জুমার নামাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুমার নামাজ।
কসোভোয় জুমার দৃশ্য।

জুমার নামাজ (আরবি: صلاة الجمعة‎‎ ṣalāt al-jum`ah, "শুক্রবারের সালাত") ইসলামের অন্যতম একটি নামাজ। প্রতি শুক্রবার দুপুরে অন্যান্যদিনের যুহরের নামাজের বদলে এই নামাজ আদায় করা হয়। সময় একই হলেও যোহরের সাথে জুমার নামাজের নিয়মগত কিছু পার্থক্য রয়েছে।

কোরআনে[সম্পাদনা]

কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে:

(৯) হে বিশ্বাসিগণ, যখন তোমরা জ্বোমোয়া ( শুক্রবার ) দিবসের নামাজের জন্য আহূত হও, তখন ঈশ্বরস্মরণের দিকে সত্বর হইও, এবং ক্রয় বিক্রয় পরিত্যাগ করিও; যদি তোমরা বুঝিতেছ, তবে ইহাই তোমাদের পক্ষে কল্যাণ।
(১০) যখন নামাজ সমাপ্ত হয়, তখন ভূতলে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িও, এবং ঈশ্বরের করুণায় ( জীবিকা ) অন্বেষণ করিও ও ঈশ্বরকে প্রচুররূপে স্মরণ করিও; সম্ভবতঃ তোমরা উদ্ধার পাইবে।

— কোরআন, সূরা ৬২ (আল-জুমুআ), আয়াত ৯-১০[১]

নিয়ম[সম্পাদনা]

জুমার নামাজে দুই রাকাত ফরজ রয়েছে। এছাড়া ফরজ নামাজের পূর্বে চার রাকাত কাবলাল জুমআ এবং পরে চার রাকাত বা'দাল জুমআ (সুন্নাত নামাজ) আদায় করতে হয়। যোহরের মত ব্যক্তি চাইলে এসময় অতিরিক্ত নফল নামাজ আদায় করতে পারে। তবে এসকল নফল নামাজ জুমার অংশ হিসেবে পড়া হয় না এবং তা আবশ্যকীয়ও নয় বরং ব্যক্তি তা স্বেচ্ছায় করতে পারে এবং না করলে তার দোষ হয় না।

জুমার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা আবশ্যিক এবং তা একাকী আদায় করার নিয়ম নেই। কুরআনে জুমার নামাজের সময় হলে কাজ বন্ধ করে নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি যদি কারণবশত (যেমন খুব অসুস্থ ব্যক্তি) জুমা আদায় করতে না পারে তবে তার ক্ষেত্রে যুহরের নামাজ আদায় করা নিয়ম। তাছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সুস্থ ব্যক্তির উপর, যেমন মুসাফির অবস্থায় জুমার আবশ্যকতা থাকে না এবং সেক্ষেত্রে যুহরের নামাজ আদায় করলে তা গ্রহণীয় হয়। তবে মুসাফির চাইলে জুমা আদায় করতে পারে।

খুতবা[সম্পাদনা]

জুমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল খুতবা। এতে ইমাম সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও হাদিস-কুরআনের আলোকে দিকনির্দেশনা দেন। যে ইমাম খুতবা দেন তাকে বলা হয় খতিব। এসময় দুইটি খুতবা দেয়া হয়। দুই খুতবার মাঝখানে অল্প কিছু সময়ের বিরতি নেয়া হয়। মসজিদের প্রতিদিনের ইমাম খুতবা দিতে পারেন বা জুমার দিন বিশেষ কেউ খুতবা দিতে পারেন। খুতবা সাধারণত আরবি ভাষায় দেয়া হয়। তবে কিছু স্থানে স্থানীয় ভাষায় খুতবা দেয়ার প্রথা দেখা যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সূরা জ্বোমোয়া, দ্বাষষ্টিতম অধ্যায়"। কোর্‌-আন্‌ শরীফগিরিশ চন্দ্র সেন কর্তৃক অনূদিত (চতুর্থ সংস্করণ)। নববিধান পাবলিকেশন কমিটী। ১৯৩৬। পৃষ্ঠা ৬৬০। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]