আসমানী কিতাব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

'আসমানী কিতাব বলতে এমন কতকগুলো গ্রন্থকে বোঝানো হয়, ইসলাম ধর্মমতে মুসলমানগণ যে গ্রন্থগুলোকে আল্লাহ্প্রদত্ত গ্রন্থ বলে বিশ্বাস করেন। ইসলাম ধর্মে যে ৭টি বিষয়ের উপর বিশেষ করে ঈমান আনতে বা বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়েছে তার মধ্যে একটি বিষয় হলো এই আসমানী কিতাব, যেগুলো সরাসরি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়। বলা হয়, পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে সর্বমোট আসমানী কিতাব পাঠানো হয়েছে ১০৪টি। [১]তার মধ্যে ৪টি হলো প্রধান আসমানী কিতাব ও বাকি ১০০টি সহীফা। তবে কুরআন ও প্রধান হাদীসগ্রন্থগুলোতে আসমানী কিতাবের সংখ্যা উল্লেখ নেই।

আল কুরআন

প্রধান কিতাবসমূহ[সম্পাদনা]

কুরআন[সম্পাদনা]

কুরআন হ'ল ইসলামের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় পাঠ্যপুস্তক এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব, যা স্বয়ং ঈশ্বরের(আরবি: الله, আল্লাহ) নিকট হতে সর্বশেষ [২]এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ(স.) এর অবতীর্ণ হয়েছে বলে মুসলিমরা বিশ্বাস করে।[৩] সম্পূর্ণ কুরআন ১১৪টি অধ্যায়ে বিভক্ত ( যার প্রত্যেকটিকে 'সূরা' বলে), অতঃপর আরো সহস্রাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শ্লোকে বিভক্ত (যার প্রত্যেকটিকে 'আয়াত' বলে)! মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে কুরআন মৌখিকভাবে নবী মুহাম্মদ(স.)-এর নিকট ফেরেশতা গ্যাব্রিয়েল (জিব্রাইল) এর মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছিল, যা ধীরে ধীরে সম্পন্ন হতে প্রায় ২৩ বছর সময় লেগেছিলে। কুরআন অবতীর্ণ হবার সময় মুহাম্মদ(স)-এর ৪০ বছর বয়স ছিলো এবং কুরআন সম্পূর্ণ হতে হতে তাঁর বয়স ৬৩ তে এসে পৌছেছিলো। মুসলিমরা কুরআনকে মুহাম্মদ(স)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিক শক্তি এবং তাঁর নবুওয়ত্বের প্রমাণ হিসেবে দাবি করে এবং একে ধারাবাহিক ঐশী বাণীগুলির পরিসমাপ্তি হিসেবে গন্য করে যা আদম(আ)-এর প্রতি অবতীর্ণ বার্তাগুলি দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং মুহাম্মদ(স)-এর উক্ত কিতাব দ্বারা শেষ হয়েছিল। এটি ধ্রুপদী আরবী সাহিত্যের সেরা কাজ হিসাবে বিবেচিত।

তাওরাত[সম্পাদনা]

ইসলামী ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আল কুরআন-এর মতে, তাওরাত(তোরাহ) হচ্ছে নবী হযরত মূসা (আ)-এর প্রতি অবতীর্ণ সর্বপ্রথম প্রধান আসমানী কিতাব।[৪] তবে মুসলিমরা আরো ধারনা করে যে বর্তমানে উপলব্ধ তাওরাত বহু বছর ধরে দুর্নীতি এবং বিকৃতির শিকার হয়েছে তাই এটি আর এখন নির্ভরযোগ্য নয়। নবী মূসা (আ) এবং তাঁর ভাই হারুন (হিরান) ইস্রায়েলের লোকদের নিকট ঈশ্বরের বার্তা প্রচার করার জন্য তাওরাত ব্যবহার করেছিলেন (বনু ইসরাইল, লিটল। "ইস্রায়েলের সন্তান")।

যাবুর[সম্পাদনা]

ইসলামী ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আল কুরআনের মতে,যাবুর হচ্ছে ইসলামের দ্বিতীয় আসমানী কিতাব যা হযরত দাউদ (আ.) এর অবতীর্ন হয়। তবে প্রায়শই একে গীতসংহিতা হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়, যা রাজা দায়ূদ (দাউদ) -এর নিকট প্রকাশিত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। পণ্ডিতরা প্রায়শই গীতসংহিতা বইটিকে কোনও আইন পরিচালিনার বই নয় বরং প্রার্থনার পবিত্র গানের বই হিসেবে বুঝিয়েছিলেন, যেগুলোকে সামসঙ্গীত বলে ডাকা হয়। বর্তমানের সামসঙ্গীতগুলি এখনও অনেক মুসলিম পণ্ডিতের দ্বারা প্রশংসিত, তবে মুসলমানরা সাধারণত ধরে নেন যে বর্তমানের কয়েকটি গীত পরবর্তীকালে রচিত হয়েছিল এবং সেগুলো ঐশ্বিকভাবে প্রকাশিত হয়নি।

ইনযিল[সম্পাদনা]

ইনজিল (আরবি: جينجيل, রোমানাইজড: ইঞ্জিল, ইনজিল বা ইনজিল ) হ'ল ঈসার সুসমাচারের (ঈশ্বর প্রদত্ত গ্রন্থ Godsplell) আরবি নাম। এই ইনজিলকে কুরআন দ্বারা চারটি ইসলামিক পবিত্র গ্রন্থের একটি হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা আল্লাহর দ্বারা ঈসা(আ) উপর অবতীর্ণ হয়েছিল।

সহীফা[সম্পাদনা]

এছাড়া অন্যান্য ছোট ১০০টি আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয় অপরাপর বিভিন্ন বাণীবাহকের উপর। যথা:

*হযরত আদম (আ) এর উপর ১০ টি সহীফা

*হযরত শীষ [আ.]-এর উপর ৫০টি সহীফা

*হযরত ইদ্রিস [আ.]-এর উপর ৩০টি সহীফা, এবং

*হযরত ইব্রাহীম [আ.]-এর উপর ১০টি সহীফা।[৫]

কুরআনে শুধু ইব্রাহীম [আ.] এর উপর সহীফা অবতীর্ণ হওয়ার উল্লেখ রয়েছে তবে সংখ্যা উল্লেখ নেই।[৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "আসমানী কিতাব নাজিলের মাস"m.mzamin.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২২ 
  2. February 07, শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী; PM, 2020 at 1:37। "সর্বশেষ আসমানি কিতাব আল-কোরআন"www.prothomalo.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২২ 
  3. "Tanzil - Quran Navigator | القرآن الكريم"tanzil.net। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২২ 
  4. "আসমানী কিতাব - উইকিপিডিয়া"bn.wikipedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২২ 
  5. ফক্বীহ আবুল লাইস সমরকন্দী । "নবী রাসুল প্রসঙ্গ"। বুস্তানুল আ'রেফীন (প্রিন্ট) (বাংলা ভাষায়) (১৯৯৭ সালে সংস্করণ)। চকবাজার, ঢাকা: হামিদিয়া লাইব্রেরী লি:। প্রকাশিত হয়েছে: ১৪ই মে, ১৯৯৭।
  6. কুরআন ৮৭:১৯

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]