চট্টেশ্বরী মন্দির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চট্টেশ্বরী মন্দির
Chatteshwari Temple Close View.jpg
প্রবেশ
প্রাথমিক তথ্য
অবস্থান২০ চট্টেশ্বরী সড়ক, মেহেদীবাগ, চট্টগ্রাম
ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক২২°২১′১১″ উত্তর ৯১°৪৯′২৬″ পূর্ব / ২২.৩৫২৯৪১° উত্তর ৯১.৮২৩৮৩০৪° পূর্ব / 22.352941; 91.8238304
Districtচট্টগ্রাম
Regionচট্টগ্রাম
দেশবাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠার তারিখ18th Century

শ্রী শ্রী চট্টেশ্বরী কালী মায়ের বিগ্রহ মন্দির বাংলাদেশের বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরসমূহের মধ্যে অন্যতম। জনশ্রুতি মতে, প্রায় ৩০০-৩৫০ বছর পূর্বে আর্য ঋষি যোগী ও সাধু সন্ন্যাসীদের মাধ্যমে শ্রী শ্রী চট্টেশ্বরী দেবীর প্রকাশ ঘটে। এটি বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী সড়কে তিন পাহাড়ের কোনে অবস্থিত।

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

জনশ্রুতি মতে এটি একটি সতীপীঠ । যেখানে দেবী সতীর দেহের কোনও অংশ পরেছিল দক্ষযজ্ঞের পরে ।

শক্তি দেবী ও ভৈরব[সম্পাদনা]

দেবী চট্টেশ্বরী হলেন দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়া দুরগা/কালীর রূপ বিশেষ ।মূল রাস্তা থেকে একটু উঁচুতে সিঁড়ি দিয়ে উঠে মধ্যের বাঁধানো চত্বরটির বাঁদিকে কালী মন্দির ও ডানদিকে শিব মন্দির। যেটি একটি ভৈরবের প্রতীক , যা সতীর কুণ্ডকে প্রতিরক্ষা দান করে। শিব মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি কুন্ড।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চট্টেশ্বরী মন্দিরের প্রথম কালীমূর্তি নিয়ে কিংবদন্তি রয়েছে। ধর্মগ্রন্থ ও সেবাইতের ধারণা অনুযায়ী স্বপ্নাদিষ্ট কালীমাতার একটি নিমকাঠের মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন খ্রিষাণগীর নামে জনৈক মহারাজ। মূর্তিটি দক্ষিণকালীর। যাঁর পুজো করলে জাগতিক ও পারমার্থিক সবরকম ফললাভ হয়।চট্টেশ্বরী মাতার সাধনা শুরু করেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালি থানার সরোয়াতলি গ্রামের অধিবাসী সাধক রামসুন্দর দেবশর্মণ। সাধনার পাশাপাশি মায়ের পুজোও নিয়মিত চলতে থাকে। কথিত আছে কবি নবীন চন্দ্র সেন (তৎকালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট) এই সেবাপুজোর জন্য রামসুন্দর দেবশর্মণকে নগদ ৫০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা এই মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং মন্দিরের সেবায়েতের বাড়ি ও বিগ্রহ বিনষ্ট করা হয়।[২] শ্রীচট্টেশ্বরী মাতার প্রাচীন নিমকাঠের মূর্তিটি খণ্ডবিখণ্ড করেছিল। এরপর মূর্তিটির যে অংশগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, সেগুলি জোড়া দেওয়া সম্ভব হয়েছে। দেশ স্বাধীনতা লাভের পর মন্দিরের সেবায়েত ডাঃ তারাপদ অধিকারী তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্য মন্ত্রী তরুণ কান্তি ঘোষ এবং সনাতন ধর্মীদের সাহায্য ও সহযোগিতায় কষ্টি পাথরের কালী মূর্তি ও শ্বেত পাথরের শিব মূর্তি পুনঃনির্মান করেন, যাতে ও বাংলাদেশ সরকারও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে।

মূর্তি[সম্পাদনা]

মায়ের শান্ত শ্রী। করুণাঘন দৃষ্টি। শ্রী চট্টেশ্বরীর বর্তমান মূর্তিটি কষ্টিপাথরের। শ্বেতপাথরের শিব মায়ের শ্রীচরণতলে। দামি দামি অলংকার শোভিতা মাতৃমূর্তি। নিত্যপুজো হয়।

পূজা[সম্পাদনা]

শ্যামাপুজো এই মন্দিরের প্রধান উৎসব।প্রতিদিন ভোর ৫টায় মন্দির খোলে। বন্ধ হয় রাত ১১টায়। দুপুরে ঘণ্টা দেড়েক মন্দির বন্ধ থাকে। বিজয়বাবুর পরিবারেরই চার-পাঁচজন পূজারি। ভক্তরা এই মন্দিরে মানতও করেন। শ্যামাপুজো এই মন্দিরের সবথেকে বড় উৎসব। আগে পুজোয় তিনশোর ওপর ছাগবলি হত। এখন বলির সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]