আবুল মনসুর আহমেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আবুল মনসুর আহমেদ
জন্ম ১৮৯৮
ধানীখোলা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
মৃত্যু ১৯৭৯
জাতীয়তা বাংলাদেশী Flag of Bangladesh.svg
পেশা সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক
যে জন্য পরিচিত সাহিত্য, সাংবাদিকতা, রাজনীতি

আবুল মনসুর আহমেদ (১৮৯৮-১৮ মার্চ ১৯৭৯) একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।[১][২]

জন্ম[সম্পাদনা]

তিনি ময়মনসিংহে জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতার নাম মীর জাহান খাতুন, পিতার নাম আব্দুর রহিম ফরাযী।

ছাত্রজীবন[সম্পাদনা]

তিনি ১৯১৭ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা পাশ করেন এবং ১৯১৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। তিনি কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে পাশ করেন। এই সময়টা ছিল খিলাফত আন্দোলনঅসহযোগ আন্দোলনের। তিনি ৯ বছর ময়মনসিংহে আইন বিভাগে পাশ করেন। তারপর কলকাতায় পেশাদার সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেন। তিনি বিশিষ্ট আইনজীবীও ছিলেন।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আইনজীবী ও সাংবাদিক হিসেবে[সম্পাদনা]

তিনি সাংবাদিক হিসেবে নানান সংবাদপত্রে কাজ করেছেন, যেমন : ইত্তেহাদ, সুলতান, মোহাম্মদী, নাভায়ু

রাজনীতিবিদ হিসেবে[সম্পাদনা]

আবুল মনসুর আহমেদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কংগ্রেস আন্দোলনসমূহের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পরে তিনি বাংলার মুসলীম লীগের সাথে সম্পৃক্ত হন এবং ১৯৪০ সাল থেকে পাকিস্তানের আন্দোলনসমূহের সাথে যুক্ত হন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তিনি ত্রিশাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রী হন।[১] পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে তিনি হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীও ছিলেন। পূর্ববাংলার মঙ্গলের জন্য তিনি নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, বিশেষ করে শিল্পায়নে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১দফার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) এর প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক ছিলেন। আইয়ুব খানের শাসনামলে তিনি বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন।[২]

সাহিত্যিক হিসেবে[সম্পাদনা]

আবুল মনসুর আহমেদ একজন শক্তিমান লেখক ছিলেন। তিনি ব্যঙ্গাত্মক রচনায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আয়নাফুড কনফারেন্স গল্পগ্রন্থদ্বয়ে তিনি মুসলিম সমাজের গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা, ভণ্ডামিসহ নানা কুসংস্কারের ব্যঙ্গ করেছেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে।[২]

গ্রন্থসমূহ[সম্পাদনা]

ব্যঙ্গরচনা[সম্পাদনা]

স্মৃতিকথা[সম্পাদনা]

  • আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
  • আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯)
  • শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

অন্যান্য রচনা[সম্পাদনা]

  • সত্য মিথ্যা (১৯৫৩)
  • জীবনক্ষুধা (১৯৫৫)
  • আবে হায়াত (১৯৬৪)
  • হুযুর কেবলা
  • ”বাংলাদেশের কালচার” (১৯৬৬)

পুরস্কার ও সম্মননা[সম্পাদনা]

সাহিত্য চর্চায় অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে দেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার”[৪][৫][৬] হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাকে।[৭] এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০) ও নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ ঢাকায় মারা যান।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "আবুল মনসুর আহমেদ : যে কারনে আলোচিত"জননেতা.কম। সংগৃহীত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ 
  2. "আবুল মনসুর আহমেদ"প্রিয়.কম 
  3. সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান; ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা- ৫৯।
  4. সানজিদা খান (জানুয়ারি ২০০৩)। "জাতীয় পুরস্কার: স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার"। in সিরাজুল ইসলামবাংলাপিডিয়াঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশআইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগৃহীত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭। "স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।" 
  5. "স্বাধীনতা পদকের অর্থমূল্য বাড়ছে"কালেরকন্ঠ অনলাইন। ২ মার্চ ২০১৬। সংগৃহীত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  6. "এবার স্বাধীনতা পদক পেলেন ১৬ ব্যক্তি ও সংস্থা"এনটিভি অনলাইন। ২৪ মার্চ ২০১৬। সংগৃহীত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  7. "স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তালিকা"মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারআসল থেকে ১ ডিসেম্বর ২০১৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত : ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]