ইলমুল কালাম
মূল সংস্করণের প্রচ্ছদ | |
| লেখক | শিবলী নোমানী |
|---|---|
| মূল শিরোনাম | উর্দু: علم الکلام |
| প্রকাশনার স্থান | ব্রিটিশ ভারত |
| ভাষা | উর্দু |
| বিষয় | কালাম |
| প্রকাশিত | ১৯০২ |
| প্রকাশক | দারুল মুসান্নিফীন শিবলী একাডেমি |
| মিডিয়া ধরন | শক্তমলাট |
| ওসিএলসি | ১১৯৩১৯০০৯৭ |
| ওয়েবসাইট | shibliebooks.com |
ইলমুল কালাম (উর্দু: علم الکلام) কালামশাস্ত্র নিয়ে রচিত শিবলী নোমানীর একটি বই।[১] এই বিষয়ে তিনি ৪ খণ্ডে গ্রন্থ রচনায় হাত দেন। তবে ২ খণ্ডে তার উদ্দেশ্য সাধন হওয়ায় আর অগ্রসর হননি। অপর খণ্ডটি আল কালাম নামে প্রকাশিত।[২] তিনি এ রচনাদ্বয়ের মাধ্যমে এক বিশেষ ইলমুল কালামের ভিত্তি স্থাপন করেন। এতে এমন সব আলোচনা এসেছে যা ভারতবর্ষে সময়ে সময়ে উদ্ভব হয়।[২] গ্রন্থটি ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে কালাম শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, কালাম শাস্ত্রের জন্ম ও উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ ইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছে।[৩] শিবলী যদিও ইতিহাস সম্বলিত বইটি লেখেননি তবুও এতে ঐতিহাসিক দার্শনিক মতামত, তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য ও মতাদর্শগুলো ফুটে ওঠে। বইটি অধ্যয়নে দেখা যায় তিনি একটি বিশেষ দলের সহযোগীতাকে তার লক্ষ্যে পরিণত করেছেন এবং বইটি লেখার মূল উদ্দেশ্য ইতিহাস রচনা নয়। বরং তিনি এর মধ্যে তার চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গির অন্তরালে একটি সুনির্দিষ্ট পক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। যেটি তিনি এই বইয়ের পরিপূরক আল কালামে উপস্থাপন করেছেন।[৪][৫]
বর্ণনা
[সম্পাদনা]ইতিহাস রচনায় যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তার থেকে অবমুক্ত হয়ে শিবলী গ্রন্থটিতে তার মতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। বইটি দর্শন ও যুক্তিতর্ক রচনার অনুসারে সর্বশীর্ষে। বইটির বর্ণনা বিশ্লেষণাত্মক। এতে শিবলী মুহাদ্দিসীন, আশায়েরা, মুতাজিলাসহ সকল পক্ষের দাবি ও দলিল তুলে ধরে নিজের যুক্তিপূর্ণ মতামতটি বর্ণনা করেছেন। বইটি যদিও ইলমুল কালামের উপর রচিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, এতে ইসলামের দর্শনভিত্তিক ইতিহাস স্ববিস্তারে আলোচিত হয়েছে।[৪]
মূল্যায়ন
[সম্পাদনা]গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন,
| “ | মিশনারীদের খ্রিস্ট ধর্মপ্রচার এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক অন্তর্দ্বন্দ্ব ভারতীয় মুসলমানদের মন-মেজাজকে অতিষ্ঠ ও পরাভূত করে রেখেছিল। তারা যুগের একজন গাযালী বা রাযী বা ইবনে রুশদের আবির্ভাবের প্রতীক্ষায় ছিল। তারা নাস্তিকদের অভিযোগ রদ করে আপন ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুক্তির খোঁজে উন্মুখ হয়ে রয়েছিল। শিবলী মুসলমানদের বিপদগামী হতে দেননি। তিনি সুষ্ঠু বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণ দিয়ে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেন। যাঁরা দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার চর্চা করেন, তাঁরা ভাল করে জানেন যে, ভারতে আজ পর্যন্ত শিবলীর সমকক্ষ কোন কালামবিদ জন্মগ্রহণ করেনি। তাঁর এ রচনাদ্বয়ের জ্ঞান ও যুক্তিবাদের আলোকে ইসলামের মৌলিক আকীদাসমূহ উপলব্ধি করা যায়। যারা এতদিন নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কেবল হাওয়ার উপর দাঁড় করিয়ে রেখেছিল এবং মনের টানেই আপন ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল ছিল, তাদের জন্য এই গ্রন্থদ্বয় ছিল মহার্ঘ্য। এর ফলে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস খুবই দৃঢ়তা লাভ করে। শিবলী রচিত গ্রন্থদ্বয়ের উপকারিতা এখানেই শেষ নয়। পাশ্চাত্য দর্শনের দিক থেকে ইসলামী আকায়েদের বিরুদ্ধে যে সব প্রশ্নের অবতারণা করা হয়, সেগুলোর দাঁতভাঙ্গা জওয়াব দেবার জন্যও মুসলিম চিন্তাবিদগণ এ রচনাদ্বয়ের সাহায্য গ্রহণ করতে আরম্ভ করেন। শিবলী যখন "ইলমুল কালাম" ও "আল - কালাম" রচনায় রত ছিলেন, তখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মুসলমানরা ছিল পর্যুদস্ত। এছাড়া পাশ্চাত্য সমাজ ব্যবস্থাও তখন ইসলামি আকায়েদকে বিনষ্ট করার জন্য ছিল যথেষ্ট। আজ বাংলাদেশে খ্রিস্টান মিশনারিগণ নব নব কৌশলে ইসলামের মৌলিক আকায়েদ বিনষ্ট করতে বদ্ধপরিকর। এমতাবস্থায় শিবলীর "আল কালাম" ও "ইলমুল কালাম"–এর উপকারিতা আরও বেড়ে যেতে বাধ্য৷ | ” |
| — [২] | ||
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]উদ্ধৃতি
[সম্পাদনা]- ↑ সায়েদ, বকর হাসসান (২০১৮)। "কালাম ইন অ্যা পোস্ট-ট্রেডিশনাল ওয়ার্ল্ড : শিবলী নোমানী'স কনস্ট্রাকশন অব অথরিটি ইন ইলমুল কালাম এন্ড আল-কালাম"। পাকিস্তান জার্নাল অব হিস্টোরিকাল স্টাডিজ। ৩ (২): ৪৩–৭৯। ডিওআই:10.2979/pjhs.3.2.02। আইএসএসএন 2412-611X।
- 1 2 3 নোমানী, শিবলী (১৯৮১)। ইসলামী দর্শন। আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ কর্তৃক অনূদিত। ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। পৃ. ২০। ২ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ গোলাম রব্বানী, ডক্টর (২০১৪)। উর্দু সাহিত্যে খ্যাতিমান আলিমদের অবদান (১৮৫৭ - ১৯৪৭)। বাংলাবাজার, ঢাকা: মাকতাবাতুত তাকওয়া। পৃ. ৫৩–৬৩। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯০৩৯১০৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|আইএসবিন=মান: চেকসাম পরীক্ষা করুন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার|আইএসবিএন-ত্রুটি-উপেক্ষা-করুন=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - 1 2 মাহমুদ, মিনহাজ উদ্দীন (২০১৬)। উর্দু সাহিত্যে আল্লামা শিবলী নোমানীর অবদান (অভিসন্দর্ভ)। উর্দু বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পৃ. ১২৩–১২৪।
{{অভিসন্দর্ভ উদ্ধৃতি}}:|সংগ্রহের-তারিখ=এর জন্য|ইউআরএল=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Gasman, Fejri (২০১২)। Shibli Numanis contribution to revitalization of Ilm al-kalam (MA) (ইংরেজি ভাষায়)। Malaysia: International Islamic University Malaysia। পৃ. ৫০–৯০। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- আহরারি, মুহাম্মদ জাফর (১৯৯৯)। উর্দু সাহিত্যের নবজাগরণ এবং শিবলী (অভিসন্দর্ভ) (ইংরেজি ভাষায়)। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়। পৃ. ৮৬–৯১।
- খাতুন, শায়েস্তা (২০১৩)। মুসলিম মহিলাদের শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশে আল্লামা শিবলীর ভূমিকা (অভিসন্দর্ভ) (উর্দু ভাষায়)। উর্দু বিভাগ, বীর বাহাদুর সিং পূর্বাঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয়। পৃ. ৫৫।
- ফেজরি, গেসম্যান (২০১২)। ইলমুল কালামকে পুনর্জীবিত করার ক্ষেত্রে শিবলী নোমানীর অবদান (অভিসন্দর্ভ)। আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০২১।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- দেহলভী, গোলাম রসূল (১৮ মে ২০১৬)। "রিসাইকলিং মাওলানা শিবলী নোমানী এন্ড হিজ রিলিজিয়াস আইডিয়াস ইন্সপিরেড বাই ইলমুল কালাম"। নিউ এইজ ইসলাম। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০২১।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ইলমুল কালাম–এর উর্দু সংস্করণ