বিষয়বস্তুতে চলুন

আরাফাত পর্বত

(আরাফাতের পাহাড় থেকে পুনর্নির্দেশিত)
জাবালে রহমত পাহাড় (আরাফাতের পাহাড়)
জাবালে রহমত পাহাড়ে হজ দিন ক্ষমা প্রার্থনায় নিমগ্ন হাজী
সর্বোচ্চ বিন্দু
উচ্চতা৪৫৪ মিটার (১,৪৯০ ফুট)
তালিকাভুক্তি
স্থানাঙ্ক২১°২১′১৭.৩৯″ উত্তর ৩৯°৫৯′১.৯৯″ পূর্ব / ২১.৩৫৪৮৩০৬° উত্তর ৩৯.৯৮৩৮৮৬১° পূর্ব / 21.3548306; 39.9838861
নামকরণ
স্থানীয় নামجَبَل عَرَفَات
ভূগোল
জাবালে রহমত পাহাড় (আরাফাতের পাহাড়) সৌদি আরব-এ অবস্থিত
জাবালে রহমত পাহাড় (আরাফাতের পাহাড়)
জাবালে রহমত পাহাড় (আরাফাতের পাহাড়)
সৌদি আরবের মধ্যে প্রদর্শিত
অবস্থানসৌদি আরব মক্কা অঞ্চল, হেজাজ, সৌদি আরব

আরাফাত পর্বত (আরবি: جَبَل عَرَفَات, অথবা আরবি: جَبَل ٱلرَّحْمَة)[] একটি গ্রানোডিওরাইট শৈলশিরা,[] যা সৌদি আরবের মক্কা প্রদেশে মক্কা শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি[রূপান্তর: অজানা একক] দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।[] এটির উচ্চতা প্রায় ৭০ মিটার (২৩০ ফুট), এবং সর্বোচ্চ বিন্দুটি ৪৫৪ মিটার (১,৪৯০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।

ইসলামি নবী মুহাম্মদ, নবুয়ত লাভের আগে কুরাইশ গোত্রের প্রথা ভেঙে অন্যান্য আরবদের সঙ্গে আরাফাত পর্বতে দাঁড়াতেন। এটি জুবাইর বিন মু'তইম নামক একজন কুরাইশ গোত্রীয়ের কাছে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, যিনি মনে করতেন কুরাইশদের (যারা হুমস নামে পরিচিত ছিল) সেখানে থাকার অধিকার ছিল না।[][]

ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, এই পর্বতেই নবী মুহাম্মদ তাঁর জীবনের শেষ দিকে হজ পালনের সময় বিদায় হজের ভাষণ (খুৎবাতুল বিদা') প্রদান করেন তাঁর সাহাবাদের উদ্দেশ্যে।[] অনেক মুসলমান বিশ্বাস করেন যে এখানেই আদমহাওয়া স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে পতনের পর পুনরায় মিলিত হন এবং ক্ষমা লাভ করেন। এই কারণে পর্বতের আরবি নাম জাবাল আর-রহমাহ, অর্থাৎ "দয়াপর্বত"। এই ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে পর্বতের চূড়ায় একটি স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে।

এই পর্বত হজের সময় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি ক্যালেন্ডারের ধু আল-হিজ্জা মাসের ৯ তারিখ, যা আরাফাহ দিবস নামে পরিচিত, হজযাত্রীরা মিনা থেকে আরাফাতের দিকে যাত্রা করেন। এই দিনটিকে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দিনে খুৎবা (ভাষণ) প্রদান করা হয় এবং যুহরআসর নামাজ একত্রে আদায় করা হয়। হাজীরা পুরো দিন পর্বতের উপত্যকায় অবস্থান করে আল্লাহর কাছে নিজেদের পাপ মোচনের জন্য প্রার্থনা করেন।[]

ভূতত্ত্ব ও রেডিওলজি

[সম্পাদনা]

২০১২ সালের এক গবেষণায় আরাফাত পর্বতকে গ্রানোডিওরাইট শৈলশিরা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এতে প্রধানত ফেল্ডস্পার, কোয়ার্টজ এবং মাসকোভাইট-সহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। গবেষণায় পেট্রোগ্রাফিক বিশ্লেষণ, ফিশন ট্র্যাক ডেটিং এবং γ-স্পেকট্রোমেট্রিক (HPGe) কৌশল ব্যবহার করে পর্বতের ভূতত্ত্ব, তাপীয় ইতিহাস এবং প্রাথমিক তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতিজনিত তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়।[]

এই গবেষণায় আরাফাতের গ্রানোডিওরাইট শিলার ফিশন ট্র্যাক বয়স নির্ধারণ করা হয় ৯.১৩ ± ১.০৫ মিলিয়ন বছর (Ma)। এছাড়াও গবেষণায় বলা হয় যে লাল সাগর সৃষ্টির পেছনে ম্যাগমা প্রবাহ, আগ্নেয়গিরি ক্রিয়াকলাপ ও সমুদ্রতলের সম্প্রসারণের মতো ভূ-প্রক্রিয়াগুলো এই শিলার প্রকৃত বয়সকে পরিবর্তন করে ৯.১৩ ± ১.০৫ Ma করেছে। গবেষণায় ২২৬Ra, ২৩২Th এবং ৪০K এর তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ করে দেখা যায় যে, এগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি সৃষ্টি করে না।[]

আরাফাতের আনুষ্ঠানিকতা সূর্যাস্তের সময় শেষ হয় এবং এরপর হাজীরা মুযদালিফার দিকে রওনা হন, যেখানে তাঁরা মাগরিবের নামাজ ও সংক্ষিপ্ত এশার নামাজ আদায় করেন এবং অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নেন।[]

পর্বতের চারপাশে সমতল এলাকা ‘‘আরাফাতের ময়দান’’ নামে পরিচিত। অনেক সময় ‘‘আরাফাত পর্বত’’ বলতে এই পুরো এলাকাকেই বোঝানো হয়। এটি ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, কারণ হজের সময় ধু আল-হিজ্জা মাসের ৯ তারিখে হাজীরা এই এলাকায় দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করেন। নির্ধারিত দিনে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত না থাকলে হজ শুদ্ধ হয় না।[]

২০১০ সালের শেষ দিক থেকে, এই এলাকা মক্কা মেট্রোর মাধ্যমে সেবাপ্রাপ্ত। সাধারণ হজের সময় আরাফাত পর্যন্ত হাঁটার দূরত্ব আনুমানিক ১৩ মাইল[রূপান্তর: অজানা একক][তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সাহিত্যে উল্লেখ

[সম্পাদনা]

এই পর্বতের উল্লেখ জেমস জয়েস রচিত উপন্যাস ফিনিগানস ওয়েক-এ পাওয়া যায়।[১০]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Saudi Arabia Hajj: Millions at Mount Arafat for ceremonies"BBC News। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১৯
  2. 1 2 3 Qureshi, A. A.; Sultan, A.; Rashid, A.; Ali, M.; Waheed, A.; Manzoor, S.; Baloch, M. A.; Matiullah; Batool, S.; Khan, H. A. (সেপ্টেম্বর ২০১২)। "Geological and radiological studies of the Mount Arafat, Mekkah, Saudi Arabia"। Journal of Radioanalytical and Nuclear Chemistry (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯৩ (3): ৯৫৫–৯৬৩। বিবকোড:2012JRNC..293..955Qডিওআই:10.1007/s10967-012-1776-0আইএসএসএন 0236-5731এস২সিআইডি 95942060
  3. "خرائط Google"
  4. https://sunnah.com/bukhari:1664
  5. https://sunnah.com/muslim:1220#:~:text=Mut'im%20reported%3A,Quraish%20were%20counted%20among%20Hums.
  6. Burns, William E. (২৫ জুন ২০১০)। Speeches in World History (ইংরেজি ভাষায়)। Infobase Publishing। পৃ. ৭৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৩৮১-২৬৮০-৭। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০২৪
  7. "More than 2 million pilgrims complete journey to Mount Arafat for second day of Hajj"Arab News (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১৯
  8. Peters, F.E., 1996. The Hajj: The Muslim pilgrimage to Mecca and the holy places. Princeton University Press.
  9. Omar, W. (১৯৫২), "The Mecca Pilgrimage: Its Epidemiological Significance and Control", Postgraduate Medical Journal, ২৮ (319): ২৬৯–৭৪, ডিওআই:10.1136/pgmj.28.319.269, পিএমসি 2530829, পিএমআইডি 14929743
  10. "Finnegans Wake"www.finwake.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৬

    বহিঃসংযোগ

    [সম্পাদনা]