ওহী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ওহী বা ওয়াহী (আরবি: وحي‎‎) শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, এমন সূক্ষ্ম ও গোপন ইশারা, যা ইশারাকারী ও ইশারা গ্রহণকারী ছাড়া তৃতীয় কেউ টের পায় না। এ সম্পর্কের ভিত্তিতে এ শব্দটি ইলকা বা মনের মধ্যে কোনো কথা নিক্ষেপ করা ও ইলহাম বা গোপনে শিক্ষা ও উপদেশ দান করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। ব্যবহারিক ভাবে ওহী দ্বারা ইসলামে আল্লাহ কর্তৃক রাসূলদের প্রতি প্রেরিত বার্তা বোঝানো হয়। কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে,

"নিশ্চয় আমি তোমার নিকট ওহী পাঠিয়েছি, যেমন ওহী পাঠিয়েছি নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের নিকট এবং আমি ওহী পাঠিয়েছি ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া‘কূব, তার বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ূব, ইউনুস, হারূন ও সুলায়মানের নিকট এবং দাঊদকে প্রদান করেছি যাবূর।"[কুরআন 4:163]

অন্য আয়াতে বলা হয়,

"কোনো মানুষের এ মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম, পর্দার আড়াল অথবা কোনো দূত পাঠানো ছাড়া। তারপর আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যা চান তাই ওহী প্রেরণ করেন। তিনি তো মহীয়ান, প্রজ্ঞাময়।"[কুরআন 42:51]

এই আয়াতে অহীর তিনটি প্রকারের কথা বর্ণিত হয়েছে।

  1. অন্তরে কোনো কথা প্রক্ষিপ্ত করা (ঢুকিয়ে দেয়া) অথবা স্বপ্নে বলে দেয়া এই প্রত্যয়ের সাথে যে, তা আল্লাহরই পক্ষ হতে।
  2. পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি কথা বলা। যেমন, মূসা -এর সাথে তুর পাহাড়ে বলা হয়েছিল।
  3. মালাকের (দূত) মাধ্যমে অহী প্রেরণ করা। যেমন, জিবরীল অহী নিয়ে আগমন করতেন এবং নবীদেরকে শুনাতেন।[১]

কুরআনে মৌমাছিকে করা ইলহাম বুঝাতেও ওহী শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে,

"আর তোমার রব মৌমাছিকে ইংগিতে জানিয়েছে যে, ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও।’"[কুরআন 16:68]

অন্যস্থানে বলা হয়েছে,

"আর আমি মূসার মায়ের প্রতি নির্দেশ পাঠালাম, তুমি তাকে দুধ পান করাও। অতঃপর যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করবে। আর তুমি ভয় করবে না এবং চিন্তা করবে না। নিশ্চয় আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব’।"[কুরআন 28:7]

বলা হয়েছে, وأوحينا এর মূল হলো, وحي যার শাব্দিক অর্থ হলো, গোপনে কোনো কিছু জানিয়ে দেয়া। এখানে মূসা-জননীকে আল্লাহ্‌ তা‘আলা যে কোনো উপায়ে তাঁর কোনো নির্দেশ পৌঁছানোই উদ্দেশ্য। যে অর্থে কুরআনে নবুওয়তের ওহী ব্যবহার হয়েছে সে অর্থের ওহী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।[২]

ওহী সম্পর্কে ইসলামী পন্ডিত সফি উসমানী মা'আরেফুল কোরআনের ভূমিকায় বলেন, "আল্লাহ তায়ালা থেকে মানবজাতি তিনটি মাধ্যমে ইলম লাভ করে - ইন্দ্রিয় (men's sense), বিবেক (the faculty of reason), এবং ওহীর মাধ্যমে। যার শেষটি শুধুমাত্র নবী রাসুল পেয়ে থাকে। হেদায়াত দানের উদ্দেশ্যে আল্লাহ যুগে যুগে নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন, যার প্রথম ছিলেন আদম, আর সর্বশেষ মোহাম্মদ। আর ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তার বাণী নবী রাসুলদের কাছে অবতীর্ণ করেন। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মুহাম্মাদ শেষ রাসুল বিধায় পৃথিবীতে আর কোনো ওহী আসবে না।"

ওহীর প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

ওহী দু প্রকারের। যথা -

  • 'মাতলু' বা আল কুরআন
  • 'গায়রে মাতলু' বা সুন্নাতে রাসুল

ওহী অবতরণের ধরণ[সম্পাদনা]

উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন,

হারিস ইব্নু হিশাম (রা.) আল্লাহর রসূলকে (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনার নিকট ওয়াহী কিরূপে আসে?’ আল্লাহর রসূল (সা.) বললেন: "কোনো কোনো সময় তা ঘণ্টা বাজার মত আমার নিকট আসে। আর এটি-ই আমার উপর সবচেয়ে বেদনাদায়ক হয় এবং তা শেষ হতেই মালাক (ফেরেশতা) যা বলেন তা আমি মুখস্ত করে নেই, আবার কখনো মালাক মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্ত করে নেই।" ‘আয়িশা (রা.) বলেন, আমি তীব্র শীতের সময় ওয়াহী নাযিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। ওয়াহী শেষ হলেই তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়তো। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ)[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]