জাহান্নাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

জাহান্নাম (আরবি: جهنم‎‎) ইসলামের পরিভাষায় পরকালের আবাসস্থল যা এমন পাপীদের জন্য নিদ্দিষ্ট যারা আল্লাহ’র ক্ষমা লাভ করবে না। ইসলাম ধর্মে কুরআনে বর্ণিত জাহান্নামের অপর নামগুলো হল (অথবা নরকের দরজার নাম[১]): জাহীম ("জ্বলন্ত আগুন"[২]), হুতামাহ ("চূর্ণবিচূর্ণকারী"[৩]), হাবিয়াহ ("অতল গহ্বর"[৪]), লাযা, সা’ঈর ("উজ্জ্বল অগ্নিকাণ্ড"[৫]), সাকার,[৬][৭] আন-নার

ইসলামের রাসুল মুহাম্মাদের সা: হাদিসে এবং পরবর্তী সময়ের ইসলামী পণ্ডিতদের লেখাতেও জাহান্নামের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে। জাহান্নাম শব্দটি শাব্দিকভাবে হিব্রু גיהנום গেহেন্নমএর সাথে সম্পর্কিত)।

কোরাআন-এর বর্ণনা অনুযায়ী জাহান্নামের স্তর সাতটি এবং দরজাও সাতটি।[৮]

জাহান্নামের গভীরতা[সম্পাদনা]

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ

আমরা একদা রাসূল (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। এমন সময় একটি বিকট শব্দ শোনা গেল। রাসূল (ﷺ) বললেন, "তোমরা কি জান এটা কিসের শব্দ?" আমরা বললাম, "আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলই এ ব্যাপারে ভাল জানেন।" তিনি বললেন, "এটি একটি পাথর, যা আজ থেকে সত্তর বছর পূর্বে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, আর তা তার তলদেশে যেতে ছিল এবং এত দিনে সেখানে গিয়ে পৌঁছেছে।"

(সহীহ মুসলিম)[৯] আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত।

তিনি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, "বান্দা মুখ দিয়ে এমন কথা বলে ফেলে, যার ফলে সে জাহান্নামে আকাশ ও যমিনের দূরত্বের চেয়েও গভীরে চলে যায়।"

(সহীহ মুসলিম-কিতাবুয যুহদ)[১০]

জাহান্নামের পরিবেশ[সম্পাদনা]

বিশ্বাস করা হয়, জাহান্নামীরা যখন খাবার চাইবে তখন তাদের দেয়া হবে যাক্কুম নামক কাটা যুক্ত ফল, আর তাদেরকে দেয়া হবে জাহান্নামীদের উত্তপ্ত রক্ত ও পুজ

জাহান্নামীদের অবস্থা[সম্পাদনা]

হযরত আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী করিম (সাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, 'হে লোক সকল ! তোমরা (আল্লাহর আযাবের ভয়ে) বেশী করে কাঁদ । আর যদি তোমরা এরূপ করতে না পার (কান্না যদি না আসে) , তাহলে অন্তত (ভয়ে) কান্নার ভান কর । কেননা, জাহান্নামীরা জাহান্নামে গিয়ে এমনভাবে কাঁদবে যে, তাদের অশ্রু তাদের মুখের উপর এভাবে গড়িয়ে পড়বে , মনে হবে এটা পানির নালা । এভাবে কাঁদতে কাঁদতে তাদের অশ্রু শেষ হয়ে যাবে এবং এর স্হলে রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করবে । তারপর (এ রক্ত ক্ষরণের দরুন) তাদের চোখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে যাবে । ( এরপর এই ক্ষত স্হান থেকে আরো বেশী রক্ত বের হবে, তখন জাহান্নামীদের এই অশ্রু এবং রক্তের পরিমাণ এমন হবে যে,) সেখানে যদি অনেকগুলো নৈাকা চালিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অনায়াসে চলতে পারবে । - শরহুস সুন্নাহ ।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত , রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন, 'তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর যে, মুসলিম না হয়ে তোমরা মরবেনা ।' এরপর তিনি (আল্লাহকে এবং আল্লাহর আযাবকে ভয় করা প্রসঙ্গে ) বললেনঃ যাককুম (যার প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে এটা জাহান্নামে উৎপন্ন এক প্রকার গাছ এবং এটা জাহান্নামীদের খাবার হবে ) এর একটি ফোটা যদি এই দুনিয়ায় ছিটকে পড়ে, তাহলে পৃথিবীতে বসবাসকারী সবার জীবনোপকরণ বিনষ্ট করে দিবে । অতএব, ঐ ব্যাক্তির কি অবস্হা হবে যার খাবারই হবে যাক্কুম ?' - তিরমিযি ।

জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে কম শাস্তি হবে আবু তালিবের। তার পায়ে দু’খানা আগুনের জুতা পরিয়ে দেয়া হবে, ফলে তার মাথার মগজ ফুটতে থাকবে। বুখারী- ইবেন আব্বাস (রাঃ) দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুনে ঢুকিয়ের বের করা হবে। তাকে বলা হবে, তুমি দুনিয়াতে কখনো সুখ ভোগ করেছিলে? সে বলবে না, আমি কখনো সুখ ভোগ করিনি। মুসলিম- আনাস (রাঃ) জাহান্নামের সবচেয়ে কম ও সহজতর শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তি পৃথিবী পরিমাণ সম্পদ থাকলেও তার বিনিময়ে এ আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করতো। বুখারী, মুসলিম- আনাস (রাঃ)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rustomji, Nerina (২০০৯)। The Garden and the Fire: Heaven and Hell in Islamic Cultur। Columbia University Press। পৃষ্ঠা 118–9। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  2. কুরআন 2:119
  3. কুরআন 104:4
  4. কুরআন 101:9
  5. কুরআন 67:5
  6. "A Description of Hellfire (part 1 of 5): An Introduction"Religion of Islam। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  7. "The Names of Hell-Fire"IslamCan.com। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  8. কুরআন 15:43–44
  9. সহীহ মুসলিম, জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত পাথর
  10. সহীহ মুসলিম, কিতাবুয যুহদ