ইসলামি স্বর্ণযুগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
Scholars at an Abbasid library, from the Maqamat of al-Hariri by Yahya ibn Mahmud al-Wasiti, Baghdad, 1237 AD

ইসলামি স্বর্ণযুগ ৬২২ সালে মদিনায় প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি শক্তির উত্থানের সময় থেকে শুরু হয়। ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের দ্বারা বাগদাদ অবরোধের সময়কে এর শেষ ধরা হয়। ১৪৯২ সালে ইবেরিয়ান উপদ্বীপের আন্দালুসে খ্রিষ্টান রিকনকোয়েস্টার ফলে গ্রানাডা আমিরাতের পতনকেও এর সমাপ্তিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের (৭৮৬-৮০৯) সময় বাগদাদে বাইতুল হিকমাহর প্রতিষ্ঠার ফলে জ্ঞানচর্চার প্রভূত সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফাতেমীয় যুগে (৯০৯-১১৭১) মিশর সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং উত্তর আফ্রিকা, সিসিলি, ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, আফ্রিকার লোহিত সাগর উপকূল, তিহামা, হেজাজইয়েমেন এর অন্তর্গত ছিল। এই যুগে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী শহর বাগদাদ, কায়রোকর্ডো‌বা বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বাণিজ্যশিক্ষার বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। [১] আরবরা তাদের অধিকৃত অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ছিল। হারিয়ে যেতে থাকা অনেক ধ্রুপদি রচনা আরবিফারসিতে অনূদিত হয়। আরো পরে এগুলো তুর্কি, হিব্রু ও ল্যাটিনে অনূদিত হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিক, রোমান, পারসিয়ান, ভারতীয়, চৈনিক, মিশরীয়ফিনিশিয় সভ্যতা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান তারা গ্রহণ, পর্যালোচনা ও অগ্রগতিতে অবদান রাখে।[২][৩][৪]

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

খিলাফতের সম্প্রসারণ, ৬২২-৭৫০।
  মুহাম্মদ (সা) এর অধীনে সম্প্রসারণ, ৬২২-৬৩২
  রাশিদুন খিলাফতের অধীনে সম্প্রসারণ, ৬৩২-৬৬১
  উমাইয়া খিলাফতের অধীনে সম্প্রসারণ, ৬৬১-৭৫০

স্বর্ণযুগের উত্থান ও কারন[সম্পাদনা]

ধর্মীয় প্রভাব[সম্পাদনা]

কোরআনহাদিসের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষা আর জ্ঞান অর্জনের যথাযথ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং জ্ঞান অর্জনের উপর জোর দেয়া হয়েছে।তৎকালিন মুসলমানদের জ্ঞানঅর্জন,বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও শিক্ষালাভে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা হিসেবে মুসলমানদের ধর্মীয় মূল্যবোধ যথাযথ ভূমিকা পালন করেছিল। [৫]

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা[সম্পাদনা]

তৎকালিন ইসলামি সাম্রাজ্য জ্ঞানী-পন্ডিতদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষক ছিল।সকল খরচ রাষ্ট্র বহন করতো।সে সময়ের ট্রান্সেলেশন মুভমেণ্ট বা তরজমা সংস্থার তরজমা করার কাজে যে অর্থ ব্যয় হতো তার পরিমাণ আনুমানিক যুক্তরাজ্যের মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের দুই বছরের বার্ষরিক রিসার্চ বাজেটের সমান।হুনাইন ইবনে ইসহাক-এর মতো বড় বড় জ্ঞানীবর্গ ও তর্জমাকারকদের বেতনের পরিমাণ ছিল আজকালকার পেশাগত এথলেটিক্সদের বেতনের মতো।আব্বাসীয় যুগে আল মনসুর ইরাকের বাগদাদ শহরে 'দ্য হাউস অফ উইজডম' নামে একটি বৃহৎ পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত করেন। [৬]

পূর্ব সংস্কৃতির প্রভাব[সম্পাদনা]

নব্য প্রযুক্তি[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিবর্গ[সম্পাদনা]

শিক্ষাক্ষেত্র[সম্পাদনা]

ইসলামিক ঐতিহ্য ও আচারানুষ্ঠান ছিল ধর্মশাস্ত্র ও ধর্মীয়গ্রন্থ কেন্দ্রিক।কোরআন,হাদিস এবং অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার ব্যাপক প্রসারতার কারনে মূলত তখন শিক্ষা ছিল ধর্মের প্রধান বুনিয়াদ এবং তা ইসলামের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।ইসলাম ধর্মে শিক্ষালাভ ও জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব বিভিন্ন হাদিসসমূহে উল্লেখ রয়েছে।এগুলো মধ্যে একটি হলো,"জ্ঞানার্জনের জন্যে সুদূর চীন দেশ হলেও যাও"।এইরকম হাদিসসমূহের বিভিন্ন বিধিধারা বিশেষভাবে মুসলিম পন্ডিতগণ এবং বিশ্বব্যাপি মুসলিমদের মাঝে প্রয়োগ ও প্রসার করতে দেখা গিয়েছিল।উল্লেখ্যসরূপ, শিক্ষা নিয়ে আল-জারনুযি-এর একটি উক্তি ছিল,বিদ্যার্জন করা আমাদের প্রত্যেকের জন্য যথাবিহিত ও বাধ্যতামূলক।প্রাক-আধুনিক কালের ইসলামি সাম্রজ্যের শিক্ষার হার নির্ণয় করা অসম্ভব হলেও এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে তারা শিক্ষাক্ষেত্রে ও জ্ঞানার্জনে তুলনামূলকভাবে অনেক উচ্চস্তরে ছিল।বিশেষ করে তাদের সাথে তৎকালিন ইউরোপিয় পন্ডিতদের তুলনা করলে ইসলামিক পন্ডিতদের জ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা যায়।

৯৭৮ খ্রীষ্টাব্দে নির্মিত কায়রোতে অবস্থিত তৎকালিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আজহার মসজিদ

সবাই ছোটবয়স থেকে শিক্ষার্জন করা শুরু করতো আরবি এবং কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি; হয়ত বাড়িতে না হয় কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।যেটা কোন মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকত।তারপর অনেক শিক্ষার্থী তাফসীর(ইসলামিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষন) এবং ফিকহ(ইসলামিক মাসায়ালা) বিষয়ে অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতো।এসব শিক্ষাকেও যথাযথ গুরুত্বের সহিত দেখা হতো।শিক্ষাব্যাবস্থা ছিল মুখস্থকরা কেন্দ্রিক।কিন্তু এছাড়াও অগ্রগতিশীল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাঠ্যগ্রন্থসমূহের প্রণেতা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষনের ক্ষেত্রে পাঠক ও লেখক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।এই প্রক্রিয়া সকল উচ্চাকাঙ্খী শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার জড়িত রাখত।ফলঃশ্রুতিতে উলামাদের তালিকায় তাদের সবধরণের সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল। [৭]

আইনশাস্ত্র[সম্পাদনা]

ধর্মতত্ত্ব ও অনুশাসন[সম্পাদনা]

দর্শন[সম্পাদনা]

অধিবিদ্যা[সম্পাদনা]

জ্ঞানতত্ত্ব[সম্পাদনা]

গণিত[সম্পাদনা]

বীজগণিত[সম্পাদনা]

তুরস্কের বুরসায় ওটোম্যান গ্রীন মসজিদে অবস্থিত সুলতানদের বীবরের মধ্যে একটি আর্কওয়ে়।এটার গিরি স্ট্র্যাপওয়ার্ক ১০ কোণাকৃতি তারা আর পঞ্চভূজ নিয়ে গঠিত

বীজগণিত, এলগরিদম এবং হিন্দু-আরবীয় সংখ্যার বিকাশ ও উন্নয়নে মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।তাকে বীজগণিতের জনক বলা হয

জ্যামিতি[সম্পাদনা]

ত্রিকোণমিতি[সম্পাদনা]

সাইনের সুত্রের গাঠুনিক উপাংশ দ্বারা সম্পৃক্ত একটি ত্রিভুজ।বড় হাতের A,B,C হলো ত্রিভুজটির তিনটি কোন।আর ছোট হাতের a,b,c হলো যথাক্রমে কোণগুলোর বিপরীত বাহু(যেমন A কোণের বিপরীত বাহু a)।

ইবনে মুয়াজ আল-জাইয়্যানি হলেন অন্যতম ইসলামিক একজন গণিতবিদ যিনি সাইনের সূত্র আবিষ্কারের জন্য খ্যাত।১১ শতকে তিনি "The Book of Unknown Arcs of a Sphere" নামে একটি বই রচনা করেন।শুধুমাত্র সমকোণী ত্রিভুজ ছাড়াও সাইনের এই সূত্রটি যেকোনো ত্রিভুজের বাহুদ্বয়ের দৈর্ঘ্যের সাথে কোণদ্বয়ের সাইনের মানের সম্পর্ক গঠন করেছে।তার এই সূত্র অনুযায়ী,

যেখানে a,bও c হলো বাহুদ্বয়ের দৈর্ঘ্য আর A,B ও C হলো যথাক্রমে বাহুদ্বয়ের বিপরীত কোণ(চিত্র দেখুন)।

ক্যালকুলাস[সম্পাদনা]

ন্যাচারাল সায়েন্স[সম্পাদনা]

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি[সম্পাদনা]

জ্যোতিঃশাস্ত্র[সম্পাদনা]

তুসি কাপল

আনুমানিক ৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে পারস্য জ্যোতিঃর্বিদ আব্দুর রহমান আল সূফি তার রচিত "Book of Fixed Stars" গ্রন্থে এন্ড্রোমিডা কন্সটিলেশনের মধ্যে নীহারিকাবেষ্টিত স্থানের বর্ণনা করেন।তিনিই সর্বপ্রথম ঐ স্থানের যথাযথ তথ্য প্রদান করেন এবং উদ্ধৃতি দেন যেটা এখন এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি নামে পরিচিত।যেটা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে নিকটতম সর্পিলাকার গ্যালাক্সি।টলেমির সমস্যাযুক্ত ইকুয়্যাণ্ট সংশোধিত করতে নাসির আল দীন তুসী 'তুসি কাপল' নামে একধরণের জ্যামিতিক পদ্ধতির আবিষ্কার করেন।এই পদ্ধতি দ্বারা দুইটি বৃত্তাকার গতির সারাংশ থেকে রৈখিক গতি সৃষ্টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।এই তুসি কাপল পদ্ধতিটি পরবর্তীতে ইবনে আল-শাতিরের ভূ-কেন্দ্রিক মডেল এবং নিকোলাস কোপার্নিকাসের সূর্য-কেন্দ্রিক মডেলের উদ্ভাবন ও বিকাশে প্রয়োগিত হয়।যদিও এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী কে ছিলেন বা কোপার্নিকাস নিজেই এই পদ্ধতি পুনরায় আবিস্কার করেছিলেন কিনা তা জানা ন]]

পদার্থবিজ্ঞান[সম্পাদনা]

রসায়ন[সম্পাদনা]

ভূ-গণিত[সম্পাদনা]

জীববিজ্ঞান[সম্পাদনা]

ইঞ্জিনিয়ারিং[সম্পাদনা]

সামাজিক বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্যসেবা[সম্পাদনা]

হাসপাতাল[সম্পাদনা]

ফার্মেসি[সম্পাদনা]

ঔষধ[সম্পাদনা]

শল্যচিকিৎসা[সম্পাদনা]

বাণিজ্য ও ভ্রমণ[সম্পাদনা]

শিল্প ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

কবিতা[সম্পাদনা]

চারুকলা[সম্পাদনা]

স্থাপনা[সম্পাদনা]

অন্যান্য তথ্য[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

বহিরাক্রমন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. George Saliba (1994), A History of Arabic Astronomy: Planetary Theories During the Golden Age of Islam, pp. 245, 250, 256–7. (ইংরেজি ভাষায়) New York University Press, আইএসবিএন ০-৮১৪৭-৮০২৩-৭.
  2. "In Our Time - Al-Kindi,James Montgomery" (ইংরেজি ভাষায়)। bbcnews.com। ২৮ জুন ২০১২। সংগৃহীত মে ১৮, ২০১৩ 
  3. Hyman and Walsh Philosophy in the Middle Ages Indianapolis, 3rd edition, p. 216
  4. Meri, Josef W. and Jere L. Bacharach, Editors, Medieval Islamic Civilization Vol.1, A - K, Index, 2006, p. 451 (ইংরেজি ভাষায়)
  5. Salam, Abdus (১৯৯৪)। Renaissance of Sciences in Islamic Countries। পৃ: ৯। আইএসবিএন 9789971509460 
  6. Brentjes, Sonja; Robert G. Morrison (২০১০)। "The Sciences in Islamic societies"। The New Cambridge History of Islam 4। Cambridge: Cambridge University Press। পৃ: 569। 
  7. Halm, Heinz. The Fatimids and their Traditions of Learning. London: The Institute of Ismaili Studies and I.B. Tauris. 1997.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]