বাংলা ভাষা
| বাংলা | |
|---|---|
| বাঙলা, বাঙ্গালা, বাঙ্গলা | |
বাংলা লিপিতে লেখা "বাংলা" শব্দ | |
| উচ্চারণ | /bɑːŋlɑː/ () |
| অঞ্চল | |
| জাতি | বাঙালি জাতি |
মাতৃভাষী | ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) (২০১১–২০২১)[২][৩] দ্বিতীয় ভাষা: ৪০ মিলিয়ন (৪.০ কোটি) [২] |
পূর্বসূরী | |
| উপভাষা |
|
| সরকারি অবস্থা | |
সরকারি ভাষা |
|
| নিয়ন্ত্রক সংস্থা | |
| ভাষা কোডসমূহ | |
| আইএসও ৬৩৯-১ | bn |
| আইএসও ৬৩৯-২ | ben |
| আইএসও ৬৩৯-৩ | ben |
| গ্লোটোলগ | beng1280[৭] |
| লিঙ্গুয়াস্ফেরা | |
বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষার বিস্তৃতি
প্রধান ভাষা
আঞ্চলিক ভাষা
১০ লক্ষাধিক প্রবাসী জনসংখ্যা
১ লক্ষাধিক প্রবাসী জনসংখ্যা
১০ সহস্রাধিক প্রবাসী জনসংখ্যা
১ সহস্রাধিক প্রবাসী জনসংখ্যা | |
দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাভাষী অঞ্চল | |
বাংলা ভাষা (বাঙলা, বাঙ্গলা তথা বাঙ্গালা নামেও পরিচিত) একটি ধ্রুপদী ইন্দো-আর্য ভাষা, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাঙালি জাতির প্রধান কথ্য ও লেখ্য ভাষা। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২৪.২ কোটি মাতৃভাষী এবং আরও প্রায় ৪.৩ কোটি দ্বিতীয় ভাষাভাষীর[৮] সমন্বয়ে বাংলা ভাষা মাতৃভাষীর সংখ্যায় বিশ্বে ষষ্ঠ[৯] এবং মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুসারে বাংলা বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ভাষা।[১০][১১]
বাংলা সার্বভৌম ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা তথা সরকারি ভাষা।[১২] বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' ও রণসংগীত 'নতুনের গান' বাংলাতে রচিত এবং জাতীয় পর্যায়ের সকল কার্যক্রম বাংলাতে পরিচালিত হয়।
বহু ভাষাভাষীর দেশ ভারতের কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্রভাষা নেই। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে ২২ টি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছে, যা সংবিধান স্বীকৃত ভাষা বা, তফসিলি ভাষা নামে পরিচিত। ১৯৫০ সালে প্রারম্ভিক কাল থেকেই বাংলা ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা। ভারত সরকার কর্তৃক ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবরে বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।[১৩] ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের প্রধান কথ্য ভাষা বাংলা। এছাড়া, ভারতের ঝাড়খণ্ড, বিহার, মেঘালয়, মিজোরাম, ওড়িশার মতো রাজ্যগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাংলাভাষী জনগণ রয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৮.০৩ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে[১৪] এবং হিন্দির পরেই বাংলা ভারতে সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা।[১৫][১৬] ভারতের জাতীয় সংগীত 'জনগণমন' বাংলা ভাষায় রচিত। বাংলা ভাষায় রচিত 'গীতাঞ্জলী' কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের জন্য প্রথম ভারতীয় তথা প্রথম এশিয়াবাসী হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাংলাভাষী অভিবাসী রয়েছে।[১৭] সারা বিশ্বে সব মিলিয়ে ২৮.৫ কোটিরও অধিক লোক দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ব্যবহার করে।[১৮][১৯][২০]
বাংলা সাহিত্যের বিকাশের ইতিহাস ১৪০০ বছর পুরোনো।[২১] চর্যাপদ এ ভাষার আদি নিদর্শন। সপ্তম-অষ্টম শতক থেকে শুরু করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত বাংলায় রচিত সাহিত্যের বিশাল ভান্ডারের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা বিকশিত হয়। বাংলা ভাষার লিপি হলো বাংলা লিপি। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত বাংলা ভাষার মধ্যে শব্দগত ও উচ্চারণগত সামান্য পার্থক্য রয়েছে। বাংলার নবজাগরণে ও বাংলার সাংস্কৃতিক বিবিধতাকে এক সূত্রে গ্রন্থনে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে তথা বাংলাদেশ গঠনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বাংলায় প্রায় ৭৫,০০০ পৃথক শব্দ রয়েছে, যার মধ্যে ৫০,২৫০টি (৬৭%) শব্দ "তৎসম" (সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি গৃহীত); ২১,০০০টি (২৮%) শব্দ "তদ্ভব" (পালি ও এবং প্রাকৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত হয়েছে); এবং প্রায় ৫০০০টি বিদেশি।[২২]
১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব বাংলায় সংগঠিত বাংলা ভাষা আন্দোলন এই ভাষার সাথে বাঙালি অস্তিত্বের যোগসূত্র স্থাপন করেছে। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদী ছাত্র ও আন্দোলনকারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষাকরণের দাবিতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন। ১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইনে বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় কাজে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।[২৩] ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদদের সংগ্রামের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।[২৪][২৫] ২০২৪ সালে ভারত সরকার বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা প্রদান করে।[২৬][২৭]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]বাংলা ভাষার ইতিহাসকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:[২৮]
- প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ) — চর্যাপদ, ভক্তিমূলক গান এই সময়কার লিখিত নিদর্শন। এই সময় আমি, তুমি ইত্যাদি সর্বনাম এবং — ইলা, — ইবা, ইত্যাদি ক্রিয়াবিভক্তির আবির্ভাব ঘটে।
- মধ্য বাংলা (১৪০০-১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) — এ সময়কার গুরুত্বপূর্ণ লিখিত নিদর্শন চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ইত্যাদি। শব্দের শেষে "অ" ধ্বনির বিলোপ, যৌগিক ক্রিয়ার প্রচলন, ফারসি ভাষার প্রভাব এই সময়ের সাহিত্যে লক্ষ্য করা যায়। কোনো কোনো ভাষাবিদ এই যুগকে আদি ও অন্ত্য এই দুই ভাগে ভাগ করেন।
- আধুনিক বাংলা (১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে-বর্তমান) — এই সময় ক্রিয়া ও সর্বনামের সংক্ষেপণ ঘটে, যেমন তাহার → তার; করিয়াছিল → করেছিল।
বাংলার প্রাচীন ভাষা
[সম্পাদনা]খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে বাংলায় হিন্দু ব্রাহ্মণগণ এবং বৌদ্ধ আচার্যগণ সংস্কৃত ভাষার চর্চা করত[২৯], কিন্তু স্থানীয় বৌদ্ধরা প্রাকৃত ভাষার কোনো কোনো রূপে কথা বলত, যাকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন মাগধী প্রাকৃতের পূর্ব রূপ হিসেবে। গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময় বাংলা ছিল হিন্দু যাজক বা পুরোহিতদের জন্য সংস্কৃত সাহিত্যের একটি কেন্দ্র। এটি স্থানীয়দের কথ্য ভাষাকে প্রভাবিত করে।[৩০] প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের একটি অংশ থাকাকালীনন মধ্য ইন্দো-আর্য উপভাষাগুলো বাংলায় প্রভাবশালী ছিল। এই উপভাষাগুলোকে মাগধী প্রাকৃত বলা হয়; এটি আধুনিক বাংলা, বিহার ও আসামে কথিত হতো। এই ভাষা থেকে প্রথম সহস্রাব্দের শেষদিকে মাগধী অপভ্রংশের বিকাশ ঘটে।[২৮][৩১][৩২] সময়ের সাথে সাথে বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিকশিত হয়।[৩৩]
অন্যদিকে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি মাগধী প্রাকৃত থেকে নয়, বরং ‘গৌড়ীয় প্রাকৃত’ থেকে। তিনি যুক্তি দেন, বাংলা ভাষায় এমন কিছু ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, শব্দভাণ্ডার এবং ব্যাকরণগত রূপ পরিলক্ষিত হয়, যা মাগধী প্রাকৃতের নিয়মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং এগুলো স্থানীয় অনার্য বা দেশীয় ভাষার প্রভাবে গঠিত প্রাচীন পূর্ব-ভারতীয় ভাষাগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য। শশাঙ্কের আমল বা তারও আগে গৌড় (প্রাচীন বাংলা) অঞ্চলে প্রাকৃতের যে নিজস্ব রূপটি প্রচলিত ছিল, তিনি তাকেই বাংলা ভাষার জননী মনে করেন। তার মতে, আর্যরা যখন এই অঞ্চলে আসে, তখন এখানকার স্থানীয় অনার্য ভাষার প্রভাবে প্রাকৃত ভাষাটি একটি স্বতন্ত্র রূপ লাভ করে, যার নাম গৌড়ীয় প্রাকৃত। কালক্রমে এই গৌড়ীয় প্রাকৃত পরিবর্তিত হয়ে ‘গৌড়ীয় অপভ্রংশ’-এ পরিণত হয়। সপ্তম শতাব্দীর দিকে (৬৫০ খ্রিস্টাব্দ) এই গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি ঘটে। তিনি চর্যাপদের ভাষাকে এই মতের স্বপক্ষে জোরালো প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।[৩৫]
বর্তমানে ওনেক ভাষাবিদের কাছে উৎপত্তি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘‘মাগধী প্রাকৃত’’ তত্ত্বটি ভাষাতাত্ত্বিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য। আধুনিক বাংলা ভাষার ধ্বনিবিকাশ, রূপান্তর ও ব্যাকরণগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই তত্ত্বটি বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে গবেষণায় দেখা যায়।[৩৬][৩৭] তবে বাংলা ভাষার প্রাচীনত্ব নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সপ্তম শতকের পূর্ব-ইন্দো-আর্য উৎস-যুক্তিকে বহু গবেষক এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচনা করেন।[৩৮][৩৯]
প্রাচীন যুগ
[সম্পাদনা]
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের পূর্বোক্ত মতানুসারে অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় ইন্দো-আর্য ভাষাসমূহের মতো বাংলাও সংস্কৃত ও মগধী প্রাকৃত থেকে ১০০০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দে বিকশিত হয়।[৪০] সেসময় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের স্থানীয় অপভ্রংশ ছিল পূর্ব অপভ্রংশ বা অবহট্ঠ ("অর্থহীন ধ্বনি"), সেটা থেকেই অবশেষে আঞ্চলিক উপভাষাসমূহের বিকাশ ঘটে, এক্ষেত্রে তিনটি ভাষাদল গঠিত হয় - বাংলা–অসমীয়া ভাষাসমূহ, বিহারি ভাষাসমূহ এবং ওড়িয়া ভাষাসমূহ। অনেকে যুক্তি দেখান যে, এই ভাষাদলগুলোর পৃথকীকরণ অনেক আগেই ঘটেছে, কেউ কেউ ৫০০ খ্রিষ্টাব্দের কথাও বলেন। অনেকে বলেন, মধ্যযুগে প্রাচীন সাহিত্যসমূহের অনেকগুলোকেই আর পাওয়া যায় না, যার ফলে সেসময়কার অনেক শব্দই আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।[৪১] কিন্তু ভাষা স্থির ছিল না: সেসময় ভাষার বিভিন্ন রূপের সহাবস্থান ছিল, আর সেসময়ে লেখকগণ প্রায়ই একাধিক উপভাষায় লিখেছিলেন।[৪২] উদাহরণস্বরূপ, ষষ্ঠ শতাব্দীর আশেপাশে অর্ধ-মাগধী থেকে অবহট্ঠ ভাষার বিকাশ ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়, এই অবহট্ঠ ভাষা কিছুসময়ের জন্য বাংলা ভাষার পূর্বপুরুষ প্রোটো-বাংলার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।[৪২] প্রোটো-বাংলা ছিল পাল সাম্রাজ্য এবং সেন রাজবংশের ভাষা। [৪৩][৪৪]
চৈতন্য মহাপ্রভুর যুগে ও বাংলার নবজাগরণের সময় বাংলা সাহিত্য সংস্কৃত ভাষা দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিল।[৪৫] সংস্কৃত থেকে যে সমস্ত শব্দ বাংলা ভাষায় যোগ করা হয়, তাদের উচ্চারণ অন্যান্য বাংলা রীতি মেনে পরিবর্তিত হলেও সংস্কৃত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়।
মধ্যযুগ
[সম্পাদনা]
বাংলা ভাষার ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করেন বাংলার মুসলিম শাসকগোষ্ঠী। ফারসির পাশাপাশি বাংলাও বাংলার সালতানাতের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃত ছিল এবং ব্যাপক হারে ব্যবহার হতো।
মধ্য বাংলার লক্ষণ
[সম্পাদনা]মধ্য স্তরের বাংলা ভাষায় দুইটি সুস্পষ্ট উপস্তর দেখা যায়, আদি-মধ্য আর অন্ত্য-মধ্য। আদি-মধ্য বাংলার স্থিতিকাল আনুমানিক ১৩৫০ হতে ১৪৫০ সন পর্যন্ত । চতুর্দশ শতাব্দে ও পঞ্চদশ শতাব্দে লেখা বলে নিশ্চিতভাবে নেওয়া যেতে পারে এমন কোনো রচনা মিলে না। সুতরাং ১৩৫০ হতে ১৪৫০ অবধি শতাব্দ কালের কতটা প্রাচীন বাংলার অন্তর্গত ছিল এবং কতটা আদি-মধ্য বাংলার অন্তর্গত ছিল তা নিশ্চয় করে বলবার উপায় নাই। সব প্রাচীন রচনায় অষ্টাদশ শতাব্দীর নকল করা উচিত এ পাওয়া গিয়েছে। তাই পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দের ভাষার পরিপূর্ণ রূপটি এগুলিতে প্রতিফলিত নয়। তবে চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি তেমনি পুরানো না হলেও মূলে হস্তক্ষেপ খুব বেশি না পড়ায় আদি-মধ্য বাংলার পরিচয় খানিকটা পাওয়া যায়।
অন্ত্য-মধ্য বাংলার স্থিতিকাল ১৬০১ হতে ১৮০০ সন পর্যন্ত। মনে রাখতে হবে যে এই কালসীমা অত্যন্ত আনুমানিক। সাধু ভাষার পরিবর্তনের কথা মনে রাখলে অন্ত্য-মধ্য উপস্তরের শেষসীমা ১৭৫০ সন ধরাই সঙ্গত। তবে সেই সঙ্গে সাহিত্যে ব্যবহারের দিকেও লক্ষ রাখলে ১৮০০ সন ধরতে হয়।
আদি-মধ্য বাংলার প্রধান বিশেষত্ব
[সম্পাদনা]- আ-কারের পরস্থিত ই-কার ও উ-কার ধ্বনির ক্ষীণতা, এবং পাশাপাশি দুই স্বরধ্বনির স্থিতি। যেমন — বড়াই > বড়াই, আউলাইল > আউলাইল।
- মহাপ্রাণ নাসিক্যের মহাপ্রাণতার লোপ অথবা ক্ষীণতা অর্থাৎ ‘হ্ন (ন্হ) > ন’, এবং ‘হ্ম (ম্হ) > ম’। যেমন — কাহ্ন > কান, আহ্মি > আমি।
- [রা] বিভক্তির যোগে সর্বনামের কর্তৃকারকের বহুবচন পদ সৃষ্টি। যেমন — আহ্মারা, তোহ্মারা, তারা।
- [-ইল] -অন্ত অতীতের এবং [-ইব] -অন্ত ভবিষ্যতের কতৃবাচ্যে প্রয়োগ। যেমন — “মো শুনিলোঁ” (=আমি শুনিলাম), “মোই করিবোঁ” (=মুই করিব)।
- প্রাচীন [-ইঅ-] বিকরণযুক্ত কর্মভাব-বাচ্যের ক্রমশ অপ্রচলন এবং ‘যা’ ও ‘ভূ’ ধাতুর সাহায্যে যৌগিক কর্মভাব-বাচ্যের সামরিক প্রচলন। যেমন— “ততেকে সুঝাল গেল মোর মহাদানে”, “সে কথা কহিল নয়”।
- অসমাপিকার সহিত ‘আছ্’ ধাতুর যোগে যৌগিক ক্রিয়াপদ গঠন। যেমন — লইছে < লই + (আ)ছে, রহিলছে < রহিল + (আ)ছে (=রহিয়াছে)।
- যথাক্রমে বক্তার প্রাতিমুখ্য ও আভিমুখ্য বুঝাতে ‘গিয়া’ ও ‘সিয়া’ (< এসে) অসমাপিকা ক্রিয়াপদ অনুসর্গরূপে ব্যবহার। যেমন — দেখ গিয়া > দেখ গে, দেখ সিয়া > দেখ সে।
- ষোড়শ-মাত্রিক পাদাকুলক-পজ্ঝটিকা হতে চতুর্দশাক্ষর পয়ারের বিকাশ।
আধুনিক
[সম্পাদনা]ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে নদিয়া জেলার শান্তিপুর অঞ্চলে প্রচলিত পশ্চিম-মধ্য বাংলা কথ্য ভাষার ওপর ভিত্তি করে আধুনিক বাংলা সাহিত্য গড়ে ওঠে। ঔপনিবেশিক আমলের শুরুতে আধুনিক রূপ পাওয়া বাংলা ভাষায় সেসময় থেকেই উচ্চমাত্রার দ্বিভাষিকতা বা ডাইগ্লোসিয়া ছিল। ফলে বিভিন্ন আঞ্চলিক কথ্য বাংলা ভাষা ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ব্যবহৃত আদর্শ ভাষার মধ্যে অনেকখানি পার্থক্য রয়েছে।[৪৬] ১৯শ এবং ২০শ শতাব্দীতে লিখিত বাংলার দুটি আদর্শ রূপ ছিল:
- সাধুভাষা, যা বাংলার একটি তৎসমবহুল লেখ্য রূপ।[৪৭][৪৮]
- চলিতভাষা, যা সরলীকৃত বিভক্তি ব্যবহার করে বাংলার একটি কথ্য (বর্তমানে লেখ্য) রূপ।
আধুনিক বাংলা শব্দভাণ্ডারে মাগধী প্রাকৃত, পালি, সংস্কৃত, ফারসি, আরবি এবং অস্ট্রো-এশীয় ভাষাসমূহ সহ অন্যান্য ভাষা পরিবারের শব্দ স্থান পেয়েছে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর পূর্বে, বাংলা ব্যাকরণ রচনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১৭৩৪ থেকে ১৭৪২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ভাওয়াল জমিদারীতে কর্মরত অবস্থায় পর্তুগিজ খ্রিষ্টান পুরোহিত ও ধর্মপ্রচারক ম্যানুয়েল দ্য আসুম্পসাঁও সর্বপ্রথম ভোকাবোলারিও এম ইডিওমা বেঙ্গালা, এ পোর্তুগুয়েজ ডিভিডিডো এম দুয়াস পার্তেস (পর্তুগিজ: Vocabolario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes) নামক বাংলা ভাষার অভিধান ও ব্যাকরণ রচনা করেন।[৪৯] পরবর্তীতে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হালেদ নামক এক ইংরেজ ব্যাকরণবিদ আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ (ইংরেজি: A Grammar of the Bengal Language) নামক গ্রন্থে একটি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন, যেখানে সর্বপ্রথম ছাপাখানার বাংলা হরফ ব্যবহৃত হয়।[৫০] বাঙালি সমাজসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়[৫১] ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দে গ্র্যামার অফ্ দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ্ (ইংরেজি: Grammar of the Bengali Language) নামক একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।[৫২]
ভাষা আন্দোলন
[সম্পাদনা]বাংলাদেশ
[সম্পাদনা]১৯৪৭ সালে বাংলা ভাগেরর পর ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) একটি জনপ্রিয় জাতিগত-ভাষাতাত্ত্বিক আন্দোলন। বাঙালিদের তীব্র ভাষাগত সচেতনতা এবং তৎকালীন পাকিস্তান অধিরাজ্যের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার (কথ্য ও লিখিত রূপের) স্বীকৃতি ও মর্যাদা রক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল। ১৯৫২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তা চুড়ান্ত রূপ লাভ করে। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে এই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহু ছাত্র ও রাজনৈতিক কর্মী নিহত হন।মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার রক্ষায় প্রাণ দেওয়া ইতিহাসের প্রথম শহীদ ছিলেন তারাই। ১৯৫৬ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হয়।[৫৩] তখন থেকেই ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা প্রদান করে।
ভারত
[সম্পাদনা]
বাংলাদেশ ছাড়াও ১৯৫০-এর দশকে ভারতের বিহার রাজ্যের মানভূম জেলায় বাংলা ভাষা আন্দোলন ঘটে। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দের ভারতের আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকায় একইরকম ভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলন সংঘ ভাষা বঙ্গ অঞ্চলের বাঙালি অধিবাসীর মাতৃভাষা। স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং ভারতের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এছাড়া ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণাংশেও এই ভাষা বহুল প্রচলিত। ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী বাংলা ভাষায় কথা বলে থাকেন।
ভৌগোলিক ভাষাভাষী
[সম্পাদনা]- বাংলাদেশ (৬১.৩%)
- পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) (২৮%)
- ভারতের অন্যান্য রাজ্য (৯.২%)
- অন্যান্য (১.৫%)

বাংলা ভাষা বঙ্গভূমির অধিবাসীদের মাতৃভাষা, যা বর্তমান স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে গঠিত।

মূল অঞ্চলের পাশাপাশি ত্রিপুরা,দক্ষিণ আসাম এবং ভারতীয় সংযুক্ত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বসবাসরত বাঙালীদেরও মাতৃভাষা বাংলা। ওড়িশা, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের প্রতিবেশী রাজ্যসমূহের বাংলা ভাষায় কথা বলা হয় এবং দিল্লি, মুম্বাই, বারাণসী এবং বৃন্দাবন সহ বঙ্গের বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাংলা ভাষাভাষী রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য,[৫৪][৫৫][৫৬] যুক্তরাষ্ট্র,[৫৭] সিঙ্গাপুর [৫৮] মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইতালিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বাঙালি বসবাস করেন।
সরকারি মর্যাদা
[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা তথা সরকারি ভাষা বাংলা।[১২] ১৯৮৭ সালের বাংলা ভাষা প্রচলন আইন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় কাজে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে।[২৩] বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা।
ভারতে ভারতের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ২৩টি সরকারি ভাষার মধ্যে বাংলা একটি।[৫৯] ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারি ভাষা হল বাংলা।[৬০][৬১] এছাড়াও বাংলা ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম প্রধান ভাষা।[৬২][৬৩] ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাস হতে বাংলা ভাষা ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা রূপে স্বীকৃত। পাকিস্তানের করাচি শহরের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা রূপে বাংলাকে গ্রহণ করা হয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
নোবেলজয়ী বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুইটি বাংলা কবিতা বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়।[৬৪] অধিকন্তু, অনেকে মনে করেন যে, শ্রীলংকার জাতীয় সংগীত (শ্রীলঙ্কা মাতা) মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বাংলা কবিতার প্রভাবে লেখা হয়েছিল,[৬৫][৬৬][৬৭][৬৮] আবার অনেকে এমনটাও মনে করেন যে জাতীয় সঙ্গীতটি প্রথমে বাংলায় রচিত হয়েছিল এবং তারপর তা সিংহলিতে অনুবাদ করা হয়েছিল।[৬৯][৭০][৭১][৭২]
২০০৯ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা বাংলাকে জাতিসংঘের একটি দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাব পেশ করে।[৭৩] ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই বিষয়ে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে ভারতের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘ বাংলাকে একটি অনানুষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে।[৭৪]
উপভাষা
[সম্পাদনা]কথ্য বাংলার আঞ্চলিক রূপভেদগুলো একটি উপভাষা কন্টিনাম বা অবিচ্ছিন্ন উপভাষাশৃলঙ্খল গঠন করে। ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার উপভাষাগুলোকে চারটি বৃহৎ গুচ্ছে ভাগ করেছেন: রাঢ়ী, বঙ্গীয়, কামরূপী এবং বরেন্দ্রী;[৭৫][৭৬] তবে আরও অনেক বিকল্প বিভাজনরীতিও প্রস্তাব করা হয়েছে।[৭৭] পশ্চিম-মধ্য উপভাষা (রাঢ়ী বা নদিয়া উপভাষা) আধুনিক প্রমিত কথ্য বাংলার ভিত্তি গঠন করেছে।
বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় (বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং সিলেট) প্রচলিত উপভাষাগুলোতে, পশ্চিমবঙ্গ এবং পশ্চিম বাংলাদেশে শোনা অনেক স্পর্শধ্বনি ও ঘৃষ্টধ্বনি (বা ঘর্ষণজাত ধ্বনি) উষ্মধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় দন্তমূলীয়-তালব্য ধ্বনি চ [tʃɔ], ছ [tʃʰɔ], জ [dʑɔ]-এর উচ্চারণ পূর্বাঞ্চলে যথাক্রমে চ [sɔ], ছ [sɔ], জ [dzɔ~zɔ] হয়।
পূর্ব বাংলার ধ্বনিতত্ত্বে তিব্বতি-বর্মী ভাষার প্রভাব দেখা যায়। এর ফলে অনুনাসিক স্বরধ্বনির অভাব এবং "মূর্ধন্য" ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোর দন্তমূলীয় উচ্চারণ (পশ্চিম বাংলার পশ্চাৎ-দন্তমূলীয় উচ্চারণের বিপরীতে) লক্ষ্য করা যায়। বাংলার কিছু রূপভেদে, বিশেষ করে সিলেটি,[৭৮] চাটগাঁইয়া এবং চাকমা ভাষায় স্বতন্ত্র সুর বা টোন রয়েছে; যেখানে বক্তার গলার স্বরের উঠানামা শব্দের অর্থ পরিবর্তন করতে পারে। খাড়িয়া থাড় এবং মাল পাহাড়িয়া ভাষা পশ্চিম বাংলার উপভাষাগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও, সাধারণত এগুলোকে আলাদা ভাষা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। একইভাবে, হাজং ভাষাকে একটি আলাদা ভাষা হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও উত্তর বাংলার উপভাষাগুলোর সাথে এর মিল রয়েছে।[৭৯]

কথ্য ও সাহিত্যের ভাষার বিবিধতা
[সম্পাদনা]বাংলার কথ্য ও লেখ্য রূপের মধ্যে বিবিধতা বর্তমান।[৮০][৮১] বাংলা ভাষায় দ্বিরূপতা বা ডাইগ্লোসিয়া বিদ্যমান, যদিও কিছু পণ্ডিত ভাষার লিখিত ও কথ্য রূপের মধ্যে ট্রাইগ্লোসিয়া (ত্রিরূপতা) বা এমনকি এন-গ্লোসিয়া বা হেটেরোগ্লোসিয়া (বহুরূপতা) থাকার প্রস্তাব করেছেন।[৮২] লেখার দুটি শৈলী বা রীতি উদ্ভূত হয়েছে, যার শব্দভাণ্ডার এবং বাক্যগঠন কিছুটা ভিন্ন:[৮৩][৮৪]
সাধু ভাষা
[সম্পাদনা]সাধু ভাষা (সাধু ভাষা) বা মার্জিত ভাষা ছিল লিখিত রূপ, যেখানে সংস্কৃত ও পালি ভাষাসমূহ থেকে উদ্ভূত তৎসম শব্দভাণ্ডারের আধিক্য এবং অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ ক্রিয়াবিভক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত জন গণ মন (রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) এই রীতিতে রচিত। ঊনবিংশ শতাব্দী ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই ধরনের ভাষা বাংলা সাহিত্যে বহুল ব্যবহৃত হলেও আধুনিক লেখায় এর ব্যবহার নেই বললেই চলে। বর্তমানে এটি মূলত কিছু সরকারি নির্দেশিকা ও নথিপত্রে এবং বিশেষ সাহিত্যিক আবহ তৈরির জন্য সীমাবদ্ধ।
মান্য চলিত ভাষা
[সম্পাদনা]চলিত ভাষা (চলিত ভাষা), যা ভাষাবিদদের নিকট মান্য চলিত বাংলা নামে পরিচিত, একটি কথ্য ও লিখিত বাংলা শৈলী। এই লিখনশৈলীতে মানুষের কথ্য বাগ্ধারায় স্থান পায় এবং অপেক্ষাকৃত ছোটো আকারের বা সংক্ষিপ্ত ক্রিয়াবিভক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্তমানে এটিই লিখিত বাংলার মানদণ্ড। ১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে প্যারীচাঁদ মিত্র (আলালের ঘরের দুলাল, ১৮৫৭),[৮৫] প্রমথ চৌধুরী (সবুজপত্র, ১৯১৪) এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরবর্তী লেখাগুলোর মাধ্যমে এই রীতির প্রচলন ঘটে। এটি মূলত নদিয়া ও কুষ্টিয়া জেলার যথাক্রমে শান্তিপুর এবং শিলাইদহ অঞ্চলের কথ্য উপভাষার আদলে গঠিত। একারণে বাংলার এই রূপটিকে প্রায়ই "কুষ্টিয়া প্রমিত" (বাংলাদেশ), "নদিয়া প্রমিত" (পশ্চিমবঙ্গ), "পশ্চিম-মধ্য উপভাষা", "শান্তিপুরী বাংলা" বা "শিলাইদহী বাংলা" বলা হয়।[৭৭]
আঞ্চলিক শ্রেণীকরণ ও বৈচিত্র্য
[সম্পাদনা]ভাষাবিদ প্রভাতরঞ্জন সরকার ভাষাটিকে নিম্নোক্তভাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন:
- মধ্য রাঢ়ী উপভাষা
- কাঁথি উপভাষা
- কলকাতা উপভাষা
- শান্তিপুরিয়া (নদিয়া) উপভাষা
- শেরশাহাবাদিয়া (মালদহীয়া/জঙ্গিপুরি) উপভাষা
- বরেন্দ্রী উপভাষা
- রংপুরিয়া উপভাষা
- সিলেটি উপভাষা
- ঢাকাইয়া (বিক্রমপুরী) উপভাষা
- যশোর/যশোরিয়া উপভাষা
- বরিশাল (চন্দ্রদ্বীপ) উপভাষা
- চাটগাঁইয়া (চট্টগ্রাম) উপভাষা
সাহিত্য-সংবাদ সহ অধিকাংশ লেখা প্রমিত কথ্য বাংলায় হয়ে থাকে। এছাড়া কথ্য উপভাষাগুলোতে ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়। কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষ প্রমিত কথ্য বাংলায় বা তার নিকটবর্তী একটা রূপে কথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অংশ এবং বাংলাদেশের পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন জেলাগুলোতে প্রমিত কথ্য থেকে সামান্য ভিন্ন অন্যান্য উপভাষা ব্যবহৃত হয়, যেমন মেদিনীপুর উপভাষায় বেশকিছু কিছু অনন্য শব্দ এবং বাক্যগঠন বিদ্যমান। তবে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রমিত কথ্য বাংলা (SCB) থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন উপভাষায় কথা বলেন। কিছু উপভাষা, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষাগুলোর সাথে প্রমিত কথ্য বাংলার কেবল ভাসা-ভাসা মিল রয়েছে।[৮৬] চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষা সাধারণ বাঙালিদের কাছে সবথেকে কম বোধগম্য।[৮৬] অধিকাংশ বাঙালি একাধিক ভাষারূপে যোগাযোগ করতে সক্ষম। বক্তারা অনুষ্ঠানিক পরিবেশে প্রমিত চলিতভাষার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে এক বা একাধিক আঞ্চলিক উপভাষায় পারদর্শী হন।[৮৭]
এমনকি প্রমিত কথ্য বাংলাতেও বক্তার ধর্ম অনুযায়ী শব্দভাণ্ডার ভিন্ন হতে পারে: মুসলমানরা ফার্সি ও আরবি উৎসের শব্দ এবং সংস্কৃত থেকে স্বাভাবিকভাবে উদ্ভূত (তদ্ভব) শব্দ বেশি ব্যবহার করেন, যেখানে হিন্দুরা তৎসম (সরাসরি সংস্কৃত থেকে কৃতঋণ শব্দ) ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।[৮৮] উদাহরণস্বরূপ:[৮৯]
| প্রধানত হিন্দু ব্যবহার | উৎস | প্রধানত মুসলিম ব্যবহার | উৎস |
|---|---|---|---|
| নমস্কার | সরাসরি সংস্কৃত নমস্কার থেকে | আসসালামু আলাইকুম | সরাসরি আরবি আস-সালামু আলাইকুম থেকে |
| নিমন্ত্রণ | দেশি বাংলা নেমন্তন্ন-এর বিপরীতে সরাসরি সংস্কৃত নিমন্ত্রণ থেকে কৃতঋণ | দাওয়াত | ফার্সি হয়ে আরবি দাওয়াহ থেকে কৃতঋণ |
| জল | সরাসরি সংস্কৃত জল থেকে কৃতঋণ | পানি | দেশি, সংস্কৃত পানীয়-এর সাথে তুলনীয় |
| স্নান | সরাসরি সংস্কৃত স্নান থেকে কৃতঋণ | গোসল | ফার্সি হয়ে আরবি গোসল থেকে কৃতঋণ |
| দিদি | দেশি, সংস্কৃত দেবী থেকে | আপা, আপু | তুর্কীয় ভাষাসমূহ থেকে |
| দাদা | দেশি, সংস্কৃত দায়াদ থেকে | ভাই, ভাইয়া | দেশি, সংস্কৃত ভ্রাতা থেকে |
| মাসী | দেশি, সংস্কৃত মাতৃস্বসা থেকে | খালা | সরাসরি আরবি খালাহ থেকে কৃতঋণ |
| পিসী | দেশি, সংস্কৃত পিতৃস্বসা থেকে | ফুফু | দেশি, প্রাকৃত ফুপ্ফী থেকে |
| কাকা | ফার্সি বা দ্রাবিড় কাকা থেকে | চাচা | প্রাকৃত চচ্চ থেকে |
| প্রার্থনা | সরাসরি সংস্কৃত প্রার্থনা থেকে কৃতঋণ | দোয়া | আরবি দু'আ থেকে কৃতঋণ |
| প্রদীপ | সরাসরি সংস্কৃত প্রদীপ থেকে কৃতঋণ | বাতি | দেশি, প্রাকৃত বত্তি এবং সংস্কৃত বর্তি-এর সাথে তুলনীয় |
| লঙ্কা | দেশি, লঙ্কার নামানুসারে | মরিচ | সরাসরি সংস্কৃত মরিচ থেকে কৃতঋণ |
ধ্বনিব্যবস্থা
[সম্পাদনা]| সম্মুখ | কেন্দ্রীয় | পশ্চাৎ | |
|---|---|---|---|
| সংবৃত | ই~ঈ i | উ~ঊ u | |
| সংবৃত-মধ্য | এ e |
ও o | |
| বিবৃত-মধ্য | অ্যা æ | অ ɔ | |
| বিবৃত | আ a |
| সম্মুখ | কেন্দ্রীয় | পশ্চাৎ | |
|---|---|---|---|
| সংবৃত | ইঁ~ঈঁ ĩ |
উঁ~ঊঁ ũ | |
| সংবৃত-মধ্য | এঁ ẽ |
ওঁ õ | |
| বিবৃত-মধ্য | অ্যাঁ æ̃ |
অঁ ɔ̃ | |
| বিবৃত | আঁ ã |
| উভয়ৌষ্ঠ্য | দন্তৌষ্ঠ্য | দন্তমূলীয় | তালু-দন্তমূলীয়/দন্তমূলীয় | তালু-দন্তমূলীয়/তালব্য | পশ্চাত্তালব্য | কণ্ঠনালীয় | ||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| নাসিক্য | m | n | ŋ | ◌̃ | ||||
| স্পর্শ | অঘোষ | p pʰ | t̪ | t tʰ | tʃ tʃʰ | k kʰ | ||
| ঘোষ | b bʱ | d̪ d̪ʱ | d dʱ | dʒ dʒʱ | ɡ gʱ | |||
| উষ্ম | (f) | s, (z) | ʃ, (ʒ) | h | ||||
| নৈকট্য | (w) | l | j | |||||
| তাড়ন | ɾ | ɽɽʱ | ||||||
বাংলা ভাষায় প্রচুর স্বরদ্যোতনা রয়েছে; একই অক্ষরে একাধিক স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়। [৯০] এর মধ্যে /oi̯/ এবং /ou̯/ দ্বয় কেবলমাত্র একটি করে স্বরবর্ণ ঐ এবং ঔ দ্বারা লেখা হয়। সর্বমোট যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ১৭ থেকে ৩১ এর মধ্যে রয়েছে বলে অনেকে ধারণা করেন। সরকার (১৯৮৫) কর্তৃক প্রদত্ত একটি লেখ নিচে দেয়া হল:[৯১]
| e̯ | i̯ | o̯ | u̯ | |
|---|---|---|---|---|
| a | ae̯ | ai̯ | ao̯ | au̯ |
| æ | æe̯ | æo̯ | ||
| e | ei̯ | eu̯ | ||
| i | ii̯ | iu̯ | ||
| o | oe̯ | oi̯ | oo̯ | ou̯ |
| u | ui̯ |
শ্বাসাঘাত
[সম্পাদনা]আদর্শ বাংলায় সাধারণত শুরুতে শ্বাসাঘাত লক্ষ করা যায়। বাংলা শব্দগুলো বিমুর্তভাবে দ্বিপর্ববিশিষ্ট; শব্দের প্রথম অক্ষরে মুখ্য শ্বাসাঘাত পড়ে এবং প্রায়ই বিজোড় অবস্থানের অক্ষরগুলোতে গৌণ শ্বাসাঘাত লক্ষ করা যায়। ফলে সহযোগিতা শব্দটি উচ্চারিত হয় shô-hô-jo-gi-ta "cooperation", যেখানে মোটাদাগ মুখ্য এবং গৌণ শ্বাসাঘাত নির্দেশ করে।
যুক্তব্যঞ্জন
[সম্পাদনা]স্থানীয় বাংলা ভাষায় শব্দের শুরুতে যুক্তবর্ণ থাকে না;[৯২] সর্বোচ্চ ব্য-স্ব-ব্য আকারের অক্ষর হতে পারে(স্বরধনির দুপাশে ব্যঞ্জনধ্বনি)। অনেক বাঙালি এমনকি ইংরেজি কিংবা সংস্কৃত থেকে ধারকৃত শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রেও এই ধারাটি বজায় রাখে যেমন গ্রাম (ব্য-ব্য.ব্য-স্ব-ব্য) উচ্চারণ করেন গেরাম (ব্য-স্ব.ব্য-স্ব-ব্য), স্কুল(ব্য-ব্য-স্ব-ব্য) উচ্চারণ করেন ইস্কুল(স্ব-ব্য.ব্য-স্ব-ব্য) হিসেবে।
বানানতাত্ত্বিক গভীরতা
[সম্পাদনা]সাধারণভাবে বাংলা লিপির তুলনামূলক বানানতাত্ত্বিক গভীরতা বেশি নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাঙালীদের ধ্বনি এবং বর্ণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে উচ্চারণ-বানান অসঙ্গতি ঘটে।
এক ধরনের অসঙ্গতি হল একই শব্দের জন্য লেখায় বেশ কয়েকটি বানানের উপস্থিতি। ঊনবিংশ শতাব্দীতে কিছু পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও, বাংলা বানান পদ্ধতি সংস্কৃত ভাষার জন্য ব্যবহৃত বানানরীতির উপর ভিত্তি করেই রচিত হচ্ছে [৫০] এবং এভাবে কথ্য ভাষায় কিছু শব্দ সংযোজনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকে না। উদাহরণস্বরূপ,অঘোষ দন্তমূলীয়-তালব্য ব্যঞ্জন [ɕ]-এর জন্য তিনটি বর্ণ (শ, ষ, এবং স রয়েছে যদিও স বর্ণটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যেমন স্খলন-এ ব্যবহৃত হয়। তখন অঘোষ দন্তমূলীয় উষ্মধ্বনি [s] শব্দ ধরে রাখে; যেমন [skʰɔlɔn] "স্কুল", স্পন্দন [spɔndɔn] ইত্যাদি। ষ বর্ণটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র যেমন কষ্ট-এ ব্যবহৃত হয়। তখন অঘোষ মূর্ধন্য উষ্মধ্বনি [ʂ] শব্দ ধরে রাখে; যেমনঃ কষ্ট [kɔʂʈɔ], গোষ্ঠী [ɡoʂʈʰi] ইত্যাদি। একইভাবে,ঘোষ তালব্য-দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি [dʑ] প্রকাশ করার জন্য দুটি অক্ষর রয়েছে (জ এবং য)। তাছাড়া, আগে উচ্চারিত [ɳ] এবং লিখিত মূর্ধন্য অনুনাসিক ণ কে এখন সাধারণ আলাপচারিতায় দন্তমূলীয় [n] হিসেবে উচ্চারণ করা হয় (যখন উচ্চারণ করা হয় তখন পার্থক্য বোঝা যায়) (যদি না অপর একটি মূর্ধন্যধ্বনির যেমন ট ঠ, ড এবং ঢ-এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে), তবে বানানে এই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না। অর্ধ-সংবৃত সম্মুখ স্বরবর্ণ [æ] বানানতাত্ত্বিকভাবে একাধিক উপায়ে নিরূপিত হয়। উদাহরণস্বরূপ: এত [ætɔ], এ্যাকাডেমী [ækademi], অ্যামিবা [æmiba], দেখা [dækʰa], ব্যস্ত [bæstɔ], ব্যাকরণ [bækɔrɔn]।
অন্য ধরনের অসঙ্গতিটি লেখায় যথেষ্ট ঔচ্চারণিক তথ্যের ঘাটতিসম্পর্কিত। পূর্ববর্তী ধ্বনির স্বরসঙ্গতির উপর নির্ভর করে লেখায় প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে জড়িত অন্তর্নিহিত স্বরবর্ণটি [o] কিংবা [ɔ] হতে পারে; কিন্তু লেখায় স্পষ্টভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় তা পাঠকের জন্য দ্ব্যর্থতা তৈরি করে। তাছাড়া অন্তর্নিহিত স্বরটি প্রায়শই শব্দের শেষে ঊহ্য থাকে (যেমন: কম [kɔm]; তবে তা বানানে প্রতিফলিত না হওয়ায় নতুন পাঠকের পক্ষে এটি কঠিন করে তোলে।
অনেক যুক্তব্যঞ্জন তাদের মূল ব্যঞ্জনবর্ণের চেয়ে আলাদা রূপে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যঞ্জনবর্ণের ক্ [k] এবং ষ [ʂ] যুক্ত হয়ে ক্ষ গঠন করে এবং তা [kkʰɔ](রুক্ষ উচ্চারিত হয় [rukkʰɔ]) কিংবা [kkʰo] (ক্ষতি — [kkʰot̪i]) অথবা [kkʰɔ] (যেমন ক্ষমতা এর উচ্চারণ [kkʰɔmɔt̪a]) হিসেবে উচ্চারিত হতে পারে যা কোনও শব্দে যুক্তব্যঞ্জনটির অবস্থানের উপর নির্ভর করে। বাংলা লেখার ব্যবস্থাটি তাই সর্বদা উচ্চারণের সত্যিকারের সহায়ক নয়।
ব্যবহারসমূহ
[সম্পাদনা]বাংলা, অসমীয়া এবং অন্যান্য ভাষার জন্য ব্যবহৃত লিপিটি বাংলা লিপি হিসাবে পরিচিত। বাংলা এবং তার উপভাষায় বাংলা লিপি হিসেবে এবং কিছু ছোটোখাটো পরিবর্তনের সঙ্গে অসমীয়া ভাষায় অসমীয়া বর্ণমালা হিসেবে পরিচিত। নিকটবর্তী অঞ্চলের অন্যান্য সম্পর্কিত ভাষা যেমন ভারতীয় রাজ্য মণিপুরে মৈতৈ মণিপুরী ভাষাও বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে, যেখানে মৈতৈ ভাষা বহু শতাব্দী ধরে বাংলা বর্ণমালায় রচিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মৈতৈ লিপি প্রচার করা হয়েছে।
লিখন পদ্ধতি
[সম্পাদনা]
বাংলা লিপি একটি আবুগিদা ভিত্তিক শব্দীয় বর্ণমালা লিপি বা অক্ষরমূলক লিপি। এতে প্রতিটি ব্যঞ্জনের জন্য স্বতন্ত্র অক্ষর থাকে, স্বরের জন্য বিভিন্ন কারচিহ্ন ডায়াক্রিটিক আকারে ব্যবহৃত হয়। কোনো স্বরচিহ্ন যুক্ত না থাকলে ব্যঞ্জনে অন্তর্নিহিত স্বর বা স্বয়ংক্রিয় স্বরবর্ণ ‘‘অ’’ ([ɔ] বা ‘‘ô’’) ধরা হয়।[৯৩] সমগ্র বাংলাদেশ এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলে (আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা) বাংলা-অসমীয়া লিপি ব্যবহৃত হয়। আনুমানিক খ্রিস্টীয় ১০০০ অব্দে (অর্থাৎ ১০ম–১১শ শতকে) সংশোধিত ব্রাহ্মী লিপি থেকে বাংলা বর্ণমালার উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়।[৯৪] উল্লেখযোগ্য যে বাংলাদেশ মুসলিমপ্রধান দেশ হয়েও পাকিস্তানে ব্যবহৃত শাহমুখি লিপির মতো আরবি বর্ণমালা ব্যবহার না করে বাংলা লিপিই ব্যবহার করে।
হস্তলিখিত বাংলা লিপি কার্সিভ/বক্রলিপি চরিত্রের। এখানে মোট ১১টি গ্রাফিম দিয়ে নয়টি স্বর এবং দুটি যৌগিক স্বরধ্বনি বোঝানো হয়; এবং ৩৯টি গ্রাফিমে বিভিন্ন ব্যঞ্জনধ্বনি ও অন্যান্য বিশেষ ব্যাঞ্জনবর্ণ ব্যবহৃত হয়।[৯৪] বাংলা লিপিতে লাতিনের মতো বড় ও ছোট হাতের কোন আলাদা রূপ নেই। বর্ণগুলো বাম থেকে ডানে লেখা হয় এবং শব্দ আলাদা করতে ফাঁকা স্থান ব্যবহৃত হয়। তবে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলায় শব্দের মাঝে ফাঁকা দেওয়ার রীতি ছিল না। প্রতিটি বর্ণের ওপর দিয়ে টানা অনুভূমিক দাগকে ‘‘মাত্রা’’ বলা হয়।[৯৫]
বাংলা লিপি আবুগিদা হওয়ায় ব্যঞ্জনচিহ্ন সাধারণত খণ্ডধ্বনি নয়, বরং অন্তর্নিহিত স্বরযুক্ত বর্ণ (অক্ষরমূল) নির্দেশ করে। অন্তর্নিহিত স্বর ‘‘অ’ সাধারণত [ɔ] বা কিছু ক্ষেত্রে [o] কিংবা কিছু পরিবর্তিত রূপ হতে পারে। কোনো ব্যঞ্জনে অন্তর্নিহিত স্বর নেই তা দেখাতে ব্যঞ্জনের নিচে ‘‘হসন্ত’’ (্) বসানো হয় (যেমন ম্ [m])। বাংলা লেখায় হসন্ত খুব বেশি ব্যবহৃত হয় না; এটি সাধারণত উচ্চারণগত বৈপরীত্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় শব্দের শেষে বা মাঝখানে ব্যঞ্জনে হসন্ত না থাকলেও হলন্ত উচ্চারণ হয় হয়, অর্থাৎ কোনো স্বর উচ্চারিত হয় না—যেমন মন [mon]-এর শেষের ‘‘ন’’; আবার গামলা [ɡamla]-র ‘‘ম’’–তেও অন্তর্নিহিত স্বর থাকে না।
ব্যঞ্জনের পরে যদি অন্তর্নিহিত স্বর ছাড়া অন্য কোনো স্বর আসে, তবে তা ব্যঞ্জনের চারপাশে, অর্থাৎ উপরে, নিচে, আগে বা পরে বসা বিভিন্ন কারচিহ্ন দ্বারা লেখা হয়। এগুলো ডায়াক্রিটিক হওয়ায় স্বাধীনভাবে লেখা যায় না। উদাহরণ: মি [mi], মা [ma], মী, মু, মূ, মৃ, মে, মৈ, মো, মৌ। এই সব ক্ষেত্রেই ব্যঞ্জনের অন্তর্নিহিত স্বর বাদ দিয়ে স্বরচিহ্ন বসে (তবে অন্তর্নিহিত স্বরের অপসারণ আলাদা করে চিহ্নিত হয় না)।
বাংলা স্বরচিহ্ন দুটি রূপে দেখা যায়: স্বতন্ত্র/স্বাধীন রূপ (যখন স্বরবর্ণ স্বাধীনভাবে লেখা হয়), এবং নির্ভরশীল/অলোগ্রাফ রূপ (যা কারচিহ্ন হিসেবে ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়)। শব্দের শুরুতে বা ব্যঞ্জন থেকে আলাদা অবস্থায় স্বর লিখতে স্বতন্ত্র রূপ ব্যবহৃত হয়—যেমন ইলিশ, মই ইত্যাদি।
হসন্ত ছাড়াও বাংলায় আরও তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ প্রচলিত: উপরের বসা ‘‘চন্দ্রবিন্দু’’ (ঁ) স্বরের নাসিক্য উচ্চাওরণ নির্দেশ করে (যেমন চাঁদ); পরে বসা ‘‘অনুস্বার’’ (ং) কণ্ঠ্য নাসিক্য [ŋ] বোঝায় (যেমন বাংলা); এবং পরে বসা ‘‘বিসর্গ’’ (ঃ) অঘোষ কণ্ঠনালীয় উষ্মধ্বনি [h] (যেমন উঃ!) অথবা পরবর্তী ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব নির্দেশ করে (যেমন দুঃখ)। অন্যান্য ভারতীয় লিপির মতো বাংলা লিপিতেও প্রায়ই শোওয়া বিলুপ্তি ঘটে—বিশেষত পদান্তে।
বাংলা যুক্তবর্ণ বা যুক্তব্যঞ্জন সাধারণত লিগেচার আকারে লেখা হয়। এক্ষেত্রে প্রথম ব্যঞ্জনটি পরের ব্যঞ্জনের ওপর বা বাম দিকে যুক্ত হয়। যুক্তবর্ণে কখনও কখনও ব্যঞ্জনগুলোর মূল আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে মূল রূপের চেয়ে এতটাই বিকৃত হয় যে, আলাদা করে চেনা কঠিন হয়ে পড়ে—যেমন ক্ষ (ক+ষ), হ্ম (হ+ম) ইত্যাদি। বাংলা লিপিতে এমন প্রায় ২৮৫টি যুক্তব্যঞ্জন বিদ্যমান। কিছু যুক্তরূপের দৃশ্যত নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ছোটবেলা থেকে রপ্ত করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরূপ সহজে চেনাতে ‘‘স্বচ্ছ’’ রূপ ব্যবহার শুরু করেছে। তবে মুদ্রণ সহ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরোনো ‘‘অস্বচ্ছ’’ রূপই প্রচলিত হওয়ায় বর্তমান শিক্ষার্থীদের উভয় রূপই শিখতে হয়।
বাংলা যতিচিহ্নে ‘‘।’’ (দাঁড়ি) রয়েছে, যা বাংলায় ‘‘পূর্ণচ্ছেদ’’ নির্দেশ করে। অন্যান্য যতিচিহ্ন পশ্চিমা লিপি (যেমন লাতিন, সিরিলিক) থেকে গৃহীত এবং ব্যবহারও প্রায় একই।
পশ্চিমা লিপি যেখানে অদৃশ্য ভিত্তিরেখার ওপর দাঁড়ায়, বাংলায় বর্ণগুলো ওপরের দৃশ্যমান মাত্রা থেকে ঝুলে থাকে। মাত্রার উপস্থিতি/অনুপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে বর্ণের পার্থক্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ—যেমন ‘‘ত’’ বনাম সংখ্যা ‘‘৩’’, ‘‘ত্র’’ (ত+র ফলা) বনাম স্বাধীন স্বর ‘‘এ’’, ‘‘হ’’ বনাম ‘‘ঽ’’, ‘‘ও’’ বনাম যুক্তব্যঞ্জন ‘‘ত্ত’’ (ত+ত) প্রভৃতি। বর্ণের উচ্চতা (মাত্রা থেকে নিচের অদৃশ্য ভিত্তি পর্যন্ত) ও প্রস্থ—দুটির ধারণাই লিপির চেহারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলা গ্রাফিম সাজানোর (অভিধান, সূচি বা কম্পিউটারিক ক্রমবিন্যাস) কোনো সর্বজনস্বীকৃত একক ‘‘ক্রমবিন্যাস-মান’’ এখনো নির্ধারিত হয়নি। বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা একটি যৌথ মান নির্ধারণের কাজ করছেন।
বিকল্প ও ঐতিহাসিক লিপি
[সম্পাদনা]
ইতিহাসজুড়ে কিছু সময়ে বাংলা ভাষা ভিন্ন ভিন্ন লিপিতে লেখা হয়েছে। তবে এসব লিপি কখনও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়নি এবং নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাভাষী সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ভাষার ওপর পারস্পরিক প্রভাব পড়েছে। ওডিশা-সীমান্তবর্তী মেদিনীপুরে অল্পসংখ্যক মানুষ বাংলা লেখার জন্য ওড়িয়া লিপি ব্যবহার করতেন। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সীমান্ত অঞ্চলে কিছু বাংলা-ভাষী সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে দেবনাগরী, কৈথি ও তিরহুতা লিপিতে বাংলা লিখেছেন।[৯৬]
সিলেট ও বাঁকুড়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কৈথি লিপির কিছু পরিবর্তিত রূপ একসময় প্রচলিত ছিল। সিলেট অঞ্চলের রূপটি হিন্দুস্তানি ভাষার বৈতালি কৈথির সঙ্গে মূলত একই ছিল, শুধু সিলেটি নাগরিতে মাত্রা ব্যবহৃত হতো।[৯৭] সিলেটি নাগরি লিপি আনু. ১৮৬৯ সালে মুদ্রণের জন্য মান্য করা হয়।[৯৮]
১৯শ শতক পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত বাংলার বিভিন্ন স্থানে আরবি লিপির নানা রূপ ব্যবহৃত হয়েছে।[৯৬][৯৯][১০০] বাংলার ১৪শ শতকের দরবারি পণ্ডিত নূর কুতব আলম ফারসি বর্ণমালা ব্যবহার করে বাংলা কবিতা রচনা করেছিলেন।[১০১][১০২] ২০শ শতকে ভারত ভাগের পর পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানে বাংলার মানক লিপি হিসেবে ফারসি-আরবি লিপি চালু করার চেষ্টা করে। পূর্ব বাংলাজুড়ে এই উদ্যোগ বিরোধিতার সম্মুখীন হয় এবং তা বাংলা ভাষা আন্দোলনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।[১০৩]
১৬শ শতকে পর্তুগিজ মিশনারিরা বাংলা লিপ্যন্তরের জন্য রোমান বর্ণমালার ব্যবহার শুরু করেন। পর্তুগিজ পদ্ধতিটি তেমন বিস্তার পায়নি, তবে খ্রিস্টধর্ম ও বাংলা ব্যাকরণ-সংক্রান্ত কিছু রোমান বাংলা গ্রন্থ ১৭৪৩ সালে লিসবন পর্যন্ত ছাপা হয়েছিল। পরে ইংরেজ ও ফরাসিরা বাংলা ব্যাকরণ ও লিপ্যন্তর সম্পর্কিত গ্রন্থ রচনা করেন। জন গিলক্রিস্ট ইংরেজি ধ্বনিমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে রোমান হরফে প্রথম ঈশপের উপকথাগুলো বাংলায় প্রকাশ করেন। এরপর প্রতি শতাব্দীতেই রোমান বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা এবং মুহাম্মদ এনামুল হকসহ অনেকে এসব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছেন।[৯৬] ডিজিটাল বিপ্লব বাংলা লেখায় ইংরেজি বর্ণমালা ব্যবহারের প্রসারেও ভূমিকা রেখেছে,[১০৪] এবং বর্তমানে কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবক সম্পূর্ণ উপন্যাসও রোমান বাংলায় প্রকাশ করছেন।[১০৫]
অর্থোগ্রাফিক গভীরতা
[সম্পাদনা]সাধারণভাবে বাংলা লিপির অর্থোগ্রাফি অগভীর; অর্থাৎ বহু ক্ষেত্রে শব্দের ধ্বনি (ফোনিম) ও বর্ণের (গ্রাফিম) মধ্যে সঙ্গতি দেখা যায়। ইংরেজি বা ফরাসির লাতিন লিপিতে এ মিল তুলনামূলকভাবে কম। তবে অন্য অনেক ক্ষেত্রে বাংলা লিপিতে গ্রাফিম-ফোনিমের বেশি অমিল দেখা যায়। আসলে, ভারতীয় লিপিগুলোর মধ্যে বাংলা-অসমীয়ার অর্থোগ্রাফিক গভীরতা সবচেয়ে বেশি। সাধারণভাবে গ্রাফিম (বানান) থেকে ফোনিম (উচ্চারণ) অনুমান করা বা বানান দেখে উচ্চারণ বোঝা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু ফোনিম থেকে গ্রাফিম—অর্থাৎ উচ্চারণ থেকে বানান অনুমান করা তুলনামূলক কঠিন।
এক ধরনের অমিল তৈরি হয়েছে একই ধ্বনির জন্য একাধিক বর্ণ থাকার কারণে। ১৯শ শতকে কিছু সংস্কার হলেও বাংলা বানান এখনো সংস্কৃত-নির্ভর, এবং কথ্য ভাষায় যে সব ধ্বনিমিল হয়েছে, সেগুলো বানানে প্রতিফলিত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, [ʃ] ধ্বনির জন্য তিনটি বর্ণ (শ, ষ ও স) আছে। তবে বিশেষ কিছু যুক্তব্যাঞ্জনে এখনো স্বতন্ত্র স [s] ধ্বনি বিদ্যমান, যেমন স্খলন [skʰɔlon] ("পতন"), স্পন্দন [spɔndon] ("কম্পন") ইত্যাদি। কিছু ক্ষেত্রে ষ বর্রও [ʂ] ধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হয়—যেমন কষ্ট [kɔʂʈo], গোষ্ঠী [ɡoʂʈʰi] ইত্যাদি। একইভাবে [dʒ] ধ্বনির জন্য জ ও য—এই দুটি বর্ণ ব্যবহৃত হয়। আরও একটি উদাহরণ হলো, ণ ব্যঞ্জনটি আগে [ɳ] ধ্বনিতে উচ্চারিত হতো, কিন্তু কথ্য ভাষায় এখন সাধারণত [n] উচ্চারণ ব্যবহৃত হয় (তবে ট, ঠ, ড, ঢ-জাত মূর্ধন্য ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হলে তা আলাদা)। তবে ন-এর উচ্চারণে মিলে গেলেও বানান অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। একইভাবে, [æ] স্বরধ্বনি বিভিন্নভাবে লিপিতে প্রকাশিত হয়, যেমন: এত [æto] ("এতটা"), এ্যাকাডেমি [ækaɖemi] (বর্তমানে অ্যাকাডেমি), অ্যামিবা [æmiba], দেখা [dækʰa] ব্যস্ত [bæsto], ব্যাকরণ [bækorɔn]।
আরেক ধরনের অমিল দেখা যায় ধ্বনিতাত্ত্বিক তথ্যের অপূর্ণতার কারণে। প্রতিটি ব্যঞ্জনে যুক্ত অন্তর্নিহিত স্বরধ্বনি অ কখনো বিবৃত [ɔ] আবার কখনো সংবৃত [o] হয়—এটি আশেপাশের স্বরধ্বনি বা স্বরসঙ্গতির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এই তথ্য বানানে স্পষ্ট নয়। ফলে পাঠকের জন্য বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আরও একটি ব্যাপার হলো, অনেক সময় সিলেবলের শেষে অন্তর্নিহিত স্বর উচ্চারিত হয় না—যেমন কম [kɔm] ("কম")—কিন্তু বানানে তা হসন্ত দিয়ে (কম্) দেখানো হয় না। নতুন পাঠকদের জন্য এটি সমস্যা তৈরি করে।
বহু যুক্তব্যাঞ্জনের উচ্চারণ তাদের পৃথক ব্যঞ্জনের ধ্বনি থেকে ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, ক্ [k] ও ষ [ʂ] একত্র হয়ে ক্ষ রূপ নেয় এবং শব্দের অবস্থানভেদে এর উচ্চারণ [kkʰo] (যেমন রুক্ষ [rukkʰo]—"রুক্খো"), [kʰɔ] (ক্ষমতা [kʰɔmota]—"খমোতা") কিংবা [kʰo] (ক্ষতি [kʰoti]—"খোতি") হতে পারে। আবার [ʃ] ধ্বনির জন্য লিপিতে ৭টির মতো ভিন্ন গ্রাফিম রয়েছে। যেমন: 'শ' (শব্দ—śôbdo "শব্দো"), 'ষ' (ষড়যন্ত্র—śoṛōjontrô "শড়োজন্ত্রো"), 'স' (সরকার—śorkar "শর্কার্"), 'শ্ব' (শ্বশুর—śōśur "শোশুর্"), 'শ্ম' (শ্মশান—śośan " শঁসান্"), 'স্ব' (স্বপ্ন—śopnō "শপ্নো"), 'স্ম' (স্মরণ—śorōn "শরোন্"), 'ষ্ম' (গ্রীষ্ম—griśśō "গ্রিশ্শো") ইত্যাদি। বহু যুক্তব্যাঞ্জনে কেবল প্রথম ব্যঞ্জনটি উচ্চারিত হয়, বাকিগুলো নিঃশব্দ থাকে। যেমন লক্ষ্মণ (lakṣmaṇa লিখা হলেও lokkhōn তথা "লোক্খোন" উচ্চারিত হয়), বিশ্বাস (biśbāsa, কিন্তু উচ্চারিত হয় biśśaś তথা "বিস্সাস"), বাধ্য (bādhya লিখা হলেও উচ্চারিত হয় baddhō "বাদ্ধো"), স্বাস্থ্য (sbāsthya লিখা হলেও উচ্চারিত হয় śasthō "শাস্থো")। কিছু যুক্তব্যাঞ্জনের উচ্চারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়, যেমন 'হ্য' ঐতিহ্য শব্দে aitihya-এর বদলে ōitijjhō (ওই্তিজ্ঝো) রূপে উচ্চারিত হয়, আবার হ্যাঁ-তে এটি hyām̐ (নাসিক্য "hæ") রূপে লিখা হলেও 'hæ' শোনা যায় ।
লিপির আরেকটি অসঙ্গতি দেখা যায় অন্য (anya লেখা হলেও উচ্চারণ ōnnō, ওন্নো) এবং অন্ন (anna লেখা হলেও উচ্চারণ onnō, অন্নো) শব্দে । এখানে অ বর্ণটি দুটি ভিন্ন যুক্তব্যাঞ্জন ন্য (nya) ও ন্ন (nna) এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে একই অ বর্ণের দুটি ভিন্ন উচ্চারণ ō এবং o থাকলেও, দুটি ভিন্ন যুক্তব্যাঞ্জনের উচ্চারণ একই। ফলে একই বর্ণ বা গ্রাফিম শব্দে অবস্থানভেদে ভিন্ন উচ্চারণ পেতে পারে, আবার ভিন্ন বর্ণ বা গ্রাফিম অনেক সময় একই উচ্চারণ বহন করে।
এসব অমিলের প্রধান কারণ হলো বাংলায় বহু ধ্বনির সমীভবন ঘটলেও লিপি সে অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়নি। বাংলায় তৎসম শব্দ তথা সংস্কৃত থেকে সরাসরি আগত শব্দ অনেক। এসব শব্দে মূল সংস্কৃত বানান রয়ে গেছে, কিন্তু উচ্চারণ সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে। তৎসম শব্দগুলোতে গ্রাফিম-ফোনিমের অসামঞ্জস্য বেশি দেখা গেলেও অধিকাংশতদ্ভব শব্দে বানান ও উচ্চারণ অনেক বেশি সঙ্গতিপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বাংলা লিপি অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চারণের নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশক নয়।
ব্যবহার
[সম্পাদনা]বাংলা লিপি বাংলা, অসমীয়া এবং আশেপাশের আরও কিছু ভাষা লেখার জন্য ব্যবহৃত হয়। বাংলা ও এর উপভাষাগুলোর ক্ষেত্রে এই লিপিকে বাংলা বর্ণমালা বলা হয়, আর সামান্য কিছু পরিবর্তনসহ অসমীয়া ভাষার জন্য এটিকে অসমীয়া বর্ণমালা নামে ডাকা হয়। আশেপাশের অঞ্চলের আরও কিছু ভাষাও বাংলা লিপি ব্যবহার করে। যেমন ভারতের মণিপুর রাজ্যের মৈতৈ ভাষা বহু শতাব্দী ধরে বাংলা লিপিতে লেখা হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মৈতৈ লিপি ব্যবহারের প্রচার বাড়ছে।
সংখ্যা পদ্ধতি
[সম্পাদনা]বাংলা অঙ্কগুলো হলো:
| ০ | ১ | ২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ | ৯ |
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| শূন্য | এক | দুই | তিন | চার | পাঁচ | ছয় | সাত | আট | নয় |
ঊনবিংশ শতকের কিছু ব্যাকরণগ্রন্থে এক টাকার ভগ্নাংশ (আনা) বোঝাতে অতিরিক্ত কিছু চিহ্নের উল্লেখ আছে[১০৬][১০৭] যেমন আনার পরিমাণ বা ১৬ আনা (১ টাকা) বুঝাতে ৹, ১ আনা (৴), ২ আনা (৵), ৩ আনা (৶), ৪ আনা (৷), ৮ আনা (৷৷), ১২ আনা (৸), গণ্ডা (৻)।
রোমানীকরণ
[সম্পাদনা]সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার জন্য বিভিন্ন রোমানীকরণ পদ্ধতি তৈরি হয়েছে, কিন্তু অনেক পদ্ধতিই বাংলার প্রকৃত ধ্বনি যথাযথভাবে প্রকাশ করতে পারেনি। বাংলা বর্ণমালাকে প্রায়ই ব্রাহ্মী-উৎপন্ন লিপিগুলোর শাখায় ফেলে রোমানীকরণ করা হয়। ফলে তাতে বাংলার আসল ধ্বনিগত মান সঠিকভাবে ফুটে ওঠে না। এমন কিছু পদ্ধতি হলো সংস্কৃত লিপ্যন্তরের আন্তর্জাতিক বর্ণমালা বা আইএএসটি (এক্ষেত্রে ডায়াক্রিটিক বা স্বরচিহ্ন ব্যবহার করা হয়);[১০৮] “ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলিটারেশন” (ভারতীয় ভাষার লিপ্যন্তর বা আইট্রান্স), এখানে অ্যাস্কি কী–বোর্ডে ব্যবহারের জন্য বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করা হয়);[১০৯] এছাড়াও রয়েছে কলকাতা জাতীয় গ্রন্থাগারের রোমানীকরণ পদ্ধতি।[১১০]
বাংলা রোমানীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে প্রতিবর্ণীকরণ ও ট্রান্সক্রিপশন—এ দুটি বিষয় আলাদা করে জানা জরুরি। ট্রান্সলিটারেশন হলো বানান-নির্ভর (অর্থাৎ এর মাধ্যমে ভাষার মূল বানানে ফিরে আসা যায়), আর ট্রান্সক্রিপশন হলো উচ্চারণ-নির্ভর (অর্থাৎ শব্দের উচ্চারণ পুনরুচ্চারিত করা যায়)। বাংলা বানান প্রায়ই উচ্চারণ অনুযায়ী না হওয়ায় এই এই দুই পদ্ধতির রোমানীকরণ সবসময় এক নয়।
বাংলায় এমন একটি ট্রান্সলিটারেশন পদ্ধতি থাকা কাম্য, যেখানে রোমান হরফ থেকে মূল বাংলা বানান ফেরত আনা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে উইকিপিডিয়ায় বাংলা শব্দগুলোকে ফোনেমিক ট্রান্সক্রিপশন অনুযায়ী রোমানীকরণ করা হয়; এক্ষেত্রে কেবল উচ্চারণ তুলে ধরা হয়, বানানের কোনো উল্লেখ থাকে না।
সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স ২০১৮ সালের কলকাতা বইমেলায় তিনটি জনপ্রিয় শিশুতোষ বই Abol Tabol, Hasi Khusi এবং Sahoj Path নামে রোমান হরফে প্রকাশ করে। বেনগ্লিশ বুকস ইমপ্রিন্ট থেকে প্রকাশিত বইগুলো ধ্বনিনির্ভর লিপ্যন্তর অনুসরণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত বানানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে। তবে কোমল ব্যঞ্জনধ্বনি বোঝাতে এদের বানানে নিম্নরেখা বা আন্ডারলাইন ব্যবহৃত হয়েছে।
ব্যাকরণ
[সম্পাদনা]বাংলা বিশেষ্য পদের কোনো লিঙ্গভেদ নেই, যার ফলে বিশেষণের পরিবর্তন বা বিভক্তি যোগ হয় না বললেই চলে। তবে, বিশেষ্য এবং সর্বনাম পদগুলো বাক্যে তাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে চারটি কারকে বিন্যস্ত হয়ে পরিমিতভাবে রূপান্তরিত (বিভক্তিযুক্ত) হয় (যদিও ব্যাকরণে ৬টি কারকের আলোচনা করা হয়); অন্যদিকে ক্রিয়াপদগুলোর ব্যাপক রূপান্তর ঘটে। তবে বিশেষ্যের বচনের ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়ার রূপের কোনো পরিবর্তন হয় না।
পদক্রম
[সম্পাদনা]মূল-শব্দ অন্তিম ভাষা হিসেবে বাংলা কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া পদক্রম অনুসরণ করে। যদিও প্রায়ই এর ব্যতিক্রম দেখা যায়।[১১১] ইংরেজি এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষায় ব্যবহৃত preposition বা পুরসর্গের বিপরীতে বাংলা ভাষায় অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। পদাশ্রিত নির্দেশক বিশেষ্যের পরে সেঁটে বসে, অন্যদিকে সংখ্যাবাচক শব্দ, বিশেষণ এবং মালিকানা বা সম্বন্ধ পদ বিশেষ্যের আগে বসে।[১১২]
হ্যাঁ-না বোধক প্রশ্নের জন্য মৌলিক পদক্রমের কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না; এর পরিবর্তে, বাক্যের শেষ অক্ষরের নিচু (L) স্বরভঙ্গি পতনশীল (HL) স্বরভঙ্গি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এছাড়া, হ্যাঁ-না বোধক প্রশ্নের প্রথম বা শেষ শব্দের সাথে প্রায়ই ঐচ্ছিক অব্যয় (যেমন: কি, না ইত্যাদি) যুক্ত থাকে।
'ক'-কারাদি প্রশ্নগুলো (Wh-questions) সাধারণত বাক্যে মূল গুরত্ব প্রায়। এটি বাক্যের প্রথম বা দ্বিতীয় শব্দ হয়ে থাকে।
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]বিশেষ্য এবং সর্বনাম পদগুলো বিভক্তি বা কারক অনুসারে পরিবর্তিত হয়; এর মধ্যে রয়েছে কর্তৃকারক, কর্মকারক, সম্বন্ধ পদ, এবং অধিকরণ কারক।[২৮] প্রতিটি বিশেষ্য পদের বিভক্তি যুক্ত হওয়ার ধরন নির্ভর করে বিশেষ্যটির প্রাণীবাচকতা বা অপ্রাণীবাচকতার মাত্রার ওপর। নিচের সারণির মতো -টা (একবচন) বা -গুলো (বহুবচন)-এর মতো পদাশ্রিত নির্দেশক যুক্ত হলে বিশেষ্যগুলো বচন অনুসারেও পরিবর্তিত হয়।
বেশিরভাগ বাংলা ব্যাকরণ বইয়ে, কারককে ৬টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় এবং সাথে একটি অতিরিক্ত সম্বন্ধ পদ থাকে (সম্বন্ধ পদকে বাংলা ব্যাকরণবিদরা কারক হিসেবে গণ্য করেন না)। তবে ব্যবহারের দিক থেকে, কারকগুলোকে সাধারণত মাত্র ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
| প্রাণীবাচক | অপ্রাণীবাচক | |||
|---|---|---|---|---|
| একবচন | বহুবচন | একবচন | বহুবচন | |
| কর্তৃকারক | ছাত্রটি chatrô-ṭi |
ছাত্ররা / ছাত্রগণ chatrô-ra |
জুতোটা juto-ṭa |
জুতাগুলা juta-gula / / জুতোগুলো juto-gulo |
| কর্মকারক | ছাত্রটিকে/রে chatrô-ṭi-ke/re |
ছাত্রদের(কে) chatrô-der(ke) |
জুতোটা juto-ṭa জুতোটি |
জুতাগুলা juta-gula / / জুতোগুলো juto-gulo |
| সম্বন্ধ পদ | ছাত্রটির chatrô-ṭi-r |
ছাত্রদের chatrô-der |
জুতোটার juto-ṭa-r |
জুতাগুলা / জুতোগুলোর juta-gula / juto-gulo-r |
| অধিকরণ কারক | – | – | জুতোটায় juto-ṭa-y |
জুতাগুলাতে / জুতোগুলোতে juta-gula-te / juto-gulo-te |
গণনার সময় বিশেষ্য পদের সঙ্গে অল্প কিছু নির্দিষ্ট পদাশ্রিত নির্দেশক বা লগ্নক যুক্ত হয়। বাংলা ভাষায় বিশেষ্যের ঠিক পাশে সংখ্যা বসিয়ে গণনা করা যায় না। সংখ্যা ও বিশেষ্যের মাঝে অবশ্যই একটি উপযুক্ত লগ্নক বা পদাশ্রিত নির্দেশক ব্যবহার করতে হয় (মূল ভূখণ্ডীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভাষাতাত্ত্বিক অঞ্চলের বেশিরভাগ ভাষাই এই ক্ষেত্রে একই রকম)। বেশিরভাগ বিশেষ্যের সাথে সাধারণ নির্দেশক -টা ব্যবহৃত হয়; অন্যান্য নির্দেশকগুলো অর্থগত শ্রেণি নির্দেশ করে (যেমন: মানুষের ক্ষেত্রে -জন)। এছাড়াও '-খানা' এবং এর ক্ষুদ্রার্থক রূপ '-খানি' নির্দেশক রয়েছে। এগুলো সবচেয়ে কম প্রচলিত নির্দেশক।[১১৩]
নয়টি/টা গরু Nôy-ṭi/ṭa goru |
কয়টা বালিশ Kôy-ṭa balish |
অনেকজন লোক Ônek-jôn lok |
চার-পাঁচজন শিক্ষক Ĉar-pãc-jôn shikkhôk |
উপযুক্ত পদাশ্রিত নির্দেশক ছাড়া বাংলা বিশেষ্য গণনা করা (যেমন: আটটা বিড়াল-এর বদলে আট বিড়াল) সাধারণত ব্যাকরণগতভাবে ভুল বলে গণ্য হয়। তবে, যখন পদাশ্রিত নির্দেশক থেকেই বিশেষ্যটির অর্থগত শ্রেণি বোঝা যায়, তখন প্রায়শই বিশেষ্যটি উহ্য থাকে এবং শুধুমাত্র পদাশ্রিত নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়; যেমন: শুধু একজন থাকবে। বাক্যটি দিয়ে "শুধু একজন ব্যক্তি থাকবে" বোঝা যায়, কারণ -জন-এর মধ্যে অর্থগত শ্রেণিটি নিহিত রয়েছে।
এই অর্থে অন্যান্য বেশিরভাগ ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার বিপরীত বাংলা ভাষার সব বিশেষ্যই বস্তুবাচক বিশেষ্যের মতো।
ক্রিয়া
[সম্পাদনা]ক্রিয়াপদ দুই প্রকার: সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া। অসমাপিকা ক্রিয়ার কাল বা পুরুষের ভেদে কোনো রূপান্তর বা বিভক্তি যোগ হয় না, তবে সমাপিকা ক্রিয়াগুলো পুরুষ (উত্তম, মধ্যম, নাম), কাল (বর্তমান, অতীত, ভবিষ্যৎ), ভাব (সাধারণ, পুরাঘটিত, ঘটমান), এবং সম্মান (ঘনিষ্ঠ, সাধারণ এবং সম্ভ্রমাত্মক) অনুসারে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়, কিন্তু বচনভেদে পরিবর্তিত হয় না। শর্তসাপেক্ষ অনুজ্ঞা ও ভাবের জন্য অন্যান্য বিশেষ বিভক্তিগুলো কাল এবং প্রকারের প্রত্যয়গুলোকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। অনেক ধাতু বা ক্রিয়ামূলের রূপান্তরের সংখ্যা ২০০-এর বেশি হতে পারে।
বাংলা ভাষার রূপমূলতত্ত্বে বিভক্তিসূচক প্রত্যয়গুলো অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হয়, পাশাপাশি বাক্যতত্ত্বেও সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।
অনুক্ত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাংলা বেশিরভাগ ইন্দো-আর্য ভাষা থেকে আলাদা। বাংলায় বর্তমান কালে প্রায়ই সংযোজক 'হওয়া' ক্রিয়াটি অনুপস্থিত থাকে।[১১৪] তাই, "তিনি হন একজন শিক্ষক"-কে বাংলায় বলা হয় "তিনি শিক্ষক"।[১১৫] এই দিক থেকে বাংলা রুশ ও হাঙ্গেরীয় ভাষার মতো। এছাড়াও রোমানি ব্যাকরণ বাংলা ব্যাকরণের বেশ নিকটবর্তী।[১১৬]
শব্দভাণ্ডার
[সম্পাদনা]- বাংলার তদ্ভব শব্দ (উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ইন্দো-আর্য ভাষাসমূহ শব্দ) (১৬%)
- বাংলার তৎসম শব্দ (সংস্কৃত থেকে সরাসরি গৃহীত) (৪০%)
- দেশজ শব্দ (আদিবাসী বা “দেশি” শব্দ) (১৬%)
- বিদেশি শব্দ (ফারসি, তুর্কি, আরবি, ইংরেজি, পর্তুগিজ ইত্যাদি থেকে আগত) (২৮%)
বাংলা ভাষায় মোট শব্দের সংখ্যা প্রায় ১,০০,০০০ বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৬,০০০ (১৬%) শব্দ তদ্ভব বা খাঁটি বাংলা শব্দ। অর্থাৎ এগুলো হলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ইন্দো-আর্য শব্দ। প্রায় ৪০,০০০ (৪০%) শব্দ হলোতৎসম। এগুলো সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে গৃহীত; তবে বানান একই হলেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে উচ্চারণ সংস্কৃত ভাষা থেকে কিছুটা আলাদা। এছাড়া “দেশি” শব্দ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় উৎসের তথা ইন্দো-আর্য ভাষার আগমনের পূর্বে এই অঞ্চলের আদিবাসীদের ভাষা থেকে আগত[১১৭][১১৮][১১৯][১২০] শব্দও প্রায় ১৬,০০০ (১৬%)। এছাড়া বাকিগুলো “বিদেশি” উৎসের শব্দ। এর মধ্যে আছে ফারসি, তুর্কি, আরবি, পর্তুগিজ, ইংরেজি সহ নানান ভাষা। এ ধরনের বিদেশি উৎসের শব্দের সংখ্যা প্রায় ২৮,০০০ (২৮%)। এই সংখ্যা বাংলার দীর্ঘ ইতিহাসে নানা জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গভীরতা স্পষ্ট করে।[১২১] বাংলা ভাষার অসমীয়া ভাষা সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে; প্রকৃতপক্ষে অসমীয়াই বাংলার সবচেয়ে নিকটবর্তী স্বীকৃত ভাষা। আবার নেপালি ভাষার সঙ্গে বাংলা শব্দভাণ্ডারের প্রায় ৪০ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।[১২২]
আধুনিক বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের প্রভাব অনেক বেশি। শহুরে বাঙালিদের কথ্য ভাষায় বিশেষত ইংরেজি শব্দের ব্যবহার বেশ বাড়ছে।[১২৩][১২৪] তবে ঐতিহাসিকভাবে মধ্যযুগে বাংলা ভাষার উপর ফারসি ভাষার প্রভাব ছিল সর্বাধিক। মধ্যযুগের দিল্লি ও সুবাংলার সুলতানি আমলের বহু শাসক ছিল তুর্কি ও ফারসি জাতিভুক্ত ছিলেন। আবার মুঘল শাসকেরাও চাগাতাই তুর্কি জাতি থেকে আগত। তবে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৩৭ সালে প্রশাসনিক ভাষা বদলে ইংরেজি করার আগপর্যন্ত পূর্বোক্ত মুসলিম শাসনামলে প্রায় ৬০০ বছর ধরে বাংলার প্রশাসনিক ভাষা ছিল ফারসি। ফলে বাংলা ভাষার উন্নয়নে ফারসি ভাষার প্রভাব আধুনিক যুগ পর্যন্তও উল্লেখযোগ্য ছিল। এটি বাংলার ব্যাকরণগত রূপকেও বেশ প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হয়।[১২৫] বাংলায় ফারসির প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে মধ্যযুগের শেষভাগে বাংলা ভাষার এক অতি-ফারসি প্রভাবিত রূপের উদ্ভব হয়, যাকে বলা হয় দোভাষী বাংলা।[১২৬] ঔপনিবেশিক আমলে ভাষা সংস্কারের আগ পর্যন্ত এই ভাষায় প্রচুর কিচ্ছা ও পুঁথি সাহিত্য লেখা হয়েছে। তবে মুসলিম শাসনামলে বাংলায় ফারসির পাশাপাশি বহু আরবি ও তুর্কি ভাষার শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছে।
এবং পরবর্তীতে প্রাক-ঔপনিবেশিক এবং ঔপনিবেশিক যুগে পর্তুগিজ , ওলন্দাজ, ফরাসি, ইংরেজদের মতো ইউরোপীয়দের সঙ্গে যোগাযোগের ফলে বাংলা বহু বিদেশি শব্দ গ্রহণ করেছে এবং এগুলোর অনেকগুলোই বাংলা ভাষার মূল শব্দভাণ্ডারে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
নমুনা পাঠ্য
[সম্পাদনা]নিম্নলিখিত বাংলা ভাষাতে মানবাধিকার সনদের প্রথম ধারার নমুনা পাঠ্য:
বাংলা লিপিতে বাংলা ভাষা
- ধারা ১: সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে; সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিত।
- Dhara êk: Sômôstô manush sbadhinbhabe sôman môrzada ebông ôdhikar niye jônmôgrôhôn kôre. Tãder bibek ebông buddhi achhe; sutôrang sôkôleri êke ôpôrer prôti bhratritbôsulôbh mônobhab niye achôrôn kôra uchit.
আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালাতে বাংলা ভাষার উচ্চারণ
- d̪ʱara æk ʃɔmɔst̪ɔ manuʃ ʃad̪ʱinbʱabe ʃɔman mɔrdʒad̪a ebɔŋ ɔd̪ʱikar nie̯e dʒɔnmɔɡrɔhɔn kɔre. t̪ãd̪er bibek ebɔŋ budd̪ʱːi atʃʰe; sut̪ɔraŋ sɔkɔleri æke ɔpɔrer prɔt̪i bʱrat̪rit̪ːɔsulɔbʱ mɔnobʱab nie̯e atʃɔrɔn kɔra utʃit̪.
সম্পর্কিত ভাষাসমূহ
[সম্পাদনা]বাংলা ভাষার সাথে নেপালি ভাষার ৪০ শতাংশ সাদৃশ্য রয়েছে।[১২৭] এছাড়া অসমীয়া ভাষা, সাদরি ভাষা প্রায় বাংলার অনুরূপ। অনেকেই অসমীয়াকে বাংলার উপভাষা বা আঞ্চলিক রীতি হিসেবে বিবেচনা করেন। সাঁওতালি ভাষা, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার সাথেও বেশ সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। অসমীয়ার পর বাংলার সবথেকে কাছের ভাষা ওড়িয়া।
অসমীয়া, চাটগাঁইয়া, সিলেটি এবং প্রমিত বাংলার সাথে তুলনা
[সম্পাদনা]| রাজবংশী | অসমীয়া | প্রমিত বাংলা | সিলেটি | চাটগাঁইয়া |
|---|---|---|---|---|
| Muĩ kôrû | Môi kôrû | Ami kôri | Ami/Mui xôri | ãi gôri |
| Muĩ kôrûsû | Môi kôri asû | Ami kôrchi | Ami/Mui xôriar/xôrram | ãi gôrir |
| Muĩ kôrsinû | Môi kôrisilû | Ami kôrêchi | Ami/Mui xôrsilam | ãi gôrgi |
| Muĩ kôrûsinû | Môi kôri asilû | Ami kôrchilam | Ami/Mui xôrat aslam | ãi gôrgilam |
| Muĩ kôrim | Môi kôrim | Ami kôrbo | Ami/Mui xôrmu | ãi gôirgôm |
| Muĩ kôrtê thakim | Môi kôri/kôrat thakim | Ami kôrtê thakbo | Ami/Mui xôrat tha'xmu | ãi gorat tàikkôm |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "The Bengalis of Nepal"। Peoplegroups.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
- 1 2 টেমপ্লেট:E22
- ↑ "Scheduled Languages in descending order of speaker's strength - 2011" (পিডিএফ)। Registrar General and Census Commissioner of India। ১৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৮।
- ↑ "শিকাগোর অফিস-আদালতে বাংলা | বাংলাদেশ প্রতিদিন"। Bangladesh Pratidin। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ প্রতিনিধি, নিউ ইয়র্ক; ডটকম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর। "শিকাগোর অফিস-আদালতে এলো বাংলা"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ "শিকাগোর অফিস-আদালতে বাংলা ভাষা"। সমকাল। ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯।
- ↑ হ্যামারস্ট্রোম, হারাল্ড; ফোরকেল, রবার্ট; হাস্পেলম্যাথ, মার্টিন, সম্পাদকগণ (২০১৭)। "Bengali"। গ্লোটোলগ ৩.০ (ইংরেজি ভাষায়)। জেনা, জার্মানি: মানব ইতিহাস বিজ্ঞানের জন্য ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট।
- ↑ টেমপ্লেট:E28
- ↑ "World Population Clock: 7.8 Billion People (2020) - Worldometer"। worldometers.info (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ "What are the top 200 most spoken languages?"। Ethnologue (Free All)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ রিপোর্ট, স্টার অনলাইন (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০)। "মাতৃভাষা হিসেবে বিশ্বে বাংলা পঞ্চম অবস্থানে"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- 1 2 "৩৷ রাষ্ট্রভাষা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। বাংলাদেশ সরকার। ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|কর্ম=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ "বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দিল কেন্দ্র ..."। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ "Census of India 2011 - LANGUAGE ATLAS - INDIA"।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ "Languages of India"। ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০০৯।
- ↑ "Languages in Descending Order of Strength — India, States and Union Territories – 1991 Census"। Census Data Online। Office of the Registrar General, India। পৃ. ১। ১৪ জুন ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০০৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|month=(সাহায্য) - ↑ "Bengali language"। Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৯।
- ↑ "Bangladesh wants Bangla as an official UN language: Sheikh Hasina"। The Times of India। PTI। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
- ↑ "General Assembly hears appeal for Bangla to be made an official UN language"। UN.org। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১০। ১ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২২।
- ↑ "Hasina for Bengali as an official UN language"। Ummid.com। Indo-Asian News Service। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১০। ২ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২২।
- ↑ "বাংলা সাহিত্য, বাংলাপিডিয়া"।
- ↑ বাংলা ভাষায় আরবী ফারসী তুর্কী হিন্দী উর্দু শব্দের অভিধান- কাজী রফিকুল হক, বাংলা একাডেমি,২০০৪,পৃষ্ঠা ১৮
- 1 2 "বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭"। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১৯।
- ↑ "Amendment to the Draft Programme and Budget for 2000–2001 (30 C/5)" (PDF)। General Conference, 30th Session, Draft Resolution। UNESCO। ১৯৯৯। ২১ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০০৮।
- ↑ "Resolution adopted by the 30th Session of UNESCO's General Conference (1999)"। International Mother Language Day। UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০০৮।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;IT_Oct2024নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;TH_Oct2024নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 3 (Bhattacharya 2000)
- ↑ Datta, Amaresh (১৯৮৮)। Encyclopaedia of Indian Literature: Devraj to Jyoti (ইংরেজি ভাষায়)। Sahitya Akademi। পৃ. ১৬৯৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৬০-১১৯৪-০।
- ↑ ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "বাংলাদেশ"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ Shah 1998, পৃ. 11
- ↑ Keith 1998, পৃ. 187
- ↑ (Bhattacharya 2000)
- ↑ (Toulmin 2006:306)
- ↑ শহীদুল্লাহ, ড. মুহম্মদ (১৯৯৮) [১৯৫৮]। বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত। ঢাকা: মাওলা ব্রাদার্স। পৃ. ১৯–২১।
- ↑ সেন, সুকুমার (২০০৬)। বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত। কলকাতা: অগ্নিবীণা।
- ↑ Masica, Colin P. (১৯৯১)। The Indo-Aryan Languages। Cambridge University Press। পৃ. ৪৩০।
- ↑ শহীদুল্লাহ, মুহম্মদ (১৯৯৮) [১৯৫৮]। বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত। ঢাকা: মাওলা ব্রাদার্স। পৃ. ১–৪০।
- ↑ "Bengali language"। Encyclopaedia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Oberlies, Karl August"। Benezit Dictionary of Artists। Oxford University Press। ৩১ অক্টোবর ২০১১।
- ↑ (Sen ও Siddhanta 1996)
- 1 2 বাংলাপিডিয়া (২০১২)। "প্রধান পাতা"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ "Pala dynasty – Indian dynasty"। Global.britannica.com। ৫ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ nimmi। "Pala Dynasty, Pala Empire, Pala empire in India, Pala School of Sculptures"। Indianmirror.com। ২৮ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ Tagore ও Das 1996, পৃ. 222
- ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১২ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৬।
- ↑ Ray, S Kumar। "The Bengali Language and Translation"। Translation Articles। Kwintessential। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ "Bengali language | History, Writing System & Dialects | Britannica"। www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ মার্চ ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০২৪।
- ↑ আমীনুর রহমান (২০১২)। "ব্যাকরণ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং মহাম্মদ দানীউল হক (২০১২)। "বাংলা ভাষা"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ Wilson ও Dalton 1982, পৃ. 155
- ↑ "Rammohan Roy's Goudiya Grammar"। Scribd। ২২ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০১৯।
- ↑ Thompson, Hanne-Ruth (২০১২)। Bengali (Paperback with corrections. সংস্করণ)। Amsterdam: John Benjamins Pub. Co.। পৃ. ৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-২৭২-৩৮১৯-১।
- ↑ "Kuwait restricts recruitment of male Bangladeshi workers | Dhaka Tribune"। www.dhakatribune.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ৩০ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Bahrain: Foreign population by country of citizenship, sex and migration status (worker/ family dependent) (selected countries, January 2015) – GLMM"। GLMM (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২০ অক্টোবর ২০১৫। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Saudi Arabia"। Ethnologue। ২৩ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Archived copy" (পিডিএফ)। ২৭ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: শিরোনাম হিসাবে আর্কাইভকৃত অনুলিপি (লিঙ্ক) - ↑ "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। blls.sg। ৩০ আগস্ট ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২২।
- ↑ "Languages of India"। Ethnologue Report। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ Bhattacharjee, Kishalay (৩০ এপ্রিল ২০০৮)। "It's Indian language vs Indian language"। ndtv.com। ২৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০০৮।
- ↑ NIC, Assam State Centre, Guwahati, Assam। "Language"। Government of Assam। ৬ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০০৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ "Profile: A&N Islands at a Glance"। Andaman District। জাতীয় তথ্যবিজ্ঞান কেন্দ্র। ১৩ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০০৮।
- ↑ "Andaman District"। Andaman & Nicobar Police। National Informatics Center। ১ জুন ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০০৮।
- ↑ "Statement by Hon'ble Foreign Minister on Second Bangladesh-India Track II dialogue at BRAC Centre on 07 August, 2005"। Ministry of Foreign Affairs, বাংলাদেশ সরকার। ১৮ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০০৮।
- ↑ "Sri Lanka"। দ্য ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক। ২২ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Man of the series: Nobel laureate Tagore"। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। Times News Network। ৩ এপ্রিল ২০১১। ১২ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৯।
- ↑ "Sri Lanka I-Day to have anthem in Tamil"। দ্য হিন্দু। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Tagore's influence on Lankan culture"। হিন্দুস্তান টাইমস। ১২ মে ২০১০। ১১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ Wickramasinghe, Nira (২০০৩)। Dressing the Colonised Body: Politics, Clothing, and Identity in Sri Lanka। Orient Longman। পৃ. ২৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২৫০-২৪৭৯-৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
- ↑ Wickramasinghe, Kamanthi; Perera, Yoshitha। "Sri Lankan National Anthem: can it be used to narrow the gap?"। The Daily Mirror (Sri Lanka)। নং 30 March 2015। ১১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ Haque, Junaidul (৭ মে ২০১১)। "Rabindranath: He belonged to the world"। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ Habib, Haroon (১৭ মে ২০১১)। "Celebrating Rabindranath Tagore's legacy"। The Hindu। ১৩ জুন ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
- ↑ "Bengali 'should be UN language'"। BBC News। ২২ ডিসেম্বর ২০০৯। ৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৭।
- ↑ "UN adopts Bangla as unofficial language"। Dhaka Tribune (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ জুন ২০২২। ২০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ name="huq_sarkar"
- ↑ The Origin and Development of the Bengali language, Suniti kumar Chatterjee, Vol- 1, Page 140, George Allen and Unwin London,New Edition,1970 (English ভাষায়)।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - 1 2 ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "বাংলাদেশ"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ Gope, Amalesh; Mahanta, Sakuntala (২০১৪)। Lexical Tones in Sylheti (পিডিএফ)। 4th International Symposium on Tonal Aspects of Languages (TAL-2014)। ১৫ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২০।
- ↑ "Hajong"। The Ethnologue Report। ১৫ নভেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ Das, Debaprasad (১৬ ডিসেম্বর ২০১৪)। "Carbon Nanotube and Graphene Nanoribbon Interconnects"। ডিওআই:10.1201/b17853।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ "Bengali Language At Cornell: Language Information"। Department of Asian Studies at Cornell University। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়। ১২ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০০৮।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;cornellনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;daniul2নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "বাংলাদেশ"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "বাংলাদেশ"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- 1 2 Ray, Hai এবং Ray 1966, পৃ. 89
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;SKumar2নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Ray, Hai এবং Ray 1966, পৃ. 80
- ↑ {{cite web | url=http://www.betelco.com/bd/bangla/bangla.html | title=History of Bengali (Banglar itihash) | access-date=20 November 2006 | publisher=Bengal Telecommunication and Electric Company | archive-url=https://web.archive.org/web/20110707230420/http://www.betelco.com/bd/bangla/bangla.html | archive-date=7 July 2011 }}
- ↑ (Masica 1991, পৃ. 116)
- ↑ Sarkar, Pabitra (১৯৮৫)। Bangla diswar dhoni। Bhasa।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক) - ↑ (Masica 1991, পৃ. 125)
- ↑ Escudero Pascual Alberto (২৩ অক্টোবর ২০০৫)। "Writing Systems/ Scripts" (পিডিএফ)। Primer to Localization of Software। it46.se। ১৯ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০০৬।
- 1 2 "Bangalah"। ৫ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। in Asiatic Society of Bangladesh 2003
- ↑ "banglasemantics.net"। ২৪ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 3 Chatterji (1926), p. 234–235. উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "FOOTNOTEChatterji1926" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে - ↑ Saha, RN (১৯৩৫)। "The Origin of the Alphabet and Numbers"। Khattry, DP (সম্পাদক)। Report of All Asia Educational Conference (Benares, December 26–30, 1930)। Allahabad, India: The Indian Press Ltd। পৃ. ৭৫১–৭৭৯।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;bpediaনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Khan Sahib, Maulavi Abdul Wali (২ নভেম্বর ১৯২৫)। A Bengali Book written in Persian Script।
- ↑ Ahmad, Qeyamuddin (২০ মার্চ ২০২০)। The Wahhabi Movement in India। Routledge।
- ↑ "The development of Bengali literature during Muslim rule" (পিডিএফ)। Blogs.edgehill.ac.uk। ৯ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৬।
- ↑ শহীদুল্লাহ, মুহাম্মদ (ফেব্রুয়ারি ১৯৬৩)। "হযরত নূরুদ্দীন নূরুল হক নূর কুতবুল আলম (রহঃ)"। ইসলাম প্রসঙ্গ, ১ম সংস্করণ ইসলাম প্রসঙ্গ (1 সংস্করণ)। ঢাকা: মাওলা ব্রাদার্স। পৃ. ৯৯।
- ↑ Kurzon, Dennis (২০১০)। "Romanisation of Bengali and Other Indian Scripts"। Journal of the Royal Asiatic Society। ২০ (1): ৭১–৭৩। আইএসএসএন 1356-1863। জেস্টোর 27756124। ২৩ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২১।
- ↑ Kurzon, Dennis (২০০৯)। Romanisation of Bengali and Other Indian Scripts (অভিসন্দর্ভ)। Cambridge University।
- ↑ Islam, Tahsina (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "The question of standard Bangla"। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। ঢাকা। ১২ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০২১।
- ↑ Yates, William (১৮৪৭)। Wenger, John (সম্পাদক)। A Bengali Grammar। খণ্ড I। Calcutta: Baptist Mission Press। পৃ. ১২০।
- ↑ Beames, John (১৮৯১)। Grammar of the Bengali language: Literary and Colloquial। Oxford: Clarendon Press। পৃ. ৪।
- ↑ "Learning International Alphabet of Sanskrit Transliteration"। Sanskrit 3 – Learning transliteration। Gabriel Pradiipaka & Andrés Muni। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ "ITRANS – Indian Language Transliteration Package"। Avinash Chopde। ২৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ "Annex-F: Roman Script Transliteration" (পিডিএফ)। Indian Standard: Indian Script Code for Information Interchange – ISCII। ভারতীয় মান নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো। ১ এপ্রিল ১৯৯৯। পৃ. ৩২। ১৬ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০০৬।
- ↑ (Bhattacharya 2000, পৃ. 16)
- ↑ {{cite web | url=http://www.lmp.ucla.edu/Profile.aspx?LangID=84&menu=004 | title=Bengali | access-date=20 November 2006 | work=UCLA Language Materials project | publisher=University of California, Los Angeles | archive-url=https://web.archive.org/web/20070715213818/http://www.lmp.ucla.edu/Profile.aspx?LangID=84&menu=004 | archive-date=15 July 2007 | url-status=dead }}
- ↑ Boyle David, Anne (২০১৫)। Descriptive grammar of Bangla। De Gruyter। পৃ. ১৪১–১৪২।
- ↑ "Bangla language"। ৬ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। in Asiatic Society of Bangladesh 2003
- ↑ প্রতিবেশী ভাষাভাষী অঞ্চলে (যেমন: হিন্দি) বেড়ে ওঠা বাংলাভাষীদের কথায় এই লুপ্ত কপুলা বা সংযোজক ক্রিয়াটি ফিরে আসতে পারে, যেমন সে শিক্ষক হচ্ছে। এটি অন্য বাংলাভাষীদের কাছে ব্যাকরণগতভাবে ভুল বলে মনে হয় এবং এই ধরনের ভাষার ব্যবহারকারীদের মাঝে মাঝে (কৌতুক করে) "হচ্ছে-বাঙালি" বলে অভিহিত করা হয়।
- ↑ Hübschmannová, Milena (১৯৯৫)। "Romaňi čhib – romština: Několik základních informací o romském jazyku"। Bulletin Muzea Romské Kultury (4/1995)। Brno।
Zatímco romská lexika je bližší hindštině, marvárštině, pandžábštině atd., v gramatické sféře nacházíme mnoho shod s východoindickým jazykem, s bengálštinou.
- ↑ ব্যোমকেশ চক্রবর্তী A Comparative Study of Santali and Bengali, K.P. Bagchi & Co., Kolkata, 1994, আইএসবিএন ৮১-৭০৭৪-১২৮-৯
- ↑ Das, Khudiram (১৯৯৮)। Santhali Bangla Samashabda Abhidhan। Kolkata, India: Paschim Banga Bangla Akademi।
- ↑ "Bangla santali vasa samporko" (পিডিএফ)। ১ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০১৭।
- ↑ Das, Khudiram। Bangla Santali Bhasa Samporko (eBook)।
- ↑ Dash, Niladri Sekhar (১৫ জানুয়ারি ২০১৫)। A Descriptive Study of Bengali Words (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৬-২২২৬৮-৩।
- ↑ "Bengali"। Ethnologue। ৯ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ "Bengali language"। ১১ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৬।
- ↑ "Persian in Bengali. : languagehat.com"। languagehat.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০২৪।
- ↑ Billah, Abu M. M. A.। "Lexicographic affinities between Persian and Bengali language"। Academia।
- ↑ "Persian - Banglapedia"। en.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৫।
- ↑ "Bengali"। Ethnologue। ১০ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]
|
|
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- বাংলাপিডিয়ায় বাংলা ভাষা
- বাংলা একাডেমি ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে
- উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: শিরোনাম হিসাবে আর্কাইভকৃত অনুলিপি
- Pages with interlinear glosses using two unnamed parameters
- বাংলা ভাষা
- পূর্ব ইন্দো-আর্য ভাষা
- বাংলাদেশের ভাষা
- ভারতের ভাষা
- ভারতের সরকারি ভাষাসমূহ
- পশ্চিমবঙ্গের ভাষা
- ত্রিপুরার ভাষা
- আসামের ভাষা
- সরকারীভাবে ভারতীয় লিপিতে লেখা ভাষা
- সাহিত্য অকাদেমি স্বীকৃত ভাষা
- ঝাড়খণ্ডের ভাষা
- বিহারের ভাষা