বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি

পরীক্ষিত
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি থেকে পুনর্নির্দেশিত)
মালিক আল-গাজী
ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি
বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা
বিহারের একটি বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ যোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে সৈন্যদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি এবং তাঁর সহযোদ্ধা সুবাহদার আউলিয়া খান; বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের চিত্রণ। []
বাংলার প্রথম খিলজি শাসক
রাজত্ব১২০৩-১২০৬
পূর্বসূরিলক্ষ্মণসেন, (মুলিম বিজয়-পুর্ব পর্যন্ত)
উত্তরসূরিশিরাণ খলজী
জন্ম১১৫০
গরমশির, হেলমান্দ, আফগানিস্তান
মৃত্যু১২০৬
দেবকোট, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ
সমাধি
পীরপাল দরগাহ, নারায়ণপুর, গঙ্গারামপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
যুগ সময়কাল
১২শ-১৩শ শতাব্দী
ধর্মসুন্নি ইসলাম
পেশাসেনাধ্যক্ষ, শাসক

ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি[] (ফার্সি: اختيار الدين محمد بن بختيار الخلجي; ১১৫০১২০৬) ছিলেন ঘুরি সাম্রাজ্যের একজন তুর্কি-আফগান[][][] সেনাপতি ও প্রাথমিক দিল্লি সালতানাতের সেনাপতি, যিনি প্রথম মুসলিম হিসেবে বাংলাবিহারের কিছু অংশ জয় করেন।[][][][] তিনি বখতিয়ার খিলজি [১০][১১] নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলার খিলজি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, যারা ১২০৩ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য বাংলা শাসন করে।

খিলজির ভারতবর্ষে আক্রমণের ধারাবাহিতা ১১৯৭ থেকে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ঘটে। এসব আক্রমণের ফলে প্রচুর সন্ন্যাসী পালিয়ে যান, যার ফলে উত্তর ভারতের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[১২] বাংলায় খিলজির শাসনকাল বৌদ্ধ ধর্মের স্থানচ্যুতি ঘটায়।[১৩][১৪] মহাযান বৌদ্ধ শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল নালন্দা। ১২শ শতকের শেষে বখতিয়ার খিলজি এই বিহারটি ধ্বংস করেন।[১৫] তবে বহু ইতিহাসবিদ এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন এবং মনে করেন, বখতিয়ারের আক্রমণ মূলত বৌদ্ধ বিহারগুলো লক্ষ্য করেছিল না, স্থানগুলো আগে থেকেই পরিত্যক্ত বা পতনের পথে ছিল।[১৬]

মূলত তার শাসনকাল বিশেষ করে বঙ্গের সুলতানি শাসনমুঘল আমল থেকেই বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। [১৭]

১২০৬ সালে বখতিয়ার একটি ব্যর্থ তিব্বত অভিযান শুরু করেন এবং ফিরে আসার পর বাংলায় হত্যার শিকার হন। [১৮][১৯] এরপর মুহাম্মদ শিরান খিলজি তার স্থলাভিষিক্ত হন।

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বখতিয়ার খিলজি (মালিক গাজি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি হিসেবেও উল্লিখিত) মুসলিম খিলজি উপজাতির একজন সদস্য ছিলেন,[২০][২১][২২][২৩] যারা ২০০ বছর আগে তুর্কিস্তান থেকে আফগানিস্থানে এসে বসতি স্থাপন করে।[২৪][২৫][২৬] মুসলিম খিলজি উপজাতি উত্তর-পূর্বের প্রায় সকল দখল-যুদ্ধে যোগদানকারী সেনাবাহিনীর অধিপতিদের কাজে নিযুক্ত ছিল।

তুর্কি বংশোদ্ভুত বখতিয়ার বিন মুহাম্মাদ প্রাথমিক জীবনে একজন ভাগ্যান্বেষী সৈনিক ছিলেন। তিনি আফগানিস্তানের গরমশিরের (বর্তমানে দশতে মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।[২৭][২৮] তার বাল্যজীবন সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না। তবে ধারণা করা হয়, দারিদ্রের পীড়নে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেন এবং নিজের কর্মশক্তির উপর নির্ভর করে অন্যদের ন্যায় ভাগ্যান্বেষণে বের হন। প্রথমে তিনি গজনভি শাসক মুহাম্মাদ ঘুরির সৈন্যবাহিনীতে চাকরির আবেদন করে ব্যর্থ হন এবং চাকরিলাভে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লিতে কুতুবুদ্দিন আইবেকের দরবারে হাজির হন। এখানেও তিনি চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। অতপর তিনি বাদাউনে যান। সেখানকার শাসনকর্তা মালিক হিজব উদ্দিন তাকে নগদ বেতনে সেনাবাহিনীতে চাকরি প্রদান করেন। কিন্তু উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এই সামান্য বেতনভুক্ত সিপাহি হয়ে পরিতৃপ্ত হতে পারেননি। অল্পকাল পর তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যা গমন করেন এবং অযোধ্যার তৎকালীন শাসক হুসামউদ্দিন তাকে বর্তমান মির্জাপুর জেলার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে অবস্থিত ভগবৎ ও ভিউলি নামক দুইটি পরগনার জায়গির প্রদান করেন। এখানেই বখতিয়ার তার ভবিষ্যৎ উন্নতির উৎস খুঁজে পান এবং এই দুটি পরগনাই পরবর্তীকালে তার শক্তির উৎস হয়ে ওঠে।[২৯]

দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল বিজয়ী ঘুরি সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন খিলজি।[৩০]

বখতিয়ার খিলজির (১২০৪–১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলার মুদ্রা। এটি মুইজউদ্দিন মুহাম্মাদের নামে উৎকীর্ণ, যার তারিখ সংবৎ ১২৬২ (১২০৪ সাল)।
সম্মুখভাগ: অশ্বারোহীর চিত্র এবং এর চারপাশে নাগরী লিপিতে লেখা: সংবৎ ১২৬২ ভাদ্রপদ "আগস্ট, ১২৬২ সাল"। বিপরীত ভাগ: নাগরী লিপি: শ্রীম হা/ মীর মহম /দ সামহ "প্রভু আমির মুহাম্মাদ [ইবনে] সাম"।[৩১][৩২]
গভর্নর (১২০৪–১২০৬ খ্রি.) হিসেবে মুহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজির আমলে বাংলার আরেক ধরনের মুদ্রা। সম্মুখভাগ: বর্শা হাতে ধাবমান অশ্বারোহী, যার চারপাশে দেবনাগরী লিপিতে খোদাই করা আছে (শ্রী মহামদ সামঃ "প্রভু মুহাম্মাদ [ইবনে] সাম")। পশ্চাৎভাগ: আরবিতে মুইজউদ্দিন মুহাম্মাদ বিন সামের নাম ও উপাধি। এটি ১২০৪–১২০৫ সালে মুদ্রিত হয়।[৩১] সংস্কৃত এবং আরবি উভয় লিপি ব্যবহৃত এটিই হলো বাংলায় তার প্রাচীনতম মুদ্রা।[৩৩]
নালন্দা বিহার, নালন্দা, বিহার

১২০১ সালে বখতিয়ার মাত্র দুই হাজার সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে আক্রমণ করতে থাকেন। তখন তার বীরত্বের কথা চারিদিক ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং অনেক মুসলিম সৈনিক তার বাহিনীতে যোগদান করতে থাকে; ফলে তার সৈন্যসংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে চলতে চলতে তিনি একদিন এক প্রাচীরবেষ্টিত দুর্গের মতো একটি স্থানে আসেন এবং আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে তিনি প্রতিপক্ষের কোনো বাধার সম্মুখীন হননি। দুর্গ জয়ের পর তিনি দেখেন যে, দুর্গের অধিবাসীরা প্রত্যেকেই মুণ্ডিতমস্তক এবং দুর্গটি বইপত্র দিয়ে ভরা। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জানতে পারেন যে, এটি একটি বৌদ্ধ বিহার। এটি ওদন্ত বিহার বা ওদন্তপুরী বিহার ছিল। তখন থেকেই মুসলিমরা জায়গাটিকে বিহার বা বিহার শরিফ নামে ডাকে। বিহার জয়ের পর বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্নসহ কুতুবুদ্দীন আইবেকের সাথে সাক্ষাত করেন এবং কুতুবুদ্দিন কর্তৃক সম্মানিত হয়ে ফিরে আসেন। এরপরই তিনি বাংলা জয়ের জন্য মনস্থির করেন এবং শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন।

বখতিয়ারের বাংলা অভিযানের সময় তৎকালীন বাংলার রাজা লক্ষ্মণসেন রাজধানী নদিয়ায় অবস্থান করছিলেন। কারণ নদিয়া ছিল বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে সবচেয়ে সুরক্ষিত অঞ্চল। বলা হয়ে থাকে যে, বখতিয়ার খিলজির নদিয়ায় আগমনের কিছুদিন পূর্বে রাজসভার কিছু দৈবজ্ঞ পণ্ডিত তাকে সতর্ক করে দেন যে, এক তুর্কি সৈনিক তাকে পরাজিত করতে পারে। ফলে লক্ষ্মণসেনের মনে ভীতির সঞ্চার হয় এবং তিনি নদিয়ার প্রবেশপথ রাজমহল ও তেলিয়াগড়ের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেন। লক্ষ্মণসেনের ধারণা ছিল যে, ঝাড়খণ্ডের শ্বাপদশংকুল অরণ্য দিয়ে কোনো সৈন্যবাহিনীর পক্ষে নদিয়া আক্রমণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু বখতিয়ার সেইপথেই তার বাহিনীকে নিয়ে আসেন। নদিয়া অভিযানকালে বখতিয়ার ঝাড়খণ্ডের মধ্য দিয়ে এত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হন যে, তার সাথে মাত্র ১৭ জন সৈনিকই তাকে অনুসরণ করতে সক্ষম হন।[৩৪][৩৫] এরপর বখতিয়ার সরাসরি রাজা লক্ষ্মণসেনের প্রাসাদদ্বারে উপস্থিত হন এবং দ্বাররক্ষী ও রাজ-প্রহরীদের হত্যা করে প্রাসাদের ভিতরে প্রবেশ করেন। এতে প্রাসাদের ভিতরে হইচই পড়ে যায় এবং লক্ষ্মণসেন দিগ্বিদিক হারিয়ে ফেলে প্রাসাদের পেছনের দরজা দিয়ে নৌপথে বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।

খিলজি নদিয়া জয় করে পরবর্তীতে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসহ হন এবং সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন। এই লক্ষণাবতীই পরবর্তীকালে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়। গৌড় জয়ের পর আরও পূর্বদিকে বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায় নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি এলাকাগুলোকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি প্রদেশের জন্য একেকজন সেনাপতিকে শাসক নিযুক্ত করেন। বখতিয়ারের সেনাধ্যক্ষদের মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আলি মর্দান খিলজি, যিনি বরসৌলে এবং হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি, যিনি গঙ্গতরীর শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।

তিব্বত আক্রমণ

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]

বখতিয়ারের রাজ্য পূর্বে তিস্তাকরতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী, উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর পর্যন্ত এবং পশ্চিমে পূর্বে অধিকৃত বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। যদিও বাংলাদেশের বৃহদাংশ তার রাজ্যের বাইরে ছিল। সেসব অঞ্চল দখল না করে তিনি তিব্বত আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল তুর্কিস্তানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। তিব্বত আক্রমণের রাস্তা আবিষ্কারের জন্য তিনি বাংলার উত্তর-পূর্বাংশের উপজাতীয় সদস্য আলী মেচকে নিয়োগ দেন।

সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর তিনি তিন সেনাপতি ও প্রায় দশ হাজার সৈন্য সামন্ত নিয়ে লখনৌতি থেকে তিব্বতের দিকে রওনা দেন।[৩৬] সৈন্যবাহিনী বর্ধনকোট শহরের কাছে পৌঁছলে তারা তিস্তা নদীর চেয়েও তিন গুন চওড়া বেগমতী নদী পার না হয়ে নদীর তীর ধরে তিন দিনের দূরত্ব অতিক্রম করার পর একটি পাথুরে সেতুর কাছে আসেন এবং সেখানে তার দুই সেনাপতিকে সেতুর সুরক্ষায় রেখে সামনে অগ্রসর হন। এরপর সামনে একটি কেল্লা পড়লে কেল্লার সৈন্যদের সাথে তিনি যুদ্ধে জড়ান। এতে তিনি বিজয়ী হলেও বাহিনী ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়। তবে কেল্লার সৈন্যদের থেকে তিনি জানতে পারেন যে, অদূরে করমবত্তন নামক শহরে কয়েক লক্ষ সৈন্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। এই কথা শুনে বখতিয়ার সামনের দিকে অগ্রসর না হয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। ফেরার পথে তার সৈন্যরা প্রচুর কষ্টের সম্মুখীন হন। সেতুর কাছে এসে বখতিয়ার দেখেন যে, পার্বত্য লোকেরা তার দুই সেনাপতির উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের হত্যা করেছে এবং সেতুটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছে। তাই বখতিয়ার খুব অল্প সংখ্যক সৈন্যসহ ফিরে আসতে সক্ষম হন। এই ঘটনার পরই তিনি বুঝতে পারেন, তিব্বত অভিযান বিফল হওয়ার ফলে তার শক্তি মারাত্বক ভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

তিব্বত অভিযান বিফল হলে বখতিয়ার দেবকোটে ফিরে আসেন। গৌহাটির নিকটে ব্রহ্মপুত্রের তীরে কানাই বড়শি বোয়া নামক স্থানে তুর্কি সেনাদলের বিধ্বস্ত হওয়ার বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। তিব্বত অভিযান বিফল ও নিজের সৈন্যবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতির ফলে লখনৌতির মুসলিম রাজ্যের প্রজাদের মধ্যে বিদ্রোহ ও বিরোধ দেখা দিতে শুরু করে। এরই ফলে বাংলার ছোট ছোট মুসলিম রাজ্যগুলো দিল্লির সাথে সম্ভাব্য বিরোধে আগে থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এরকম নানাবিধ চিন্তা ও পরাজয়ের গ্লানির মানসিক চাপে বখতিয়ার অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পরেন। এর অল্প কিছুদিন পরে ১২০৬ সালে শয্যাশায়ী অবস্থায় বখতিয়ার মৃত্যুবরণ করেন। মিনহাজ ই সিরাজের বর্ণনানুসারে, তিনি আলী মর্দান খলজি কর্তৃক ছুরিকাঘাতে নিহত হন।[৩৭][৩৮][৩৯] দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নারায়ণপুরের পীরপাল গ্রামে তার সমাধিস্থল রয়েছে।

বিতর্ক ও সমালোচনা

[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]
বিংশ-শতাব্দীর প্রথম দিকের একটি কাল্পনিক অংকিত চিত্রে বখতিয়ার ও তার সৈন্যরা।

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি সংক্রান্ত সকল তথ্যই মুসলিম ঐতিহাসিক মিনহাজউদ্দিন শিরাজের "তবকাত-ই-নাসিরী" গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। মিনহাজ তাঁর মৃত্যুর প্রায় চল্লিশ বছর পর বাংলায় গিয়ে বাংলা বিজয়ের যে কাহিনী শোনেন তাই মূলত লিপিবদ্ধ করেন এবং তার উপর ভিত্তি করেই ইতিহাস রচিত হয়েছে।

১১৯৩ সালে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য খিলজিকে দায়ী করা হয় এবং সেখানে থাকা সকল ছাত্রকেও তখন হত্যা করা হয় বলে অনেকে অভিযোগ করেন। [৪০][৪১][৪২]

তবে অনেক ইতিহাসবিদ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষক ঘটনাটির সত্যতার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন। তাদের মন্তব্য হলো, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বহিরাগতদের দ্বারা বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হয়। প্রথমে পঞ্চম শতাব্দীতে স্কন্দগুপ্তের সময়ে (৪৫৫-৪৬৭ খ্রি.) চরম বৌদ্ধবৈরী মিহিরাকুলের এটি দ্বারা আক্রান্ত হয়। তখন গণহত্যাও সংঘটিত হয় বলে বর্ণনা করা হয়।[৪৩] এরপর স্কন্দগুপ্ত ও তার স্থলাভিষিক্ত সম্রাটদের হাতে নালন্দা ঘুরে দাঁড়ালেও রাজা শশাঙ্ক মগধে প্রবেশ করে নালন্দা ধ্বংস করেন। তখন তিনি বৌদ্ধদের পবিত্র স্থানগুলিতেও আক্রমণ করেন। শশাঙ্কের আক্রনণের বিবরণ পাওয়া যায় চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙয়ের (৬০২-৬৬৪) সফরনামায়। এরপর রাজা জাতবর্মা সোমপুর মহাবিহার আক্রমণ করে ধ্বংস করেন এবং এর মঠাধ্যক্ষ্য করুণাশ্রী মিত্রকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। ভোজবর্মার বেলাবলিপিতে এর বিবরণ পাওয়া যায়।[৪৪][৪৫]

২০১৪ সালে ভারতের রাজ্যসভায় কংগ্রেস সদস্য করণ সিং ও সিপিএম সদস্য সীতারাম ইয়েচুরির মধ্যে নালন্দার ধ্বংস নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়।[৪৬] করণ সিং দাবি করেন, বখতিয়ার খিলজির হাতে নালন্দা ধ্বংস হয়। ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে জানা যায় যায় যে, ১১০০ সালে বখতিয়ার আক্রমণ করেন। উলসলি হেগের মতে, বখতিয়ার ওদন্তপুরী আক্রমণ করেন ১১৯৩ সালে এবং যদুনাথ সরকারের (১৮৭০-১৯৫৮) মতে, ১১৯৯ সালে। কিন্তু সমস্ত ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, বখতিয়ার ১২০৪ সালের ১০ মে বাংলায় আগমন করেন। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, নালন্দা ১১৯৩ সালে ধ্বংস হয়। কিন্তু তখনো খিলজি বাংলায় আগমন করেননি। এছাড়াও ইতিহাসবিদ মিনহাজ উদ্দীন জুযানির তবাকাত-ই-নাসিরিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বখতিয়ারের কিছু সৈন্য ভুলক্রমে ওদন্তপুরীর মঠে আক্রমণ করে। মিনহাজের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০ সৈন্য নিয়ে বখতিয়ার বিহার দুর্গ আক্রমণ করেন এবং ওদন্তপুরীকে শত্রুদের সেনাশিবির মনে করেন। মূলত বিহারটি সেনাশিবিরের মতোই ছিল। এর চার দিকে বেষ্টনী প্রাচীরও ছিলো। তিব্বতি ঐতিহাসিক লামা তারানাথ (১৫৭৫-১৬৩৪) লেখেন, সেন আমলে তুর্কি অভিযানের ভয়ে বৌদ্ধবিহারগুলোতে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হতো। তবকাতের অনুবাদক আবুল কালাম যাকারিয়ার (১৯১৮-২০১৬) মতে, লড়াই সম্ভবত একপক্ষীয় ছিল না; এখানে প্রচণ্ড প্রতিরোধ হয় এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ও (১৮৮৫-১৯৩০) বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সেনাদের যৌথ প্রতিরোধের বিবরণ উল্লেখ করেন। এছাড়া বিহারের রাজা গোবিন্দপাল নিজের সৈন্যদের নিয়ে বিহারে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ফলে বিহার জয়ের জন্য খলজি এখানেও আক্রমণ করেন। তখন সৈন্যদের পাশাপাশি বৌদ্ধভিক্ষুরাও অস্ত্র ধারণ করেন। যুদ্ধে তারা পরাজিত হন এবং গোবিন্দ পাল নিহত হন।[৪৬] কোনো কোনো গবেষক দাবি করেন যে, সেন রাজাদের গুপ্তচররা তুর্কি বাহিনীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওদন্তপুরী বিহারে আক্রমণ করতে প্ররোচিত করে। দীনেশচন্দ্র সরকার (১৯০৭-১৯৮৪) দাবি করেন যে, ওদন্তপুরী ১১৯৩ সালে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যা বখতিয়ারের আগমনের পূর্বের ঘটনা ছিল। এছাড়া বাংলার ইতিহাস গ্রন্থে সুখময় মুখোপাধ্যায় (মৃ. ২০০০ খ্রি.), "বাংলার ইতিহাস সুলতানি আমল" গ্রন্থে গবেষক আবদুল করিম (১৮৭১-১৯৫৩), "বাংলাদেশের ইতিহাস" গ্রন্থে রমেশচন্দ্র মজুমদার উল্লেখ করেন যে, তবকাতে নালন্দা অভিযানের কোনো বিবরণ নেই; বখতিয়ার নালন্দা আক্রমণ করেননি। তবকাতের পরের ইতিহাসগ্রন্থ ফুতুহ-উস-সালাতিন ও তাজ-উল-মাসিরেও নালন্দা অভিযানের কোনো উল্লেখ নেই। ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮০-১৯৬১) তার বাংলার ইতিহাস গ্রন্থে নালন্দা ধ্বংসের জন্য ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দায়ী করেন এবং বুদ্ধপ্রকাশ (জন্ম ১৯২৪) তার ‘আসপেক্টস অব ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন’ গ্রন্থে এমন মতামতের পক্ষে জোরালো বয়ান হাজির করেন।[৪৭]

১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশি কবি আল মাহমুদ "বখতিয়ারের ঘোড়া" নামক এক কাব্যগ্রন্থ লেখেন, যেখানে বখতিয়ার খিলজিকে বাংলার একজন প্রভাবশালী বীর ও ত্রাণকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন ৷[৪৮] মূলত বাংলার ইতিহাসে তিনি একজন অবিচ্ছেদ্য ব্যক্তিত্ব।[৪৯] বখতিয়ার খিলজির শাসনামলে ভারতের প্রচুর সংখ্যক মানুষ ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়।[৫০] বখতিয়ারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় মসজিদ, মাদ্রাসাখানকাহ নির্মাণের মাধ্যমে ইসলামের ব্যাপক প্রচার প্রসার হয়। তার স্থলাভিষিক্ত আমিররাও তার এই নীতি অনুসরণ করে বাংলায় ইসলাম প্রচারে অবদান রাখেন।[৫১][৫২]

মুহাম্মদ ইউসুফ সিদ্দিকের মতে, বখতিয়ার খিলজির দ্রুত বাংলা বিজয় সফল হওয়ার কারণ ছিল, সেন শাসকদের সাধারণ জনগণের (হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয়ের) সমর্থন অর্জনে ব্যর্থ হওয়া। সেনরা মূলত দক্ষিণ ভারতের ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয় বংশোদ্ভূত ছিল, যার ফলে তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক, ভাষাগত (তারা বাংলা ভাষায় কথা বলত না) ও ধর্মীয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাদের কঠোর বর্ণব্যবস্থা প্রয়োগে সমাজে বিভাজন আরো গভীর হয়। এর বিপরীতে, বখতিয়ার খিলজি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করে দ্রুত স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেন। তিনি এমনকি একটি বৌদ্ধ মঠ নির্মাণে অর্থায়ন করেন, যা স্থানীয় জনগণ ও মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে প্রাথমিক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া গড়ে তুলতে সহায়তা করে।[৫৩]

মুহাম্মদ মজলুম খান বলেন, মূলত খিলজি বাংলায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং তিনি দমনমূলক ব্রাহ্মণ্যবাদী বর্ণব্যবস্থাকে সক্রিয়ভাবে দুর্বল করেন, যার ফলে দীর্ঘদিনের সামাজিক দাসত্ব ও দারিদ্র্য থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পায়। এছাড়া তাঁর মানবিক ও কল্যাণমুখী শাসনধারা হিন্দুবৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের সমর্থন লাভ করে এবং স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রবণতা ও মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও মনে করেন, খিলজি ছিলেন একজন উদার ও আলোকিত শাসক, যিনি বাংলাউত্তর ভারতে ইসলামি চিন্তা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।[৫৪]

বখতিয়ারকে স্থানীয় পিরপাল গ্রামের মানুষ একজন “পীর” হিসেবে শ্রদ্ধা করে। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের বৃহস্পতিবার গঙ্গারামপুরের বখতিয়ার খিলজি মাজারে একটি উৎসবের আয়োজন করা হয়, যেখানে মুসলিমহিন্দু উভয়ই শ্রদ্ধা নিবেদন করে।[৫৫]

  1. Hutchinson's story of the nations, containing the Egyptians, the Chinese, India, the Babylonian nation, the Hittites, the Assyrians, the Phoenicians and the Carthaginians, the Phrygians, the Lydians, and other nations of Asia Minor। London, Hutchinson। ১৯০৬। পৃ. ১৬৯।
  2. "Ikhtiyār al-Dīn Muḥammad Bakhtiyār Khaljī | Muslim general"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২০
  3. Eaton, Richard M. (১৯৯৩)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760 (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২০৫০৭-৯
  4. এক্সপার্টস, এরিহান্ট (২২ আগস্ট ২০১৯)। Know Your State West Bengal (ইংরেজি ভাষায়)। এরিহান্ট পাবলিকেশন ইণ্ডিয়া লিমিটেড। পৃ. ১৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-১৩১-৯৮০১-৭
  5. চন্দ্র, সতীশ (২০০৪)। Medieval India: From Sultanat to the Mughals-Delhi Sultanat (1206-1526) - Part One (ইংরেজি ভাষায়)। Har-Anand Publications। পৃ. ২২৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৪১-১০৬৪-৫
  6. আর সি (রমেশ চন্দ্র), ১৮৮৮-১৯৮০, মজুমদার। History of mediaeval Bengal। কলকাতা। পৃ. ১। আইএসবিএন ৮১-৮৯১১৮-০৬-৪ওসিএলসি 942846162{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  7. মেহতা, জশবন্ত লাল (১৯৭৯)। Advanced Study in the History of Medieval India (ইংরেজি ভাষায়)। Sterling Publishers Pvt. Ltd। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৭-০৬১৭-০
  8. ঠাকুর, অমরেন্দ্র কুমার; বর্ম, বিনোদ কুমার (১৯৯২)। India and the Afghans: A study of a neglected region, 1370-1576 A.D (ইংরেজি ভাষায়)। জনকি প্রকাশন। পৃ. ১৪৮।
  9. আহমেদ, সালাহুদ্দীন (২০০৪)। Bangladesh: Past and Present (ইংরেজি ভাষায়)। এ পি এইচ পাবলিশিং। পৃ. ৫৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৬৪৮-৪৬৯-৫
  10. ফারুকি, মুনিস ড: (২০০৫)। "Review of The Bengal Sultanate: Politics, Economy and Coins (AD 1205-1576)"দ্য সিক্সটিন্থ সেঞ্চুরী জার্নাল৩৬ (১): ২৪৬–২৪৮। ডিওআই:10.2307/20477310আইএসএসএন 0361-0160{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অতিরিক্ত বিরামচিহ্ন (লিঙ্ক)
  11. হুসাইন, সৈয়দ এজাজ (২০০৩)। The Bengal Sultanate : politics, economy and coins, A.D. 1205-1576নতুন দিল্লি: মনোহর। পৃ. ২৭। আইএসবিএন ৮১-৭৩০৪-৪৮২-১ওসিএলসি 53830951
  12. Scharfe, Hartmut (২০০২)। Handbook of Oriental Studies। BRILL। পৃ. ১৫০। আইএসবিএন ৯০-০৪-১২৫৫৬-৬Nalanda, together with the colleges at Vikramasila and Odantapuri, suffered gravely during the conquest of Bihar by the Muslim general Muhammad Bhakhtiyar Khalji between A.D. 1197 and 1206, and many monks were killed or forced to flee.
  13. Arnold, Sir Thomas Walker (১৮৯৬)। The Preaching of Islam: A History of the Propagation of the Muslim Faith। Archibald Constable and Co। পৃ. ২২৭–২২৮।
  14. Hindu-Muslim Relations in Bengal, 1905–1947: Study in Cultural Confrontation, Page 11, Nachiketa Publications, 1974, Hossainur Rahman
  15. "Ancient Nalanda University's Ruins | District Nalanda, Government of Bihar | India" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০২৪
  16. Salam, Ziya Us (১৮ জুলাই ২০২৪)। "Of a gilded past and the future: Nalanda's lost glory and new-found ambitions"The Hindu (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০২৪
  17. Eaton, Richard Maxwell (১৯৯৬)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204–1760। University of California Press। পৃ. ২৮–৩৪। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২০২০৫০৭৯
  18. Nitish K. Sengupta (১ জানুয়ারি ২০১১)। Land of Two Rivers: A History of Bengal from the Mahabharata to Mujib। Penguin Books India। পৃ. ৬৩–৬৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪-৩৪১৬৭৮-৪
  19. William John Gill; Henry Yule (২০১০)। The River of Golden Sand: The Narrative of a Journey Through China and Eastern Tibet to Burmah। Cambridge University Press। পৃ. ৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১০৮-০১৯৫৩-৮
  20. Chandra, Satish, 1922- ... (২০০৫)। Medieval India : from Sultanat to the Mughals (সংশোধিত সংস্করণ)। New Delhi: Har-Anand Publications। পৃ. ৪১। আইএসবিএন ৮১২৪১১০৬৪৬ওসিএলসি 469652456{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  21. Jūzjānī, Minhāj Sirāj (১৮৮১)। Tabaḳāt-i-Nāṣirī: A General History of the Muhammadan Dynasties of Asia, Including Hindūstān, from A.H. 194 [810 A.D.], to A.H. 658 [1260 A.D.], and the Irruption of the Infidel Mug̲h̲als Into Islam (ইংরেজি ভাষায়)। Asiatic Society of Bengal। পৃ. ৫৪৮।
  22. "Khaljī dynasty | Indian dynasty"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ আগস্ট ২০২০
  23. Sarkar, Jadunath (১৯৭৩)। The history of Bengal; Muslim period, 1200-1757. (English ভাষায়)। Patna, India: Academica Asiatica। ওসিএলসি 924890{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  24. Srivastava, Ashirbadi Lal (১৯৬৪)। The History of India, 1000 A.D.-1707 A.D. (ইংরেজি ভাষায়)। Shiva Lal Agarwala।
  25. Eraly, Abraham (১ এপ্রিল ২০১৫)। The Age of Wrath: A History of the Delhi Sultanate (ইংরেজি ভাষায়)। Penguin UK। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫১১৮-৬৫৮-৮
  26. Chaurasia, Radhey Shyam (২০০২)। History of Medieval India: From 1000 A.D. to 1707 A.D. (ইংরেজি ভাষায়)। Atlantic Publishers & Dist। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৬৯-০১২৩-৪
  27. Abdul Karim (১৯৫৬)। Social History of the Muslims in Bengal, Down to A. D. 1538। Pakistan: Asiatic Society of Pakistan। পৃ. ৮৬।
  28. Ali, Md Mohar (১৯৬২)। "Social History of the Muslims in Bengal (Down to a.d. 1538). By Abdul Karim. pp. xviii + 252. The Asiatic Society of Pakistan, Dacca, 1959. Rs. 15."Journal of the Royal Asiatic Society (ইংরেজি ভাষায়)। ৯৪ (1–2): ১০১–১০২। ডিওআই:10.1017/S0035869X00120829আইএসএসএন 1474-0591
  29. বাংলাদেশের ইতিহাস- ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। পৃষ্ঠাঃ ১৪৯
  30. ভাণ্ডারে, শৈলেন্দ্র (২০২০)। "Transregional Connections: The 'Lion and Sun' Motif and Coinage between Anatolia and India" [আন্তঃআঞ্চলিক সংযোগ: আনাতোলিয়া এবং ভারতের মধ্যে 'সিংহ ও সূর্য' প্রতীক এবং মুদ্রা ব্যবস্থা]। পীকক, এ. সি. এস.; ম্যাকক্লারি, রিচার্ড পিরান (সম্পাদকগণ)। Turkish History and Culture in India: Identity, Art and Transregional Connections [ভারতে তুর্কি ইতিহাস ও সংস্কৃতি: পরিচয়, শিল্প এবং আন্তঃআঞ্চলিক সংযোগ] (ইংরেজি ভাষায়)। ব্রিল। পৃ. ২৩৭। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-৪৩৭৩৬-৪ {{বই উদ্ধৃতি}}: |অধ্যায়-ইউআরএল=-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার |অধ্যায়-ইউআরএল= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  31. 1 2 ফ্লাড, ফিনবার বি. (২০১৮)। Objects of Translation: Material Culture and Medieval "Hindu-Muslim" Encounter [অনুবাদের সামগ্রী: বস্তুগত সংস্কৃতি এবং মধ্যযুগীয় 'হিন্দু-মুসলিম' মিথস্ক্রিয়া] (ইংরেজি ভাষায়)। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ১১৫–১১৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৯১-১৮০৭৪-৮
  32. গোরন, স্ট্যান; গোয়েঙ্কা, জে. পি.; রবিনসন (মুদ্রাতাত্ত্বিক), মাইকেল (২০০১)। The Coins of the Indian Sultanates: Covering the Area of Present-day India, Pakistan, and Bangladesh [ভারতীয় সুলতানি আমলের মুদ্রা: বর্তমান ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ অঞ্চলজুড়ে] (ইংরেজি ভাষায়)। মুন্সিরাম মনোহরলাল। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২১৫-১০১০-৩সম্মুখভাগ: বাম দিকে গদাধারী অশ্বারোহী, প্রান্তে নাগরীতে সংবৎ ১২৬২ ভাদ্রপদ তারিখ লেখা। পশ্চাৎভাগ: নাগরীতে 'শ্রীমত মহামদ সামঃ'লেখা। ১২০৪ সালে প্রচলিত।
  33. Kundra, D. N.; Prakashan, Goyal Brothers (২০১৯)। I.C.S.E. History & Civics for Class IX (ইংরেজি ভাষায়)। Goyal Brothers Prakashan। পৃ. ১৭৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮৮৬৭৬-৭৭-৯
  34. Sen, Amulyachandra (১৯৫৪)। Rajagriha and Nalanda। Institute of Indology, volume 4। Calcutta: Calcutta Institute of Indology, Indian Publicity Society। পৃ. ৫২। ওসিএলসি 28533779
  35. "Far East Kingdoms"
  36. Social History of the Muslim of Bengal, Abul Karim পৃষ্ঠাঃ ৮৯
  37. "History of Dinajpur District: Muslim Period"। ৬ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৩
  38. Sengupta, Nitish K., (1934) (২০১১)। Land of two rivers : a history of Bengal from the Mahabharata to Mujib। New Delhi: Penguin Books India। পৃ. ৬৩–৬৪। আইএসবিএন ৯৭৮০১৪৩৪১৬৭৮৪ওসিএলসি 756441985{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  39. The River of Golden Sand : the Narrative of a Journey through China and Eastern Tibet to Burmah. Volume 1। Gill, William John., Yule, Henry.। Cambridge: Cambridge University Press। ২০১০। পৃ. ৪৩। আইএসবিএন ৯৭৮০৫১১৭৩৬২৭৮ওসিএলসি 889962284{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অন্যান্য (লিঙ্ক)
  40. (Minhāju-s Sirāj ১৮৮১:552)
  41. Dr. Ambedkar speech in Colombo Sri Lanka 29th May 1950.
  42. Mortajā, Golama Ahamada. (২০০৭)। চেপে রাখা ইতিহাস। কোলকাতা: Biśvabaṅgīẏa Prakāśana। আইএসবিএন ৮১৮৮৭৯২১২৮ওসিএলসি 309707069
  43. D. N. Jha। Against the Grain: Notes on Identity, Intolerance and History
  44. "Destruction' and 'Decline' of Nālandā Mahāvihāra: Prejudices and Praxis"
  45. "Bakhtiyar Khalji's Involvement in Nalanda's Incineration Is a Case of 'Selective Narration' | Sumit Paul, New Age Islam"www.newageislam.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০২৬
  46. 1 2 "Rajya Sabha passes bill to rebuild Nalanda University"Deccan Herald (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০২৬
  47. দিগন্ত, Daily Nayadiganta-নয়া। "বখতিয়ার খিলজি ও নালন্দার সত্য-মিথ্যা"Daily Nayadiganta (নয়া দিগন্ত) : Most Popular Bangla Newspaper। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০২৩
  48. "বখতিয়ারের ঘোড়া"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৯[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  49. Eaton, Richard Maxwell.। The rise of Islam and the Bengal frontier, 1204-1760। Berkeley। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২০৯১৭৭৭৪ওসিএলসি 43476319
  50. Arnold, Thomas Walker (১৮৯৬)। The preaching of Islam; a history of the propagation of the Muslim faith। University of California: Westminster : A. Constable and co.। পৃ. ২২৭–২২৮।
  51. Ichimura, Shōhei (২০০১)। Buddhist Critical Spirituality: Prajñā and Śūnyatā (ইংরেজি ভাষায়)। Motilal Banarsidass Publishe। পৃ. ৬৫ (টীকা ৮৭)। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-১৭৯৮-২
  52. Sen, Gertrude Emerson (১৯৬৪)। The Story of Early Indian Civilization। Orient Longmans। ওসিএলসি 610346317
  53. Khan 2013, পৃ. 18
  54. Khan 2013, পৃ. 19
  55. Roy, Sourav (২ মে ২০২৪)। "Gangarampur | সম্প্রীতির নিদর্শন, বখতিয়ার খিলজির মাজারে ভিড় হিন্দু-মুসলিমদের" [Gangarampur | Hindus and Muslims throng Bakhtiyar Khilji's shrine, a symbol of harmony]Uttarbanga Sambad (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০২৫
পূর্বসূরী
বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত
(লক্ষণ সেন, সেন রাজবংশ)
বাংলার প্রথম মুসলিম শাসক
১২০৪–১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তরসূরী
শিরাণ খিলজি