আত্মা (হিন্দু দর্শন)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আত্মা (/ˈɑːtmən/; সংস্কৃত: आत्मन्) একটি তৎসম শব্দ যার দ্বারা অভ্যন্তরস্থ আত্ম, অন্তরাত্মা বা চিদাত্মাকে বোঝায়, ইংরেজিতে একে স্পিরিট বা সোউল বলা হয়।[১][২] হিন্দু দর্শনে, বিশেষ করে বেদান্ত সম্প্রদায়ে আত্মা হচ্ছে প্রথম নীতি বা প্রথম কারণ, যাকে অন্য স্বতঃসিদ্ধ থেকে অনুমান করা যায়না,[৩] এটি হল কোন ব্যক্তির সত্যিকারের আত্ম, যা কোন প্রপঞ্চের সাহায্যে চিহ্নিতকরণের ঊর্ধ্বে, এটি হল ব্যক্তির সারসত্তা। মোক্ষ বা মুক্তি লাভের জন্য মানুষকে অবশ্যই আত্মজ্ঞান অর্জন করতে হবে, অদ্বৈতবাদ অনুসারে এই জ্ঞান হচ্ছে এই যে, নিজের সত্যিকারের আত্ম বা আত্মা আর ব্রহ্মের পরমাত্মা একই বিষয়।[২][৪]

হিন্দুধর্মের ছয়টি আস্তিক্যবাদী দার্শনিক সম্প্রদায় অনুসারে প্রত্যেক জীবে আত্মা রয়েছে। এটি হল বৌদ্ধদর্শনের অনাত্মা নীতির সাথে প্রধান পার্থক্য, যা বলে আত্মা বা আত্ম বলতে কিছু নেই।[৫][৬][৭]

ব্যুৎপত্তি ও অর্থ[সম্পাদনা]

আত্মা একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল "সার, শ্বাস, অন্তঃকরণ"।[৮][৯] এটি প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয় শব্দমূল *h₁eh₁tmṓ থেকে এসেছে, যার মূল অর্থ হল শ্বাস। এর কেবল জার্মানিক কগনেটগুলো আজ দেখা যায়, যেমন ডাচ ভাষায় adem, ওল্ড হাই জার্মান ভাষায় atum (শ্বাস), আধুনিক জার্মান ভাষায় atmen (শ্বাস গ্রহণ করা) এবং Atem (শ্বাস), ওল্ড ইংলিশ এ eþian.[৮]

ডায়াক্রিটিক ছাড়া শিক্ষায়তনিক সাহিত্যে একে অনেক সময় atman লেখা হয়,[১০] যার অর্থ হচ্ছে ব্যক্তির "বাস্তব আত্ম",[১][৯] "অন্তরতম সার",[১১] এবং আত্মা (সোউল)।[১][১২] হিন্দুধর্মে আত্মাকে শাশ্বত, অক্ষয় এবং সময়ের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচনা করা হয়, "যা দেহ বা মন বা চেতনা নয়, কিন্তু এগুলোর সবকিছুরই ঊর্ধ্বে"।[১৩][১৪][১৫] হিন্দুদের জন্য আত্মা একটি অধিবিদ্যীয় এবং আধ্যাত্মিক প্রত্যয়, এবং প্রায়ই তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে ব্রহ্মের প্রত্যয়ের সাথে একে আলোচনা করা হয়।[১৬][১৭][১৮]

প্রত্যয়ের বিকাশ[সম্পাদনা]

বেদ[সম্পাদনা]

ভারতীয় শাস্ত্রে আত্মা শব্দটির প্রাথমিক ব্যবহার পাওয়া যায় ঋগ্বেদে (RV X.97.11)।[১৯] প্রাচীন ভারতীয় বৈয়াকরণ যাস্ক ঋগ্বেদের সূত্রগুলোর টীকাকার বা নিরুক্তকারী ছিলেন, তিনি আত্মার এই অর্থকে গ্রহণ করেন: আত্মা হল সর্বব্যাপী নীতি, এতি সেই সত্তা যাতে অন্যান্য উপাদানগুলো একত্রিত হয়, এটি চূড়ান্ত সচেতন নীতি।[২০]

ঋগ্বেদের অন্যান্য মন্ত্রে আত্মার কথা উঠে এসছে, যেমন I.115.1, VII.87.2, VII.101.6, VIII.3.24, IX.2.10, IX.6.8, and X.168.4.[২১]

উপনিষদ[সম্পাদনা]

সকল উপনিষদে আত্মা একটি কেন্দ্রীয় ধারণা, এবং "নিজের আত্মাকে জানা" হচ্ছে এগুলোর সার আলোচনা।[২২] এই গ্রন্থগুলোতে বলা হয়, প্রত্যেক ব্যক্তি অন্তর্নিহিত সত্তা তার দেহ নয়, মনও নয়, তার অহং নয়, তা হল আত্মা।[২৩] আত্মা হল প্রত্যেক জীবের আধ্যাত্মিক সার, তাদের সত্যিকারের অন্তরতম সারসত্তা।[২৪][২৫] এটি শাশ্বত, সার এবং অমর। আত্মা হচ্ছে কারও অস্তিত্বের গভীরতম স্তর।

বৃহদারণ্যক উপনিষদ[সম্পাদনা]

বৃহদারণ্যক উপনিষদে আত্মাকে বর্ণনা করা হয়েছে এমন একটি বিষয় হিসেবে যার মধ্যে সবকিছু বিরাজ করে, যার মূল্য সর্বোচ্চ, যা সর্বব্যাপী, যা সব কিছুর সার, যা বর্ণনারও ঊর্ধ্বে।[২৬] বৃহদারণ্যক উপনিষদের ৪ঃ৪ঃ৫ নং শ্লোকে আত্মাকে ব্রহ্ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং একে বলা হয়েছে এভাবে - কেউ যা তার সবকিছু, কেউ যা হতে পারে তার সবকিছু, কারও স্বাধীন ইচ্ছা, কারও ইচ্ছা, কেউ যা করে, কেউ যা করে না, কারও মধ্যে যে শুভত্ব আছে, কারও মধ্যে যা অশুভ আছে, সব কিছুর সাথেই আত্মা সম্পর্কিত।

আত্মা প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মই। এটিকে বুদ্ধি, মানস (মন), প্রাণবায়ু, চোখ, কান, পৃথিবী, জল, বায়ু, আকাশ, অগ্নি, অগ্নি ছাড়া আর যা কিছু আছে, কামনা, কামনাহীনতা, ক্রোধ, অক্রোধ, ন্যায়, অন্যায়, সবকিছু হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। যা কিছু জানা, যা কিছু প্রত্যক্ষ করা হয়, যা কিছু অনুমিত হয় - সব কিছু দ্বারাই একে চিহ্নিত করা যায়। আত্মা ক্রিয়া করে, তাই এটি শুভ কিছু করলে এটি শুভত্বে পরিণত হয়, এবং মন্দ কিছু করলে এটি অশুভে পরিণত হয়। ন্যায় কার্যের দ্বারা এটি ন্যায়বান, এবং অনিষ্ট ক্রিয়ার দ্বারা এটি অনিষ্টকরে পরিণত হয়। অবশ্য অন্যেরা বলেন, "আত্মকে কেবলই কামনা দ্বারাই চিহ্নিত করা যায়। আত্ম বা নিজ যা কামনা করে, তাই স্থির করে, যা স্থির করে তাই সম্পাদন করে, আর যা সম্পাদন করে তারই পরিণাম প্রাপ্ত হয়।

— বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৪ঃ৪ঃ৫, খ্রিস্টপূর্ব ৯ম শতক[২৭]

আত্মার এই ধারণা, অর্থাৎ এটি সকলেরই আত্ম, এবং সকল জীবই ব্রহ্ম, এসব কথা বৃহদারণ্যক উপনিষদে ব্যাপকভাবে বারবার বলা হয়েছে। এই উপনিষদ জোর দিয়ে বলে যে, "আমিই ব্রহ্ম", এবং "আমি" ও "তুমি" বা "আমি" ও "সে" এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এই "আমি", "তুমি", "সে" হল মুক্তির সূত্র, এবং এমনকি ঈশ্বরও এরকম মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জয় করতে পারেনা। যেমন ১ঃ৪ঃ১০ নং শ্লোকে বলা হয়েছে -

ব্রহ্ম আগে এরকম ছিল; তাই এটিও আত্মাকে জানত। আমি ব্রহ্ম, তাই এটি সব কিছুতে পরিণত হয়। আর দেবতাদের মধ্যে যেই এই আলোকপ্রাপ্ত হয়, সেও তাতে পরিণত হয়। ঋষিদের ক্ষেত্রেও তাই ঘটে, মানুষের সাথেও তাই ঘটে। যেই নিজেকে "আমি ব্রহ্ম" হিসেবে জানে, সেই বিশ্বজগতে পরিণত হয়। এমনকি দেবতারাও তাকে জয় করতে পারেনা, কারণ সে তাদের আত্মায় পরিণত হয়েছে। এখন, যদি একজন মানুষ অন্য দেবতাদের পূজা করে, চিন্তা করে: "সে এক আর আমি আরেক", তাহলে সে জানে না। সে সেই দেবতাদের কাছে পশুর মত। মানুষকে যেমন অনেক পশু সেবা করে, তেমনি মানুষ দেবতাদেরকে সেবা করে। যদি কোন পশুকে তার থেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সে রেগে যায়, তাহলে অনেককে যদি কেড়ে নেয়া হয় তাহলে কী ফল হতে পারে? তাই মানুষদের এই জ্ঞানার্জন দেবতাদের জন্য সন্তোষজনক ব্যাপার নয়।

— বৃহদারণ্যক উপনিষদ ১ঃ৪ঃ১০[২৮]

কঠোপনিষদ[সম্পাদনা]

বৃহদারণ্যক উপনিষদের সাথে প্রারম্ভিক ও মধ্যকালীন উপনিষদগুলোও আত্মা বিষয়ে আলোচনা করেছে, এগুলোতে মানুষ কিভাবে মুক্তি ও পরম সুখ লাভ করতে পারে সেই বিষয়ে তত্ত্বের বিকাশ সাধন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কঠোপনিষদে আত্মাকে প্রত্যেক মানুষ ও জীবিত জীবের মধ্যকার সর্বব্যাপী এবং পারমার্থিক অন্তরতম সার হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি এক, যদিও জীবিত জীবসমূহের বহিরাকৃতি বিভিন্ন আকারে প্রকাশিত হয়, যেমন ২ঃ২ঃ৯ নং শ্লোকে বলা হয়েছে -

জগতে অগ্নি যেমন এক হবার পরও তা যা কিছুকে দহন করে তার আকার ধারণ করে,


সকল জীবিত সত্তার অন্তরাত্মাও এক হবার পরও তা যেখানে প্রবেশ করে তার আকার ধারণ করে, আর সকল আকারই বহিঃস্থ।

— কঠোপনিষদ, ২ঃ২ঃ৯[২৯]

কঠোপনিষদের গ্রন্থ ১, শ্লোক ৩ঃ৩ থেকে ৩ঃ৪ এ দেহ, মন ও ইন্দ্রীয়জ অনুভূতির সাথে আত্মার সম্পর্ক বর্ণনা করার জন্য রথের উপমা দেয়া হয়েছে।[৩০] স্টেফেন কাপ্লান[৩১] এই শ্লোকগুলোকে অনুবাদ করেছেন, "নিজেকে রথে উপবিষ্টকারী হিসেবে কল্পনা করো, এবং নিজের শরীরকে কল্পনা করো নিছকই রথ হিসেবে। বুদ্ধিকে কল্পনা করো রথী বা রথচালক হিসেবে, আর মনকে কল্পনা করো লাগাম হিসেবে। ইন্দ্রীয়জ অনুভূতিকে কল্পনা করো ঘোড়া হিসেবে, আর প্রত্যক্ষণের বস্তুকে কল্পনা করো রথের চারপাশে যে পথ আছে সেটি হিসেবে।" এরপর কঠোপনিষদ ঘোষনা করে, "যখন আত্মা এটি বুঝতে পারে, বুঝতে পারে যে এটি তার দেহ, ইন্দ্রীয়জ অনুভূতি ও মনের সাথে একত্রিত ও একীভূত, তখন সে ন্যায়বান, মনোযোগী, এবং পবিত্র হয়, এটি পরম সুখ, মুক্তি ও মোক্ষ প্রাপ্ত হয়।"[৩০]

ছান্দোগ্য উপনিষদ[সম্পাদনা]

ছান্দোগ্য উপনিষদ আত্মাকে ব্যাখ্যা করে, যা দুটো জীবিত বস্তুকে পৃথক হিসেবে প্রতিভাত হয়, কিন্তু আসলে পৃথক নয়, সকলের মধ্যে থাকা সেই সার এবং অন্তরতম, সত্য, উদ্ভাসিত আত্ম যা সব কিছুকে সংযুক্ত ও একত্রিত করে তাই আত্মা। উদাহরণস্বরূপ ৪ঃ১০ঃ১ থেকে ৪ঃ১০ঃ৩ নং শ্লোকে আত্মাকে নদীর উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যার কিছুটা পূর্বে, আর কিছুটা পশ্চিমে প্রবাহিত হয়, কিন্তু চূড়ান্তভাবে এটি সাগরেই পতিত হয় এবং এক হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে প্রত্যেকের আত্মাই হল একক পবিত্র সত্তা। ছান্দোগ্য উপনিষদে বলা হয়েছে, একজনের আত্মা হল পবিত্র সত্য, আর সেই আত্মা হচ্ছে একটি বিশ্বজনীন আত্মার সমুদ্রের প্রকাশ।[৩২]

অন্যান্য উপনিষদ[সম্পাদনা]

আত্মা হচ্ছে উপনিষদের মূল আলোচ্য, কিন্তু এটায় দুটো পৃথক দুটি মূলভাব দেখা যায়। কোন কোনটি শেখায় ব্রহ্ম (উচ্চতম বাস্তবতা, বিশ্বজনীন নীতি, সত্তা-চেতনা-পরম সুখ) এবং আত্মা অভিন্ন। অন্যগুলো আবার শেখায় আত্মা ব্রহ্মেরই অংশ, কিন্তু আত্মা ও ব্রহ্ম অভিন্ন নয়।[৩৩][৩৪] এই প্রাচীন বিতর্ক হিন্দুধর্মের বিভিন্ন দ্বৈতবাদী ও অদ্বৈতবাদী তত্ত্বের জন্ম দেয়। বাদরায়ণের ব্রহ্মসূত্র (আনু. খ্রিস্টপূর্ব ১০০ অব্দ) এই দ্বন্দ্বপূর্ণ তত্ত্বগুলোর সংশ্লেষণ ও একীভূতকরণের কিছুটা প্রচেষ্টা চালায়, এবং বলে, আত্মা ও ব্রহ্ম কিছু ক্ষেত্রে পৃথক, বিশেষ করে অজ্ঞতার সময়, কিন্তু গভীরতম মাত্রায় এবং আত্ম-উপলব্ধির অবস্থায় আত্মা ও ব্রহ্ম অভিন্ন, অদ্বৈত।[৩৩] এই সংশ্লেষণ সাংখ্য-যোগ দার্শনিক সম্প্রদায়ের দ্বৈতবাদী মতবাদ এবং ন্যায়-বৈশেষিক দার্শনিক সম্প্রদায়ের বাস্তববাদ প্রভাবিত মতবাদকে পরাভূত করে, এবং এরফলে বেদান্ত হিন্দুধর্মের স্থায়ী আধ্যাত্মিক মতবাদ হয়ে ওঠে।[৩৩]

বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায়ের আত্মা সম্পর্কিত মতবাদ[সম্পাদনা]

হিন্দুধর্মের প্রত্যেকটি প্রধান আস্তিক্যবাদী দার্শনিক সম্প্রদায়, অর্থাৎ ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, মীমাংসা ও বেদান্ত বেদ ও উপনিষদের ক্রিয়াগত প্রতিজ্ঞাটিকে মেনে নেয় যে "আত্মা এর অস্তিত্ব আছে"। জৈন দর্শনও এই প্রতিজ্ঞাকে মেনে নেয়, যদিও আত্মার অর্থ নিয়ে এটির নিজস্ব ধারণা আছে। অন্যদিকে বৌদ্ধচার্বাক দর্শন আত্মা বলে কোন কিছুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে।[৩৫]

আত্মা সম্পর্কে জ্ঞানলাভকে আত্মজ্ঞান বলে। এই আত্মজ্ঞান হল ভারতীয় দর্শনের ছয়টি আস্তিক্যবাদী ধারাকে সাধারণভাবে সংজ্ঞায়িত করার চাবিকাঠি, ছয়টি দর্শনই আত্মজ্ঞান নিয়ে একমত, কিন্তু কিভাবে আত্মজ্ঞান লাভ করা যায় এই বিষয়ে দর্শনগুলো পৃথক হয়ে যায়। হিন্দু দর্শনে আত্মজ্ঞান অর্থ হচ্ছে আত্মা সম্পর্কিত জ্ঞান ও আত্মার উপলব্ধি, আত্মা কী এবং আত্মা কী নয় সেটা জানা। হিন্দু দর্শন আত্মাকে ব্যক্তির নিয়ত বিবর্তিত ব্যক্তিত্বের থেকে পৃথক হিসেবে বিবেচনা করে, যাকে অহঙ্কার বলা হয়। এই অহংবোধ হল একটি অনাধ্যাত্মিক মনস্তাত্ত্বিক আমিত্ব, অভ্যাস, কুসংস্কার, কামনা, তাড়না, বিভ্রম, ঝোঁক, আনন্দ, দুঃখভোগ ও ভয়। আস্তিক্যবাদী দার্শনিক সম্প্রদায়গুলো অনুসারে, সময়ের সাথে মানব ব্যক্তিত্ব ও অহংকারের পরিবর্তন ও বিবর্তন ঘটে, কিন্তু আত্মার ক্ষেত্রে তা ঘটে না।[৩৫] এই দার্শনিক সম্প্রদায়গুলো অনুসারে, আত্মা হল অপরিবর্তনশীল, শাশ্বত, অন্তরতম উদ্ভাসিত আত্ম, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও অহং দ্বারা প্রভাবিত হয়না। আত্মা তাই যা কখনও সদামুক্ত থাকে, কখনও সীমাবদ্ধ হয়না, এটি জীবনের উপলব্ধ উদ্দেশ্য, অর্থ ও মুক্তি।[৩৬][৩৭] পুচালস্কি বলেন, "হিন্দু ধর্মীয় জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তির নিজস্বতাকে অতিক্রম করে যাওয়া, নিজের সত্যিকারের প্রকৃতিকে অনুধাবন করা", যা হচ্ছে ব্যক্তির অন্তরের সার, যা স্বর্গীয় ও পবিত্র।[৩৮]

বেদান্ত সম্প্রদায়[সম্পাদনা]

অদ্বৈত বেদান্তের মত দার্শনিক সম্প্রদায়গুলো আত্মাকে ব্রহ্মের সাথে পুরোপুরি অভিন্ন হিসেবে বিবেচনা করে।[৩৯] অদ্বৈতবাদী দার্শনিক সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে একটি আত্মাই সকল জীবিত সত্তার মধ্যে বিরাজ করে এবং এদেরকে সংযুক্ত করে রাখে, তা সেই জীবিত সত্তাসমূহ যে আকারেরই হোক না কেন। অদ্বৈতবাদীরা বলে, এই আত্মার মধ্যে কোন শ্রেণী নেই, এখানে কোন উচ্চতর-নিম্নতর বিষয় নেই, এখানে কোন ভক্ত আত্মা ও পরমাত্মা বা ব্রহ্মের বিষয় নেই।[৩৯] আত্মার এককত্ব সকল সত্তাকে একীভূত করে, সকল সত্তাতেই স্বর্গীয়তা রয়েছে, এবং সকল অস্তিত্ব হচ্ছে একটি একক বাস্তবতা। অন্যদিকে বেদান্ত দার্শনিক সম্প্রদায় এর ভক্তিবাদী উপসম্প্রদায় দ্বৈত বেদান্ত বা দ্বৈতবাদ, জীবিত সত্তাসমূহের মধ্যকার আত্মা এবং পরমাত্মা বা ব্রহ্মের মধ্যে পার্থক্য দেখায়।[৪০][৪১]

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন আত্মাকে স্বয়ম্ভূ চেতনা (যা নিজেই নিজের অস্তিত্ব তৈরি করে), অসীম ও অদ্বৈত বলে বিবেচনা করেছে।[৪২] অদ্বৈতবাদীদের কাছে আত্মাই ব্রহ্ম, ব্রহ্মই আত্মা, প্রত্যেকেই অসীমের সাথে অভিন্ন।[৩৯][৪৩] অদ্বৈত বেদান্ত অনুসারে এটিই সত্য যে, আত্মা একটি বিশ্বজনীন নীতি, একটি শাশ্বত অভিন্ন স্বপ্রজ্বলিত চেতনা।[৪৪][৪৫] মানব সত্তা এই বিশ্বজনীন আত্ম বিষয়ে অজ্ঞতার একটি অবস্থায় আছে, তারা তাদের আমিত্বকে দেখে অন্যদের থেকে পৃথক হিসেবে, এবং তাড়না, ভয়, কামনা, দ্বেশ, বিভেদ, বিভ্রান্তি, উদ্বিগ্নতয়া, আবেগ এবং পৃথকবোধের দ্বারা তাড়িত হয়ে কাজ করে।[৪৬][৪৭] অদ্বৈত এককত্ব, ঈশ্বরই সব, আর সবই ঈশ্বর।[৩৯][৪২] অদ্বৈতবাদ অনুসারে, আত্মজ্ঞান হচ্ছে পূর্ণ সচেতনতা, মুক্তির অবস্থা যা সকল মাত্রায় দ্বৈততাকে জয় করে, নিজের ও অন্যান্য সকল জীবিত সত্তার মধ্যে স্বর্গীয়তা অনুভব করে, ঈশ্বরকে সবকিছু ও সবকিছুকে ঈশ্বর বিবেচনা করে। এই প্রত্মেকের জীবাত্মাকে একক আত্মা হিসেবে চিহ্নিত করাটাই হল অদ্বৈত বেদান্তের অবস্থান।

অদ্বৈতবেদান্তের দ্বারা বিবৃত অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদী বা একত্ববাদী অবস্থানকে দ্বৈতবাদী দ্বৈত বেদান্ত সম্প্রদায় গ্রহণ করেনি। দ্বৈত বেদান্ত পরমসত্তার আত্মাকে পরমাত্মা বলে, এবং একে আত্মা থেকে পৃথক করে। দ্বৈতবাদী পণ্ডিততগণ বলেন ঈশ্বর হচ্ছে চূড়ান্ত, সম্পূর্ণ, নিখুঁৎ, কিন্তু পৃথিক আত্মা, যা অপূর্ণ ও খুঁৎযুক্ত জীব বা জীবাত্মা থেকে আলাদা।[৪৮] অদ্বৈত বেদান্ত অনুসারে যেখানে ইহজীবন থেকে মুক্তির জন্য আত্মজ্ঞান প্রয়োজন, দ্বৈত বেদান্ত অনুসারে মুক্তিলাভ কেবল পরকালে ঈশ্বরের সাথে সংযোগের মাধ্যমেই সম্ভব, আর তা হবে কেবল ঈশ্বরেরই কৃপায়, তা না হলে আত্মার পুনর্জন্ম হবে।[৪৯] দ্বৈত বেদান্ত বলে, ঈশ্বর প্রত্যেকের আত্মাকে তৈরি করেছে, কিন্তু প্রত্যেকের আত্মা কখনই ঈশ্বরের সাথে এক ছিল না, হবেও না, বড়জোড় এটি ঈশ্বরের সাথে অসীমতক কাছাকাছি এসে সুখ লাভ করতে পারে।[৫০] তাই দ্বৈতবাদী উপসম্প্রদায় অদ্বৈতবাদের মত না হয়ে, একেশ্বরবাদের একটি সংস্করণের পক্ষ নেয়, যেখানে ব্রহ্মকে বিষ্ণু বা নারায়ণের সদৃশ হিসেবে দেখা হয়, যা আত্মার থেকে ভিন্ন। গ্রাহাম অপি বলেন, দ্বৈতবাদ কঠোরভাবে একেশ্বরবাদ নয়, এটি অন্যান্য দেবতাদেরকে এবং তাদের আত্মাকে অস্বীকার করেনা।[৫১]

বেদান্তের আরেকটি উপসম্প্রদায় হল অক্ষর-পুরুষোত্তম দর্শন, এখানে আত্মার দ্বারা জীবকে বোঝানো হয়েছে, এখানে আত্মাকে পৃথক হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা সীমিত জ্ঞানযুক্ত সত্তা। জীব মায়ার বাঁধনে সীমাবদ্ধ, এই মায়া তাদের সত্যিকারের আত্মকে লুকিয়ে রাখে। এই সত্যিকারের আত্ম হচ্ছে শাশ্বত অস্তিত্ব, চেতনা ও সুখ। জীবের সংখ্যা অসীম। তারা প্রচণ্ড সূক্ষ্ম, অদৃশ্য, অভেদযোগ্য, অমর ও বয়সহীন। হৃদয়ে বাস করে একটি জীব সমস্ত শরীরে ব্যাপিত হয় এবং এর জ্ঞানশক্তির দ্বারা এটি শরীরকে প্রাণ দান করে। এটি জ্ঞানস্বরূপ (অর্থাৎ জ্ঞান), এবং জ্ঞাতা (যে জ্ঞান লাভ করে)। এই জীব বিভিন্ন নৈতিক ও অনৈতিক কর্ম সম্পাদন করে, এবং সেইসব কর্মের কর্মফল ভোগ করে। এটি চিরকালের জন্য মায়ার বাঁধনে বন্দী, এর ফলে এটিকে জন্মমৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে হয়। জন্মের সময় জীব নতুন দেহ লাভ করে, আর মৃত্যুর সময় তা দেহ ত্যাগ করে, ঠিক যেমন কেউ নতুন পোশাক পরিধান করে ও পুরনো পোশাক ত্যাগ করে।[৫২]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [a] Atman, Oxford Dictionaries, Oxford University Press (2012), Quote: "1. real self of the individual; 2. a person's soul"; [b] John Bowker (2000), The Concise Oxford Dictionary of World Religions, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯২৮০০৯৪৭, See entry for Atman; [c] WJ Johnson (2009), A Dictionary of Hinduism, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৮৬১০২৫০, See entry for Atman (self).
  2. David Lorenzen (2004), The Hindu World (Editors: Sushil Mittal and Gene Thursby), Routledge, আইএসবিএন ০-৪১৫২১৫২৭৭, pages 208-209, Quote: "Advaita and nirguni movements, on the other hand, stress an interior mysticism in which the devotee seeks to discover the identity of individual soul (atman) with the universal ground of being (brahman) or to find god within himself".
  3. Deussen, Paul and Geden, A. S. The Philosophy of the Upanishads. Cosimo Classics (June 1, 2010). P. 86. আইএসবিএন ১৬১৬৪০২৪০৭.
  4. Richard King (1995), Early Advaita Vedanta and Buddhism, State University of New York Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৯১৪২৫১৩৮, page 64, Quote: "Atman as the innermost essence or soul of man, and Brahman as the innermost essence and support of the universe. (...) Thus we can see in the Upanishads, a tendency towards a convergence of microcosm and macrocosm, culminating in the equating of atman with Brahman".
  5. John C. Plott et al (2000), Global History of Philosophy: The Axial Age, Volume 1, Motilal Banarsidass, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২০৮০১৫৮৫, page 63, Quote: "The Buddhist schools reject any Ātman concept. As we have already observed, this is the basic and ineradicable distinction between Hinduism and Buddhism".
  6. KN Jayatilleke (2010), Early Buddhist Theory of Knowledge, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২০৮০৬১৯১, pages 246-249, from note 385 onwards; Steven Collins (1994), Religion and Practical Reason (Editors: Frank Reynolds, David Tracy), State Univ of New York Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৯১৪২২১৭৫, page 64; "Central to Buddhist soteriology is the doctrine of not-self (Pali: anattā, Sanskrit: anātman, the opposed doctrine of ātman is central to Brahmanical thought). Put very briefly, this is the [Buddhist] doctrine that human beings have no soul, no self, no unchanging essence."; Edward Roer (Translator), গুগল বইয়ে Shankara's Introduction, পৃ. 2 to Brihad Aranyaka Upanishad, pages 2-4; Katie Javanaud (2013), Is The Buddhist ‘No-Self’ Doctrine Compatible With Pursuing Nirvana?, Philosophy Now
  7. Alexander Wynne (2011), The ātman and its negation, Journal of the International Association of Buddhist Studies, Volume 33, Number 1–2, pp. 103–105, Quote: "The denial that a human being possesses a "self" or "soul" is probably the most famous Buddhist teaching. It is certainly its most distinct, as has been pointed out by G. P. Malalasekera: "In its denial of any real permanent Soul or Self, Buddhism stands alone." A similar modern Sinhalese perspective has been expressed by Walpola Rahula: "Buddhism stands unique in the history of human thought in denying the existence of such a Soul, Self or Ātman." The "no Self" or "no soul" doctrine (Sanskrit: anātman; Pāli: anattan) is particularly notable for its widespread acceptance and historical endurance. It was a standard belief of virtually all the ancient schools of Indian Buddhism (the notable exception being the Pudgalavādins), and has persisted without change into the modern era. [...] both views are mirrored by the modern Theravādin perspective of Mahasi Sayadaw that "there is no person or soul" and the modern Mahāyāna view of the fourteenth Dalai Lama that "[t]he Buddha taught that … our belief in an independent self is the root cause of all suffering"."
  8. Atman Etymology Dictionary, Douglas Harper (2012)
  9. R Dalal (2011), The Religions of India: A Concise Guide to Nine Major Faiths, Penguin, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৪৩৪১৫১৭৬, page 38
  10. Norman C. McClelland (২০১০)। Encyclopedia of Reincarnation and Karma। McFarland। পৃষ্ঠা 16, 34। আইএসবিএন 978-0-7864-5675-8 
  11. Karel Werner (১৯৯৮)। Yoga and Indian Philosophy। Motilal Banarsidass। পৃষ্ঠা 57–58। আইএসবিএন 978-81-208-1609-1 
  12. [a] David Lorenzen (2004), The Hindu World (Editors: Sushil Mittal and Gene Thursby), Routledge, আইএসবিএন ০-৪১৫২১৫২৭৭, pages 208-209, Quote: "Advaita and nirguni movements, on the other hand, stress an interior mysticism in which the devotee seeks to discover the identity of individual soul (atman) with the universal ground of being (brahman) or to find god within himself".; [b] Richard King (1995), Early Advaita Vedanta and Buddhism, State University of New York Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৯১৪২৫১৩৮, page 64, Quote: "Atman as the innermost essence or soul of man, and Brahman as the innermost essence and support of the universe. (...) Thus we can see in the Upanishads, a tendency towards a convergence of microcosm and macrocosm, culminating in the equating of atman with Brahman". [c] Chad Meister (2010), The Oxford Handbook of Religious Diversity, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৫৩৪০১৩৬, page 63; Quote: "Even though Buddhism explicitly rejected the Hindu ideas of Atman (soul) and Brahman, Hinduism treats Sakyamuni Buddha as one of the ten avatars of Vishnu."
  13. Roshen Dalal (২০১০)। The Religions of India: A Concise Guide to Nine Major Faiths। Penguin Books। পৃষ্ঠা 38। আইএসবিএন 978-0-14-341517-6 
  14. Norman C. McClelland (২০১০)। Encyclopedia of Reincarnation and Karma। McFarland। পৃষ্ঠা 34–35। আইএসবিএন 978-0-7864-5675-8 
  15. [a] Julius Lipner (২০১২)। Hindus: Their Religious Beliefs and Practices। Routledge। পৃষ্ঠা 53–56, 81, 160–161, 269–270। আইএসবিএন 978-1-135-24060-8 ; [b] P. T. Raju (১৯৮৫)। Structural Depths of Indian Thoughtবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। State University of New York Press। পৃষ্ঠা 26–37। আইএসবিএন 978-0-88706-139-4 ; [c] Gavin D. Flood (১৯৯৬)। An Introduction to Hinduismবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 15, 84–85। আইএসবিএন 978-0-521-43878-0 
  16. A. L. Herman (১৯৭৬)। An Introduction to Indian Thoughtবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। Prentice-Hall। পৃষ্ঠা 110–115। আইএসবিএন 978-0-13-484477-0 
  17. Jeaneane D. Fowler (১৯৯৭)। Hinduism: Beliefs and Practices। Sussex Academic Press। পৃষ্ঠা 109–121। আইএসবিএন 978-1-898723-60-8 
  18. Arvind Sharma (২০০৪)। Advaita Vedānta: An Introductionবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। Motilal Banarsidass। পৃষ্ঠা 24–43। আইএসবিএন 978-81-208-2027-2 
  19. ऋग्वेद: सूक्तं १०.९७, Wikisource; Quote: "यदिमा वाजयन्नहमोषधीर्हस्त आदधे। आत्मा यक्ष्मस्य नश्यति पुरा जीवगृभो यथा ॥११॥
  20. Baumer, Bettina and Vatsyayan, Kapila. Kalatattvakosa Vol. 1: Pervasive Terms Vyapti (Indira Gandhi National Centre for the Arts). Motilal Banarsidass; Revised edition (March 1, 2001). P. 42. আইএসবিএন ৮১২০৮০৫৮৪৪.
  21. Source 1: Rig veda Sanskrit; Source 2: ऋग्वेदः/संहिता Wikisource
  22. PT Raju (1985), Structural Depths of Indian Thought, State University of New York Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৮৮৭০৬১৩৯৪, pages 35-36
  23. "Soul" is synonymous with "self" in translations of ancient texts of Hindu philosophy.
  24. Alice Bailey (1973), The Soul and Its Mechanism, আইএসবিএন ৯৭৮-০৮৫৩৩০১১৫৮, pages 82-83
  25. Eknath Easwaran (2007), The Upanishads, Nilgiri Press, আইএসবিএন ৯৭৮-১৫৮৬৩৮০২১২, pages 38-39, 318-320
  26. Raju, Poolla Tirupati. Structural Depths of Indian Thought. SUNY Series in Philosophy. P. 26. আইএসবিএন ০-৮৮৭০৬-১৩৯-৭.
  27. Sanskrit Original: बृहदारण्यक उपनिषद् मन्त्र ५ [IV.iv.5], Sanskrit Documents;
    Translation 1: Brihadāranyaka Upanishad 4.4.5 Madhavananda (Translator), page 712;
    Translation 2: Brihadāranyaka Upanishad 4.4.5 Eduard Roer (Translator), page 235
  28. Sanskrit Original: बृहदारण्यक उपनिषद्, Sanskrit Documents;
    Translation 1: Brihadāranyaka Upanishad 1.4.10 Eduard Roer (Translator), pages 101-120, Quote: "For he becomes the soul of them." (page 114);
    Translation 2: Brihadāranyaka Upanishad 1.4.10 Madhavananda (Translator), page 146;
  29. Original Sanskrit: अग्निर्यथैको भुवनं प्रविष्टो, रूपं रूपं प्रतिरूपो बभूव। एकस्तथा सर्वभूतान्तरात्मा, रूपं रूपं प्रतिरूपो बहिश्च ॥ ९ ॥;
    English Translation 1: Stephen Knapp (2005), The Heart of Hinduism, আইএসবিএন ৯৭৮-০৫৯৫৩৫০৭৫৯, page 202-203;
    English Translation 2:Katha Upanishad Max Müller (Translator), Fifth Valli, 9th verse
  30. Sanskrit Original: आत्मानँ रथितं विद्धि शरीरँ रथमेव तु। बुद्धिं तु सारथिं विद्धि मनः प्रग्रहमेव च ॥ ३ ॥ इन्द्रियाणि हयानाहुर्विषयाँ स्तेषु गोचरान्। आत्मेन्द्रियमनोयुक्तं भोक्तेत्याहुर्मनीषिणः ॥ ४ ॥, Katha Upanishad Wikisource; English Translation: Max Müller, Katha Upanishad Third Valli, Verse 3 & 4 and through 15, pages 12-14
  31. Stephen Kaplan (2011), The Routledge Companion to Religion and Science, (Editors: James W. Haag, Gregory R. Peterson, Michael L. Speziopage), Routledge, আইএসবিএন ৯৭৮-০৪১৫৪৯২৪৪৭, page 323
  32. Max Müller, Upanishads, Wordsworth, আইএসবিএন ৯৭৮-১৮৪০২২১০২২, pages XXIII-XXIV
  33. John Koller (2012), Shankara, in Routledge Companion to Philosophy of Religion, (Editors: Chad Meister, Paul Copan), Routledge, আইএসবিএন ৯৭৮-০৪১৫৭৮২৯৪৪, pages 99-102
  34. Paul Deussen, গুগল বইয়ে The Philosophy of the Upanishads, Dover Publications, pages 86-111, 182-212
  35. John C. Plott et al (2000), Global History of Philosophy: The Axial Age, Volume 1, Motilal Banarsidass, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২০৮০১৫৮৫, pages 60-62
  36. James Hart (2009), Who One Is: Book 2: Existenz and Transcendental Phenomenology, Springer, আইএসবিএন ৯৭৮-১৪০২০৯১৭৭৩, pages 2-3, 46-47
  37. Richard White (2012), The Heart of Wisdom: A Philosophy of Spiritual Life, Rowman & Littlefield Publishers, আইএসবিএন ৯৭৮-১৪৪২২২১১৬১, pages 125-131
  38. Christina Puchalski (2006), A Time for Listening and Caring, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৫১৪৬৮২০, page 172
  39. Arvind Sharma (2007), Advaita Vedānta: An Introduction, Motilal Banarsidass, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২০৮২০২৭২, pages 19-40, 53-58, 79-86
  40. Bhagavata Purana 3.28.41 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১২-০২-১৭ তারিখে
  41. Bhagavata Purana 7.7.19–20 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ জুন ২০১৩ তারিখে "Atma also refers to the Supreme Lord or the living entities. Both of them are spiritual."
  42. A Rambachan (2006), The Advaita Worldview: God, World, and Humanity, State University of New York Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৯১৪৬৮৫২৪, pages 47, 99-103
  43. Karl Potter (2008), Encyclopedia of Indian Philosophies: Advaita Vedānta, Volume 3, Motilal Banarsidass, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২০৮০৩১০৭, pages 510-512
  44. S Timalsina (2014), Consciousness in Indian Philosophy: The Advaita Doctrine of ‘Awareness Only’, Routledge, আইএসবিএন ৯৭৮-০৪১৫৭৬২২৩৬, pages 3-23
  45. Eliot Deutsch (1980), Advaita Vedanta: A Philosophical Reconstruction, University of Hawaii Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৮২৪৮০২৭১৪, pages 48-53
  46. Adi Sankara, A Bouquet of Nondual Texts: Advaita Prakarana Manjari, Translators: Ramamoorthy & Nome, আইএসবিএন ৯৭৮-০৯৭০৩৬৬৭২৬, pages 173-214
  47. A Rambachan (2006), The Advaita Worldview: God, World, and Humanity, State University of New York Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৯১৪৬৮৫২৪, pages 114-122
  48. R Prasad (2009), A Historical-developmental Study of Classical Indian Philosophy of Morals, Concept Publishing, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১৮০৬৯৫৯৫৭, pages 345-347
  49. James Lewis and William Travis (1999), Religious Traditions of the World, আইএসবিএন ৯৭৮-১৫৭৯১০২৩০২, pages 279-280
  50. Thomas Padiyath (2014), The Metaphysics of Becoming, De Gruyter, আইএসবিএন ৯৭৮-৩১১০৩৪২৫৫০, pages 155-157
  51. Graham Oppy (2014), Describing Gods, Cambridge University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-১১০৭০৮৭০৪০, page 3
  52. Paramtattvadas, Sadhu (২০১৭-০৮-১৭)। An introduction to Swaminarayan Hindu theology। Cambridge, United Kingdom। আইএসবিএন 9781107158672ওসিএলসি 964861190 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • Mackenzie, Rory (২০০৭), New Buddhist Movements in Thailand: Towards an Understanding of Wat Phra Dhammakaya and Santi Asoke, Routledge, আইএসবিএন 978-1-134-13262-1 
  • Williams, Paul (২০০৮), Mahayana Buddhism: The Doctrinal Foundations (2 সংস্করণ), Routledge, আইএসবিএন 978-1-134-25056-1 
  • J. Ganeri (2013), The Concealed Art of the Soul, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৯৬৫৮৫৯৬

বহিঃস্থ সূত্র[সম্পাদনা]