মুহাম্মাদের সমালোচনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুহাম্মাদ
বিষয়ের ধারাবাহিকের একটি অংশ
মুহাম্মাদ
মুহাম্মাদ এবং সন্ন্যাসী সার্জিয়াস (বহিরা), ১৫০৮ সালে ছবিটি আঁকেন ডাচ শিল্পী লুকাস ভ্যান লেইডেন। প্রাচীন খ্রিস্টীয় সমালোচনায় দাবি করা হয় যে, বহিরা নামক প্রচলিত ধর্মমত বিরোধী খ্রিষ্টান পাদ্রী মুহাম্মাদকে এমন সব বিপথগামী কথা বলেছিলেন যা পরবর্তীতে কোরআনকে প্রভাবিত করে।[১]

মুহাম্মাদের সমালোচনা সপ্তম শতক থেকেই বিদ্যমান। যখন মুহাম্মদ একেশ্বরবাদ প্রচার শুরু করেন তখন আরবের অমুসলিমরা নিন্দা জ্ঞাপন করে। তিনি বাইবেলে বর্ণিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের যেভাবে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা বাদ দিয়ে নতুনভাবে তাদের উপস্থাপন করেন,[২] হিব্রু বাইবেলে সর্বশেষ নবীর আভির্ভাবের যে ধরনা দেওয়া হয়েছে তার পরিবর্তে কোন ধরনের অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শন ব্যতীত তিনি নিজেকে ‘সর্বশেষ নবী’ হিসেবে দাবী করেন।[২] যার ফলশ্রুতিতে, আরবের ইহুদীরা তাকে অবমানকার একটি ডাকনাম প্রদান করে যা ‘হা-মেশোগা’ (হিব্রু ভাষায়: מְשֻׁגָּע‎, "পাগল" বা "যার উপর ভুত ভর করেছে")।[৩][৪][৫] মধ্যযুগে পশ্চিমা এবং বাইজেন্টাইন অনেক খ্রিস্টান চিন্তাবিদ মুহাম্মদকে বিকৃত, দুর্ভাগ্যজনক মানুষ, ভ্রান্ত ভাবাদর্শে বিশ্বাসী, এমনকি খ্রিস্টের শত্রু হিসাবে বিবেচনা করত।[৬][৭][৮][৯] এদের মধ্যে টমাস আকুইনাস ইসলামে বর্ণিত মৃত্যু পরবর্তী জীবনে ‘শারীরীক আনন্দের’ ব্যাপারটিকে সমালোচনা করেন।[৮]

আধুনিক সমালোচকগণ মুহাম্মাদের নিজেকে নবী হিসেবে দাবীর সত্যতা, তার নৈতিকতা, তার অধীনস্থ দাসী, শত্রুদের সঙ্গে তার আচরণ, তার বিয়েসমূহ, তার মতবাদসমূহের বিশ্লেষণ এবং তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেন।[১০][১১][১২][১৩][১৪][১৫]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

প্রাক্তন মুসলিম নাস্তিক/অজ্ঞেয়বাদীদের সমালোচনা[সম্পাদনা]

ইবনে আল-রাওয়ান্দি, আল-মা’আরি এবং আবু ইসা আল-ওয়ারাক বিখ্যাত ছিলেন ধর্মের সমালোচক হিসেবে যারা মুহাম্মাদের নৈতিকতার সমালোচনা করেছিলেন।[১৬]

ইহুদীদের দ্বারা সমালোচনা[সম্পাদনা]

মধ্যযুগে ইহুদীরা মুহাম্মাদকে হিব্রু ভাষায় হা-মেশুগ্গাহ্ যার অর্থ হচ্ছে পাগল বলে অভিহিত করতেন। শব্দটি মুহাম্মাদের ক্ষেত্রে বলা হত তার কর্মকাণ্ড দেখে।[১৭]

খ্রিষ্টানদের দ্বারা সমালোচনা[সম্পাদনা]

মুহাম্মাদের মৃত্যুর অল্প কিছু কাল পর আরব অঞ্চলের খ্রিষ্টানরা মুহাম্মাদকে মিথ্যা নবী এবং রক্তপিপাসু বলে দাবী করেন।[১৮] জন অব দামাস্কাস (৬৭৬-৭৪৯) নামের এক ব্যক্তি মুহাম্মাদের কুরআন বিষয়ে বলেছিলেন যে, ওটি হচ্ছে বাইবেলের নকল।[১৯] আরো বহু খ্রিষ্টান ধর্মগুরু মুহাম্মাদকে খুনী, ভণ্ড এবং নারীসক্ত পাগল বলে অভিহিত করতেন, তারা তাকে যীশুবিরোধী শয়তান বলে যীশুর অনুসারীদেরকে সতর্ক থাকতে বলতেন।[২০] জন অব দামাস্কাস তার 'ফাউন্ট অব উইসডোম' বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় 'কনসার্নিং হেরেসিয' এ খ্রিস্টান এবং মুসলিমদের অনেক বর্ণনা করেন। অধ্যায়টিতে জন মুহাম্মাদকে মিথ্যা নবী এবং একজন যীশুবিরোধী বলেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. From Writings, by St John of Damascus, The Fathers of the Church, vol. 37 (Washington, DC: Catholic University of America Press, 1958), pp. 153–60. Posted 26 March 2006 to The Othordox Christian Information Center – St. John of Damascus’s Critique of Islam
  2. Norman A. Stillman (১৯৭৯)। The Jews of Arab Lands: A History and Source Book। Jewish Publication Society। পৃষ্ঠা 236। আইএসবিএন 978-0827601987 
  3. Ibn Warraq, Defending the West: A Critique of Edward Said's Orientalism, p. 255.
  4. Andrew G. Bostom, The Legacy of Islamic Antisemitism: From Sacred Texts to Solemn History, p. 21.
  5. Quinn, Frederick (২০০৮)। "The Prophet as Antichrist and Arab Lucifer (Early Times to 1600)"। The Sum of All Heresies: The Image of Islam in Western ThoughtNew York: Oxford University Press। পৃষ্ঠা 17–54। আইএসবিএন 978-0195325638 
  6. Goddard, Hugh (২০০০)। "The First Age of Christian-Muslim Interaction (c. 830/215)"। A History of Christian-Muslim RelationsEdinburgh: Edinburgh University Press। পৃষ্ঠা 34–41। আইএসবিএন 978-1566633406 
  7. John of Damascus, De Haeresibus. See Migne, Patrologia Graeca, Vol. 94, 1864, cols 763–73. An English translation by the Reverend John W. Voorhis appeared in The Moslem World, October 1954, pp. 392–98.
  8. Cimino, Richard (ডিসেম্বর ২০০৫)। ""No God in Common": American Evangelical Discourse on Islam after 9/11"। Review of Religious Research47 (2): 162–74। জেস্টোর 3512048ডিওআই:10.2307/3512048 
  9. Dobbins, Mike (১৩ এপ্রিল ২০১৫)। "The Critics of Islam Were Right: An Apology to Ayaan Hirsi Ali, Sam Harris, Bill Maher and Other So-Called Islamophobes"The Christian PostWashington, D.C.। ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  10. Akyol, Mustafa (১৩ জানুয়ারি ২০১৫)। "Islam's Problem With Blasphemy"The New York Times। ২৬ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  11. Cornwell, Rupert (১০ এপ্রিল ২০১৫)। "Ayaan Hirsi Ali: Islam's most devastating critic"The IndependentLondon। ২৭ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  12. Ibn Warraq (২০০০)। The Quest for the Historical MuhammadAmherst, New York: Prometheus Booksআইএসবিএন 978-1573927871 
  13. Robert Spencer (২০০৬)। The Truth About MuhammadWashington, D.C.: Regnery Publishingআইএসবিএন 978-1596980280 
  14. The Clash of Fundamentalisms: Crusades, Jihads and Modernity; Ali, T., Verso, 2003, Pages 55-56
  15. Norman A. Stillman (১৯৭৯)। The Jews of Arab lands: a history and source book। Jewish Publication Society। পৃষ্ঠা 236। আইএসবিএন 978-0-8276-0198-7। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ 
  16. Walter Emil Kaegi, Jr., "Initial Byzantine Reactions to the Arab Conquest", Church History, Vol. 38, No. 2 (Jun., 1969), p. 139–49, p. 139–42, quoting from Doctrina Jacobi nuper baptizati 86–87
  17. http://orthodoxinfo.com/general/stjohn_islam.aspx
  18. Husain, Ed (২০০৭)। The Islamist। Penguin। পৃষ্ঠা 146On a personal level, my relationship with God had deteriorated. ... as I had become more active in the Hizb, my inner consciousness of God had hit an all-time low. "We sermonized about the need for Muslims to return to Islam, but many of the shabab [activists] did not know how to pray. I witnessed at least four new converts to Islam at different university campuses, convinced of the superiority of the `Islamic political ideology` ... but lacking basic knowledge of worship.