সিরিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search

স্থানাঙ্ক: ৩৫°১৩′০.০১″ উত্তর ৩৮°৩৪′৫৯.৯৯″ পূর্ব / ৩৫.২১৬৬৬৯৪° উত্তর ৩৮.৫৮৩৩৩০৬° পূর্ব / 35.2166694; 38.5833306

আরব প্রজাতন্ত্রী সিরিয়া
الجمهورية العربية السورية
পতাকা জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
জাতীয় সঙ্গীত: Homat el Diyar
Guardians of the Land
রাজধানী
এবং বৃহত্তম নগরী
দামেস্ক
৩৩°৩০′ উত্তর ৩৬°১৮′ পূর্ব / ৩৩.৫০০° উত্তর ৩৬.৩০০° পূর্ব / 33.500; 36.300
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ Arabic
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ সিরীয়
সরকার রাষ্ট্রপতি শাসিত গণতন্ত্র
 •  রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ
 •  প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ নাজি এত্রি
স্বাধীন ফ্রান্স থেকে
 •  প্রথম ঘোষণা সেপ্টেম্বর ১৯৩৬1 
 •  দ্বিতীয় ঘোষণা জানুয়ারি ১ ১৯৪৪ 
 •  স্বীকৃত এপ্রিল ১৭ ১৯৪৬ 
আয়তন
 •  মোট  কিমি (৮৮তম)
 বর্গ মাইল
 •  পানি (%) ০.০৬
জনসংখ্যা
 •  জুলাই ২০০৭ আনুমানিক ২০,৩১৪,৭৪৭ (৫৫তম)
 •  ঘনত্ব ১০৩/কিমি (৯৬তম)
/বর্গ মাইল
মোট দেশজ উৎপাদন
(ক্রয়ক্ষমতা সমতা)
২০০৫ আনুমানিক
 •  মোট ৭১১৪ কোটি ডলার (৬৫তম)
 •  মাথা পিছু ৫,৩৪৮ ডলার (১০১তম)
মানব উন্নয়ন সূচক (২০১৪)হ্রাস 0.987[১]
অতি উচ্চ · ১৩৪ তম
মুদ্রা সিরীয় পাউন্ড (SYP)
সময় অঞ্চল EET (ইউটিসি+২)
 •  গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) EEST (ইউটিসি+3)
কলিং কোড ৯৬৩
ইন্টারনেট টিএলডি .sy
১. ফ্রাঙ্কো-সিরিয়ান সংকটের স্বাধীনতা (১৯৩৬), ফ্রান্স কর্তৃক অনুমোদন না করা।

সিরিয়া (আরবি ভাষায়: السورية আস্‌সূরিয়্যা; ইংরেজি: Syria) এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যের একটি রাষ্ট্র। এর সরকারী নাম আরব প্রজাতন্ত্রী সিরিয়া (الجمهورية العربية السورية আল্‌জুম্‌হূরিয়্যা ল্‌'আরাবিয়্যা স্‌সূরিয়্যা)

উর্বর সমতলভূমি, উচ্চ পর্বত এবং মরুভূমির একটি দেশ। সিরিয়ায় বিভিন্ন জাতিগত এবং ধর্মীয় গোষ্ঠী: সিরিয়ান আরব, গ্রীক, আর্মেনিয়ান, আসিরিয়ার, কুর্দি, কার্কাসিয়ান,[২] মানডিয়ান্স[৩] এবং তুর্কি সহ। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর অন্তর্ভুক্ত: সুন্নি, খ্রিস্টান, আলাউই, ডুরজ, ইসমাঈল, মান্দিয়া, শিয়া, সালাফি, ইয়াসীদইহুদীরা। সুন্নি বৃহত্তম ধর্মীয় গ্রুপ তৈরী করেন সিরিয়ায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

সিরিয়ার পালমিরাতে অবস্থিত রোমান থিয়েটার।

সিরিয়ার রাজনীতি (ইংরেজি: Syrian politics) একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের কাঠামোয় সঙ্ঘটিত হয়। রাষ্ট্রের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি এবং বাথ পার্টির হাতে ন্যস্ত। সিরিয়া সংবিধানমতে একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র হলেও ১৯৬৩ সাল থেকে দেশটিতে একটি জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের কোন ক্ষমতা নেই জনগণের। দেশটি তাই কার্যত একটি একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সিরিয়ার সরকার ইসরায়েলের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধকে জরুরি অবস্থার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সিরিয়ার প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হাফিয আল-আসাদ পাঁচ বার গনভোট বিজয়ের মাধ্যমে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখেন। তার ছেলে ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদও ২০০০ সালের এক গনভোটে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি পদে বহাল হন। রাষ্ট্রপতি ও তার মূল সহযোগীরাই, বিশেষত সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা, সিরিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতির মূল সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে থাকেন।সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। এই সংখ্যা জাতিসংঘ ঘোষিত সংখ্যার দ্বিগুণ। এর বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৪৫ শতাংশ সিরীয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।সিরিয়া যুদ্ধে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়ান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের (এসসিপিআর)’ একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের বিভীষিকায় পড়ে সিরিয়ার জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহত হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার লোক। দেড় বছর আগে পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে জাতিসংঘ যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল এটি তার প্রায় দ্বিগুণ। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা আড়াই লাখ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাকল্যে সিরিয়ার জনগণের সাড়ে ১১ শতাংশই নিহত বা আহত হয়েছে। ‘আরব বসন্ত’ নামে পরিচিত স্বৈরাচারবিরোধী তথাকথিত গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ার সিরিয়াতেও এসে লাগে ২০১১ সালে। ওই বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছরে এই জোয়ারের সুফল না মিললেও এই সময়ে হতাহত হয়েছে বিরাটসংখ্যক জনগোষ্ঠী। প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট করে আহত ব্যক্তির সংখ্যা বলা হয়েছে ১৯ লাখ। যুদ্ধ শুরুর আগে ২০১০ সালে সিরিয়ার মানুষের গড় আয়ু যেখানে ছিল ৭০ বছর, সেটাই ২০১৫ সালে নেমে দাঁড়ায় ৫৫ বছর ৪ মাসে। দেশটির অর্থনীতির সার্বিক ক্ষতির পরিমাণও নিতান্ত কম নয়, আনুমানিক ২৫ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।এসসিপিআরের মতে, নিহত ৪ লাখ ৭০ হাজার লোকের মধ্যে প্রায় ৪ লাখই মারা গেছে যুদ্ধের প্রত্যক্ষ সহিংসতার শিকার হয়ে। বাকি ৭০ হাজার মারা গেছে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের ঘাটতিতে, সংক্রামক ব্যাধিতে, খাবার ও পানির অভাবে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ২০১০ সালে শুরু হওয়া আরব বসন্তের বিপ্লবের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। সিরিয়ান সেনার একটি কঠোর ব্যবস্থার দ্বারা অনুসৃত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের একটি চেইন হিসেবে ২০১১ সালে শুরু হয়। জুলাই ২০১১ সালে , সেনাবাহিনীর দলত্যাগীরা ফ্রি সিরিয়ান সেনা গঠনের ঘোষণা করেন এবং যুদ্ধ ইউনিট গঠন শুরু হয়। এই বিরোধিতা সুন্নি মুসলমানদের দ্বারা প্রভাবিত হয়, যেখানে নেতৃস্থানীয়রা আলাউয়ি

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স ২০১৬-তে বিশ্বের সবচেয়ে অশান্ত দেশ সিরিয়া। বিগত কয়েক বছর ধরে সিরিয়ায় তাণ্ডব চালাচ্ছে আইএস জঙ্গিরা। এ কারণে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন জঙ্গিদের হাতে বা আইএস বিরোধী অভিযানে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক।[৪]

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

সিরিয়া 14 গভর্নরেটে , যা 61 টি জেলায় বিভক্ত, যা আরও উপ- বিভাগে বিভক্ত করা হয় ।

  1. দামেস্ক প্রশাসনিক
  2. লাতাকিয়া গভর্নোরেট
  3. হিমস গভর্নোরেট (মরুর মুক্তা খ্যাত সিরিয়ার প্রাচীন নগর পালমিরা এখানে অবস্থিত ।)

সিরিয়া ভূমধ্য সাগরের পূর্ব দিকে আরব উপদ্বীপের উত্তরে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত। এটি তুর্কি দ্বারা উত্তরে, লেবানন এবং ইসরায়েল পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, পূর্ব থেকে ইরাক এবং দক্ষিণে জর্দান পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি পশ্চিমে পর্বতশ্রেণী এবং অন্তর্দেশীয় অঞ্চলে অবস্থিত। পূর্বের সিরিয়ান মরুভূমি এবং দক্ষিণে জবাল আল-ডুরজ রেঞ্জ । সাবেক ইউফ্রেটিস উপত্যকা দ্বারা বিভক্ত করা হয়। 1973 সালে নির্মিত একটি বাঁধের সাহায্যে সিরিয়ার বৃহত্তম হ্রদ লেক আসাদ নামক একটি জলাধার নির্মাণ করে। সিরিয়ায় সর্বোচ্চ বিন্দু লেবাননের সীমান্তে হর্মোণ পর্বত (২,814 মিঃ, 9 ২২২ ফুট)। আর্দ্র আর্দ্রভূমির উপকূলে এবং শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চলের মধ্যে একটি আধা-খাড়া খাড়া অঞ্চল রয়েছে যা দেশের তিন-চতুর্থাংশে বিস্তৃত হয়, যা মরুভূমি জুড়ে উষ্ণ, শুষ্ক বাতাস বহন করে। সিরিয়া ব্যাপকভাবে নিপীড়িত, [ স্পষ্টকরণ প্রয়োজন ] স্থল ফসলের জন্য নিবেদিত 4 শতাংশ, ময়দা এবং চারণভূমি হিসাবে ব্যবহার 46 শতাংশ, এবং শুধুমাত্র 3 শতাংশ বন ও বনভূমি।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

আরবি ভাষা সিরিয়ার সরকারি ভাষা। এখানকার প্রায় চার-পঞ্চমাংশ লোক আরবি ভাষাতে কথা বলে। সিরিয়াতে প্রচলিত অন্যান্য ভাষার মধ্যে আদিজে ভাষা, আরামীয় ভাষা,আর্মেনীয় ভাষা, আজারবাইজানি ভাষা, দোমারি ভাষা (রোমানি ভাষা), কুর্দি ভাষা এবং সিরীয় ভাষা উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক কাজকর্মে ফরাসি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "2015 Human Development Report" (PDF)। United Nations Development Programme। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  2. Gammer, Moshe (২০০৪)। The Caspian Region: The Caucasus2। Routledge। পৃষ্ঠা 64। আইএসবিএন 0203005120 
  3. Who cares for the Mandaeans?, Australian Islamist Monitor 
  4. "Safe Unsafe"। Anandabazar Patrika। ২০ নভেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৬