রোহিঙ্গা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী
Flag of the Rohingya Nation
মোট জনসংখ্যা
১,৪২৪,০০০
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চলসমূহ
বার্মা (আরাকান), বাংলাদেশ, মালয়শিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, ভারত
 বার্মা ৮০০,০০০ [১][২]
 বাংলাদেশ ৩০০,০০০ [৩]
 পাকিস্তান ২০০,০০০ [৪][৫][৬]
 থাইল্যান্ড ১০০,০০০ [৭]
 Malaysia ২৪,০০০ [৮]
ভাষাসমূহ

রোহিঙ্গা, বার্মিজ

ধর্ম

ইসলাম

রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী পশ্চিম মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের একটি উলেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গাদের আলাদা ভাষা থাকলেও তা অলিখিত। মায়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং, বুথিডাং মংডু, কিয়ক্টাও, মাম্ব্রা, পাত্তরকিল্লা এলাকায় এদের বাস। বর্তমান ২০১২ সালে, প্রায় ৮,০০,০০০ রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করে। মায়ানমার ছাড়াও ৫ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এবং প্রায় ৫লাখ সৌদিআরবে বাস করে বলে ধারনা করা হয় যারা বিভিন্ন সময় বার্মা সরকারের নির্যাতনের কারণে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী।[৯]

রোহিঙ্গা কারা?[সম্পাদনা]

বর্তমান মিয়ানমারের রোহিং (আরাকানের পুরনো নাম) এলাকায় এ জনগোষ্ঠীর বসবাস। ইতিহাস ও ভূগোল বলছে, রাখাইন প্রদেশের উত্তর অংশে বাঙালি, পার্সিয়ান, তুর্কি, মোগল, আরবীয় ও পাঠানরা বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর বসতি স্থাপন করেছে। তাদের কথ্য ভাষায় চট্টগ্রামের স্থানীয় উচ্চারণের প্রভাব রয়েছে। উর্দু, হিন্দি, আরবি শব্দও রয়েছে। রাখাইনে দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস ‘মগ’ ও ‘রোহিঙ্গা’। মগরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মগের মুল্লুক কথাটি বাংলাদেশে পরিচিত। দস্যুবৃত্তির কারণেই এমন নাম হয়েছে ‘মগ’দের। এক সময় তাদের দৌরাত্ম্য ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মোগলরা তাদের তাড়া করে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়।

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে একটি প্রচলিত গল্প রয়েছে এভাবে_ সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকজন উপকূলে আশ্রয় নিয়ে বলেন, আল্লাহর রহমে বেঁচে গেছি। এই রহম থেকেই এসেছে রোহিঙ্গা।

তবে,ওখানকার রাজসভার বাংলা সাহিত্যের লেখকরা ঐ রাজ্যকে রোসাং বা রোসাঙ্গ রাজ্য হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

তবে ইতিহাস এটা জানায় যে, ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহিঙ্গা স্বাধীন রাজ্য ছিল। মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া এ রাজ্য দখল করার পর বৌদ্ধ আধিপত্য শুরু হয়।

এক সময়ে ব্রিটিশদের দখলে আসে এ ভূখণ্ড। তখন বড় ধরনের ভুল করে তারা এবং এটা ইচ্ছাকৃত কিনা, সে প্রশ্ন জ্বলন্ত। আমাদের 'প্রাক্তন প্রভুরা' মিয়ানমারের ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ ধরনের কত যে গোলমাল করে গেছে ব্রিটিশরা!

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হয়। সে সময়ে পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। এ জনগোষ্ঠীর কয়েকজন পদস্থ সরকারি দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে মিয়ানমারের যাত্রাপথ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে শুরু করে। রোহিঙ্গাদের জন্য শুরু হয় দুর্ভোগের নতুন অধ্যায়। সামরিক জান্তা তাদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ধর্মীয়ভাবেও অত্যাচার করা হতে থাকে। নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। হত্যা-ধর্ষণ হয়ে পড়ে নিয়মিত ঘটনা। সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়। বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করা হতে থাকে। তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই। বিয়ে করার অনুমতি নেই। সন্তান হলে নিবন্ধন নেই। জাতিগত পরিচয় প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। সংখ্যা যাতে না বাড়ে, সে জন্য আরোপিত হয় একের পর এক বিধিনিষেধ।

মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ডের অনেকের কাছেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী 'কালা' নামে পরিচিত। বাঙালিদেরও তারা 'কালা' বলে। ভারতীয়দেরও একই পরিচিতি। এ পরিচয়ে প্রকাশ পায় সীমাহীন ঘৃণা।[১০]

ভাষা[সম্পাদনা]

১৫৫৪ সালের আরাকানের মুদ্রা যা বৃহত্তর বাংলায় ব্যবহৃত হত

মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের (রাখাইন) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আধুনিক লিখিত ভাষাই হল রোহিঙ্গা ভাষা। এটি ইন্দো-ইউরোপীয়ান ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত যার সাথে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার মিল রয়েছে। রোহিঙ্গা গবেষকগণ আরবি, হানিফি, উর্দু, রোমান এবং বার্মিজ স্ক্রীপ্ট ব্যবহার করে সফলতার সাথে রোহিঙ্গা ভাষা লিখতে সক্ষম হয়েছেন। হানিফি হচ্ছে নতন তৈরি করা স্ক্রীপ্ট যা আরবি এবং তার সাথে চারটি বর্ণ (ল্যাটিন এবং বার্মিজ) সংযোগে সৃষ্ট।

সম্প্রতি একটি ল্যাটিন স্ক্রীপ্টের উদ্ভাবন হয়েছে যা ২৬টি ইংরেজি বর্ণ এবং অতিরিক্ত ২টি ল্যাটিন বর্ণ, Ç (তাড়নজাত R -এর জন্য) এবং Ñ (নাসিকা ধ্বনি-র জন্য) সংযোগে সৃষ্ট। রোহিঙ্গা ধ্বনি সঠিকভাবে বোঝার জন্য ৫টি স্বরধ্বনি (áéíóú) ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি আই.এস.ও দ্বারা স্বীকৃত।[১১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের মধ্য দিয়ে আরাকানে মুসলমানদের বসবাস শুরু হয়। আরব বংশোদ্ভূত এই জনগোষ্ঠী মায়্যু সীমান্তবর্তী অঞ্চলের (বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের নিকট) চেয়ে মধ্য আরাকানের নিকটবর্তী ম্রক-ইউ এবং কাইয়্যুকতাও শহরতলীতেই বসবাস করতে পছন্দ করতো। এই অঞ্চলের বসবাসরত মুসলিম জনপদই পরবর্তীতে রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি লাভ করে।[১২]

ম্রক-ইউ রাজ্য[সম্পাদনা]

ম্রক-ইউ রাজ্যের সম্রাট নারামেখলার (১৪৩০-১৪৩৪) শাসনকালে বাঙ্গালীদের আরাকানের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়। ২৪ বছর বাংলায় নির্বাসিত থাকার পরে সম্রাট বাংলার সুলতানের সামরিক সহায়তায় পুনরায় আরাকানের সিংহাসনে আরোহন করতে সক্ষম হন। যে সব বাঙ্গালী সম্রাটের সাথে এসেছিল তারা আরাকানে বসবাস করতে শুরু করে।[১৩][১৪] সম্রাট নারামেখলা বাংলার সুলতানের দেওয়া কিছু অঞ্চল ও আরাকানের ওপর সার্বভৌমত্ব অর্জন করে। সম্রাট নারামেখলা পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বাংলার প্রতি কৃ্তজ্ঞতা স্বরূপ আরাকানে বাংলার ইসলামী স্বর্ণমূদ্রা চালু করেন। পরবর্তীতে নারামেখলা নতুন মূদ্রা চালু করেন যার একপাশে ছিল বার্মিজ বর্ণ এবং অপরপাশে ছিল ফার্সী বর্ণ।[১৪] বাংলার প্রতি আরাকানের কৃ্তজ্ঞতা ছিল খুবই অল্প সময়ের জন্য। ১৪৩৩ সালে সুলতান জালালুদ্দিন মুহাম্মদ শাহের মৃত্যু হলে সম্রাট নারামেখলার উত্তরাধিকারীরা ১৪৩৭ সালে রামু এবং ১৪৫৯ সালে চট্টগ্রাম দখল করে নেয়। ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম আরাকানের দখলে ছিল।[১৫][১৬] বাংলার সুলতানদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পরেও আরাকানের রাজাগণ মুসলিম রীতিনীতি বজায় রেখে চলে।[১৭] বৌদ্ধ রাজাগণ নিজেদেরকে বাংলার সুলতানদের সাথে তুলনা করতো এবং মুঘলদের মতোই জীবন যাপন করতো। তারা মুসলিমদেরকেও রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিত।[১৮] ১৭ শতকের দিকে আরাকানে বাঙ্গালী মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তারা আরাকানের বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে কাজ করতো। যেহেতু রাজাগণ বৌদ্ধ হওয়ার পরেও বাংলার সুলতানদের রীতিনীতি অনুযায়ীই রাজ্য পরিচালনা করতো, তাই আরাকানের রাজদরবারে বাংলা, ফার্সী এবং আরবি ভাষার হস্তলিপিকরদের মধ্যে অনেকেই ছিল বাঙ্গালী।[১৩] কামেইন বা কামান নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী যারা মায়ানমার সরকারের নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্ত্বার মর্যাদা পেয়েছে তারা আরাকানের মুসলিম জনগোষ্ঠীরই একটা অংশ ছিল।[১৯]

বার্মিজদের দখল[সম্পাদনা]

১৭৮৫ সালে বার্মিজরা আরাকান দখল করে। এর পরে ১৭৯৯ সালে পঁয়ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষ বার্মিজদের গ্রেফতার এড়াতে এবং আশ্রয়ের নিমিত্তে আরাকান থেকে নিকটবর্তী চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলে আসে।[২০] বার্মার শোসকেরা আরাকানের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে এবং একটা বড় অংশকে আরাকান থেকে বিতাড়িত করে মধ্য বার্মায় পাঠায়। যখন ব্রিটিশরা আরাকান দখল করে তখন যেন এটি ছিল একটি মৃত্যুপূরী।[২১] ১৭৯৯ সালে প্রকাশিত "বার্মা সাম্রাজ্য"তে ব্রিটিশ ফ্রাঞ্চিজ বুচানন-হ্যামিল্টন উল্লেখ করেন, "মুহাম্মদ(সঃ) - এর অনুসারীরা", যারা অনেকদিন ধরে আরাকানে বাস করছে, তাদেরকে "রুইঙ্গা" বা "আরাকানের অধিবাসী" বলা হয়।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন[সম্পাদনা]

কৃষিকাজের জন্য আরাকানের কম জন অধ্যুষিত এবং উর্বর উপত্যকায় আশপাশের এলাকা থেকে বাঙ্গালী অধিবাসীদের অভিবাসন করার নীতি গ্রহণ করেছিল ব্রিটিশরাইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলাকে আরাকান পর্যন্ত বিস্তৃত করেছিল। আরাকান ও বাংলার মাঝে কোন আন্তর্জাতিক সীমারেখা ছিল না এবং এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাওয়ার ব্যাপারে কোন বিধি-নিষেধও ছিল না। ১৯ শতকে, হাজার হাজার বাঙ্গালী কাজের সন্ধানে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আরাকানে গিয়ে বসতি গড়েছিল। এছাড়াও, হাজার হাজার রাখাইন আরাকান থেকে বাংলায় চলে এসেছিল।[২২][২৩]

১৮৯১ সালে ব্রিটিশদের করা এক আদমশুমারীতে দেখা যায়, আরাকানে তখন ৫৮,২৫৫ জন মুসলমান ছিল। ১৯১১ সালে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৮,৬৪৭ জন হয়।[২৪] অভিবাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ বাংলার সস্তা শ্রম যা আরাকানের ধান ক্ষেতের কাজে লাগত। বাংলার এই অধিবাসীরা (বেশিরভাগই ছিল চট্টগ্রাম অঞ্চলের) মূলত আরাকানের দক্ষিণেই অভিবাসিত হয়েছিল। এটা নিশ্চিত যে, ভারতের এই অভিবাসন প্রক্রিয়া ছিল পুরো অঞ্চল জুড়ে, শুধু আরাকানেই নয়। ঐতিহাসিক থান্ট মিন্ট-ইউ লিখেছেন: "বিংশ শতাব্দীর শুরুতে, বার্মায় আসা ভারতীয়দের সংখ্যা কোনভাবেই আড়াই লক্ষের কম নয়। এই সংখ্যা ১৯২৭ সাল পর্যন্ত বাড়তেই থাকে এবং অভিবাসীদের সংখ্যা হয় ৪৮০,০০০ জন, রেঙ্গুন নিউ ইয়র্ককেও অতিক্রম করে বিশ্বের বড় অভিবাসন বন্দর হিসেবে। মোট অভিবাসীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১.৩ কোটি (১৩ মিলিয়ন)।" তখন বার্মার রেঙ্গুন, আকিয়াব, বেসিন, প্যাথিন এবং মৌমেইনের মত অধিকাংশ বড় শহরগুলোতে ভারতীয় অভিবাসীরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্রিটিশ শাসনে বার্মিজরা অসহায়ত্ব বোধ করত এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামার মাধ্যমে তারা অভিবাসীদের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করত।[২৫]

অভিবাসনের ফলে সংঘাত মূলত আরাকানেই ছিল সবচেয়ে প্রকট। ১৯৩৯ সালে, রোহিঙ্গা মুসলিম ও রাখাইন বৌদ্ধদের মধ্যকার দীর্ঘ শত্রুতার অবসানের জন্য ব্রিটিশ প্রশাসন জেমস ইস্টার এবং তিন তুতের দ্বারা একটি বিশেষ অনুসন্ধান কমিশন গঠন করে। কমিশন অনুসন্ধান শেষে সীমান্ত বন্ধ করার সুপারিশ করে, এর মধ্যে শুরু হয় ২য় বিশ্ব যুদ্ধ এবং এর পরে ব্রিটিশরা আরাকান ছেড়ে চলে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন জাপানীদের দখল[সম্পাদনা]

১৯৪২ সালের ২৮শে মার্চ, মায়ানমারের মিনবিয়া এবং ম্রক-ইউ শহরে রাখাইন জাতীয়তাবাদী এবং কারেইনপন্থীরা প্রায় ৫,০০০ মুসলমানকে হত্যা করে। ইতোমধ্যে, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ২০,০০০ মুসলমানকে হত্যা করা হয়। এতে উপ-কমিশনার ইউ য়ু কিয়াও খায়াং-ও নিহত হন যিনি দাঙ্গা নিয়ণ্ত্রনের চেষ্টা করছিলেন।[২৬]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, জাপানীরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনস্হ বার্মায় আক্রমণ করে। ব্রিটিশ শক্তি পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছেড়ে চলে যায়। এর ফলে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে। এর মধ্যে বৌদ্ধ রাখাইন এবং মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছিল উল্লেখযোগ্য। এই সময়ে ব্রিটিশপন্হীদের সাথে বার্মার জাতীয়তাবাদীদেরও সংঘর্ষ হয়। জাপানীদের আক্রমণের সময় উত্তর আরাকানের ব্রিটিশপন্হী অস্ত্রধারী মুসলমানদের দল বাফার জোন সৃষ্টি করে।[২৭] রোহিঙ্গারা যুদ্ধের সময় মিত্রপক্ষকে সমর্থন করেছিল এবং জাপানী শক্তির বিরোধিতা করেছিল, পর্যবেক্ষণে সাহায্য করেছিল মিত্রশক্তিকে।

জাপানীরা হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যা করেছিল।[২৮] এই সময়ে প্রায় ২২,০০০ রোহিঙ্গা সংঘর্ষ এড়াতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলায় চলে গিয়েছিল।[২৯][৩০]

জাপানী এবং বার্মাদের দ্বারা বারংবার গণহত্যার শিকার হয়ে প্রায় ৪০,০০০ রোহিঙ্গা স্হায়ীভাবে চট্টগ্রামে চলে আসে।[৩১]

যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থা[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে রোহিঙ্গারা মুজাহিদ পার্টি গঠন করে যারা জিহাদি আন্দোলন সমর্থন করতো।[৩২] মুজাহিদ পার্টির লক্ষ্য ছিল আরাকানে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তারা জেনারেল নে উইনের নেতৃত্বে ১৯৬২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। নে উইন তাদেরকে দমনের জন্য দুই দশকব্যাপী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। উল্লেখযোগ্য একটি অভিযান ছিল "কিং ড্রাগন অপারেশন" যা ১৯৭৮ সালে পরিচালিত হয়। এর ফলে অনেক মুসলমান প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে এবং শরনার্থী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যার রোহিঙ্গারা পাকিস্তানের করাচীতে চলে যায় (দেখুন পাকিস্তানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী)।[৬] এরপরও, বার্মার মুজাহিদরা আরাকানের দূর্গম এলাকায় এখনও সক্রিয় আছে। [৩৩]

বার্মিজ জান্তা[সম্পাদনা]

প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে বার্মা শাসন করছে মায়ানমারের সামরিক জান্তা। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা বার্মিজ জাতীয়তাবাদ এবং থেরাভেদা বৌদ্ধ ধর্মীয় মতবাদ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকে। আর এর ফলেই তারা রোহিঙ্গা, চীনা জনগোষ্ঠী যেমন - কোকাং, পানথাইদের(চীনা মুসলিম) মত ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাকে ব্যপকভাবে নির্যাতন করে থাকে। কিছু নব্য গণতন্ত্রপন্থী নেতা যারা বার্মার প্রধান জনগোষ্ঠী থেকে এসেছেন তারাও রোহিঙ্গাদের বার্মার জনগণ হিসেবে স্বীকার করেন না।[৩৪][৩৫][৩৬][৩৭]

বার্মার সরকার রোহিঙ্গা ও চীনা জনগোষ্ঠীর মত ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বাদের বিরুদ্ধে দাঙ্গার উসকানি দিয়ে থাকে এবং এ কাজ তারা অতি সফলতার সাথেই করে যাচ্ছে।[৩৮]

রাখাইনে ২০১২ সালের দাঙ্গা[সম্পাদনা]

রাখাইনে ২০১২ সালের দাঙ্গা হচ্ছে মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিম ও বোদ্ধ রাখাইনদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ঘটনাপ্রবাহ। দাঙ্গা শুরু হয় জাতিগত কোন্দলকে কেন্দ্র করে এবং উভয় পক্ষই এতে জড়িত হয়ে পরে।[৩৯]

ধর্ম[সম্পাদনা]

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মূলত ইসলাম ধর্মের অনুসারী। যেহেতু বার্মা সরকার তাদের পড়াশুনার সুযোগ দেয় না, তাই অনেকেই মোলিক ইসলামী শিক্ষাকেই একমাত্র পড়াশুনার বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে। অধিকাংশ গ্রামেই মসজিদ এবং মাদ্রাসা (ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে, পুরুষরা জামাতে এবং মহিলারা বাড়িতেই প্রার্থণা করে থাকে।

মানবাধিকার লংঘন ও শরণার্থী[সম্পাদনা]

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বলা হয় "বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রত্যাশিত জনপদ"[৪০] এবং "বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু"।[৪১] ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে তারা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হন।[৪২] তারা সরকারি অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এবং দুইটির বেশি সন্তান না নেওয়ার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়।[৪২]

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুসারে, ১৯৭৮ সাল থেকে মায়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লংঘনের শিকার হচ্ছে এবং তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে: [৪৩]

রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতা ব্যপকভাবে নিয়ণ্ত্রিত এবং তাদের অধিকাংশের বার্মার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাদের উপর বিভিন্ন রকম অন্যায় ও অবৈধ কর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জমি জবর-দখল করা, জোর-পূর্বক উচ্ছেদ করা, ঘর-বাড়ি ধ্বংস করা এবং বিবাহের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও উত্তর রাখাইন রাজ্যে গত দশকে বাধ্যতামূলক শ্রমিকের কাজ করা কমেছে তারপরও রোহিঙ্গাদের রাস্তার কাজে ও সেনা ক্যাম্পে বাধ্যতামূলক শ্রমিকের কাজ করতে হচ্ছে। […]

১৯৭৮ সালে মায়ানমার সেনাবাহিনীর 'নাগামান' ('ড্রাগন রাজা') অভিযানের ফলে প্রায় দুই লক্ষ (২০০,০০০) রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সরকারিভাবে এই অভিযান ছিল প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে সব বিদেশী অবৈধভাবে মায়ানমারে বসবাস করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই সেনা অভিযান সরাসরি বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলছিল এবং ফলে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ ও মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। […]

১৯৯১-৯২ সালে একটি নতুন দাঙ্গায় প্রায় আড়াই লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। তারা জানায় রোহিঙ্গাদের বার্মায় বাধ্যতামূলক শ্রম প্রদান করতে হয়। এছাড়া হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের স্বীকার হতে হয়। রোহিঙ্গাদের কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করতে হত।

২০০৫ সালে, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বিভিন্ন ধরণের মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে এই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।[৪৪]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মাকান-মারকান, মারোয়ান (জুন ১৫, ২০১২)। "মায়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘুদের জাতিসত্ত্বা নির্মূল?"ইন্টার প্রেস সার্ভিস। সংগৃহীত ৯ জুলাই, ২০১২ 
  2. ৭২৯,০০০ (জাতিসংঘের ধারণা ২০০৯)
  3. "মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের সু কি'র সাহায্য দাবি"এজেন্সী ফ্রান্স প্রেস। জুন ১৩, ২০১২। সংগৃহীত ৯ জুলাই, ২০১২ 
  4. করাচিতে বাস্তুহারারা - আউটলুক ইন্ডিয়া
  5. এস.আর.আই সতর্কবার্তা: রোহিঙ্গা শরনার্থী এবং UNHCR'র প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া - বার্মা গ্রন্থাগার
  6. ৬.০ ৬.১ দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ: শরনার্থী ও অভিবাসী: পাকিস্তানে রোহিঙ্গা
  7. হোসেন, ইরফান (৩০ জুলাই, ২০১২)। "মায়ানমারে কর্ম ও হত্যা"ডন। সংগৃহীত ১০ অগাস্ট, ২০১২ 
  8. ফ্লোরস, জামিল মেইডেন (জুলাই ১৬, ২০১২)। "মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে নেত্রীর উভয় সংকট"জাকার্তা গ্লোব। সংগৃহীত ১৭ জুলাই, ২০১২ 
  9. "বাংলাদেশ ও মায়ানমারের নেতাদের রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা"। এ.এফ.পি। ২০১২-০৬-২৯। 
  10. 'কালা' ঘৃণা থেকে টাইম বোমা শঙ্কায় বাংলাদেশ,আশফাকুর রহমান, দৈনিক সোনার বাংলাদেশ। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ:১৭ জুন ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।
  11. আই.এস.ও ৬৩৯ কোড টেবিল - এস.আই.এল আন্তর্জাতিক
  12. (আই চান ২০০৫, p. ৩৯৭)
  13. ১৩.০ ১৩.১ (আই চান ২০০৫, p. ৩৯৮)
  14. ১৪.০ ১৪.১ ইগার, মোশে (২০০২)। একীভবন ও অপসারন: দক্ষিণ ফিলিপাইন, দক্ষিণ থাইল্যান্ড এবং পশ্চিম বার্মায় মুসলিম সম্প্রদায়। ল্যানহাম, এম.ডি: লেগজিন্টন বুকস। পৃ: ২৩। আইএসবিএন ০৭৩৯১০৩৫৬৩ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। সংগৃহীত ৮ জুলাই ২০১২ 
  15. ফিয়েরি ১৮৮৩: ৭৮
  16. হার্ভে ১৯২৫: ১৪০–১৪১
  17. ইগার, মোশে (২০০২)। একীভবন ও অপসারন: দক্ষিণ ফিলিপাইন, দক্ষিণ থাইল্যান্ড এবং পশ্চিম বার্মায় মুসলিম সম্প্রদায়। ল্যানহাম, এম.ডি: লেগজিন্টন বুকস। পৃ: ২৩–৪। আইএসবিএন ০৭৩৯১০৩৫৬৩ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। সংগৃহীত ৮ জুলাই ২০১২ 
  18. ইগার, মোশে (২০০২)। একীভবন ও অপসারন: দক্ষিণ ফিলিপাইন, দক্ষিণ থাইল্যান্ড এবং পশ্চিম বার্মায় মুসলিম সম্প্রদায়। ল্যানহাম, এম.ডি: লেগজিন্টন বুকস। পৃ: ২৪। আইএসবিএন ০৭৩৯১০৩৫৬৩ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। সংগৃহীত ৮ জুলাই ২০১২ 
  19. মং সান দা (২০০৫)। নৃতাত্ত্বিক কামানদের ইতিহাস (বার্মা)। ইয়াঙ্গুন। 
  20. (আয়ে চান ২০০৫, pp. ৩৯৮-৯)
  21. (আয়ে চান ২০০৫, p. ৩৯৯)
  22. "বাংলাদেশে রাখাইন জনগোষ্ঠী"। সংগৃহীত ২০১০-০৭-২২ 
  23. "রাখাইন জনগোষ্ঠী যারা মার্মায় কথা বলে"। সংগৃহীত ২০১০-০৭-২২ 
  24. (আয়ে চান ২০০৫, p. ৪০১)
  25. মিন্ট-ইউ ২০০৬: ১৮৫-১৮৭
  26. কিয়াও জান থা, মা (জুলাই ২০০৮)। রোহিঙ্গা সমস্যার পটভূমি। পৃ: ১।  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  27. ফিল্ড মার্শাল ভিজকাউন্ট উইলিয়াম স্লিম (২০০৯)। জয়ে পরাজয়: বার্মা এবং ভারতে জাপানের যুদ্ধ, ১৯৪২-১৯৪৫। লন্ডন: প্যান। আইএসবিএন ০৩৩০৫০৯৯৭৭ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  28. কার্ট জনাসন (১৯৯৯)। গণহত্যা এবং মানবাধিকার লংঘণ: তুলনামূলক বিশ্লেষণ। ট্রান্সাকসন পাবলিশার্স। পৃ: ২৬৩। আইএসবিএন ০৭৬৫৮০৪১৭৪ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। সংগৃহীত ১২ এপ্রিল ২০১১ 
  29. হাওয়ার্ড এডেলম্যান (২০০৮)। এশিয়ায় দীর্ঘায়িত বাস্তুচ্যুতি: নিজের দেশ বলার কোনো জায়গা নেই। অ্যাশগেট পাবলিশিং, লিমিটেড। পৃ: ৮৬। আইএসবিএন ০৭৫৪৬৭২৩৮৭ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। সংগৃহীত ১২ এপ্রিল ২০১১ 
  30. হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (সংস্হা) (২০০০)। বার্মা/বাংলাদেশ: বাংলাদেশে বার্মার শরণার্থীরা: এখনো কোনো স্হায়ী সমাধান নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। পৃ: ৬। সংগৃহীত ১২ এপ্রিল ২০১১ 
  31. এশিয়ার প্রোফাইল, অধ্যায় ২১। এশিয়ান গবেষণা সার্ভিস। ১৯৯৩। পৃ: ৩১২। সংগৃহীত ১২ এপ্রিল ২০১১ 
  32. বিল্ভার সিং (২০০৭)। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তালেবানদের বিস্তার: ইসলামী চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ'-এর পরাজয়। পৃ: ৪২। আইএসবিএন ০২৭৫৯৯৯৯৫৫ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  33. বিশ্ব মুসলিম সংবাদ (ইস্যু ১৪) জুলাই-সেপ্টেম্বর ১৯৯৬, নিদা'উল ইসলাম ম্যাগাজিন
  34. রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতা
  35. মোশাহিদা সুলতানা রিতু (১২ জুলাই ২০১২)। "মায়ানমারে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার ওপর দমন"নিউ ইয়র্ক টাইমস। সংগৃহীত ১৩ জুলাই ২০১২ 
  36. হানা হিন্ডস্ট্রম (২৫ জুলাই ২০১২)। "বার্মার বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মুসলমানদের পরিহার করার আহবান"দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট 
  37. হানা হিন্ডস্ট্রম (জুন ১৪ ২০১২)। "ঘৃণার স্বাধীনতা"ফরেইন পলিসি 
  38. কার্ল আর. দিরউন, ইউকে হো (২০০৭)। বিশ্বের বেসামরিক যুদ্ধ: ২য় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান সংঘর্ষসমূহII। এবিসি-সিলিও। পৃ: ৫৩০। আইএসবিএন ১৮৫১০৯৯১৯০ |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)। সংগৃহীত ১২ এপ্রিল ২০১১ 
  39. "সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় চারজন নিহত : সরকার"। রয়টার্স। জুন ৮, ২০১২। সংগৃহীত জুন ৯, ২০১২ 
  40. মার্ক ডামিট (১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১০)। "বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ"বিবিসি। সংগৃহীত ২৯ জুলাই ২০১২ 
  41. "বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোচনা"এএফপি। ২৫ জুন ২০১২। সংগৃহীত ২৯ জুলাই ২০১২ 
  42. ৪২.০ ৪২.১ জোনাথন হেড (৫ ফেব্রুয়ারী ২০০৯)। "কী রোহিঙ্গাদের সাগরে ধাবিত করে"বিবিসি। সংগৃহীত ২৯ জুলাই ২০১২ 
  43. Myanmar - রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু: মৌলিক অধিকার হরণ, যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ২০০৪
  44. "ইউ.এন.এইচ.সি.আর-এর বাংলাদেশ উদ্যোগ বাতিল"। নিউ এইজ বিডিনিউজ, ঢাকা। ২০০৫-০৫-২১। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-২৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]