বাংলা ভাষা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাংলা
বাঙলা
বাংলা.svg
বাংলা লিপিতে "বাংলা" শব্দটি
উচ্চারণ/bɑːŋlɑː/
অঞ্চলবাংলাদেশ বাংলাদেশ,
ভারত ভারত (প্রধানত পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ঝাড়খন্ড এবং দক্ষিণ আসাম বরাক উপত্যকা) এবং
নেপালনেপাল [১]
জাতিতত্ত্ববাঙালি জাতি
মাতৃভাষী

পূর্বসূরীরা
উপভাষাসমূহ বিস্তারিত দেখুন বাংলা উপভাষাসমূহে
সরকারি অবস্থা
সরকারি ভাষা
নিয়ন্ত্রক সংস্থাবাংলাদেশ বাংলা একাডেমি
ভারত পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি
ভাষা কোডসমূহ
আইএসও ৬৩৯-১bn
আইএসও ৬৩৯-২ben
আইএসও ৬৩৯-৩ben
গ্লোটোলগbeng1280[৭]
লিঙ্গুয়াস্ফেরা59-AAF-u
Bengali-world.svg
বিশ্বে বাংলা ভাষার ভৌগোলিক বিস্তার
  বাংলা ভাষার মর্যাদা যেখানে একমাত্র জাতীয় ও সরকারি ভাষা
  বাংলা ভাষার মর্যাদা যেখানে অনেকগুলি সরকারি ভাষার মধ্যে একটি
  বাংলাভাষী মানুষ বাস করেন (১,০০,০০০+)
  বাংলাভাষী মানুষ বাস করেন (১০,০০০+)
Bengalispeaking region.png
দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাভাষী অঞ্চল

বাংলা ভাষা (বাঙলা, বাঙ্গলা, তথা বাঙ্গালা নামগুলোতেও পরিচিত) একটি ইন্দো-আর্য ভাষা, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাঙালি জাতির প্রধান কথ্য ও লেখ্য ভাষা। মাতৃভাষীর সংখ্যায় বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের চতুর্থ ও বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম ভাষা।[৮] মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুসারে বাংলা বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। বাংলা সার্বভৌম ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা তথা সরকারি ভাষা[৯] এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসামের বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের প্রধান কথ্য ভাষা বাংলা। এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ড, বিহার, মেঘালয়, মিজোরাম, উড়িষ্যা রাজ্যগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাংলাভাষী জনগণ রয়েছে। ভারতে হিন্দির পরেই সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা বাংলা।[১০][১১] এছাড়াও মধ্য প্রাচ্য, আমেরিকা ও ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাংলাভাষী অভিবাসী রয়েছে।[১২] সারা বিশ্বে সব মিলিয়ে ২৬ কোটির অধিক লোক দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ব্যবহার করে।[২] বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং ভারতের জাতীয় সঙ্গীতস্তোত্র বাংলাতে রচিত।

বাংলা ভাষা বিকাশের ইতিহাস ১৩০০ বছর পুরনো। চর্যাপদ এ ভাষার আদি নিদর্শন। অষ্টম শতক থেকে বাংলায় রচিত সাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডারের মধ্য দিয়ে অষ্টাদশ শতকের শেষে এসে বাংলা ভাষা তার বর্তমান রূপ পরিগ্রহণ করে। বাংলা ভাষার লিপি হল বাংলা লিপিবাংলাদেশপশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত বাংলা ভাষার মধ্যে শব্দগত ও উচ্চারণগত সামান্য পার্থক্য রয়েছে। বাংলার নবজাগরণেবাংলার সাংস্কৃতিক বিবিধতাকে এক সূত্রে গ্রন্থনে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে তথা বাংলাদেশ গঠনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব বাংলায় সংগঠিত বাংলা ভাষা আন্দোলন এই ভাষার সাথে বাঙালি অস্তিত্বের যোগসূত্র স্থাপন করেছে। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদী ছাত্র ও আন্দোলনকারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষাকরণের দাবীতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন। ১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় কাজে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে।[১৩] ১৯৫২'র ভাষা শহিদদের সংগ্রামের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।[১৪][১৫]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাংলা ভাষার ইতিহাসকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:[১৬]

  1. প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০ – ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ) — চর্যাপদ, ভক্তিমূলক গান এই সময়কার লিখিত নিদর্শন। এই সময় আমি, তুমি ইত্যাদি সর্বনাম এবং -ইলা, -ইবা, ইত্যাদি ক্রিয়াবিভক্তির আবির্ভাব ঘটে।
  2. মধ্য বাংলা (১৪০০–১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) — এ সময়কার গুরুত্বপূর্ণ লিখিত নিদর্শন চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ইত্যাদি। শব্দের শেষে "অ" ধ্বনির বিলোপ, যৌগিক ক্রিয়ার প্রচলন, ফার্সি ভাষার প্রভাব এই সময়ের সাহিত্যে লক্ষ্য করা যায়। কোনো কোনো ভাষাবিদ এই যুগকে আদি ও অন্ত্য এই দুই ভাগে ভাগ করেন।
  3. আধুনিক বাংলা (১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে-বর্তমান) — এই সময় ক্রিয়াসর্বনামের সংক্ষেপণ ঘটে, যেমন তাহারতার; করিয়াছিলকরেছিল

প্রাচীন যুগ[সম্পাদনা]

চর্যাপদের একটি পাতা

খ্রিস্টীয় দশম দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়কালে মাগধী প্রাকৃতপালির মতো পূর্ব মধ্য ইন্দো-আর্য ভাষাসমূহ থেকে বাংলা ও অন্যান্য পূর্ব ইন্দো-আর্য ভাষাগুলির উদ্ভব ঘটে।[১৭] এই অঞ্চলে কথ্য ভাষা প্রথম সহস্রাব্দে মাগধী প্রাকৃত বা অর্ধমাগধী ভাষায় বিবর্তিত হয়।[১৮][১৯] খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীর শুরুতে উত্তর ভারতের অন্যান্য প্রাকৃত ভাষার মতোই মাগধী প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশ ভাষাগুলির উদ্ভব ঘটে।[১৬] পূর্বী অপভ্রংশ বা অবহট্‌ঠ নামক পূর্ব উপমহাদেশের স্থানীয় অপভ্রংশ ভাষাগুলি ধীরে ধীরে আঞ্চলিক কথ্য ভাষায় বিবর্তিত হয়, যা মূলতঃ ওড়িয়া ভাষা, বাংলা-অসমীয়াবিহারী ভাষাসমূহের জন্ম দেয়। কোনো কোনো ভাষাবিদ ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে এই তিন ভাষার জন্ম বলে মনে করলেও [২০] এই ভাষাটি তখন পর্যন্ত কোনো সুস্থির রূপ ধারণ করেনি; সে সময় এর বিভিন্ন লিখিত ও ঔপভাষিক রূপ পাশাপাশি বিদ্যমান ছিল। যেমন, ধারণা করা হয়, আনুমানিক ষষ্ঠ শতাব্দীতে মাগধী অপভ্রংশ থেকে অবহট্‌ঠের উদ্ভব ঘটে, যা প্রাক-বাংলা ভাষাগুলির সঙ্গে কিছু সময় ধরে সহাবস্থান করছিল। [২১]

চৈতন্য মহাপ্রভুর যুগে ও বাংলার নবজাগরণের সময় বাংলা সাহিত্য সংস্কৃত ভাষা দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিল।[২২] সংস্কৃত থেকে যে সমস্ত শব্দ বাংলা ভাষায় যোগ করা হয়, তাদের উচ্চারণ অন্যান্য বাংলা রীতি মেনে পরিবর্তিত হলেও সংস্কৃত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়।

মধ্যযুগ[সম্পাদনা]

বাংলা সালতানাতের সময়কার রৌপ্যমুদ্রা

বাংলা ভাষার ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করেন বাংলার মুসলিম শাসকগোষ্ঠী। ফার্সির পাশাপাশি বাংলাও বাংলার সালতানাতের দাফতরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃত ছিলো এবং ব্যাপক হারে ব্যবহার হতো। এছাড়াও প্রত্ন বাংলা ছিলো পাল এবং সেন সাম্রাজ্যের প্রধান ভাষা।

আধুনিক[সম্পাদনা]

ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে নদিয়া অঞ্চলে প্রচলিত পশ্চিম-মধ্য বাংলা কথ্য ভাষার ওপর ভিত্তি করে আধুনিক বাংলা সাহিত্য গড়ে ওঠে। বিভিন্ন আঞ্চলিক কথ্য বাংলা ভাষা ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ব্যবহৃত ভাষার মধে অনেকখানি পার্থক্য রয়েছে।[২৩] আধুনিক বাংলা শব্দভাণ্ডারে মাগধী প্রাকৃত, পালি, সংস্কৃত, ফার্সি, আরবি ভাষা এবং অস্ট্রো-এশীয় ভাষাসমূহ সহ অন্যান্য ভাষা পরিবারের শব্দ স্থান পেয়েছে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর পূর্বে, বাংলা ব্যাকরণ রচনার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১৭৩৪ থেকে ১৭৪২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ভাওয়াল জমিদারীতে কর্মরত অবস্থায় পর্তুগিজ খ্রিস্টান পুরোহিত ও ধর্মপ্রচারক ম্যানুয়েল দ্য আসুম্পসাও সর্বপ্রথম ভোকাবোলারিও এম ইডিওমা বেঙ্গালা, এ পোর্তুগুয়েজ ডিভিডিডো এম দুয়াস পার্তেস (পর্তুগিজ: Vocabolario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes) নামক বাংলা ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ রচনা করেন। [২৪] ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড নামক এক ইংরেজ ব্যাকরণবিদ আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ (ইংরেজি: A Grammar of the Bengal Language) নামক গ্রন্থে একটি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন, যেখানে ছাপাখানার বাংলা হরফ প্রথম ব্যবহৃত হয়। [২৫] বাঙালি সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়[২৬] ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দে গ্র্যামার অফ্ দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ্ (ইংরেজি: Grammar of the Bengali Language) নামক একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।[২৭]

ভাষা আন্দোলন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

শহীদ মিনার

১৯৫১–৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জনগণের প্রবল ভাষা সচেতনতার ফলস্বরূপ বাংলা ভাষা আন্দোলন নামক একটি ভাষা আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনে পাকিস্তান সরকারের নিকট বাংলা ভাষার সরকারি স্বীকৃতি দাবি করা হয়। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহু ছাত্র ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হন। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন দিবস পালিত হয়। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা প্রদান করে।

ভারত[সম্পাদনা]

আসামের শিলচরে শহীদ মিনার

বাংলাদেশ ছাড়াও ১৯৫০-এর দশকে ভারতের বিহার রাজ্যের মানভূম জেলায় বাংলা ভাষা আন্দোলন ঘটে। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দের ভারতের অসম রাজ্যের বরাক উপত্যকায় একইরকম ভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলন সংঘ ভাষা বঙ্গ অঞ্চলের বাঙালি অধিবাসীর মাতৃভাষা। স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং ভারতের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গত্রিপুরা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এছাড়া ভারতের অসম রাজ্যের দক্ষিণাংশেও এই ভাষা বহুল প্রচলিত। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী বাংলা ভাষায় কথা বলে থাকেন।

ভৌগোলিক ভাষাভাষী[সম্পাদনা]

বিশ্বব্যাপী বাংলা মাতৃভাষী জনসংখ্যা (মোট জনসংখ্যা ২৬৫ মিলিয়ন ধরে)

  বাংলাদেশ (৫৯.৯৯%)
  ভারত (৩৮.২১%)
  অন্যান্য (১.৮%)

বাংলা ভাষা বঙ্গভূমির অধিবাসীদের মাতৃভাষা, যা ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ এবং বর্তমান জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে গঠিত।

লন্ডনের বৃহৎ বাঙালী অভিবাসীদের আবাস ব্রিকলেনে বাংলা ভাষা

মূল অঞ্চলের পাশাপাশি ত্রিপুরা,দক্ষিণ আসাম এবং ভারতীয় সংযুক্ত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বসবাসরত বাঙালীদেরও মাতৃভাষা বাংলা। উরিসা, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের প্রতিবেশী রাজ্যসমূহের বাংলা ভাষায় কথা বলা হয় এবং দিল্লি, মুম্বাই, বারাণসী এবং বৃন্দাবন সহ বঙ্গের বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাংলা ভাষাভাষী রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য,[২৮][২৯][৩০] যুক্তরাষ্ট্র,[৩১] সিঙ্গাপুর [৩২] মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইতালিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাঙালি বসবাস করেন।

সরকারি মর্যাদা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা তথা সরকারি ভাষা বাংলা।[৯] ১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় কাজে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে।[১৩] বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় ভাষাও।

ভারতে ভারতীয় সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ২৩টি সরকারি ভাষার মধ্যে বাংলা অন্যতম।[৩৩] ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারি ভাষা হল বাংলা[৩৪][৩৫] এছাড়াও বাংলা ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম প্রধান ভাষা।[৩৬][৩৭] ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাস হতে বাংলা ভাষা ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা রূপে স্বীকৃত। পাকিস্তানের করাচী শহরের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা রূপে বাংলাকে গ্রহণ করা হয়েছে। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে সিয়েরা লিওনের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আহমাদ তেজন কাব্বাহ ওই রাষ্ট্রে উপস্থিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর ৫,৩০০ বাংলাদেশি সৈনিকের সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা প্রদান করেন।[৬][৩৮]

নোবেলজয়ী বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুইটি বাংলা কবিতা ভারতবাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়।[৩৯] অধিকন্তু, অনেকে মনে করেন যে, শ্রীলংকার জাতীয় সংগীত (শ্রীলঙ্কা মাতা) মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বাংলা কবিতার প্রভাবে লেখা হয়েছিল,[৪০][৪১][৪২][৪৩] আবার অনেকে এমনটাও মনে করেন যে জাতীয় সঙ্গীতটি প্রথমে বাংলায় রচিত হয়েছিল এবং তারপর তা সিংহলিতে অনুবাদ করা হয়েছিল।[৪৪][৪৫][৪৬][৪৭]

২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশপশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার দাবী জানান।[৪৮]

কথ্য ও সাহিত্যের ভাষার বিবিধতা[সম্পাদনা]

বাংলার কথ্য ও লেখ্য রূপের মধ্যে বিবিধতা বর্তমান।[৪৯][৫০] বিভিন্ন শব্দভাণ্ডার দ্বারা সমৃদ্ধ হয়ে বাংলায় দুই ধরনের লিখনপদ্ধতি তৈরি হয়েছে।[৫১]

সাধু ভাষা[সম্পাদনা]

সাধু ভাষা বাংলার এক ধরনের লেখ্য রূপ, যেখানে সংস্কৃতপালি ভাষাসমূহ থেকে উদ্ভূত তৎসম শব্দভাণ্ডার দ্বারা প্রভাবিত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ক্রিয়াবিভক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ঊনবিংশ শতাব্দী ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই ধরনের ভাষা বাংলা সাহিত্যে বহুল ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে সাহিত্যে এই ভাষারূপের ব্যবহার নেই বললেই চলে।

মান্য চলিত ভাষা[সম্পাদনা]

চলিতভাষা, যা ভাষাবিদদের নিকট মান্য চলিত বাংলা নামে পরিচিত, বাংলার এক ধরনের লেখ্য রূপ, যেখানে মানুষের কথ্য বাগধারা স্থান পায়। এই লিখনশৈলীতে অপেক্ষাকৃত ছোটো আকারের ক্রিয়াবিভক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমান বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের শৈলী অনুসরণ করা হয়ে থাকে। উনবংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরে দুলাল প্রভৃতি রচনাগুলিতে এই ধরনের শৈলী সাহিত্যে জায়গা করে নেয়।[৫২] এই শৈলী নদিয়া জেলার শান্তিপুর অঞ্চলে প্রচলিত কথ্য উপভাষা থেকে গঠিত হয়েছে, ফলে একে অনেক সময় শান্তিপুরি বাংলা বা নদিয়া উপভাষা বলা হয়ে থাকে। মান্য চলিত বাংলায় অধিকাংশ বাংলা সাহিত্য রচিত হলেও, কথ্য বাংলা ভাষার উপভাষাসমূহ মধ্যে যথেষ্ট বিবিধতা রয়েছে। কলকাতাসহ দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীরা মান্য চলিত বাংলায় কথা বলে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অঞ্চলগুলির কথ্য ভাষা মান্য চলিত বাংলার থেকে অনেকটাই ভিন্ন। বাংলাদেশের চট্টগ্রামসিলেট অঞ্চলের কথ্য ভাষার সঙ্গে মান্য চলিত বাংলার খুব সামান্যই মিল রয়েছে।[৫৩] তবে অধিকাংশ বাঙালি নিজেদের মধ্যে ভাব আদানপ্রদানের সময় মান্য চলিত বাংলা সহ একাধিক উপভাষায় কথা বলতে সক্ষম বলে মনে করা হলেও অনেক ভাষাবিদ তা স্বীকার করেন না।[৫৪][৫৫]

উপভাষা[সম্পাদনা]

বঙ্গভূমির (এবং আসামঝাড়খন্ডের কিছু জেলা) একটি মানচিত্র যাতে বাংলা ভাষার উপভাষা সমূহ দেখানো হয়েছে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] (* দিয়ে শুরু হওয়া মোটা বর্ণের নামেগুলোকে কখনো বাংলার উপভাষা আবার কখনো স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয় )

কথ্য বাংলাতে আঞ্চলিক প্রকরণ একটি উপভাষার ধারাবাহিকতা গঠন করে। ভাষাতত্ত্ববিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এই উপভাষাগুলি চারটি বৃহৎ ভাগে বিভক্ত করেছেন - রাঢ়ী, বঙ্গ, কামরূপী উপভাষা এবং বরেন্দ্র;[২৫] তবে অনেক বিকল্প শ্রেণীকরণ প্রকল্পও প্রস্তাব করা হয়েছে। [৫৬] দক্ষিণ-পশ্চিমা উপভাষাগুলি (রাঢ়ী বা নদীয়া উপভাষা) আধুনিক মান্য ভাষাগত বাঙালির ভিত্তি তৈরি করে। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের বেশিরভাগ উপাখ্যানগুলিতে (বাংলাদেশের বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং সিলেট বিভাগ), পশ্চিমবঙ্গে শোনা অনেক যতি ও সুস্পষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনিকে উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি হিসাবে উচ্চারণ করা হয়। পাশ্চাত্য তালব্য-মূর্ধন্য ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি[tɕɔ], [tɕʰɔ], [dʑɔ] যথাক্রমে প্রাচ্যের [tsɔ], [tsʰɔ~sɔ], [dzɔ~zɔ] এর সাথে সম্পর্কিত। বাংলার কিছু উপভাষা বিশেষত চট্টগ্রাম এবং চাকমা ভাষার সুর রয়েছে বৈপরীত্য ; বক্তার কণ্ঠের উচ্চারণের তীক্ষ্মতা শব্দগুলোকে পৃথক করতে পারে। রংপুরী, খারিয়া থাট এবং মাল পাহাড়িয়া ভাষা পশ্চিমাঞ্চলীয় বাংলা উপভাষার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও সাধারণভাবে তাদেরকে স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে শ্রেণীকরণ করা হয়। উত্তরাঞ্চলীয় বাংলা উপভাষার সঙ্গে সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও হাজং কে স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। [৫৭]

উনবিংশ শতাব্দী এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে বাংলা ভাষার প্রমিতীকরণের সময় ব্রিটিশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কলকাতা ছিল বঙ্গভূমির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বাংলাদেশের সীমানার পাশে অবস্থিত নদীয়া জেলার পশ্চিম-মধ্য উপভাষার উপর ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গবাংলাদেশে বর্তমান প্রমিত রূপটি গৃহীত হয়েছে। [৫৮] মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্বেও পশ্চিমবঙ্গের একজন বক্তা আদর্শ বাংলায় যে শব্দ ব্যবহার করবেন তা বাংলাদেশের একজন বক্তা ব্যবহার নাও করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবহৃত নুন শব্দটির পরিবর্তে পশ্চিমপ্রান্তে লবণ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। [৫৯] বেশিরভাগ লেখা প্রমিত বাংলায় (এসসিবি) থাকলেও কথ্য উপভাষাগুলি বৈচিত্র‍্য প্রদর্শন করে। কলকাতা সহ দক্ষিণ-পূর্ব পশ্চিমবঙ্গের লোকেরা এসসিবিতে কথা বলে।। প্রমিত চলিত থেকে কিছুটা স্বল্প পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যান্য উপভাষাগুলি পশ্চিমবঙ্গ এবং পশ্চিম বাংলাদেশের অন্যান্য অংশে যেমন মেদিনীপুরের উপভাষায় কিছু নিজস্ব শব্দ রয়েছে। তবে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ লোক উপভাষায় কথা বলেন, এসসিবি থেকে আলাদা কিছু উপভাষা বিশেষত চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকেরা প্রমিত চলিতরূপেই লেখেন [৬০] চট্টগ্রাম অঞ্চলে উপভাষাটি সাধারণ বাঙালী জনসাধারণের কাছে সহজে বোধগম্য হয় না। [৬১] এমনকি এসসিবিতেও বক্তার ধর্ম অনুসারে শব্দভাণ্ডার পৃথক হতে পারে: হিন্দুরা সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত শব্দ এবং মুসলমানরা দেশীয় শব্দের পাশাপাশি ফারসি এবং আরবি ভাষার শব্দ ব্যবহার করার সম্ভাবনা বেশি। [৬০] উদাহরণস্বরূপ:[৫৯]

মূলত হিন্দুদের ব্যবহার প্রধানত মুসলিম ব্যবহার
নমস্কার nômôshkar আসসালামু আলাইকুম আসসালামু-আলাইকুম
নিমন্ত্রণ nimôntrôn দাওয়াত daoat
জল Jol পানি Pani
স্নান snan গোসল gosôl [৬২]
মাসী খালা
কাকা চাচা
প্রার্থনা দো'আ / দু'আ
প্রদীপ বাতি [৬৩]

ধ্বনিব্যবস্থা[সম্পাদনা]

বাংলা স্বরধ্বনি
সম্মুখ কেন্দ্রীয় পশ্চাৎ
সংবৃত ~
i
i
~
u
u
সংবৃত-মধ্য
e
e

ʊ~o
u/o
বিবৃত-মধ্য এ্যা/অ্যা
æ
ê

ɔ
ô
বিবৃত
a
a
নাসিক্য স্বরধ্বনি
সম্মুখ কেন্দ্রীয় পশ্চাৎ
সংবৃত ইঁ~ঈঁ
ĩ
ĩ
উঁ~ঊঁ
ũ
ũ
সংবৃত-মধ্য এঁ

ওঁ
õ
õ
বিবৃত-মধ্য এ্যাঁ / অ্যাঁ
æ̃
অঁ
ɔ̃
বিবৃত আঁ
ã
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনি
  উভয়ৌষ্ঠ্য দন্ত্য দন্তমূলীয় জিহ্বাগ্র্য-
পশ্চাৎ-দন্তমূলীয়
জিহ্ব্য-পশ্চাৎ-দন্তমূলীয় তালব্য কণ্ঠনালীয়
নাসিক্য m   n     ŋ  
স্পর্শ অঘোষ p
1

t̪ʰ
  ʈ
ʈʰ

tʃʰ2
k
 
ঘোষ b

d̪ʱ
  ɖ
ɖʱ
3
dʒʱ
ɡ
ɡʱ
 
উষ্ম ফ় f1
 
 
 
s2
z3
 
 
, ʃ2
 
 
 
h
 
তরল     l, r4 ড়,ঢ় ɽ4      

বাংলা ভাষায় প্রচুর স্বরদ্যোতনা রয়েছে ; একই অক্ষরে একাধিক স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়। [৬৪] এর মধ্যে /oi̯/ এবং /ou̯/ দ্বয় কেবলমাত্র একটি করে স্বরবর্ণ এবং দ্বারা লেখা হয়। সর্বমোট যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ১৭ থেকে ৩১ এর মধ্যে রয়েছে বলে অনেকে ধারণা করেন। সরকার (১৯৮৫) কর্তৃক প্রদত্ত একটি লেখ নিচে দেয়া হল:[৬৫]

a ae̯ ai̯ ao̯ au̯
æ æe̯ æo̯
e ei̯ eu̯
i ii̯ iu̯
o oe̯ oi̯ oo̯ ou̯
u ui̯

শ্বাসাঘাত[সম্পাদনা]

আদর্শ বাংলায় সাধারণত শুরুতে শ্বাসাঘাত লক্ষ করা যায়। বাংলা শব্দগুলো বিমুর্তভাবে দ্বিপর্ববিশিষ্ট ; শব্দের প্রথম অক্ষরে মুখ্য শ্বাসাঘাত পড়ে এবং প্রায়ই বিজোড় অবস্থানের অক্ষরগুলোতে গৌণ শ্বাসাঘাত লক্ষ করা যায়। ফলে সহযোগিতা শব্দটি উচ্চারিত হয় shô-hô-jo-gi-ta "cooperation", যেখানে মোটাদাগ মুখ্য এবং গৌণ শ্বাসাঘাত নির্দেশ করে।

যুক্তব্যঞ্জন[সম্পাদনা]

স্থানীয় বাংলা ভাষায় শব্দের শুরুতে যুক্তবর্ণ থাকে না;[৬৬] সর্বোচ্চ ব্য-স্ব-ব্য আকারের অক্ষর হতে পারে(স্বরধনির দুপাশে ব্যঞ্জনধ্বনি)। অনেক বাঙালি এমনকি ইংরেজি কিংবা সংস্কৃত থেকে ধারকৃত শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রেও এই ধারাটি বজায় রাখে যেমন গ্রাম (ব্য-ব্য.ব্য-স্ব-ব্য) উচ্চারণ করেন গেরাম(ব্য-স্ব.ব্য-স্ব-ব্য), স্কুল(ব্য-ব্য-স্ব-ব্য) উচ্চারণ করেন ইস্কুল(স্ব-ব্য.ব্য-স্ব-ব্য) হিসেবে।

বানানতাত্ত্বিক গভীরতা[সম্পাদনা]

সাধারণভাবে বাংলা লিপির তুলনামূলক বানানতাত্ত্বিক গভীরতা বেশি নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাঙালীদের ধ্বনি এবং বর্ণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে উচ্চারণ-বানান অসঙ্গতি ঘটে।

এক ধরনের অসঙ্গতি হল একই শব্দের জন্য লেখায় বেশ কয়েকটি বানানের উপস্থিতি। উনবিংশ শতাব্দীতে কিছু পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও, বাংলা বানান পদ্ধতি সংস্কৃত ভাষার জন্য ব্যবহৃত বানানরীতির উপর ভিত্তি করেই রচিত হচ্ছে [২৫] এবং এভাবে কথ্য ভাষায় কিছু শব্দ সংযোজনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকে না। উদাহরণস্বরূপ,অঘোষ দন্তমূলীয়-তালব্য ব্যঞ্জন [ɕ]-এর জন্য তিনটি বর্ণ ( , , এবং রয়েছে যদিও বর্ণটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যেমন স্খলন-এ ব্যবহৃত হয়। তখন অঘোষ দন্তমূলীয় ঊষ্মধ্বনি [s] শব্দ ধরে রাখে; যেমন [skʰɔlɔn] "স্কুল", স্পন্দন [spɔndɔn] ইত্যাদি। বর্ণটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র যেমন কষ্ট-এ ব্যবহৃত হয়। তখন অঘোষ মূর্ধন্য ঊষ্মধ্বনি [ʂ] শব্দ ধরে রাখে; যেমনঃ কষ্ট [kɔʂʈɔ], গোষ্ঠী [ɡoʂʈʰi] ইত্যাদি। একইভাবে,ঘোষ তালব্য-দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি [dʑ] প্রকাশ করার জন্য দুটি অক্ষর রয়েছে ( এবং )। তাছাড়া, আগে উচ্চারিত [ɳ] এবং লিখিত মূর্ধন্য অনুনাসিক কে এখন সাধারণ আলাপচারিতায় দন্তমূলীয় [n] হিসেবে উচ্চারণ করা হয় (যখন উচ্চারণ করা হয় তখন পার্থক্য বোঝা যায়) (যদি না অপর একটি মূর্ধন্যধ্বনির যেমন , এবং -এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে), তবে বানানে এই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না। অর্ধ-সংবৃত সম্মুখ স্বরবর্ণ [æ] বানানতাত্ত্বিকভাবে একাধিক উপায়ে নিরূপিত হয়। উদাহরণস্বরূপ: এত [ætɔ], এ্যাকাডেমী [ækademi], অ্যামিবা [æmiba], দেখা [dækʰa], ব্যস্ত [bæstɔ], ব্যাকরণ [bækɔrɔn]

অন্য ধরনের অসঙ্গতিটি লেখায় যথেষ্ট ঔচ্চারণিক তথ্যের ঘাটতিসম্পর্কিত। পূর্ববর্তী ধ্বনির স্বরসঙ্গতির উপর নির্ভর করে লেখায় প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে জড়িত অন্তর্নিহিত স্বরবর্ণটি [o] কিংবা [ɔ] হতে পারে;কিন্তু লেখায় স্পষ্টভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় তা পাঠকের জন্য দ্ব্যর্থতা তৈরি করে। তাছাড়া অন্তর্নিহিত স্বরটি প্রায়শই শব্দের শেষে উহ্য থাকে (যেমন: কম [kɔm] ;তবে তা বানানে প্রতিফলিত না হওয়ায় নতুন পাঠকের পক্ষে এটি কঠিন করে তোলে।

অনেক যুক্তব্যঞ্জন তাদের মূল ব্যঞ্জনবর্ণের চেয়ে আলাদা রূপে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যঞ্জনবর্ণের ক্ [k] এবং [ʂ] যুক্ত হয়ে ক্ষ গঠন করে এবং তা [kkʰɔ](রুক্ষ উচ্চারিত হয় [rukkʰɔ]) কিংবা [kkʰo] (ক্ষতি - [kkʰot̪i]) অথবা [kkʰɔ] (যেমন ক্ষমতা এর উচ্চারণ [kkʰɔmɔt̪a]) হিসেবে উচ্চারিত হতে পারে যা কোনও শব্দে যুক্তব্যঞ্জনটির অবস্থানের উপর নির্ভর করে। বাংলা লেখার ব্যবস্থাটি তাই সর্বদা উচ্চারণের সত্যিকারের সহায়ক নয়।

ব্যবহারসমূহ[সম্পাদনা]

বাংলা, অসমিয়া এবং অন্যান্য ভাষার জন্য ব্যবহৃত লিপিটি বাংলা লিপি হিসাবে পরিচিত। বাংলা এবং তার উপভাষায় বাংলা বর্ণমালা হিসেবে এবং কিছু ছোটখাট পরিবর্তনের সঙ্গে অসমিয়া ভাষায় অসমিয়া বর্ণমালা হিসেবে পরিচিত। নিকটবর্তী অঞ্চলের অন্যান্য সম্পর্কিত ভাষা যেমন ভারতীয় রাজ্য মণিপুরে মৈতৈ মণিপুরী ভাষাও বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে, যেখানে মৈতৈ ভাষা বহু শতাব্দী ধরে বাংলা বর্ণমালায় রচিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মৈতৈ লিপি প্রচার করা হয়েছে।

লিখন পদ্ধতি[সম্পাদনা]

বাংলা হাতের লেখার উদাহরণ হিসেবে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ১৯২৬ সালে হাঙ্গেরিতে লেখা একটি বাংলা কবিতার (বাংলা অনুচ্ছেদের নিচে ইংরেজি অনুবাদসহ) অংশবিশেষ

বাংলা লিপি এক ধরনের আবুগিডা, যেখানে ব্যঞ্জনধ্বনির জন্য বর্ণ, স্বরধ্বনির জন্য কারচিহ্ন এবং যদি কোন কার চিহ্ন না থাকে তবে স্বয়ংক্রিয় স্বরবর্ণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। [৬৭] সমগ্র বাংলাদেশ এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলে (আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা) বাংলা বর্ণমালা ব্যবহৃত হয়। আনুমানিক ১০০০ অব্দে ( অথবা ১০ম থেকে ১১শ শতাব্দীতে) ব্রাহ্মী লিপির পরিবর্তিত রূপ থেকে বাংলা বর্ণমালার উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়। [৬৮] এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও এটি পাকিস্তানে ব্যবহৃত শাহমুখি লিপির মত আরবি ভিত্তিক বর্ণমালার পরিবর্তে বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে।

বাংলা ভাষায় বক্রলিপিতে নয়টি স্বরধ্বনি এবং দুটি যৌগিক স্বরধ্বনি নির্দেশ করার জন্য ১১ টি প্রতীক বা চিহ্ন এবং ব্যঞ্জনধ্বনি ও অন্যান্য প্রভাবকের জন্য ৩৯ টি প্রতীক ব্যবহৃত হয়। [৬৮] এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে বড় হাতের এবং ছোট হাতের বর্ণের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। বর্ণগুলো বাম থেকে ডানে লেখা হয় এবং ফাঁকা স্থান গুলো লিখিত শব্দসমূহ পৃথক করতে ব্যবহৃত হয়। বাংলা লেখায় দুটি বর্ণকে পাশাপাশি যুক্ত করার জন্য একটি সমান্তরাল রেখা টানা হয় যাকে মাত্রা বলা হয়। [৬৯]

বাংলা লিপি আবুগিদা হওয়ায় ব্যঞ্জনবর্ণ গুলো সাধারণত উচ্চারণগত ভাষাতত্ত্ব নির্দেশ করে না বরং উহ্যভাবে স্বরধ্বনি ধরে রাখে। ফলে এগুলো প্রকৃতিগতভাবে অক্ষর। উদ্ধৃত্ত স্বরধ্বনি সাধারণত একটি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি। কোন রূপ স্বরধ্বনি উচ্চারণ ব্যতীত কোন একটি ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণে জোর প্রদান করতে মূল ব্যঞ্জনবর্ণের নিচে হসন্ত () নামক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। এই চিহ্নটি সব সময় পাওয়া যায় না ;তবে যখন উচ্চারণের বৈপরীত্য দেখা যায় তখন এটি ব্যবহৃত হয়।

বাংলা ব্যঞ্জন ধ্বনির চিত্রমূলের আবুগিডা প্রকৃতি সর্বদা সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। প্রায়শই ব্যঞ্জনান্ত অক্ষরসমূহে হসন্ত না থাকলেও কোন স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয় না।

সহজাত [ɔ] ব্যতীত কিছু স্বরধ্বনির পরে একটি ব্যঞ্জনাত্মক ধ্বনি উপরের, নীচে, আগে, পরে বা ব্যঞ্জনবর্ণের চিহ্নের চারপাশে বিভিন্ন স্বরবর্ণ ব্যবহার করে সর্বব্যাপী ব্যঞ্জনবর্ণ-স্বর লিখনরূপের নিয়ম গঠন করে শব্দস্বরূপাত্মকভাবে উপলব্ধি করা যায়। ‘কারচিহ্ন’ নামে পরিচিত এই শব্দস্বরূপগুলি স্বররূপ এবং এগুলি স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না।

বাংলায় স্বরবর্ণগুলো দুটি রূপ নিতে পারে: লিপির মূল তালিকাতে পাওয়া স্বতন্ত্র রূপ এবং নির্ভরশীল, সংক্ষিপ্তরূপ (উপরে বর্ণিত কারচিহ্ন)। কোনও পূর্ববর্তী বা নিম্নলিখিত ব্যঞ্জনবর্ণ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে একটি স্বরকে উপস্থাপন করতে, স্বরবর্ণের স্বতন্ত্র রূপ ব্যবহার করা হয়। অন্তর্নিহিত-স্বর-দমনকারী হসন্তের পাশাপাশি, আরও তিনটি চিহ্ন সাধারণত বাংলাতে ব্যবহৃত হয়। এগুলি হল উর্ধ্বধাবিত চন্দ্রবিন্দু (ঁ) দ্বারা স্বরবর্ণের অনুনাসিক এর অনুপস্থিতিকে বোঝানো হয় (যেমন চাঁদ), পশ্চাদ্ধাবিত অনুস্বার পশ্চাত্তালব্য নাসিক্যধ্বনি (ঙ) ইঙ্গিত করে (যেমন বাংলা ; "বাঙলা") এবং পশ্চাদ্ধাবিত বিসর্গ (ঃ) অঘোষ কণ্ঠনালীয় ঊষ্মধ্বনি () (যেমন উঃ! [উঃ]" আউচ! ") বা পরবর্তী ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব (যেমন দুখখ [দুকু]" দুঃখ ") ইঙ্গিত করে।

বাংলা যুক্তব্যঞ্জনসমূহ (লিখিত যুক্তব্যঞ্জন) সাধারণত সংযুক্ত হিসাবে লেখা হয়, যেখানে প্রথমে যে ব্যঞ্জনবর্ণ আসে তা পরবর্তীটির উপরে বা বাম দিকে যুক্ত হয়। এই সংযুক্তিতে মাঝেমাঝে মূল রূপের চেয়ে এতটাই বিকৃত হয় যে তাকে আলাদা করে চেনা যায় না। বাংলা লিপিতে, এমন প্রায় ২৮৫টি যুক্তব্যঞ্জন রয়েছে। তবে যুক্তাক্ষর গঠনের কিছু বাহ্যিক নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ছোটবেলা থেকে রপ্ত করতে হয়।

সম্প্রতি, তরুণ শিক্ষার্থীদের উপর এই বোঝা হ্রাস করার লক্ষ্যে, দুটি মূল বাংলা-ভাষা অঞ্চল (পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ) এর বহু যুক্তাক্ষরের "অস্পস্ট" আকৃতির সমাধানের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি চেষ্টা করেছে এবং ফলস্বরূপ, আধুনিক বাংলা পাঠ্যপুস্তকে যুক্তবর্ণগুলোর আরও বেশি "স্বচ্ছ" রূপ ধারণ করা শুরু হয়েছে, যেখানে একটি যুক্তাক্ষরের ব্যঞ্জনবর্ণগুলি বাহ্যিক রূপ সহজেই প্রকাশ পায়। তবে, যেহেতু এই পরিবর্তনটি তত বিস্তৃত নয় এবং বাকী বাংলা মুদ্রিত সাহিত্যের মতো একইভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না, তাই আজকের বাংলা-শিক্ষিত বাচ্চাদের সম্ভবত নতুন "স্বচ্ছ" এবং পুরাতন "অস্বচ্ছ" উভয় রূপই চিনতে হবে , যা শেষ পর্যন্ত শেখার বোঝা পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

বাংলা বিরামচিহ্ন, "।" (দাড়ি) - একটি ফুলস্টপ এর বাংলা সমতুল্য - যা পশ্চিমা লিপি থেকে গৃহীত হয়েছে এবং ব্যবহারও তাদের অনুরূপ।[২৫]

নমুনা পাঠ্য[সম্পাদনা]

বাংলা ভাষায় একটি নমুনা গল্প

নিম্নলিখিত বাংলা ভাষাতে মানবাধিকার সনদের প্রথম ধারার নমুনা পাঠ্য:

বাংলা লিপিতে বাংলা ভাষা

ধারা ১: সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে; সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিত।

বাংলার রোমানীকরণ

Dhara êk: Sômôstô manush sbadhinbhabe sôman môrzada ebông ôdhikar niye jônmôgrôhôn kôre. Tãder bibek ebông buddhi achhe; sutôrang sôkôleri êke ôpôrer prôti bhratritbôsulôbh mônobhab niye achôrôn kôra uchit.

আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালাতে বাংলা ভাষার উচ্চারণ

d̪ʱara æk ʃɔmɔst̪ɔ manuʃ ʃad̪ʱinbʱabe ʃɔman mɔrdʒad̪a ebɔŋ ɔd̪ʱikar nie̯e dʒɔnmɔɡrɔhɔn kɔre. t̪ãd̪er bibek ebɔŋ budd̪ʱːi atʃʰe; sut̪ɔraŋ sɔkɔleri æke ɔpɔrer prɔt̪i bʱrat̪rit̪ːɔsulɔbʱ mɔnobʱab nie̯e atʃɔrɔn kɔra utʃit̪.

সম্পর্কিত ভাষাসমূহ[সম্পাদনা]

বাংলা ভাষার সাথে নেপালি ভাষার ৪০ শতাংশ সাদৃশ্য রয়েছে [৭০]। এছাড়া অসমীয়া ভাষা, সাদরি ভাষা প্রায় বাংলার অনুরূপ। অনেকেই অসমীয়াকে বাংলার উপভাষা বা আঞ্চলিক রীতি হিসেবে বিবেচনা করেন। সাঁওতালি ভাষা, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার সাথেও বেশ সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Bengalis of Nepal"Peoplegroups.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-২১ 
  2. "Bengali" [বাংলা]। Ethnologue (ইংরেজি ভাষায়) (২১তম সংস্করণ)। ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-২১ 
  3. এথ্‌নোলগে Bengali (১৮তম সংস্করণ, ২০১৫)
  4. "Population Monograph of Nepal Volume II (Social Demography)" (PDF) 
  5. "লন্ডনে 'সিলেট নাগরী লিপি চর্চা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে' সেমিনার"Jagonews24। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১০-০৬ 
  6. Zahurul Alam (২৭ ডিসেম্বর ২০০২)। "Bengali Made One of The Official Languages of Sierra Leone"। ২০১১-০৬-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০২-২১ 
  7. হ্যামারস্ট্রোম, হারাল্ড; ফোরকেল, রবার্ট; হাস্পেলম্যাথ, মার্টিন, সম্পাদকগণ (২০১৭)। "Bengali"গ্লোটোলগ ৩.০ (ইংরেজি ভাষায়)। জেনা, জার্মানি: মানব ইতিহাস বিজ্ঞানের জন্য ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট। 
  8. "Summary by language size"Ethnologue (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-১০ 
  9. "৩৷ রাষ্ট্রভাষা"গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানআইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৪-২৬ 
  10. "Languages of India"। ২০১৩-১০-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৯-০২ 
  11. "Languages in Descending Order of Strength — India, States and Union Territories – 1991 Census" (PDF)Census Data Online। Office of the Registrar General, India। পৃষ্ঠা 1। ২০০৭-০৬-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-১৯ 
  12. "Bengali language"Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-২৩ 
  13. "বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭"আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৪-২২ 
  14. "Amendment to the Draft Programme and Budget for 2000–2001 (30 C/5)" (PDF)General Conference, 30th Session, Draft Resolution। UNESCO। ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৭ 
  15. "Resolution adopted by the 30th Session of UNESCO's General Conference (1999)"International Mother Language Day। UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  16. (Bhattacharya 2000)
  17. Oberlies, Thomas Pali: A Grammar of the Language of the Theravāda Tipiṭaka, Walter de Gruyter, 2001.
  18. Shah 1998, পৃ. 11
  19. Keith 1998, পৃ. 187
  20. (Sen 1996)
  21. Abahattha in Asiatic Society of Bangladesh 2003
  22. Tagore ও Das 1996, পৃ. 222
  23. http://lrc.cornell.edu/asian/courses/bengali
  24. Rahman, Aminur। "Grammar"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-১৯ 
  25. Bangla language in Asiatic Society of Bangladesh 2003 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "huq_sarkar" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  26. Wilson ও Dalton 1982, পৃ. 155
  27. "Rammohan Roy's Goudiya Grammar"Scribd 
  28. "Kuwait restricts recruitment of male Bangladeshi workers | Dhaka Tribune"www.dhakatribune.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬-০৯-০৭। ৩০ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-০৪ 
  29. "Bahrain: Foreign population by country of citizenship, sex and migration status (worker/ family dependent) (selected countries, January 2015) – GLMM"GLMM (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৫-১০-২০। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-০৪ 
  30. "Saudi Arabia"Ethnologue। ২৩ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-০৪ 
  31. "Archived copy" (PDF)। ২৭ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  32. http://blls.sg ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ মে ২০১৩ তারিখে Bangla Language and Literary Society, Singapore
  33. "Languages of India"। Ethnologue Report। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-০৪ 
  34. Bhattacharjee, Kishalay (এপ্রিল ৩০, ২০০৮)। "It's Indian language vs Indian language"ndtv.com। ২০১৩-০৭-২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৭ 
  35. NIC, Assam State Centre, Guwahati, Assam। "Language"। Government of Assam। ২০০৬-১২-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৬-২০ 
  36. "Profile: A&N Islands at a Glance"Andaman DistrictNational Informatics Center। ২০১১-১২-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৭ 
  37. "Andaman District"Andaman & Nicobar Police। National Informatics Center। ২০০৮-০৬-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৭ 
  38. "Sierra Leone makes Bengali official language"। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০০২ 
  39. "Statement by Hon'ble Foreign Minister on Second Bangladesh-India Track II dialogue at BRAC Centre on 07 August, 2005"। Ministry of Foreign Affairs, Government of Bangladesh। ২০০৮-০৪-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৭ 
  40. "Sri Lanka"The World Factbook। ২২ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  41. "Man of the series: Nobel laureate Tagore"The Times of IndiaTimes News Network। ৩ এপ্রিল ২০১১। ১২ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৯ 
  42. "Sri Lanka I-Day to have anthem in Tamil"The Hindu। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  43. "Tagore's influence on Lankan culture"Hindustan Times। ১২ মে ২০১০। ১১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  44. Wickramasinghe, Nira (২০০৩)। Dressing the Colonised Body: Politics, Clothing, and Identity in Sri LankaOrient Longman। পৃষ্ঠা 26। আইএসবিএন 978-81-250-2479-8। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  45. Wickramasinghe, Kamanthi; Perera, Yoshitha। "Sri Lankan National Anthem: can it be used to narrow the gap?"The Daily Mirror (Sri Lanka) (30 March 2015)। ১১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  46. Haque, Junaidul (৭ মে ২০১১)। "Rabindranath: He belonged to the world"The Daily Star (Bangladesh)। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  47. Habib, Haroon (১৭ মে ২০১১)। "Celebrating Rabindranath Tagore's legacy"The Hindu। ১৩ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  48. Subir Bhaumik (২২ ডিসেম্বর ২০০৯)। "Bengali 'should be UN language'"BBC News। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০১-২৫ 
  49. Debaprasad Bandyopadhyay 'Triglossia in Bangla'
  50. "Bengali Language At Cornell: Language Information"Department of Asian Studies at Cornell UniversityCornell University। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৫-২৭ 
  51. Huq, Mohammad Daniul। "Sadhu Bhasa"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। ২০০৭-০৯-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-১৭ 
  52. Huq, Mohammad Daniul। "Alaler Gharer Dulal"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। ২০০৬-০৫-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-১৭ 
  53. Ray, Hai এবং Ray 1966, পৃ. 89
  54. "SSRN Electronic Library"papers.ssrn.com 
  55. "Indian Linguistic Nation State: A Report"Scribd 
  56. Morshed, Abul Kalam Manjoor। "Dialect"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। ৬ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-১৭ 
  57. "Hajong"। The Ethnologue Report। ১৫ নভেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-১৯ 
  58. Huq, Mohammad Daniul। "Chalita Bhasa"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। ৬ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১১-১৭ 
  59. "History of Bengali (Banglar itihash)"। Bengal Telecommunication and Electric Company। ৭ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০০৬ 
  60. Ray, Hai এবং Ray 1966
  61. Ray, S Kumar। "The Bengali Language and Translation"Translation Articles। Kwintessential। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০০৬ 
  62. "A Bilingual Dictionary of Words and Phrases (English-Bengali)"Bengali-dictionary.com। ২৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৬ 
  63. Shabdkosh.com। "light – Meaning in Bengali – light in Bengali – Shabdkosh | অভিধান : English Bengali Dictionary and Translation"Shabdkosh.com। ৫ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০১৬ 
  64. (Masica 1991, পৃ. 116)
  65. Sarkar, Pabitra (১৯৮৫)। Bangla diswar dhoni। Bhasa। 
  66. (Masica 1991, পৃ. 125)
  67. Escudero Pascual Alberto (২৩ অক্টোবর ২০০৫)। "Writing Systems/ Scripts" (PDF)Primer to Localization of Software। it46.se। ১৯ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০০৬ 
  68. Bangalah ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ জুলাই ২০১৫ তারিখে in Asiatic Society of Bangladesh 2003
  69. "banglasemantics.net"। ২৪ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  70. "Bengali"Ethnologue 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]