ওহী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
"ওহী" শব্দের আভিধানিক অর্থ - ইশারা করা, কোন কিছু লিখিয়া পাঠানো, কোন কথা সহ লোক প্রেরন করা, গোপনে অপরের সাথে কথা বলা, অপরের অজ্ঞাতসারে তাকে কিছু জানাইয়া দেয়া। কোরআন মাজিদে বলা হয়েছে " তখন আল্লাহতায়ালা তাহাদিগকে ইঙ্গিতে বলিলেন যে তোমরা সকাল সন্ধ্যায় তাসবিহ কর"  (১৯:১১)।  অন্যত্র বলেন " কোন মানুষের এ মর্যাদা নেই যে আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম,পর্দার আড়াল, কোন দূত পাঠানো ছাড়া, আল্লাহ'র অনুমতি সাপেক্ষে, তিনি যা চান তাই ওহী করেন" (৪২:৫১)। ব্যবহারিক ভাবে ওহী বা ওয়াহী (আরবি: وحي‎‎) দ্বারা ইসলামে আল্লাহ কর্তৃক রাসূলদের প্রতি প্রেরিত বার্তা বোঝানো হয়।


--ওহীর উদ্দেশ্য--

আল্লহ'র নির্দেশ তাঁর সৃষ্টিকে জানিয়ে দেয়া, হোক তা জড় কিংবা জীব। কোরআন মাজিদে তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। যেমন " আকাশের উপর ওহী করা হয়, সে অনুযায়ী তার সমগ্র ব্যবস্হা পরিচালিত। "( হা-মিম-সাজদাহ,আয়াত ১২)

অন্যত্র বলা হয়েছে, " মৌমাছিদেরকেও ওহীর মাধ্যমে পাহাড়গুলোতে তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করা শিখানো হয়।" (আল নাহল আয়াত -৬৮)।

সাধারন মানুষকেও ওহী করা হয়, " এবং আমি মুসার (আঃ) মায়ের অন্তরে একথা উদয় করে দিয়েছি যে, তুমি তাকে স্তন্য প্রদান কর, অতঃপর তাঁর সম্পর্কে যখন কিছু আশংকা দেখ,তখন তাঁকে নদীতে নিক্ষেপ কর, আর তুমি ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়োনা।" ( আল কাসাস, আয়াত-৭)

এ সকল ওহী এবং নবী, রাসূলদের উপর যে ওহী অবতীর্ণ হয়, তার মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। নবী রাসূলগন জানেন যে, তাদের উপর যে ওহী অবতীর্ণ হয়েছে তা আল্লাহ'র পক্ষ থেকে এবং তা সত্য ও অভ্রান্ত। ওহী সম্পর্কে ইসলামী পন্ডিত সফি উসমানী মা'আরেফুল কোরআনের ভূমিকায় বলেন " আল্লাহ তায়ালা থেকে মানবজাতি তিনটি মাধ্যমে ইলম লাভ করে - ইন্দ্রিয় (men's sense), বিবেক (the faculty of reason), এবং ওহীর মাধ্যমে। যার শেষটি শুধুমাত্র নবী রাসুল পেয়ে থাকে। হেদায়াত দানের উদ্দেশ্যে আল্লাহ যুগে যুগে নবী রাসুল প্রেরন করেছেন, যার প্রথম ছিলেন আদম (আঃ), আর সর্বশেষ মোহাম্মদ (সাঃ) । আর ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তার বাণী নবী রাসুলদের কাছে অবতীর্ণ করেন। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মুহাম্মাদ (সা) শেষ রাসুল বিধায় পৃথিবীতে আর কোনো ওহী আসবে না।

--ওহীর প্রকারভেদ --

ওহী দু প্রকারের, যার প্রথমটি 'মাতলু'- আল কোরআন-আল্লাহ'র বানী। দ্বিতীয়টি 'গায়রে মাতলু' বা সুন্নাতে রাসুল, যার বিষয়বস্তু আল্লাহ'র, কথা নবীর।


ওহী অবতরনের ধরনঃ

মূল ধারার আলেমদের দৃষ্টিতে---

মুসলিম আলেমদের মতে, ওহী বিভিন্ন ভাবে অবতীর্ণ হত। যথা: ঘন্টা ধ্বনির মাধ্যমে- এ প্রকারের ওহী অবতরণ ছিল সবচেয়ে কষ্টকর। এ সময় তীব্র শীতে নবীর শরীর থেকে ঘাম ঝরে পড়ত। তার দেহের বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যেত। কোন বাহনের উপর তিনি থাকলে সে বাহন ওহীর ভারে বসে পড়ত। নবীর স্ত্রী আয়েশার ভাষায় " ওহী অবতরনের সময় তার হাত আমার উরুর উপর থাকলে মনে হত যেন উরু ফেটে যাবে।" ওহীর তীব্রতা ও প্রচন্ডতা কেটে গেলে, কি বলা হয়েছে তা তাঁর আয়ত্ব ও মুখস্ত হয়ে যেত। সাধারনত আজাব, ধমক ও ক্রোধপূর্ণ বাণী এ অবস্থায় অবতীর্ণ হত।

 "কখনো জিব্রাঈল মানুষের রূপ ধারন করে আসত। যাহা বলা হইল তাহা আয়ত্ত করি," নবীর ভাষায়। (বুখারী ১ম খন্ড ১ম পৃ)। বেশিরভাগ  সময় সাহাবী দাহিয়া ক্বালবির রূপে 

ফেরেশতা আসত।

 জিব্রাঈল কখনো কখনো নবীর অন্তরে কথা গেথে দিত। হাদীসে বর্ণিত " ফেরেশতা আমার মনে এ কথা রূপে দিল যে, নির্দিষ্ট রিযিক পূর্ণরূপে গ্রহন করা ও নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল পূর্ণ হওয়ার আগে কোন প্রাণী মরিতে পারেনা"।
  আল্লাহ সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে তার বার্তা জানিয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও মুশরিক  বা অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যু মুখে পতিত ব্যক্তির বর্ণনা পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি জানিয়েছে।
 জিব্রাইল নিজ রূপে আসত। হাদীসে বর্ণিত " আমি পথ চলিতেছিলাম। হঠাৎ উর্ধ্বদিক হতে আওয়াজ শুনিতে পাইলাম...। আকাশের দিকে চোখ তুলিয়া দেখিলাম, সেই ফেরেশতা, যিনি আমার নিকট হেরা গুহায় আসিয়াছিলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি আসনে উপবিষ্ট। অতঃপর আল্লাহ সূরা মুদাচছির অবতীর্ণ করেন। "(বুখারী ১/৭৩৩ পৃঃ)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]