জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মাওলানা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ বালখী
مولانا جلال‌الدین محمد بلخی

জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি
İzmir Buca Mevlana heykeli ve mesire alanı 5.jpg
তুরস্কের বুকাতে রুমির ভাস্কর্য
উপাধি মাওলানা, মৌলভী
জন্ম ১২০৭
ওয়াখশ অথবা বাল্‌খ,[১][২][৩][৪] খোয়ারিজমীয় সাম্রাজ্য
মৃত্যু ১৭ ডিসেম্ভর ১২৭৩(৬৫-৬৬ বছর)
কোনিয়া, রুম সালতানাত
সমাধি স্থান কোনিয়া, রুম সালতানাত
জাতিভুক্ত ফরাসি
যুগ ইসলামি স্বর্ণযুগ
অঞ্চল

খোয়ারিজমীয় সাম্রাজ্য (বাল্‌খ: ১২০৭-১২১২, ১২১৩-১২১৭; সমরখন্ডঃ ১২১২-১২১৩)[৫][৬]

রুম সালতানাত(মালাত্তাঃ১২১৭-১২১৯; আঁকশিরঃ১২১৯-১২২২; লারেন্ডেঃ ১২২২-১২২৮; কোনিয়াঃ ১২২৮-১২৭৩)[৫]
শাখা সুন্নি ইসলাম, সুফিবাদ, তাঁর অনুগামিগণ মৌলভী তরিকা অনুসরণ করেন।
মূল আগ্রহ সুফি সাহিত্য, হানাফী আইনশাস্ত্র
উল্লেখযোগ্য ধারণা সুফি উপাবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ
লক্ষণীয় কাজ মসনবি শরীফ, দেওয়ান-এ-শামস্‌-এ-তাবরিজি, ফিহি মা ফিহি

জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি (ফার্সি ভাষায়: جلال‌الدین محمد رومی)(১২০৭ – ১৭ডিসেম্বর ১২৭৩), অথবা পরিচিত আছেন জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ বালখী, মাওলানা রুমি, মৌলভি রুমি নামে তবে শুধু মাত্র রুমি নামে বেশি জনপ্রিয়। তিনি ছিলেন ১৩ শতকের একজন ফার্সি[৭][৮] সুন্নি[৯] মুসলিম কবি, আইনজ্ঞ, ইসলামি ব্যক্তিত্ব, ধর্মতাত্ত্বিক, অতীন্দ্রিবাদী, সুফী।[১০] রুমির প্রভাব সীমানা এবং জাতি ছাড়িয়ে গিয়ছেঃ ফার্সি, তাজাকিস্তানী, তুর্কি, গ্রীক, পাস্তুন, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার মুসলামানরা গত সাত দশক ধরে বেশ ভালভাবেই তাঁর আধ্যাত্নিক উত্তরাধিকারকে যথাযথভাবে সমাদৃত করে আসছে।[১১]

তাঁর কবিতা সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণীতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। রুমিকে যুক্তরাষ্ট্রের “সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি” [১২] এবং “বেস্ট সেলিং পয়েট” বলা হয়।[১৩][১৪] রুমির কাজ বেশিরভাগই ফার্সি ভাষায় লেখা, কিন্তু মাঝেমধ্যে তিনি স্তবকগুলোতে তুর্কি, আরবি এবং গ্রীক ভাষা[১৫][১৬][১৭] ব্যাবহার করেছেন। [১৮][১৯] তাঁর লেখা “মসনবী” কে ফার্সি ভাষায় লেখা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসাবে তুলনা করা হয়।[২০][২১] এখনও তাঁর লেখাসমূহকে মূল ভাষায় ব্যাপকভাবে পড়া হয় ইরান সম্রাজ্য এবং বিশ্বের ফার্সি ভাষার লোকেরা।[২২][২৩] অনুবাদসমূহও খুব জনপ্রিয়, বিশেষ করে তুর্কি, আজারবাইজান, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ায়।[২৪] তাঁর কবিতা ফার্সি সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছে, শুধু তাই নয় তুর্কি সাহিত্য, উসমানীয় তুর্কি সাহিত্য, আজারবাইজান সাহিত্য, পাঞ্জাবের কবিতা, হিন্দী সাহিত্য, উর্দু সাহিত্যকেও অনেক প্রভাবিত করেছে। এছাড়াও অন্যান্য ভাষার সাহিত্য যেমন তুর্কিচ, ইরানী, ইন্দো-আর্য, চাগাতাই, পাশতো এবং বাংলা সাহিত্য ও বাংলাকে প্রভাবিত করেছে।

নাম[সম্পাদনা]

তাঁকে ইংরেজীতে সবচেয়ে বেশি ডাকা হয় “রুমি” নামে। তাঁর পুরো নাম “জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ বালখী” বা “জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি”। বালখী এবং রুম দুটো তাঁর জাতিগত নাম অর্থাৎ “বালখ্‌” থেকে এবং “রুম” থেকে(রুম আনাতোলিয়ার ফার্সি এবং তুর্কি নাম)যথাক্রমে। রুমির নির্ভরযোগ্য জীবনিলেখক ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এর ফ্রাঙ্কলিন লুইস এর মতে আনাতোলিয়া উপদ্বীপ ছিল বাইজেন্টাইন বা রুম সম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিল যেটি পরবর্তীতে তুর্কির মুসলিমদের দখলে আসে, যেটি এখন পর্যন্ত আরব, পারস্য এবং তুর্ক নামে পরিচিত, যেটি ছিল রুম এর ভৌগলিক এলাকা। যেখানে অনেক ঐতিহাসিক ব্যাক্তিত্ত জন্মগ্রহণ করেছেন রুমি ছিলেন তাদেরই একজন। “রুমি” শব্দটি মূলত আরবিক যার অর্থ রোমান।[২৫] তবে তিনি ব্যাপকভাবে তাঁর উপনাম “মাওলানা” নামে পরিচিত।[৫][৭] মাওলানা একটি আরবিক শব্দ যার অর্থ হচ্ছে শিক্ষক।

জীবনী[সম্পাদনা]

জালাল উদ্দিন রুমি সূফী অধ্যাত্মবাদীদের সাথে জড় হয়ছেন
উভয়পৃষ্ঠা অঙ্কিত প্রচ্ছদ, প্রথম বই কবিতা সংকলন “মসনবী”, ১৪৬১ পাণ্ডুলিপি
রুমির কবিতা খচিত প্রতিবিম্ভ পেয়ালা, ১৩শতকের প্রথমদিকে।ব্রকলিন মিউজিয়াম

রুমি জন্মগ্রহণ করেন স্থানীয় ফার্সি ভাষী মাতাপিতার কাছে,[১৮][১৯][২৬] যারা মুলত বালখ্‌ এর বাসিন্দা যা বর্তমানে আফগানিস্থান। তিনি হয় ওয়ালখ্‌স [২] যা বৃহৎ বালখ্‌ সম্রাজ্যের বালখ্‌স নদীর কাছে একটি গ্রাম যেটি বর্তমানে তাজাকিস্তান,[২] অথবা তিনি বালখ্‌ শহরে বর্তমান আফগানিস্থান এ জন্মগ্রহণ করেন।[৩][৪] বৃহৎ বালখ্‌ তখন ছিল ফার্সি সংস্কৃতি[২১][২৬][২৭] সূফী চর্চার মধ্যবিন্দু। যেটি বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রুমির পিতা ছাড়াও রুমির উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন তখনকার ফার্সি কবি আত্তার এবং সানাই।[২৮] রুমি তাঁদের গুণগ্রাহিতা করেছেনঃ “আত্তার হচ্ছে আত্না, সানাই হচ্ছেন তাঁর দু’চোখ, এবং সময় এরপরে, আমরা তাঁদের ট্রেনে ছিলাম”[২৯] এবং আরেকটি কবিতাতে স্মৃতিচারণ করেছেন “আত্তার ভালবাসার সাতটি নগরই ভ্রমন করেছেন আর আমি এখনও একটি গলির প্রান্তে অবস্তান করছি”[৩০] তাঁর পৈতৃক দিক থেকে তিনি নাজিম উদ্দিন কুবরা এর বংশদর ছিলেন।[১১] তিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় রুম সালাতানাত এর পারশ্যতে কাটিয়েছেন।[৩১][৩২][৩৩] যেখানে তিনি তাঁর কাজ রচিত করেছেন[৩৪] এবং ১২৭৩ ঈসায়ীতে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁকে কোনিয়ায় সমাহিত করা হয় [৩৫] এবং সেটি এখন একটি তীর্থস্থান হয়ে উঠেছে। রুমির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে সুলতান ওয়ালাদ এবং তাঁর অনুসারীরা “মৌলভী ক্রম” স্থাপন করে, এটিকে ঘূর্ণায়মান দরবেশও বলা হয়, যেটি সুফী নৃত্যে “সামা” এর জন্য বিখ্যাত। তাঁকে তাঁর পিতার কাছে শায়িত করা হয় এবং তাঁর দেহাবশেষ এ একটি জমকাল দরগাহ নির্মাণ করা হয়। শামস উদ্দিন আহমদ আফলাকী এর “মানকিব উল-আরিফিন”(১৩১৮ এবং ১৩৫৩ এর মধ্যে লেখা)তে এর বিস্তারিত রয়েছে। এই ঐতিহাসিক জীবনীগ্রন্থকে অত্যন্ত মূল্যবান বলা হয় কারণ এতে রুমি সম্পর্কে কিংবদন্তী এবং সত্য রয়েছে।[৩৬] উদাহরণস্বরূপ,ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এর প্রফেসর ফ্রাঙ্কলিন লুইস এর লেখা রুমি এর জীবনী গ্রন্থে ইহা সম্পর্কে আলাদা একটি অধ্যায় রয়েছে।[৩৭]

রুমির পিতা বাহা উদ্দিন ওয়ালাদ ছিলেন বালখ্‌ এর একজন ধর্মতাত্ত্বিক, আইনজ্ঞ, এবং একজন অতীন্দ্রিবাদী। যিনি রুমি এর অনুসারীদের কাছে “সুলতান আল-উলামা” নামে পরিচিত। সবচেয়ে জনপ্রিয় জীবনিগ্রন্থ লেখকদের মতে তিনি ছিলেন খলীফা আবু বক্কর আলাইহিস সালাম উনার বংশদর, যদিও আধুনিক গবেষক-পণ্ডিতরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।[৩৭][৩৮][৩৯] মায়ের দিক থেকে খোয়ারিজমীয় বংশদর দাবি করা হয়েছিল রাজবংশের সাথে যুক্ত করার জন্য কিন্তু এ দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয় কালানুক্রমিক এবং ঐতিহাসিক কারণে।[৩৭][৩৮][৩৯] সবচেয়ে সম্পূর্ণ বংশতালিকা করা হয়েছে তাঁর পরবিরারে যা ছয় থেকে সাত প্রজন্ম পর্যন্ত বিস্তৃত যেটি যুক্ত হয়েছে হানাফি ফকীহগণের সাথে।[৩৭][৩৮][৩৯] আমরা বাহা উদ্দিন এর মায়ের দিক থেকে নামের উৎস জানতে পারিনা, কিন্তু শুধুমাত্র তিনি তাঁকে “মামি”(ফার্সি ভাষায় মা এর চলিতরূপ)বলে উল্লেখ করেছেন[৪০] এবং তিনি ছিলেন খুবই সাধারণ একজন মহিলা যিনি ১৩ শতকে বাস করেছেন। রুমি এর মা ছিলেন মুইমিনা খাতুন। তাঁর পারিবারিক কাজ ছিল কয়েক প্রজন্ম ধরে ইসলাম ধর্মের হানাফী মাজহাবের প্রচারণা করা এবং পরিবারের এই ঐতিহ্যকে রুমি এবং সুলতান ওয়ালাদ অব্যাহত রেখেছেন। যখন মঙ্গোল মধ্য এশিয়া দ্বারা আক্রান্ত ১২১৫ এবং ১২২০ সাল এর মধ্যে, বাহা উদ্দিন ওয়ালাদ তাঁর পুরো পরিবার এবং একদল শিষ্য সহ পশ্চিমাভিমুখে রওনা হন। ঐতিহাসিকদের মতে যেটি রুমির শিষ্যদের দ্বারা একমত না, রুমির সাথে তখন পরাসীর সবচেয়ে জনপ্রিয় রহস্য কবি আত্তার এর দেখা হয় ইরানিয়ান শহর “নিশাপুর” এ। আত্তার সাথেসাথেই রুমির আধ্যাত্নিক বৈশিষ্ট চিনতে পেরেছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন রুমি তাঁর পিতার পিছনে হেঁটে যাচ্ছেন এবং বললেন, “একটি হ্রদের পিছনে একটি সমুদ্র যাচ্ছে”। তিনি বালককে একটি বই প্রদান করলেন “আসরারনামা” নামে যেটি ইহজগতে আত্নাকে জড়িয়ে ফেলা সম্বন্ধে। এই সাক্ষাত আঠার বছরের রুমির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং পরবর্তিতে তাঁর কাজের উৎসাহ হিসাবে কাজ করেছে। নিশাপুর থেকে ওয়ালাদ এবং তাঁর লোকজন বাগদাদ এর দিকে রওনা হন এবং অনেক পণ্ডিত ও সূফীদের সাথে সাক্ষাত করেন।[৪১] বাগদাদ থেকে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং মক্কায় হজ্জ পালন করেন। এরপর অভিযাত্রী কাফেলার দলটি দামেস্ক,মালাত্যেয়া, এরজিকান,শিবাস,কায়সেরি এবং নিগদি পাড়ি দেয়। এরপর তাঁরা কারামান এ সাথ বছর থাকে। রুমির মা এবং ভাই উভয়েই সেখানে মারা যায়। ১২২৫ সালে,কারামানে রুমি বিবাহ করেন গওহর খাতুন কে। তাঁদের দুটো ছেলেঃ সুলতাম ওয়ালাদ এবং আলাউদ্দিন চালাবী। যখন তাঁর স্ত্রী মারা যান রুমি পুনরায় বিবাহ করেন এবং তাঁর এক ছেলে, আমির আলিম চালাবী ও এক মেয়ে মালাখী খাতুন। ১২২৮ সালের ১ মে, আনাতোলিয়া শাসক আলাউদ্দিন কায়কোবাদ তাঁদেরকে আমন্ত্রণ জানান, বাহা উদ্দিন আনাতোলিয়া আসেন এবং আনাতোলিয়া এর কোনিয়াতে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন যেটি রুম সালাতানাত এর পশ্চিমাঞ্চল। বাহা উদ্দিন মাদ্রাসা এর প্রধান শিক্ষক হন এবং যখন তিনি মারা যান রুমির বয়স পঁচিশ বছর, উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি তাঁর পিতার পদ পান একজন ইসলামিক মৌলভি হিসাবে। বাহা উদ্দিন এর একজন ছাত্র, সৈয়দ বুরহান উদ্দিন মোহাক্কিক তীরমিযি, রুমিকে শরীয়াহ এবং তরীকা সম্পর্কে শিক্ষা দিতে থাকেন বিশেষ করে তাঁর পিতার দিকগুলো। নয় বছর ধরে তিনি সূফীবাদ শিক্ষা গ্রহণ করেন বুরহান উদ্দিন এর শিষ্য হিসাবে যতদিন না তিনি মারা যান ১২৪০ বা ১২৪১ সালে। এরপর রুমির জনজীবন শুরু হয়ঃ তিনি একজন ইসলামী ফকিহ্‌ বা আইনজ্ঞ হন, ফতওয়া প্রকাশ করেন এবং কোনিয়ার মসজিদে নৈতিকতা বক্তৃতা দিতে থাকেন। তিনি মাদ্রাসাতে একজন মৌলভি হিসাবে কাজ করেন এবং তাঁর অনুগামীদের শিক্ষা দেন। এই সময়কালে রুমি দামেস্ক ভ্রমণ করেন এবং বলা হয়ে থাকে তিনি সেখানে চার বছর অতিবাহিত করেন। দরবেশ শামস তাবরিজি এর সাথে সাক্ষাৎ হয় ১৫ নবেম্ভর ১২৪৪ সালে যেটি তাঁর জীবন সম্পূর্ণরুপে বদলে দেয়। একজন সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষক এবং আইনজ্ঞ থেকে রুমি একজন সাধুতে রূপান্তরিত হন। শামস মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র ভ্রমণ করে খুঁজছেন এবং বলছেন “কে আমার সঙ্গ সহ্য করিবে”। একটি কন্ঠ তাঁকে বলিল, “বিনিময়ে তুমি কি দিবে?” শামস উত্তর দিলেন, “আমার শির!!” কন্ঠটি আবার বলল, “তাহলে তুমি যাকে খুঁজছ সে কোনিয়ার জালাল উদ্দিন”। ১২৪৮ সালের ৫ ডিসেম্বর রাতে রুমি এবং শামস কথা বলছিলেন, এমন সময় কেউ শামসকে পিছনের দরজায় ডাকে। তিনি বের হয়ে যান এবং এরপর আর কোথাও কখনো দেখা যায়নি। গুজব শোনা যায় যে রুমির পুত্র আলাউদ্দিন এর মৌনসম্মতিতে শামসকে হত্যা করা হয়, যদি তাই হয় তাহলে শামস এই রহস্যময় বন্ধুত্তের জন্য তাঁর মাথা দিয়েছেন।[৪২]

শামস এর জন্য রুমির ভালবাসা এবং তাঁর মৃত্যুতে শোকের প্রকাশ তিনি করেছেন “দেওয়ান-এ শামস-এ তাবরিজী” কাব্যগ্রন্থে। তিনি নিজে শামসের খোঁজে বের হয়ে গেছেন এবং দামেস্ক ভ্রমণ করেছেন। সেখানে তিনি বুঝতে পারলেনঃ

রুমি অনায়সে গজল রচনা করতে শুরু করলেন এবং সেগুলো “দেওয়ান-ই কবির” বা দেওয়ান শামস তাবরিজীতে সংগৃহীত করা হয়। রুমি আরেকজন সঙ্গী খোঁজে পান সালা উদ্দিন-ই জারকুব, একজন স্বর্ণকার। সালা উদ্দিন এর মৃত্যুর পর রুমির কেরাণী এবং প্রিয় ছাত্র হুসাম-এ চালাবি রুমির সঙ্গীর ভূমিকা পালন করেন। একদিন তাঁরা কোনিয়ার বাইরে একটি আঙুরক্ষেতে বিচরণ করছিলেন তখন হুসাম রুমিকে একটা ধারণা বললেনঃ “যদি আপনি একটি বই লিখেন যেমন সানাই এর “এলাহিনামা” বা আত্তার এর “মাতিক উত-তাইর” এর মত, যেটি অনেকের সঙ্গ দেবে। তারা আপনার কাজ থেকে হৃদয়পূর্ণ করবে এবং সংগীত রচনা করবে এটিকে সহবর্তমান থাকতে। রুমি মুচকি হাসলেন এবং এক টুকরো কাগজ বের করে তাঁর “মসনবী” এর প্রথম আঠারো লাইন লিখলেন,

হুসাম রুমিকে মিনতি করতে লাগলেন আরো লিখার জন্য। রুমি তাঁর পরের বারটি বছর আনাতোলিয়ায় তাঁর সেরা কাজ “মসনবী” এর ছয়টি খন্ডের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ১২৭৩ সালের ডিসেম্বর এ রুমি অসুস্থবোধ করতে লাগলেন। তিনি তাঁর নিজের মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবং অনেক জনপ্রিয় হওয়া একটি গজল রচনা করেন যার শুরু হয়ঃ

১৭ ডিসেম্বর ১২৭৩ সালে রুমি কোনিয়ায় মারা যান। তাঁকে তাঁর পিতার কাছে সমাহিত করা হয় এবং যেটি একটি চমকপ্রদ ঘর, “ইয়াসিল তুর্ব”(সবুজ সমাধি, قبه الخضراء; যা বর্তমানে মাওলানা মিউজিয়াম), তাঁর কবরের উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর সমাধিফলকে লেখাঃ

জর্জিয়ার রাণী গুরসু খাতুন ছিলেন রুমির উৎসাহদাতা এবং কাছের বন্ধু। তিনি কোনিয়াতে রুমির সমাধি নির্মানে তহবিল প্রদান করেন।[৪৭] ১৩ শতকের মাওলানা মিউজিয়াম সহ তাঁর মসজিদ, থাকার জায়গা, বিদ্যালয় এবং মৌলভি তরীকার অন্যান্য ব্যাক্তিদের সমাধি দেখতে আজকেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম-অমুসলিমরা ছুটে যান। জালাল উদ্দিন যিনি রুমি নামে পরিচিত, তিনি ছিলেন ইসলামের একজন দার্শনিক এবং মরমী। তাঁর উপদেশ সমর্থন করে ভালবাসার মাধ্যমে অসীম পরমতসহিষ্ণুতা, ইতিবাচক যুক্তি, ধার্মিকতা, দানশীলতা এবং সচেতনতা। তিনি এবং তাঁর শিষ্যদের কাছে সকল ধর্মই অধিক বা কম সত্য। মুসলিম, খৃষ্টান এবং ইহুদীকে একই দৃষ্টি দিয়ে দেখেছেন, তাঁর শান্তিপূর্ন এবং সহিষ্ণু শিক্ষাদান বা উপদেশ সকল ধর্মের মানুষের অন্তর স্পর্শ করেছে।

শিক্ষাদান[সম্পাদনা]

“দেওয়ান-এ শামস-এ তাবরেজী” ১৫০৩ সালের একটি পৃষ্ঠার অনুকরণ

রুমি এর শিক্ষার সাধারণ বিষয়বস্তু ছিল অন্যান্য ফার্সি সাহিত্যের মরমী এবং সুফী কবিদের মত তাওহিদ শিক্ষা। তাঁর সাধনা অর্জনের ইচ্ছা এবং আকাঙ্কা প্রতিয়মান হয়ে উঠে তাঁর বই মসনবী এর নিম্নোক্ত কবিতায়ঃ[৪৮]

মসনবী রচিত হয় প্রতিদিনের দৃশ্য, কোরানের আয়াত এবং ব্যাখ্যা, জঠিল এবং বিশাল আধ্যাত্নবাদ থেকে।[৪৯] প্রাচ্যে বলা তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে সে “একজন নবী নয় কিন্তু এটা নিশ্চিত যে সে একটি ধর্মশাস্ত্র নিয়ে এসেছে”। রুমি প্রচন্ডভাবে বিশ্বাস করতেন যে সৃষ্টিকর্তার কাছে পৌছানোর রাস্তা হচ্ছে সঙ্গীত, কবিতা, এবং নৃত্য। রুমির কাছে, সঙ্গীত সাহায্য করে সমস্ত সত্তাকে পবিত্র করতে কেন্দ্রীভূত করে এবং এতই তীব্রভাবে যে আত্না একই সাথে ধ্বংস এবং পুনরুত্থিত হয়। এই ধারণা থেকে সূফী নৃত্য গড়ে উঠে। তাঁর শিক্ষা মৌলভি তরিকার ভিত্তি হয়ে উঠে, যেটি তাঁর ছেলে সুলতান ওয়ালাদ পূর্ণাঙ্গ করে ছিলেন। রুমি “সামা” এর পৃষ্ঠপোষক, এটি সঙ্গীত শোনার মাধ্যেমে পবিত্র ভাবে নর্তন করা। মৌলভি ঐতিহ্যের মধ্যে “সামা” প্রতিনিধিত্ব করে মন এবং ভালবাসার মাধ্যমে একের নিকট আধ্যাত্মিক আরোহণের এক রহস্যময় ভ্রমণ। এই ভ্রমণে অন্বেষক প্রতিকীভাবে সত্যের দিকে ফিরে,ভালবাসা বৃদ্ধি, অহং পরিত্যাগ, সত্যের সন্ধান পায় এবং নির্ভুল একের নিকট পৌছায়। এরপর অন্বেষক আধ্যাত্মিক ভ্রমণ থেকে ফেরে, পরিপক্কতা লাভের মাধ্যমে সৃষ্টিকে ভালবাসতে এবং সেবা করতে।

মসনবীর অন্য একটি স্তবকে রুমি বর্ণনা করেছেন সার্বজনিন ভালবাসার বার্তাঃ

রুমির প্রিয় বাদ্যযন্ত্র ছিল “নে”(এক ধরণের বাঁশি)।[১২]

প্রধান কাজসমূহ[সম্পাদনা]

উসমানীয় যুগের একটি পুঁথি যেখানে রুমি এবং শামস তাবরিজী সম্পর্কে চিত্রিত করা হয়।

রুমির কাব্যকে মাঝেমধ্যে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়ঃ চতুষ্পদী শ্লোক এবং গজল। গদ্যসমূহকে ভাগ করা হয় প্রবন্ধ, পত্র, এবং “সাতটি ধর্মাপদেশ” এ।

কাব্য[সম্পাদনা]

মাতনাওয়ে মানাউয়ি
মাওলানা জাদুঘর,কোনিয়া, তুর্কি
  • রুমির প্রধান কাজ হচ্ছে “মাতনাওয়ে মানাউয়ি”(আধ্যাত্মিক দ্বিপদী; مثنوی معنوی), একটি ছয় খন্ডের কবিতা কয়েকজন সূফী এটিকে বিবেচনা করেন[৫১] ফার্সি ভাষার কুরআন হিসাবে। অনেকে একে তুলনা করেন যে সেরা অতীন্দ্রি়বাদী কবিতার কাজগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে।[৫২] এতে প্রায় ২৭,০০০ লাইনের ফার্সী কবিতা রয়েছে। [৫৩]
  • রুমির আরেকটি প্রধান কাজ হচ্ছে “দেওয়ান-এ-কবির”(“প্রধান কাজ”) বা “দেওয়ান-এ শামস তাবরিজী”(শামস তাবরিজী এর কাজ); دیوان شمس تبریزی), যেটি নামকরণ করা হয় রুমির শিক্ষক শামস তাবরিজীর নামে। এছাড়া এতে ৩৫০০০ ফার্সী দ্বিপদী এবং ২০০০ ফার্সী শ্লোক আছে,[৫৪] এতে ৯০টি গজল এবং ১৯টি শ্লোক আছে আরবি ভাষায়,[৫৫] এছাড়া প্রায় চব্বিশটি দ্বিপদী তুর্কি ভাষায় [৫৬][৫৭] এবং ১৪টি দ্বিপদী গ্রীক ভাষায়।[৫৮][৫৯][৬০]


গদ্য[সম্পাদনা]

  • ফি মা ফি ( এর মধ্যে যা আছে তাই আছে ফার্সীঃ فیه ما فیه) এটি একাত্তরটি আলোচনা এবং বক্তৃতার সংগ্রহ যেটি রুমি তাঁর ছাত্রদের দিয়েছিলেন। এটি প্রণীত হয়েছিল রুমির ছাত্রদের টীকা থেকে তাই রুমি এই বইয়ের সরাসরি লেখক নন।[৬১] এর ফার্সি থেকে ইংরেজি একটি অনুবাদ প্রথম প্রকাশ করেন এজে আরেবেরি “ডিসকোর্স অব রুমি” নামে ১৯৭২ সালে, দ্বিতীয় অনুবাদ বের করেন হুইলার থাকসন “সাইন অব আনসিন” নামে ১৯৯৪ সালে। ফি মা ফির রচনার ধরণ ছিল চলিত ভাষায় এবং এটি ছিল মধ্যভিত্ত পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য এবং বাস্তবধর্মী শব্দের অভাব ছিল।[৬২]
  • মজলিস-এ সভা (সাতটি সভা, ফার্সি: مجالس سبعه) এর মধ্যে সাতটি ফার্সি ধর্মাপদেশ বা বক্তৃতা ছিল যেটি সাতটি ভিন্ন সমাবেশে এ দেয়া হয়েছিল। এই ধর্মাপদেশগুলো ব্যাখ্যা করে কোরআন এবং হাদীসের গভীর অর্থ। এতে আরো বিভিন্ন কবির কবিতা থেকে উক্তি রয়েছে যার মধ্যে আছে সানাই, আত্তার এবং আরো অনেক কবি ও রুমি নিজে। আফলাকি বর্ণনা করেন, শামস এ-তাবরিজী এর পর, রুমি এই ধর্মাপদেশগুলো দেন বিশিষ্টদের অনুরোধে বিশেষ করে সালাহ উদ্দিন জারকুভ। ফার্সি এর ধরণ একদম সাধারণ কিন্তু আরবী উক্তি এবং ইতিহাসের জ্ঞান ও হাদীসসমূহ প্রদর্শন করে ইসলামী বিজ্ঞানের প্রতি রুমির জ্ঞানকে।[৬৩]
  • মাকাতিব (চিঠিসমূহ , ফার্সি: مکاتیب) এই মধ্যে রুমির চিঠি ফার্সিতে যেগুলো তিনি তাঁর ছাত্রদের, পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় ব্যাক্তিবর্গ এবং অন্যান্য প্রভাবশালীদের কাছে দিয়েছিলেন। চিঠিগুলো সাক্ষ্য দেয় যে রুমি বেশ ব্যাস্ত ছিলেন তাঁর পরিবারে সদস্যদের সাহায্যে এবং তদারিক করেছেন তাঁর আশে পাশে বেড়ে উঠা শিষ্যদের। তাঁর পূর্বের দুটি কাজের সাথে এটি অসদৃশ, চিঠিগুলো সজ্ঞানে বাস্তবধর্মী এবং পত্রসম্বন্ধীয়, যেগুলো সাধারণত সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তিবর্গ, কূটনীতিবিদ এবং রাজাদের কাছে লেখা।[৬৪]

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি[সম্পাদনা]

এটা অনস্বীকার্য যে রুমি ছিলেন একজন মুসলিম পণ্ডিত এবং ইসলামকে তিনি গম্ভীরভাবে নিয়েছেন। তবুও, তার আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা সম্প্রসারিত হয়েছে সীমিত সাম্প্রদায়িক সংস্পর্শে। তার একটি কবিতায়ঃ

[৬৫]

পবিত্র কোরআন অনুযায়ী, হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সৃষ্টিকর্তা পাঠিয়েছেন সকল সৃষ্টির জন্য, যার মধ্যে সমগ্র মানবাজাতি রয়েছে।[৬৬] এ সম্পর্কে রুমি বলেনঃ

"মুহাম্মদের আলো কোন অগ্নিপুজারি বা ইহুদিকে পরিত্যাগ করে না। তাঁর সৌভাগ্যের ছায়া যেন সবার উপর উজ্জ্বল হয়! তিনি সুপথে নিয়ে আসেন যারা পথভ্রষ্ট হয়েছিল মরুভূমিতে।"[৬৭]

রুমির অনেক কবিতায় সুপারিশ করে বাহ্যিক ধর্মীয় রীতি এবং কোরাআনের প্রধান স্থানের গুরুত্বকে।[৬৮]

রুমি বলেন

যতক্ষণ পর্যন্ত আমার প্রাণ আছে আমি কোরআনের দাস।
আমি মোহাম্মদের রাস্তার ধূলিকণা, নির্বাচিত ব্যাক্তি।
যদি কেউ আমার বলা বাণী ছাড়া অন্য কিছু আমার নামে চালায়,
আমি তাকে ত্যাগ করব সেসকল শব্দের প্রতি ক্ষুব্দ হয়ে। [৭০]

রুমি আরও বলেনঃ

মসনবীর প্রথম পৃষ্ঠায় রুমি বলেনঃ

"হাধা কিতাবুল- মসনবী ওয়া হুয়া উসুলু উসুলি উসুলিদ-দ্বীন ওয়া কাশুশাফুল –কোরআন"
"এই হচ্ছে মসনবী বই, এবং এটি (ইসলাম)ধর্মের মূলের মূলের মূল এবং এটি কোরআনের বর্ণনাকারী।"[৭২]

সাঈদ হুসাইন নাসের বলেনঃ

রুমির সময়কার একজন মহান জীবিত ব্যাক্তিত্ব ছিলেন হাজি হাজরী, তিনি রুমির দেওয়ান এবং মসনবীতে অপ্রকাশিত প্রায় ৬০০০ এর মত পদ্য দেখান, যেগুলো কোরআনের আয়াতের সরাসরি ফার্সী কবিতাতে অনুবাদ।[৭৩]

রুমি দেওয়ান এ বলেন

সুফী হচ্ছে মোহাম্মদকে আবু বকর এর মত আকড়ে ধরা। [৭৪]

রুমি আরো বলেনঃ

“মোহাম্মদের আলো আরো এক হাজার প্রশাখা হল(জ্ঞানের), এক হাজার, যাতে এখনকার জীবন এবং এর পরবর্তী জীবনে এটি সর্বশেষ সীমা পর্যন্ত কবলিত হয়। যদি মোহাম্মদের চেরা থেকে এরকম একটি শাখা খুলে, হাজারও ভিক্ষু এবং যাজক তাদের মিথ্যা বিশ্বাসের দড়িকে তাদের কোমর থেকে ছিঁড়ে ফেলবে।”[৭৫]

তার মসনবীতে রয়েছে কোরআন এবং হাদিসে বর্ণিত উপাখ্যান এবং গল্প, পাশাপাশি প্রতিদিনকার উপকথা।

তাৎপর্য[সম্পাদনা]

রুমির কবিতা ভিত্তি গঠন করে ইরান এবং আফগান সংগীতের। তার কবিতার সমসাময়িক সর্বোত্তম অনুবাদ করেন মোহাম্মদ রেজা সাজারিয়ান, শাহরাম নাজেরি, দাবুদ আজাদ(এই তিন জন ইরানের) এবং উস্তাদ মোহাম্মদ হাশেম চিশতী(আফগানিস্তান)। অনেক আধুনিক পাশ্চ্যাতের লোকদের কাছে সুফিবাদ দর্শন এবং ব্যাবহার পরিচিতিতে তার শিক্ষা হচ্ছে সর্বোত্তম। পশ্চিমা বিশ্বে শাহরাম শিবা প্রায় বিশ বছর ধরে রুমির কবিতা শিক্ষা, প্রতিপাদন, পরিবেশন এবং অনুবাদ করে আসছেন এবং যেটি রুমির ইংরেজি ভাষী দেশসমূহে রুমির তাৎপর্য বিস্তারে সহয়তা করে আসছে। পাকিস্তানের জাতীয় কবি মোহাম্মদ ইকবাল রুমির কাজ দ্বারাই অনুপ্রাণিত, এবং তাকে আত্নিক পথ পদর্শক হিসাবে দেখেন এবং তাকে “পীর রুমি” বলে সম্বোধন করেন তার কবিতাগুলোতে(সম্মানার্থে পীর শব্দটি ব্যাবহৃত হয় যার অর্থ প্রতিষ্ঠাকারী, শিক্ষক কিংবা পথ পদর্শক)[৭৬] শাহরিন শিবা দাবি করেন, “রুমি উচ্চ ব্যাক্তিসত্তা সম্পন্ন এবং মাঝেমধ্যে ব্যাক্তিগত বৃদ্ধি এবং উন্নতির জগতকে গুলিয়ে ফেলেন একটি স্পষ্ট এবং সরাসরি ছন্দে। তিনি কখনো কারো উপর ক্ষুব্দ হন না এবং তিনি সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেন... আজকে রুমির কবিতা গীর্জা, সিনাগগ(ইহুদী ধর্মস্থান), মঠ এ শুনা যায় পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের সংগীত অনুষ্ঠানেও।” প্রফেসর মজিদ এম. নাইনি এর মতে,[৭৭] “রুমির জীবন এবং রুপান্তর সত্যিকারের সাক্ষ্য এবং প্রমাণ যে সকল ধর্মের লোক একসাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে। রুমির দৃষ্টিভঙ্গি, শব্দসমূহ, এবং জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় কিভাবে আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ শান্তি এবং সুখ পাব যাতে করে আমরা ক্রমাগত শত্রুতা এবং ঘৃণার প্রবাহ বন্ধ করতে পারি এবং সত্যিকারের বিশ্ব শান্তি এবং ঐক্য অর্জন করতে পারি।” রুমির কবিতা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে যার মধ্যে রুশ, জার্মান, উর্দু, তুর্কি, আরবী, বাংলা, ফরাসী, ইতালীয়, এবং স্প্যানিশ, এবং উপস্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন ধরণের উপর যার মধ্যে সঙ্গীতানুষ্ঠান, কর্মশালা, অধ্যায়ন, নৃত্যানুষ্ঠান এবং অন্যান্য শৈল্পিক সৃষ্টিতে।[৭৮] সোলেমান বার্খসের করা রুমির কবিতার ইংরেজী অনুবাদ সারা বিশ্বব্যাপী পাঁচ লক্ষেরও বেশি কবি বিক্রিত হয়েছে,[৭৯] এবং যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে পঠিত কবির মধ্যে রুমি অন্যতম।[৮০] শাহরাম শিবার বই “রেন্ডিং দ্য ভেইলঃ লিটারাল এন্ড পয়েটিক ট্রান্সলেশন অব রুমি”(১৯৯৫) বইটি বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন পুরুষ্কার লাভ করে। রুমির কবিতার রেকর্ডিং যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ডের সেরা ২০ এর তালিকায় প্রবেশ করে। মার্কিন লেখকদের বাছাই করা দীপক চোপড়ার সম্পাদনা করা ফেরুদন কিয়া অব রুমি অনুবাদ করা প্রেমের কবিতাগুলো মঞ্চায়ন করেন হলিউড ব্যাক্তিত্বরা যেমন ম্যাডোনা, গোল্ডি হওন, ফিলিপ গ্লাস এবং ডেমি মুর

ভারতে উত্তরাঞ্চলে দর্শনীয় স্থান আছে যেটি রুমি দরজা বা রুমি গেইট নামে পরিচিত, এটি লাখনাও(উত্তর প্রদেশ এর রাজধানী)তে অবস্থিত যেটি রুমির নামে নামকরণ করা হয়।

১৯৮১-১৯৯৪ সালের তুরস্কের ৫০০০ লিরা(টাকা) নোটের পিছনে রুমি এবং তার সমাধিস্তম্ভ

রুমি এবং তার সমাধিস্তম্ভ চিত্রিত করা হয় তুরস্কের ৫০০০ লিরা নোটের পিছনে ১৯৮১-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত।[৮১]

ইরানী বিশ্ব[সম্পাদনা]

پارسی گو گرچه تازی خوشتر است — عشق را خود صد زبان دیگر است

সকল পারশ্যের লোক যদি বলে আরবি ভাষা উত্তম — প্রেম তার পথ খুজে নেবে সকল ভাষার মধ্যে নিজস্ব ভাষায়।

এসকল সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং ভাষাগতভাবে রুমির সাথে ইরানের বন্ধন রুমিকে ইরানের একজন তারকা কবি হিসাবে সৃষ্টি করেছে, গুরুত্বপূর্ন রুমি পণ্ডিতরা যার মধ্যে আছেন ফরুজানফার, নাইনি, শাবজেওয়ারি প্রমুখ এসেছেন আধুনিক ইরান থেকে।[৮২] রুমির কবিতা চিত্রিত করা হয়েছে ইরানের বিভিন্ন শহরের দেয়ালে, গাওয়া হয়েছে ফার্সি সংগীত হিসাবে,[৮২] এবং বিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে পড়া হয়।[৮৩]

মৌলভি সুফী ক্রম[সম্পাদনা]

মৌলভী সুফি ক্রম প্রতিষ্ঠা করেছে রুমির শিষ্যরা ১২৭৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর।[৮৪] তাঁর প্রথম সফলকারী এই ক্রমের ছিলেন “হুসাম চালাবি” নিজে, রুমির ছোট এবং একমাত্র ছেলে সুলতান ওয়ালাদ(মৃত্যু ১৩১২সালে) এর মৃত্যুর পর যিনি “মসনবী রবনামা” বইয়ের জন্য পরিচিত এবং তাকে এই ক্রমের প্রধান করা হয়।[৮৫] তখন থেকে এই ক্রমের নেতৃত্ব কোনিয়ার রুমির পরিবারের মধ্যে রাখা হয় অবিচ্ছেদ্ধ ভাবে।[৮৬] মৌলভী সুফিরা ঘূর্ণায়মান দরবেশ নামে পরিচিত, যারা সামার মাধ্যমে জিকির করে। রুমির সময়ে(“মানকিবুল আরেফিন” কর্তৃক সত্যায়িত) তার শিষ্যরা জমা হতেন সুরেলার জন্য এবং অনুশীলন করত। ঐতিহ্যমতে রুমি নিজে একজন গুরুত্বপূর্ণ সুরকার ছিলেন যিনি রভাব বাজিয়েছেন, যদিও তাঁর প্রিয় বাদ্যযন্ত্র ছিল বাঁশি।[৮৭] সামার সময় যে সুর সহচর হয় তা হচ্ছে “মসনবী” এবং “দেওয়ান-এ কবির” এর কবিতা বা সুলতান ওয়ালাদের কবিতা।[৮৭] উসমানীয় সম্রাজ্যের সময় মৌলভী ক্রম সু-প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং ক্রমের অনেক সদস্যরাই বিভিন্ন সরকারী পদে খেলাফতের সময় দায়িত্ব পালন করেন। মৌলভী ক্রমের কেন্দ্র হচ্ছে কোনিয়ায়। সেখানে একটি মৌলভী আশ্রমও আছে(درگاه, দরগাহ) ইস্তানবুলে গালাতা টাওয়ারের পাশে যেখানে সামা সম্পাদন করা হয় এবং এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। মৌলভী ক্রম সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ করেঃ

 আসো, আসো তুমি যেই হউনা কেন
মুসাফির, নামাজি, সন্যাসী
কিছুই ব্যাপার না।
আমাদের এই ক্যারাভান নিরাশার নয়,
আসো যদিও তোমার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হয়েছে হাজারবার
আসো, আবারো, আসো আসো।[৮৮]

তুরস্কের কোনিয়াতে রুমির সমাধি।

উসমানীয় সম্রাজ্যের সময় মৌলভী ক্রম থেকে উদ্ভূত হয় উল্লেখযোগ্য কবি এবং শিল্পীর যার মধ্যে আছে শেখ গালিব, আনকারার ইসমাইল রুশি দেদে, ইসরার দেদে, হালেত ইফান্দী, এবং গাভসী দেদে, যাদেরকে ইস্তানবুলের গালাতা মৌলভী খানায় সমাহিত করা হয়।[৮৯] সুর, বিশেষ করে বাঁশি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মৌলভী ক্রমে। আধুনিক ভিত্তির সাথে, ধর্মনিরপেক্ষ তুর্কি প্রজাতন্ত্রতে মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক জনগণের নীতি থেকে ধর্ম সরিয়ে ফেলেন এবং এটিকে সীমাবদ্ধ করেন ব্যাক্তিগত ইচ্ছা, আচরণ এবং বিশ্বাসের মধ্যে। ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরের ১৩ তারিখে একটি আইন চালু হয় যেটি সকল খানকা(দরবেশদের থাকার জায়গা) এবং যাওয়াইস(প্রধান দরবেশের থাকার জায়গা)বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শ্রদ্ধার জন্য একটি কেন্দ্র গড়া হয় যেখানে “জিয়ারতের” জন্য যাওয়া হয়। শুধুমাত্র ইস্তানবুলেই ছিল ২৫০টিরও বেশি “টেক্কে” এবং ছোট ছোট কেন্দ্র ছিল বিভিন্ন সমিতির জমায়েতের জন্য। এই আইনটি সুফি ক্রম ভেঙ্গে ফেলে এবং রহস্যময় বা দুর্বোধ্য নাম, উপাধি এবং উপাধি সংক্রান্ত পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়, ক্রমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়, এবং তাদের উৎসব ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আইনটিতে শাস্তির বিধানও রাখা হয় যদি কেউ ক্রমটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্ঠা করে। দুই বছর পর, ১৯২৭ সালে, মাওলানা জাদুঘর নামে একটি জাদুঘর খোলার অনুমতি দেয়া হয় কোনিয়ায়।[৯০]

১৯৫০ দশকে, তুরস্ক সরকার কোনিয়ায় প্রতি বছর একবার ঘূর্ণয়মান দরবেশ পালন করার অনুমতি দেয়। মাওলানা উৎসব প্রতি বছর ডিসেম্বরের দুই সপ্তাহব্যাপী পালিত হয়, এটি তুঙ্গী পায় ১৭ই ডিসেম্বর, মাওলানার উরসে(রুমির মৃত্যু বার্ষিকী), যেটিকে বলা হয় “শবে উরস” (شب عروس) (ফার্সি অর্থ “তরুণ রাত্রি”), যে রাতে রুমি সৃষ্টিকর্তা কাছে পৌছান।[৯১] ১৯৭৪ সালে, ঘূর্ণয়মান দরবেশদের অনুমতি দেয়া হয় প্রথমবারের পশ্চিমে ভ্রমণ করার। ২০০৫ সালে ইউনেস্কো ঘোষণা করে তুরস্কের “মৌলভী সামা উৎসব” “মৌখিক এবং স্পর্শাতীত সেরা শিল্পকর্মের মানুষের ঐতিহ্য”।[৯২]

ধর্মীয় আখ্যা[সম্পাদনা]

এডওয়ার্ড জি. ব্রাউনির মতে তিনজন সবচেয়ে নিগূঢ় ফার্সি কবি হচ্ছেন রুমি, সানাই এবং আত্তার যারা ছিলেন সুন্নি মুসলমান এবং তাদের কবিতা প্রথম দুই খলিফা আবু বকর এবং উমর ইবনুল খাত্তাব এর প্রচুর প্রশংসা করা হয়।[৯৩] আন্নেমারি সিমেল এর মতে, শিয়া কবিদের প্রবণতার মধ্যে অগ্রবর্তী হচ্ছেন নিগূঢ় কবি রুমি এবং আত্তার তাদের নিজস্ব পদে, ১৫০১ সালে সাফাভি সম্রাজ্যের সময় দ্বাদশবাদি শিয়া প্রদেশের ধর্ম হিসাবে পরিচিতির লাভের পরেই শক্তিশালী হয়ে উঠেন।[৯৪]

আটশতম জন্মদিন পালন[সম্পাদনা]

আফগানিস্তানে রুমি “মাওলানা” নামে পরিচিত, তুরস্কে “মওলানা” এবং ইরানে “মৌলভী” নামে পরিচিত। ২০০৭ সালে রুমির জন্মদিন ইউনেস্কোর সহযোগিতায় “শান্তিতে মানুষের মন গঠনের” লক্ষে কার্যনির্বাহী সমিতি এবং সাধারণ সভায় আফগানিস্তান, ইরান এবং তুরুস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি প্রস্তাব করা হয় এবং অনুমোদন দেয়া হয়।[৯৫] ইউনেস্কো এর মধ্যে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ এ স্মৃতিরক্ষা উৎসব পালন করে।[৩] ইউনেস্কো একটি পদক ঘোষণা দেয় রুমির নামে যাতে করে এটি উৎসাহিত করে রুমির উপর গবেষণা এবং যারা রুমির চিন্তা এবং আদর্শ প্রচারণা করছে যেটি ইউনেস্কোর আদর্শিক দায়িত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।[৪]

আফগানিস্তানের সংস্কৃতি এবং যুব মন্ত্রণালয় একটি জাতীয় পরিষদ গঠন করে, যেটি আন্তর্জাতিক দার্শনিক এবং কবিদের জন্মদিন পালন করে সেমিনারের আয়োজন করে এবং জীবনী নিয়ে আলোচনা করে। এতে বুদ্ধিজীবী, কূটনীতিবিদ এবং মাওলানার অনুসারীদের মহাসমাবেশ ঘটে মাওলানার জন্মস্থান বালখ এ এবং এটি অনুষ্ঠিত হয়কাবুলে[৯৬]

২০০৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইরানে স্কুল বেল বাজানো হয় সারাদেশজুড়ে মাওলানাকে সম্মান প্রদর্শনের লক্ষে।[৯৭] একই বছর, ইরানে ২৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত রুমি সপ্তাহ পালন করা হয়। একটি অনুষ্ঠান এবং সম্মেলন তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়, এটি উদ্বোধন করেন ইরানের রাষ্ট্রপতি এবং ইরানের সংসদের চেয়ারম্যান। ঊনত্রিশটি দেশ থেকে পণ্ডিতরা সেখানে যান এবং সম্মেলন ৪৫০টি নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।[৯৮] ইরানি শিল্পী শাহরাম নাজেরিকে “লিজিওন ডি’অনার” দেয়া হয় এবং ২০০৭ সালে ইরানের জাতীয় সংগীত পুরুষ্কার দেয়া হয় রুমির মাষ্টারপিসের উপর তার খ্যাতনামা কাজের জন্য।[৯৯] ইউনেস্কো ২০০৭ সালকে ঘোষণা দেয় “আন্তর্জাতিক রুমি বর্ষ” হিসাবে।[১০০][১০১]

৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ এ, তুরস্কে পালন করা হয় রুমির আটশতম জন্মবার্ষিকী একটি বিশাল ঘূর্ণয়মান দরবেশদের সামার মাধ্যমে যেটি আটচল্লিশটি ক্যামেরা দ্বারা টেলিভিশনে প্রচার করা হয় সরাসরি আটটি দেশে। তুরস্কের সংস্কৃতি এবং পর্যটন মন্ত্রী ইর্তুগাল গুয়ানী বলেন, “তিনশরও বেশি দরবেশ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে বলে ঠিক করা হয়েছে, এটি সামা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হবে।”[১০২]

মাওলানা রুমি পর্যালোচনা[সম্পাদনা]

“মাওলানা রুমি রিভিউ”[১০৩] (আইএসএসএন ২০৪২-৩৩৫৭)বার্ষিকভাবে প্রকাশিত হয় এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি এবং ইরানি চর্চা কেন্দ্র থেকে সাইপ্রাসের নিকোশিয়ার রুমি ইনস্টিটিউট এবং ক্যামব্রিজের আর্কেটাইপ বুকস এর সহযোগিতায়।[১০৪][১০৪] প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে এবং এরপর থেকে প্রতি বছর এটি প্রকাশ করা হয়। সাময়িকীটির প্রধান সম্পাদক লিউনার্দ লিওশিন এর মতেঃ “গুরুত্ব এবং ফলাফল এ দান্তে, শেকসপিয়র এবং মিল্টন এর যদিও কয়েকজন মুসলিম কবি সহজ প্রতিদ্ধন্ধী, পশ্চিমে তারা সাহিত্য খ্যাতি উপভোগ করে কারণ আরবি এবং ফার্সি দার্শনিক, লেখক এবং কবিদের নগণ্য, তুচ্ছ এবং রুচিহীন হিসাবে দেখে ওয়েস্টার্ন ক্যাননের মহা আখ্যানের কাছে। মাওলানা রুমি রিভিউ এর লক্ষ হচ্ছে বিশ্ব সাহিত্যে এসব তাচ্ছিল্যপূর্ণতার অবসান ঘটানো, যেটি পশ্চিমা সাহিত্যের ভুল কল্পনার চেয়েও আরও গভীর।”[১০৫]

গ্যালারী[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. William Harmless, Mystics, (Oxford University Press, 2008), 167.
  2. Annemarie Schimmel, "I Am Wind, You Are Fire," p. 11. She refers to a 1989 article by Fritz Meier: Lewis has devoted two pages of his book to the topic of Wakhsh, which he states has been identified with the medieval town of Lêwkand (or Lâvakand) or Sangtude, which is about 65 kilometers southeast of Dushanbe, the capital of present-day Tajikistan. He says it is on the east bank of the Vakhshâb river, a major tributary that joins the Amu Daryâ river (also called Jayhun, and named the Oxus by the Greeks). He further states: "Bahâ al-Din may have been born in Balkh, but at least between June 1204 and 1210 (Shavvâl 600 and 607), during which time Rumi was born, Bahâ al-Din resided in a house in Vakhsh (Bah 2:143 [= Bahâ' uddîn Walad's] book, "Ma`ârif."). Vakhsh, rather than Balkh was the permanent base of Bahâ al-Din and his family until Rumi was around five years old (mei 16–35) [= from a book in German by the scholar Fritz Meier—note inserted here]. At that time, in about the year 1212 (A.H. 608–609), the Valads moved to Samarqand (Fih 333; Mei 29–30, 36) [= reference to Rumi's "Discourses" and to Fritz Meier's book—note inserted here], leaving behind Baâ al-Din's mother, who must have been at least seventy-five years old."
  3. "UNESCO: 800th Anniversary of the Birth of Mawlana Jalal-ud-Din Balkhi-Rumi"। UNESCO। ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭। সংগৃহীত ২৫ জুন ২০১৪। "The prominent Persian language poet, thinker and spiritual master, Mevlana Celaleddin Belhi-Rumi was born in 1207 in Balkh, presently Afghanistan." 
  4. "UNESCO. Executive Board; 175th; UNESCO Medal in honour of Mawlana Jalal-ud-Din Balkhi-Rumi; 2006"। UNESDOC - UNESCO Documents and Publications। অক্টোবর ২০০৬। সংগৃহীত ২৫ জুন ২০১৪ 
  5. H. Ritter, 1991, DJALĀL al-DĪN RŪMĪ, The Encyclopaedia of Islam (Volume II: C-G), 393.
  6. C. E. Bosworth, 1988, BALḴ, city and province in northern Afghanistan, Encyclopaedia Iranica: Later, suzerainty over it passed to the Qarā Ḵetāy of Transoxania, until in 594/1198 the Ghurid Bahāʾ-al-Dīn Sām b. Moḥammad of Bāmīān occupied it when its Turkish governor, a vassal of the Qarā Ḵetāy, had died, and incorporated it briefly into the Ghurid empire. Yet within a decade, Balḵ and Termeḏ passed to the Ghurids’ rival, the Ḵᵛārazmšāh ʿAlāʾ-al-Dīn Moḥammad, who seized it in 602/1205-06 and appointed as governor there a Turkish commander, Čaḡri or Jaʿfar. In summer of 617/1220 the Mongols first appeared at Balḵ.
  7. Ritter, H.; Bausani, A. "ḎJ̲alāl al-Dīn Rūmī b. Bahāʾ al-Dīn Sulṭān al-ʿulamāʾ Walad b. Ḥusayn b. Aḥmad Ḵh̲aṭībī." Encyclopaedia of Islam. Edited by: P. Bearman, Th. Bianquis, C.E. Bosworth, E. van Donzel and W.P. Heinrichs. Brill, 2007. Brill Online. Excerpt: "known by the sobriquet Mewlānā, persian poet and founder of the Mewlewiyya order of dervishes"
  8. Franklin D. Lewis, "Rumi: Past and Present, East and West: The life, Teaching and poetry of Jalal Al-Din Rumi", Oneworld Publication Limited, 2008 p. 9: "How is that a Pesian boy born almost eight hundred years ago in Khorasan, the northeastern province of greater Iran, in a region that we identify today as n Asia, but was considered in those days as part of the greater Persian cultural sphere, wound up in central Anatolia on the receding edge of the Byzantine cultural sphere"
  9. The Complete Idiot's Guide to Rumi Meditations। Penguin Group। পৃ: ৪৮। 
  10. Annemarie Schimmel, "The Mystery of Numbers",Oxford University Press, Apr 7, 1994. p. 51: "These examples are taken from the Persian mystic Rumi's work, not from Chinese, but they express the yang-yin [sic] relationship with perfect lucidity."
  11. Seyyed Hossein Nasr, "Islamic Art and Spirituality", Suny Press, 1987. p. 115: "Jalal al-Din was born in a major center of Persian culture, Balkh, from Persian speaking parents, and is the product of that Islamic Persian culture which in the 7th/13th century dominated the 'whole of the eastern lands of Islam and to which present day Persians as well as Turks, Afghans, Central Asian Muslims and the Muslims of the Indo-Pakistani subcontinent are heir. It is precisely in this world that the sun of his spiritual legacy has shone most brillianty during the past seven centuries. The father of Jalal al-Din, Muhammad ibn Husayn Khatibi, known as Baha al-Din Walad and entitled Sultan al-'ulama', was an outstanding Sufi in Balkh connected to the spiritual lineage of Najm al-Din Kubra."
  12. Charles Haviland (২০০৭-০৯-৩০)। "The roar of Rumi—800 years on"। BBC News। সংগৃহীত ২০০৭-০৯-৩০ 
  13. "Why is Rumi the best-selling poet in the US?"। BBC Culture। ২০১৪-০৪-১৪। সংগৃহীত ২০১৪-০৪-২২ 
  14. "Rumi Rules"। Time। ২০০২-০৯-২৯। সংগৃহীত ২০১৪-০৪-২২ 
  15. Δέδες, Δ. 1993. Ποιήματα του Μαυλανά Ρουμή. Τα Ιστορικά 10.18-19: 3-22.
  16. Meyer, G. 1895. Die griechischen Verse in Rabâbnâma. Byzantinische Zeitschrift 4: 401-411.
  17. "Untitled Document"uci.edu 
  18. Annemarie Schimmel, The Triumphal Sun: A Study of the Works of Jalaloddin Rumi, SUNY Press, 1993, p. 193: "Rumi's mother tongue was Persian, but he had learned during his stay in Konya, enough Turkish and Greek to use it, now and then, in his verse".
  19. Franklin Lewis: "On the question of Rumi's multilingualism (pages 315–17), we may still say that he spoke and wrote in Persian as a native language, wrote and conversed in Arabic as a learned "foreign" language and could at least get by at the market in Turkish and Greek (although some wildly extravagant claims have been made about his command of Attic Greek, or his native tongue being Turkish") (Lewis 2008:xxi). (Franklin Lewis, "Rumi: Past and Present, East and West: The Life, Teachings and Poetry of Jalal al-Din Rumi", One World Publication Limited, 2008). Franklin also points out that: ”Living among Turks, Rumi also picked up some colloquial Turkish.”(Franklin Lewis, "Rumi: Past and Present, East and West: The Life, Teachings and Poetry of Jalal al-Din Rumi", One World Publication Limited, 2008, p. 315). He also mentions Rumi composed thirteen lines in Greek (Franklin Lewis, "Rumi: Past and Present, East and West: The Life, Teachings and Poetry of Jalal al-Din Rumi", One World Publication Limited, 2008, p. 316). On Rumi's son, Sultan Walad, Franklin mentions: “Sultan Walad elsewhere admits that he has little knowledge of Turkish”(Sultan Walad): Franklin Lewis, "Rumi, "Past and Present, East and West: The Life, Teachings and Poetry of Jalal al-Din Rumi", One World Publication Limited, 2008, p. 239) and “Sultan Valad did not feel confident about his command of Turkish”(Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2000, p. 240)
  20. Louis Gardet, "Religion and Culture" in the The Cambridge History of Islam—Part VIII: Islamic Society and Civilization, edited by P. M. Holt, Ann K. S. Lambton, Bernard Lewis, Cambridge University Press (1977), p. 586: "It is sufficient to mention 'Aziz al-Din Nasafi, Farid al-Din 'Attar and Sa'adi, and above all Jalal al-Din Rumi, whose Mathnawi remains one of the purest literary glories of Persia"
  21. C.E. Bosworth, "Turkmen Expansion towards the west" in UNESCO HISTORY OF HUMANITY, Volume IV, titled "From the Seventh to the Sixteenth Century", UNESCO Publishing / Routledge, p. 391: "While the Arabic language retained its primacy in such spheres as law, theology and science, the culture of the Seljuk court and secular literature within the sultanate became largely Persianized; this is seen in the early adoption of Persian epic names by the Seljuk rulers (Qubād, Kay Khusraw and so on) and in the use of Persian as a literary language (Turkmen must have been essentially a vehicle for everyday speech at this time). The process of Persianization accelerated in the 13th century with the presence in Konya of two of the most distinguished refugees fleeing before the Mongols, Bahā' al-Dīn Walad and his son Mawlānā Jalāl al-Dīn Rūmī, whose Mathnawī, composed in Konya, constitutes one of the crowning glories of classical Persian literature."
  22. "Interview: 'Many Americans Love Rumi...But They Prefer He Not Be Muslim'"RadioFreeEurope/RadioLiberty। সংগৃহীত আগস্ট ১৪, ২০১২ 
  23. "Asia Times Online :: Middle East News, Iraq, Iran current affairs"atimes.com 
  24. "Dîvan-i Kebîr Jalāl al-Dīn Rūmī"। সংগৃহীত ২৭ এপ্রিল ২০১৪ 
  25. Franklin Lewis (২০০৮)। Rumi: Past and Present, East and West: The Life, Teachings and Poetry of Jalal al-Din Rumi। One World Publication Limited। পৃ: ৯। 
  26. Seyyed Hossein Nasr, "Islamic Art and Spirituality", Suny Press, 1987. p. 115: "Jalal al-Din was born in a major center of Persian culture, Balkh, from Persian speaking parents, and is the product of that Islamic Persian culture which in the 7th/13th century dominated the 'whole of the eastern lands of Islam and to which present day Persians as well as Turks, Afghans, Central Asian Muslims and the Muslims of the Indo-Pakistani and the Muslims of the Indo-Pakistani subcontinent are heir. It is precisely in this world that the sun of his spiritual legacy has shone most brilliantly during the past seven centuries. The father of Jalal al-Din, Muhammad ibn Husayn Khatibi, known as Baha al-Din Walad and entitled Sultan al-'ulama', was an outstanding Sufi in Balkh connected to the spiritual lineage of Najm al-Din Kubra."
  27. Franklin D. Lewis, "Rumi: Past and Present, East and West: The life, Teaching and poetry of Jalal Al-Din Rumi", Oneworld Publication Limited, 2008 p. 9: "How is that a Persian boy born almost eight hundred years ago in Khorasan, the northeastern province of greater Iran, in a region that we identify today as Central Asia, but was considered in those days as part of the greater Persian cultural sphere, wound up in central Anatolia on the receding edge of the Byzantine cultural sphere"
  28. Maqsood Jafrī, "The gleam of wisdom", Sigma Press, 2003. p. 238: "Rumi has influenced a large number of writers while on the other hand he himself was under the great influence of Sanai and Attar.
  29. A. J. Arberry, "Sufism: An Account of the Mystics of Islam",Courier Dover Publications, Nov 9, 2001. p. 141
  30. Seyyed Hossein Nasr, "The Garden of Truth: The Vision and Promise of Sufism, Islam's Mystical Tradition" HarperCollins, Sep 2, 2008. page 130: "Attar has traversed the seven cities of Love, We are still at the turn of one street!"
  31. Grousset, Rene, The Empire of the Steppes: A History of Central Asia, (Rutgers University Press, 2002), 157; "…the Seljuk court at Konya adopted Persian as its official language.".
  32. Aḥmad of Niǧde's "al-Walad al-Shafīq" and the Seljuk Past, A. C. S. Peacock, Anatolian Studies, Vol. 54, (2004), 97; With the growth of Seljuk power in Rum, a more highly developed Muslim cultural life, based on the Persianate culture of the Great Seljuk court, was able to take root in Anatolia
  33. Carter Vaughn Findley, “The Turks in World History”, Oxford University Press, Nov 11, 2004. p. 72: Meanwhile, amid the migratory swarm that Turkified Anatolia, the dispersion of learned men from the Persian-speaking east paradoxically made the Seljuks court at Konya a new center for Persian court culture, as exemplified by the great mystical poet Jelaleddin Rumi (1207–73).
  34. Barks, Coleman, Rumi: The Book of Love: Poems of Ecstasy and Longing, HarperCollins, 2005, p. xxv, আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৬-০৭৫০৫০-৩
  35. Note: Rumi's shrine is now known as the Mevlâna Museum in Turkey
  36. Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2000.
  37. Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2008 (revised edition). pp. 90–92: "Baha al-Din’s disciples also traced his family lineage to the first caliph, Abu Bakr (Sep 9; Af 7; JNO 457; Dow 213). This probably stems from willful confusion over his paternal great grandmother, who was the daughter of Abu Bakr of Sarakhs, a noted jurist (d. 1090). The most complete genealogy offered for family stretches back only six or seven generations and cannot reach to Abu Bakr, the companion and first caliph of the Prophet, who died two years after the Prophet, in C.E. 634 (FB 5–6 n.3)."
  38. H. Algar, “BAHĀʾ-AL-DĪN MOḤAMMAD WALAD“, Encyclopedia Iranica. There is no reference to such descent in the works of Bahāʾ-e Walad and Mawlānā Jalāl-al-Dīn or in the inscriptions on their sarcophagi. The attribution may have arisen from confusion between the caliph and another Abū Bakr, Šams-al-Aʾemma Abū Bakr Saraḵsī (d. 483/1090), the well-known Hanafite jurist, whose daughter, Ferdows Ḵātūn, was the mother of Aḥmad Ḵaṭīb, Bahāʾ-e Walad’s grandfather (see Forūzānfar, Resāla, p. 6). Tradition also links Bahāʾ-e Walad’s lineage to the Ḵᵛārazmšāh dynasty. His mother is said to have been the daughter of ʿAlāʾ-al-Dīn Moḥammad Ḵārazmšāh (d. 596/1200), but this appears to be excluded for chronological reasons (Forūzānfar, Resāla, p. 7)
  39. (Ritter, H.; Bausani, A. "ḎJalāl al- Dīn Rūmī b. Bahāʾ al-Dīn Sulṭān al-ʿulamāʾ Walad b. Ḥusayn b. Aḥmad Ḵhaṭībī ." Encyclopaedia of Islam. Edited by: P. Bearman, Th. Bianquis, C.E. Bosworth, E. van Donzel and W.P. Heinrichs. Brill, 2009. Brill Online. Excerpt: "known by the sobriquet Mawlānā (Mevlâna), Persian poet and founder of the Mawlawiyya order of dervishes"): "The assertions that his family tree goes back to Abū Bakr, and that his mother was a daughter of the Ḵhwārizmshāh ʿAlāʾ al-Dīn Muḥammad (Aflākī, i, 8–9) do not hold on closer examination (B. Furūzānfarr, Mawlānā Ḏjalāl Dīn, Tehrān 1315, 7; ʿAlīnaḳī Sharīʿatmadārī, Naḳd-i matn-i mathnawī, in Yaghmā, xii (1338), 164; Aḥmad Aflākī, Ariflerin menkibeleri, trans. Tahsin Yazıcı, Ankara 1953, i, Önsöz, 44).")
  40. Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2008 (revised edition). p. 44:“Baha al-Din’s father, Hosayn, had been a religious scholar with a bent for asceticism, occupied like his own father before him, Ahmad, with the family profession of preacher (khatib). Of the four canonical schools of Sunni Islam, the family adhered to the relatively liberal Hanafi rite. Hosayn-e Khatibi enjoyed such renown in his youth—so says Aflaki with characteristic exaggeration—that Razi al-Din Nayshapuri and other famous scholars came to study with him (Af 9; for the legend about Baha al-Din, see below, “The Mythical Baha al-Din”). Another report indicates that Baha al-Din’s grandfather, Ahmad al-Khatibi, was born to Ferdows Khatun, a daughter of the reputed Hanafite jurist and author Shams al-A’emma Abu Bakr of Sarakhs, who died circa 1088 (Af 75; FB 6 n.4; Mei 74 n. 17). This is far from implausible and, if true, would tend to suggest that Ahmad al-Khatabi had studied under Shams al-A’emma. Prior to that the family could supposedly trace its roots back to Isfahan. We do not learn the name of Baha al-Din’s mother in the sources, only that he referred to her as “Mama” (Mami), and that she lived to the 1200s.” (p. 44)
  41. Ahmed, Nazeer, Islam in Global History: From the Death of Prophet Muhammed to the First World War, p.58, Xlibris Corporation (2000), আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৩৮৮-৫৯৬২-০
  42. "Hz. Mawlana and Shams"semazen.net 
  43. The Essential Rumi, অনুবাদ-জান্নাতুন নাহার রিয়া
  44. Helminski, Camille। "Introduction to Rumi: Daylight"আসল থেকে জুলাই ১৬, ২০১১-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৭-০৫-০৬ 
  45. Nasr, Seyyed Hossein (১৯৮৭)। Islamic Art and Spirituality। SUNY Press। পৃ: ১২০। আইএসবিএন 978-0-88706-174-5 
  46. Mevlâna Jalal al-din Rumi
  47. H. Crane "Notes on Saldjūq Architectural Patronage in Thirteenth Century Anatolia," Journal of the Economic and Social History of the Orient, v. 36, n. 1 (1993), p. 18.
  48. Mahmudul Hasan Hemal (অক্টোবর ১৫, ২০১৫)। "Jalal ad Din Muhammad Rumi: A home for the wayfarer"Dhakacourier 
  49. Maulana Rumi (২৫ মে ২০১১)। The Masnavi I Ma'navi of Rumi: Complete 6 Books। CreateSpace। আইএসবিএন 978-1-4635-1016-9। সংগৃহীত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  50. Naini, MajidThe Mysteries of the Universe and Rumi's Discoveries on the Majestic Path of Love 
  51. Abdul Rahman notes:

    (Khawaja Abdul Hamid Irfani, "The Sayings of Rumi and Iqbal", Bazm-e-Rumi, 1976.)

  52. J.T.P. de Bruijn, "Comparative Notes on Sanai and 'Attar", The Heritage of Sufism, L. Lewisohn, ed., p. 361: "It is common place to mention Hakim Sana'i (d. 525/1131) and Farid al-Din 'Attar (1221) together as early highlights in a tradition of Persian mystical poetry which reached its culmination in the work of Mawlana Jalal al-Din Rumi and those who belonged to the early Mawlawi circle. There is abundant evidence available to prove that the founders of the Mawlawwiya in the thirteenth and fourteenth centuries regarded these two poets as their most important predecessors"
  53. Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2008 (revised edition). p. 306: "The manuscripts versions differ greatly in the size of the text and orthography. Nicholson’s text has 25,577 lines though the average medieval and early modern manuscripts contained around 27,000 lines, meaning the scribes added two thousand lines or about eight percent more to the poem composed by Rumi. Some manuscripts give as many as 32,000!"
  54. Franklin D. Lewis, Rumi: Past and Present, East and West: The Life, Teaching, and Poetry of Jalâl al-Din Rumi, rev. ed. (2008). p. 314: “The Foruzanfar’s edition of the Divan-e Shams compromises 3229 ghazals and qasidas making a total of almost 35000 lines, not including several hundred lines of stanzaic poems and nearly two thousand quatrains attributed to him”
  55. Dar al-Masnavi Website, accessed December 2009: According to the Dar al-Masnavi website: “In Forûzânfar's edition of Rumi's Divan, there are 90 ghazals (Vol. 1, 29;Vol. 2, 1; Vol. 3, 6; Vol. 4, 8; Vol. 5, 19, Vol. 6, 0; Vol. 7, 27) and 19 quatrains entirely in Arabic. In addition, there are ghazals which are all Arabic except for the final line; many have one or two lines in Arabic within the body of the poem; some have as many as 9–13 consecutive lines in Arabic, with Persian verses preceding and following; some have alternating lines in Persian, then Arabic; some have the first half of the verse in Persian, the second half in Arabic.”
  56. Mecdut MensurOghlu: “The Divan of Jalal al-Din Rumi contains 35 couplets in Turkish and Turkish-Persian which have recently been published me” (Celal al-Din Rumi’s turkische Verse: UJb. XXIV (1952), pp. 106–115)
  57. Franklin D. Lewis, Rumi: Past and Present, East and West: The Life, Teaching, and Poetry of Jalâl al-Din Rumi, rev. ed. (2008): "“a couple of dozen at most of the 35,000 lines of the Divan-I Shams are in Turkish, and almost all of these lines occur in poems that are predominantly in Persian”"
  58. Dedes, D. 1993. Ποίηματα του Μαυλανά Ρουμή [Poems by Rumi]. Ta Istorika 10.18–19: 3–22.
  59. http://www.tlg.uci.edu/~opoudjis/Play/rumiwalad.htm
  60. Franklin D. Lewis, Rumi: Past and Present, East and West: The Life, Teaching, and Poetry of Jalâl al-Din Rumi, rev. ed. (2008): "Three poems have bits of demotic Greek; these have been identified and translated into French, along with some Greek verses of Sultan Valad. Golpinarli (GM 416–417) indicates according to Vladimir Mir Mirughli, the Greek used in some of Rumi’s macaronic poems reflects the demotic Greek of the inhabitants of Anatolia. Golpinarli then argues that Rumi knew classical Persian and Arabic with precision, but typically composes poems in a more popular or colloquial Persian and Arabic.".
  61. Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West — The Life, Teachings, and Poetry of Jalal al-Din Rumi, Oneworld Publications, 2000, Chapter 7.
  62. “As Safa points out (Saf 2:1206) the Discourse reflect the stylistics of oral speech and lack the sophisticated word plays, Arabic vocabulary and sound patterning that we would except from a consciously literary text of this period. Once again, the style of Rumi as lecturer or orator in these discourses does not reflect an audience of great intellectual pretensions, but rather middle-class men and women, along with number of statesmen and rulers”” (Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2008 (revised edition). p. 292)
  63. Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2008 (revised edition). p. 293
  64. Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2008 (revised edition). p. 295:“In contrast with the prose of his Discourses and sermons, the style of the letters is consciously sophisticated and epistolary, in conformity with the expectations of correspondence directed to nobles, statesmen and kings"
  65. Rumi: 53 Secrets from the Tavern of Love, trans. by Amin Banani and Anthony A. Lee, p. 3
  66. Verse (21:107) - English Translation 
  67. Ibrahim Gamard। Rumi and Islam। পৃ: ১৬৩। 
  68. Lewis 2000, পৃ. 407–408
  69. Lewis 2000, পৃ. 408
  70. Ibrahim Gamard। Rumi and Self Discovery। Dar al Masnavi। 
  71. Ibrahim Gamard (২০০৪)। Rumi and Islam। SkyLight Paths। পৃ: ১৬৯। 
  72. About the Masnavi। Dar Al-Masnavi। 
  73. Seyyed Hossein Nasr, "Rumi and the Sufi Tradition," in Chelkowski (ed.), The Scholar and the Saint, p. 183
  74. Quoted in Ibrahim Gamard, Rumi and Islam: Selections from His Stories, Poems, and Discourses — Annotated and Explained, p. 171.
  75. Ibrahim Gamard। Rumi and Islam। পৃ: ১৭৭। 
  76. Said, Farida। "REVIEWS: The Rumi craze"আসল থেকে ২০০৭-০৯-২৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২০০৭-০৫-১৯ 
  77. "index"naini.net 
  78. "Rumi Network by Shahram Shiva -- The World's Most Popular Website on Rumi"rumi.net 
  79. "University of Tehran"ut.ac.ir 
  80. Curiel, Jonathan, San Francisco Chronicle Staff Writer, Islamic verses: The influence of Muslim literature in the United States has grown stronger since the Sept. 11 attacks (February 6, 2005), Available online (Retrieved Aug 2006)
  81. Central Bank of the Republic of Turkey. Banknote Museum: 7. Emission Group—Five Thousand Turkish Lira—I. Series, II. Series & III. Series. Retrieved on 20 April 2009. ওয়েবচাইট এ আর্কাইভকৃত ২ জুন ২০০৯
  82. Franklin Lewis, Rumi: Past and Present, East and West, Oneworld Publications, 2000.
  83. See for example 4th grade Iranian school book where the story of the Parrot and Merchant from the Mathnawi is taught to students
  84. "Sufism"gmu.edu 
  85. ISCA—The Islamic Supreme Council of America ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত আর্কাইভ কপি
  86. "Mevlâna Celâleddin Rumi"। সংগৃহীত ২০০৭-০৫-১৯ 
  87. "About the Mevlevi Order of America"hayatidede.org 
  88. Hanut, Eryk (২০০০)। Rumi: The Card and Book Pack : Meditation, Inspiration, Self-discovery. The Rumi Card Book। Tuttle Publishing। xiii। আইএসবিএন 978-1-885203-95-3 
  89. Web Page Under Construction
  90. Mango, Andrew, Atatürk: The Biography of the Founder of Modern Turkey, (2002), আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৮৫৬৭-০১১-৬.
  91. Kloosterman Genealogy, Jalal al-Din Muhammad Rumi
  92. The Mevlevi Sema Ceremony UNESCO.
  93. Edward G. Browne, A Literary History of Persia from the Earliest Times Until Firdawsh, 543 pp., Adamant Media Corporation, 2002, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০২১-৬০৪৫-৫, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০২১-৬০৪৫-৫ (see p.437)
  94. Annemarie Schimmel, Deciphering the Signs of God, 302 pp., SUNY Press, 1994, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-১৯৮২-৩, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-১৯৮২-৩ (see p.210)
  95. "Haber, Haberler, Güncel Haberler, Ekonomi, Dünya, Gündem Haberleri, Son Dakika, - Zaman Gazetesi"zaman.com 
  96. "Ministry of Foreign Affairs"mfa.gov.af 
  97. همشهری آنلاین
  98. Int'l congress on Molana opens in Tehran
  99. Iran Daily — Arts & Culture — 10/03/06 ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত আর্কাইভ কপি
  100. CHN | News
  101. "Podcast Episode: Living Dialogues: Coleman Barks: The Soul of Rumi (Thought-Leaders in Transforming Ourselves and Our Global Community with Duncan Campbell, Visionary Conversationalist, Living Dialogues.com"personallifemedia.com 
  102. tehrantimes.com, 300 dervishes whirl for Rumi in Turkey
  103. "Mawlana Rumi Review"facebook.com 
  104. "archetypebooks.com"archetypebooks.com 
  105. Lewisohn, Leonard। "Editor’s Note"Mawlana Rumi Review 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]