ঘরোয়া আচার-অনুষ্ঠানে, এবং সেখানে কোনো পবিত্র গ্রন্থ ছিল না। ধর্ম নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে মিশে যায়, যারা তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে মূলত বিভিন্ন দেবতাকে বলি দিয়ে। সক্রেটিস একজন ধর্মের চর্চাকারী মানুষ নাকি একজন 'উস্কানিকারী নাস্তিক' ছিলেন তা প্রাচীনকাল থেকেই বিতর্কের বিষয়। তার বিচারের মধ্যে অশ্লীলতার অভিযোগ রয়েছে, এবং বিতর্ক এখনও থামেনি।[122]

সক্রেটিস বেশিরভাগ আলসিবিয়াডেস, ইউথিফ্রো, এবং অ্যাপোলজিতে দেবত্ব এবং আত্মা নিয়ে আলোচনা করেছেন।  অ্যালসিবিয়াডেস সক্রেটিস মানব আত্মাকে দেবত্বের সাথে যুক্ত করেছেন, উপসংহারে বলেছেন "তারপর তার এই অংশটি ঈশ্বরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, এবং যে কেউ এটিকে দেখে, এবং যা ঐশ্বরিক তা জানতে পারে, সে এর মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে সর্বোত্তম জ্ঞান লাভ করবে।"[124] তার আলোচনা  ধর্মের উপর সবসময় তার যুক্তিবাদের লেন্সের নিচে পড়ে।  সক্রেটিস, ইউথিফ্রোতে, একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছান যা তাকে যুগের স্বাভাবিক অনুশীলন থেকে অনেক দূরে নিয়ে যায়: তিনি দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলিদানকে অকেজো বলে মনে করেন, বিশেষ করে যখন তারা বিনিময়ে পুরষ্কার পাওয়ার আশায় চালিত হয়।  পরিবর্তে তিনি দর্শন এবং জ্ঞানের সাধনাকে দেবতাদের উপাসনা করার প্রধান উপায় হিসাবে ডাকেন।[126]  ধর্মপরায়ণতার ঐতিহ্যগত রূপকে তার প্রত্যাখ্যান, তাদের আত্ম-স্বার্থের সাথে সংযুক্ত করে, ইঙ্গিত করে যে এথেনীয়দের আত্ম-পরীক্ষার মাধ্যমে ধর্মীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করা উচিত।
সক্রেটিস যুক্তি দিয়েছিলেন যে দেবতারা সহজাতভাবে জ্ঞানী এবং ন্যায়পরায়ণ ছিলেন, সেই সময়ে প্রচলিত ধর্ম থেকে অনেক দূরে একটি উপলব্ধি।  ইউথিফ্রোতে, ইউথিফ্রো দ্বিধা দেখা দেয়।  সক্রেটিস তার কথোপকথককে ধার্মিকতা এবং শক্তিশালী ঈশ্বরের ইচ্ছার মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কে প্রশ্ন করেন: কিছু ভাল কারণ এটি এই ঈশ্বরের ইচ্ছা, নাকি এই ঈশ্বরের ইচ্ছা কারণ এটি ভাল?[129] অন্য কথায়, কি?  ধার্মিকতা ভাল অনুসরণ, নাকি ঈশ্বর?  সক্রেটিক চিন্তার গতিপথ ঐতিহ্যগত গ্রীক ধর্মতত্ত্বের সাথে বৈপরীত্য, যা লেক্স ট্যালিওনিস (চোখের নীতির জন্য চোখ) গ্রহণ করেছে।  সক্রেটিস মনে করতেন যে ধার্মিকতা দেবতাদের থেকে স্বাধীন, এবং দেবতাদের অবশ্যই ধার্মিক হতে হবে।
সক্রেটিস প্লেটোর এপোলজিতে দেবতাদের প্রতি বিশ্বাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে তিনি বিচারকদের বলেন যে তিনি তার অভিযুক্তদের চেয়ে বেশি ঈশ্বরকে স্বীকার করেন।  প্লেটোর সক্রেটিসের জন্য, দেবতাদের অস্তিত্বকে মঞ্জুর করা হয়;  তার কোনো কথোপকথনে তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে কিনা তা পরীক্ষা করেননি। [132]  অপোলজিতে, সক্রেটিসকে অজ্ঞেয়বাদী হওয়ার একটি মামলা করা যেতে পারে, মৃত্যুর পরের মহান অজানা সম্পর্কে তার আলোচনার ভিত্তিতে,[133] এবং ফেডোতে (তার শেষ দিনে তার ছাত্রদের সাথে কথোপকথন) সক্রেটিস একটি স্পষ্ট বিশ্বাসের অভিব্যক্তি দেন।  আত্মার অমরত্ব [134]  তিনি ওরাকল, ভবিষ্যদ্বাণী এবং দেবতাদের অন্যান্য বার্তাগুলিতেও বিশ্বাস করতেন।  এই লক্ষণগুলো তাকে নৈতিক বিষয়ে কোনো ইতিবাচক বিশ্বাসের প্রস্তাব দেয়নি;  বরং, তারা প্রতিকূল ভবিষ্যতের ঘটনাগুলির ভবিষ্যদ্বাণী ছিল।
জেনোফোনের মেমোরাবিলিয়ায়, সক্রেটিস সমসাময়িক টেলিলজিক্যাল বুদ্ধিমান-নকশা যুক্তির কাছাকাছি একটি যুক্তি তৈরি করেছেন।  তিনি দাবি করেন যে যেহেতু মহাবিশ্বে এমন অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা "পূর্বচিন্তার লক্ষণ" (যেমন, চোখের পাতা) প্রদর্শন করে, একজন ঐশ্বরিক স্রষ্টা অবশ্যই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। [132]  তারপর তিনি অনুমান করেন যে সৃষ্টিকর্তা সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান হওয়া উচিত এবং এটি মানবজাতির অগ্রগতির জন্য মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছে, যেহেতু মানুষের স্বাভাবিকভাবেই অনেক ক্ষমতা রয়েছে যা অন্যান্য প্রাণীদের নেই। [136]  কখনও কখনও, সক্রেটিস একক দেবতার কথা বলেন, অন্য সময়ে তিনি বহুবচন "দেবতা" উল্লেখ করেন।  এর অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে তিনি হয় বিশ্বাস করতেন যে একজন সর্বোচ্চ দেবতা অন্য দেবতাদের আদেশ দিয়েছেন, অথবা বিভিন্ন দেবতা এই একক দেবতার অংশ, বা প্রকাশ।
সক্রেটিসের ধর্মীয় বিশ্বাস যুক্তিবাদের সাথে তার কঠোর আনুগত্যের সাথে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে তা বিভ্রান্তির একটি উৎস।  দর্শনের অধ্যাপক মার্ক ম্যাকফেরান পরামর্শ দেন যে সক্রেটিস নিশ্চিতকরণের জন্য ধর্মনিরপেক্ষ যুক্তিবাদের মাধ্যমে প্রতিটি ঐশ্বরিক চিহ্নকে ব্যাখ্যা করেছেন।  প্রাচীন দর্শনের অধ্যাপক A. A. লং পরামর্শ দেন যে সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন যে ধর্মীয় এবং যুক্তিবাদী ক্ষেত্রগুলি পৃথক ছিল বলে অনুমান করা অনাক্রম্য।

সক্রেটিক ডাইমনিয়ন বেশ কয়েকটি গ্রন্থে (উদাহরণস্বরূপ, প্লেটোর ইউথিফ্রো 3b5; ক্ষমা 31c–d; জেনোফোনের স্মৃতিচিহ্ন 1.1.2) সক্রেটিস দাবি করেছেন যে তিনি একটি ডাইমোনিক চিহ্ন শুনেছেন - একটি অভ্যন্তরীণ কণ্ঠস্বর সাধারণত শোনা যায় যখন তিনি ভুল করতে চলেছেন। সক্রেটিস তার বিচারে এই ডাইমনিয়নের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছিলেন (অ্যাপোলজি 31c–d): "...এর কারণ হল এমন কিছু যা আপনি আমাকে প্রায়শই বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করতে শুনেছেন - যথা, এই সত্য যে আমি ঐশ্বরিক এবং ডাইমনিক কিছু অনুভব করি, যেমনটি মেলেটাস তার অভিযোগে খোদাই করেছেন, উপহাসের উপায়ে। এটি আমার শৈশব থেকে শুরু হয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট কণ্ঠের সংঘটন। যখনই এটি ঘটে, এটি আমাকে সর্বদা সেই ক্রিয়াকলাপের পথ থেকে বিরত করে যা আমি জড়িত করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এটি কখনই দেয় না। আমাকে ইতিবাচক পরামর্শ। এটা আমার রাজনীতির অনুশীলনের বিরোধিতা করেছে, এবং আমি মনে করি এটা করা একেবারেই সূক্ষ্ম হয়েছে। এমনকি একজন তপস্বী সক্রেটিস দ্বারা অনুভূত একটি অলৌকিক অভিজ্ঞতা।

পুণ্য ও জ্ঞান

সক্রেটিস জ্ঞান প্রত্যাখ্যান করার জন্য পরিচিত, "আমি জানি যে আমি কিছুই জানি না" এই কথার মধ্যে একটি দাবি অন্তর্ভুক্ত।  প্লেটোর ক্ষমার একটি বিবৃতির ভিত্তিতে এটি প্রায়ই সক্রেটিসকে দায়ী করা হয়, যদিও একই দৃষ্টিভঙ্গি বারবার প্লেটোর সক্রেটিসের প্রথম দিকের লেখার অন্য কোথাও পাওয়া যায়। [144]  অন্যান্য বিবৃতিতে, যদিও, তিনি বোঝান বা এমনকি দাবি করেন যে তার জ্ঞান আছে।  উদাহরণ স্বরূপ, প্লেটোর এপোলজিতে সক্রেটিস বলেছেন: "...কিন্তু অন্যায় করা এবং আমার ঊর্ধ্বতন, ঈশ্বর বা মানুষের অবাধ্য হওয়া, এটা আমি মন্দ এবং ভিত্তি বলে জানি..." (ক্ষমাজ্ঞান, 29b6–7)[145]  ক্যালিক্লিসের সাথে তার বিতর্কে, তিনি বলেছেন: "...আমি ভাল করেই জানি যে আপনি যদি আমার সাথে সেই বিষয়গুলির সাথে একমত হন যা আমার আত্মা বিশ্বাস করে, তবে সেগুলিই সত্য হবে..."[145]
সক্রেটিস সত্যিকার অর্থে ভেবেছিলেন যে তার জ্ঞানের অভাব ছিল নাকি নিছক তার নিজের অজ্ঞতায় বিশ্বাসের ভুয়া ছিল তা বিতর্কের বিষয়।  একটি সাধারণ ব্যাখ্যা হল যে তিনি প্রকৃতপক্ষে শালীনতার ভুয়া ছিলেন।  নরম্যান গলির মতে, সক্রেটিস তার কথোপকথনকারীদের সাথে কথা বলার জন্য প্রলুব্ধ করার জন্য এটি করেছিলেন।  অন্যদিকে, টেরেন্স আরউইন দাবি করেন যে সক্রেটিসের কথা আক্ষরিক অর্থে নেওয়া উচিত।
গ্রেগরি ভ্লাস্টোস যুক্তি দেন যে উভয় দাবি খণ্ডন করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।  তার দৃষ্টিতে, সক্রেটিসের জন্য, "জ্ঞান" এর দুটি পৃথক অর্থ রয়েছে: জ্ঞান-সি এবং জ্ঞান-ই (সি-এর অর্থ "নির্দিষ্ট" এবং ই-এর অর্থ ইলেঞ্চাস, অর্থাৎ সক্রেটিক পদ্ধতি)।  নলেজ-সি প্রশ্নাতীত কিছু যেখানে নলেজ-ই হল সক্রেটিসের এলেঞ্চাস থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান।  এইভাবে, সক্রেটিস সত্য কথা বলেন যখন তিনি বলেন যে তিনি-C কিছু জানেন, এবং তিনি সত্যবাদী যখন বলেন যে তিনি জানেন-ই, উদাহরণস্বরূপ যে কেউ তার উর্ধ্বতনদের অবাধ্য হওয়া মন্দ, যেমন তিনি ক্ষমাতে দাবি করেছেন।  সমস্ত পণ্ডিত এই শব্দার্থিক দ্বৈতবাদের সাথে একমত নন।  জেমস এইচ. লেশার যুক্তি দিয়েছেন যে সক্রেটিস বিভিন্ন সংলাপে দাবি করেছেন যে একটি শব্দ একটি অর্থের সাথে যুক্ত (অর্থাৎ হিপিয়াস মেজর, মেনো এবং ল্যাচেস)। [149]  লেশার পরামর্শ দেন যে যদিও সক্রেটিস দাবি করেছিলেন যে তিনি গুণাবলীর প্রকৃতি সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখেননি, তিনি মনে করতেন যে কিছু ক্ষেত্রে, মানুষ কিছু নৈতিক প্রস্তাব জানতে পারে। [150]
সক্রেটিসের সদগুণের তত্ত্ব বলে যে সমস্ত গুণাবলী মূলত এক, যেহেতু তারা জ্ঞানের একটি রূপ। [151]  সক্রেটিসের জন্য, একজন ব্যক্তি ভালো না হওয়ার কারণ হল তাদের জ্ঞানের অভাব।  যেহেতু জ্ঞান একত্রিত, গুণগুলিও একত্রিত।  আরেকটি বিখ্যাত উক্তি- "কেউ স্বেচ্ছায় ভুল করে না"-ও এই তত্ত্ব থেকে উদ্ভূত হয়। [152]  প্রোটাগোরাসে, সক্রেটিস সাহসের উদাহরণ ব্যবহার করে গুণাবলীর ঐক্যের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন: যদি কেউ জানে যে প্রাসঙ্গিক বিপদ কী, তারা ঝুঁকি নিতে পারে। [151]  অ্যারিস্টটল মন্তব্য করেছেন: "... অগ্রজ সক্রেটিস মনে করতেন যে জীবনের সমাপ্তি হল পুণ্যের জ্ঞান, এবং তিনি ন্যায়বিচার, সাহস এবং পুণ্যের প্রতিটি অংশের সংজ্ঞা খুঁজতেন, এবং এটি একটি যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি ছিল, যেহেতু  তিনি ভেবেছিলেন যে সমস্ত গুণাবলীই বিজ্ঞান, এবং যত তাড়াতাড়ি কেউ [উদাহরণস্বরূপ] ন্যায়বিচার জানবে, সে ন্যায়পরায়ণ হবে..."

ভালবাসা

সক্রেটিস এবং অ্যালসিবিয়াডস, ক্রিস্টোফার উইলহেম একার্সবার্গ দ্বারা, 1813-1816
কিছু গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে সক্রেটিসের আলসিবিয়াডস এবং অন্যান্য যুবকদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল;  অন্যরা পরামর্শ দেয় যে অল্পবয়সী ছেলেদের সাথে সক্রেটিসের বন্ধুত্ব শুধুমাত্র তাদের উন্নতি করতে চেয়েছিল এবং যৌন ছিল না।  গর্গিয়াসে, সক্রেটিস দাবি করেন যে তিনি অ্যালসিবিয়াডস এবং দর্শনের দ্বৈত প্রেমিক ছিলেন এবং প্রোটাগোরাস, মেনো (76a–c) এবং Phaedrus (227c–d) তে তার ফ্লার্টেটিসতা স্পষ্ট।  তবে, আলসিবিয়াডসের সাথে তার সম্পর্কের সঠিক প্রকৃতি স্পষ্ট নয়;  সক্রেটিস তার আত্মসংযমের জন্য পরিচিত ছিলেন, যখন আলসিবিয়াডস সিম্পোজিয়ামে স্বীকার করেছেন যে তিনি সক্রেটিসকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু ব্যর্থ হন।
প্রেমের সক্রেটিক তত্ত্বটি বেশিরভাগই লাইসিস থেকে অনুমান করা হয়, যেখানে সক্রেটিস লাইসিস এবং তার বন্ধুদের সাথে একটি রেসলিং স্কুলে প্রেম নিয়ে আলোচনা করেন।  তারা পিতামাতার ভালবাসা এবং পিতামাতারা তাদের সন্তানদের জন্য যে স্বাধীনতা এবং সীমানা নির্ধারণ করে তার সম্মানের সাথে কীভাবে এটি প্রকাশ করে তা তদন্ত করে তাদের সংলাপ শুরু করে।  সক্রেটিস উপসংহারে পৌঁছেছেন যে যদি লাইসিস একেবারেই অকেজো হয়, কেউ তাকে ভালোবাসবে না-এমনকি তার বাবা-মাকেও না।  যদিও বেশিরভাগ পণ্ডিতরা বিশ্বাস করেন যে এই পাঠ্যটি হাস্যকর হওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল, এটিও প্রস্তাবিত হয়েছে যে লাইসিস দেখায় যে সক্রেটিস প্রেমের প্রতি অহংকারী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন, যার মতে আমরা কেবলমাত্র সেই ব্যক্তিদেরই ভালবাসি যারা আমাদের জন্য কিছু উপায়ে উপযোগী।  অন্যান্য পণ্ডিতরা এই মতের সাথে একমত নন, যুক্তি দেন যে সক্রেটিসের মতবাদ স্বামী/স্ত্রীর জন্য অ-অহংকারী প্রেমের জন্য জায়গা ছেড়ে দেয়;  এখনও অন্যরা অস্বীকার করে যে সক্রেটিস কোনো অহংবোধমূলক প্রেরণার পরামর্শ দেন।  সিম্পোজিয়ামে, সক্রেটিস যুক্তি দেন যে শিশুরা তাদের পিতামাতার কাছে অমরত্বের মিথ্যা ধারণা দেয়, এবং এই ভুল ধারণা তাদের মধ্যে একতা তৈরি করে। [158]  পণ্ডিতরাও উল্লেখ করেন যে সক্রেটিসের জন্য প্রেম যুক্তিযুক্ত।
এটি উল্লেখযোগ্য যে সক্রেটিস, যিনি দাবি করেন যে তিনি জানেন না শুধুমাত্র জানেন, তিনি একটি ব্যতিক্রম করেছেন (প্লেটোর সিম্পোজিয়ামে), যেখানে তিনি বলেছেন যে তিনি প্রেম সম্পর্কে সত্য বলবেন, যা তিনি একজন 'চতুর মহিলা' থেকে শিখেছিলেন।  ক্ল্যাসিসিস্ট আরমান্ড ডি'অ্যাঙ্গোর মামলা করেছেন যে সক্রেটিস তার যৌবনে আসপাসিয়ার কাছাকাছি ছিলেন, এবং ডায়োটিমা, যাকে সক্রেটিস সিম্পোজিয়ামে তার ভালবাসার বোঝার জন্য দায়ী করেছেন, তার উপর ভিত্তি করে।

রাজনীতির সক্রেটিক দর্শন

যদিও সক্রেটিস জনসাধারণের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কে জড়িত ছিলেন, তার সঠিক রাজনৈতিক দর্শনকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন।  প্লেটোর গর্জিয়াসে, তিনি ক্যালিক্লিসকে বলেন: "আমি বিশ্বাস করি যে আমি কয়েকজন এথেনিয়ানদের মধ্যে একজন - তাই বলে না যে আমিই একমাত্র, কিন্তু আমাদের সমসাময়িকদের মধ্যে একমাত্র - সত্যিকারের রাজনৈতিক নৈপুণ্য এবং অনুশীলন গ্রহণ করার জন্য  সত্যিকারের রাজনীতি। এই কারণে যে আমি প্রতিটি অনুষ্ঠানে যে বক্তৃতা করি তা সন্তুষ্টির লক্ষ্যে নয় বরং সর্বোত্তম কি।'  জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল ব্যবহার করে।  তিনি অফিসের জন্য দৌড়েনি বা কোনো আইনের পরামর্শ দেননি।  বরং, তিনি তার নাগরিকদের "উন্নতি" করে শহরের উন্নতিতে সাহায্য করার লক্ষ্য রেখেছিলেন। [162]  একজন নাগরিক হিসেবে তিনি আইন মেনেছেন।  তিনি নিয়ম মেনে বিদেশে যুদ্ধ করে তার সামরিক দায়িত্ব পালন করেন।  তার সংলাপ, তবে, সিসিলিয়ান অভিযানের মতো সমসাময়িক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সামান্য উল্লেখ করে।
সক্রেটিস তার সময় কাটিয়েছেন নাগরিকদের সাথে, তাদের মধ্যে এথেনিয়ান সমাজের শক্তিশালী সদস্যদের সাথে কথোপকথন করতে, তাদের বিশ্বাসগুলি যাচাই করে এবং তাদের ধারণার দ্বন্দ্বগুলিকে আলোতে আনতে।  সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন যে তিনি তাদের একটি উপকার করছেন, যেহেতু তার জন্য, রাজনীতি ছিল নির্বাচনী পদ্ধতির পরিবর্তে দর্শনের মাধ্যমে শহরের নৈতিক ল্যান্ডস্কেপ গঠনের বিষয়ে।  অলিগার্চ এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভক্ত মেরুকৃত এথেনিয়ান রাজনৈতিক জলবায়ুতে সক্রেটিস কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।  যদিও কোন সুস্পষ্ট পাঠ্য প্রমাণ নেই, একটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত তত্ত্বের মতে সক্রেটিস গণতন্ত্রের দিকে ঝুঁকেছিলেন: তিনি ত্রিশ অত্যাচারীদের অলিগারিক সরকার তাকে যে আদেশ দিয়েছিলেন তা তিনি অমান্য করেছিলেন;  তিনি এথেন্সের আইন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সম্মান করতেন (যা গণতন্ত্রীরা প্রণয়ন করেছিলেন);  এবং, এই যুক্তি অনুসারে, গণতান্ত্রিক এথেন্সের আদর্শের প্রতি তার সখ্যতা ছিল একটি কারণ কেন তিনি কারাগার এবং মৃত্যুদণ্ড থেকে পালাতে চাননি।  অন্যদিকে, কিছু প্রমাণ রয়েছে যে সক্রেটিস অলিগার্কির দিকে ঝুঁকেছিলেন: তার বেশিরভাগ বন্ধুই অলিগার্কিকে সমর্থন করেছিলেন, তিনি অনেকের মতামতকে অবজ্ঞা করেছিলেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সমালোচক ছিলেন এবং প্রোটাগোরাস কিছু গণতান্ত্রিক বিরোধী উপাদান দেখান।  ]  একটি কম মূলধারার যুক্তি প্রস্তাব করে যে সক্রেটিস গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রবাদের পক্ষে ছিলেন, একটি তত্ত্ব যা জনজীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শহরের জন্য উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দেয়। [166]
তবুও আরেকটি পরামর্শ হল যে সক্রেটিস উদারতাবাদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মতামতকে সমর্থন করেছিলেন, একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ যা আলোকিতকরণের যুগে গঠিত হয়েছিল।  এই যুক্তিটি বেশিরভাগই ক্রিটো এবং ক্ষমার উপর ভিত্তি করে, যেখানে সক্রেটিস শহর এবং এর নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক উপকারী সম্পর্কের কথা বলেছেন।  সক্রেটিসের মতে, নাগরিকরা নৈতিকভাবে স্বায়ত্তশাসিত এবং তারা ইচ্ছা করলে শহর ছেড়ে চলে যেতে পারে-কিন্তু, শহরের মধ্যে থেকে, তারা আইন এবং তাদের উপর শহরের কর্তৃত্বও স্বীকার করে।  অন্যদিকে, সক্রেটিসকে নাগরিক অবাধ্যতার প্রথম প্রবক্তা হিসাবে দেখা হয়েছে।  অন্যায়ের প্রতি সক্রেটিসের তীব্র আপত্তি, লিওনকে গ্রেপ্তার করার জন্য ত্রিশ অত্যাচারীদের আদেশ পালনে তার অস্বীকৃতি, এই লাইনের ইঙ্গিত দেয়।  যেমন তিনি ক্রিটিয়াসে বলেছেন, "একজন কখনোই অন্যায়ভাবে কাজ করা উচিত নয়, এমনকি নিজের প্রতি করা অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতেও।"  অনেক চিন্তা-ভাবনার পর তারা তাদের অন্যায় বলে মনে করে।

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

হেলেনিস্টিক যুগ মৃত্যুর পর দর্শনে সক্রেটিসের প্রভাব অপরিসীম। Epicureans এবং Pyrrhonists বাদে, সক্রেটিসের পরে প্রায় সব দার্শনিক স্রোত তার শিকড় খুঁজে পায়: প্লেটোর একাডেমী, এরিস্টটলের লিসিয়াম, সিনিকস এবং স্টোইক্স। [170] খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দী পর্যন্ত সক্রেটিসের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। জীবনের উদ্দেশ্য বা অরেটে (গুণ) এর প্রকৃতির মতো মৌলিক প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন স্কুল ভিন্ন ভিন্ন ছিল, যেহেতু সক্রেটিস তাদের কোনো উত্তর দেননি, এবং সেই কারণে, দার্শনিক স্কুলগুলি পরবর্তীকালে তার চিন্তাধারার ব্যাখ্যায় ব্যাপকভাবে ভিন্ন হয়ে যায়। ] তিনি প্রাকৃতিক বিশ্বের একটি অধ্যয়ন থেকে দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু স্থানান্তরিত বলে মনে করা হয়, যেমনটি প্রাক-সক্রেটিক দার্শনিকদের ক্ষেত্রে ছিল, মানব বিষয়ক অধ্যয়নের দিকে।

সক্রেটিসের অবিলম্বে অনুসারীরা ছিলেন তার ছাত্র, মেগারার ইউক্লিড, অ্যারিস্টিপাস এবং অ্যান্টিসথেনিস, যারা নিজেদের মধ্যে ভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং স্বাধীন ট্রাজেক্টরি অনুসরণ করেন। [174]  সক্রেটিসের ছাত্রদের সম্পূর্ণ মতবাদ পুনর্গঠন করা কঠিন। [175]  অ্যান্টিসথেনিসের বস্তুগত দ্রব্যের প্রতি গভীর অবজ্ঞা ছিল।  তার মতে, পুণ্যই ছিল সব কিছুর ব্যাপার।  ডায়োজেনিস এবং সিনিকরা এই চিন্তাধারা অব্যাহত রেখেছেন।  বিপরীত প্রান্তে, অ্যারিস্টিপাস সম্পদ সঞ্চয়কে সমর্থন করেছিলেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছিলেন।  এথেন্স ত্যাগ করে এবং তার নিজ শহর সাইরেনে ফিরে আসার পর, তিনি সিরেনিক দার্শনিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যা হেডোনিজমের উপর ভিত্তি করে এবং শারীরিক আনন্দের সাথে একটি সহজ জীবনযাপনকে সমর্থন করে।  তার স্কুলটি তার নাতির কাছে, একই নাম বহন করে।  জেনোফোনের কাজের মধ্যে একটি সংলাপ রয়েছে যেখানে অ্যারিস্টিপাস দাবি করেছেন যে তিনি শাসন করতে বা অন্যদের দ্বারা শাসিত না হয়ে বাঁচতে চান।  উপরন্তু, অ্যারিস্টিপাস জ্ঞানতত্ত্বের উপর একটি সংশয়বাদী অবস্থান বজায় রেখেছিলেন, দাবি করেছিলেন যে আমরা কেবল আমাদের নিজস্ব অনুভূতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি।  এই দৃষ্টিভঙ্গি অজ্ঞতা সক্রেটিক বোঝার সঙ্গে অনুরণিত. [178]  ইউক্লিড ছিলেন সক্রেটিসের সমসাময়িক।  সক্রেটিসের বিচার ও মৃত্যুর পর, তিনি এথেন্স ত্যাগ করেন নিকটবর্তী শহর মেগারার উদ্দেশ্যে, যেখানে তিনি একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম ছিল মেগারিয়ান।  তার তত্ত্বটি পারমেনিডিসের প্রাক-সক্রেটিক মনবাদের উপর নির্মিত হয়েছিল।  ইউক্লিড সক্রেটিসের চিন্তাধারা অব্যাহত রেখেছিলেন, সদগুণের প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে।
স্টোইকস সক্রেটিসের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করত।  তারা অসঙ্গতি এড়াতে একটি হাতিয়ার হিসাবে সক্রেটিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিল।  তাদের নৈতিক মতবাদগুলি জ্ঞান এবং গুণের মাধ্যমে কীভাবে একটি মসৃণ জীবনযাপন করা যায় তার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিল।  স্টোইকস সুখ অর্জনে সদগুণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিযুক্ত করেছেন এবং ভালতা এবং নৈতিক উৎকর্ষের মধ্যে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যার সবকটিই সক্রেটিক চিন্তাধারার প্রতিধ্বনি করেছে। [180]  একই সময়ে, প্লেটোনিজমের দার্শনিক স্রোত সক্রেটিসকে তার পূর্বসূরি, নীতিশাস্ত্র এবং জ্ঞানের তত্ত্বে দাবি করেছিল।  প্লেটো দ্বারা প্রতিষ্ঠার প্রায় 80 বছর পর অ্যাকাডেমির প্রধান হয়েছিলেন আর্সেসিলাস, আমূল পরিবর্তন করেছিলেন একাডেমীর মতবাদ যা এখন একাডেমিক সংশয়বাদ নামে পরিচিত, যা অজ্ঞতার সক্রেটিক দর্শনকে কেন্দ্র করে।  একাডেমিক সংশয়বাদীরা নৈতিকতার বিষয়ে সক্রেটিসের প্রকৃত উত্তরাধিকারী কে তা নিয়ে স্টোইকদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। [181]  যখন স্টোইকস জ্ঞান-ভিত্তিক নীতিশাস্ত্রের উপর জোর দিয়েছিলেন, আর্সেসিলাস সক্রেটিক অজ্ঞতার উপর নির্ভর করেছিলেন।  আর্সেসিলাসের কাছে স্টোইক্সের উত্তর ছিল যে সক্রেটিক অজ্ঞতা ছিল সক্রেটিক বিড়ম্বনার অংশ (তারা নিজেরাই বিড়ম্বনার ব্যবহারকে অস্বীকার করেছিল), একটি যুক্তি যা শেষ পর্যন্ত পরবর্তী প্রাচীনকালে সক্রেটিসের প্রভাবশালী আখ্যান হয়ে ওঠে। [182]
অ্যারিস্টটল সক্রেটিসকে একজন গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক হিসেবে বিবেচনা করলেও সক্রেটিস অ্যারিস্টটলীয় চিন্তাধারার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন না।  অ্যারিস্টটলের একজন ছাত্র, অ্যারিস্টোক্সেনাস এমনকি সক্রেটিসের কেলেঙ্কারির বিবরণ দিয়ে একটি বই লিখেছেন।
এপিকিউরিয়ানরা সক্রেটিসের বিরোধী ছিল।  তারা তাকে কুসংস্কারের জন্য আক্রমণ করেছিল, তার ডেমোনিয়নে তার বিশ্বাস এবং ডেলফির ওরাকলের প্রতি তার সম্মানের সমালোচনা করেছিল।  তারা সক্রেটিসকে তার চরিত্র এবং বিভিন্ন দোষের জন্যও সমালোচনা করেছিল এবং বেশিরভাগই তার বিদ্রুপের উপর ফোকাস করেছিল, যা একজন দার্শনিকের জন্য অনুপযুক্ত এবং একজন শিক্ষকের জন্য অনুপযুক্ত বলে মনে করা হয়েছিল। [185]
পাইরহোনিস্টরাও সক্রেটিসের বিরোধী ছিল, তাকে অভিযুক্ত করেছিল যে তিনি নৈতিকতা সম্পর্কে একজন অনুরাগী ছিলেন, যিনি উপহাস নম্রতায় জড়িত ছিলেন এবং যারা লোকেদের উপহাস ও উপহাস করেছিলেন।

মধ্যযুগীয় বিশ্ব সিক্রেটিক চিন্তাধারা অ্যারিস্টটল এবং স্টোনিক্সের পাশাপাশি ইসলামী মধ্য প্রাচ্যের দিকে তার পথ খুঁজে পেয়েছিল। সোক্রেটিস, পাশাপাশি অন্যান্য প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যে প্লেটোর কাজগুলি আল-কিলি, জাবির ইবনে হায়ান এবং মুতাজিলার প্রাথমিক মুসলিম পণ্ডিতদের দ্বারা আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছিল। মুসলিম পণ্ডিতদের জন্য, সোক্রেটসকে তাঁর নীতিশাস্ত্রের সাথে মিলিত করার জন্য প্রশংসিত হয়েছিল এবং মুহাম্মদের ব্যক্তিত্বের সাথে এই বিষয়ে অনুরূপতার কারণে তার নীতিশাস্ত্রকে একত্রিত করার জন্য প্রশংসিত হয়েছিল। [187] সোক্রেটিক মতবাদ ইসলামিক বিশ্বাসের সাথে মেলে পরিবর্তিত হয়েছিল: মুসলিম পণ্ডিতদের মতে, সক্রেটিস একেশ্বরবাদের জন্য এবং এই জগতের সাময়িকতার জন্য এবং পরবর্তী জীবনে পুরষ্কারের জন্য আর্গুমেন্ট তৈরি করেছে। [188] আরবী ভাষী বিশ্বের তার প্রভাব বর্তমান দিন চলতে থাকে। [189] মধ্যযুগীয় সময়ে, সোক্রেটের চিন্তাধারা সম্পূর্ণ খ্রিস্টান বিশ্বের মধ্যে বেঁচে থাকে; যাইহোক, মিশান্টিন, ইউসিবিয়াস এবং অগাস্টাইনের মতো খ্রিস্টান পণ্ডিতদের মতো সোক্রেটসের উপর কাজ করে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে, যেখানে সোক্রেটস একটি খ্রিস্টান লেন্সের অধীনে অধ্যয়ন করা হয়। [190] কনস্ট্যান্টিনোপলের পতনের পর, অনেক গ্রন্থে রোমান খ্রিস্টানতার জগতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, যেখানে তারা ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, প্রাচীন সমাজতান্ত্রিক দর্শন, নবজাগরণের আগে শাস্ত্রীয় সাহিত্যের মতো, প্রথমে খ্রিস্টান জগতে সন্দেহের সাথে মোকাবেলা করা হয়েছিল। [191] প্রাথমিক ইতালীয় নবজাগরণের সময়, সক্রেটিসের দুটি ভিন্ন বিবরণ বিকশিত হয়। [192] একদিকে, মানবতাবাদী আন্দোলন শাস্ত্রীয় লেখকদের আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত করে। লিওনার্দো ব্রুনি প্লেটোর সিক্র্যাটিক ডায়ালোগের অনেকগুলি অনুবাদ করেছেন, তার ছাত্রী জায়িয়ানোজো মেনটি একটি ভাল-সার্কুলেটেড বই, সক্রেটিসের একটি জীবন রচনা করেছিলেন। তারা উভয় সক্রেটিসের একটি নাগরিক সংস্করণ উপস্থাপন করে, যার মধ্যে সোক্রেটস একটি মানবতাবাদী এবং রিপাবলিকানবাদ সমর্থক ছিল। ব্রুনি এবং মানেটি জীবনের একটি পাপী উপায় হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা করতে আগ্রহী ছিল; খ্রিস্টান নৈতিকতা সঙ্গে সংলগ্ন ছিল socrates একটি দৃশ্য উপস্থাপন তাদের কারণ সাহায্য। এভাবে, তাদের সংলাপের অংশগুলি বোঝাতে হয়েছিল, বিশেষ করে যারা সমকামীতা বা পেডেরাস্টিস (আলসিবিয়াডেসের সাথে) এর সম্ভাবনাকে প্রকাশ করার জন্য হাজির হয়েছিল, অথবা যা পরামর্শ দিয়েছিল যে সোশ্র্যাটিক ডাইমোন একটি ঈশ্বর ছিল। [193] অন্যদিকে, ইতালীয় Neoplatonists দ্বারা, দার্শনিক Neoplatonists দ্বারা সোক্রেটস একটি ভিন্ন ছবি উপস্থাপন করা হয়, দার্শনিক এবং পুরোহিত Marsilio Ficino নেতৃত্বে। Ficino Socrates এর অ-অনুক্রমিক এবং অনানুষ্ঠানিক উপায় শিক্ষার দ্বারা প্রভাবিত ছিল, যা তিনি প্রতিলিপি করার চেষ্টা করেছিলেন। Ficino সমাজের একটি পবিত্র ছবি চিত্রিত, যীশু খ্রীষ্টের জীবনের সাথে সমান্তরাল খুঁজে বের করে। Ficino এবং তার অনুগামীদের জন্য, Socratic অজ্ঞতা তার স্বীকৃতি সংকেত যে সমস্ত জ্ঞান ঈশ্বর দেওয়া হয় (Socratic Daimon মাধ্যমে)। [194]

আধুনিক সময় প্রারম্ভিক আধুনিক ফ্রান্সে, বিভিন্ন উপন্যাস এবং ব্যঙ্গ নাটকে সক্রেটিসের চিত্র তার দার্শনিক চিন্তার পরিবর্তে তার ব্যক্তিগত জীবনের বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রাধান্য পেয়েছে। কিছু চিন্তাবিদ সক্রেটিসকে হাইলাইট করতে এবং তাদের নিজস্ব যুগের বিতর্কের উপর মন্তব্য করতে ব্যবহার করতেন, যেমন থিওফিল ডি ভায়াউ যিনি একজন খ্রিস্টধর্মী সক্রেটিসকে নাস্তিকতার জন্য অভিযুক্ত চিত্রিত করেছিলেন,[197] যখন ভলতেয়ারের জন্য, সক্রেটিসের চিত্রটি একটি যুক্তি-ভিত্তিক আস্তিকের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। মিশেল দে মন্টেইগন সক্রেটিসের উপর বিস্তৃতভাবে লিখেছেন, সমসাময়িক ধর্মীয় গোঁড়াদের প্রতি কাউন্টারওয়েট হিসাবে যুক্তিবাদের সাথে তাকে যুক্ত করেছেন।

18 শতকে, জার্মান ভাববাদ প্রধানত হেগেলের কাজের মাধ্যমে সক্রেটিসের প্রতি দার্শনিক আগ্রহকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল।  হেগেলের জন্য, সক্রেটিস মানবজাতির ইতিহাসে মুক্ত আত্মনিবেদন বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের নীতির প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় চিহ্নিত করেছিলেন।  যদিও হেগেল তার অবদানের জন্য সক্রেটিসকে প্রশংসা করেন, তবুও তিনি এথেনিয়ান আদালতকে ন্যায্যতা দেন, কারণ আত্ম-নিয়ন্ত্রণের উপর সক্রেটিসের জেদ সিটলিচকিটের ধ্বংসাত্মক হবে (একটি হেগেলীয় শব্দ যা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এবং আইন দ্বারা আকৃতির জীবনধারাকে নির্দেশ করে)।  200]  এছাড়াও, হেগেল যুক্তিবাদের সক্রেটিক ব্যবহারকে মানব যুক্তির উপর প্রোটাগোরাসের ফোকাসের ধারাবাহিকতা হিসাবে দেখেন (যেমন মূলমন্ত্র হোমো মেনসুরাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: "মানুষই সমস্ত কিছুর পরিমাপ"), তবে সংশোধিত: এটি আমাদের যুক্তি যা আমাদের সাহায্য করতে পারে।  বাস্তবতা সম্পর্কে উদ্দেশ্যমূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছান।  এছাড়াও, হেগেল সক্রেটিসকে পরবর্তী প্রাচীন সংশয়বাদী দার্শনিকদের পূর্বসূরি হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন, যদিও তিনি কেন স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি। [202]
সোরেন কিয়েরকেগার্ড সক্রেটিসকে তার শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করতেন,[203] এবং তার উপর তার মাস্টারের থিসিস, সক্রেটিসের ক্রমাগত রেফারেন্স সহ বিদ্রুপাতের ধারণাটি রচনা করেন।  সেখানে তিনি যুক্তি দেন যে সক্রেটিস একজন নৈতিক দার্শনিক নন কিন্তু তিনি সম্পূর্ণরূপে একজন লৌহবাদী।  তিনি সক্রেটিসের লেখা পরিহারের দিকেও মনোনিবেশ করেছিলেন: কিয়েরকেগার্ডের জন্য, এই পরিহার ছিল নম্রতার একটি চিহ্ন, যা সক্রেটিসের তার অজ্ঞতার স্বীকৃতি থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।  কিয়েরকেগার্ডের মতে সক্রেটিস শুধু কিছুই লিখেননি, কিন্তু তার সমসাময়িকরা তাকে একজন দার্শনিক হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং ভুল বুঝেছিলেন, যার ফলে সক্রেটিস চিন্তাভাবনা বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের প্রায় অসম্ভব কাজ ছিল।  কিয়েরকেগার্ডের দৃষ্টিতে শুধুমাত্র প্লেটোর ক্ষমাই প্রকৃত সক্রেটিসের কাছাকাছি ছিল।  তার লেখায়, তিনি সক্রেটিসকে ঘন ঘন পুনর্বিবেচনা করতেন;  তার পরবর্তী কাজ, Kierkegaard সক্রেটিক চিন্তাধারা নৈতিক উপাদান খুঁজে পাওয়া যায়.  সক্রেটিস কিয়েরকেগার্ডের জন্য কেবল অধ্যয়নের বিষয়ই ছিলেন না, তিনি একজন মডেলও ছিলেন: কিয়েরকেগার্ড তার কাজকে সক্রেটিসের দার্শনিক হিসাবে সমান্তরাল করেছিলেন।  তিনি লিখেছেন, "আমার সামনে একমাত্র উপমা আছে সক্রেটিস; আমার কাজ হল একটি সক্রেটিক কাজ, খ্রিস্টান হওয়া কী তার সংজ্ঞা নিরীক্ষা করা", তার লক্ষ্য ছিল সমাজকে খ্রিস্টান আদর্শের কাছাকাছি নিয়ে আসা, যেহেতু তিনি  বিশ্বাস করতেন যে খ্রিস্টধর্ম একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে উঠেছে, কোনো খ্রিস্টান সারাংশের অকার্যকর।  কিয়েরকেগার্ড খ্রিস্টান হতে অস্বীকার করেছিলেন, যেমন সক্রেটিস কোনো জ্ঞানের অধিকারী হতে অস্বীকার করেছিলেন।
ফ্রেডরিখ নিটশে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে সক্রেটিসের অবদানের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেন।  তার প্রথম বই, দ্য বার্থ অফ ট্র্যাজেডি (1872), নিটশে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে এবং তার পরে প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার অবনতির জন্য সক্রেটিসকে দায়ী করেছিলেন।  নিটশের জন্য, সক্রেটিস দর্শনের সুযোগকে প্রাক-সক্রেটিক প্রকৃতিবাদ থেকে যুক্তিবাদ এবং বুদ্ধিবৃত্তিতে পরিণত করেছিলেন।  তিনি লিখেছেন: "আমি গ্রীকদের সংস্কারের অগ্রদূত হিসাবে [প্রিসোক্র্যাটিকস]কে কল্পনা করি: কিন্তু সক্রেটিসের নয়";  "এম্পেডোক্লিস এবং ডেমোক্রিটাসের সাথে গ্রীকরা মানুষের অস্তিত্ব, এর অযৌক্তিকতা, এর যন্ত্রণার সঠিক পরিমাপ নেওয়ার পথে তাদের পথে ভাল ছিল; সক্রেটিসকে ধন্যবাদ, তারা কখনই এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি"[211]  প্রভাব, নীটশে প্রস্তাব করেছিলেন, একটি বিকৃত পরিস্থিতি যা তার দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল: আমাদের সংস্কৃতি একটি সক্রেটিক সংস্কৃতি, তিনি বিশ্বাস করতেন।  পরবর্তী প্রকাশনা, দ্য টোয়াইলাইট অফ দ্য আইডলস (1887), নিটশে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে তার আক্রমণ চালিয়ে যান, সক্রেটিক চিন্তাধারায় সদগুণ এবং সুখের সাথে যুক্তির নির্বিচারে সংযোগের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন।  তিনি লিখেছেন: "আমি বোঝার চেষ্টা করি সক্রেটিক সমস্যাটি কোন আংশিক এবং আদর্শিক অবস্থা থেকে উদ্ভূত: তার কারণের সমীকরণ = গুণ = সুখ। পরিচয়ের মতবাদের এই অযৌক্তিকতা দিয়ে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন: প্রাচীন দর্শন আর কখনও মুক্তি পায়নি।  নিজেই [এই মুগ্ধতা থেকে]"[212]  19 শতকের শেষ থেকে 20 শতকের গোড়ার দিকে, সক্রেটিসের প্রতি নীটশের শত্রুতার সবচেয়ে সাধারণ ব্যাখ্যা ছিল তার যুক্তিবাদ বিরোধী;  তিনি সক্রেটিসকে ইউরোপীয় যুক্তিবাদের জনক মনে করতেন।  20 শতকের মাঝামাঝি, দার্শনিক ওয়াল্টার কফম্যান একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন যে যুক্তি দিয়ে যে নিটশে সক্রেটিসকে প্রশংসা করেছিলেন।  বর্তমান মূলধারার মতামত হল যে নিটশে সক্রেটিসের প্রতি দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন।


উরুগুয়ের জাতীয় গ্রন্থাগারের বাইরে সক্রেটিসের মূর্তি, মন্টেভিডিও
মহাদেশীয় দার্শনিক হান্না আরেন্ড্ট, লিও স্ট্রস এবং কার্ল পপার, সর্বগ্রাসী শাসনের উত্থানের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা অনুভব করার পরে, সক্রেটিসকে স্বতন্ত্র বিবেকের আইকন হিসাবে দেখেছিলেন।  জেরুজালেমের ইখম্যান (1963) গ্রন্থে আরেন্ড্ট পরামর্শ দেন যে সক্রেটিসের ক্রমাগত প্রশ্ন এবং আত্ম-প্রতিফলন মন্দের অস্বাভাবিকতাকে প্রতিরোধ করতে পারে।  স্ট্রস সক্রেটিসের রাজনৈতিক চিন্তাকে প্লেটোর সমান্তরাল বলে মনে করেন।  তিনি প্লেটোর প্রজাতন্ত্রের একজন অভিজাত সক্রেটিসকে উদাহরণ হিসাবে দেখেন যে কেন পলিস জীবনকে সংগঠিত করার একটি আদর্শ উপায় নয়, এবং হতে পারে না, যেহেতু দার্শনিক সত্য জনগণের দ্বারা হজম করা যায় না। [216]  পপার বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন: তিনি যুক্তি দেন যে সক্রেটিস প্লেটোর সর্বগ্রাসী ধারণার বিরোধিতা করেন।  পপারের জন্য, এথেনিয়ান গণতন্ত্রের সাথে সক্রেটিক ব্যক্তিবাদ, পপারের "ওপেন সোসাইটি" এর ধারণাকে বোঝায় যেমনটি তার ওপেন সোসাইটি অ্যান্ড ইটস এনিমিজ (১৯৪৫) এ বর্ণিত।

কিছু দার্শনিক উক্তি[সম্পাদনা]

  • অপরীক্ষিত জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা গ্লানিকর।
  • পোশাক হল বাইরের আবরণ, মানুষের আসল সৌন্দর্য হচ্ছে তার জ্ঞান।
  • নিজেকে জানো।
  • জ্ঞানের শিক্ষকের কাজ হচ্ছে কোনো ব্যক্তিকে প্রশ্ন করে তার কাছ থেকে উত্তর জেনে দেখানো যে জ্ঞানটা তার মধ্যেই ছিল।
  • পৃথিবীতে শুধুমাত্র একটি-ই ভালো আছে, জ্ঞান। আর একটি-ই খারাপ আছে, অজ্ঞতা।
  • আমি কাউকে কিছু শিক্ষা দিতে পারবনা, আমি শুধু তাদের চিন্তা করাতে পারব।
  • বিস্ময় হল জ্ঞানের শুরু।
  • টাকার বিনিময়ে শিক্ষা অর্জনের চেয়ে অশিক্ষিত থাকা ভালো।
  • বন্ধু হচ্ছে দুটি হৃদয়ের একটি অভিন্ন মন।
  • প্রকৃত জ্ঞান নিজেকে জানার মধ্যে, অন্য কিছু জানার মধ্যে নয়।
  • তুমি কিছুই জানোনা এটা জানা-ই জ্ঞানের আসল মানে।
  • যাই হোক বিয়ে করো। তোমার স্ত্রী ভালো হলে তুমি হবে সুখী, আর খারাপ হলে হবে দার্শনিক।
  • ব্যস্ত জীবনের অনুর্বরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।
  • আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত সাধারণের ভালোর জন্য। শুধু ঈশ্বরই জানেন কীসে আমাদের ভালো।
  • সত্যিকারের জ্ঞান আমাদের সবার কাছেই আসে, যখন আমরা বুঝতে পারি যে, আমরা আমাদের জীবন, আমাদের নিজেদের সম্পর্কে এবং আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তার সম্পর্কে কত কম জানি।
  • সেই সাহসী যে পালিয়ে না গিয়ে তার দায়িত্বে থাকে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
  • নিজেকে উন্নয়নের জন্য অন্য মানুষের লেখালেখিতে কাজে লাগাও এই জন্য যে অন্য মানুষ কিসের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে তা তুমি যাতে সহজেই বুঝতে পারো।
  • সুখ্যাতি অর্জনের উপায় হল তুমি কী হিসেবে আবির্ভূত হতে চাও তার উপক্রম হওয়া।
  • তুমি যা হতে চাও তা-ই হও।
  • কঠিন যুদ্ধেও সবার প্রতি দয়ালু হও।
  • শক্ত মন আলোচনা করে ধারণা নিয়ে, গড়পড়তা মন আলোচনা করে ঘটনা নিয়ে, দুর্বল মন মানুষ নিয়ে আলোচনা করে।
  • বন্ধুত্ব করো ধীরে ধীরে, কিন্তু যখন বন্ধুত্ব হবে এটা দৃঢ় করো এবং স্থায়ী করো।
  • মৃত্যুই হল মানুষের সর্বাপেক্ষা বড়ো আশীর্বাদ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The ancient tradition is attested in Pausanias, 1.22.8; for a modern denial, see Kleine Pauly, "Sokrates" 7; the tradition is a confusion with the sculptor, Socrates of Thebes, mentioned in Pausanias 9.25.3, a contemporary of Pindar.
  2. সক্রেটিস; প্রাচীন ও মধ্যযুগের পাশ্চাত্য দর্শন; লেখক - আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; শিখা প্রকাশনী; প্রকাশকাল: ডিসেম্বর, ২০০০
  3. Guthrie 1972, pp. 5–7; Dorion 2011, pp. 1–2; May 2000, p. 9; Waterfield 2013, p. 1.
  4. Guthrie 1972, পৃ. 15–16।
  5. Guthrie 1972, পৃ. 18।
  6. Guthrie 1972, পৃ. 20–23।
  7. Guthrie 1972, পৃ. 25–26।
  8. Guthrie 1972, pp. 29–31; Dorion 2011, p. 6.
  9. Guthrie 1972, পৃ. 30।
  10. Guthrie 1972, pp. 29–33; Waterfield 2013, pp. 3–4.
  11. May 2000, p. 20; Dorion 2011, p. 6–7.
  12. May 2000, p. 20; Waterfield 2013, pp. 3–4.
  13. Guthrie 1972, পৃ. 15।
  14. May 2000, পৃ. 19–20।
  15. Dorion 2011, পৃ. 4, 10।
  16. Waterfield 2013, পৃ. 10-13।
  17. Trans. based on Gomme, Commentary on Thucydides 2.384.

প্রাসঙ্গিক অধ্যয়ন[সম্পাদনা]

  • প্রাচীন ও মধ্যযুগের পাশ্চাত্য দর্শন : অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিখা প্রকাশনী; আইএসবিএন ৯৮৪-৪৫৪-০২৫-৯
  • Bruell, C. (1994). “On Plato’s Political Philosophy,” Review of Politics, 56: 261-82.
  • Bruell, C. (1999). On the Socratic Education: An Introduction to the Shorter Platonic Dialogues, Lanham, MD: Rowman and Littlefield.
  • for review of socratic irony see Kieran Egan The educated mind : how cognitive tools shape our understanding. (1997) University of Chicago Press, Chicago. আইএসবিএন ০-২২৬-১৯০৩৬-৬ p. 137-144
  • Hanson, V.D. (2001). "Socrates Dies at Delium, 424 B.C.," What If? 2, Robert Cowley, editor, G.P. Putnam's Sons, NY.
  • Luce, J.V. (1992). An Introduction to Greek Philosophy, Thames & Hudson, NY.
  • Maritain, J. (1930, 1991). Introduction to Philosophy, Christian Classics, Inc., Westminster, MD.
  • Robinson, R. (1953). Ch. 2: "Elenchus", Plato's Earlier Dialectic, 2nd edition (Clarendon Press, Oxford).
  • Robinson, R. (1953). Ch. 3: "Elenchus: Direct and Indirect," Plato's Earlier Dialectic, 2nd edition (Clarendon Press, Oxford).
  • Taylor, C.C.W., Hare, R.M. & Barnes, J. (1998). Greek Philosophers — Socrates, Plato, and Aristotle, Oxford University Press, NY.
  • Taylor, C.C.W. (2001). Socrates: A very short introduction. Oxford: Oxford University Press.
  • G.M.A Grube,(2002). " Plato, Five Dialogues". Hackett Publishing Company, Inc.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]