কিয়াস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কিয়াস (আরবি: قياس) হল ইসলামি আইনশাস্ত্রের চতুর্থ উৎস। কুরআন, সুন্নাহইজমার পর এর অবস্থান। এই তিন উৎসতে নেই এমন কোনো বিষয়ের মাসয়ালা বা বিধান অনুমান করে নির্ণয় করাকে কিয়াস বলে।

ইসলামী বিধিবিধান নির্ণয়ের জন্য প্রথমত কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর নির্ভর করা হয়। সহীহ হাদীস হল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণিত হাদীস। কুরআন, হাদীস, হাদীসের সনদ ও পরিভাষা, তাফসীর, উসুলুল ফিকহ, আরবি ব্যাকরণ ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিরা ইসলামের বিধিবিধান নির্ণয় করেন। কখনও কখনও এমন বিষয়ের বিধান নির্ণয় করার প্রয়োজন হয় যে বিষয়ে কুরআন ও সহীহ হাদীসে সরাসরি কোনো বক্তব্য জানা থাকে না। এ ধরনের অবস্থায় কিয়াস বা অনুমানের উপর নির্ভর করে বিধিবিধান নির্ণয় করা হয়।

কিয়াসের মাধ্যমে নির্ণীত বিধান মানা[সম্পাদনা]

ইসলামে সাধারণ মানুষের কিয়াস অপেক্ষা ইসলামের গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইমামদের কিয়াসকে প্রাধান্য দেয়া হয়। তবে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার কুরআন ও হাদীসের সবকিছু জানা রয়েছে। তাই যখন কেউ অনুমানের উপর ভিত্তি করে বিধান নির্ণয় করেন তিনি সেটাই অনুসরণ করেন যতক্ষণ না তিনি কুরআন ও সহীহ হাদীসে সরাসরি কোনো বক্তব্য পান। এছাড়া ইজমাকেও কিয়াসের উপর প্রাধান্য দেয়া হয়। ইজমা হল এমন বিধান যে বিধানের ব্যাপারে ইসলামের গভীর জ্ঞানের অধিকারী ইমামরা একমত হয়েছেন। তাছাড়া কুরআন হাদীস থেকে বিধান বের করার দ্বায়িত্ব মুলত মুজতাহিদ আলেমদের অর্থাৎ কুরআন, হাদীস, হাদীসের সনদ ও পরিভাষা, তাফসীর, উসুলুল ফিকহ, আরবি ব্যাকরণ ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিদের। যেকেউ কুরআন হাদীস থেকে বিধান বের করতে চাইলে এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে।

ইসলামী বিশ্বাসের ব্যাপারে কিয়াস[সম্পাদনা]

কিয়াস শুধু ইসলামী আইন বা বিধানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ইসলামী বিশ্বাস বা আকীদার ক্ষেত্রে কিয়াস গ্রহণযোগ্য নয়।

ইসলামি আইনের উৎস হিসাবে গ্রহণযোগ্যতা[সম্পাদনা]

অধিকাংশ সুন্নি ইসলামি পন্ডিতদের মতে কিয়াস ইসলামি আইনের উৎস হিসাবে গ্রহণযোগ্য।[১] তবে দাউদ যাহেরিসহ কিছু পন্ডিতের মতে কিয়াস ইসলামি আইনের উৎস হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।[২][৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Walîd b. Ibrâhîm al-`Ujajî, Qiyas in Islamic Law – A Brief Introduction, Alfalah Consulting, FRIDAY, 29 APRIL 2011
  2. Mansoor Moaddel, Islamic Modernism, Nationalism, and Fundamentalism: Episode and Discourse, pg. 32. Chicago: University of Chicago Press, 2005.
  3. Chiragh Ali, pg. 281.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]