ঢাকেশ্বরী মন্দির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির
ঢাকেশ্বরী মন্দির
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ভিতরে শিব মন্দির
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ভিতরে শিব মন্দির
নাম
পরিপূর্ণ নাম ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির
বাংলা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির
ভূগোল
স্থানাঙ্ক ২৩°৪৩′২৩″ উত্তর ৯০°২৩′২৩″ পূর্ব / ২৩.৭২৩০৬° উত্তর ৯০.৩৮৯৭২° পূর্ব / 23.72306; 90.38972স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৩′২৩″ উত্তর ৯০°২৩′২৩″ পূর্ব / ২৩.৭২৩০৬° উত্তর ৯০.৩৮৯৭২° পূর্ব / 23.72306; 90.38972
দেশ বাংলাদেশ
রাজ্য/প্রদেশ ঢাকা বিভাগ
জেলা ঢাকা জেলা
স্থানীয় ঢাকা
সংস্কৃতি
প্রধান দেবতা ঢাকেশ্বরী
স্থাপত্য
স্থাপত্য শৈলী সেনা
ইতিহাস ও প্রশাসন
নির্মাণকাল ১২তম শতাব্দীর সিই

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি মন্দির। ঢাকার নামকরণ হয়েছে "ঢাকার ঈশ্বরী" অর্থাৎ ঢাকা শহরের রক্ষাকর্ত্রী দেবী হতে। এই মন্দিরটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত।

ঢাকেশ্বরীর ইতিহাস[সম্পাদনা]

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে। ধারণা করা হয় যে, সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন ১২শ শতাব্দীতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে সেই সময়কার নির্মাণশৈলীর সাথে এর স্থাপত্যকলার মিল পাওয়া যায় না বলে অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন। বিভিন্ন সময়ে এই মন্দিরের গঠন ও স্থাপনার নানা ধরনের পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে।এটা ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় রাণী, রাজা বিজয় সেনের স্ত্রী স্নান করার জন্য লাঙ্গলবন্দ গিয়েছিলেন। ফিরে আসার সময় তিনি একটি পুত্রকে জন্ম দেন, যিনি বল্লাল সেন বলে ইতিহাসবিদদের কাছে পরিচিত হন। সিংহাসনে উঠার পর, বল্লাল সেন  তাঁর জন্মস্থানকে মহিমান্বিত করার জন্য এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। কিংবদন্তীগণ বলছেন যে বল্লাল সেন একবার জঙ্গলে  আচ্ছাদিত দেবতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বল্লাল সেন সেখানে দেবীকে  আবিষ্কৃত করেন এবং একটি মন্দির নির্মাণ কোরান ,মূর্তিটি ঢাকা ছিল বলে ঢাকেশ্বরী নামকরণ হয় ।  কিংবদন্তীগণ যা বর্ণনা করেন তা হিন্দু ধর্মীয়দেরকে ঢাকেশ্বরী কে  ঢাকার প্রসিদ্ধ দেবী  হিসেবে বিবেচনা করে, যা দেবী দুর্গা বা আদীপরামাহাশক্তি একটি মূর্তি বা রূপ।  দেবী ঢাকেশ্বরী আসল ৮০০ বছর পুরোনো বিগ্রহটি কলকাতার কুমারটুলি অঞ্চলে দুর্গাচারণ স্ট্রিট বর্তমানে বিরাজ করছে,মন্দিরের নাম শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির| এখন যে বিগ্রহটি ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আছে তা হলো ঢাকায় মূল মূর্তির প্রতিরূপ|দেশ ভাগের সময় কয়েক লক্ষ ভিটেমাটি হারা  মানুষের সঙ্গের তিনিও ঢাকার থেকে কলকাতায় এলেন ।দেশভাগ-পরবর্তী দাঙ্গার সময় সম্ভাব্য আক্রমণ এবং লুন্ঠনের হাত থেকে দেবীকে রক্ষা করতে ঢাকার মূল বিগ্রহটিকে গোপনে এবং দ্রুততার সঙ্গে ১৯৪৮-এ কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন রাজেন্দ্রকিশোর তিওয়ারি (মতান্তরে প্রহ্লাদকিশোর তিওয়ারি) এবং হরিহর চক্রবর্তী। বিশেষ একটি বিমানে ঢাকেশ্বরী আসল বিগ্রহটি কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল।কলকাতায় বিগ্রহটি আনার পর প্রথম দু'বছর হরচন্দ্র মল্লিক স্ট্রিটে দেবেন্দ্রনাথ চৌধুরির বাড়িতে দেবী পূজিতা হন।পরে ১৯৫০ নাগাদ ব্যাবসায়ী দেবেন্দ্রনাথ চৌধুরী কুমোরটুলি অঞ্চলে দেবীর মন্দির নির্মাণ করে দেন  ও প্রতিষ্ঠা করে দেবীর নিত্য সেবার জন্য কিছু দেবোত্তর সম্পত্তি দান করেছিলেন এবং অদ্যাবধি এখানেই দেবী পূজিতা হয়ে চলেছেন।দেবী  বিগ্রহের উচ্চতা দেড় ফুটার মতো ,দেবীর দশ হাত, কাত্যানী মহিষাসুরমর্দিনী দূর্গা রূপেই তিনি অবস্থান করছেন ।পশে লক্ষী সরস্বতী ও নিচে কার্তিক ও গণেশ ।বাহন রূপে পশুরাজ সিংহ দন্ডায়মান যার ওপর দাঁড়িয়ে দেবী মহিষাসুরকে বধ করেছেন ।মানসিংহ নাকি এই বিগ্রহ ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করে আজমগড়ের এক তিওয়ারি পরিবারকে সেবায়েত নিযুক্ত করেছিলেন । ১৯৪৬ সালে সেই পরিবারের বংশধরেরাই কলকাতায় এসে পুনরায় সেবায়েত নিযুক্ত হন ,এখনো তারাই দেবীর নিত্য সেবা করেন। এই ঢাকেশ্বরী দেবীর পূজা পদ্ধাতিও  বাংলার চিরপুরাতন পদ্ধাতির চেয়ে আলাদা ।মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত শক্তিপ্রসাদ ঘোষাল জানালেন ,শারদীয়া দুর্গাপূজার সময় দেবীর পূজা হয় উত্তর ভারতের নবরাত্রিক বিধি মেনে । দেশভাগের বেদনাময় পরিণামের কারণেই তাঁর এখানে আসা এবং মন্দিরের প্রতিষ্ঠা। দেবীকে যেভাবে অলংকারহীন এবং প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় লুকিয়ে আনা হয়েছিল, তার ছবিও এই মন্দিরে সংরক্ষিত আছে। তাই ঢাকার মত কলকাতার ঢাকেশ্বরী মন্দিরটিরও ঐতিহাসিক গুরুত্ব কিছু কম নয়। অথচ মন্দিরগৃহটির আজ জরাজীর্ণ দশা। অপরিসর রাস্তা, ঝোপঝাড় ঘেরা।সংস্কারের অভাবে হতশ্রী এই মন্দিরেই দেবীর অনিন্দ্যসুন্দর আদি বিগ্রহটির নিত্যপূজা হয়। সেবাইত এবং পূজারি খেদের সঙ্গে কলকাতাবাসীর উদাসীনতা এবং সরকারি সাহায্যের অভাবের কথা জানালেন। মন্দিরের দৈনন্দিন কাজে আর্থিক অপ্রতুলতার কথাও বললেন বিষণ্ণ মনে।আজও আসেন পূর্ববঙ্গের বহু ভক্ত হয়তো ফেলে আসা ভিটেমাটির ছোয়া পেতে।দেবীর মন্দিরটি মাতা সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে থেকে কিছুটা এগিয়ে যাকেই জিজ্ঞাসা করবেন সেই দেখিয়ে দেবেে।বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত ঢাকেশ্বরী মন্দির জাতীয় মন্দিরের তকমা পেয়েছে। সেদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মাচরণের নানাবিধ কাজকর্ম ওই মন্দিরকে কেন্দ্র ক'রে পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক এবং অন্যান্য নানা ক্ষেত্রের গণ্যমান্য মানুষের ভিড় লেগেই থাকে শ্রীশ্রীঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে। বহু ঘাতপ্রতিঘাত, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগের ইতিহাস বুকে নিয়ে সেই মন্দির আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে।ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রচারের আলোয় ঢাকা পড়ে গেছে কলকাতার ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দির। শোভাবাজার ছাড়িয়ে কুমোরটুলির এক অপরিসর গলিতে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে নীরবে নিভৃতে বিরাজমান এই মন্দিরখানি। অথচ ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আদি বিগ্রহ কিন্তু এখানেই প্রতিষ্ঠিত।কলকাতার এই ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দিরটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা বিচার ক'রে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে মন্দির সংস্কারের কাজে দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন । নয়ত অচিরেই দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইতিহাস শুধুমাত্র আমাদের নির্লিপ্ততায় হারিয়ে যাবে।

বর্তমানে এখানে প্রতি বছর ধুমধামের সাথে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

অবস্থান ও স্থাপনাসমূহ[সম্পাদনা]

ঢাকেশ্বরী মন্দির ঢাকা শহরের পলাশী ব্যারাক এলাকায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসসমূহের দক্ষিণে ঢাকেশ্বরী রোডে অবস্থিত। মূল মন্দির প্রাঙ্গনের বাইরে মহানগর পুজামণ্ডপ অবস্থিত। এখানে যেখানে দুর্গা পুজার স্থায়ী বেদী রয়েছে।

মূল মন্দির এলাকার ভবনগুলি উজ্জ্বল হলুদাভ ও লাল বর্ণের। মূল মন্দির প্রাঙ্গনের উত্তর পশ্চিম কোণে রয়েছে চারটি শিব মন্দির। মূল মন্দিরটি পূর্বাংশে অবস্থিত। এখানে দেবী দুর্গার একটি ধাতু-নির্মিত প্রতিমা রয়েছে।

কলকাতা শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দিরের অবস্থান:কলকাতা, শোভাবাজার, কুমারটুলি, হাটখোলা, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ 700005 1

মন্দিরের বেহাত সম্পত্তি[সম্পাদনা]

ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হলেও বাংলাদেশের অন্যান্য অনেক মন্দিরের মতই এটিরও স্থাবর সম্পত্তি বেহাত হয়েছে।[১] মন্দিরের মোট ২০ বিঘা জমির মধ্যে ১৪ বিঘাই বেহাত হয়ে গিয়েছে।এই বেহাতের পেছনে রয়েছে দেশের সাম্প্রদায়িক মনোভাবসম্পন্ন একটি গোষ্ঠী যাদের মধ্যে সরকারী কর্মকর্তাও রয়েছে।[১] বিভিন্ন সময় এই বেহাত হওয়া জায়গা পুনরুদ্ধারের জন্য দাবী জানানো হলেও কোন সরকারই কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।[২] ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পরেই পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় এবং একচাটিয়া সংখ্যালঘু হিন্দু নিষ্পেষণ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার জরুরি ভূমি গ্রহন আইন পাশের মাধ্যমে এবং ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পরে ১৯৬৯ সালে শত্রু সম্পত্তি আইন (বর্তমান নাম অর্পিত সম্পত্তি আইন) নামক কালা কানুন পাশ করে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জায়গা জমি দখলের রাস্তা প্রশস্ত হয়।এরপরে ১৯৭১ সালে এবং ১৯৯০ ও ১৯৯২ সালে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক নিষ্পেষণের কারনে মন্দিরের অনেক সেবায়েত এবং পুরোহিত দেশ ত্যাগে বাধ্য হন।[১] যার ফলশ্রুতিতে এক শ্রেণীর অসাধু সরকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জায়গা বেদখল হয়ে যায়। [১]

গ্যালারী[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]