বরদেশ্বরী কালী মন্দির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বরদেশ্বরী কালী মন্দির
বরদেশ্বরী কালীমন্দির.jpg
বরদেশ্বরী কালীমন্দির
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
অবস্থান
অবস্থানপশ্চিম রাজারবাগ, বাসাবো, ঢাকা
স্থাপত্য
ধরনবঙ্গীয় স্থাপত্যশৈলী
সৃষ্টিকারীমুঘল সেনাপতি মান সিংহ

শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির হল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের বাসাবো এলাকায় অবস্থিত একটি কালীমন্দির। এটি গঙ্গাসাগর দিঘি পার্শ্বে অবস্থিত[১] এবং এখানে একটি মহাশ্মশান রয়েছে যেখানে দাহকার্য সম্পন্ন হয়।[২]

অবস্থান[সম্পাদনা]

বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের সবুজবাগ থানার বাসাবো এলাকার পশ্চিম রাজারবাগ এলাকায় অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কখিত আছে যে ষোড়শ শতকের শেষের দিকে দিল্লীর মোঘল সম্রাট আকবর তার প্রধান সেনাপতি রাজা মানসিংহ কে সুবেদার ঈশা খাঁ কে দমন করে বাংলা বিজয়ের উদ্দেশ্যে পাঠান। তখন রাজা মানসিংহ ডেমরার অদূরে তৎকালীন রাজধানী সেনের ভাগের ঈশা খাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে পথিমধ্যে ঢাকায় পৌছে এখানে তাঁবু ফেলেন। । এই স্থানের পূর্ব প্রান্তেই ছিল সুবর্ণগ্রাম বা সোনারগাঁও। এ এলাকায় তখন পানীয় জলের খুব প্রকট ছিল। তখন রাজা মানসিংহ তার সৈন্যদের ব্যবহার এবং ওই এলাকার জনগনের পানীয় জলের অসুবিধা দূর করার জন্য একটি দিঘী খনন করেন এবং বার তীর্থের জল দ্বারা এই দীঘির জল পবিত্র করেন। পরবর্তীতে এটি গঙ্গাসাগর দীঘি নামে পরিচিতি লাভ করে।১৯০৬ সালে প্রকাশিত পাশ্চাত্যের বিশিষ্ট পি ত এফবি ব্রাংকলে বার্ট তার ‘দি রোমান্স অব এন ইস্টার্ন ক্যাপিটাল’ বইয়েও সুস্পষ্টভাবে এই বিষয়টির উল্লেখ করেছেন। ‘প্রাচ্যের রহস্য নগরী’ নামে পরবর্তীতে বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন রহিম উদ্দিন আফজে। আর সেটিতেও এই বিষয়ের সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।   এছাড়া মানসিংহ ঈশা খাঁ কে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে দেবীর বর প্রার্থনা করে দীঘিটির পাশে একটি কালীমন্দির স্থাপন করেন।  সেই সূত্রেই এই মন্দিরটির নাম হয় বরদেশ্বরী কালীমন্দির। এটি স্থায়ীয় লোকজনের নিকট রাজারবাগ কালীমন্দির নামেও পরিচিত।[৩][৪]

বর্তমানে গঙ্গাসাগর দীঘির পশ্চিম প্রান্তে বিভিন্ন পূজা-পার্বন উপলক্ষে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া প্রবাদ আছে যে, দূর্গাষ্টমীর দিন কেউ ব্রহ্মপুত্র নদে স্নাম করে ওইদিনই গঙ্গাসাগরে স্নান করলে দ্বিগুণ পূণ্য লাভ হয়। প্রতিবছর হাজারো ভক্ত এবং দর্শনার্থী এই মন্দির দর্শনে আসেন। এই জমির মালিকগণের মধ্যে শ্রী হলধর সরকার ১৯০৪ সালে এবং জমিদার শ্রী কৃপাময়ী দেবী ১৯০৬ সালে তাদের জমি শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতার বিগ্রহ বরাবর দান করে যান। পরবর্তীতে ১৯০৭ সালে শ্রী মধূসুদন ব্যাপারী কালীমাতার বিগ্রহ বরাবর আরও কিছু সম্পত্তি রেজিস্ট্রি দানপত্র করে দিয়ে যান। তখন থেকেই এই মন্দিরে সার্বজনীন ভাবে বিভিন্ন পূজা-পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এছাড়া, এই মন্দিরের পাশেই রয়েছে শিব মন্দির, মহাদেবের পীঠস্থান, পঞ্চনাগ মাতা মন্দির, বুড়া-বুড়ি আশ্রম এবং গঙ্গাসাগর দীঘির উত্তর পশ্চিম দিকে রয়েছে মহাশশ্মান ও শ্মশান কালী মন্দির, পশ্চিম দিকে আরও আছে শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা মন্দির, শীতলা মন্দির, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম। স্থানীয়ভাবে শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালী মন্দিরটি মন্দিরটি রাজারবাগ কালী মন্দির নামে পরিচিত।[৫]

স্থাপত্যশিল্প বিষয়ক তাৎপর্য[সম্পাদনা]

এই মন্দিরটি মোঘল স্থাপত্যের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এই মন্দিরে অবস্থিত কালী দেবীর মূর্তিটি পাথরে নির্মিত ।

বরদেশ্বরী মহাশ্মশান[সম্পাদনা]

এই মন্দিরের উত্তর-পশ্চিম পাশ্বে একটি শ্মশান রয়েছে যা সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত। এই শ্মশানে শবদাহের জন্য উত্তম ব্যবস্থা করা আছে। মন্দিরের উন্নয়নে এখানকার শ্মশানে যে কোনো সংখ্যালঘুর মৃতদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে মৃত জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) এর মতো গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে এই শ্মশানে দাহ করা হয়েছে।[৬][৭]

কালীমন্দির আবাসন[সম্পাদনা]

১১.৪৪ একর জমি নিয়ে গঙ্গাসাগর দিঘি। আশপাশের দক্ষিণগাঁও, নন্দীপাড়া, বাসাবো, মাদারটেক, গোড়ান এলাকায় যখন পানি থাকে না, তখন এসব এলাকার বাসিন্দারা গঙ্গা সাগরের পানি নিয়ে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে ঘরকন্নার সব কাজ করেন। মন্দিরের প্রবেশ পথের ডান দিকে অফিস কক্ষ, বাম দিকে শিব মন্দির। যার মধ্যে স্থাপন করা আছে শিবলিঙ্গ। এর সামনেই প্রধান মন্দিরের পশ্চিমে গঙ্গাসাগর দিঘি। পাশেই হিজলতলা গাছের শীতল ছায়ায় দিঘির পূর্ব ও উত্তর কোনায় রয়েছে মহাদেবের তীর্থস্থান। জনসাধারণের সুবিধার জন্য দিঘির পূর্ব এবং দক্ষিণে রয়েছে শানবাঁধানো ৩টি পাকা ঘাট। পশ্চিম পাশে রয়েছে শিতলা মন্দির ও লোকনাথ বাবার আশ্রম। এক কথায় প্রকৃতির অবারিত সৌন্দর্যের হাতছানিতে এখানে আগতরা মুগ্ধ হবেই।

[[চিত্র:মন্দির কমিটি.jpg|থাম্ব|শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির পরিচালনা কমিটির তালিকা[[চিত্র:বরদেশ্বরী শ্মশান.jpg|থাম্ব|বরদেশ্বরী মহা শ্মশানের ভিতরের অংশ

শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরের প্রধান ফটক

]]]]

আগে ঐতিহাসিক দিঘি থেকে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা মাটি কেটে নিত। এটা বন্ধ করার জন্য বাউন্ডারি হিসেবে ১৬১টি দোকান এবং পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে মোট ৭০টি আবাসন গৃহনির্মাণ করা হয়। যাতে বাইরের কেউ দিঘির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে।

বর্তমান পরিচালনা পরিষদ[সম্পাদনা]

১৯৩৫ সাল থেকে এই মন্দির বিভিন্ন কার্যকরী পরিচালনা কমিটির দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এই মন্দিরটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাস যিনি ৫নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কাউন্সিলরও।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ঢাকার একমাত্র দিঘি গঙ্গাসাগর"। আমরাঢাকা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৫ 
  2. "ওরাই এখনখবর"। সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৫ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "রাজধানীতে এক টুকরো গঙ্গাসাগর দিঘি"https://www.bd-pratidin.com  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)
  4. "ঢাকা জেলা" |ইউআরএল= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)http (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৫ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. "বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির - মন্দির দর্শন"mandirdarshanbd.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৫ 
  6. বাসস। "সি আর দত্তের মরদেহ আসছে কাল, শেষকৃত্যানুষ্ঠান মঙ্গলবার"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-২৫ 
  7. "চিত্ত রঞ্জন দত্ত"উইকিপিডিয়া। ২০২০-১২-০৮। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

[[চিত্র:বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির.jpg|থাম্ব|বরদেশ্বরী কালী মন্দিরের প্রধান মন্দির[[চিত্র:বরদেশ্বরী মহা শ্মশান.jpg|থাম্ব|বরদেশ্বরী মহা শ্মশানের প্রধান ফটক

গঙ্গা সাগর দিঘী

]]]]