জুমার নামাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জুমার নামাজ
Baitul Mukarram 18.jpg
আনুষ্ঠানিক নামالجمعة صلاة
পালনকারীমুসলিম বিশ্ব
ধরনইসলাম
শুরুদুপুর
সমাপ্তিবিকাল
সংঘটনসাপ্তাহিক
সম্পর্কিতনামাজ, ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ
মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুমার নামাজ।
কসোভোর একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিগণ।

জুমার নামাজ (আরবি: صلاة الجمعة‎‎ সালাত আজ-জুমুআহ, "শুক্রবারের সালাত") ইসলামের অন্যতম একটি নামাজ। جُمُعَة (জুমুআহ) শব্দটি আরবী । এর অর্থ একত্রিত হওয়া, সম্মিলিত হওয়া, কাতারবদ্ধ হওয়া । যেহেতু, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন-মুসলমান একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই স্থানে একত্রিত হয়ে জামায়াতের সাথে সে দিনের জোহরের নামাজের পরিবর্তে এই নামাজ ফরযরূপে আদায় করে, সে জন্য এই নামাজকে "জুমার নামাজ" বলা হয়।[১] সময় একই হলেও যোহরের সাথে জুমার নামাজের নিয়মগত কিছু পার্থক্য রয়েছে।

নাম ও অর্থ[সম্পাদনা]

আরবি جُمُعَة (জুমুআ) শব্দটির অর্থ শুক্রবার। এটি ইসলামের অন্যতম প্রধান নীতি এবং অন্যতম ফরজ (অবশ্য পালনীয়) আমল।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাধ্যবাধকতা[সম্পাদনা]

কুরআনে উল্লেখ[সম্পাদনা]

কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে:

"হে বিশ্বাসীগণ, যখন তোমাদের শুক্রবারের নামাজের (জুমার নামাজ) জন্য আহ্বান করা হয়, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো এবং ক্রয় বিক্রয় পরিত্যাগ করো; যদি তোমরা বুঝে থাকো, তবে এতেই তোমাদের পক্ষে কল্যাণ। যখন নামাজ সমাপ্ত হয়, তখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর করুণার (জীবিকা) সন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো; সম্ভবত [এতেই] তোমাদের মুক্তি রয়েছে।[২][৩]

নিয়ম[সম্পাদনা]

জুমার নামাজে দুই রাকাত ফরজ রয়েছে। এছাড়া ফরজ নামাজের পূর্বে চার রাকাত কাবলাল জুমা এবং পরে চার রাকাত বাদাল জুমা (সুন্নত নামাজ) আদায় করতে হয়। জোহরের নামাজের মতো ব্যক্তি চাইলে এসময় অতিরিক্ত নফল নামাজ আদায় করতে পারে। তবে এসকল নফল নামাজ জুমার অংশ হিসেবে পড়া হয় না এবং তা আবশ্যকীয়ও নয় বরং ব্যক্তি তা স্বেচ্ছায় করতে পারে এবং না করলে তার দোষ হয় না।

জুমার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা আবশ্যিক এবং তা একাকী আদায় করার নিয়ম নেই। কুরআনে জুমার নামাজের সময় হলে কাজ বন্ধ করে নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে[৪]। তবে কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তিসঙ্গত কারণবশত (যেমন খুব অসুস্থ ব্যক্তি) জুমা আদায় করতে না পারে তবে তার ক্ষেত্রে জোহরের নামাজ আদায় করা নিয়ম। তাছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সুস্থ ব্যক্তির উপর, যেমন ভ্রমণকারী (মুসাফির) অবস্থায় জুমার আবশ্যকতা থাকে না এবং সেক্ষেত্রে জোহরের নামাজ আদায় করলে তা গ্রহণীয় হয়। তবে ভ্রমণকারী চাইলে জুমা আদায় করতে পারে।

বিশুদ্ধতা[সম্পাদনা]

কোন স্থানে জুমআর নামায বিশুদ্ধ হবার জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। যথা-

  • শহর বা উপশহর হতে হবে। গ্রামে বা জনমানবহীন বিয়াবানে জুমআর নামায শুদ্ধ হবে না।
  • জামাআত হতে হবে।
  • যোহরের সময় হতে হবে।
  • সকলের জন্য আম অনুমতি থাকতে হবে।
  • খুতবা দিতে হবে।

[৫]

এক্ষেত্রে, গ্রাম বলতে এমন এলাকাকে বুঝায়, যেখানে রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিনিধি, মানুষের নিত্তপ্রয়োজনীয় আসবাব সহজলভ্য নয়। এমন সুবিধাবঞ্চিত এলাকাকে মূলত গ্রাম বলা হয়।

সুতরাং প্রচলিত গ্রাম যেখানে রাষ্ট্র প্রতিনিধিসহ আবশ্যকীয় সুবিধা বিদ্যমান, সেটাকে গ্রাম বলা যাবে না। বরং তা উপশহরের স্থলাভিষিক্ত হবে। সেই হিসেবে জনবহুল এলাকা থেকে দূরের মরু বিয়াবানেও জুমআর নামায পড়া যাবে না। যেমন সেনাবাহিনীর কোন ক্যাম্প যা গহীন পাহাড়ে স্থাপন করা হল। কিংবা মরু অঞ্চলের কোন বিয়াবনে ট্রেনিং এর জন্য সেনা ক্যাম্প করা হল। এসব স্থানে জুমআ পড়া যাবে না। যোহরের নামায আদায় করবে। কারণ, তা শহর বা উপশহর নয়।

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «لَا جُمُعَةَ وَلَا تَشْرِيقَ إِلَّا فِي مِصْرٍ جَامِعٍ»

অনুবাদ: আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, শহর ছাড়া জুমআ ও ঈদের নামায নেই। [৬]

عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: «لَيْسَ عَلَى أَهْلِ الْقُرَى جُمُعَةٌ، إِنَّمَا الْجُمَعُ عَلَى أَهْلِ الْأَمْصَارِ، مِثْلِ الْمَدَائِنِ»

অনুবাদ: হুজায়ফা বিন মিহসান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, গ্রামে জুমআর নামায নেই। জুমআ হবে শহরে। যেমন মাদায়েন। [৭]

ইমাম শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী বলেনঃ

وَقد تلقت الْأمة تلقيا معنويا من غير تلقي لفظ أَنه يشْتَرط فِي الْجُمُعَة الْجَمَاعَة وَنَوع من التمدن، وَكَانَ النبى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. وخلفاؤه رَضِي الله عَنْهُم. وَالْأَئِمَّة المجتهدون رَحِمهم الله تَعَالَى يجمعُونَ فِي الْبلدَانِ، وَلَا يؤاخذون أهل البدو، بل وَلَا يُقَام فِي عَهدهم فِي البدو، ففهموا من ذَلِك قرنا بعد قرن وعصرا بعد عصر أَنه يشْتَرط لَهَا الْجَمَاعَة والتمدن

উম্মত শাব্দিকভাবে না হলেও মৌনভাবে এ বিষয়টি নির্ধারণ করেছে যে, জুমআর জন্য জামাআত এবং এক প্রকার সভ্যতা শহর থাকা শর্ত। আর নবী মুহাম্মাদ এবং খুলাফায়ে রাশেদীন এবং আইয়িম্মায়ে মুজতাহিদীন শহরেই জুমআ আদায় করতেন। আর গ্রামের অধিবাসীদের না পড়ার কারণে কোন দোষারোপ করতেন না। শুধু তাই নয়; তাদের যুগে গ্রামে জুমআর নামায আদায় করা হতো না।

খুতবা[সম্পাদনা]

জুমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খুতবা। এতে ইমাম সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও কুরআনহাদিসের আলোকে দিকনির্দেশনা দেন। যে ইমাম খুতবা দেন তাকে বলা হয় খতিব। এসময় দুইটি খুতবা দেয়া হয়। দুই খুতবার মাঝখানে অল্প কিছু সময়ের বিরতি নেয়া হয়। মসজিদের প্রতিদিনের ইমাম খুতবা দিতে পারেন বা জুমার দিন বিশেষ কেউ খুতবা দিতে পারেন। খুতবা সাধারণত আরবি ভাষায় দেয়া হয়। তবে কিছু স্থানে স্থানীয় ভাষায় খুতবা দেয়ার প্রথা দেখা যায়। যেমন- বাংলাদেশের মসজিদসমূহে খুতবার প্রথমাংশ বাংলা ভাষায় দেওয়া হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম । ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দশম সংস্করণ : ফেব্রুয়ারি ২০১২, পৃষ্ঠা. ২৫২ আইএসবিএন ৯৮৪-০৬-০৫৬০-৭
  2. [কুরআন ৬২:৯-১০]
  3. "সূরা জ্বোমোয়া, দ্বাষষ্টিতম অধ্যায়"। কোর্‌-আন্‌ শরীফগিরিশ চন্দ্র সেন কর্তৃক অনূদিত (চতুর্থ সংস্করণ)। নববিধান পাবলিকেশন কমিটী। ১৯৩৬। পৃষ্ঠা ৬৬০। 
  4. [কুরআন ৬২:৯]
  5. [দ্রষ্টব্য-হেদায়া-১/১১৪-১১৬, শরহে নুকায়া-১/১২৩-১২৫, কাবীরী-৫৪-৫৫১]
  6. [মুসনাদে ইবনুল জা’দ, হাদীস নং-২৯৯০, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-১১৫৪, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৫১৭৫, মারিফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হাদীস নং-৬৩৩০, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৬১৫, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫০৬৪]
  7. [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৫০৬০]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]