বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাম্মাদ ফাতিহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্বিতীয় মুহাম্মাদ ফাতিহ
উসমানীয় সুলতান
কাইসার-ই-রুম
বিজেতার পিতা(আবুল ফাতিহ্)
আবুল মাআলি
আল মালিকুল মুজাহিদ
ই-সানি
৭ম উসমানীয় সুলতান (বাদশাহ)
১ম দফাআগস্ট ১৪৪৪ - সেপ্টেম্বর ১৪৪৬
পূর্বসূরিদ্বিতীয় মুরাদ
উত্তরসূরিদ্বিতীয় মুরাদ
২য় দফা৩ ফেব্রুয়ারি ১৪৫১ - ৩ মে ১৪৮১
পূর্বসূরিদ্বিতীয় মুরাদ
উত্তরসূরিদ্বিতীয় বায়েজীদ
জন্ম৩০ মার্চ ১৪৩২
এদির্নে, রুমেলিয়া এয়ালেত, উসমানীয় সালতানাত
মৃত্যু৩ মে ১৪৮১(1481-05-03) (বয়স ৪৯)
হুনকারচায়িরি (তেকফুরচায়িরি), গেবজের নিকটে, উসমানীয় সালতানাত
সমাধি
স্ত্রীগুলবাহার খাতুন
গুলশাহ হাতুন
সিত্তিশাহ হাতুন
চিচেক হাতুন
খাদিজা হাতুন
রাজবংশউসমানীয় রাজবংশ
পিতাদ্বিতীয় মুরাদ
মাতাহুমা খাতুন
ধর্মসুন্নি ইসলাম
তুগরামুহাম্মাদ ফাতিহ স্বাক্ষর
Mehmed the Conqueror

দ্বিতীয় মুহাম্মাদ (উসমানীয় তুর্কি: محمد ثانى, Meḥmed-i s̠ānī; তুর্কি: মেহমেদ বা ফাতিহ সুলতান মেহমেত হান) (৩০ মার্চ ১৪৩২ – ৩ মে ১৪৮১) ছিলেন ৭ম উসমানীয় সুলতান। তিনি মুহাম্মাদ ফাতিহ অর্থাৎ বিজয়ী মুহাম্মাদ নামে পরিচিত। ১৪৪৪ সালের আগস্ট থেকে ১৪৪৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তিনি সুলতান ছিলেন। এরপর ১৪৫১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় মসনদে অসেন। দ্বিতীয় দফায় তিনি ১৪৮১ সালের মে পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি ও তার শায়খ আকশামসউদ্দিন কনস্টান্টিনোপল এর কাছে প্রথম কনস্টান্টিনোপল যুদ্ধের সময় সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারির কবর খুঁজে পান ও পরবর্তীতে সেখানে আসে মসজিদ নির্মাণ করেন। মুহাম্মাদ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী কনস্টান্টিনোপল বিজয় এই উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ ২১ বছর বয়সে কনস্টান্টিনোপল জয় বিজয় করেন । তার অসামান্য দক্ষতা তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে বড়ো কামান ও স্থল ভাগের উপর দিয়ে জাহাজ নিয়ে যাওয়া ছিল কনস্টান্টিনোপল যুদ্ধের অন্যতম কৃতিত্ব।এর ফলে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়। মুহাম্মদ আনাতোলিয়া, আলবেনিয়া, বসনিয়া, ক্রিমিয়া, ইতালি পর্যন্ত ইউরোপ অভিযান অব্যাহত রাখেন। আধুনিক তুরস্ক ও মুসলিম বিশ্বে সুলতান মুহাম্মদ একজন বীর হিসেবে সম্মানিত হন। তার স্মরণে ইস্তানবুলের ফাতিহ জেলা, ফাতিহ সুলতান মুহাম্মদ সেতু ও ফাতিহ মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে।

প্রারম্ভিক শাসনকাল

[সম্পাদনা]
এদির্নে দ্বিতীয় মুহাম্মদের অভিষেক, ১৪৫১

শাহজাদা মুহাম্মদ ১৪৩২ সালের ৩০ মার্চ উসমানীয় রাজধানী এদির্নে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ ও মা হুমা খাতুন

অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ১১ বছর বয়সে তাকে প্রথা অনুযায়ী আমাসিয়া শাসনের জন্য প্রেরণ করা হয়। তার পড়াশোনার জন্য সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ কয়েকজন শিক্ষক নিযুক্ত করেন।[] ইসলামি শিক্ষা তার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। কনস্টান্টিনোপল জয় করার ক্ষেত্রে তরুণ বয়সে আকশামসউদ্দিন তার উপর প্রভাব ফেলেছিলেন।[]

১৪৪৪ সালের আগস্টে আনাতোলিয়ার কারামানিদের সাথে শান্তি স্থাপনের পর সুলতান দ্বিতীয় মুরাদ মসনদ ত্যাগ করেন এবং দ্বিতীয় মুহাম্মদ ১২ বছর বয়সে সুলতান হন। পোপের প্রতিনিধি কার্ডিনাল জুলিয়ান সিসারিনির মদদে হাঙ্গেরির রাজা মুসলিমদের সাথে চুক্তি লঙ্ঘন করেন। জুলিয়ান তাকে বোঝান যে মুসলিমদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করলে তা বিশ্বাসঘাতকতা হবে না। হাঙ্গেরির জানোস হুনয়াডির নেতৃত্বে পরিচালিত ক্রুসেডকে মুহাম্মদ প্রতিহত করতে সক্ষম হন।[] এসময় মুহাম্মদ তার পিতা মুরাদকে পুনরায় মসনদে বসার অনুরোধ করেন কিন্তু মুরাদ তাতে অস্বীকৃতি জানান। মুহাম্মদ এর ফলে ক্রুদ্ধ হন এবং পিতার কাছে পাঠানো চিঠিতে লেখেন, "যদি আপনি সুলতান হন, তবে এগিয়ে এসে সেনাদের নেতৃত্ব দিন। যদি আমি সুলতান হই তবে আমি নির্দেশ দিচ্ছি আপনি আমার সেনাদের নেতৃত্ব দিন।" এরপর মুরাদ দায়িত্বগ্রহণ করেন এবং ১৪৪৪ সালে ভার্নার যুদ্ধে জয়লাভ করেন।

মুরাদের পুনরায় ক্ষমতাগ্রহণের ক্ষেত্রে উজিরে আজম হালিল পাশার ভূমিকা ছিল। মুহাম্মদের শিক্ষক আকশামসউদ্দিনের সাথে হালিল পাশার বিরূপ সম্পর্ক থাকায় তিনি মুহাম্মদের শাসনের পক্ষে ছিলেন না।

কনস্টান্টিনোপল বিজয়

[সম্পাদনা]
সুলতান মুহাম্মদের নির্দেশে ১৪৫১ থেকে ১৪৫২ সালের মধ্যে নির্মিত দুর্গ রুমেলিহিসারি[]

১৪৫১ সালে পুনরায় মসনদে বসার পর সুলতান মুহাম্মদ নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করতে শুরু করেন এবং কনস্টান্টিনোপল আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। বসফরাসের পূর্বে এশীয় অংশে তার প্রপিতামহ প্রথম বায়েজীদ আনাদোলুহিসারি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। মুহাম্মদ ইউরোপীয় অংশে রুমেলিহিসারি দুর্গ নির্মাণ করেন ফলে প্রনালীর উপর উসমানীয়দের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপিত হয়। এরপর প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজের উপর করারোপ করা হয়। ভেনিসিয়ান একটি জাহাজ নির্দেশ অমান্য করায় সেটিকে কামানোর গোলার আঘাতে ডুবিয়ে দেয়া হয় এবং নাবিকদের শিরশ্ছেদ করা হয়।[]

কনস্টান্টিনোপলে প্রথম অবরোধের সময় শহরের নিকটে দাফন করা সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারির কবর আকশামসউদ্দিন আধ্যাত্মিক শক্তিবলে খুজে পেয়েছিলেন।[] বিজয়ের পর মুহাম্মদ এখানে আইয়ুব সুলতান মসজিদ নির্মাণ করেন।[]

১৪৫৩ সালে মুহাম্মদ কনস্টান্টিনোপল অবরোধ করেন। এসময় তার বাহিনীতে সেনা সংখ্যা ছিল ৮০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ এবং জাহাজ ছিল ৩২০টি। এপ্রিলের শুরুর দিকে শহর অবরোধ করা হয়। অবরোধের সময় উসমানীয়রা উরবানের নির্মিত প্রকান্ড কামান থেকে গোলাবর্ষণ করে। গোল্ডেন হর্নের প্রবেশপথে বিশালাকার শেকল স্থাপনের ফলে সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে তুর্কিরা বাধার সম্মুখীন হয়। মুহাম্মদ তার জাহাজগুলিকে মাটির উপর দিয়ে টেনে গোল্ডেন হর্নে নিয়ে আসেন। ২৯ মে শহরের পতন হয়, এবং রাসূলের কনস্টান্টিনোপল ভবিষ্যদ্বাণী রূপ লাভ করে।[] বিজয়ের পর মুহাম্মদ এদির্ন থেকে রাজধানী সরিয়ে কনস্টান্টিনোপলে নিয়ে আসেন।

কনস্টান্টিনোপলে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের প্রবেশ, ফাউস্টো জোনারোর (১৮৫৪-১৯২৯) আঁকা ছবি।

৩৩০ সাল থেকে কনস্টান্টিনোপল রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল এবং শহরের অধিকারী সাম্রাজ্যের শাসক হতেন। একারণে কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর মুহাম্মদ রোমান সম্রাটদের মত কাইসার-ই রুম বা সিজার উপাধি ধারণ করেন।[] সমসাময়িক পণ্ডিত জর্জ অব ট্রেবিজন্ড এক্ষেত্রে সুলতানকে সমর্থন করেছিলেন।[][] ইস্টার্ন অর্থোডক্স চার্চ এই ঘোষণা মেনে নিলেও ক্যাথলিক চার্চ এবং পশ্চিম ইউরোপ তা মেনে নেয়নি। গেন্নাডিয়াস স্কলারিয়াসকে সুলতান কনস্টান্টিনোপলের পেট্রিয়ার্ক মনোনীত করেন।

বাইজেন্টাইন সম্রাট একাদশ কনস্টান্টাইন কোনো উত্তরসূরি না রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত বড় ভাইয়ের পুত্ররা তার উত্তরাধিকারী হওয়ার কথা ছিল। সুলতান মুহাম্মদ তাদেরকে প্রাসাদের দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। জ্যেষ্ঠ পুত্র হাস মুরাদকে মুহাম্মদ পছন্দ করতেন। তাকে বলকান বেলেরবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। কনিষ্ঠ পুত্র মেসিহ পাশা একজন নৌ সেনাপতি হন এবং গেলিপলির সানজাক বে নিযুক্ত হন। তিনি পরবর্তীতে সাম্রাজ্যের উজিরে আজম নিযুক্ত হয়েছিলেন।[১০]

কিছু ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের ১০ বছর পর মুহাম্মদ ট্রয় সফর করে বলেন যে গ্রীক তথা বাইজেন্টাইনদের জয় করার মাধ্যমে তিনি ট্রোজানদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছেন।[১১][১২][১৩]

সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ

অন্যান্য অভিযানসমূহ

[সম্পাদনা]

দক্ষিণ সার্বিয়া ও উত্তর মোরেয়া বিজয় (১৪৫৮–১৪৬০)

[সম্পাদনা]

সার্বিয়া বিজয়

[সম্পাদনা]
পটভূমি

১৪শ শতকের শেষ দিকে সার্বিয়া উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীন এক ধরনের ভ্যাসাল রাষ্ট্রে পরিণত হয়।[১৪] ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল পতনের পর বলকান অঞ্চলে উসমানীয় প্রভাব আরও জোরদার হয়। সে সময় সার্বিয়ার শাসক ছিলেন দেসপট জর্জ ব্রাঙ্কোভিচ।

বিজয়ের ধাপ
  • ১৪৫৪–১৪৫৫: সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদ (মুহাম্মাদ ফাতিহ) সার্বিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন এবং কয়েকটি দুর্গ ও অঞ্চল দখল করেন।
  • ১৪৫৬: বেলগ্রেড অবরোধে উসমানীয় বাহিনী ব্যর্থ হয়, তবে সার্বিয়ার ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকে।
  • ১৪৫৯: সার্বিয়ার রাজধানী স্মেডেরেভো উসমানীয়দের দখলে চলে যায়।
চূড়ান্ত ফলাফল

২০ জুন ১৪৫৯ সালে সার্বিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে বলকান অঞ্চলে উসমানীয় কর্তৃত্ব সুদৃঢ় হয়।

মোরেয়া বিজয়

[সম্পাদনা]
পটভূমি

মোরেয়া বর্তমান পেলোপনিস উপদ্বীপে অবস্থিত ছিল। এটি ছিল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের শেষ অবশিষ্ট অঞ্চলগুলোর একটি, যা মোরেয়ার দেসপটেট নামে পরিচিত ছিল। কনস্টান্টিনোপল পতনের পরও এখানকার শাসকরা প্রায়ই বিদ্রোহ করত বা পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত।

বিজয়ের ধাপ
  • ১৪৫৮: মুহাম্মাদ ফাতিহ মোরেয়ায় প্রথম সামরিক অভিযান পরিচালনা করে কিছু অঞ্চল দখল করেন।
  • ১৪৬০: পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে পুরো মোরেয়া উসমানীয়দের অধীনে আসে।
  • স্থানীয় শাসক দেমেত্রিওস পালাইওলোগোস আত্মসমর্পণ করেন।

চূড়ান্ত ফলাফল

[সম্পাদনা]

১৪৬০ সালের মে–জুন মাসে মোরেয়া সম্পূর্ণভাবে উসমানীয় শাসনের অধীনে আসে। এর ফলে গ্রীসে বাইজেন্টাইন শাসনের শেষ চিহ্নও বিলুপ্ত হয়।

সাল সংক্ষেপ

[সম্পাদনা]
এলাকাবিজয়ের সাল
সার্বিয়া১৪৫৯
মোরেয়া১৪৬০

ত্রেবিজন্ড বিজয় (১৪৬০–১৪৬১)

[সম্পাদনা]

ত্রেবিজন্ড সাম্রাজ্য ছিল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী রাষ্ট্রগুলোর একটি, যা ১২০৪ সালে চতুর্থ ক্রুসেডে কনস্টান্টিনোপল পতনের পর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণসাগরের উপকূলে অবস্থিত ছিল। এর রাজধানী ছিল ত্রেবিজন্ড শহর (বর্তমান ত্রাবজোন)।

১৪৫৩ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্য কনস্টান্টিনোপল দখল করার পরও ত্রেবিজন্ড স্বাধীন অবস্থায় টিকে ছিল। তবে আশপাশের অঞ্চলগুলো একে একে উসমানীয় নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সাম্রাজ্যটি ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সে সময় ত্রেবিজন্ডের শাসক ছিলেন সম্রাট ডেভিড কোমনেন।[১৫]

বিজয়ের পূর্বপ্রস্তুতি

১৪৫৩ থেকে ১৪৬১ সালের মধ্যে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদ (মুহাম্মাদ ফাতিহ) আনাতোলিয়ার বিভিন্ন ক্ষুদ্র রাজ্য, প্রিন্সিপালিটি ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী দখল করেন। ত্রেবিজন্ড ছিল কৃষ্ণসাগরের একটি ধনী বন্দরনগরী এবং এর সঙ্গে জর্জিয়া, জেনোয়া ও বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তির বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। ফলে এটি অটোমান নৌ ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৪৬১ সালের অভিযান

১৪৬১ সালের জুলাই মাসে মুহাম্মাদ ফাতিহ একটি বৃহৎ স্থল ও নৌ অভিযান পরিচালনা করেন। স্থলপথে তিনি পূর্ব আনাতোলিয়া অতিক্রম করে কৃষ্ণসাগর উপকূল বরাবর অগ্রসর হন। একই সময়ে উসমানীয় নৌবাহিনী সমুদ্রপথে ত্রেবিজন্ড শহর অবরোধ করে। ফলে শহরটি স্থল ও নৌ—দুই দিক থেকেই ঘিরে ফেলা হয়।

অবরোধ ও আত্মসমর্পণ

ত্রেবিজন্ডের প্রতিরক্ষা প্রাচীর শক্তিশালী হলেও দীর্ঘ অবরোধের ফলে খাদ্য ও রসদের সংকট দেখা দেয়। কয়েক সপ্তাহের অবরোধের পর সম্রাট ডেভিড কোমনেন আলোচনার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। ১৫ আগস্ট ১৪৬১ সালে ত্রেবিজন্ড আনুষ্ঠানিকভাবে অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিজয়ের ফলাফল
  • রাজনৈতিকভাবে, পুরো আনাতোলিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূল উসমানীয় নিয়ন্ত্রণে আসে।
  • সামরিকভাবে, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের শেষ স্বাধীন উত্তরাধিকারী রাষ্ট্রের পতন ঘটে।
  • অর্থনৈতিকভাবে, কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যপথ সম্পূর্ণভাবে অটোমানদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
  • সাংস্কৃতিকভাবে, বহু গ্রিক অভিজাতকে ইস্তাম্বুলে স্থানান্তর করা হয় এবং ত্রেবিজন্ডে অটোমান প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

ওয়ালাচিয়া (আফলাক) অভিযান (১৪৫৯-১৪৬২)

[সম্পাদনা]

বসনিয়া বিজয় (১৪৬৪)

[সম্পাদনা]

উসমানীয়-ভেনিস যুদ্ধ (১৪৬৩-১৪৭৯)

[সম্পাদনা]

আনাতোলীয় বিজয়সমূহ (১৪৬৪-১৪৭৩)

[সম্পাদনা]

মলদাভিয়ার সাথে যুদ্ধ (১৪৭৫-১৪৭৬)

[সম্পাদনা]

আলবেনিয়া বিজয় (১৪৬৬-১৪৭৮)

[সম্পাদনা]

ক্রিমিয়া নীতি

[সম্পাদনা]

কনস্টান্টিনোপল পুনর্গঠন (১৪৫৩–১৪৭৮)

[সম্পাদনা]
ফাতিহ মসজিদ, উসমানীয়দের জয়ের পর কনস্টান্টিনোপলে প্রথম এই মসজিদ নির্মিত হয়।

কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর তিনি হাজিয়া সোফিয়া শাহাদাহ ঘোষণার নির্দেশ দেন।[১৬] হাজিয়া সোফিয়াকে এসময় মসজিদে রূপান্তরিত করা হয় ফলে কনস্টান্টিনোপলে ইসলামি শাসনের ভিত্তি দৃঢ় হয়।

মুহাম্মদ শহর পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন।[১৭] পালিয়ে যাওয়া গ্রীক ও জেনোয়েসদের ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে তিনি তাদের বাড়িঘর ফিরিয়ে দেন এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেন। তিনি নির্দেশ জারি করেন যে মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদেরকে শহরে বসতি স্থাপন করতে হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচ হাজার বসতবাড়ি শহরে স্থানান্তর করতে হবে।[১৭] সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে এসময় লোকেরা এসে এখানে বসতি স্থাপন করে।[১৮]

গ্রীক অর্থোডক্স পেট্রিয়ার্ককে পুনর্বহাল করার পাশাপাশি মুহাম্মদ ইহুদি রেবাই এবং আর্মেনীয় পেট্রিয়ার্ককে নিয়োগ দেন। তার উজিরদেরকে তিনি বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে উজিরে আজম রুম মুহাম্মদ পাশা নির্মিত রুম মুহাম্মদ পাশা মসজিদ। এসকল পদক্ষেপের ফলে শহরের দ্রুত উন্নয়ন হয়। ১৪৭৮ সালের জরিপ অনুযায়ী তৎকালীন সময়ে কনস্টান্টিনোপল এবং পার্শ্ববর্তী গালাতায় ১৬,৩২৪ বাড়িঘর এবং ৩,৯২৭টি দোকান ছিল এবং আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল ৮০,০০০।[১৯] এর মধ্যে ৬০% ছিল মুসলিম, ২০% খ্রিষ্টান এবং ১০% ইহুদি।[২০] মুহাম্মদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী নির্মাণ প্রকল্পের ফলে শহর রাজকীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে উঠে।[] সমকালীন উসমানীয় ইতিহাসবিদ নেশরির মতে "সুলতান মুহাম্মদ ইস্তানবুলের সবকিছু নির্মাণ করেছেন"।[] পঞ্চাশ বছর পরে কনস্টান্টিনোপল ইউরোপের সবচেয়ে বৃহৎ শহরে পরিণত হয়।

পরিবার

[সম্পাদনা]

সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের পাঁচজন স্ত্রী ছিলেন:

সন্তান

[সম্পাদনা]

ব্যক্তিত্ব

[সম্পাদনা]

সুলতান মুহাম্মদ তুর্কি, আরবি, ফার্সি, গ্রীক ও ইতালীয় ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।[২৪][২৫][২৬][২৭][২৮]

বিভিন্ন সময়ে তিনি তার উপস্থিতিতে আলেমদেরকে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনার জন্য আহ্বান করতেন। তার শাসনামলে গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে উসমানীয়রা প্রভূত উন্নতি লাভ করে। সুলতান নিজে আভনি ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন। তার কবিতা নিয়ে একটি দিওয়ান রয়েছে।

মুহাম্মদ আল ফাতিহ বিজ্ঞান ও ইতিহাসচর্চায় বেশ মনোযোগী ছিলেন। বেশিরভাগ সময় তিনি ইতিহাসের বই পড়েই কাটাতেন। এসময় মুহাম্মদ আল ফাতিহ আরবী, ফারসি, তুর্কি, সার্বীয়, গ্রীক, ল্যাটীনসহ ৭ টি ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠেন। এসব ভাষায় তিনি অনর্গল কথা বলতে পারতেন।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
দ্বিতীয় মুহাম্মদের মাজার, ফাতিহ, ইস্তানবুল
বসফরাসের উপরে ফাতিহ সুলতান মুহাম্মদ সেতু

১৪৮১ সালে নতুন অভিযানকালে ইস্তাবুলের মালতেপেতে পৌছানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছু দিন পর ৩ মে ৪৯ বছর বয়সে সুলতান মুহাম্মদ মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ইস্তানবুলের ফাতিহ মসজিদ সংলগ্ন স্থানে দাফন করা হয়। ধারণা করা হয় যে তাকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। একটি সূত্র অনুযায়ী ইহুদি থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত ইয়াকুব পাশা এর সাথে জড়িত। আরেকটি সূত্রমতে তার পার্সিয়ান চিকিৎসক তাকে বিষপ্রয়োগ করেছিল।[২৯]

সুলতান মুহাম্মদের মৃত্যুতে ইউরোপে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এ উপলক্ষে গির্জার ঘণ্টা বাজানো হয় এবং উদ্‌যাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ভেনিসে ঘোষণা করা হয়: "লা গ্রান্দে একুইলা এ মরতা!" ('মহান ঈগল মৃত!')[৩০][৩১]

অবদান ও স্মৃতি

[সম্পাদনা]

কনস্টান্টিনোপল জয়ের পর মুহাম্মদ শহরে অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসা গড়ে তোলেন। এর মধ্যে ফাতিহ মসজিদ অন্যতম। সুলতান সুলাইমানের পূর্বে তিনি প্রথম ফৌজদারি ও শাসনতান্ত্রিক আইন লিপিবদ্ধ করণ করেন বলে স্বীকৃত। তার শাসনামলে উসমানীয় সাম্রাজ্য কনস্টান্টিনোপল, এশিয়া মাইনর, সার্বিয়া, আলবেনিয়া,ইতালি,ক্রিমিয়া বিস্তৃত হয়।

বসফরাসের উপর তার নামে ফাতিহ সুলতান মুহাম্মদ সেতু নির্মিত হয়েছে। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তুর্কি ১০০ লিরার নোটে তার নাম ও ছবি ছাপানো ছিল।[৩২][৩৩]

প্রদর্শন

[সম্পাদনা]

ইস্তানবুলুন ফেতহি, ফেতিহ ১৪৫৩ড্রাকুলা আনটোল্ড চলচ্চিত্রে সুলতান মুহাম্মদের চরিত্র রয়েছে। চলচ্চিত্রে সামি আয়ানুগলু সুলতান মুহাম্মদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
সাধারণ তথ্য
  • Lord Kinross (১৯৭৭)। The Ottoman Centuries: The Rise And Fall Of The Turkish Empire। HarperCollins। আইএসবিএন ০-৬৮৮-০৮০৯৩-৬
  • Murr Nehme, Lina (২০০৩)। 1453, Fall of Constantinople: Muhammad II imposes the Orthodox Schism। Aleph Et Taw। আইএসবিএন ২-৮৬৮৩৯-৮১৬-২
  • Silburn, P. A. B. (1912). The evolution of sea-power. London: Longmans, Green and Co.
  • Dyer, T. H., & Hassall, A. (1901). A history of modern Europe From the fall of Constantinople. London: G. Bell and Sons.
  • Fredet, Peter (1888). Modern History; From the Coming of Christ and Change of the Roman Republic into an Empire, to the Year of Our Lord 1888. Baltimore: J. Murphy & Co. Page 383+
  1. ^ الشقائق النعمانية في علماء الدولة العثمانية، صفحة 52 نقلاً عن تاريخ الدولة العثمانية، صفحة 43
  2. الفتوح الإسلامية عبر العصور، د. عبد العزيز العمري، صفحة 358-359
  3. تاريخ الدولة العليّة العثمانية، تأليف: الأستاذ محمد فريد بك المحامي، تحقيق: الدكتور إحسان حقي، دار النفائس، الطبعة العاشرة: 1427 هـ - 2006 م، صفحة: 157 আইএসবিএন ৯৯৫৩-১৮-০৮৪-৯
  4. "Bosphorus (i.e. Bosporus), View from Kuleli, Constantinople, Turkey"World Digital Library। ১৮৯০–১৯০০। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৩
  5. 1 2 Silburn, P. A. B. (1912).
  6. 1 2 3 4 The Sultan of Vezirs: The Life and Times of the Ottoman Grand Vezir Mahmud, Théoharis Stavrides, page 23, 2001
  7. http://www.milliyet.com.tr/2004/12/19/pazar/yazortay.html
  8. http://www.washingtonpost.com/wp-srv/style/longterm/books/chap1/constantinople.htm
  9. https://books.google.com.tr/books?id=ftOp1cR7VK8C&pg=PT13&lpg=PT13&dq=%22The+seat+of+the+Roman+Empire+is+Constantinople.%22&source=bl&ots=PquK438sn9&sig=D0Ya8dmoDcswPwMdAWR6dmPXHOw&hl=tr&sa=X&ved=0CCEQ6AEwAWoVChMIvcjf2J2SyQIVBBQsCh21ygdB#v=onepage&q=%22The%20seat%20of%20the%20Roman%20Empire%20is%20Constantinople%2C%22&f=false
  10. Lowry, Heath W. (2003). The Nature of the Early Ottoman State. Albany, NY: SUNY Press. p. 115-116.
  11. Michael Wood (১৯৮৫)। In Search of the Trojan War। University of California Press। পৃ. ৩৮–। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২১৫৯৯-৩। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০১৩
  12. Kader Konuk (২১ সেপ্টেম্বর ২০১০)। East West Mimesis: Auerbach in Turkey। Stanford University Press। পৃ. ৭৮–। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৪৭-৭৫৭৫-৫। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৩
  13. John Freely (১ অক্টোবর ২০০৯)। The Grand Turk: Sultan Mehmet II - Conqueror of Constantinople and Master of an Empire। Overlook। পৃ. ৯৫–। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৯০২০-৪৪৯-৮। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৩
  14. Wei, Xin (২০২৫)। "Evaluating ChatGPT-4 and ChatGPT-4o: Performance Insights From NAEP Mathematics Problem Solving"AERA 2025। USA: AERA। ডিওআই:10.3102/ip.25.2179070
  15. Wei, Xin (২০২৫)। "Evaluating ChatGPT-4 and ChatGPT-4o: Performance Insights From NAEP Mathematics Problem Solving"AERA 2025। USA: AERA। ডিওআই:10.3102/ip.25.2179070
  16. Lewis, Bernard. Istanbul and the Civilization if the Ottoman Empire. 1, University of Oklahoma Press, 1963. p. 6
  17. 1 2 Inalcik, Halil. "The Policy of Mehmed II toward the Greek Population of Istanbul and the Byzantine Buildings of the City". Dumbarton Oaks Papers 23, (1969): 229–249. p. 236
  18. Müller-Wiener 1977, পৃ. 28
  19. The Ottomans and the Balkans: Fikret Adanır,Suraiya Faroqhi, page 358, 2002
  20. A History of Islamic Societies, Ira M. Lapidus, page 272, 2002
  21. Edmonds, Anna। Turkey's Religious Sites। Damko। পৃ. ১৯৯৭। আইএসবিএন ৯৭৫-৮২২৭-০০-৯[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  22. Babinger, Franz (১৯৯২)। Mehmed the Conqueror and His TimePrinceton University Press। পৃ. ৫১। আইএসবিএন ০-৬৯১-০১০৭৮-১[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  23. Wedding portrait, Nauplion.net
  24. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Norwich 1995 413–416 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  25. Runciman, Steven (১৯৬৫)। The Fall of Constantinople: 1453। London: Cambridge University Press। পৃ. ৫৬আইএসবিএন ০-৫২১-৩৯৮৩২-০
  26. http://www.sabah.com.tr/yazarlar/barlas/2006/05/30/fatih_19_yasinda_alti_dili_cok_iyi_biliyordu
  27. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৬
  28. http://www.milliyet.com.tr/fatih-hakan-ve-roma-kayzeri/ilber-ortayli/pazar/yazardetay/03.06.2012/1548527/default.htm
  29. 1453: The Holy War for Constantinople and the Clash of Islam and the West, Roger Crowley, 2005
  30. The Grand Turk: John Freely, page 180, 2009
  31. Minorities and the destruction of the Ottoman Empire, Salâhi Ramadan Sonyel, Page 14, 1993
  32. تاريخ الدولة العليّة العثمانية، تأليف: الأستاذ محمد فريد بك المحامي، تحقيق: الدكتور إحسان حقي، دار النفائس، الطبعة العاشرة: 1427 هـ - 2006 م، صفحة: 177-178 আইএসবিএন ৯৯৫৩-১৮-০৮৪-৯
  33. Central Bank of the Republic of Turkey ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ আগস্ট ২০১৪ তারিখে. Banknote Museum: 7. Emission Group - One Thousand Turkish Lira - I. Series ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে & II. Series ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে. – Retrieved on 20 April 2009.

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

উইকিমিডিয়া কমন্সে মুহাম্মাদ ফাতিহ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।

মুহাম্মাদ ফাতিহ
জন্ম: ৩০ মার্চ ১৪৩২ মৃত্যু: ৩ মে ১৪৮১
শাসনতান্ত্রিক খেতাব
পূর্বসূরী
দ্বিতীয় মুরাদ
উসমানীয় সুলতান
আগস্ট ১৪৪৪ ‒ সেপ্টেম্বর ১৪৪৬
উত্তরসূরী
দ্বিতীয় মুরাদ
উসমানীয় সুলতান (বাদশাহ)
৩ ফেব্রুয়ারি ১৪৫১ – ৩ মে ১৪৮১
উত্তরসূরী
দ্বিতীয় বায়েজীদ
Titles in pretence
পূর্বসূরী
একাদশ কনস্টান্টাইন
রোমান সাম্রাজ্যের সিজার উত্তরসূরী
দ্বিতীয় বায়েজীদ
নতুন পদবী
স্বঘোষিত
ইসলামের খলিফা