নারীবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
একটি নারীবাদী বিক্ষোভ
জাতীয় মহিলা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত ঢাকায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস সমাবেশ, ৮ মার্চ ২০০৫ বাংলাদেশ।

নারীবাদ (ইংরেজি: Feminism) বিংশ শতাব্দীতে উদ্ভূত একটি দর্শন যা সভ্যতায় মানুষ হিসেবে পুরুষের তুলনায় সর্বার্থে নারীর সমতা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। নারীবাদ সমাজে নারীর সমতা অর্জন, বিশেষ করে পুরুষের সমান অধিকার আদায়ের যৌক্তিকতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। নারীবাদ দাবী করে: নারী পুরুষের তুলনায় একদিকে সক্ষম অন্যদিকে সামাজিক অবদানের দিক দিয়ে পুরুষ থেকে কম নয়।

নারীবাদী কর্মকাণ্ড-এর মূল লক্ষ্য সমাজে বিদ্যমান লৈঙ্গিক বৈষম্যের অবসান। নারীবাদী কর্মকাণ্ড সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রদত্ত বিভিন্ন মতবাদ ও আন্দোলনকে নির্দেশ করে।[১][২] নির্বাচনী ভোটাধিকার, উত্তরাধিকারী সম্পত্তির অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বৈবাহিক জীবনে সমানাধিকার, রাজনীতি ও ব্যবসায় সমান সুযোগ, সমান কাজে সমান বেতন, মাতৃত্ব-অবসর ইত্যাদির নারীবাদী প্রবক্তাদের মৌলিক দাবী। ঐতিহাসিক ভাবে নারীরা বঞ্চনার শিকার, অতএব নারীবাদীরা নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নারীবাদীরা নিজ দেহের উপর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যও কাজ করেন এবং ধর্ষণ, যৌন নিগ্রহপারিবারিক নিগ্রহ থেকে নারী ও বালিকাদের রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট থাকেন।[৩] বিভিন্ন মতবাদ অনুযায়ী নারীবাদী হতে পারেন যে কোন লিঙ্গের বা শুধুমাত্র কোনো নারী (এই ক্ষেত্রে নারীবাদী পুরুষরা হবেন উপনারীবাদী বা 'প্রোফেমিনিস্ট') যিনি নারীবাদে বিশ্বাস করেন।[৪]

নারীবাদী আন্দোলন থেকে উদ্ভূত নারীবাদী তত্ত্ব সমাজে নারীর ভূমিকা ও জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে লিঙ্গবৈষম্যের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করে। সমাজ কর্তৃক নির্ণীত যৌনতা ও লিঙ্গের ধারণা প্রভৃতি জটিল বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য এই তত্ত্ব বহু শাখায় বিভক্ত।[৫][৬] নারীবাদের কোনো কোনো শাখা শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গ, মধ্যবিত্ত ও সাক্ষর জনগোষ্ঠীসমূহকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার জন্য সমালোচিত হয়েছে এবং এরই ফলে বিভিন্ন জাতিবিশেষের প্রতি নিবিষ্ট ও বহুসাংস্কৃতিক নারীবাদী ভাবধারার উদ্ভাবন ঘটেছে।[৭]

ইতিহাসে লিঙ্গবৈষম্যের নিরসনকারী প্রায় প্রতিটি সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নারীবাদীদের নাম করা হয়। বিশেষত পাশ্চাত্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান প্রশ্নাতীত, যথা নারীর ভোটাধিকার, ভাষার লিঙ্গনিরপেক্ষতা, পক্ষপাতহীন বেতন-কাঠামো, প্রজনন-সংক্রান্ত অধিকার (গর্ভনিরোধকগর্ভপাতের অধিকার), বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অধিকার ও সম্পত্তির মালিকানার অধিকার।[৮]

নারীবাদ মূলত নারীর অধিকারের বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও লেখিকা বেল হুক্স‌ প্রমুখের মতে পুরুষের মুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত, কারণ আগ্রাসী পিতৃতন্ত্রের ফলে পুরুষরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন।[৯]

নারীবাদী তত্ত্ব, যা নারীবাদী আন্দোলন থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে, তার উদ্দেশ্য হলো নারীদের সামাজিক ভূমিকা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিঙ্গবৈষম্যকে বোঝার চেষ্টা করা। এর উপর ভিত্তি করে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা তৈরী হয়েছে যা জেন্ডার ইস্যুগুলিকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে। [৫][৬]

কালের পরিক্রমায় অনেক নারীবাদী আন্দোলন এবং আদর্শ তৈরী হয়েছে যেগুলোর প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী এবং লক্ষ্য উপস্থাপন করে। এর মাঝে কতগুলো ধারা সমালোচিত হয়েছে যেমন, নাগরিক অধিকার আন্দোলন বা বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন যেগুলোকে বলা হয় যে, এগুলো শুধুমাত্র সাদাদের, মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে। এই সমালোচনা থেকে পরবর্তীতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কেন্দ্রীক নারীবাদের সূচনা হয় যার মাঝে কালো নারীবাদ এবং ইন্টারসেকশনাল নারীবাদ অন্তর্ভুক্ত। [৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯১২ খ্রিঃ ৬ই মে নিউ ইয়র্ক সিটির রাস্তায় নারীর ভোটাধিকারের দাবীতে পদযাত্রা

১৮৩৭ খ্রিঃ ফরাসি দার্শনিকইউটোপীয় সমাজবাদী চার্লস ফুরিয়ে প্রথম 'নারীবাদ' শব্দটির আনুষ্ঠানিক ব্যবহার করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।[১০] "নারীবাদ" (feminism) এবং "নারীবাদী" (feminist) শব্দদুটি ফ্রান্সনেদারল্যান্ডসে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭২ এ[১১], যুক্তরাজ্যে ১৮৯০ এ, এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৯১০ এ।[১২][১৩] অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান অনুযায়ী "নারীবাদী" শব্দের উৎপত্তিকাল ১৮৫২[১৪] এবং "নারীবাদ" শব্দের ক্ষেত্রে তা ১৮৯৫।[১৫] সময়কাল, সংস্কৃতি ও দেশভেদে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নারীবাদীরা বিভিন্ন কর্মসূচী ও লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করেছেন। অধিকাংশ পাশ্চাত্য নারীবাদী ঐতিহাসিক মনে করেন যে যে সমস্ত আন্দোলন নারীর অধিকার অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করেছে তাদের সব কয়টিকেই নারীবাদী হিসেবে গণ্য করা উচিত; তারা নিজেদেরকে ঐ নামে চিহ্নিত না করলেও এর অন্যথা হয় না।[১৬][১৭][১৮][১৯][২০][২১] অন্য ঐতিহাসিকরা মনে করেন 'নারীবাদী' শব্দটি শুধুমাত্র আধুনিক নারীবাদী আন্দোলন ও তার উত্তরসূরী আন্দোলনগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই দ্বিতীয় দলের ঐতিহাসিকরা পূর্ববর্তী আন্দোলনগুলোকে চিহ্নিত করতে "উপনারীবাদ" কথাটির অবতারণা করেছেন।[২২]

আধুনিক পাশ্চাত্য নারীবাদী আন্দোলনের ইতিহাস তিনটি "তরঙ্গ"-এ বিভক্ত।[২৩][২৪] নির্দিষ্ট কিছু নারীবাদী লক্ষ্যের এক একটি আঙ্গিক নিয়ে এক একটি ঢেউ কাজ করেছে। প্রথম ঢেউ-এর সময়ে, অর্থাৎ ঊনবিংশ শতক ও বিংশ শতকের প্রথম ভাগে নারীর ভোটাধিকার অর্জনের উপর জোর দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ঢেউ বলতে ১৯৬০ এর দশকে নারীমুক্তি আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হওয়া মতাদর্শ ও কর্মসূচীসমূহকে বোঝায়। এই সময়ে নারীর সামাজিক ও আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়। তৃতীয় তরঙ্গ হল দ্বিতীয় তরঙ্গের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ১৯৯০ এর দশক থেকে শুরু হওয়া একটি ভিন্ন অভিমুখী ধারাবাহিকতা।[২৫] এই পর্যায়ে লিঙ্গনির্ভর প্রথাগত সামাজিক মূল্যবোধের একাধিক আমূল পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে ও হচ্ছে।

ঊনিশ শতক এবং ঊনিশ শতকের শুরুর দিক[সম্পাদনা]

ঊনিশ শতকের শুরুর দিকের কতগুলো কার্যকলাপের ধারাবাহিকতাকে নারীবাদের প্রথম ঢেউ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে চুক্তির সম অধিকার, বিবাহ, বাচ্চার দেখভাল এবং নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার নিয়ে আন্দোলন চলছিলো। ঊনিশ শতকের শেষের দিকে এ আন্দোলন নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন, বিশেষভাবে নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনে পরিনত হয়, যদিও কিছু নারীবাদীগণ তখনো নারীদের লিঙ্গগত, পূনঃউৎপাদনমূলক এবং অর্থনৈতিক অধিকার অর্জনে সচেষ্ট ছিলেন.[২৬]

এমিলিন পাঙ্ঘরস্ট তার বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে ক্রমাগত ভ্রমন করতে থাকেন এবং ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান। ছবিটি নিউইয়র্কে বক্তৃতা দেয়ার সময় তোলা।

এছাড়াও এ শতকের শেষের দিকে ব্রিটেনের অস্ট্রেলিয়ান উপনিবেশ গুলোতে নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলন ছড়িয়ে পরে। যেসনব উনপনিবেশ নিউজিল্যান্ডের স্ব-শাসিত অবস্থায় ছিলো, সেগুলোতে ১৮৯৩ সালে নারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয় এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিইয়া ১৮৯৫ সালো নারীদের ভোটাধিকার এবং পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব পরার অধিকার দেয়। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া ১৯০২ সালে নারীদের ভোটাধিকার প্রবর্তন করে।.[২৭][২৮]

নেদারলয়ান্ডে, উইলহেলমিনা ড্রুকার (১৮৪৭-১৯২৫) তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক এবং নারীবাদী সংগঠনের সাহায্যে ভোটাধিকার এবং সম অধিকারের জন্য সফলভাবে আন্দোলন করেন।

ব্রিটেনে ভোটাধিকার আন্দোলনকারীরা নারীদের ভোট দেয়ার অধিকারের সপক্ষে প্রচার শুরু করে। ১৯১৮ সালে রিপ্রেসেন্টেশন অফ পিপল অ্যাক্ট পরিবর্তনের মাধ্যমে কমপক্ষে ৩০ বছর বয়সী নারী যাদের সম্পত্তি আছে তাদের ভোটাধিকার দেয়া হয়। ১৯২১ সালে এই আইন সংশোধন করে ২১ বছরের বয়সী সকল নারীর জন্য ভোটাধিকার প্রবর্তন করা হয়।[২৯] এমিলিন পাঙ্ঘরস্ট ছিলেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অ্যাক্টিভিস্ট, যাকে টাইম পত্রিকা একুশ শতকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, " তিনি আমাদের সময়ের নারীদের সম্পর্কে ধারনা দেন এবং সমাজকে ঝাঁকি দিয়ে এমন অবস্থানে নিয়ে গেছে যেখান থেকে পিছু ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।"[৩০]

যুক্তরাষ্ট্রে তালিকায় লুক্রেশিয়া মট, এলিযাবেথ ক্যাডি স্টানটোন, সুসান বি এন্থনি এর নাম উল্লেখযোগ্য। এনারা সকলেইভোটাধিকার আন্দোলনের পূর্বে দাস প্রথা বিলোপে সংগ্রাম করেছে। এনারা কুকার এর আত্মীক সমতার ধর্মতত্বে বিশ্বাসী ছিলেন, যেখানে নারী এবং পুরুষকে ঈশ্বরের অধীনে সমান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।[৩১] ১৯১৯ সালের আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৯ তম সংশোধনী সাথে সাথে নারীবাদের প্রথম ঢেউ শেষ হয়েছে বলে মনে করা হয়, কেননা এ সংশোধনীতে নারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়। এরপরে নারীবাদীরা নারীবাদের দ্বিতীয় ঢেউ এর যুগে প্রবেশ করেন যেখানে সামাজিক ও সংস্কৃতিগত বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অসমতার বিষয়গুলো সামনে আসে।[২৬][৩২][৩৩][৩৪][৩৫]

বিশ শতকের মধ্যভাগ[সম্পাদনা]

বিশ শতকের মধ্যভাগে এসেও দেখা যায় ইউরোপের অনেক দেশেই নারীরা কিছু গুরুত্বপূর্ন অধিকার অর্জন করতে পারেনি। এইসব দেশে তখনো নারীবাদীরা ভোটাধিকার নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যায়। সুইজারল্যান্ডের নারীরা ১৯৭১ সালের ফেডারেই ইলেকশনে এসে ভোটাধিকার প্রাপ্ত হয়।[৩৬] লিশটেন্সটাইনে নারীদের ভোটাধিকার গণভোট-১৯৮৪ অনুষ্ঠিত হবার পরে নারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়।

ভোটাধিকারের পাশা পাশি নারীবাদীরা পারিবারিক আইন সংশোধনের জন্য লড়াই করতে থাকে। যদিও বিশ শতকের হাওয়া যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে লাগতে শুরু করে, তারপরেও নারীরা খুব কম অধিকারই চর্চা করতে পারছিলো। উদ্বাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, ফ্রান্সে বিবাহিত নারীদের ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাজে যোগদান করার অধিকার ছিলো না।[৩৭][৩৮]

এছাড়াও নারীবাদীরা ধর্ষণ আইনে " বৈবাহিক অব্যাহতি" তুলে নেয়ার জন্য লড়াই করছিলেন।[৩৯] এ আন্দোলনকে নারীবাদের প্রথম ঢেউ এ ভল্টারাইন ডি ক্লেয়ার, ভিক্টোরিয়া উডহাল এবং এলিজাবেথ ক্লার্ক এলমি প্রমুখ নারীবাদীদের 'বৈবাহিক ধর্ষন' কে অপরাধ হিসেবে আইন করার যে প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছিলো তার পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হয় কেননা এ প্রয়াস ঊনিশ শতকে ব্যর্থ হয়েছিলো।[৪০][৪১] এখনো পর্যন্ত শুধুমাত্র পশ্চিমা গুটিকয়েক দেশের নারীরাই এ অধিকার ভোগ করে, কিন্তু পুরো পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই নারীদের এ অধিকার নেই। [৪২]

নারীবাদী,ও লেখিকা বেল হুক্স‌ অক্টোবর ২০১৪

ফরাসী দার্শনিক সিমোন দ্য বুভ্যুয়া ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় লিঙ্গ বইয়ে নারীবাদের অনেক প্রশ্নের সমাধান মার্কসীয় অস্তিত্ববাদ এর আলোকে ব্যাখ্যা করেন। [৪৩] এই বইটিতে তিনি নারীবাদীদের দৃষ্টিতে অন্যায় তুলে ধরেন। নারীবাদের দ্বিতীয় ঢেউ কে ১৯৬০ এর দশকে শুরু হওয়া নারীবাদী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় যা ভোটাধিকার পরবর্তী অন্যান্য অধিকার যেমন জেন্ডার অসমতা[২৬] নিয়ে কাজ করে। [৪৪] এছাড়াও এসময় সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক অসমতা দূরীকরণে কাজ করা হয়। নারীদের প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যাগুলো যে রাজনৈতিক এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সৃষ্ট সে ধারনা প্রচায় পায়। এ ধারনাকে ব্যাখ্যা করতে সক্রিয় নারীবাদী এবং লেখিকা "ক্যারল হ্যানিসচ" "পারসোনাল ইজ পলিটিকাল" কথাটি তুলে ধরেন যা পরবর্তীকালে নারীবাদের দ্বিতীয় ঢেউ এর সমার্থক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।[৩][৪৫]

বিশ শতকের শেষ এবং একুশ শতকের শুরু[সম্পাদনা]

নারীবাদের তৃতীয় ঢেউ[সম্পাদনা]

১৯৯০ এর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে নারীবাদের তৃতীয় ঢেউয়ের ছোঁয়া লাগে যা দ্বিতীয় ঢেউ এর সময়কালীন উদ্যোগ এবং সংগ্রামগুলোর পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হয়। তারপরেও কিছু স্বতন্ত্রতা যেমন সেক্সুয়ালিটি, নারীদের হেটেরসেক্সুয়ালিটি কে প্রশ্নবিদ্ধ করা এমনকি সেক্সুয়ালিটি কে নারীদের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা, ইত্যাদির মাধ্যমে নারীবাদের তৃতীয় ঢেউ চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া নারীবাদের তৃতীয় ঢেউ এ দ্বিতীয় ঢেউয়ের অস্তিত্ববাদী দার্শনিকদের নারীত্ব এর সংজ্ঞাকে 'মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সাদা নারীদের অভিজ্ঞতার' উপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। তৃতীয় ঢেউ নারীবাদের "স্থানীয় রাজনীতি" উপর গুরুত্বারোপ করে, দ্বিতীয় ঢেউ এ শুরু হওয়া কোনটি নারীদের জন্য ভালো অথবা নয় এধরনের ধারনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং জেন্ডার এবং সেক্সুয়ালিটির পোস্ট-স্ট্রাকচারালিস্ট ব্যাখ্যাদান করার প্রবনতা তৈরী করে।[৪৬][৪৭][৪৮] এসময় নারীবাদী নেত্রীগণ যেমন, গ্লোরিয়া অ্যাযাল্ডা, বেল হুকস, সেলা স্যান্ডোভাল, চেরী মোগারা, অ্যাড্রে লর্ড, ম্যক্সিন হং কিংস্টন, যারা দ্বিতীয় ঢেউয়ের নারীবাদী হিসেবে বিশেষ পরিচিত, তারা অন্যান্য নারীবাদীদের (সাদা নয়) সাথে একত্রিত হয়ে নারীবাদের ভিতরে বর্ণবাদ সম্পর্কিত বিষয় আলোচনা করার জন্য মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিলেন।[৪৭][৪৯] এছাড়াও তৃতীয় ঢেউ এ বিভিন্ন নারীবাদের পার্থক্য, সমাজে নারী এবং পুরুষের ভিন্নতা, জেন্ডার ভূমিকার পার্থক্য এসব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।

স্ট্যান্ডপয়েন্ট[সম্পাদনা]

স্ট্যান্ডপয়েন্ট তত্ব নারীবাদী তাত্বিকদের তাত্বিক ভিত্তি যেখানে বলা হয় ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান তার জ্ঞান আরোহন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তি দেয়া যে, বিদ্যমান গবেষণা এবং তত্ত্বগুলো নারী এবং নারীবাদী আন্দোলন গুরুত্বহীন হিসেবে উপস্থাপন করে এবং পক্ষপাত-শূণ্য হিসেবে তুলে ধরেছে বলে দাবী করে।[৫০] বর্ণবাদ, হোমোফোবিয়া, শ্রেণিবাদ, উপনিবেশবাদ কিভাবে লিঙ্গবৈষম্যকে প্রভাবিত করে তা বোঝার জন্য ১৯৮০ এর দশক থেকেই স্টান্ডপয়েন্ট নারীবাদিগণ বলে আসছেন যে, নারীবাদী আন্দোলনে আন্তজার্তিক সমস্যা (যেমন ধর্ষণ,অজাচার, পতিতাবৃত্তি) এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে সৃষ্ট সমস্যা (যেমন আফ্রিকায় ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন, আরব বা মধ্যপ্রাচ্যে নারিদের সামাজিক বাঁধা, উন্নত বিশ্বে গ্লাস সিলিং) নিয়ে কাজ করা দরকার। [৫১]

উত্তর-নারীবাদ[সম্পাদনা]

উত্তর নারীবাদ প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয় ১৯৮০ এর দশকের পর থেকে শুরু হওয়া কতগুলো দৃষ্টিভঙ্গীকে ব্যাখ্যা করতে। এই মতাদর্শে বিশ্বাসীরা ঠিক "নারীবাদ বিরোধী" নন, তবে বিশ্বাস করেন যে, নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গের বিষয়গুলো অর্জন করাই যুক্তিযুক্ত। এনারা নারীবাদের তৃতীয় তরঙ্গের বিষয়গুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। এই প্রত্যয়টি প্রথমে যারা দ্বিতীয় তরঙ্গের বিষয়গুলোর প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছিলো তাদের বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রত্যয়টি দ্বারা একগুচ্ছ তত্ব এবং তাত্বিকদের নির্দেশ করা হয় যারা কিনা নারীবাদের দ্বিতীয় তরঙ্গের পরের ধারা নারীবাদী চিন্তা এবং তত্ত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আসছেন।[৫২] উত্তর নারীবাদে বিশ্বাসীরা এটাও বলে থাকেন যে, নারীবাদ এখন আর আর প্রাসঙ্গিক নয়।[৫৩] অ্যামেলিয়া জোন্স লিখেছেন যে, ১৯৮০ এবং নব্বই এর দশকের যেসব উত্তর নারীবাদ সম্পর্কিত লেখনী পাওয়া যায় সেগুলোতে দ্বিতীয় ঢেউ মনোলিথিক এনটিটি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।[৫৪] উত্তর নারীবাদে বিশ্বাসী ডরোথী চান "অনুযোগ লিপি" তৈরী করেন যেখানে তিনি - "নারিবাদীরা এখনো জেন্ডার সমতা এর জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন যখন কিনা জেন্ডার সমতা অর্জিত হয়েই গেছে" উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো বলেন," অনেক নারীবাদীই এখন এই অভিযোগ করেন যে, অধিকার এবং সমতার জন্য যে লড়াই তারা করেছেন এখন সেগুলোকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।"[৫৫]

তত্ত্ব[সম্পাদনা]

নারীবাদী তত্ত্ব হলো নারীবাদকে তাত্ত্বিক এবং দার্শনিক রূপ দেয়ার প্রয়াস। এটি জ্ঞানের অনেকগুলি শাখা যেমন নৃবিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, অর্থনীতি, উইমেন স্টাডিজ, নারীবাদী সাহিত্য সমালোচনা,[৫৬][৫৭] শিল্প ইতিহাস,[৫৮] মনোসমীক্ষণ[৫৯] এবং দর্শন কে ঘিরে গড়ে উঠেছে।[৬০][৬১] নারীবাদী তত্ত্ব লিঙ্গবৈষম্যকে বোঝার চেষ্টা করে এবং জেন্ডার রাজনীতি, ক্ষমতার সম্পর্ক ও সেক্সুয়ালিটির উপর গুরুত্ব দেয়। এই সামাজিক এবং রাজনৈতিক জটিল সম্পর্কগুলো ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি নারীবাদী তত্ত্ব নারীদের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করে। স্টেরিওটাইপিং, লৈঙ্গিক ভাবে আপত্তিকরণ), নিপীড়ন, এবং পুরুষতন্ত্র এই বিষয়গুলো নারীবাদী তত্বে প্রতিপাদ্য হয়.[৬২][৬৩]

মিলের ভূমিকা[সম্পাদনা]

বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল দেখতে পান যে, নারীসংক্রান্ত বিষয়াবলী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি নারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লিখতে শুরু করেন। এপ্রেক্ষিতে তিনি প্রারম্ভিক নারীবাদী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। ১৮৬১ সালে লিখিত ও ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত দ্য সাবজেকশন অব উইমেন শীর্ষক নিবন্ধে নারীদের বৈধভাবে বশীভূতকরণ বিষয়টিকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করেন। এরফলে তা সঠিকভাবে সমতাবিধান থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।[৬৪]

আরোও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Feminism – Definition and More from the Free Merriam-Webster Dictionary"। merriam-webster.com। সংগৃহীত ১২ জুন ২০১১ 
  2. "Definition of feminism noun from Cambridge Dictionary Online: Free English Dictionary and Thesaurus"। dictionary.cambridge.org। সংগৃহীত ১২ জুন ২০১১ 
  3. Echols, Alice (১৯৮৯)। Daring to Be Bad: Radical Feminism in America, 1967–1975। Minneapolis: University of Minnesota Press। আইএসবিএন 0-8166-1787-2 
  4. Oxford English Dictionary (online সংস্করণ)। Oxford University Press। জুন ২০১২। সংগৃহীত ৫ জুলাই ২০১২  (Definition is of noun. Subscription may be required.)
  5. Chodorow, Nancy (১৯৮৯)। Feminism and Psychoanalytic Theory। New Haven, Conn.: Yale University Press। আইএসবিএন 978-0-300-05116-2 
  6. Gilligan, Carol (১৯৭৭)। "'In a Different Voice: Women's Conceptions of Self and Morality'"Harvard Educational Review 47 (4): 481–517। সংগৃহীত ৮ জুন ২০০৮  উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "gilligan1977" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  7. Weedon, Chris (২০০২)। "Key Issues in Postcolonial Feminism: A Western Perspective"Gender Forum (1)। 
  8. Messer-Davidow, Ellen (২০০২)। Disciplining Feminism: From Social Activism to Academic Discourse। Durham, N.C.: Duke University Press। আইএসবিএন 0-8223-2843-7 
  9. Hooks, Bell (২০০০)। Feminism Is for Everybody: Passionate politics। Cambridge, Mass.: South End Pressআইএসবিএন 0-89608-629-1 
  10. Goldstein 1982, p.92.Goldstein, L (1982). "Early Feminist Themes in French Utopian Socialism: The St.-Simonians and Fourier", Journal of the History of Ideas, vol.43, No. 1.
  11. Dutch feminist pioneer Mina Kruseman in a letter to Alexandre Dumas – in: Maria Grever, Strijd tegen de stilte. Johanna Naber (1859–1941) en de vrouwenstem in geschiedenis (Hilversum 1994) আইএসবিএন ৯০-৬৫৫০-৩৯৫-১, page 31
  12. Offen, Karen. "Les origines des mots 'feminisme' et 'feministe'". Revue d'histoire moderne et contemporaine. July–September 1987 34: 492-496
  13. Cott, Nancy F. The Grounding of Modern Feminism. New Haven: Yale University Press, 1987 at 13-5.
  14. "feminist"Oxford English Dictionary (3rd সংস্করণ)। Oxford University Press। ২০১২। (সদস্যতা প্রয়োজনীয় (help))। "An advocate or supporter of the rights and equality of women. 1852: De Bow’s Review (‘Our attention has happened to fall upon Mrs. E. O. Smith, who is, we are informed, among the most moderate of the feminist reformers!’)" 
  15. "feminism"Oxford English Dictionary (3rd সংস্করণ)। Oxford University Press। ২০১২। (সদস্যতা প্রয়োজনীয় (help))। "Advocacy of equality of the sexes and the establishment of the political, social, and economic rights of the female sex; the movement associated with this." 
  16. Spender, Dale (১৯৮৩)। There's Always Been a Women's Movement this Century। London: Pandora Press। পৃ: 1–200। 
  17. Lerner, Gerda (১৯৯৩)। The Creation of Feminist Consciousness From the Middle Ages to Eighteen-seventy। Oxford University Press। পৃ: 1–20। 
  18. Walters, Margaret (২০০৫)। Feminism: A very short introduction। Oxford University। পৃ: 1–176। আইএসবিএন 0-19-280510-X 
  19. Kinnaird, Joan; Astell, Mary (১৯৮৩)। "Inspired by ideas (1668–1731)"। in Spender, Dale। There's always been a women's movement। London: Pandora Press। পৃ: 29–। 
  20. Witt, Charlotte (২০০৬)। "Feminist History of Philosophy"Stanford Encyclopedia of Philosophy। সংগৃহীত ২৩ জানুয়ারি ২০১২ 
  21. Allen, Ann Taylor (১৯৯৯)। "Feminism, Social Science, and the Meanings of Modernity: The Debate on the Origin of the Family in Europe and the United States, 1860–1914"। The American Historical Review 104 (4): 1085–113। জেএসটিওআর 2649562ডিওআই:10.1086/ahr/104.4.1085পিএমআইডি 19291893 
  22. Botting, Eileen Hunt; Houser, Sarah L. (২০০৬)। "'Drawing the Line of Equality': Hannah Mather Crocker on Women's Rights"। The American Political Science Review 100 (2): 265–78। জেএসটিওআর 27644349ডিওআই:10.1017/S0003055406062150 
  23. Humm, Maggie. 1995. The Dictionary of Feminist Theory. Columbus: Ohio State University Press, p. 251
  24. Walker, Rebecca (জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ১৯৯২)। "Becoming the Third Wave"। Ms.: 39–41। 
  25. Krolokke, Charlotte; Sorensen, Anne Scott (২০০৫)। "Three Waves of Feminism: From Suffragettes to Grrls"। Gender Communication Theories and Analyses: From Silence to Performance। Sage। পৃ: ২৪। আইএসবিএন 0-7619-2918-5 
  26. Freedman, Estelle B. (২০০৩)। No Turning Back : The History of Feminism and the Future of Women। Ballantine Books। পৃ: ৪৬৪। আইএসবিএন 0-345-45053-1 
  27. "Votes for Women Electoral Commission"। Elections New Zealand। ১৩ এপ্রিল ২০০৫। সংগৃহীত ৩১ মার্চ ২০১৩ 
  28. "Women and the right to vote in Australia"। Australian Electoral Commission। ২৮ জানুয়ারি ২০১১। সংগৃহীত ২৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  29. Phillips, Melanie (২০০৪)। The Ascent of Woman: A History of the Suffragette Movement and the Ideas Behind it। London: Abacus। পৃ: 1–370। আইএসবিএন 978-0-349-11660-0 
  30. Warner, Marina (১৪ জুন ১৯৯৯)। "Emmeline Pankhurst – Time 100 People of the Century"Time Magazine 
  31. Ruether, Rosemary Radford (২০১২)। Women and Redemption: A Theological History (2nd সংস্করণ)। Minneapolis: Fortress Press। পৃ: 112–118, 136–139। আইএসবিএন 0-8006-9816-9 
  32. DuBois, Ellen Carol (১৯৯৭)। Harriot Stanton Blatch and the Winning of Woman Suffrage। New Haven, Conn.: Yale University Press। আইএসবিএন 0-300-06562-0 
  33. Flexner, Eleanor (১৯৯৬)। Century of Struggle: The Woman's Rights Movement in the United States। The Belknap Press। পৃ: xxviii–xxx। আইএসবিএন 978-0-674-10653-6 
  34. Wheeler, Marjorie W. (১৯৯৫)। One Woman, One Vote: Rediscovering the Woman Suffrage Movement। Troutdale, OR: NewSage Press। পৃ: ১২৭। আইএসবিএন 0-939165-26-0 
  35. Stevens, Doris; O'Hare, Carol (১৯৯৫)। Jailed for Freedom: American Women Win the Vote। Troutdale, OR: NewSage Press। পৃ: 1–388। আইএসবিএন 0-939165-25-2 
  36. "The Long Way to Women's Right to Vote in Switzerland: a Chronology"। History-switzerland.geschichte-schweiz.ch। সংগৃহীত ২০১১-০১-০৮ 
  37. Guillaumin, Colette (১৯৯৪)। Racism, Sexism, Power, and Ideology। পৃ: 193–195। 
  38. Meltzer, Françoise (১৯৯৫)। Hot Property: The Stakes and Claims of Literary Originality। পৃ: ৮৮। 
  39. Allison, Julie A. (১৯৯৫)। Rape: The Misunderstood Crime। পৃ: ৮৯। 
  40. Bland, Lucy (২০০২)। Banishing the Beast: Feminism, Sex and Morality। পৃ: 135–149। সংগৃহীত আগস্ট ২৫, ২০১৩ 
  41. Palczewski, Catherine Helen (১৯৯৫-১০-০১)। "Voltairine de Cleyre: Sexual Slavery and Sexual Pleasure in the Nineteenth Century"। NWSA Journal 7 (3): 54–68 [60]। আইএসএসএন 1040-0656জেএসটিওআর 4316402 
  42. Crowell, Nancy A.; Burgess, Ann W. (১৯৯৭)। Understanding Violence Against Women। পৃ: ১২৭। 
  43. Bergoffen, Debra (১৬ আগস্ট ২০১০) [১৭ আগস্ট ২০০৪]। "Simone de Beauvoir"। Metaphysics Research Lab, CSLI, Stanford University। সংগৃহীত ৪ ডিসেম্বর ২০১১ 
  44. Whelehan, Imelda (১৯৯৫)। Modern Feminist Thought: From the Second Wave to 'Post-Feminism'। Edinburgh: Edinburgh University Press। পৃ: 25–43। আইএসবিএন 978-0-7486-0621-4 
  45. Hanisch, Carol (১ জানুয়ারি ২০০৬)। "Hanisch, New Intro to 'The Personal is Political' – Second Wave and Beyond"The Personal Is Politicalআসল থেকে ১৫ মে ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৮ জুন ২০০৮ 
  46. Henry, Astrid (২০০৪)। Not my mother's sister: generational conflict and third-wave feminism। Bloomington: Indiana University Press। পৃ: 1–288। আইএসবিএন 978-0-253-21713-4 
  47. Gillis, Stacy; Howie, Gillian; Munford, Rebecca (২০০৭)। Third wave feminism: a critical exploration। Basingstoke: Palgrave Macmillan। পৃ: xxviii, 275–76। আইএসবিএন 978-0-230-52174-2 
  48. Faludi, Susan (১৯৯২)। Backlash: the undeclared war against women। London: Vintage। আইএসবিএন 978-0-09-922271-2 [পৃষ্ঠা নম্বর]
  49. Leslie, Heywood; Drake, Jennifer (১৯৯৭)। Third Wave Agenda: Being Feminist, Doing Feminism। Minneapolis: University of Minnesota Press। আইএসবিএন 0-8166-3005-4 [পৃষ্ঠা নম্বর]
  50. "standpoint theory | feminism"Encyclopedia Britannica। সংগৃহীত ২০১৬-০২-১০ 
  51. Harding, Sandra (২০০৩)। The Feminist Standpoint Theory Reader: Intellectual and Political Controversies। London: Routledge। পৃ: 1–16, 67–80। আইএসবিএন 978-0-415-94501-1 
  52. Wright, Elizabeth (২০০০)। Lacan and Postfeminism (Postmodern Encounters)। Totem Books। আইএসবিএন 1-84046-182-9 
  53. Modleski, Tania (১৯৯১)। Feminism without women: culture and criticism in a 'postfeminist' age। New York: Routledge। পৃ: ১৮৮। আইএসবিএন 0-415-90416-1 
  54. Jones, Amelia (১৯৯৪)। "Postfeminism, Feminist Pleasures, and Embodied Theories of Art"। in Frueh, Joana; Langer, Cassandra L.; Raven, Arlene। New Feminist Criticism: Art, Identity, Action। New York: HarperCollins। পৃ: 16–41, 20। 
  55. Chunn, D. (2007). "Take it easy girls": Feminism, equality, and social change in the media. In D. Chunn, S. Boyd, & H. Lessard (Eds.), Reaction and resistance: Feminism, law, and social change (pp. 31). Vancouver, BC: UBC Press.
  56. Zajko, Vanda; Leonard, Miriam (২০০৬)। Laughing with Medusa: classical myth and feminist thought। Oxford: Oxford University Press। পৃ: ৪৪৫। আইএসবিএন 0-19-927438-X 
  57. Howe, Mica; Aguiar, Sarah Appleton (২০০১)। He said, she says: an RSVP to the male text। Madison, NJ: Fairleigh Dickinson University Press। পৃ: ২৯২। আইএসবিএন 0-8386-3915-1 
  58. Pollock, Griselda (২০০৭)। Encounters in the Virtual Feminist Museum: Time, Space and the Archive। Routledge। পৃ: 1–262। 
  59. Ettinger, Bracha; Judith Butler; Brian Massumi; Griselda Pollock (২০০৬)। The matrixial borderspace। Minneapolis: University of Minnesota Press। পৃ: ২৪৫। আইএসবিএন 0-8166-3587-0 
  60. Brabeck, M. and Brown, L. (With Christian, L., Espin, O., Hare-Mustin, R., Kaplan, A., Kaschak, E., Miller, D., Phillips, E., Ferns, T., and Van Ormer, A.). (1997). Feminist theory and psychological practice. In J. Worell and N. Johnson (Eds.) Shaping the future of feminist psychology: Education, research, and practice (pp.15–35). Washington, D.C.: American Psychological Association.
  61. Florence, Penny; Foster, Nicola (২০০১)। Differential aesthetics: art practices, philosophy and feminist understandings। Aldershot, Hants, England: Ashgate। পৃ: ৩৬০। আইএসবিএন 0-7546-1493-X 
  62. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Chodorow19892 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  63. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; gilligan19772 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  64. John Stuart Mill: critical assessments, Volume 4, By John Cunningham Wood

আরোও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

তালিকা[সম্পাদনা]

টুলস[সম্পাদনা]

মাল্টিমিডিয়া ও দস্তাবেজ[সম্পাদনা]