জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি
Molana.jpg
যুগ মধ্যযুগ (১১০০খ্রিষ্টাব্দ- ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ)
অঞ্চল পারস্য মুসলিম দার্শনিক
ধারা সুফিবাদ
আগ্রহ কবিতা, সামা, সূফী নৃত্য
অবদান Persian poetry, Ney, Persian philosophy, Sufi philosophy, and Sufi dance

মাওলানা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি[১] (ফার্সি ভাষায়: مولانا جلال الدين محمد رومي‎ ​, তুর্কি: Mevlânâ Celâleddin Mehmed Rumi) ‎ (১২০৭১২৭৩), মাওলানা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ বাল্‌খি নামেও প্ররিচিত (ফার্সি ভাষায়: محمد بلخى‎ ​), কিন্তু বিশ্ব তাকে সংক্ষেপে রুমি নামে জানে। তিনি ত্রয়োদশ শতকের একজন ফার্সি কবি, ধর্মতাত্ত্বিক এবং সুফি দর্শনের শিক্ষক ছিলেন।রুমি খোরাসানের (বর্তমান আফগানিস্তান ) বলখ শহরে ১২০৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ( ৬০৪ হিজরি ৬ই রবিউল আউয়াল ) জন্মগ্রহন করেন । তাঁদের পরিবার ছিল বিশিষ্ট আইনজ্ঞধর্মতত্তবিদ পরিবার । তার পিতা বাহাউদ্দিন ওয়ালাদকে সমসাময়িক "পন্ডিতদের সুলতান" বলে আখ্যায়িত করেছিল । রুমির পিতা ছিলেন একজন বিখ্যাত ধর্মতত্তবিদ,সুফি এবং অতীন্দ্রিয়বাদি যার সাহস, সাধুতা , অন্তরের মহত্ত এবং ঈশ্বরের প্রতি দার্শনিক বা মৌল অভিগমনের পরিবর্তে সরাসরি আধ্যাতিকভাবে সমীপবর্তী হওয়ার বাসনা রুমিকে ভীষণভাবে প্রভাবিত এবং অনুপ্রাণিত করেছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

রুমি যে যুগে জন্মগ্রহন করেন তখন ভয়াবহ এক আলোড়ন চলছিল । অটোম্যান সাম্রাজ্য ভিতরে এবং বাইরে থেকে আক্রান্ত ছিল ; ভিতরে ছিল খ্রিষ্টান আক্রমনকারিরা এবং অপর দিক থেকে চেঙ্গিস খানের মোঙ্গল বাহিনী । এই সামাজিক-রাজনৈতিক আলোড়ন রুমিকে তরুনকাল থেকে আতংক ও বিশৃংখলা দারা দহন করেছিল ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ধর্মীয় বিরুদ্ধবাদীদের বিড়োধিতা এবং সম্বাব্য মোঙ্গল আক্রমণের আশংকায় ১২১৯ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র বার বৎসর বয়সে রুমি তার পিতাসহ বলখ ত্যাগ করেন ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বাহাউদ্দিনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল । এক বৎসর পরেই বলখ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তার দশ বৎসর ধরে এশিয়া মাইনর অ আরবে পরিভ্রমন করেন ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] মক্কার পথে রুমি এবং তার পরিবার নিশাপুরে অবস্থান করেন , সেখানে তাঁদের সাথে বিখ্যাত সুফি কবি আত্তারের সাক্ষাত হয় । আত্তার রুমি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে , " এই বালকটি ভালবাসার অন্তরে একটি দ্বার উদ্ঘাটন করবে ।" রুমিও কখনও আত্তারকে ভুলতে পারেনি , রুমি আত্তার সম্পরকে বলেছেন " আত্তার ভালবাসার সাতটি নগরই ভ্রমন করেছেন আর আমি এখনও একটি গলির প্রান্তে অবস্তান করছি ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] " তার পিতার সঙ্গে ভ্রমনের আরেক পর্যায়ে রুমি দামাস্কাস যান । সেখানে সে যুগের শ্রেস্ট দার্শনিক ইবনুল আরাবীর সাথে দেখা হয় । শোনা যায় ইবনুল আরাবী যখন রুমিকে তার পিতার পিছনে হাঁটতে দেখেন তখন বলেছিলেন " ঈশ্বরের কি মহিমা , একটি হ্রদের পিছনে এক সমুদ্র যাচ্ছে ।"[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] আঠারো বছর বয়সে রুমি সমরখন্দের এক অমাত্যের কন্যা গওহর খাতুনকে বিবাহ করেন এবং কিছুদিনের মধ্যে দুই পুত্র সুলতান ওয়ালদ ও আলাউদ্দিন তিলবির পিতা হন ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]লারান্দা এবং আর্মেনিয়ার আরজানজানে কিছুদিন অবস্থান করার পর রুমির পিতা কোনিয়ার সুলতান আলাউদ্দিন কায়কবাদ দ্বারা আমন্ত্রিত হন । তখন ১২২৯ খ্রিষ্টাব্দ । কোনিয়ায় বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ্দের জন্য বিশেষভাবে এক বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১২৩১ খ্রিষ্টাব্দে তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানে শিক্ষাদান করেন । পরবর্তীকালে মাত্র চব্বিশ বৎসর বয়সে রুমি সেই বিদ্যাপীঠে তার পিতার উত্তরসূরী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Transliteration of the Arabic alphabet into English varies. One common transliteration is Mowlana Jalaluddin Rumi. The usual brief reference to him is simply Rumi.