ইসরায়েল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইসরায়েল
מְדִינַת יִשְׂרָאֵל (হিব্রু)
دَوْلَةُ إِسْرَائِيل (আরবি)
পতাকা জাতীয় প্রতীক
জাতীয় সঙ্গীত: হাতিকওয়াহ
আশা
রাজধানী
এবং বৃহত্তম নগরী
জেরুসালেম
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ হিব্রু, আরবি
জাতিগোষ্ঠী
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ ইসরায়েলী
সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র[১]
 •  রাষ্ট্রপতি রিউভেন রিভলিন
 •  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
আইন-সভা নেসেট
স্বাধীনতা যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ মেন্ডেট থেকে
 •  ঘোষণা ১৪ই মে ১৯৪৮[২] 
আয়তন
 •  মোট 1 ২২,০৭২ কিমি (১৪৯তম)
৮,৫২২ বর্গ মাইল
 •  পানি (%) ~২%
জনসংখ্যা
 •  ২০১৬ আনুমানিক ৮,৫৪১,০০০2[৩] (৯৮তম)
 •  ২০০৮ আদমশুমারি ৭,৪১২,২০০[৪]
 •  ঘনত্ব ৩৮৭.৬৩/কিমি (৩৪তম)
১,০০৪/বর্গ মাইল
জিডিপি (পিপিপি) ২০১৬ আনুমানিক
 •  মোট $২৯৭.০৪৬ বিলিয়ন[৫] (৫৫তম)
 •  মাথা পিছু $৩৪,৮৩৩[৫] (৩৩তম)
জিডিপি (নামমাত্র) ২০১৬ আনুমানিক
 •  মোট $৩১১.৭৩৯ বিলিয়ন[৫] (৩৫তম)
 •  মাথা পিছু $৩৬,৫৫৬[৫] (২৩তম)
গিনি (২০১২) 42.8[৬]
মাধ্যম · ১০৫তম
এইচডিআই (২০১৪) বৃদ্ধি 0.894[৭]
খুব উচ্চ · ১৮তম
মুদ্রা ইসরায়েলি শেকেল (₪) (ILS)
সময় অঞ্চল ইসরায়েলি মান সময় (ইউটিসি+2)
 •  গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) ইসরায়েলি গ্রীষ্ম সময় (ইউটিসি+3)
তারিখ বিন্যাস
ড্রাইভের দিক ডান
কলিং কোড +৯৭২
ইন্টারনেট টিএলডি .il
.ישראל
ওয়েবসাইট
জাতীয় বাতায়ন
১. গোলান মালভূমিপূর্ব জেরুসালেম-সহ
২. পশ্চিম তীরের ইসরায়েলী জনসংখ্যা-সহ

ইসরায়েল (হিব্রু ভাষায়: מְדִינַת יִשְׂרָאֵלমেদিনাত্‌ য়িস্‌রা'এল্‌ ; আরবি: دَوْلَةْ إِسْرَائِيلদাউলাত্‌ ইস্‌রা'ঈল্‌) মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংসদীয় গণতন্ত্রভূমধ্য সাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই রাষ্ট্রের রাজধানী জেরুসালেম[টীকা ১] ইসরায়েলের অর্থনীতি খুবই শক্তিশালী এবং তেল আবিব হচ্ছে দেশটির অর্থনৈতিক কেন্দ্র। [২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন সহ বেশিরভাগ আরব এলাকা চলে যায় ইংল্যান্ড- ফ্রান্সের ম্যান্ডেটে। ১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ইহুদীবাদীদেরকে লেখা এক পত্রে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। বেলফোর ঘোষণার মাধমে ফিলিস্তিন এলাকায় ইহুদিদের আলাদা রাষ্ট্রের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয় এবং বিপুলসংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপন করতে থাকে।

১৯০৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার। কিন্তু ১৯১৪ সাল থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত বৃটিশদের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত হয়। এরপর প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীদের ধরে এনে জড়ো করা শুরু হলে ১৯১৯ থেকে ১৯২৩ সাল নাগাদ ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ৩৫ হাজারে পৌঁছে যায়। ১৯৩১ সালে ইহুদীদের এই সংখ্যা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছায়। এভাবে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে এবং ১৯৪৮ সালে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা ৬ লাখে উন্নীত হয়।

১৯১৮ সালে বৃটেনের সহযোগিতায় গুপ্ত ইহুদী বাহিনী "হাগানাহ" গঠিত হয়। এ বাহিনী ইহুদীবাদীদের রাষ্ট্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ফিলিস্তিনী জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদীবাদীদের সহায়তা করা হাগানাহ বাহিনীর দায়িত্ব হলেও পরবর্তীকালে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়। ফিলিস্তিনী জনগণের বাড়িঘর ও ক্ষেতখামার দখল করে তাদেরকে ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত করা এবং বাজার ও রাস্তাঘাটসহ জনসমাবেশ স্থলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফিলিস্তিনীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের বিতাড়নের কাজ ত্বরান্বিত করা ছিল হাগানাহ বাহিনীর কাজ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডকে দ্বিখন্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখন্ডিত করার প্রস্তাব পাশ করে নিজেদের মাতৃভূমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনীদের এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদীবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ড্যাভিড বেন গুরিয়ন ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা তার উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নেসেট নামের আইনসভার উপর ন্যস্ত। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে স্বাধীন।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

সামরিক শক্তি[সম্পাদনা]

ইসরাইলের সশস্ত্র বাহিনী (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস, সংক্ষেপে আইডিএফ) তিনটি মিলিটারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত। সংস্থাগুলো হচ্ছে গ্রাউন্ড ফোর্সেস, এয়ার ফোর্স ও নেভি।[২] বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সশস্ত্র বাহিনীতে বেসামরিক লোক নিয়োগ দেয়া হলেও ইসরাইল এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। ইসরাইলের সশস্ত্র বাহিনী সে দেশের সামরিক ব্যক্তিত্বরা পরিচালনা করে। এই বাহিনী দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। অবশ্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনেক বেসামরিক লোককে পদস্থ কর্মকর্তা করা হয়। অফিসিয়ালি ইসরাইল সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৪৮ সালের ২৬ মে কেবিনেটের সিদ্ধান্তক্রমে। এ জন্য লিখিত আদেশ দেয় ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় বাধ্যতামূলকভাবে অনেক ইহুদিকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়। এ ছাড়াও ইহুদিদের তিনটি গোপন সংগঠন হাগানা, ইরগান ও লেহির সদস্যদের নিয়ে প্রাথমিকভাবে এই বাহিনী গঠন করা হয়। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা আর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেকগুলো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয় এই বাহিনীকে।[২]

বিভিন্ন দেশের সাথে এই বাহিনীর অস্ত্র ও প্রযুক্তির বেশ পার্থক্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মারকাভা মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক, উজি সাব মেরিনগান এবং গালিল ও টাভর অ্যাসল্ট রাইফেল। আইডিএফ’র উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে অর্থসহযোগিতা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাত হচ্ছে এফ-১৫১ জেট বিমান, টিএইচ।[২]

ভূগোল[সম্পাদনা]

ইসরায়েল পশ্চিম এশিয়াতে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এই ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ধরে সমভূমি অবস্থিত। ইসরায়েলের দক্ষিণে রয়েছে বিশাল নেগেভ মরুভূমি আর উত্তরে আছে বরফাবৃত পর্বতমালা। দক্ষিণে লোহিত সাগরে এক চিলতে প্রবেশপথ আছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের অর্থনীতি আধুনিক পশ্চিমা অর্থনীতির সমপর্যায়ের। ইসরায়েলের নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ খুব কম। দেশটি ১৯৭০-এর দশক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান পেয়ে আসছে, তবে ১৯৯৮-এর পর এই অনুদানের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়। ইসরায়েল বর্তমানে ও.ই.সি.ডি. (অরগ্যানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো - অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট) এর সদস্য ।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

ভাষা[সম্পাদনা]

ইসরায়েল ভাষাগত ও সংস্কৃতিগতভাবে বিচিত্র। এথনোলগের ১৫শ সংস্করণ অনুসারে ইসরায়েলে ৩৩টির মত ছোট-বড় ভাষা ও উপভাষা প্রচলিত[৮]। ইসরায়েলি নাগরিকেরা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান প্রদানের জন্য মূলত আধুনিক হিব্রু ভাষা ব্যবহার করেন। আধুনিক হিব্রু ভাষাটি ১৯শ শতকের শেষ দিকে প্রাচীন হিব্রু ভাষার বিভিন্ন উপভাষার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এতে স্লাভীয়জার্মানীয় ভাষাসমূহের কিছু প্রভাব আছে। ভাষার সরকারি মর্যাদা ও ভাষা সংক্রান্ত নীতিমালার উপর ইসরায়েলে বেশ কিছু আইন আছে। বর্তমানে হিব্রুআরবি ইসরায়েলের সরকারি ভাষা।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

পর্যটন[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের পর্যটন মূলত ইহুদী ধর্মের পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দেশটির সর্বত্র ইহুদী ধর্মের ও সভ্যতার স্মৃতিবিজড়িত নানা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইহুদীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর এবং মুসলিম ও খ্রিস্টানদেরও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হল জেরুজালেম শহর। জেরুজালেমের ইহুদী মন্দির ও পশ্চিম দেওয়াল বিখ্যাত। এছাড়া আছে যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান বেথেলহেম, বাসস্থান নাজারেথ।এখানে হারাম আল শরীফ তথা আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত।ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ যা মুসলিমদের প্রথম কিবলা হিসাবে পরিচিত। ভূমধ্যসাগরের তীর জুড়ে রয়েছে অনেক অবকাশ যাপন কেন্দ্র। আরও আছে লবণাক্ত মৃত সাগর, যার পানিতে ভেসে থাকা যায়। লোহিত সাগরের উপকূল এবং গ্যালিলির সাগরের উপকূলেও অনেক অবকাশ কেন্দ্র আছে। তবে ইদানীংকার বছরগুলিতে আত্মহত্যামূলক বোমাবিস্ফোরণের ঘটনা ইসরায়েলের পর্যটন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Jerusalem Law states that "Jerusalem, complete and united, is the capital of Israel" and the city serves as the seat of the government, home to the President's residence, government offices, supreme court, and parliament. The United Nations and most countries do not accept the Jerusalem Law (see Kellerman 1993, পৃ. 140) and maintain their embassies in other cities such as Tel Aviv, Ramat-Gan, and Herzliya(see the CIA Factbook and Map of Israel) The Palestinian Authority sees East Jerusalem as the capital of a future Palestinian State and the city's final status awaits future negotiations between Israel and the Palestinian Authority (see "Negotiating Jerusalem", University of Maryland). See Positions on Jerusalem for more information.
  1. "Israel"The World Factbook। Central Intelligence Agency। ২০০৭-০৬-১৯। সংগৃহীত ২০০৭-০৭-২০ 
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ Qposter-লেখকঃ মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। "ইসরাইলের সমরশক্তি"www.qposter.com। সংগৃহীত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  3. Israel Central Bureau of Statistics http://www.cbs.gov.il/publications16/yarhon0716/pdf/b1.pdf। সংগৃহীত ২০০৯-১০-২৬  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  4. Israel Central Bureau of Statistics http://www.cbs.gov.il/www/mifkad/mifkad_2008/profiles/rep_e_000000.pdf। সংগৃহীত ২০০৯-১০-২৬  |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ ৫.৩ "Israel"। International Monetary Fund। সংগৃহীত ২০১৬-১০-০১ 
  6. "Gini Index" 
  7. "Human Development Report 2015."। The United Nations। সংগৃহীত ২০১৬-১০-১০ 
  8. [১]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]