বিষয়বস্তুতে চলুন

জাতিসংঘ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাতিসংঘ
জাতিসংঘ
 বাংলা:জাতিসংঘ‎আরবি:منظمة الأمم المتحدة‎চীনা:联合国ইংরেজি:United Nationsফরাসি:Organisation des Nations uniesরুশ:Организация Объединённых Нацийহিস্পানি:Organización de las Naciones Unidas
 জাতীয় পতাকা
পতাকা
জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রসমূহ
সদর দপ্তর৭৬০ জাতিসংঘ প্লাজা, ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক শহর (আন্তর্জাতিক অঞ্চল)
দাপ্তরিক ভাষা
ধরনআন্তর্জাতিক সংস্থা
সদস্যপদ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র[]
২টি পর্যবেক্ষকরাষ্ট্র[][]
নেতৃবৃন্দ
আন্তোনিও গুতেরেস
আমিনা জে. মোহম্মদ
আনালেনা বেয়ারবক
বব রে
স্যামুয়েল জ্‌বোগার
প্রতিষ্ঠিত
 জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত
২৬ জুন ১৯৪৫ (৮০ বছর আগে) (1945-06-26)
 সনদ কার্যকর
২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ (৮০ বছর আগে) (1945-10-24)
ওয়েবসাইট
un.org
পূর্বসূরী
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ

জাতিসংঘ[] (ইংরেজি: United Nations বা UN) একটি বৈশ্বিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থা। এটি ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বে শান্তিনিরাপত্তা বজায় রাখা, দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং এসব লক্ষ্য পূরণে দেশগুলোর কাজ একসঙ্গে সমন্বয় করা।

জাতিসংঘের সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে অবস্থিত। এ ছাড়া জেনেভা, নাইরোবি, ভিয়েনাহেগে এর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। জাতিসংঘের ছয়টি প্রধান অঙ্গসংগঠন আছে: সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত, সচিবালয় এবং অছি পরিষদ। এসবের সঙ্গে আরও বিভিন্ন বিশেষায়িত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা মিলিয়ে গঠিত হয়েছে জাতিসংঘ ব্যবস্থা। বর্তমানে জাতিসংঘের মোট সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩টি, যা বিশ্বের প্রায় সব সার্বভৌম রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করে। এছাড়া দুটি রাষ্ট্র পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে উপনিবেশগুলো স্বাধীন হওয়ার পর জাতিসংঘ মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। শান্তি রক্ষা ও মানব উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য জাতিসংঘ ও এর বিভিন্ন সংস্থার অনেক কর্মকর্তা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তবে একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অকার্যকারিতা, পক্ষপাতিত্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

পটভূমি (১৯৪১–এর আগে)

[সম্পাদনা]
১৯৩৬ সালে ইতালি ইথিওপিয়ায় আগ্রাসন চালায়। এর প্রতিবাদে ইথিওপিয়ার সম্রাট হাইলি সেলাসি প্রথম লীগ অব নেশনসে আবেদন জানান। কিন্তু লীগ তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।

জাতিসংঘ গঠনের আগে প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিশ্বে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা (international organizations) তৈরি হয়। এসব সংস্থার লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র সংঘাত ও অস্থিরতার শিকার মানুষদের সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়া। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (International Committee of the Red Cross, ICRC)।[]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে অনেক প্রভাবশালী নেতা বিশ্বে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশ্ব সংস্থা (world body) গঠনের কথা বলেন। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ছিলেন অন্যতম। যুদ্ধ শেষে বিজয়ী দেশগুলো, যাদের বলা হয় মিত্রশক্তি (Allies), শান্তিচুক্তির শর্ত ঠিক করতে প্যারিস শান্তি সম্মেলনে (Paris Peace Conference) মিলিত হয়। এই সম্মেলনের ফল হিসেবে লীগ অব নেশনস (League of Nations) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এটি কাজ শুরু করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়নি। ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি, ১৯১৯ সালে ৪২টি দেশ অনুমোদিত লীগ অব নেশনসের চুক্তি (Covenant of the League of Nations) কার্যকর হলে লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।[] লীগের কাউন্সিল ছিল এর নির্বাহী সংস্থা, যা অ্যাসেম্বলির কাজ পরিচালনা করত। শুরুতে লীগের চারটি স্থায়ী সদস্য ছিল: যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান।

১৯২০–এর দশকে লীগ কিছু সীমিত সাফল্য পেলেও ১৯৩০–এর দশকে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়। ১৯৩৩ সালে জাপানের মানচুরিয়া আক্রমণের বিরুদ্ধে লীগ কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। মানচুরিয়া ছাড়ার পক্ষে ৪০টি দেশ ভোট দিলেও জাপান বিপক্ষে ভোট দিয়ে লীগ থেকেই বের হয়ে যায়।[] একইভাবে, দ্বিতীয় ইতালো–ইথিওপীয় যুদ্ধ (Second Italo-Ethiopian War) চলাকালে ইথিওপিয়ার সম্রাট হাইলি সেলাসি প্রথম (Haile Selassie I) ১৯৩৬ সালে জেনেভায় আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানান। কিন্তু ইতালির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ফলে ইতালি ও আরও কয়েকটি দেশ লীগ ত্যাগ করে।[]

শেষ পর্যন্ত ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে লীগ অব নেশনস কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং তার ভূমিকা শেষ হয়ে যায়।[]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তিগুলোর ঘোষণা (১৯৪১–১৯৪৪)

[সম্পাদনা]
১৯৪৩ সালে রুজভেল্টের খসড়ায় জাতিসংঘের তিনটি অংশ দেখানো হয়: চার পুলিশ, একটি নির্বাহী বিভাগ এবং ৪০টি দেশের আন্তর্জাতিক পরিষদ।

জাতিসংঘ গঠনের প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয় ১৯৪১ সালের ১২ জুন। সেদিন লন্ডনে ইন্টার-অ্যালায়েড কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন থেকে সেন্ট জেমস প্যালেসের ঘোষণা প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৪১ সালের আগস্টে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল একসঙ্গে আটলান্টিক সনদ তৈরি করেন। এতে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পৃথিবী কীভাবে চলবে, তার মূল লক্ষ্য ও নীতিমালা বলা হয়। ১৯৪১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে আবার একটি বৈঠক হয়। এতে অক্ষশক্তির দখলে থাকা দেশগুলোর নির্বাসিত সরকার, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ফ্রি ফ্রান্স বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ঘোষিত নীতিগুলোকে সমর্থন করেন।

১৯৪১ সালের ডিসেম্বরে রুজভেল্ট ও চার্চিল হোয়াইট হাউসে মিলিত হন। এই বৈঠককে আর্কেডিয়া সম্মেলন বলা হয়। রুজভেল্টই প্রথম মিত্রশক্তিগুলোকে বোঝাতে “জাতিসংঘ” নামটি ব্যবহার করেন। চার্চিল এই নামটি মেনে নেন। ১৯৪১ সালের ২৯ ডিসেম্বর রুজভেল্ট, চার্চিল ও হ্যারি হপকিন্স মিলে জাতিসংঘের ঘোষণা-র খসড়া তৈরি করেন। এতে সোভিয়েত ইউনিয়নের কিছু প্রস্তাব রাখা হয়। তবে ফ্রান্সকে এতে কোনো ভূমিকা দেওয়া হয়নি। আগের আটলান্টিক সনদের তুলনায় নতুন একটি বিষয় যোগ করা হয়- ধর্মীয় স্বাধীনতা। রুজভেল্টের অনুরোধে স্টালিন এতে সম্মতি দেন।

এই ঘোষণার মাধ্যমে রুজভেল্টের “চার শক্তি” ধারণা স্পষ্ট হয়। এই চারটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন। ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি রুজভেল্ট, চার্চিল, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। পরের দিন আরও ২২টি দেশ এতে স্বাক্ষর যোগ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে “জাতিসংঘ” নামটি মিত্রশক্তিগুলোর আনুষ্ঠানিক নাম হয়ে যায়। কোনো দেশ এতে যোগ দিতে চাইলে তাকে ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে হতো এবং অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হতো।

১৯৪৩ সালের অক্টোবরে মস্কো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে মস্কো ঘোষণাসমূহ গৃহীত হয়। এর মধ্যে একটি ছিল সাধারণ নিরাপত্তা নিয়ে চার শক্তির ঘোষণা। এতে বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠন করা হবে। এটি ছিল লীগ অব নেশনস-এর পরিবর্তে নতুন সংস্থা গঠনের প্রথম প্রকাশ্য ঘোষণা। এর কিছুদিন পর তেহরান সম্মেলন হয়। এখানে রুজভেল্ট, চার্চিল ও সোভিয়েত নেতা স্টালিন মিলিত হন। তারা যুদ্ধের পর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

১৯৪৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডাম্বার্টন ওকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার লক্ষ্য, কাঠামো ও কাজের পদ্ধতি ঠিক করা হয়। সবশেষে, ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়াল্টা সম্মেলনে বাকি সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়। এর মাধ্যমেই জাতিসংঘ গঠনের পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়।

প্রতিষ্ঠা (১৯৪৫)

[সম্পাদনা]
১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ: হালকা নীল রঙে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশগুলো দেখানো হয়েছে। গাঢ় নীল রঙে ওই দেশগুলোর অধীন থাকা উপনিবেশ ও নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো দেখানো হয়েছে। (তখনকার অনেক দেশের সীমান্ত আজকের সীমান্তের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।)

১৯৪৫ সালের ১ মার্চের মধ্যে আরও ২১টি দেশ জাতিসংঘের ঘোষণা-তে স্বাক্ষর করে। কয়েক মাস প্রস্তুতির পর ২৫ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্মেলন শুরু হয়। এতে ৫০টি দেশের সরকার এবং কিছু বেসরকারি সংস্থা অংশ নেয়। সম্মেলনের মূল অধিবেশনগুলোতে চারটি প্রধান শক্তিধর দেশের প্রতিনিধিরা সভাপতিত্ব করেন। এর আগেই, ১৯৪৪ সালের আগস্টে প্যারিস মুক্ত হওয়ার পর, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে ফ্রান্সকে আবার বড় শক্তির মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেন। পরবর্তী দুই মাসে জাতিসংঘের সনদ তৈরি করা হয়। এরপর ২৬ জুন ১৯৪৫ সালে ৫০টি দেশের প্রতিনিধি এই সনদে স্বাক্ষর করেন। সনদটি ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ সালে কার্যকর হয়। সেদিনই জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। এই অনুমোদন দেয় নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন এবং আরও বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্র। তখন সময় ছিল ইউটিসি অনুযায়ী রাত ৮টা ৭ মিনিট।

১৯৪৬ সালের জানুয়ারি থেকে লন্ডনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রথম বৈঠক শুরু হয়। এতে ৫১টি দেশ অংশ নেয়। শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। যেমন ইরানের আজারবাইজান অঞ্চলে সোভিয়েত সেনাদের উপস্থিতি এবং গ্রিসে ব্রিটিশ বাহিনীর অবস্থান। এই সময় ব্রিটিশ কূটনীতিক গ্ল্যাডউইন জেব অস্থায়ীভাবে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

পরে সাধারণ পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে জাতিসংঘের সদর দপ্তর হবে নিউইয়র্ক সিটিতে। ভবন নির্মাণ শুরু হয় ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে এবং শেষ হয় ৯ অক্টোবর ১৯৫২ সালে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রিগভে হাভডেন লি ছিলেন জাতিসংঘের প্রথম নির্বাচিত মহাসচিব।

স্নায়ুযুদ্ধ (১৯৪৭–১৯৯১)

[সম্পাদনা]
দগ হামারহোল্ড ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬১ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

জাতিসংঘের প্রধান কাজ ছিল বিশ্বে শান্তি বজায় রাখা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলায় প্রায়ই জাতিসংঘ কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। দুই পরাশক্তির বিরোধের কারণে সংস্থাটি মূলত স্নায়ুযুদ্ধের বাইরে থাকা সংঘাতেই হস্তক্ষেপ করতে পেরেছিল। তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম ছিল। প্রথমটি ঘটে ৭ জুলাই ১৯৫০ সালে। সেদিন নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি জোটকে দক্ষিণ কোরিয়ায় উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবটি পাস হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুপস্থিতিতে। দ্বিতীয়টি হলো ২৭ জুলাই ১৯৫৩ সালে কোরীয় অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর, যার মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ থামে।

১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব ১৮১ অনুমোদন করে। এতে ব্রিটিশ শাসিত ফিলিস্তিনকে দুটি রাষ্ট্রে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়: একটি ইহুদি রাষ্ট্র এবং একটি আরব রাষ্ট্র। জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলা হয়। প্রস্তাবটি ৩৩ ভোট পক্ষে, ১৩ ভোট বিপক্ষে পাস হয়; ১০টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে এবং একটি দেশ অনুপস্থিত ছিল। ইহুদিরা এই পরিকল্পনা মেনে নিলেও ফিলিস্তিনের আরব জনগণ ও আরব রাষ্ট্রগুলো তা প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলেই সেখানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ১৫ মে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষণার পর পার্শ্ববর্তী আরব দেশগুলোর সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনে আক্রমণ করে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালের আরব–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় দুই বছর পরে জাতিসংঘের কর্মকর্তা রালফ বান্চ এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি করান। এরপর নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে ফিলিস্তিনের সব অঞ্চলে অস্ত্রবিরতি কার্যকর থাকবে। ১৯৫৬ সালের ৭ নভেম্বর সুয়েজ সংকটের অবসান ঘটানোর জন্য জাতিসংঘ প্রথমবারের মতো একটি শান্তিরক্ষা বাহিনী গঠন করে। তবে একই সময়ে হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক আগ্রাসণের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

১৪ জুলাই ১৯৬০ সালে জাতিসংঘ কঙ্গোতে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম ছিল কঙ্গোতে জাতিসংঘ অভিযান। এটি ছিল জাতিসংঘের প্রাথমিক সময়ের সবচেয়ে বড় সামরিক মিশন। এর লক্ষ্য ছিল কাটাঙ্গা অঞ্চলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সেটিকে ১১ মে ১৯৬৪ সালের মধ্যে কঙ্গো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেওয়া। এই সংঘাত চলাকালে জাতিসংঘের মহাসচিব ডাগ হামারশোল্ড বিদ্রোহী নেতা মোইজ শোম্বের সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরে তাকে মরণোত্তর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৬৪ সালে হামারশোল্ডের পরবর্তী মহাসচিব উ থান্ট সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠান। এই মিশনটি জাতিসংঘের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিরক্ষা অভিযানের একটি হয়ে ওঠে।

১৯৬০-এর দশকে উপনিবেশমুক্তি দ্রুত বাড়তে থাকে। এর ফলে বহু নতুন স্বাধীন দেশ জাতিসংঘে যোগ দেয় এবং সদস্যসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। শুধু ১৯৬০ সালেই ১৭টি নতুন দেশ জাতিসংঘে যুক্ত হয়, যার মধ্যে ১৬টিই ছিল আফ্রিকার দেশ। ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও বহু উন্নয়নশীল দেশের সমর্থনে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন নিরাপত্তা পরিষদে চীনের আসন লাভ করে। এর ফলে তাইওয়ান সেই আসন হারায়। এই ঘটনাকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়ার একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলো আলজেরিয়ার নেতৃত্বে গ্রুপ অব ৭৭ নামে একটি জোট গঠন করে। কিছু সময়ের জন্য এই জোট জাতিসংঘে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে। ১৯৭৫ সালের ১০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি জোট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও একটি প্রস্তাব পাস করে, যেখানে জায়নবাদকে বর্ণবাদের একটি রূপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, ১৯৯১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্য, ভিয়েতনাম ও কাশ্মীরের মতো বড় সংঘাতে জাতিসংঘ সফলভাবে মধ্যস্থতা করতে না পারায় সংস্থাটি ধীরে ধীরে শান্তিরক্ষা থেকে সরে গিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ১৯৭০-এর দশকে জাতিসংঘের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যয় শান্তিরক্ষা খাতের ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।

স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময় (১৯৯১–বর্তমান)

[সম্পাদনা]
কোফি আনান ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের প্রধান হন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে বিভিন্ন সদস্য দেশের পতাকা উত্তোলিত ছিল।
২০১৫ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট শহরে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল।

স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম দ্রুত বেড়ে যায়। মাত্র পাঁচ বছরে জাতিসংঘ যতগুলো শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয়, তা আগের প্রায় চল্লিশ বছরের তুলনায় বেশি ছিল। ১৯৮৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। একই সময়ে শান্তিরক্ষা খাতে ব্যয় দশ গুণেরও বেশি বেড়ে যায়। এই সময় জাতিসংঘ এল সালভাদরের গৃহযুদ্ধ শেষ করতে সাহায্য করে। নামিবিয়ায় একটি সফল শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনা করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ শেষ হওয়ার পর এবং কম্বোডিয়ায় খেমার রুজ সরকারের পতনের পর গণতান্ত্রিক নির্বাচন তত্ত্বাবধান করে। ১৯৯১ সালে জাতিসংঘ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি জোটকে কুয়েত দখল থেকে ইরাককে হটানোর অনুমতি দেয়। তবে জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা পরে বলেন, এসব সাফল্য আসলে সংস্থাটির জন্য একটি “ভুল আশাবাদ” তৈরি করেছিল।

স্নায়ুযুদ্ধের শেষ দিক থেকেই জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে থাকে। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইউনেস্কোতে অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এর পর যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরও একই সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মহাসচিব বুতরস বুতরস-ঘালি জাতিসংঘের সচিবালয়ে সংস্কার চালু করেন এবং সংস্থার আকার কিছুটা ছোট করেন। তাঁর পরবর্তী মহাসচিব কোফি আনান আরও সংস্কার করেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র চাঁদা না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল।

যদিও জাতিসংঘ সনদ মূলত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য লেখা হয়েছিল, ১৯৯০-এর দশকে সংস্থাটিকে একাধিক দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করতে হয়। সোমালিয়ায় জাতিসংঘের মিশন ব্যর্থ বলে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে মোগাদিশুর যুদ্ধে প্রাণহানির পর যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরিয়ে নিলে। বসনিয়ায় জাতিগত নিধন চলার সময় জাতিসংঘের সিদ্ধান্তহীন ভূমিকার কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা হয়। ১৯৯৪ সালে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বিধার কারণে রুয়ান্ডার গণহত্যা ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

১৯৯০-এর দশকের শেষ দিক থেকে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের ধরন বদলাতে শুরু করে। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের অনুমোদনে ন্যাটো কসোভোতে বাহিনী পাঠায়। সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘের মিশনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে অভিযান ন্যাটোর তত্ত্বাবধানে হয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই ইরাক আক্রমণ করে। এতে জাতিসংঘ কতটা কার্যকর সেই প্রশ্ন আবার জোরালো হয়।

মহাসচিব বান কি-মুনের সময়ে জাতিসংঘ সুদানের দারফুর ও কঙ্গোর কিভু অঞ্চলে শান্তিরক্ষী পাঠায়। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে পর্যবেক্ষক ও রাসায়নিক অস্ত্র পরিদর্শক পাঠানো হয়। ২০১৩ সালে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে বলা হয়, ২০০৯ সালের শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জাতিসংঘ বড় ধরনের ব্যর্থতার শিকার হয়েছিল। ২০১০ সালে হাইতির ভূমিকম্পে ১০১ জন জাতিসংঘ কর্মী নিহত হন, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাণহানি। ২০১১ সালে জাতিসংঘের অনুমতিতে ন্যাটো লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।

২০০০ সালে জাতিসংঘ একবিংশ শতকের ভূমিকা নিয়ে সহস্রাব্দ সম্মেলন আয়োজন করে। এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বনেতাদের সমাবেশ। সেখানে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য কমানো, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন। তবে ২০১৫ সালের মধ্যে সব লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সালের বিশ্ব সম্মেলনে উন্নয়ন, শান্তিরক্ষা, মানবাধিকার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার জায়গায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা চালু হয়।

জাতিসংঘ নাগরিক সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করে, যাতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ে। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো মহাসচিব পদপ্রার্থীদের প্রকাশ্য বিতর্ক আয়োজন করা হয়। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি আন্তোনিও গুতেরেস মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি সংঘাত প্রতিরোধে কূটনীতি, কার্যকর শান্তিরক্ষা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেন।

২০১৯ সালে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে।

জাতিসংঘ সব সময়ই অর্থের সংকটে ভুগেছে। তবে ২০২০ সালের পর এই সংকট গুরুতর হয়। ২০২৫ সালে অনেক দেশ সময়মতো চাঁদা না দেওয়ায় জাতিসংঘ বড় আর্থিক সংকটে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র শান্তিরক্ষা বাজেটের নির্দিষ্ট অংশের বেশি দিতে চায় না, যদিও তাদের নির্ধারিত অংশ আরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন রাজনৈতিক ইস্যুতে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রায়ই চাঁদা দিতে দেরি করে। অন্য দেশগুলোও একই পথে হাঁটায় সংকট গভীর হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে মাত্র ৬১টি দেশ সম্পূর্ণ ও সময়মতো চাঁদা দেয়। এর ফলে বাজেট কমানো শুরু হয়, এবং জাতিসংঘ সতর্ক করে যে এতে লাখো মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কাঠামো

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘ একটি বৃহত্তর কাঠামোর অংশ, যা সম্মিলিতভাবে জাতিসংঘ ব্যবস্থা নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থার আওতায় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাতিসংঘ সনদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটির পাঁচটি প্রধান অঙ্গ রয়েছে। এগুলো হলো সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং জাতিসংঘ সচিবালয়[১০] এছাড়াও একটি ষষ্ঠ প্রধান অঙ্গ ছিল, জাতিসংঘ ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল। তবে পালাউ স্বাধীনতা লাভ করার পর, যা ছিল জাতিসংঘের সর্বশেষ ট্রাস্ট অঞ্চল, ১৯৯৪ সালের ১ নভেম্বর এই পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।[১১]

পাঁচটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে চারটির সদর দপ্তর নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত জাতিসংঘের মূল সদর দপ্তরে রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত দ্য হেগ শহরে অবস্থিত।[১২] জাতিসংঘের অন্যান্য প্রধান সংস্থার অধিকাংশই জেনেভা,[১৩] ভিয়েনা,[১৪] এবং নাইরোবিতে অবস্থিত।[১৫] এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জাতিসংঘের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জাতিসংঘের ছয়টি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে। এগুলো হলো আরবি, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রুশ এবং স্প্যানিশ। এসব ভাষা আন্তঃসরকারি বৈঠক ও দাপ্তরিক নথিপত্রে ব্যবহৃত হয়।[১৬] জাতিসংঘের সুযোগ-সুবিধা ও দায়মুক্তি সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী, জাতিসংঘ এবং এর সংস্থাগুলো যে দেশগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেসব দেশের আইনের আওতায় সাধারণত পড়ে না। এই দায়মুক্তি স্বাগতিক দেশ ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি জাতিসংঘের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে।[১৭]

এই ছয়টি প্রধান অঙ্গের অধীনে, লেখিকা লিন্ডা ফাসুলো-এর ভাষায়, রয়েছে “বিস্ময়কর সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সমষ্টি”। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আগের এবং প্রায় সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।[১৮] এসবের মধ্যে রয়েছে বিশেষায়িত সংস্থা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন কর্মসূচি ও তহবিল এবং অন্যান্য জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সংস্থা।[১৯]

জাতিসংঘ ব্যবস্থার সব সংস্থাই নোবেলমেয়ার নীতি অনুসরণ করে। এই নীতির উদ্দেশ্য হলো এমন বেতন নির্ধারণ করা, যাতে সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত দেশগুলোর নাগরিকদেরও আকৃষ্ট ও ধরে রাখা যায়। একই সঙ্গে কর্মীর জাতীয়তা নির্বিশেষে সমমূল্যের কাজের জন্য সমান বেতন নিশ্চিত করা হয়।[২০][২১] বাস্তবে, জাতিসংঘের কর্মীদের চাকরির শর্তাবলি তদারককারী সংস্থা আন্তর্জাতিক বেসামরিক কর্মচারী কমিশন সর্বোচ্চ বেতন প্রদানকারী জাতীয় সরকারি সেবাগুলোর বেতন কাঠামোকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে।[২২] জাতিসংঘের কর্মীদের বেতনের ওপর একটি অভ্যন্তরীণ কর আরোপ করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।[২০][২৩]

জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গসমূহ[২৪]

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
 জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের আলোচনামূলক পরিষদ 

জাতিসংঘ সচিবালয়
 জাতিসংঘের প্রশাসনিক অঙ্গ 

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত
 আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনীন আদালত 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাকক্ষ

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

  • সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জন্য বাধ্যতামূলক নয়—এমন সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে অথবা নিরাপত্তা পরিষদকে পরামর্শ দিতে পারে;
  • নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন সদস্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়;
  • জাতিসংঘের বাজেট অনুমোদন করে;
  • নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সকল সদস্য, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ১৫ জন বিচারক নির্বাচন করে। প্রতিটি দেশের একটি করে ভোট থাকে।
  • অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থাকে প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে (যেমন সম্মেলন আয়োজন, প্রতিবেদন ও গবেষণা প্রস্তুত, বাজেট প্রণয়ন);
  • এর প্রধান জাতিসংঘের মহাসচিব সাধারণ পরিষদ কর্তৃক পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং তিনি জাতিসংঘের প্রধান প্রতিনিধি।
  • যেসব রাষ্ট্র আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে, তাদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে;
  • আইনগত পরামর্শ প্রদান করে;
  • আপেক্ষিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনুযায়ী রায় প্রদান করে। এর ১৫ জন বিচারক সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ
 আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক 

জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ
 বিশ্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক 

জাতিসংঘ অছি পরিষদ
 ট্রাস্ট অঞ্চল পরিচালনার জন্য (বর্তমানে নিষ্ক্রিয়) 

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ

জাতিসংঘ ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল

  • অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে;
  • জাতিসংঘের বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় করে;
  • সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত ৫৪ জন সদস্য তিন বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে।

সাধারণ পরিষদ

[সম্পাদনা]
মিখাইল গর্বাচেভ, সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা, ডিসেম্বর ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন

সাধারণ পরিষদ হলো জাতিসংঘের প্রধান আলোচনামূলক পরিষদ। এটি জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। পরিষদটি প্রতিবছর সাধারণ পরিষদ হল-এ নিয়মিত অধিবেশনে বসে, তবে প্রয়োজনে জরুরি অধিবেশনও আহ্বান করা যেতে পারে।[২৫] পরিষদের নেতৃত্বে থাকেন একজন সভাপতি। তিনি আঞ্চলিক ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দ্বারা নির্বাচিত হন। তাঁর সঙ্গে থাকেন ২১ জন সহ-সভাপতি।[২৬] সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১০ জানুয়ারি ১৯৪৬ সালে, লন্ডনের মেথডিস্ট সেন্ট্রাল হল-এ। সে সময় এতে ৫১টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।[২৭]

শান্তি ও নিরাপত্তা, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং বাজেট-সংক্রান্ত বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।[২৮][২৯] অন্যান্য সকল বিষয়ে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের একটি করে ভোট রয়েছে। বাজেট অনুমোদন ছাড়া সাধারণ পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবগুলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনাধীন শান্তি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় ব্যতীত, জাতিসংঘের আওতাভুক্ত যেকোনো বিষয়ে সাধারণ পরিষদ সুপারিশ করতে পারে।[২৫]

সাধারণ পরিষদের ছয়টি প্রধান কমিটির মাধ্যমে খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করা যেতে পারে:[৩০]

এছাড়াও নিম্নোক্ত দুটি কমিটির মাধ্যমেও প্রস্তাব উত্থাপন করা যায়:

  • সাধারণ কমিটি – এটি একটি তদারকি কমিটি, যেখানে পরিষদের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং বিভিন্ন কমিটির প্রধানরা অন্তর্ভুক্ত থাকেন
  • পরিচয়পত্র কমিটি – প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের পরিচয়পত্র যাচাই ও নির্ধারণের দায়িত্বে নিয়োজিত

নিরাপত্তা পরিষদ

[সম্পাদনা]
কলিন পাওয়েল, তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ তারিখে ইরাক যুদ্ধ-সংক্রান্ত শুনানিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে ইরাকের কথিত রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে একটি শিশি প্রদর্শন করছেন।

নিরাপত্তা পরিষদের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। জাতিসংঘের অন্যান্য অঙ্গসংস্থাগুলি কেবল সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে সুপারিশ করতে পারে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলির জন্য বাধ্যতামূলক। জাতিসংঘ সনদের ২৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলি এই সিদ্ধান্তগুলি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।[৩১] পরিষদের এই সিদ্ধান্তগুলিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বলা হয়।[৩২]

নিরাপত্তা পরিষদ মোট পনেরোটি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য (চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র) এবং দশটি অস্থায়ী সদস্য রয়েছে (আলজেরিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস, গায়ানা, পাকিস্তান, পানামা, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, সিয়েরা লিওন, স্লোভেনিয়া এবং সোমালিয়া, ২০২৫-এর হিসাব অনুযায়ী)। পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের কাছে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো স্থায়ী সদস্য প্রস্তাব গৃহীত হওয়া ঠেকাতে পারে, তবে আলোচনায় বাধা দিতে পারে না। দশটি অস্থায়ী আসন দুই বছরের মেয়াদের জন্য নির্ধারিত হয়। প্রতি বছর সাধারণ পরিষদ আঞ্চলিক গোষ্ঠীভিত্তিতে পাঁচটি সদস্য নির্বাচন করে।[৩৩] নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব প্রতি মাসে ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।[৩৪]

জাতিসংঘ সচিবালয়

[সম্পাদনা]
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

জাতিসংঘ সচিবালয় জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে পরিচালনা ও সচল রাখতে প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদন করে।[৩৫] এটি বিশ্বজুড়ে কর্মরত কয়েক দশ হাজার আন্তর্জাতিক অসামরিক কর্মচারী নিয়ে গঠিত। সচিবালয়ের প্রধান হলেন মহাসচিব। তাঁকে সহায়তা করেন উপ-মহাসচিব[৩৬] সচিবালয়ের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা এবং নিরাপত্তা পরিষদ, সাধারণ পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদসহ অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ সম্পাদন করা।[৩৭]

মহাসচিব জাতিসংঘের মুখপাত্র এবং নেতৃত্বদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘ সনদে এই পদকে সংস্থাটির প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।[৩৮] সনদের ৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদের নজরে এমন যেকোনো বিষয় আনতে পারেন, যা তাঁর মতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এই বাক্যাংশটি ত্রিগভে লি-এর সময় থেকে পরবর্তী মহাসচিবরা এমনভাবে ব্যাখ্যা করে আসছেন যে, এর মাধ্যমে মহাসচিবকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্তৃত কার্যপরিধি প্রদান করা হয়েছে।[৩৯] সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পদটি জাতিসংঘের প্রশাসনিক প্রধানের পাশাপাশি একজন কূটনীতিক ও মধ্যস্থতাকারীর দ্বৈত ভূমিকায় পরিণত হয়েছে। এই ভূমিকায় তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিশ্বব্যাপী সমস্যা নিয়ে ঐকমত্য গঠনের চেষ্টা করেন।[৪০]

নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ মহাসচিব নিয়োগ করে। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। এই পদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারিত নয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি স্বীকৃত হয়েছে যে, একজন মহাসচিব সাধারণত পাঁচ বছরের এক বা দুই মেয়াদের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।[৪১] বর্তমান মহাসচিব হলেন পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি ২০১৭ সালে বান কি-মুন-এর স্থলাভিষিক্ত হন।

জাতিসংঘের মহাসচিবদের তালিকা[৪২]
ক্র. নং নাম দেশের নাম দায়িত্ব গ্রহণ দায়িত্ব ত্যাগ মন্তব্য
গ্ল্যাডউইন জেব  যুক্তরাজ্য ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ ত্রিগভে লি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন
ত্রিগভে লি  নরওয়ে ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ ১০ নভেম্বর ১৯৫২ পদত্যাগ করেন
ডাগ হামারশেল্ড  সুইডেন ১০ এপ্রিল ১৯৫৩ ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬১ দায়িত্বকালেই মৃত্যুবরণ করেন
উ থান্ত  বার্মা ৩০ নভেম্বর ১৯৬১ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রথম অ-ইউরোপীয় মহাসচিব
কার্ট ভাল্ডহাইম  অস্ট্রিয়া ১ জানুয়ারি ১৯৭২ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮১
হাভিয়ের পেরেস দে কুয়েয়ার  পেরু ১ জানুয়ারি ১৯৮২ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯১
বুতরস বুতরস-ঘালি  মিশর ১ জানুয়ারি ১৯৯২ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সর্বনিম্ন সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন
কোফি আনান  ঘানা ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ ৩১ ডিসেম্বর ২০০৬
বান কি-মুন  দক্ষিণ কোরিয়া ১ জানুয়ারি ২০০৭ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬
আন্তোনিও গুতেরেস  পর্তুগাল ১ জানুয়ারি ২০১৭ বর্তমান

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

[সম্পাদনা]
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে কোসোভোর একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয় বলে রায় দেয়।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (সংক্ষেপে আইসিজে), যা কখনও কখনও বিশ্ব আদালত নামেও পরিচিত,[৪৩] জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক অঙ্গ। এটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের স্থায়ী আদালত-এর উত্তরসূরি এবং নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত শান্তি প্রাসাদে আদালতটির পূর্বতন সদর দপ্তরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর ফলে এটি জাতিসংঘের একমাত্র প্রধান অঙ্গ, যার সদর দপ্তর নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত নয়। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের বিচার নিষ্পত্তি করা। আদালতে যেসব বিষয়ের শুনানি হয়েছে, তার মধ্যে যুদ্ধাপরাধ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং জাতিগত নিধনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত।[৪৪] এছাড়া, আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শমূলক মতামত দেওয়ার জন্য অন্যান্য জাতিসংঘ অঙ্গও আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে।[৪৫]

জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সংবিধির পক্ষভুক্ত। এই সংবিধি জাতিসংঘ সনদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অ-সদস্য রাষ্ট্ররাও এই সংবিধির পক্ষভুক্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। এই রায় এবং পরামর্শমূলক মতামত একত্রে আন্তর্জাতিক আইনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।[৪৩] আদালতটি ১৫ জন বিচারক নিয়ে গঠিত। সাধারণ পরিষদ তাঁদের নয় বছরের মেয়াদের জন্য নিয়োগ করে। প্রত্যেক কর্মরত বিচারক ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রের নাগরিক হন।[৪৫][৪৬]

অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ

[সম্পাদনা]

অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (সংক্ষেপে ইকোসক) আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন প্রসারে সাধারণ পরিষদকে সহায়তা করে।[৪৭] এটি বৈশ্বিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করার জন্য জাতিসংঘের প্রধান মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘের সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক জটিল সংস্থা।[৪৭] ইকোসকের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা পরিচালনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পরামর্শ প্রদান এবং সুপারিশ প্রণয়ন করা।[৪৮][৪৯]

ইকোসকের কাজ মূলত বিভিন্ন উপ-সংস্থার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। এসব উপ-সংস্থা নানা ধরনের বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত। এর মধ্যে রয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয়ে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে পরামর্শ প্রদানকারী আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরাম; টেকসই বন ব্যবস্থাপনা সমন্বয় ও প্রসারে কাজ করা বন বিষয়ক জাতিসংঘ ফোরাম; বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সমন্বয়কারী জাতিসংঘ পরিসংখ্যান কমিশন; এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে জাতিসংঘ সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী টেকসই উন্নয়ন কমিশন। ইকোসক বেসরকারি সংস্থাগুলোকে পরামর্শমূলক মর্যাদাও প্রদান করতে পারে।[৪৮] এপ্রিল ২০২১-এর হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৫,৬০০টি সংস্থা এই মর্যাদা লাভ করেছে।[৫০][৫১]

বিশেষায়িত সংস্থা

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, জাতিসংঘের প্রতিটি প্রধান অঙ্গ তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থা গঠন করতে পারে।[৫২] বিশেষায়িত সংস্থাগুলো হলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে জাতিসংঘ ও একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করে। জাতিসংঘ সনদের ৫৭ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি সংস্থা জাতিসংঘ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।[৫৩] বর্তমানে ১৫টি বিশেষায়িত সংস্থা রয়েছে। এসব সংস্থা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজীকরণ, মহামারি প্রতিরোধ ও মোকাবিলা, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো বহুমুখী দায়িত্ব পালন করে।[৫৪][]

জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থাসমূহ
ক্র. নং সংক্ষিপ্ত নাম সংস্থার নাম সদর দপ্তর প্রধান প্রতিষ্ঠা
এফএও খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ইতালি রোম, ইতালি চীন ছু দোংইউ ১৯৪৫
আইসিএও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা কানাডা মন্ট্রিয়াল, কুইবেক, কানাডা কলম্বিয়া হুয়ান কার্লোস সালাসার ১৯৪৭
আইএফএড আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল ইতালি রোম, ইতালি টেমপ্লেট:দেশের উপাত্ত SPA আলভারো লারিও ১৯৭৭
আইএলও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সুইজারল্যান্ড জেনেভা, সুইজারল্যান্ড টোগো গিলবার্ট হুংবো ১৯৪৬ (১৯১৯)
আইএমও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা যুক্তরাজ্য লন্ডন, যুক্তরাজ্য পানামা আর্সেনিও দোমিঙ্গেজ ১৯৪৮
আইএমএফ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র বুলগেরিয়া ক্রিস্তালিনা জর্জিয়েভা ১৯৪৫ (১৯৪৪)
আইটিইউ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ড জেনেভা, সুইজারল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডোরিন বগদান-মার্টিন ১৯৪৭ (১৮৬৫)
ইউনেস্কো জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ফ্রান্স প্যারিস, ফ্রান্স ফ্রান্স অদ্রে আজুলে ১৯৪৫
ইউনিডো জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা অস্ট্রিয়া ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া জার্মানি গেয়ার্ড মুলার ১৯৬৭
১০ ইউএনডব্লিউটিও বিশ্ব পর্যটন সংস্থা স্পেন মাদ্রিদ, স্পেন জর্জিয়া (রাষ্ট্র) জুরাব পোলোলিকাশভিলি ১৯৭৪
১১ ইউপিইউ সার্বজনীন ডাক ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ড বার্ন, সুইজারল্যান্ড জাপান মাসাহিকো মেতোকি ১৯৪৭ (১৮৭৪)
১২ ডব্লিউবিজি বিশ্বব্যাংক গ্রুপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভারত অজয় বঙ্গা (সভাপতি) ১৯৪৫ (১৯৪৪)
১৩ ডব্লিউএইচও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুইজারল্যান্ড জেনেভা, সুইজারল্যান্ড ইথিওপিয়া তেদ্রোস আধানোম ১৯৪৮
১৪ ডব্লিউআইপিও বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা সুইজারল্যান্ড জেনেভা, সুইজারল্যান্ড সিঙ্গাপুর ড্যারেন ট্যাং ১৯৭৪
১৫ ডব্লিউএমও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সুইজারল্যান্ড জেনেভা, সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনা সেলেস্তে সাউলো (মহাসচিব)

সংযুক্ত আরব আমিরাত আব্দুল্লাহ আল মানদুস (সভাপতি)

১৯৫০ (১৮৭৩)

তহবিল, কর্মসূচি ও অন্যান্য সংস্থা

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অসংখ্য স্বায়ত্তশাসিত ও পৃথকভাবে পরিচালিত তহবিল, কর্মসূচি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অধীনস্থ সংস্থা[৫৫] এসব প্রতিটি সংস্থার নিজস্ব কর্মক্ষেত্র, শাসন কাঠামো ও বাজেট রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সংস্থা—যেমন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)—জাতিসংঘের বাইরে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হলেও জাতিসংঘের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অংশীদারত্ব চুক্তি বজায় রাখে।

জাতিসংঘ তার মানবিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশ এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদন করে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টি প্রতিরোধ (যেমন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি), ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা (যেমন ইউএনএইচসিআর), এবং এইচআইভি/এইডস মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই (যেমন ইউএনএইডস)।[৫৬]

জাতিসংঘের কর্মসূচি ও তহবিল
সংক্ষিপ্ত নাম সংস্থার নাম সদর দপ্তর প্রধান প্রতিষ্ঠা
UNDP জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি ব্রাজিল আখিম স্টাইনার ১৯৬৫
UNICEF জাতিসংঘ শিশু তহবিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যাথরিন এম. রাসেল ১৯৪৬
UNCDF জাতিসংঘ পুঁজি উন্নয়ন তহবিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র লুক্সেমবুর্গ মার্ক বিকলার ১৯৬৬
WFP বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ইতালি রোম, ইতালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিন্ডি ম্যাককেইন ১৯৬৩
UNEP জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি কেনিয়া নাইরোবি, কেনিয়া ডেনমার্ক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন ১৯৭২
UNFPA জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিউ ইয়র্ক সিটি, যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাতালিয়া কানেম ১৯৬৯
UN-HABITAT জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি কেনিয়া নাইরোবি, কেনিয়া মালয়েশিয়া মাইমুনাহ মোহদ শরিফ ১৯৭৮
UNV জাতিসংঘ স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচি জার্মানি বন, জার্মানি রাশিয়া তইলি কুরবানভ ১৯৭৮

সদস্যপদ

[সম্পাদনা]
  ২টি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র (ফিলিস্তিন, হোলি সি)
  ২টি যোগ্য অ-সদস্য রাষ্ট্র (নিউই, কুক দ্বীপপুঞ্জ)

বিশ্বের সকল নির্বিবাদ স্বাধীন রাষ্ট্র জাতিসংঘের সদস্য।[৫৭] ২০১১ সালের ১৪ জুলাই যোগদানকারী দক্ষিণ সুদান বর্তমানে সর্বশেষ সদস্য রাষ্ট্র। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের মোট সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯৩[]

জাতিসংঘ সনদে সদস্যপদ সংক্রান্ত নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে—

  1. জাতিসংঘের সদস্যপদ সকল শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত, যারা এই সনদে অন্তর্ভুক্ত দায়বদ্ধতাগুলো গ্রহণ করে এবং সংস্থার বিবেচনায় সেগুলো পালনে সক্ষম ও আগ্রহী।
  2. এ ধরনের কোনো রাষ্ট্রকে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। দ্বিতীয় অধ্যায়, ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ।[৫৮]
সুকর্ণোর নেতৃত্বে ইন্দোনেশিয়া প্রথম এবং একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘ ত্যাগের চেষ্টা করে।

এছাড়া, বর্তমানে দুটি অ-সদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র রয়েছে— হলি সি এবং ফিলিস্তিন[][]

কুক দ্বীপপুঞ্জনিউই—উভয়ই নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত সহযোগী রাষ্ট্র—জাতিসংঘের একাধিক বিশেষায়িত সংস্থার পূর্ণ সদস্য। সচিবালয় তাদের ‘‘পূর্ণ চুক্তি প্রণয়ন সক্ষমতা’’ স্বীকৃতি দিয়েছে।[৫৯]

ইন্দোনেশিয়া ১৯৬৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে মালয়েশিয়ার নির্বাচনের প্রতিবাদে জাতিসংঘ থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের চেষ্টা করা প্রথম এবং একমাত্র রাষ্ট্র। এই ঘটনা ঘটে ইন্দোনেশিয়া–মালয়েশিয়া দ্বন্দ্ব চলাকালে।[৬০] পরবর্তীতে, জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে স্বল্পস্থায়ী CONEFO গঠনের পর ইন্দোনেশিয়া ১৯৬৬ সালে পুনরায় জাতিসংঘের সদস্যপদ গ্রহণ করে।

৭৭-এর গোষ্ঠী

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘে ৭৭-এর গোষ্ঠী (সংক্ষেপে জি–৭৭) হলো উন্নয়নশীল দেশসমূহের একটি শিথিল জোট। এই জোটের লক্ষ্য হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ অর্থনৈতিক স্বার্থ উন্নীত করা এবং জাতিসংঘে তাদের সম্মিলিত দরকষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রথমে ৭৭টি দেশ এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। তবে ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৩টি দেশে পৌঁছায়।[৬১]

১৯৬৪ সালের ১৫ জুন জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (সংক্ষেপে ইউএনসিটিএডি) গৃহীত ‘‘সাতাত্তরটি দেশের যৌথ ঘোষণা’’র মাধ্যমে ৭৭-এর গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ সালে আলজিয়ার্স শহরে গোষ্ঠীটি তাদের প্রথম বড় বৈঠক আয়োজন করে। এই বৈঠকে আলজিয়ার্স সনদ গৃহীত হয় এবং স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করা হয়।[৬২]

১৯৭০-এর দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাধ্যমে নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গৃহীত হওয়ার পর ৭৭-এর গোষ্ঠীর কার্যক্রম জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয়।[৬৩] উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর অনুরূপ জোট জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থাতেও সক্রিয় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২৪-এর গোষ্ঠী (জি–২৪) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে আর্থিক ও মুদ্রানীতিগত বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে।[৬৪]

উদ্দেশ্য

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘের সামগ্রিক কৌশল জাতিসংঘের কমন এজেন্ডা নথিতে তুলে ধরা হয়েছে।[৬৫][৬৬]

শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা

[সম্পাদনা]
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর প্রতীক

নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের পর জাতিসংঘ এমন সব অঞ্চলে শান্তিরক্ষী পাঠায়, যেখানে সশস্ত্র সংঘাত সম্প্রতি শেষ হয়েছে বা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো শান্তিচুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করা এবং সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলোকে পুনরায় সহিংসতায় জড়াতে নিরুৎসাহিত করা। জাতিসংঘের নিজস্ব কোনো স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই। তাই সদস্য রাষ্ট্রগুলো স্বেচ্ছায় শান্তিরক্ষী বাহিনী সরবরাহ করে। এই সেনাদের স্বতন্ত্র নীল রঙের হেলমেটের কারণে প্রায়ই “নীল হেলমেট” নামে ডাকা হয়।[৬৭][৬৮] ১৯৮৮ সালে সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়।[৬৯]

১৯৪৭ সাল থেকে জাতিসংঘ মোট ৭১টি শান্তিরক্ষা অভিযান পরিচালনা করেছে। এপ্রিল ২০২১-এর হিসাব অনুযায়ী অনুযায়ী, ১২১টি দেশের ৮৮,০০০-এরও বেশি শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে মোতায়েন ছিলেন।[৭০] সবচেয়ে বড় মিশনটি হলো দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশন (ইউএনএমআইএসএস), যেখানে প্রায় ১৯,২০০ জন ইউনিফর্মধারী কর্মী নিয়োজিত ছিলেন।[৭১] অপরদিকে, সবচেয়ে ছোট মিশন ভারত ও পাকিস্তানে জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক দল (ইউএনএমওজিআইপি)। এতে ১১৩ জন বেসামরিক ও বিশেষজ্ঞ কর্মী রয়েছেন, যাঁদের দায়িত্ব জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করা। জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতি তদারকি সংস্থা (ইউএনটিএসও) ১৯৪৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। এটি এখনো চলমান সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিরক্ষা মিশন।[৭২]

২০০৫ সালে র‍্যান্ড কর্পোরেশনের একটি গবেষণায় দেখা যায়, জাতিসংঘ তার শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। এই গবেষণায় জাতিসংঘের জাতি-গঠন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের তুলনা করা হয়। এতে দেখা যায়, জাতিসংঘের ৮৭.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শান্তি বজায় ছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৫০ শতাংশ।[৭৩] একই বছরে প্রকাশিত হিউম্যান সিকিউরিটি রিপোর্ট দেখায় যে, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর যুদ্ধ, গণহত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদনে পরিস্থিতিগত প্রমাণসহ বলা হয় যে, এই সশস্ত্র সংঘাত হ্রাসের প্রধান কারণ ছিল আন্তর্জাতিক সক্রিয়তা, যার নেতৃত্বে ছিল জাতিসংঘ।[৭৪] কিছু ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কেবল শান্তি রক্ষায় নয়, সরাসরি হস্তক্ষেপেও ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে কোরীয় যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় যুদ্ধের পর ইরাকে হস্তক্ষেপের অনুমোদন উল্লেখযোগ্য।[৭৫] ২০০৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রকাশিত আরও গবেষণায় দেখা গেছে যে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযান দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করতে এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমাতে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।[৭৬]

১৯৭৪ সালে তুরস্কের সাইপ্রাস আক্রমণ-এর পর সাইপ্রাসে জাতিসংঘের বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তবে জাতিসংঘের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন বা প্রয়োগে অনীহা দেখিয়েছে। সামরিক পদক্ষেপ ও হস্তক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের মতবিরোধের কারণে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের গণহত্যা,[৭৭] ১৯৭০-এর দশকের কম্বোডিয়ার গণহত্যা,[৭৮] এবং ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যা প্রতিরোধ করা যায়নি বলে মনে করা হয়।[৭৯] একইভাবে, স্রেব্রেনিৎসা হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে কিংবা সোমালি গৃহযুদ্ধ চলাকালে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থতার জন্যও জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করা হয়।[৮০] এছাড়া কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র,[৮১] হাইতি,[৮২] লাইবেরিয়া,[৮৩] সুদান,[৮৪] বুরুন্ডি ও কোট দিভোয়ারে শান্তিরক্ষা মিশনের সময় শিশু ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।[৮৫] এছাড়া বিজ্ঞানীরা নেপালের শান্তিরক্ষীদের হাইতিতে ২০১০-এর দশকের কলেরা প্রাদুর্ভাব-এর উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যাতে ৮,০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।[৮৬]

২০১০ সালে হাইতির কেনস্কফে চাল বিতরণকেন্দ্রে নিরাপত্তা দিচ্ছেন নেপালের এক শান্তিরক্ষী

শান্তিরক্ষার পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রমেও সক্রিয়। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ প্রণয়নের সময় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত মানব ও অর্থনৈতিক সম্পদের অপচয় সীমিত করা।[৩১] তবে সনদ স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র আবিষ্কৃত হয়। এর ফলেই প্রথম সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গৃহীত হয়, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ও গণবিধ্বংসী অন্যান্য অস্ত্র বিলুপ্তির জন্য নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।[৮৭] জাতিসংঘ বহির্বিশ্ব চুক্তি, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি, সমুদ্রতল অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি, জৈব অস্ত্র সনদ, রাসায়নিক অস্ত্র সনদ এবং অটোয়া চুক্তিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির সঙ্গে যুক্ত।[৮৮] অস্ত্র বিস্তার সংক্রান্ত বিষয় তদারকিতে জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা কাজ করে: আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা এবং সমগ্র পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি সংস্থার প্রস্তুতিমূলক কমিশন[৮৯] এছাড়া বহু শান্তিরক্ষা মিশনের মূল লক্ষ্যই হলো নিরস্ত্রীকরণ। উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিম আফ্রিকায় পরিচালিত কয়েকটি অভিযানে প্রায় ২,৫০,০০০ সাবেক যোদ্ধাকে নিরস্ত্র করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।[৯০]

মানবাধিকার

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো “জাতি, লিঙ্গ, ভাষা বা ধর্মভেদের কোনো পার্থক্য ছাড়াই সকলের জন্য মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রচার ও উৎসাহিত করা”। একই সঙ্গে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এসব অধিকার রক্ষায় “যৌথ ও পৃথক পদক্ষেপ” গ্রহণের অঙ্গীকার করে।[৫২][৯১]

১৯৪৯ সালে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র হাতে Eleanor Roosevelt

১৯৪৮ সালে সাধারণ পরিষদ সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। এটি প্রণয়ন করে একটি কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন কূটনীতিক ও সমাজকর্মী Eleanor Roosevelt। কমিটিতে ফরাসি আইনজীবী René Cassin-ও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই ঘোষণাপত্রে সকল মানুষের জন্য অভিন্ন মৌলিক নাগরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের কথা ঘোষণা করা হয়। তবে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রণয়নের সময় থেকেই বিতর্ক রয়েছে।[৯২] ঘোষণাপত্রটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। বরং এটি “সকল মানুষ ও সকল জাতির জন্য অর্জনের একটি অভিন্ন মানদণ্ড” হিসেবে বিবেচিত। তবুও এটি দুটি বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। সেগুলো হলো নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি[৯৩] বাস্তবে, নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রস্তাব ছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারে না। তবে লঙ্ঘনের তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[৯৪]

১৯৭৯ সালে সাধারণ পরিষদ নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ গ্রহণ করে। এর পর ১৯৮৯ সালে গৃহীত হয় শিশু অধিকার সনদ[৯৫] স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর মানবাধিকার কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নতুন গতি পায়।[৯৬] ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলন-এর সুপারিশ অনুসারে একই বছরে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যক্রম তদারকি করা। জাতিসংঘ বিষয়ক গবেষক জ্যাক ফোমেরাঁ এই সংস্থার ম্যান্ডেটকে “বিস্তৃত ও অস্পষ্ট” বলে বর্ণনা করেছেন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বরাদ্দ সম্পদকে “অপর্যাপ্ত” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[৯৭] ২০০৬ সালে এই কমিশন বিলুপ্ত করে ৪৭টি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত মানবাধিকার পরিষদ প্রতিষ্ঠা করা হয়।[৯৮] একই বছরে সাধারণ পরিষদ আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে।[৯৯] পরে ২০১১ সালে সাধারণ পরিষদ প্রথমবারের মতো এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের সদস্যদের অধিকার স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।[১০০]

নারীর অধিকার-সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থার মধ্যে রয়েছে নারীর মর্যাদা বিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন, জাতিসংঘ নারী উন্নয়ন তহবিল এবং নারী উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট[১০১] আদিবাসী জনগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনটি সংস্থার একটি হলো আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘ স্থায়ী ফোরাম। এই ফোরাম ২০০২ সালে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত করে।[১০২]

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা

[সম্পাদনা]

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ[১০৩]

  1. চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ
  2. সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ
  3. লিঙ্গসমতা উন্নীতকরণ ও নারীর ক্ষমতায়ন
  4. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
  5. মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন
  6. এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াই
  7. পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ
  8. উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা

জাতিসংঘের আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো “অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক চরিত্রের আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জন করা”।[৯১] এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বহু সংস্থা গঠন করা হয়েছে। এসব সংস্থা প্রধানত সাধারণ পরিষদ ও ইকোসক-এর অধীনে কাজ করে।[১০৪] ২০০০ সালে জাতিসংঘের ১৯২টি সদস্য রাষ্ট্র ২০১৫ সালের মধ্যে আটটি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সম্মত হয়।[১০৫] ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর উত্তরসূরি হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ চালু করা হয়।[১০৬] এসব লক্ষ্যের সঙ্গে একটি অর্থায়ন কাঠামো যুক্ত রয়েছে, যা আদ্দিস আবাবা কর্মপরিকল্পনা নামে পরিচিত।

১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত বিশ্বব্যাপী নির্মূল হয়েছে—এই সংবাদ পড়ছেন বিশ্বব্যাপী গুটিবসন্ত নির্মূল কর্মসূচি-এর তিন সাবেক পরিচালক

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী একটি সংস্থা। এটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান সংস্থা। সংস্থাটি জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে। এই সূচকের মাধ্যমে দারিদ্র্য, সাক্ষরতা, শিক্ষা, গড় আয়ু ও অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর তুলনামূলক ক্রমতালিকা নির্ধারণ করা হয়।[১০৭][১০৮] খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা উন্নীতকরণে কাজ করে।[১০৯] জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় শিশুদের সহায়তার জন্য গঠিত হয়। পরবর্তীতে এর কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হয় এবং এটি শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়ন ও রক্ষায় ভূমিকা রাখে।[১১০][১১১]

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জাতিসংঘ কাঠামোর আওতায় স্বাধীন ও বিশেষায়িত সংস্থা এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করে।[১১২] এগুলো মূলত জাতিসংঘ থেকে পৃথকভাবে ব্রেটন উডস ব্যবস্থা অনুযায়ী গঠিত হয়েছিল।[১১৩] বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক উন্নয়নের জন্য ঋণ প্রদান করে। অন্যদিকে আইএমএফ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করে এবং ঋণগ্রস্ত দেশগুলোকে জরুরি ঋণ সহায়তা দেয়।[১১৪]

জর্ডানে সিরীয় শরণার্থীজাতারি শরণার্থী শিবির-এর দায়িত্বে রয়েছে ইউএনএইচসিআর

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগ নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দেয়। এটি জাতিসংঘের অন্যতম বৃহৎ সংস্থা। ১৯৮০ সালে সংস্থাটি গুটিবসন্ত সম্পূর্ণ নির্মূলের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী দশকগুলোতে ডব্লিউএইচও পোলিও, নদী অন্ধত্বকুষ্ঠরোগ নির্মূলে সফল হয়।[১১৫] এইচআইভি/এইডস বিষয়ক যৌথ জাতিসংঘ কর্মসূচি (ইউএনএইডস) এইডস মহামারির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করে।[১১৬] জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এইচআইভির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার কিছু সম্পদ ব্যয় করে। পাশাপাশি এটি প্রজনন স্বাস্থ্যপরিবার পরিকল্পনা সেবার জন্য বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থায়নকারী সংস্থা।[১১৭]

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন-এর সঙ্গে মিলিতভাবে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে জাতিসংঘ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।[১১৮] বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) দুর্ভিক্ষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সশস্ত্র সংঘাতের সময় খাদ্য সহায়তা প্রদান করে। সংস্থাটি প্রতি বছর গড়ে ৮০টি দেশে প্রায় ৯ কোটি মানুষকে খাদ্য সরবরাহ করে।[১১৮][১১৯] জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ইউএনএইচসিআর) শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও রাষ্ট্রহীন মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে।[১২০] ইউএনএইচসিআর ও ডব্লিউএফপি-এর কার্যক্রম সরকার, করপোরেশন ও ব্যক্তিদের স্বেচ্ছা অনুদানে পরিচালিত হয়। তবে ইউএনএইচসিআর-এর প্রশাসনিক ব্যয় জাতিসংঘের মূল বাজেট থেকে পরিশোধ করা হয়।[১২১]

পরিবেশ ও জলবায়ু

[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) গঠনের মাধ্যমে জাতিসংঘ পরিবেশগত বিষয়গুলোকে তার কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে এই ক্ষেত্রে প্রথম দুই দশকে জাতিসংঘের কার্যক্রম খুব একটা সফল না হওয়ায় ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে পৃথিবী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রচেষ্টায় নতুন গতি সঞ্চার করা।[১২২] ১৯৮৮ সালে ইউএনইপি এবং জাতিসংঘের আরেকটি সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) যৌথভাবে আন্তঃসরকারি জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি) গঠন করে। এই প্যানেল বৈশ্বিক উষ্ণায়ন-সংক্রান্ত গবেষণা মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।[১২৩] জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গৃহীত কিয়োটো প্রোটোকল-এ স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নির্গমন হ্রাস লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।[১২৪]

অন্যান্য বৈশ্বিক বিষয়

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮০টিরও বেশি উপনিবেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ১৯৬০ সালে সাধারণ পরিষদ উপনিবেশিক দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা প্রদান সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। এতে কোনো দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়নি, যদিও প্রধান উপনিবেশিক শক্তিগুলো ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘ ডিকলোনাইজেশন বিষয়ক বিশেষ কমিটিসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে উপনিবেশমুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় কাজ করে।[১২৫] এই কমিটি বর্তমানে অবশিষ্ট ১৭টি স্বশাসনবিহীন অঞ্চল-এর তালিকা প্রকাশ করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও জনবহুল অঞ্চল হলো পশ্চিম সাহারা[১২৬]

জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বা উদ্বেগের বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দিবস ও বর্ষ ঘোষণা ও সমন্বয় করে। এর উদাহরণ হিসেবে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, পৃথিবী দিবস এবং মরুভূমি ও মরুকরণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক বর্ষ উল্লেখ করা যায়।[১২৭]

২০২৩ সাল থেকে ডিজিটাল ও উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তর প্রতি বছর জাতিসংঘ ওপেন সোর্স সপ্তাহের আয়োজন করছে। এর উদ্দেশ্য হলো যৌথ ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত প্রকল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি এবং শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত সহযোগিতা সহজতর করা।[১২৮]

অর্থায়ন

[সম্পাদনা]
জাতিসংঘের বাজেটে শীর্ষ ২৫ অবদানকারী
(২০২২–২০২৪)[১২৯]
সদস্য রাষ্ট্র অবদান
(জাতিসংঘের বাজেটের শতাংশ)
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
২২.০০০
 চীন
১৫.২৫৪
 জাপান
৮.০৩৩
 জার্মানি
৬.১১১
 যুক্তরাজ্য
৪.৩৭৫
 ফ্রান্স
৪.৩১৮
 ইতালি
৩.১৮৯
 কানাডা
২.৬২৮
 দক্ষিণ কোরিয়া
২.৫৭৪
 স্পেন
২.১৩৪
 অস্ট্রেলিয়া
২.১১১
 ব্রাজিল
২.০১৩
 রাশিয়া
১.৮৬৬
 নেদারল্যান্ডস
১.৩৭৭
 মেক্সিকো
১.২২১
 সৌদি আরব
১.১৮৪
  সুইজারল্যান্ড
১.১৩৪
 ভারত
১.০৪৪
 সুইডেন
০.৮৭১
 তুরস্ক
০.৮৪৫
 পোল্যান্ড
০.৮৩৭
 বেলজিয়াম
০.৮২৮
 আর্জেন্টিনা
০.৭১৯
 নরওয়ে
০.৬৭৯
 অস্ট্রিয়া
০.৬৭৯

২০২৪ সালের জন্য জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ছিল ৩.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে শান্তিরক্ষা বাহিনীর মতো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অতিরিক্ত অনুদান অন্তর্ভুক্ত নয়।[১৩০] জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থাগুলোসহ জাতিসংঘ ব্যবস্থার ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০২২ সালে মোট ব্যয় ছিল ৬৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার—এ তথ্য জানায় জাতিসংঘ ব্যবস্থা প্রধান নির্বাহী সমন্বয় বোর্ড।[১৩১][১৩২]

জাতিসংঘের অর্থায়ন আসে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নির্ধারিত (assessed) ও স্বেচ্ছাসেবী অনুদান থেকে। সাধারণ পরিষদ নিয়মিত বাজেট অনুমোদন করে এবং প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের জন্য অবদানের হার নির্ধারণ করে। এই হিসাব মূলত প্রতিটি দেশের পরিশোধ সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে করা হয়, যা মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) দ্বারা পরিমাপ করা হয়। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও মাথাপিছু আয় কম হওয়ার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সমন্বয় করা হয়।[১৩৩]

সাধারণ পরিষদ এই নীতিও নির্ধারণ করেছে যে, জাতিসংঘের কার্যক্রম অর্থায়নে কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। এ কারণে নিয়মিত বাজেটে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের জন্য একটি সর্বোচ্চ সীমা (ceiling) নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রেক্ষিতে সাধারণ পরিষদ অবদান নির্ধারণের স্কেল সংশোধন করে। এই সংশোধনের অংশ হিসেবে নিয়মিত বাজেটে সর্বোচ্চ সীমা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশ করা হয়।[১৩৪] স্বল্পোন্নত দেশসমূহের (এলডিসি) ক্ষেত্রে এই সীমা ধরা হয় ০.০১ শতাংশ।[১৩৩] পাশাপাশি, প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের জন্য ন্যূনতম অবদান বা “ফ্লোর” হার নির্ধারণ করা হয়েছে জাতিসংঘ বাজেটের ০.০০১ শতাংশ। ২০২১–২০২২ দুই-বছর মেয়াদি বাজেটের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ছিল ৩১,০০০ মার্কিন ডলার।[১৩৫][১৩৬]

জাতিসংঘের মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল মিশনে ব্যয় হয়। এই ব্যয় সংগঠনের প্রধান বাজেট থেকে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়।[১৩৭] ২০২১–২০২২ অর্থবছরে শান্তিরক্ষা বাজেট ছিল ৬.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থে বিশ্বজুড়ে ১২টি মিশনে মোতায়েন ৬৬,৮৩৯ জন কর্মীকে সহায়তা প্রদান করা হয়।[১৩৮] জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নির্ধারিত অবদানের মাধ্যমেই অর্থায়িত হয়। এই হিসাবের সূত্রটি নিয়মিত বাজেটের স্কেল থেকে নেওয়া হলেও এতে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের জন্য অতিরিক্ত ওজনযুক্ত সারচার্জ যোগ করা হয়। কারণ, সব শান্তিরক্ষা অভিযান অনুমোদনের ক্ষমতা তাদেরই রয়েছে। এই সারচার্জের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য ছাড়কৃত শান্তিরক্ষা অবদানের হার সামঞ্জস্য করা হয়। ২০২৩–২০২৪ সময়কালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাজেটের সর্ববৃহৎ অবদানকারীরা হলো: যুক্তরাষ্ট্র (২৬.৯৪%), চীন (১৮.৬৮%), জাপান (৮.০৩%), জার্মানি (৬.১১%), যুক্তরাজ্য (৫.৩৫%), ফ্রান্স (৫.২৮%), ইতালি (৩.১৮%), কানাডা (২.৬২%), দক্ষিণ কোরিয়া (২.৫৭%) এবং রাশিয়া (২.২৮%)।[১৩৯]

নিয়মিত বাজেটের বাইরে থাকা বিশেষ জাতিসংঘ কর্মসূচি—যেমন ইউনিসেফবিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি—সদস্য সরকার, করপোরেশন ও ব্যক্তিদের স্বেচ্ছাসেবী অনুদানে পরিচালিত হয়।[১৪০][১৪১]

মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা

[সম্পাদনা]
২০০১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার—নিউইয়র্ক সিটির জাতিসংঘ সদর দপ্তর-এর লবিতে প্রদর্শিত ডিপ্লোমা

একাধিক গবেষণায় সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিক্রিয়াশীলতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায় যে, যেসব সংঘাত তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্র এবং যেখানে মানবিক দুর্ভোগ বেশি, সেসব বিষয়ে পরিষদ বৈঠকে বসা ও আলোচনা করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে একই সঙ্গে পরিষদের প্রতিক্রিয়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থের দ্বারাও প্রভাবিত হয়, বিশেষ করে স্থায়ী সদস্যদের স্বার্থ এতে বড় ভূমিকা রাখে।[১৪২]

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলো সাধারণভাবে সফল বলে মূল্যায়িত হয়েছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্জিনিয়া পেজ ফোর্টনা ৪৭টি শান্তিরক্ষা অভিযানের ওপর একটি গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, জাতিসংঘের নেতৃত্বে সংঘাত সমাধানের উদ্যোগগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়েছে।[১৪৩]

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হানে ফিয়েলদে, লিসা হুল্টমান এবং উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিরে নিলসন শান্তিরক্ষা মিশনসংক্রান্ত বিশ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, এসব মিশন রাষ্ট্রভিত্তিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের তুলনায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমাতে বেশি কার্যকর।[১৪৪]

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিস হাওয়ার্ডের মতে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হয়। কারণ এসব অভিযানে “মৌখিক প্ররোচনা, আর্থিক প্রণোদনা এবং আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তির পরিবর্তে নজরদারি ও গ্রেপ্তারের মতো সীমিত বলপ্রয়োগ” ব্যবহৃত হয়, যা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর আচরণ পরিবর্তনে বেশি সহায়ক।[৭৬]

ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ পল কেনেডি বলেন, সংস্থাটি কিছু বড় ধরনের ব্যর্থতার সম্মুখীন হলেও, “এর সব দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, জাতিসংঘ আমাদের প্রজন্মের জন্য ব্যাপক সুফল বয়ে এনেছে এবং আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের প্রজন্মের জন্যও উপকার বয়ে আনবে।”[১৪৫]

২০১২ সালে তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, “ফ্রান্স জাতিসংঘের ওপর আস্থা রাখে। সে জানে যে, কোনো রাষ্ট্র—সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন—এককভাবে জরুরি সমস্যার সমাধান করতে, উন্নয়নের জন্য লড়াই করতে এবং সব সংকটের অবসান ঘটাতে পারে না। ফ্রান্স চায়, জাতিসংঘ হোক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার কেন্দ্র।”[১৪৬] ১৯৫৩ সালে জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র কমিটির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার বলেন, সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও “জাতিসংঘ যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তে আলোচনার টেবিলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে মানবজাতির সর্বোত্তম সংগঠিত আশা।”[১৪৭]

রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক জাক ফোমেরাঁ লেখেন যে, “গত ৬০ বছরে জাতিসংঘের সাফল্যগুলো তাদের নিজস্ব মানদণ্ডেই অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। বিংশ শতাব্দীতে মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ছিল নাটকীয়, এবং জাতিসংঘ ও এর সংস্থাগুলো নিঃসন্দেহে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য ও মানবিক করে তুলতে সহায়তা করেছে।”[১৪৮]

জাতিসংঘের ইতিহাসের প্রথম ৫০ বছর পর্যালোচনা করে লেখক স্ট্যানলি মেইসলার লেখেন যে, “জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠাতাদের সব আশা পূরণ করতে পারেনি, কিন্তু তবুও এটি অনেক কিছু অর্জন করেছে।” তিনি বিশেষভাবে উপনিবেশমুক্তকরণে জাতিসংঘের ভূমিকা এবং এর বহু সফল শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।[১৪৯]

পুরস্কার

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা ও ব্যক্তি তাঁদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছেন। জাতিসংঘের দুই মহাসচিব ডাগ হ্যামারশোল্ড ও কোফি আনান পৃথকভাবে এই পুরস্কারে ভূষিত হন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের আলোচক রালফ বান্চ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে অবদানকারী রেনে ক্যাসাঁ এবং সংস্থাটি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Cordell Hull-ও এই পুরস্কার লাভ করেন। কানাডার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী লেস্টার বি. পিয়ারসন ১৯৫৭ সালে সুয়েজ সংকট সমাধানে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা বাহিনী সংগঠনে ভূমিকার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।

১৯৬৫ সালে ইউনিসেফ, ১৯৬৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী, ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (যা জাতিসংঘের কাছে প্রতিবেদন প্রদান করে) এবং ২০১৩ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে এই পুরস্কার লাভ করে, ফলে এটি মাত্র দুইবার নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি হয়ে ওঠে। ২০০১ সালে জাতিসংঘ সামগ্রিকভাবে এই পুরস্কার লাভ করে এবং তা কোফি আনানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রদান করা হয়।[১৫০] ২০০৭ সালে আন্তঃসরকারি জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি) “মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান গড়ে তোলা ও তা বিস্তারে প্রচেষ্টা এবং এ ধরনের পরিবর্তনের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ভিত্তি স্থাপনের জন্য” নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়।[১৫১]

২০২৫ সালের ২১ মার্চ বেলজিয়ামের লুভেনলুভাঁ—এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘকে একটি সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ডিগ্রিটি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সমালোচনা

[সম্পাদনা]

ভূমিকা

[সম্পাদনা]

২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ একটি বক্তব্য দেন, যা অনেক সময় ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়। সাদ্দাম হুসেইনের শাসনামলে ইরাকের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসংঘের অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীন দেশগুলো জাতিসংঘকে একটি অকার্যকর ও অপ্রাসঙ্গিক বিতর্কসভা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় মিলিয়ে যেতে দেবে না।”[১৫২][১৫৩][১৫৪]

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর স্মৃতিকথা এ প্রমিসড ল্যান্ড-এ লেখেন, “স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে যেকোনো ঐকমত্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ছিল খুবই ক্ষীণ। এ কারণেই ১৯৫৬ সালের হাঙ্গেরি বিপ্লব দমনে সোভিয়েত ট্যাংক প্রবেশের সময় বা ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন বিমান ভিয়েতনামের গ্রামাঞ্চলে ন্যাপাম বোমা ফেললেও জাতিসংঘ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। স্নায়ুযুদ্ধের পরও নিরাপত্তা পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন জাতিসংঘের সমস্যা মোকাবিলার সক্ষমতাকে ব্যাহত করেছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে সোমালিয়ার মতো ব্যর্থ রাষ্ট্র পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বা সমষ্টিগত সদিচ্ছা ছিল না, কিংবা শ্রীলঙ্কার মতো স্থানে জাতিগত হত্যাকাণ্ড ঠেকানোর ক্ষমতাও তারা দেখাতে পারেনি।”[১৫৫][১৫৬]

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতিসংঘ সংস্কার-এর দাবি বহুবার উত্থাপিত হয়েছে। তবে কীভাবে এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে খুব কমই ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে। কেউ কেউ চান যে, বিশ্ব বিষয়ক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ আরও বড় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করুক। আবার অন্যরা মনে করেন, সংস্থাটির ভূমিকা মানবিক সহায়তার কাজেই সীমিত থাকা উচিত।

প্রতিনিধিত্ব ও কাঠামো

[সম্পাদনা]

জাতিসংঘের কাঠামোর কিছু মূল বৈশিষ্ট্য—যেমন নিরাপত্তা পরিষদে কিছু রাষ্ট্রের ভেটো-সংক্রান্ত বিশেষাধিকার—প্রায়ই মৌলিকভাবে অগণতান্ত্রিক বলে বর্ণনা করা হয়। সমালোচকদের মতে, এসব বৈশিষ্ট্য জাতিসংঘের ঘোষিত লক্ষ্যবস্তুর পরিপন্থী এবং গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ-সংক্রান্ত বিষয়ে নিষ্ক্রিয়তার একটি প্রধান কারণ।[১৫৭][১৫৮]

জাক ফোমেরাঁ উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্থায়ী বিভাজন হলো “উত্তর–দক্ষিণ বিভাজন”—অর্থাৎ সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলীয় রাষ্ট্রসমূহ ও উন্নয়নশীল দক্ষিণাঞ্চলীয় রাষ্ট্রসমূহ-এর মধ্যকার পার্থক্য। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাষ্ট্রগুলো সাধারণত আরও ক্ষমতাবান জাতিসংঘের পক্ষে থাকে, যেখানে সাধারণ পরিষদের শক্তি বেশি হবে এবং বিশ্ব বিষয়ক ক্ষেত্রে তাদের কণ্ঠ আরও জোরালো হবে। বিপরীতে, উত্তরাঞ্চলীয় রাষ্ট্রগুলো তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিকভাবে লেসে-ফেয়ার ধাঁচের জাতিসংঘকে পছন্দ করে, যা সন্ত্রাসবাদের মতো আন্তঃরাষ্ট্রীয় হুমকির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।[১৫৯]

এছাড়াও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের ভিন্ন পদ্ধতি প্রবর্তন এবং একটি জাতিসংঘ সংসদীয় পরিষদ (ইউএনপিএ) গঠনের দাবিও বহুবার উত্থাপিত হয়েছে।[১৬০]

রাষ্ট্রসমূহের বর্জন

[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-এর পর ফরাসি জাতীয় মুক্তি কমিটিকে ফ্রান্সের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্র দেরি করে। এর ফলে নতুন সংস্থা গঠনের প্রাথমিক সম্মেলনগুলোতে ফ্রান্স প্রথমদিকে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি শার্ল দ্য গল জাতিসংঘের সমালোচনা করেন এবং একে বিখ্যাতভাবে একটি machin (যন্ত্র) বলে অভিহিত করেন। তিনি মনে করতেন না যে, একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা জোট বিশ্বশান্তি রক্ষায় সহায়ক হবে। বরং তিনি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সরাসরি প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বেশি কার্যকর বলে মনে করতেন।[১৬১]

চীনা গৃহযুদ্ধ-এর পর চীনের সরকার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় চীনা জাতীয়তাবাদী পার্টিচীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে। ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (পিআরসি) প্রতিষ্ঠার পর চীন প্রজাতন্ত্র (আরওসি) সরকার তাইওয়ান দ্বীপে সরে যায়,[১৬২] এবং নিজেকে চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে দাবি অব্যাহত রাখে। গৃহযুদ্ধের পর জাতিসংঘ চীনের আনুষ্ঠানিক সরকার হিসেবে আরওসিকেই স্বীকৃতি দিয়ে যেতে থাকে। ১৯৭১ সালে মূল ভূখণ্ডের চীনা জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর,[১৬৩] সাধারণ পরিষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে, যেখানে পিআরসিকে “জাতিসংঘে চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।[১৬৪] সমালোচকদের মতে,[কে?] এই অবস্থান সংস্থাটির উন্নয়ন লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনার ব্যর্থতাকে প্রতিফলিত করে।[১৬৫] কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। কারণ, ভাইরাস মোকাবিলায় তাইওয়ানের তুলনামূলকভাবে কার্যকর প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও দেশটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যপদ দেওয়া হয়নি।[১৬৬] জাতিসংঘে তাইওয়ানের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সমর্থন এখনও সীমিত। কারণ গণপ্রজাতন্ত্রী চীন তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে।[১৬৭]

স্বাধীনতা

[সম্পাদনা]

স্নায়ুযুদ্ধকাল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—উভয়ই—বারবার জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অপর পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলে। ১৯৫০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে চীনের আসন কমিউনিবিরোধী চীন প্রজাতন্ত্র (তাইওয়ান)-কে দেওয়ার প্রতিবাদে জাতিসংঘ বর্জন করে। তিন বছর পর কোরীয় যুদ্ধে সমর্থনের কারণে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব ত্রিগভে লি-এর প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সোভিয়েতরা কার্যত তাঁর পদত্যাগে বাধ্য করে।[১৬৮]

অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘে কমিউনিস্ট ও সোভিয়েত-সমর্থকদের নিয়োগ নিয়ে কড়া নজরদারি চালায়। এর পেছনে একটি আলোচিত অভিযোগ ছিল যে, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিক অ্যালজার হিস নাকি সোভিয়েত গুপ্তচর ছিলেন। মার্কিন সিনেটর জোসেফ ম্যাকার্থি দাবি করেন যে, মহাসচিব লি-র অধীনে জাতিসংঘ সচিবালয়ে মার্কিন কমিউনিস্টরা আশ্রয় পেয়েছে। এর ফলে মহাসচিবের ওপর পদত্যাগের চাপ আরও বেড়ে যায়।[১৬৯]

১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘবিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে রক্ষণশীল মহলে। জন বার্চ সোসাইটি-এর মতো সংগঠনগুলো দাবি করে যে, জাতিসংঘ আসলে কমিউনিজমের একটি হাতিয়ার।[১৭০] এই বিরোধিতা জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও প্রতিফলিত হয়। বাম্পার স্টিকার ও প্ল্যাকার্ডে “Get the U.S. out of the U.N. and the U.N. out of the U.S.!” এবং “You can't spell communism without U.N.”-এর মতো স্লোগান দেখা যেতে থাকে।[১৭১]

যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব

[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি কথিত হুমকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই উদ্বেগ বিশেষভাবে জোরালোভাবে প্রচার করে জন বার্চ সোসাইটি। সংগঠনটি ১৯৬০-এর দশকে জাতিসংঘের বিরোধিতায় দেশব্যাপী একটি প্রচারণা চালায়।[১৭২][১৭৩][১৭৪]

১৯৯০-এর দশক থেকে একই ধরনের উদ্বেগ আমেরিকান সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা আইন-কে ঘিরেও দেখা যায়। এই প্রস্তাবটি একাধিকবার মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে বিলটির একটি সংশোধনী সংসদের মূল অধিবেশনে ভোটের জন্য তোলা হয়। সে সময় ৫৪ জন প্রতিনিধি এর পক্ষে ভোট দেন।[১৭৫][১৭৬] ২০০৭ সালের সংস্করণ (H.R. 1146) প্রণয়ন করেন মার্কিন প্রতিনিধি রন পল। এর লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার কার্যকর করা। এই বিলের আওতায় জাতিসংঘ-সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন বাতিল, জাতিসংঘে অর্থায়নের অনুমোদন বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জাতিসংঘের উপস্থিতি বন্ধ এবং জাতিসংঘ কর্মীদের কূটনৈতিক দায়মুক্তি প্রত্যাহারের প্রস্তাব ছিল।[১৭৭] এই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সময় দেওয়ার কথা বলা হয়।[১৭৮] Yale Law Journal এই আইনটিকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলে যে, “জাতিসংঘের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে।”[১৭৯] ২০২২-এর হিসাব অনুযায়ী অনুযায়ী, এই বিলের সর্বশেষ সংস্করণ হলো H.R.7806, যা প্রস্তাব করেন মাইক ডি. রজার্স[১৮০]

মার্কিন অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতেও জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হওয়ায় সেগুলো ঠেকাতে আইন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।[১৮১] ২০২৩ সালে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এমন একটি আইন প্রণীত হয়, যা “জাতিসংঘ বা জাতিসংঘের কোনো সহযোগী সংস্থা থেকে উদ্ভূত বা সেখান থেকে অনুসরণযোগ্য” কর্মসূচির বাস্তবায়ন বন্ধ করার বিধান দেয়। এর মধ্যে এজেন্ডা ২১ এবং ২০৩০ এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত।[১৮২][১৮৩]

কথিত ফিলিস্তিনপন্থী পক্ষপাত

[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের কূটনীতিক দোরে গোল্ড এবং ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের মতে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে জাতিসংঘের মনোযোগ অতিরিক্ত মাত্রায় কেন্দ্রীভূত। এই সমালোচকদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ গবেষক রবার্ট এস. উইস্ট্রিচ, মার্কিন আইনবিদ অ্যালান ডারশোভিট্‌জ, অস্ট্রেলীয় রাজনীতিক মার্ক ড্রাইফাস এবং অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ[১৮৪]

একইভাবে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকেও ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাতের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ অভিযোগ করেন যে, পরিষদটি ইসরায়েলের ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেয়, কিন্তু কিউবা, ভেনেজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতির দিকে তুলনামূলকভাবে কম দৃষ্টি দেয়।[১৮৫]

মার্কিন সিনেট কমিটির সামনে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন নিশ্চিতকরণ শুনানিতে এলিস স্টেফানিক জাতিসংঘের ইসরায়েল-সংক্রান্ত মনোভাবকে “ইহুদিবিদ্বেষী” বলে বর্ণনা করেন।[১৮৬][১৮৭][১৮৮][১৮৯]

কার্যকারিতা

[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক-বিষয়ক গবেষক এডওয়ার্ড লাক-এর মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই চেয়েছে যে জাতিসংঘ বড় প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে দুর্বল থাকুক, যাতে মার্কিন নীতির সঙ্গে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ বা বিরোধিতা এড়ানো যায়। লাকের ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের শেষ যে জিনিসটি চাওয়া, তা হলো এমন একটি স্বাধীন জাতিসংঘ, যা নিজের প্রভাব বিস্তার করবে।” একইভাবে, সাবেক জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল প্যাট্রিক মইনিহান বলেন, “পররাষ্ট্র দপ্তর চেয়েছিল যে জাতিসংঘ তার গৃহীত যেকোনো পদক্ষেপেই সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হোক। সেই দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল, এবং আমি তা উল্লেখযোগ্য সাফল্যের সঙ্গেই পালন করেছি।”[১৯০]

১৯৯৪ সালে সোমালিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাহনুন তাঁর গ্রন্থ Somalia: The Missed Opportunities প্রকাশ করেন।[১৯১] এতে তিনি সোমালিয়ায় ১৯৯২ সালের জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করেন। সাহনুনের দাবি অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে সোমালি গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়া থেকে ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে সিয়াদ বারে শাসনের পতন পর্যন্ত জাতিসংঘ অন্তত তিনবার বড় মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধের সুযোগ হারায়। পরবর্তীতে যখন জাতিসংঘ মানবিক সহায়তা দিতে উদ্যোগী হয়, তখন বেসরকারি সংস্থাগুলো দক্ষতা ও নিষ্ঠার দিক থেকে জাতিসংঘকে অনেকটাই ছাড়িয়ে যায়। এর বিপরীতে জাতিসংঘের অতিরিক্ত সতর্কতা ও بيرোক্র্যাটিক অদক্ষতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাহনুন সতর্ক করেন যে, মৌলিক সংস্কার না হলে জাতিসংঘ এ ধরনের সংকটে ভবিষ্যতেও অদক্ষ ও তাৎক্ষণিক সমাধানের ওপর নির্ভর করতে থাকবে।[১৯২]

নির্দিষ্ট উদাহরণ ছাড়াও, কিছু গবেষক জাতিসংঘের সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক করেছেন। বাস্তববাদী ধারার গবেষকেরা সাধারণত নৈরাশ্যবাদী অবস্থান নেন এবং যুক্তি দেন যে, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে জাতিসংঘ কার্যকর প্রতিষ্ঠান হতে পারে না। বিপরীতে উদারবাদী গবেষকেরা বলেন, প্রভাবশালী সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আরোপিত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নানা সমস্যার সমাধান করতে পারায় জাতিসংঘ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণভাবে গবেষকদের মতে, জনস্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তার মতো ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।[১৯৩] একবিংশ শতাব্দীতে ভৌগোলিক অখণ্ডতা কার্যকরভাবে রক্ষা করতে না পারার বিষয়টি[১৯৪] জয়ের অধিকার পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।[১৯৫]

অদক্ষতা ও দুর্নীতি

[সম্পাদনা]

সমালোচকেরা জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অদক্ষতা, অপচয় এবং দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন। ১৯৭৬ সালে সাধারণ পরিষদ যৌথ পরিদর্শন ইউনিট গঠন করে, যার উদ্দেশ্য ছিল জাতিসংঘ ব্যবস্থার ভেতরের অদক্ষতা চিহ্নিত করা। ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র অদক্ষতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের চাঁদা প্রদান স্থগিত রাখে এবং বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণের শর্তে পরে তা পরিশোধ শুরু করে। ১৯৯৪ সালে সাধারণ পরিষদ অভ্যন্তরীণ তদারকি সেবা দপ্তর (ওআইওএস) প্রতিষ্ঠা করে, যা কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে।[১৯৬]

২০০৪ সালে জাতিসংঘ গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়ে যে, সদ্য সমাপ্ত তেল-বিনিময়ে-খাদ্য কর্মসূচি—যার মাধ্যমে ইরাককে নিষেধাজ্ঞার চাপ কমাতে তেলের বিনিময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল—ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ঘুষ লেনদেন হয়। জাতিসংঘ গঠিত একটি স্বাধীন তদন্তে দেখা যায় যে, সংস্থাটির বহু কর্মকর্তা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন। এতে কোফি আনান-এর পুত্র কোজো আনান-এর ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।[১৯৭]

জাতিসংঘের স্তোত্র

[সম্পাদনা]

তৎকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্ত-এর অনুরোধে ১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর, সংস্থাটির ২৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘের স্তোত্র পরিবেশিত হয়। এটি পরিবেশন করেন পাউ কাসালস এবং এর গীতিকবিতা রচনা করেন কবি ডব্লিউ. এইচ. অডেন[১৯৮]

থান্ত প্রথমে কাসালসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কাসালস তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। থান্ত শান্তির জন্য একটি স্তোত্র রচনার উদ্দেশ্যে এটি করতে চেয়েছিলেন এবং আশা করেছিলেন যে গানটি জাতিসংঘ সনদ-এর প্রস্তাবনা অবলম্বনে রচিত হবে। পরে কাসালস সংগীতায়নের জন্য একটি কবিতা চাইলে থান্ত অডেনকে সেই কবিতা লেখার দায়িত্ব দেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] অডেন মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাঁর কাজ সম্পন্ন করেন। কোরাস ও অর্কেস্ট্রার জন্য রচিত এই চূড়ান্ত রচনাটি পরিবেশন করতে প্রায় সাত মিনিট সময় লাগে। তবে এই গানটিকে কখনোই সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক জাতিসংঘ সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করার পরিকল্পনা ছিল না।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]
  1. হোলি সি হল একটি সার্বভৌম সত্তা যার ভ্যাটিকান নগররাষ্ট্র ভূখণ্ডের ওপর রাষ্ট্রত্ব রয়েছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন হোলি সি ও জাতিসংঘ
  2. United Nations কর্তৃক ব্যবহৃত অফিসিয়াল বাংলা নাম।[] তবে পশ্চিমবঙ্গে 'রাষ্ট্রপুঞ্জ' শব্দটিও প্রচলিত।
  3. কিছু সূত্রে বিশেষায়িত সংস্থার সংখ্যা ১৭টি ধরা হয়। এতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপভুক্ত তিনটি বিশেষায়িত সংস্থা— আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (আইবিআরডি), আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এবং আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি)—কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেগুলো বর্তমানে একক সংস্থা হিসেবে বিবেচিত।
  4. হোলি সি একটি সার্বভৌম সত্তা এবং রাষ্ট্র হিসেবে ভ্যাটিকান সিটি রাষ্ট্র অঞ্চলের উপর কর্তৃত্ব বজায় রাখে। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন হোলি সি ও জাতিসংঘ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি

[সম্পাদনা]
  1. "Official Languages"United Nations। ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২১
  2. 1 2 "United Nations Member States"। United Nations। ২৮ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  3. 1 2 "Non-member States"। United Nations। ৭ আগস্ট ২০১৫। ২৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  4. "জাতিসংঘের সনদ (বাংলা) | জাতিসংঘ"জাতিসংঘ বাংলাদেশ। ৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৬
  5. "Red Cross-History-Objective"International Committee of the Red Cross। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ২৩ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৮
  6. "Red Cross-History-Objective"International Committee of the Red Cross। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ২৩ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৮
  7. "Red Cross-History-Objective"International Committee of the Red Cross। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ২৩ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৮
  8. "Red Cross-History-Objective"International Committee of the Red Cross। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ২৩ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৮
  9. "Red Cross-History-Objective"International Committee of the Red Cross। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ২৩ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৮
  10. Fasulo 2004, পৃ. 3–4।
  11. Fasulo 2004, পৃ. 8।
  12. "United Nations Visitors Centre"। United Nations। ২০১৭। ৬ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  13. "United Nations Office at Geneva"। United Nations Office at Geneva। ৩০ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৩
  14. "Welcome to the United Nations Office at Vienna!"। United Nations Office at Vienna। ৫ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৩
  15. "Welcome to the United Nations Office at Nairobi"। United Nations Office at Nairobi। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৩
  16. "General Assembly of the United Nations – Rules of Procedure"। UN Department for General Assembly। ১৯ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১০
  17. "Jerusalem Court: No Immunity for UN Employee for Private Acts—Diplomatic/Consular Law and Sovereign Immunity in Israel"। Diplomaticlaw.com। ২৩ মার্চ ২০০৯। ২৮ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১০
  18. Fasulo 2004, পৃ. 4।
  19. Fasulo 2004, পৃ. 4–7।
  20. 1 2 Salaries ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ জুলাই ২০১৫ তারিখে, United Nations website
  21. ILO: Noblemaire principle ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ আগস্ট ২০১৪ তারিখে, Judgement 986, consideration 7, and Judgment 831, Consideration 1.
  22. The Noblemaire principle ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ মে ২০১৭ তারিখে, ICSC
  23. Americans Working at the U.N ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২২ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে, World, The New York Times, 28 September 2009
  24. "United Nations Charter, Chapter III: Organs"United Nations। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৩
  25. 1 2 Fomerand 2009, পৃ. 131–133।
  26. Fasulo 2004, পৃ. 69–70।
  27. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; unmilestones1941to1950 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  28. "Main Organs"। ১৮ নভেম্বর ২০১৪। ১৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৮
  29. "General Assembly of the United Nations: Rules of Procedure: XII – Plenary Meetings"। United Nations। ১৩ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৩Decisions of the General Assembly on important questions shall be made by a two-thirds majority of the members present and voting. These questions shall include: recommendations with respect to the maintenance of international peace and security, the election of the non-permanent members of the Security Council, the election of the members of the Economic and Social Council, the election of members of the Trusteeship Council in accordance with paragraph 1 c of Article 86 of the Charter, the admission of new Members to the United Nations, the suspension of the rights and privileges of membership, the expulsion of Members, questions relating to the operation of the trusteeship system, and budgetary questions.
  30. Fasulo 2004, পৃ. 70–73।
  31. 1 2 "United Nations Charter: Chapter V"। United Nations। ১৭ জুন ২০১৫। ৩ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  32. Fasulo 2004, পৃ. 39–43।
  33. Fasulo 2004, পৃ. 40–41।
  34. "Security Council Presidency in 2017"। United Nations। ১২ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  35. "Secretariat"United Nations (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২১
  36. Fasulo 2004, পৃ. 21।
  37. Fomerand 2009, পৃ. 285।
  38. "United Nations Charter: Chapter XV"। United Nations। ১৭ জুন ২০১৫। ৭ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  39. Meisler 1995, পৃ. 31–32।
  40. Kennedy 2007, পৃ. 59–62।
  41. "Appointment Process"। United Nations। ২২ এপ্রিল ২০১৫। ১৫ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  42. "Former Secretaries-General"। United Nations। ১৭ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৩
  43. 1 2 "International Court of Justice | Definition, Cases, Purpose, & Facts"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২১
  44. "The Court"আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  45. 1 2 Fomerand 2009, পৃ. 183।
  46. Fasulo 2004, পৃ. 100–101।
  47. 1 2 "Economic and Social Council | UN"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ অক্টোবর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২১
  48. 1 2 Fomerand 2009, পৃ. 103–104।
  49. "About ECOSOC"অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ। ৩১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৩
  50. Fasulo 2004, পৃ. 156।
  51. "Welcome to csonet.org | Website of the UN DESA NGO Branch. At your service"csonet.org। ২৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২১
  52. 1 2 "United Nations Charter: Chapter IX"। United Nations। ১৭ জুন ২০১৫। ৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  53. "The UN System, Chief Executives Board for Coordination"। Unsceb.org। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৩
  54. "What are UN specialized agencies, and how many are there? – Ask DAG!"ask.un.org (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০২০
  55. "Structure and Organization"। Un.org। ১৮ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৩
  56. Fasulo 2004, পৃ. 171–177।
  57. "UN welcomes South Sudan as 193rd Member State"। UN News Centre। ২৮ জুন ২০০৬। ৩ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১১
  58. "Charter of the United Nations: Chapter II"। United Nations। ১৭ জুন ২০১৫। ২৮ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  59. "Repertory of Practice"। United Nations। ২৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  60. Gutierrez, Natashya (২২ আগস্ট ২০১৬)। "What happened when Indonesia 'withdrew' from the United Nations"Rappler। ১ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  61. "The Member States of the Group of 77"। Group of 77। ৬ জুন ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৩
  62. "About the G77"। Group of 77। ১২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৩
  63. Nicholls, Samuel Thomas (২০১৯)। A Moment of Possibility: The Rise and Fall of the New International Economic Order (অভিসন্দর্ভ) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩
  64. "Group of 24 (G-24): Meaning, Benefits, Criticisms"Investopedia (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩
  65. Nations, United। "Our Common Agenda"United Nations (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০২৩
  66. "The UN75 Declaration, Our Common Agenda and the development of international law"International Review of the Red Cross (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ নভেম্বর ২০২২। ৬ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০২৩
  67. Fasulo 2004, পৃ. 52।
  68. Coulon 1998, পৃ. ix।
  69. Nobel Prize। "The Nobel Peace Prize 1988"। ২ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১১
  70. "Where we operate"United Nations Peacekeeping (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০২১
  71. "UNMISS"United Nations Peacekeeping (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০২১
  72. "United Nations Peacekeeping Operations"। United Nations। ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। ২৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৬
  73. "The UN's Role in Nation Building: From the Congo to Iraq" (পিডিএফ)। RAND Corporation। ১৬ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০০৮
  74. "The Human Security Report 2005"। Human Security Centre। ২৮ জুলাই ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৭
  75. Kennedy 2007, পৃ. 56।
  76. 1 2 "A U.N. Peacekeeping Mission Is Afghanistan's Best Hope"World Politics Review (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ মে ২০২১। ১০ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২১
  77. Ball 2011, পৃ. 46।
  78. Kennedy 2007, পৃ. 187।
  79. Kennedy 2007, পৃ. 102–105।
  80. Meisler 1995, পৃ. 294–311।
  81. Lynch, Colum (১৬ ডিসেম্বর ২০০৪)। "U.N. Sexual Abuse Alleged in Congo"The Washington Post। ১১ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৩
  82. "UN troops face child abuse claims"BBC News। ৩০ নভেম্বর ২০০৬। ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৩
  83. "Aid workers in Liberia accused of sex abuse"The New York Times। ৮ মে ২০০৬। ৩ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩
  84. Holt, Kate (৪ জানুয়ারি ২০০৭)। "UN staff accused of raping children in Sudan"The Daily Telegraph। ৭ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৩
  85. "Peacekeepers 'abusing children'"BBC News। ২৮ মে ২০০৭। ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৩
  86. Watson, Ivan; Vaccarello, Joe (১০ অক্টোবর ২০১৩)। "U.N. sued for 'bringing cholera to Haiti,' causing an outbreak that killed thousands"CNN। ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৩
  87. "Resolutions Adopted by the General Assembly During its First Session"। United Nations। ১২ মার্চ ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০০৮
  88. Fasulo 2004, পৃ. 188–189।
  89. Fasulo 2004, পৃ. 189–190।
  90. "Mano River Basin, 25 years of peacekeeping"United Nations Peacekeeping (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০২১
  91. 1 2 "United Nations Charter: Chapter I"। United Nations। ১৭ জুন ২০১৫। ২৮ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৭
  92. Kennedy 2007, পৃ. 178–182।
  93. Fomerand 2009, পৃ. 377।
  94. Kennedy 2007, পৃ. 185, 188।
  95. Fomerand 2009, পৃ. 70, 73।
  96. Kennedy 2007, পৃ. 192।
  97. Fomerand 2009, পৃ. 347।
  98. "UN creates new human rights body"BBC News। ১৫ মার্চ ২০০৬। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৩
  99. "Frequently Asked Questions: Declaration on the Rights of Indigenous Peoples" (পিডিএফ)। United Nations। ১৩ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৩
  100. Jordans, Frank (১৭ জুন ২০১১)। "U.N. Gay Rights Protection Resolution Passes, Hailed As 'Historic Moment'"The Huffington PostAssociated Press। ১৩ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৩
  101. Fomerand 2009, পৃ. 57, 194, 341।
  102. "United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues"। United Nations। ১ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৩
  103. "We Can End Poverty"। United Nations। ১৩ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০১৩
  104. Kennedy 2007, পৃ. 143–144।
  105. "The UN Millennium Development Goals"। United Nations। ৪ মে ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০০৭
  106. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Sustainable Development Goals নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  107. Fasulo 2004, পৃ. 169–170, 172।
  108. Fomerand 2009, পৃ. 341–342।
  109. Fomerand 2009, পৃ. 126।
  110. "About UNICEF: Who we are: Our History"UNICEF। ২১ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৩
  111. "About UNICEF: Who We Are"UNICEF। ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৩
  112. "Factsheet – The IMF and the World Bank"। ৩ জুন ২০০৪। ৩ জুন ২০০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২২
  113. "About Us–United Nations"। The World Bank। ৩০ জুন ২০০৩। ২৪ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ আগস্ট ২০০৭
  114. Fomerand 2009, পৃ. 175, 191–192।
  115. Fasulo 2004, পৃ. 176–177।
  116. Fomerand 2009, পৃ. 199–200।
  117. Fomerand 2009, পৃ. 368।
  118. 1 2 Fasulo 2004, পৃ. 183।
  119. "Our Work"। World Food Programme। ১৩ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩
  120. "About Us"Unhcr। Office of the United Nations High Commissioner for Refugees। ৪ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৩
  121. Fomerand 2009, পৃ. 348, 398।
  122. Kennedy 2007, পৃ. 160–162।
  123. "Organizations"। Intergovernmental Panel on Climate Change। ১২ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০১৩
  124. Fasulo 2004, পৃ. 179।
  125. "The United Nations and Decolonization"। United Nations। ২৩ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৩
  126. "non-self-governing territories"। United Nations। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  127. "United Nations Observances"। United Nations। ৪ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১৩
  128. "UN Open Source Week 2025 | Office for Digital and Emerging Technologies"www.un.org। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০২৫
  129. "A/RES/76/238: Scale of assessments for the apportionment of the expenses of the United Nations"। ২৬ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  130. "General Assembly approves $3.59 billion UN budget for 2024"UN News (ইংরেজি ভাষায়)। United States। ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  131. "Financial Statistics"। UN System Chief Executives Board for Coordination। ২০২৩। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩
  132. "Financial Statistics: Total Expenses"। UN System Chief Executives Board for Coordination। ২০২৩। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩
  133. 1 2 "Fifth Committee Approves Assessment Scale for Regular, Peacekeeping Budgets, Texts on Common System, Pension Fund, as it Concludes Session (Press Release)"। United Nations। ২২ ডিসেম্বর ২০০৬। ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০১৩
  134. Fasulo 2004, পৃ. 117।
  135. "Regular budget and working capital fund – Committee on Contributions – UN General Assembly"United Nations (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২২
  136. Weiss ও Daws 2009, পৃ. 682।
  137. Fasulo 2004, পৃ. 115।
  138. Contributions to UN Peacekeeping Operations by Country and Post ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে (৩০ নভেম্বর ২০২৩-এর হিসাব অনুযায়ী), United Nations Peacekeeping ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩০ জুন ২০১৯ তারিখে.
  139. Implementation of General Assembly resolutions 55/235 and 55/236: Report of the Secretary-GeneralUnited Nations General Assembly। ২৮ ডিসেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  140. "Where Your Money Goes"। World Food Programme। ১২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৩
  141. "Overall funding trends"UNICEF। ২১ জানুয়ারি ২০১৩। ৯ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৩
  142. Lundgren, Magnus; Klamberg, Mark (২০২২)। "Selective Attention: The United Security Council and Armed Conflict"British Journal of Political Scienceডিওআই:10.1017/S0007123422000461আইএসএসএন 0007-1234
  143. Fortna, Virginia Page (২০০৮)। Does Peacekeeping Work?: Shaping Belligerents' Choices After Civil War (ইংরেজি ভাষায়)। Princeton University Pressআইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৯১-১৩৬৭১-৪। ২৪ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২১
  144. Howard, Lise Morjé (২০১৯)। Power in Peacekeeping (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Pressআইএসবিএন ৯৭৮-১-১০৮-৪৫৭১৮-৭। ২৪ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২১
  145. Kennedy 2007, পৃ. 290।
  146. "France's role at the UN"। Permanent Mission of France to the United Nations। ২ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৩
  147. "Remarks to the Members of the United States Committee for United Nations Day."The American Presidency Project। ৮ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২১
  148. Fomerand 2009, পৃ. cviii।
  149. Meisler 1995, পৃ. 339।
  150. "All Nobel Peace Prizes"Nobel Prize। ২২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০১৩
  151. "The Nobel Peace Prize 2007"Nobel Prize। ২৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৮
  152. Greene, David L. (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৩)। "Bush implores U.N. to show 'backbone'"The Baltimore Sun। ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৪
  153. Singh, Jasvir (২০০৮)। Problem of Ethnicity: Role of United Nations in Kosovo Crisis। Unistar Books। পৃ. ১৫০। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭১৪২-৭০১-৭। ১৬ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৪
  154. Normand, Roger; Zaidi, Sarah (২০০৩)। Human Rights at the UN: The Political History of Universal JusticeIndiana University Press। পৃ. ৪৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫৩-০০০১১-৮। ১৬ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৪
  155. "UN failed to prevent 'ethnic slaughter in Sri Lanka' – Barack Obama"Tamil Guardian। ২২ নভেম্বর ২০২০। ৮ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২০
  156. "Obama's best seller refers to 'ethnic slaughter in SL'"The Sunday Times (Sri Lanka)। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১২ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২০
  157. Oliphant, Roland. "'End Security Council veto' to halt Syria violence, UN human rights chief says amid deadlock" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে, The Daily Telegraph, ৪ অক্টোবর ২০১৬। সংগৃহীত ১০ মে ২০২০।
  158. "Amnesty calls on UN powers to lose veto on genocide votes"BBC News। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। ৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২০
  159. Fomerand 2009, পৃ. civ।
  160. Brauer, M., & Bummel, A. (2020). A United Nations Parliamentary Assembly: A Policy Review of Democracy Without Borders.
  161. Gerbet, Pierre (১৯৯৫)। "Naissance des Nations Unies" [Birth of the United Nations]Espoir (ফরাসি ভাষায়)। নং 102। ১০ জুলাই ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  162. Kubek, Anthony (১৯৬৩)। How the Far East was lost: American policy and the creation of Communist China। Intercontex Publishers (England) Limited। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৫৬২২-০০০-৫ {{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য)
  163. Hale, Erin (২৫ অক্টোবর ২০২১)। "Taiwan taps on United Nations' door, 50 years after departure"Al Jazeera। ২ মে ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০২৫
  164. "Restoration of the lawful rights of the People's Republic of China in the United Nations"United Nations Digital Library। United Nations General Assembly (26th sess.: 1971)। ২৫ অক্টোবর ১৯৭১। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০২৫
  165. "Taiwan Challenges UN Exclusion on Sidelines of COP26 Summit"Bloomberg.com (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ নভেম্বর ২০২১। ২১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২২
  166. "Why Taiwan has become a problem for WHO"BBC News (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ মার্চ ২০২০। ১২ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০২২
  167. Lee, David Tawei (১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। "The United Nations Needs to Treat Taiwan Fairly"The National Interest (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  168. Husen, Van (২০১০)। The Encyclopedia of the Korean War: A Political, Social, and Military HistoryABC-CLIO। পৃ. ৫০৪–৫০৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৫১০৯-৮৪৯-১
  169. "Character Sketches: Trygve Lie by Brian Urquhart"UN News (ইংরেজি ভাষায়)। United Nations। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। ২৯ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২২
  170. "Sponsor Shrugs at Criticism of U.N. TV Series"Lincoln Star। Lincoln, Nebraska। ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৪। পৃ. ৫F। ৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ Newspapers.com এর মাধ্যমে।
  171. Meisler 1995, পৃ. 72–73, 82।
  172. Lyons, Matthew; Berlet, Chip (২০০০)। Right-Wing Populism in America: Too Close for Comfort। New York: The Guilford Press। পৃ. ১৭৯আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৭২৩০-৫৬২-৫
  173. Spangler, Jerry D.; Bernick, Bob Jr. (১৬ জুন ২০০৩)। "John Birch Society forges on in Utah"Deseret News। ৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০২২
  174. Stewart, Charles J. (২০০২)। "The Master Conspiracy of the John Birch Society: From Communism to the New World Order"Western Journal of Communication৬৬ (4): ৪৩৭–৪৩৮। ডিওআই:10.1080/10570310209374748এস২সিআইডি 145081268। ৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০২১
  175. "Roll Call 163 Roll Call 163, Bill Number: H. R. 1757, 105th Congress, 1st Session"Office of the Clerk, U.S. House of Representatives। ৪ জুন ১৯৯৭। ১৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২২
  176. "H.Amdt.138 to H.R.1757"Congress.gov। ১৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২২
  177. "Rep. Paul Introduces American Sovereignty Restoration Act"। US Fed News Service। ১ মার্চ ১৯৯৭। ৫ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে (subscription) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০০৮
  178. Lamb, Henry (১৬ মে ২০০৫)। "Showdown at the U.N. corral"Enter Stage Right। ৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০০৮
  179. Resnik, Judith (মে ২০০৬)। "Law's Migration: American Exceptionalism, Silent Dialogues, and Federalism's Multiple Ports of Entry" (পিডিএফ)Yale Law Journal১১৫ (7): ১৬৫৯। ডিওআই:10.2307/20455664জেস্টোর 20455664এস২সিআইডি 153301537। ১৪ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০০৮
  180. "H.R.7806 – 117th Congress (2019–2020): American Sovereignty Restoration Act of 2022 | Congress.gov | Library of Congress"। govtrack.us। ১৭ মে ২০২২। ৪ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মে ২০২২
  181. Satija, Neena; McCrimmon, Ryan (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "Conservative Lawmakers Target United Nations"The Texas Tribune। ২২ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২৪
  182. "State of Tennessee Public Chapter No. 479" (পিডিএফ)Tennessee Secretary of State। ২০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২৪
  183. Sullivan, Kevin (১৫ মে ২০২৩)। "Inside the Tennessee legislature, where a GOP supermajority reigns"The Washington Post। ২৯ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০২৪
  184. "Human Rights Council president wants reform", SwissInfo, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭। ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১১ আগস্ট ২০১১ তারিখে
  185. Gedeon, Joseph (২১ জানুয়ারি ২০২৫)। "Trump UN nominee backs Israeli claims of biblical rights to West Bank"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৫
  186. Demirjian, Karoun (২১ জানুয়ারি ২০২৫)। "Elise Stefanik Pledges to Back Trump's Vision of a 'Reformed' U.N."The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০২৫
  187. Samuels, Ben। "'Antisemitic Rot': Trump's UN Pick Stefanik Backs Defunding UNRWA, Citing 'Terrorist Ties' to Hamas"Haaretz (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৫
  188. Al Jazeera Staff। "Trump's UN ambassador pick says Israel has 'biblical right' to West Bank"Al Jazeera (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারি ২০২৫
  189. Los Angeles Times, ১৭ অক্টোবর ২০০২ "U.N. Resolutions Frequently Violated" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ মার্চ ২০২২ তারিখে
  190. USIP Press Books, ১৯৯৪, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৭৮৩৭৯-৩৫-১
  191. Gail M. Gerhart-এর বই পর্যালোচনা, Foreign Affairs, মার্চ/এপ্রিল ১৯৯৫ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে
  192. Norley, Matthew John Ribeiro (২০১৩)। "Is the United Nations an Effective Institution?"E-International Relations (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৮ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  193. Jeria, Michelle Bachelet (২০১৬)। "The Challenges to International Law in the 21st Century"Proceedings of the ASIL Annual Meeting (ইংরেজি ভাষায়)। ১১০: ৩–১১। ডিওআই:10.1017/S0272503700102435আইএসএসএন 0272-5037
  194. Mulligan, Michael (২০২০)। "The Re-Emergence of Conquest: International Law and the Legitimate Use of Force"Liverpool Law Review৪১ (3): ২৯৩–৩১৩। ডিওআই:10.1007/s10991-020-09250-3
  195. Reddy, Shravanti (২৯ অক্টোবর ২০০২)। "Watchdog Organization Struggles to Decrease UN Bureaucracy"। Global Policy Forum। ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৬
  196. "Q&A: Oil-for-food scandal"BBC News। ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৫। ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৩
  197. ""Hymn to the United Nations" a Poem by W.H. Auden"media.un.org। United Nations Audiovisual Library। ১৯ নভেম্বর ১৯৭১। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০২৫

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

অতিরিক্ত পাঠ

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]