আল্লাহ্

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আল্লাহ্ (আরবি: ﺍﷲলুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found।আল্লাহ্) হল ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী একটি আরবি শব্দ যার মানে হল "বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা এবং প্রতিপালকের নাম"। "আল্লাহ" শব্দটি প্রধানতঃ মুসলিমরাই ব্যবহার করে থাকেন। আসলে “আল্লাহ্" হল এই বিশ্বজগতের সৃষ্টিকতার সাধারন ভাবে বহুব্যবহৃত নাম ৷ এই নাম ছাড়া ওনার আরও অসংখ্য নাম আছে ৷ কোরআন শরীফে আল্লাহ্‌র একশটি নাম উল্লেখ আছে , তার মধ্যে কিছু হল:: সৃষ্টিকতা, ক্ষমাকারী, দয়ালু, অতিদয়ালু, বিচারদিনের মালিক, খাদ্যদাতা, বিশ্বজগতের মালিক প্রভৃতি ৷৷

তবে আরবি খ্রিস্টানরাও প্রাচীন আরবকাল থেকে "আল্লাহ" শব্দটি ব্যবহার করে আসছেন। বাহাই, মাল্টাবাসী, মিজরাহী ইহুদি এবং শিখ সম্প্রদায়ও "আল্লাহ" শব্দ ব্যবহার করে থাকেন।[১][২][৩]

শব্দের ইতিহাস[সম্পাদনা]

আরবী ভাষায় লিখিত আল্লাহ নামের অংশসমূহ :
১. আলিফ
২. হামযাতুল ওয়াসল (همزة وصل‎‎)
৩. লাম
৪. লাম
৫. তাশদীদ (شدة‎)
৬. খাড়া আলিফ (ألف خنجرية‎‎)
৭. হা'

"আল্লাহ" শব্দটি আরবি "আল" (বাংলায় যার অর্থ সুনির্দিষ্ট বা একমাত্র) এবং "ইলাহ" (বাংলায় যার অর্থ সৃষ্টিকর্তা) শব্দদ্বয়ের সম্মিলিত রূপ, যার অর্থ দাড়ায় "একমাত্র আললাহ" বা "একক আললাহ"।[৪]। একই শব্দমূল-বিশিষ্ট শব্দ অন্যান্য সেমিটিক ভাষাতেও পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, বলা যায়, হিব্রু এবং আরামাইক ভাষার কথা। প্রাচীন হিব্রু ভাষায় শব্দটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বহুবচন এলোহিম אֱלֹהִ֔ים (কিন্তু অর্থের দিক দিয়ে একবচন) হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। আর আরামাইক ভাষায় শব্দটির রূপ এলাহা ܐܠܗܐলুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found। বা আলাহা ܐܲܠܵܗܵܐলুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found।। কিন্তু এই শব্দটির অর্থ এই সব ভাষাতেই সমার্থক, "একক আললাহ"। শিখ ধর্মগ্রন্থ গুরু গ্রন্থ সাহিবে এই "আল্লাহ" (ਅਲਹੁলুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found।) শব্দটি ৩৭বার চেয়ে বেশি বার ব্যবহৃত হয়েছে।[৫]

ইসলাম-পূর্ব আরবেও আল্লাহ নামের ব্যবহার খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু তা করতো শুধুমাত্র সৃষ্টিকারী দেবতা(খুব সম্ভবতঃ সবচেয়ে শক্তিশালী জন) বুঝাতে।[৬][৭] তবে আল্লাহ সম্পর্কে ধারনা বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন। ইসলাম-পূর্ব আরবে পৌত্তলিক আরবরা আল্লাহকে একক মনে করতো না। বরং তার সাথে সঙ্গী-সাথী, এবং পুত্র-কন্যার ধারনা সংযুক্ত করেছিলো, যা ইসলামী যুগে সমূলে উত্পাটন করা হয়। ইসলামে আল্লাহ শব্দটি দ্বারা এক, অদ্বিতীয় এবং অবিনশ্বর ঈশ্বরের দিকে ইঙ্গিত করা হয়, এবং সমস্ত স্বর্গীয় গুনবাচক নামকে সেই একক স্বত্তার নাম বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়।[৮] ইসলামিক ভাষ্যনুযায়ী, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, সমস্ত-জগতের-সৃষ্টিকর্তা, সর্বত্র বিরাজমান, একক অধীশ্বর। এই কারণে বর্তমান-যুগের আরব-খ্রীস্টানেরা মুসলিমদের থেকে পার্থক্য সৃষ্টি করতে Allāh al-ʾAb (الله الأبলুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found।, "God the Father" (অর্থাৎ, ঈশ্বর-পিতা) শব্দ ব্যবহার করে।[৯] এমনিভাবে কুরআনে বর্ণিত আল্লাহশব্দার্থ, এবং হিব্রু বাইবেলে বর্ণিত আল্লাহ শব্দের অর্থে মিল এবং অমিল দুটি আছে।[১০]

ইউনিকোডে আরবী আল্লাহ শব্দের জন্য একটি বিশেষ কোড, লুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found। = U+FDF2, সংরক্ষিত রাখা আছে।[১১] অনেক আরবী ফন্টেও লুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found। শব্দটিকে একটি স্বকীয় অক্ষর হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।[১২]

Allah-green.svg
মেডেলে আল্লাহর নাম দেখা যাচ্ছে হাগিয়া সফিয়া,ইস্তানবুল,তুরস্কতে।
পুরাতন মসজিদ,তুরস্ক

আরবিতে ব্যবহার[সম্পাদনা]

ইসলাম-পূর্ব আরব[সম্পাদনা]

ইসলাম-পূর্ব আরবে,মক্কাবাসী পৌত্তলিকরা আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে ধারনা করতো, এবং খুব সম্ভবতঃ সবচেয়ে শক্তিশালী দেবতা হিসেবে।[১৩] কিন্তু একক এবং অদ্বিতীয় ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে নয়। বরং পৃথিবী-সৃষ্টিকারী এবং বৃষ্টি-দানকারী স্বত্তা হিসেবে। আল্লাহর প্রকৃত স্বরূপ তাদের ধারনায় খুব পরিষ্কার ছিল না।[৪] তাদের ধারনা ছিলো যে, আল্লাহর আরো সঙ্গী-সাথী আছে, যাদেরকে তারা অধীনস্থ দেবতা হিসেবে পূজা করতো। তারা আরো ধারনা করতো যে, আল্লাহর সঙ্গে জ্বিনজাতির আত্মীয়তা-ধরনের কোনো সম্পর্ক আছে[১৪] তারা আল্লাহর পূত্র আছে বলেও সাব্যস্থ করেছিলো [১৫] এবং তত্কালীন আঞ্চলিক দেবতা লা'ত, উজ্জা, মানাতকে তারা আল্লাহর কন্যা সাব্যস্থ করেছিলো [১৬]। খুব সম্ভবতঃ, মক্কার আরবরা আল্লাহকে ফেরেশতা বা স্বর্গীয় দূত হিসেবে ধারনা করতো।[১৭][১৮] যার কারনে বিপদগ্রস্থ অবস্থায় তারা আল্লাহ ডাকতো।[১৮][১৯] এমনকি নিজেদের নামকরনেও তারা আব্দুল্লাহ(অর্থাৎ, আল্লাহর বান্দা বা গোলাম) শব্দটি ব্যবহার করতো। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মুহাম্মাদ(স.) এর পিতার নাম ছিলো ʿAbd-Allāh(عبدالله ) আব্দুল্লাহ'[১৮]

ইসলাম[সম্পাদনা]

ইসলামিক ভাষ্যমতে, আল্লাহ হলো সর্বশক্তিমান স্বত্তার প্রকৃত নাম,[২০] এবং তার ইচ্ছা এবং আদেশসমূহের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য ইসলামী ধর্মবিশ্বাসের মুলকান্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।[১] "তিনি এক এবং অদ্বিতীয় , সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একক সৃষ্টিকর্তা, এবং সমগ্র মানবজাতির বিচারক"[১][২] "তিনি একক (wāḥid) এবং অদ্বিতীয় (ʾaḥad), পরম দয়ালু এবং সর্বত্র বিরাজমান"[১] কুরআনের "আল্লাহর বাস্তব স্বত্তা, তার অপরিমেয় রহস্য, বিভিন্ন নাম, এবং সৃষ্টিজগতের জন্য তিনি যা করেন" তার ঘোষনা দেয়।[১]

ইসলামিক ভাষ্যমতে, আল্লাহর গুনবাচক অনেক নাম রয়েছে, যার সংখ্যা কুরআনহাদিস মিলিয়ে একশতেরও অধিক, যাদের কে একত্রে আসমাউল হুসনা (অর্থাৎ, সুন্দরতম নাম সমূহ) বলা হয়। তন্মধ্যে, একটি প্রসিদ্ধ হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহর ৯৯ টি নামের একটি বিশেষ তালিকা আছে, (al-ʾasmāʾ al-ḥusnā lit. meaning: "The best names") যার একেকটি আল্লাহর এক একটি গুন বা বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে।[২][২১] এবং এই সব কয়টি নামই একক স্বত্তা আল্লাহর দিকে ইঙ্গিত করে, যা কিনা তাঁর সর্বপ্রধান নাম।[৮] এই সমস্ত নামসমূহের মাঝে, সবচেয়ে পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত হলো, "পরম দয়ালু" (আর-রহমান) এবং "অতিশয় মেহেরবান" (আর-রহীম).[২][২১]

মুসলিমগন ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পিত কাজের ব্যপারে আলোচনা করলে তার আগে বা পরে ইনশাল্লাহ (অর্থাৎ "যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন") কথাটি ব্যবহার করেন[২২]। ইসলামিক পরিভাষায়, যে কোন কাজ শুরু করার পূর্বে একজন মুসলিমের বিসমিল্লাহ (অর্থাৎ "আল্লাহর নামে(শুরু করছি)") বলে শুরু করা উচিত, যাতে করে সেই কাজটা আল্লাহ পছন্দ করেন, এবং তাতে সাহায্য করেন[২৩]

এগুলো ছাড়াও সবসময় আল্লাহকে অধিক স্মরন করার উপায় হিসেবে মুসলিমদের মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা মূলক আরও কিছু বাক্য বহুল প্রচলিত, তন্মধ্যে "সুবহানাল্লাহ" (সমস্ত পবিত্রতা আল্লাহর), আলহামদুলিল্লাহ(সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), প্রধান কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সুমহান)।[২৪] সূফি সাধকদের মধ্যে একটি বহুল-প্রচলিত সাধনা হলো, আল্লাহযিকর, যেটায় সূফিরা নিজেদের শ্বাস-প্রশ্বাস কে নিয়ন্ত্রনের সাথে সাথে মনোযোগ সহকারে আল্লাহ শব্দ অথবা তার কোনো এক বা একাধিক গুনবাচক নাম প্রচুর পরিমানে পাঠ করতে থাকেন [২৫]

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে, "আল-কুরআন জোরালোভাবে ঘোষণা করেছে, মুসলিমরা বিশ্বাস করে, এবং ঐতিহাসিকরা নিশ্চিত করেছেন যে, মুহাম্মাদ এবং তার অনুসারীরা সেই একই উপাসনা করতেন, যার উপাসনা ইহুদিরা করতো (29:46)।এবং কুরআনের আল্লাহ এবং ইব্রাহিমের একই" [১০]

ইসলামিক ভাষ্যমতে আল্লাহর প্রধান কয়েকটি নাম[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: আসমাউল হুসনা

আল্লাহর নাম (আরবি) অর্থ কুরআনে যেখানে আছে
আল্লাহ আল্লাহ ১:১,৩:১৮, ৫:১০৯, ৬:১২৪, ৭:১৮০, ৮:৪০, ১৬:৯১, ২০:৮, ৫৭:৫, ৬৫:৩, ৭৪:৫৬, ৮৫:২০
আল খবীর যিনি গোপন ও প্রকাশ্য, ঘটিত ও অঘটিত সবকিছু সম্বন্ধে অবহিত আছেন ২:২৩৫, ১৭:৪৪, ২২:৫৯, ৩৫:৪১
আস সালাম ত্রুটিমুক্ত, সম্পূর্ণ, শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত ৫৯:২৩
আল ওয়াদুদ যিনি সীমাহীন ভাবে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসা পান ১১:৯০, ৮৫:১৪
আল মুমিন বিশ্বস্ত, ওয়াদা পালনকারী ৫৯:২৩
আল হক্ক সত্য ৬:৬২, ২২:৬, ২৩:১১৬, ২৪:২৫
আল হাই চিরঞ্জীব ২:২৫৫, ৩:২, ২৫:৫৮, ৪০:৬৫
আল গনী যাঁর কোন অভাব নেই ৩:৯৭, ৩৯:৭, ৪৭:৩৮, ৫৭:২৪, ৯:২৮
আল মুগনী যিনি সব ধরণের অভাব দূর করেন ৯:২৮
আস সাবুর ধৈর্য্যধারণকারী
আল গাফুউর অসীম ক্ষমাশীল
আল মুইয সম্মান ও মর্যাদা দানকারী
আল দার শাস্তি দানকারী
আর রাহমান অনন্ত করুণাময়
আল কারিম অসীম দাতা
আস সুবহান সর্বত্রুটিমুক্ত বিধায় পরম পবিত্র

খ্রিস্টধর্ম[সম্পাদনা]

আসিরিয়ান খ্রিস্টানদের ভাষায়, ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তার জন্য আরামাইক শব্দ হলো ʼĔlāhā, বা en:Alaha। খিস্টান এবং ইহুদিরা সহ আব্রাহামীয় সকল ধর্মের আরবী-ভাষী লোকই, ঈশ্বরকে বুঝাতে আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করে থাকে।[৩] বর্তমান যুগের আরবী-ভাষী খ্রিস্টানদের ব্যবহারের জন্য ঈশ্বরকে ইঙ্গিত করতে আল্লাহ ব্যতীত উপযোগী অন্য কোনো শব্দই নেই।[৯] (এমনকি আরবী-বংশোদ্ভুত মাল্টাবাসী, যাদের অধিকাংশই রোমান ক্যথলিক, ঈশ্বরকে বুঝাতে Alla(আল্লা) শব্দ ব্যবহার করে)। তবে আরব খিস্টানরা অনেক সময়ই তাদের ত্রিত্ত্ববাদ অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা বুঝাতে Allāh al-ʾab (الله الأبলুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found।) অর্থাৎ, পিতা ঈশ্বর, ঈসা বা জিসাসকে বুঝাতে Allāh al-ibn (الله الابنলুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found।) অর্থাৎ, পূত্র ঈশ্বর, এবং জিব্রাইল বা গেব্রিলকে বুঝাতেAllāh ar-rūḥ al-quds (الله الروح القدسলুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found।) অর্থাৎ,পবিত্র আত্মা কথাগুলো ব্যবহার করে। (খ্রিস্টান ধর্ম-বিশ্বাস অনুযায়ী ঈশ্বরের ধারণার বিস্তারিতের জন্য দেখুন খ্রিস্টান ধর্মে ঈশ্বরের ধারণা)।

লেখার সময় আরব খৃস্টানদের মধ্যে দুই ধরনের প্রচলন পাওয়া যায়, মুসলিমদের থেকে গৃহীত বিসমিল্লাহ এবং অষ্টম-শতক থেকে নিজেদের ত্রিত্ববাদী ধারনার বিসমিল্লাহ[২৬]। মুসলিমদের থেকে গৃহীত বিসমিল্লাহর অর্থ করা হয়, আল্লাহর নামে, যিনি পরম দয়ালু এবং অতিশয় মেহেরবান। অপরপক্ষে, ত্রিত্ববাদী বিসমিল্লাহর অর্থ করা হয়, এক ঈশ্বরের নামে যিনি পিতা, পূত্র এবং পবিত্র আত্মা। তবে সিরিয়ান, ল্যাটিন বা গ্রীক প্রাথনার মধ্যে এক কথাটি যুক্ত করা হয় না। এই এক কথাটি যুক্ত করা হয় ত্রিত্ববাদের এক ঈশ্বর ধারনাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য এবং কিছুটা মুসলিমদের নিকট গ্রহণযোগ্য রূপ দেয়ার জন্য[২৬]

কারো মতে, ইসলাম-পূর্ব আরব-এ কিছু কিছু আরব খৃস্টান সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আল্লাহর সম্মানে কাবায় যেত, তবে তত্কালীন কাবা ছিলো মূর্তিপূজারীদের প্রার্থনাস্থল।[২৭]

ইহুদীধর্ম[সম্পাদনা]

যেহেতু আরবী এবং হিব্রু খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত সেমিটিক ভাষা, এটি বহুল প্রচলিত মতামত যে, আল্লাহ(আরবী শব্দমূল: ইলাহ) এবং বাইবেলে বর্ণিত ইলোহিম এর আদিশব্দ একই। ইহুদি ধর্মগ্রন্থে, ইলোহিম শব্দকে ঈশ্বরের(ইহুদি মতানুযায়ী যাকে ইয়াওহে বা জেহোবা বলা হয়) একটি বর্ণনামূলক নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আবার একই সাথে শব্দটিকে পৌত্তলিকদের দেবতাদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যান্য ভাষায় ব্যবহার[সম্পাদনা]

ইংরেজি ও অন্যান্য ইউরোপিয়ান ভাষায়[সম্পাদনা]

ইংরেজী ভাষায় "আল্লাহ" শব্দের ব্যবহার খুব সম্ভবত ১৯ শতকে শুরু হওয়া তুলনামূলক ধর্মালোচনার গবেষণার প্রভাবে যুক্ত হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, টমাস কার্লাইল (১৮৪০) কখনও কখনও আল্লাহ শব্দটিকে ব্যবহার করেছেন, কিন্তু তা গড থেকে আলাদা কিছু হিসেবে নয়। তবে তিনি তার রচিত (১৯৩৪ সালে প্রকাশিত) মুহাম্মাদের জীবনতে সর্বদা আল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যদিও তার লেখনিতে প্রকাশ পেয়েছে যে, মুহাম্মাদের বর্ণিত আল্লাহ ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বর্ণিত ঈশ্বরের থেকে ভিন্ন।[২৮]

কিছু কিছু ভাষা আছে যেগুলোতে ঈশ্বরকে বুঝাতে আল্লাহ শব্দটিকে ব্যবহার করা হয় না, কিন্তু কিছু কিছু প্রচলিত কথার মধ্যে তা পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, আন্দালুস-এ সুদীর্ঘ মুসলিম শাসনামলের কারণে স্প্যানিশ ভাষায় ojalá এবং পর্তুগীজ ভাষায় oxalá শব্দগুলো পাওয়া যায়, যেগুলো মূলতঃ আরবী (إن شاء الله)(ইনশাল্লাহ) কথা থেকে উদ্ভূত। এই কথাটির আক্ষরিক অর্থ যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন(অনেকটাই আশা করি বুঝাতে)। [২৯]

জার্মান কবি সিগফ্রিড মালমান সর্বকর্তৃত্ত্বময় ঐশ্বরিক শক্তিকে নিয়ে লেখা কবিতার শিরোনাম হিসেবে আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করেছেন, কিন্তু তিনি কতটুকু "ইসলামিক" আল্লাহকে বুঝাতে চেয়েছেন তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

মুসলিমরা সাধারণত ইংরেজিতে Allah শব্দটিকে সরাসরি ব্যবহার করে থাকেন[৩০]

ইন্দোনেশিয়ান এবং মালয়শিয়ান ভাষায়[সম্পাদনা]

অন্যান্য ভাষা এবং বর্ণমালায়[সম্পাদনা]

টাইপোগ্রাফী[সম্পাদনা]

আল্লাহ শব্দের বিভিন্ন ভাষার প্রতিবর্ণীকরণ

লুয়া ত্রুটি package.lua এর 80নং লাইনে: module 'Module:Category handler/shared' not found।

ইউনিকোড[সম্পাদনা]

আরবি ভাষার ইউনিকোড সাইনে আল্লাহ শব্দের কোড হল U+FDF2 এবং ইরানের ফারসি ভাষার কোড হল U+262B |

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ "আল্লাহ" এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, ২০০৭
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিশ্বকোষ, আল্লাহ
  3. ৩.০ ৩.১ কলম্বিয়া এনসাইক্লোপিডিয়া, আল্লাহ
  4. ৪.০ ৪.১ L. Gardet, Allah, Encyclopaedia of Islam
  5. http://www.srigranth.org ওয়েব্যাক মেশিনে অবস্থিত আর্কাইভ কপি
  6. L. Gardet, "Allah", Encyclopedia of Islam
  7. Smith, Peter (২০০০)। "prayer"। A concise encyclopedia of the Bahá'í Faith। Oxford: Oneworld Publications। পৃ: 274–275। আইএসবিএন 978-1-85168-184-6 
  8. ৮.০ ৮.১ Murata, Sachiko (১৯৯২)। The Tao of Islam : a sourcebook on gender relationships in Islamic thought। Albany NY USA: SUNY। আইএসবিএন 978-0-7914-0914-5 
  9. ৯.০ ৯.১ Lewis, Bernard; Holt, P. M.; Holt, Peter R.; Lambton, Ann Katherine Swynford (১৯৭৭)। The Cambridge history of Islam। Cambridge, Eng: University Press। পৃ: ৩২। আইএসবিএন 978-0-521-29135-4 
  10. ১০.০ ১০.১ F.E. Peters, Islam, p.4, Princeton University Press, 2003
  11. Unicode Standard 5.0, p.479,492
  12. See Qur'an 13:16 ; 29:61–63; 31:25; 39:38)
  13. See Qur'an 37:158)
  14. See Qur'an (6:100)
  15. See Qur'an (53:19–22 ; 16:57 ; 37:149)
  16. See Qur'an (53:26–27)
  17. ১৮.০ ১৮.১ ১৮.২ Gerhard Böwering, God and his Attributes, Encyclopedia of the Qur'an
  18. See Qur'an 6:109; 10:22; 16:38; 29:65)
  19. Böwering, Gerhard, God and His Attributes, Encyclopaedia of the Qurʼān, Brill, 2007.
  20. ২১.০ ২১.১ Bentley, David (September ১৯৯৯)। The 99 Beautiful Names for God for All the People of the Book। William Carey Library। আইএসবিএন 978-0-87808-299-5  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  21. Gary S. Gregg, The Middle East: A Cultural Psychology, Oxford University Press, p.30
  22. Carolyn Fluehr-Lobban, Islamic Society in Practice, University Press of Florida, p.24
  23. M. Mukarram Ahmed, Muzaffar Husain Syed, Encyclopaedia of Islam,Anmol Publications PVT. LTD, p.144
  24. Carl W. Ernst, Bruce B. Lawrence, Sufi Martyrs of Love: The Chishti Order in South Asia and Beyond, Macmillan, p.29
  25. ২৬.০ ২৬.১ Thomas E. Burman, Religious Polemic and the Intellectual History of the Mozarabs, Brill, 1994, p.103
  26. Marshall G. S. Hodgson, The Venture of Islam: Conscience and History in a World Civilization, University of Chicago Press, p.156
  27. William Montgomery Watt, Islam and Christianity today: A Contribution to Dialogue, Routledge, 1983, p.45
  28. Islam in Luce López Baralt, Spanish Literature: From the Middle Ages to the Present, Brill, 1992, p.25
  29. F. E. Peters, The Monotheists: Jews, Christians, and Muslims in Conflict and Competition, Princeton University Press, p.12

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

Typography