কাবা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কাবা
স্থানাঙ্ক: ২১°২৫′২১″ উত্তর ৩৯°৪৯′৩৪″ পূর্ব / ২১.৪২২৫° উত্তর ৩৯.৮২৬১৮১° পূর্ব / 21.4225; 39.826181স্থানাঙ্ক: ২১°২৫′২১″ উত্তর ৩৯°৪৯′৩৪″ পূর্ব / ২১.৪২২৫° উত্তর ৩৯.৮২৬১৮১° পূর্ব / 21.4225; 39.826181
অবস্থান সৌদি আরব মক্কা, সৌদি আরব
শাখা/ঐতিহ্য ইসলাম

কাবা, কাবাঘর, কাবা শরীফ (আরবি: الكعبة al-Ka‘bah; আ-ধ্ব-ব: ['kɑʕbɑ]), আরও যে নামে পরিচিত al-Kaʿbatu l-Mušarrafah (الكعبة المشرًّفة), al-Baytu l-ʿAtīq (البيت العتيق "The Primordial House"), অথবা al-Baytu l-Ḥarām (البيت الحرام "The Sacred House"), একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত, যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।

ইসলাম ধর্ম মতে কাবা কে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে মনে করা হয়।[১] এটি মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ পরেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিন করেন।[১]

ভৌগলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

এটি সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে 'মসজিদ আল হারেম' নামক মসজিদের মাঝখানে অবস্থিত। এর ভৌগলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫ ডিগ্রি দক্ষিণ এবং ৩৯.৮২৬২০১৩ ডিগ্রী পূর্ব।

বাস্তবিক কাঠামো[সম্পাদনা]

কাবা একটি বড় পাথরের কাজ করা কাঠামো যার আকৃতি প্রায় একটি ঘনক এর মত। কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকা'আব অর্থ ঘন থেকে। এটি কাছের পাহাড়ের গ্রানাইট দ্বারা তৈরি যা দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২৫সেঃমিঃ (১০ ইঞ্চি) মার্বেল পাথরের ভিত্তির উপর যা বাইরের দিকে ৩০সেঃমিঃ (১ ফুট) বাড়িয়ে আছে।[১] কাঠামোতে জায়গার পরিমাণ প্রায় ১৩.১০ মিঃ (৪৩ ফুট) উচ্চতা, পাশাপাশি ১১.০৩ মিঃ X ১২.৬২ মিঃ[২][৩] চারটি কোন কম্পাসের প্রায় চার বিন্দু বরাবর মুখ করা।[১] কাবার পূর্ব কোনা হচ্ছে রুকন-আল- আসওয়াদ" (কাল পাথর অথবা "আল-হাজারুল-আসওয়াদ"), একটি উল্কাপিন্ডের অবশেষ; উত্তর কোনা হল "রুকন-আল-ইরাকী" (ইরাকী কোণ); পশ্চিমে রয়েছে "রুকন-আল-সামী" (পূর্ব-ভূমধ্য সাগরীয় কোণ) এবং দক্ষিণে "রুকন-আল-ইয়ামানী" ('ইয়েমেনী কোণ')।[১][৩]

কাবা শরীফের গিলাফ[সম্পাদনা]

কাবা কালো সিল্কের উপরে স্বর্ণ-খচিত ক্যালিগ্রাফি করা কাপড়ের গিলাফে আবৃত থাকে। কাপড়টি কিসওয়াহ নামে পরিচিত ; যা প্রতিবছর পরিবর্তন করা হয়।[৪][৫] কালেমা শাহাদাত এ কাপড়ের মধ্যে সুতা দিয়ে লিখার কাঠামো তৈরি করা হয়। এর দুই তৃতীয়াংশ কোরানের বাণী স্বর্ণ দিয়ে এম্রোয়ডারি করা হয়।

কিবলা[সম্পাদনা]

কিবলা হচ্ছে নামাজের জন্য মুসলমানদের যেদিকে মুখ করা দাঁড়াতে হয়, সেই দিকটি। অনেক ধর্মেই উপাসনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিক থাকে। সেরকমই মুসলমানদের জন্য কিবলা হচ্ছে মক্কায় অবস্থিত মসজিদুল হারাম, যা কাবা শরিফ নামে বেশি পরিচিত। তবে মজার ব্যাপার হলো, প্রথমে কাবা শরিফ কিবলা ছিল না। বরং প্রথম কিবলা ছিল জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসা। মদীনায় হিজরতের ষোল মাস পর কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী কিবলা পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানের কিবলা অর্থাৎ কাবা শরীফ কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়।

তাওয়াফ[সম্পাদনা]

তাওয়াফ হল কাবা ঘরের চারপাশে ৭ বার প্রদক্ষিণ করা, ঘড়ির বিপরীতমুখী ( Counter clock-wise direction) হয়ে । কাবার চারদিকে একত্রে ঘুরে মুসলমানেরা এক আল্লাহ্‌র একাত্মতা প্রকাশ করার জ্বলন্ত উদাহরন ।তাওয়াফ শুরুর পূর্বে হজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া নিয়ম। তবে ভিড়ের কারণে এর কাছে যাওয়া সম্ভব না হলে হাত দিয়ে ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করতে হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Wensinck, A. J; Ka`ba. Encyclopaedia of Islam IV p. 317
  2. Peterson, Andrew (১৯৯৬)। Dictionary of Islamic Architecture.। London: Routledge। 
  3. Hawting, G.R; Ka`ba. Encyclopaedia of the Qur'an p. 76
  4. "'House of God' Kaaba gets new cloth"। The Age Company Ltd.। ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৮-১৭ 
  5. "The Kiswa - (Kaaba Covering)"। Al-Islaah লPublications। ২০০৩-০৭-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৮-১৭