বাংলার ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
যে সিরিজের অংশ সেটি হল
বাংলার ইতিহাস
Atisha.jpg
প্রাচীন বাংলা
 বৈদিক যুগ 
বাংলার প্রাচীন জনপদসমূহ
গঙ্গারিডাই, বঙ্গ,
পুণ্ড্র, সুহ্ম,
অঙ্গ, হরিকেল

মৌর্যযুগ
ধ্রুপদী বাংলা
ধ্রুপদী যুগ
শশাঙ্ক
সাম্রাজ্যের যুগ
পাল সাম্রাজ্য, সেন সাম্রাজ্য
মধ্যযুগীয় বাংলা
ইসলামের আগমন
বাংলা সুলতানী, দেব রাজ্য
বখতিয়ার খিলজি, রাজা গণেশ, জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ, হুসেন শাহী রাজবংশ

মুঘল যুগ
প্রতাপাদিত্য, রাজা সীতারাম রায়
বাংলার নবাব, বারো ভুঁইয়া, রাণী ভবাণী

আধুনিক বাংলা
কোম্পানি রাজ
পলাশীর যুদ্ধ, জমিদারী ব্যবস্থা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্রিটিশ ভারত
বাংলার নবজাগরণ
ব্রাহ্মসমাজ
স্বামী বিবেকানন্দ, জগদীশচন্দ্র বসু,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু

উত্তর-সাম্রাজ্য যুগ
বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭), বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ
শেখ মুজিবুর রহমান, জ্যোতি বসু, বিধানচন্দ্র রায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা

এছাড়াও দেখুন
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ

বাংলার ইতিহাস বলতে অধুনা বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক উপত্যকার বিগত চার সহস্রাব্দের ইতিহাসকে বোঝায়।[১]গঙ্গাব্রহ্মপুত্র নদ এক অর্থে বাংলাকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতের ইতিহাসে বাংলা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। প্রাচীন রোমান ও গ্রীকদের কাছে এই অঞ্চল গঙ্গারিডাই নামে পরিচিত ছিল। চার সহস্রাব্দ পূর্বে বাংলায় সভ্যতার ক্রমবিকাশ শুরু হয়।[১] প্রাচীন গ্রীকরোমান ভাষায় এই অঞ্চলকে গঙ্গারিডই নামে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিন এশিয়ার ইতিহাসে বাংলা বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রাচীন বাংলা কয়েকটি জনপদে বিভক্ত ছিল এবং বেশ কিছু প্রাচীন শহর বৈদিক যুগে পত্তন হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। প্রাচীন বাংলার অধিবাসীরা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত বিভিন্ন দ্বীপে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। পারস্য, আরব এবং ভূমধ্যসাগরিয় অঞ্চলের সাথে বাংলার দৃঢ় বানিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। [২] এই অঞ্চল মৌর্যগুপ্ত সাম্রাজ্য সহ আরো অনেক ভারতীয় সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। বাংলা বিভিন্ন সময়ে আঞ্চলিক শাসকদের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রাচীন দূর্গ শহর গৌড়, বহু বছর ধরে বাংলার রাজধানী ছিল। (৮ম থেকে ১১ শতকে) বৌদ্ধ শাসক পাল আমলে এবং (১১ থেকে ১২ শতকের) হিন্দু শাসক সেন আমলে আমলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড় ছিল। এই সময়ে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সঙ্গীত, কলা এবং স্থাপত্যের প্রভূত উন্নতি হয়। ১৩ শতাব্দীর পর এই অঞ্চল মুসলমান সুলতান, বারো ভুঁইয়া এবং হিন্দু রাজন্যবর্গের দ্বারা শাসিত হয়েছিল। [৩] ১৬ শতকের শেষে এবং ১৭ শতকের শুরুতে ঈশা খাঁ নামের একজন মুসলিম রাজপুত বারো ভূঁইয়াদের নেতৃত্ব দেন।[৪] এরপর, বাংলা মুঘলদের অধিকারে চলে আসে। মুঘল আমলে বাংলা ছিল সবচেয়ে সম্পদশালী প্রদেশ। মুঘল আমলে, সুবাহ বাংলা সমগ্র সাম্রাজ্যের শতকরা ৫০ ভাগ জিডিপি এর যোগান দিত।,[৫] বাংলা সমুদ্রগামী জাহাজ ও বস্ত্র শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল।[৬][৭][৮] ক্রমে মুঘল শাসন দূর্বল হয়ে পড়লে, মারাঠা আক্রোমণের পর বাংলায় প্রায়-স্বাধীন নবাবদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর বাংলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনে চেলে যায়। ১৮ শতকের দ্বিতীয় ভাগে বৃটিশরা সমগ্র বাংলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন গ্রহন করে। ১৭৫৭ সলে পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধের পর কোম্পানি বাংলায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে। বাংলায় বৃটিশদের লুঠতরাজ তৎকালিন বৃটেনে শিল্প বিপ্লবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল।[৬][৭][৮][৯] বাংলা থেকে নিয়ে যাওয়া পুঁজি বৃটেনের বিভিন্ন শিল্পে, বিশেষ করে বস্ত্র শিল্পে বিনিয়োগ করে, বৃটিশরা প্রভূত সম্পদের অধিকারী হয়েছিল। একই সাথে, এই লুঠতরাজের ফলে বাংলায় শিল্পায়ন ব্যহত হয় এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।[৬][৭][৮] ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তানের স্বাধীনতার সময়ে বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। বাংলার পশ্চিম অংশ ভারতের একটি রাজ্যে পরিনত হয়। পূর্ব অংশ যুক্ত হয় পাকিস্তানের সাথে। পরবর্তিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

পরিচ্ছেদসমূহ

ব্যুৎপত্তিগত অর্থ[সম্পাদনা]

বাংলা শব্দের প্রকৃত অর্থ জানা না গেলেও ধারনা করা হয় যে ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীয় ভাষা থেকে বঙ বা বঙ্গ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। [১০][১১] অন্য মতাবলম্বীরা ধারণা করেন যে বাংলা শব্দটি অস্ট্রিক ভাষার ভেঙ্গা শব্দটি থেকে এসেছে যার অর্থ সূর্য-দেবতা। মহাভারত ও পুরাণ অনুসারে ভাঙ্গা শব্দটি এসেছে হিন্দু দেবতা বালির পুত্রের নাম অনুসারে যিনি ভঙ্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুসারে রাজ্যটি কলিঙ্গ অথবা মগধ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলঅ কিছু সময় পাল রাজ্যের শাসনাধীন ছিল। কিছু মুসলিম চিন্তাধারা ভিত্তিক সূত্র অনুসারে বঙ্গ শব্দটি এসেছে ”বং” শব্দ থেকে যিনি [[নুহু নবী| নুহু নবীর পুত্র হিন্দের পুত্র ছিলেন যিনি পরবর্তীতে বাংলায় উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করেন[১২]

প্রাচীন ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০,০০০ বছর পূর্বের প্রস্তর যুগের [১৩] এবং প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো তাম্রযুগের ধ্বংসাবশেষ বাংলায় পাওয়া গেছে।

ইন্দো-আর্যদের আসার পর অঙ্গ, বঙ্গ এবং মগধ রাজ্য গঠিত হয় খ্রীষ্টপূর্ব দশম শতকে । এই রাজ্যগুলি বাংলা এবং বাংলার আশেপাশে স্থাপিত হয়েছিল । অঙ্গ বঙ্গ এবং মগধ রাজ্যের বর্ণনা প্রথম পাওয়া যায় অথর্ববেদে প্রায় ১২০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে । মহাভারতে পৌন্ড্র রাজ বাসুদেব এর উল্লেখ পাওয়া যায় । এছাড়া চেদি রাজ‍্য আধুনা ভাওয়াল এর কাছে অবস্হিত । মগধরাজ জরাসন্ধ মহা পরাক্রমশালী নৃপতি ছিলেন। মহাভারতে পাওয়া যায় চিত্রসেন ও সমুদ্র সেন ভীমের দিগ্বিজয় আটকে।দিয়েছিল । এরা বঙ্গের অতি পরাক্রম শালী নৃপতি ছিলেন ।

খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে বাংলার বেশিরভাগ এলাকাই শক্তিশালী রাজ্য মগধের অংশ ছিল । মগধ ছিল একটি প্রাচীন ইন্দো-আর্য রাজ্য । মগধের কথা রামায়ণ এবং মহাভারতে পাওয়া যায় । বুদ্ধের সময়ে এটি ছিল ভারতের চারটি প্রধান রাজ্যের মধ্যে একটি । মগধের ক্ষমতা বাড়ে বিম্বিসারের (রাজত্বকাল ৫৪৪-৪৯১ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এবং তার ছেলে অজাতশত্রুর (রাজত্বকাল ৪৯১-৪৬০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) আমলে । বিহার এবং বাংলার অধিকাংশ জায়গাই মগধের ভিতরে ছিল ।

৩২৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সেনাবাহিনী মগধের নন্দ সাম্রাজ্যের সীমানার দিকে অগ্রসর হয় । এই সেনাবাহিনী ক্লান্ত ছিল এবং গঙ্গা নদীর কাছাকাছি বাংলার বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে যায় । এই বাহিনী বিয়াসের কাছে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং আরও পূর্বদিকে যেতে অস্বীকার করে । আলেকজান্ডার তখন তাঁর সহকারী কইনাস (Coenus) এর সাথে দেখা করার পরে ঠিক করেন ফিরে যাওয়াই ভাল ।

মৌর্য সাম্রাজ্য মগধেই গড়ে উঠেছিল । মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য । এই সাম্রাজ্য অশোকের রাজত্বকালে দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য, আফগানিস্তান অবধি বিস্তার লাভ করেছিল । পরবর্তীকালে শক্তিশালী গুপ্ত সাম্রাজ্য মগধেই গড়ে ওঠে যা ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাংশে এবং পারস্য এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশে বিস্তার লাভ করেছিল ।

মধ্য যুগের প্রথমাবস্থা[সম্পাদনা]

গৌড় রাজ্য[সম্পাদনা]

বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা ছিলেন শশাঙ্ক যিনি ৬০৬ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। সম্ভবত তিনি গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে একজন সামন্তরাজা ছিলেন । হর্ষবর্ধনের ভ্রাতা রাজ‍্যবর্ধন।কে ইনি হত‍্যা করেন। এই জন‍্য হর্ষবর্ধন-এর সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ হয় । তাঁর শক্তি বৃদ্ধি হতে দেখে কামরুপ রাজ ভাস্করবর্মন তাঁর শত্রু হর্ষবর্ধন-এর সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন । শশাঙ্ক চালুক‍্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীর সাহায‍্য পেয়েছিলেন এদের বিরুদ্ধে।শশাঙ্ক পরম শৈব ও বৌদ্ধবিদ্বেষী ছিলেন। পাটলীপুত্র ও কুশীনগরে বহু বৌদ্ধ কীর্ত্তি ধ্বংস করেন। ৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে শশাঙ্ক-এর মৃত্যুর পর তাঁর রাজ্যের পতন ঘটে। শশাঙ্ক‌ই প্রথম বাংলার রূপরেখা দিয়েছিলেন।

মাৎস্যন্যায়[সম্পাদনা]

৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে গৌড় রাজ শশাঙ্ক-এর মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে একঘোরতর নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়। যা প্রায় দেড়শো বছর স্থায়ী হয় ।এই সময় বাংলাতে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের সৃষ্টি হয়। আত্মকলহ,গৃহযুদ্ধ,গুপ্তহত্যা,অত্যাচার প্রভৃতি চরমে ওঠে ।বাংলার সাধারণ দরিদ্র মানুষের দুর্দশার শেষ ছিল না । স্থায়ী প্রশাসন না থাকাতে বাহুবলই ছিল শেষ কথা। এই সময় প্রভাবশালী লোকেদের সভা প্রকৃত্পুঞ্জ গোপাল নামের এক রাজা ঠিক করেন, তিনি মাৎস্যন্যায় এর পতন করেন।

পাল বংশ[সম্পাদনা]

মাৎস্যন্যায়ের সময় বাংলার বিশৃঙ্খলা দমনের জন্য বাংলার মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপাল নামক এক সামন্তরাজাকে বাংলার রাজা হিসেবে গ্রহন করেন ।গোপালই হলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা ।পাল বংশের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই রাজা ছিলেন ধর্মপাল (রাজত্বকাল ৭৭৫-৮১০ খ্রীষ্টাব্দ) এবং দেবপাল (রাজত্বকাল ৮১০-৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ) । পাল বংশের স্থায়ীত্বকাল ছিল প্রায় ৪০০ বছর।পাল বংশের অন‍্য উল্ল‍্যেখ যোগ‍্য রাজা ছিলেন নারায়ণপাল ৮৬০-৯১৫ , মহীপাল ৯৭৮-১০৩০, রামপাল। এই আমলে শিল্প কলায় বাংলা শিখরে উঠে । কিন্তু এই সময় বহু ব্রহ্মণ বৌদ্ধ অত‍্যাচারে বাংলা ত‍্যাগ করে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে চলে যায় ।

মুসলমান শাসন[সম্পাদনা]

অষ্টম শতকের শুরু থেকে উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসন টিকে ছিলো ৷

ভারতে ইসলামের শাসন শুরু হয় ৭১২ সালে মুহাম্মদ বিন কাসিম দ্বারা সিন্ধু জয়ের মাধ্যমে ৷ ৭১২ সালে দামেস্কের খলিফা আল-ওয়ালিদের আশির্বাদপুষ্ট ও বাগদাদের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের দ্বারা পারিচালিত হয়ে কাসিম ভারতে ইসলামের বিজয় ও শাসনের অভিষেক ঘটান ৷ ১৫৯০ এর দশকে মুঘল সম্রাট আকবরের অধিনে মুসলিম শাসকগণ শক্তভাবে ভারতবর্ষের প্রায় সম্পূর্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রন লাভ করে ৷ সম্রাট আওরঙ্গজেবের অধীনে (১৬৫৮-১৭০৭) ভারতে মুসলিম নিয়ন্ত্রন আরো কিছুটা সম্প্রসারিত হয় ৷ ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভাড়াটিয়া বাহিনীর হাতে বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা করে ৷ ১৭৯৯ সালে সর্বশেষ স্বাধীন মুসলিম শাসক মহীশুরের টিপু সুলতান ইংরেজদের হাতে পরাজিত হলে কার্যত ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসনের সমাপ্তি হয় ৷

ভারতে মুসলিম শাসন প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন মুহম্মদ ঘুরী বাংলায় প্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্টা করেন ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি (১২০৪- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে)। এই সময় মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবন বতুতা বাংলায় ভ্রমণ করেন। এই সময়ের কয়েকটি উল্ল‍্যেখযোগ‍্য সুলতান সিকান্দর বিন ইলিয়াস, নাসির আল দিন মাহমুদ, হুসেন শাহ প্রভৃতি । এই সময়ে একমাত্র হিন্দু নৃপতি ছিলেন দনুজমদ্দন দেব(১৩৩৮-৪০শকাব্দ)(রাজা গণেশ) এই যুগের সর্বাপেক্ষ উল্ল‍্যেখ যোগ‍্য ব‍্যাক্তি হলেন চৈতন‍্য দেব । ইনি হুসেন শাহের সমসাময়িক । এই সময়ে শিল্প সাহিত‍্যে অন্ধকার নেমে আসে । ১৫৭৬ এ মুঘোলরা বাংলা দখল করলে সুলতানি যুগের সমাপ্তি হয়।

ওলন্দাজ কলোনি[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ শাসন[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ শাসনের সময়ে দুটি মারাত্মক দুর্ভিক্ষ বা মন্বন্তর বহুমানুষের জীবনহানি ঘটিয়েছিল । প্রথম দুর্ভিক্ষটি ঘটেছিল ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দে এবং দ্বিতীয়টি ঘটেছিল ১৯৪৩ খ্রীষ্টাব্দে । ১৭৭০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির রাজত্বকালে বাংলার দুর্ভিক্ষটি ছিল ইতিহাসের সব থেকে বড় দুর্ভিক্ষগুলির মধ্যে একটি । বাংলার এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল ১৭৭০ এবং তার পরবর্তী বছরগুলিতে ।

১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দের সিপাহি বিদ্রোহ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং বাংলা সরাসরি ভাবে ব্রিটিশ রাজবংশের শাসনাধীনে আসে ।

বাংলা ছিল খুব ভালো ধান উৎপাদক অঞ্চল এবং এখানে সূক্ষ সুতিবস্ত্র মসলিন তৈরি হত । এছাড়া এই অঞ্চল ছিল পৃথিবীর পাট চাহিদার মুখ্য যোগানকারী । ১৮৫০ সাল থেকেই বাংলায় ভারতের প্রধান শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠতে থাকে । এই শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছিল মূলত কলকাতার আশেপাশে এবং সদ্য গড়ে ওঠা শহরতলি এলাকায় । কিন্তু বাংলার বেশিরভাগ মানুষ তখনও কৃষির উপরেই বেশি নির্ভরশীল ছিলেন । ভারতের রাজনীতি এবং সংস্কৃতিতে বাংলার মানুষেরা অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করলেও বিশেষ করে(?) পূর্ব বাংলায় তখনও খুব অনুন্নত জেলা ছিল । ১৮৭৭ খ্রীষ্টাব্দে রাণী ভিক্টোরিয়া যখন ভারতের সম্রাজ্ঞী উপাধিতে নিজেকে ভূষিত করলেন তখন ব্রিটিশরা কলকাতাকে ব্রিটিশ রাজের রাজধানী বলে ঘোষনা করে।

বঙ্গভঙ্গ[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালের আগষ্ট মাসে ইংরেজ শাসিত ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে গণপ্রজাতন্ত্র ভারত এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ করে। তখন বাংলাকে ভাগ করে পশ্চিম বাংলাকে ভারতের একটি অংশ এবং পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত করা হয়। সর্বপ্রথম ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে আলাদা রাজ্য গঠনের মধ্য দিয়ে বঙ্গভঙ্গের সূচনা করে, যা পরবর্তীতে ১৯১১ সালে প্রবল আন্দোলনে বাতিল করা হয়।

বাংলার স্বাধীন বৌদ্ধ ও হিন্দু নৃপতি[সম্পাদনা]

পাল বংশ[সম্পাদনা]

সেন বংশ[সম্পাদনা]

বাংলার স্বাধীন সুলতান[সম্পাদনা]

ইলিয়াস শাহী বংশ (প্রথম পর্ব)[সম্পাদনা]

বায়াজিদ বংশ[সম্পাদনা]

  • শিহাবুদ্দিন বায়াজিদ শাহ (১৪১৩-১৪১৪)
  • প্রথম আলাউদ্দীন ফিরোজ শাহ (১৪১৪-১৪১৫)

গণেশ বংশ[সম্পাদনা]

ইলিয়াস শাহী বংশ (দ্বিতীয় পর্ব)[সম্পাদনা]

  • প্রথম নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫-১৪৫৯)
  • রুকনুদ্দীন বারবক শাহ (১৪৫৯-১৪৭৪)
  • শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-১৪৮১)
  • দ্বিতীয় সিকান্দর শাহ (১৪৮১)
  • জালালুদ্দীন ফতেহ শাহ (১৪৮১-১৪৮৭)

হাবসি বংশ[সম্পাদনা]

  • বারবক শাহ (১৪৮৭)
  • সাইফুদ্দীন ফিরোজ শাহ (১৪৮৭-১৪৯০)
  • দ্বিতীয় নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৯০)
  • শামসুদ্দীন মুজাফ্ফর শাহ (১৪৯০-১৪৯৩)

হুসেন বংশ[সম্পাদনা]

উত্তর ভারতবর্ষের শূর সম্রাটদের অধীনে বাংলা[সম্পাদনা]

শূর বংশ[সম্পাদনা]

বাংলার স্বাধীন সুলতান[সম্পাদনা]

শূর বংশ[সম্পাদনা]

  • শামসুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ (১৫৫৫)
  • প্রথম গিয়াসুদ্দীন বাহাদুর শাহ (১৫৫৫-১৫৬০)
  • গিয়াসুদ্দীন জালাল শাহ (১৫৬০-১৫৬২)
  • দ্বিতীয় গিয়াসুদ্দীন বাহাদুর শাহ (১৫৬২-১৫৬৩)

কররানি বংশ[সম্পাদনা]

  • তাজ খান কররানি (১৫৬৩)
  • সুলায়মান কররানি (১৫৬৩-১৫৭২)
  • বায়াজিদ কররানি (১৫৭২-১৫৭৩)
  • দাউদ খান কররানি (১৫৭৩-১৫৭৬)

মুঘোল আমল (১৫২৬-১৮৫৭)[সম্পাদনা]

জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মুঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।

মুঘল শাসনের সময় বঙ্গ মুঘলদের মুসলিম সংখ্যা ঘরিষ্ঠ প্রদেশ ছিল। এপ্রদেশ কাপড় উৎপাদন জাহাজ নির্মান শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল।[৮][৬] [৭] রাজধানী ঢাকার ১ লক্ষ জনগণের মধ্য ৮০০০০ ছিলে কাপড় বুননের দক্ষ কারিগর এবং সিল্ক, সুতা বস্ত্র, ইস্পাত, লবণ উৎপাদন ও রপ্তানিকারী [৫]

বাংলার কৃষকরা ১৬০০ থেকে ১৬৫০ সালের মধ্য রেশম চাষ শেখে। [১৪]

মুঘল আমলে বাংলা ছিল মসলিন, সিল্ক এবং মুক্তা বাণিজ্যের কেন্দ্র বিন্দু। [১৫] ঢাকার সিল্ক মধ্য এশিয়ায় 'ঢাকা' নামে পরিচিত ছিল।[১৬]

মুঘল বাংলার শাসক[সম্পাদনা]

মুঘল বাংলার সুবাহদার[সম্পাদনা]

শায়েস্তা খাঁ

মুনিম খান

বাংলার নবাব[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ বাংলার নবাব[সম্পাদনা]

বাংলার নবজাগরণ[সম্পাদনা]

[[চিত্|কেন্দ্র|থাম্ব|276x276পিক্সেল|রাজা রামমোহন রায়, বাংলার নবজাগরণের সূচনা তার হাত ধরেই]] অবিভক্ত ভারতের বাংলা অঞ্চলে, ১৯ শতক জুড়ে এবং ২০ শতকের প্রথমার্ধে সমাজ সংস্কার আন্দোলনই বাংলার নবজাগরণ নামে পরিচিত। রাজা রামমোহন রায়ের হাত ধরে ১৯ শতকে এ নবজাগরণের সূচনা।[১৭] ২০ এর শতকের মধ্যমাংশে রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে অবসান ঘটে এ নবজাগরণের। অসংখ্য সাহিত্যিক , বিজ্ঞানী, সাংবাদিক ও দেশপ্রেমিকের হাত ধরে বাংলার নবজাগরণ বাংলাকে উত্তরণ করে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে।

স্বাধীন ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গের শাসক[সম্পাদনা]

প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ ১৪ই জানুয়ারী, ১৯৪৮ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

বিধানচন্দ্র রায় ১৪ই জানুয়ারী, ১৯৪৮ ১লা জুলাই, ১৯৬২ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

(রাষ্ট্রপতি শাসন) ১লা জুলাই, ১৯৬২ ৮ই জুলাই, ১৯৬২

প্রফুল্লচন্দ্র সেন ৮ই জুলাই, ১৯৬২ ১৫ মার্চ, ১৯৬৭ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় ১৫ মার্চ, ১৯৬৭ ২রা নভেম্বর, ১৯৬৭ বাংলা কংগ্রেস যুক্ত ফ্রন্ট

প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ [দ্বিতীয়বার] ২রা নভেম্বর, ১৯৬৭ ২০শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৮ দলনিরপেক্ষ প্রগ্রেসিভ ডেমক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স ফ্রন্ট

(রাষ্ট্রপতি শাসন) ২০শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৮ ২৫শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৯

অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় [দ্বিতীয়বার] ২৫শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৯ ১৯শে মার্চ, ১৯৭০ বাংলা কংগ্রেস যুক্ত ফ্রন্ট

(রাষ্ট্রপতি শাসন) ১৯শে মার্চ, ১৯৭০ ২রা এপ্রিল, ১৯৭১

প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ [তৃতীয়বার] ২রা এপ্রিল, ১৯৭১ ২৮শে জুন, ১৯৭১ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর জোট

(রাষ্ট্রপতি শাসন) ২৮শে জুন, ১৯৭১ ১৯শে মার্চ, ১৯৭২

সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ১৯শে মার্চ, ১৯৭২ ২১শে জুন, ১৯৭৭ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

জ্যোতি বসু ২১শে জুন, ১৯৭৭ ৬ই নভেম্বর, ২০০০ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র নেতৃত্বাধীনে জোট বামফ্রন্ট

১০ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ৬ই নভেম্বর, ২০০০ ১৩ই মে, ২০১১ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র নেতৃত্বাধীনে জোট বামফ্রন্ট

১১ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০শে মে, ২০১১ বর্তমান সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "History of Bangladesh"। Bangladesh Student Association। ১৯ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০০৬ 
  2. Suhrawardi, Ghulam M. (২০১৫)। Bangladesh Maritime History। FriesenPress। পৃষ্ঠা 83–। আইএসবিএন 978-1-4602-7278-7 
  3. Ghosh, Binoy, Paschim Banger Sanskriti, (in Bengali), part II, 1976 edition, pp. 218–234, Prakash Bhaban
  4. "Isa Khan – Banglapedia"en.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৩-২৭ 
  5. "Which India is claiming to have been colonised?"The Daily Star (Opinion)। 
  6. Junie T. Tong (2016), Finance and Society in 21st Century China: Chinese Culture Versus Western Markets, page 151, CRC Press
  7. John L. Esposito (2004), The Islamic World: Past and Present 3-Volume Set, page 190, Oxford University Press
  8. Ray, Indrajit (2011). Bengal Industries and the British Industrial Revolution (1757-1857), Routledge, আইএসবিএন ১১৩৬৮২৫৫২৫
  9. Shombit Sengupta, Bengals plunder gifted the British Industrial Revolution, The Financial Express, February 8, 2010
  10. James Heitzman and Robert L. Worden, সম্পাদক (১৯৮৯)। "Early History, 1000 B. C.-A. D. 1202"। Bangladesh: A country study। Library of Congress। 
  11. Ahmed, Helal Uddin (২০১২)। "History"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  12. RIYAZU-S-SALĀTĪN: A History of Bengal ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে, Ghulam Husain Salim, The Asiatic Society, Calcutta, 1902.
  13. "History of Bengal just got a lot older"www.telegraphindia.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০১-০৩ 
  14. John F. Richards (1995), The Mughal Empire, page 190, Cambridge University Press
  15. Lawrence B. Lesser. "Historical Perspective". A Country Study: Bangladesh (James Heitzman and Robert Worden, editors). Library of Congress Federal Research Division (September 1988). This article incorporates text from this source, which is in the public domain.About the Country Studies / Area Handbooks Program: Country Studies - Federal Research Division, Library of Congress
  16. Richard Maxwell Eaton (1996), The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760, page 202, University of California Press
  17. 1934-, Sengupta, Nitish K., (২০০১)। History of the Bengali-speaking people। New Delhi: UBS Publishers' Distributors। আইএসবিএন 8174763554ওসিএলসি 49326692