আম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আম
Mango.JPG
পাকা আম
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বর্গ: Sapindales
পরিবার: Anacardiaceae
গণ: Mangifera
L.

আম (ইংরেজি: Mango ) ভারতীয় উপমহাদেশীয় এক প্রকারের সুস্বাদু ফল।[১] কাঁচা অবস্থায় এর রং সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং হয়ে থাকে। বাংলাদেশ এবং ভারত এ যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica। এটি Anacardiaceae পরিবারের সদস্য।[২] তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাত আছে[৩], যেমন ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, অরুনা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাঁচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা, হাড়িভাঙ্গা, ছাতাপরা, গুঠলি ইত্যাদী। আম গাছ কে বাংলাদেশের জাতীয় গাছের প্রতীক হিসেবে নেয়া হয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আম গাছ[সম্পাদনা]

আম গাছ সাধারণত ৩৫-৪০মি: (১১৫-১৩০ ফিট) লম্বা এবং সর্বোচ্চ ১০মি: (৩৩ ফিট) ব্যাসার্ধের হয়ে থাকে। আম গাছ গুলো বহু বছর বাঁচে, এর কিছু প্রজাতিকে ৩০০ বছর বয়সেও ফলবতী হতে দেখা যায়। এর প্রধান শিকড় মাটির নিচে প্রায় ৬মি: (২০ ফিট) গভীর পর্যন্ত যেয়ে থাকে। আম গাছের পাতা চিরসবুজ, সরল, পর্যায়ক্রমিক, ১৫-৩৫ সে:মি: লম্বা এবং ৬-১৬ সে:মি: চওড়া হয়ে থাকে; কচি পাতা দেখতে লালচে-গোলাপী রং এর হয়। আমের মুকুল বের হয় ডালের ডগা থেকে, ফুল থেকে শুরু করে আম পাকা পর্যন্ত প্রায় ৩-৬ মাস সময় লাগে। বর্তমানে "Fozli Mango Pack" নামের একটি সংস্থা বাংলাদেশে আম এর বিকাশ নিয়ে কাজ করছে।

চাষাবাদ ও ব্যবহার[সম্পাদনা]

A mango tree in full bloom in Kerala, India

ভারতীয় উপমহাদেশে আম কয়েক হাজার বছর ধরে চাষাবাদ চলছে,[৪] পূর্ব এশিয়াতে আমের প্রচলন হয় খ্রিস্টাপূর্ব ৫ম-৪র্থ শতাব্দী থেকে এবং চাষাবাদ শুরু হয় আরো পরে খৃষ্টাব্দ ১০ম শতাব্দী দিকে[৪]। ভারতীয় উপমহাদেশ এবং পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশের পর পৃথিবীর অন্য যেসব দেশে ভারতীয় উপমহাদেশের মত জলবায়ু রয়েছে, যেমন: ব্রাজিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা মেক্সিকো তে আরো অনেক পরে আমের প্রচলন ও উৎপাদন শুরু হয়।[৪] মরোক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৪ শতকে আমের বর্ণনা লিপি বদ্ধ করেন।[৫]

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত উষ্ণ প্রধান জলবায়ুর অঞ্চল গুলিতে আমের চাষাবাদ হয়। এর মধ্য অর্ধেকের কাছাকাছি আম উৎপাদন হয় শুধুমাত্র ভারতেই[৬][৭][৮] এর পর অন্যান্য যেসব দেশ আম উৎপাদন করে তার মধ্যে আছে চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর-দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা প্রভৃতি।

বাংলাদেশে আম পাকার সময়[সম্পাদনা]

আমের নাম পরিপক্বতার সময়
গবিন্দভোগ ২৫শে মের পর
গুলাবখাস ৩০শে মের পর
গোপালভোগ ১লা জুনের পর
রানিপছন্দ ৫ই জুনের পর
হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত ১২ই জুনের পর
ল্যাংড়া ১৫ই জুনের পর
লক্ষণভোগ ২০শে জুনের পর
হাড়িভাঙ্গা ২০শে জুনের পর
আম্রপলি ১লা জুলাই থেকে
মল্লিকা ১লা জুলাই থেকে
ফজলি ৭ জুলাই থেকে
আস্বিনা ২৫শে জুলাই থেকে

পুষ্টি মূল্য[সম্পাদনা]

আম
Mango and cross section edit.jpg
একটি গোটা আম এবং একটি অর্ধেক কাটা আম
প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান
শক্তি ২৫০ কিজু (৬০ kcal)
15 g
চিনি 13.7
খাদ্যে ফাইবার 1.6 g
0.38 g
0.82 g
ভিটামিনসমূহ
ভিটামিন এ সমতুল্য
(7%)
54 μg
(6%)
640 μg
23 μg
থায়ামিন (বি)
(2%)
0.028 mg
রিবোফ্লাভিন (বি)
(3%)
0.038 mg
ন্যায়েসেন (বি)
(4%)
0.669 mg
(4%)
0.197 mg
ভিটামিন বি
(9%)
0.119 mg
ফোলেট (বি)
(11%)
43 μg
কোলিন
(2%)
7.6 mg
ভিটামিন সি
(44%)
36.4 mg
ভিটামিন ই
(6%)
0.9 mg
ভিটামিন কে
(4%)
4.2 μg
চিহ্ন ধাতুসমুহ
ক্যালসিয়াম
(1%)
11 mg
লোহা
(1%)
0.16 mg
ম্যাগনেসিয়াম
(3%)
10 mg
ম্যাঙ্গানিজ
(3%)
0.063 mg
ফসফরাস
(2%)
14 mg
পটাশিয়াম
(4%)
168 mg
সোডিয়াম
(0%)
1 mg
দস্তা
(1%)
0.09 mg

Percentages are roughly approximated using US recommendations for adults.
Source: USDA Nutrient Database

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মধু মাসের মধু ফল
  2. Mango
  3. আমের বিভিন্ন জাত MANGO CULTIVARS
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ Ensminger 1994: 1373
  5. Watson, Andrew J. (১৯৮৩)। Agricultural innovation in the early Islamic world: the diffusion of crops and farming techniques, 700–1100। Cambridge, UK: Cambridge University Press। পৃ: 72–3। আইএসবিএন 0-521-24711-X 
  6. Jedele S, Hau AM, von Oppen M. An analysis of the world market for mangoes and its importance for developing countries. Conference on International Agricultural Research for Development, 2003 [১]
  7. India world's largest producer of mangoes, Rediff India Abroad, April 21, 2004
  8. Mad About mangoes: As exports to the U.S. resume, a juicy business opportunity ripens, India Knowledge@Wharton Network, June 14, 2007

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Ensminger, Audrey H.; et al. (১৯৯৫)। The Concise Encyclopedia of Foods & Nutrition। CRC Press। পৃ: ৬৫১। আইএসবিএন 0-8493-4455-7  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Litz, Richard E. (editor, 2009). The Mango: Botany, Production and Uses. 2nd edition. CABI. ISBN 978-1-84593-489-7
  • Susser, Allen (2001). The Great Mango Book: A Guide with Recipes. Ten Speed Press. ISBN 978-1-58008-204-4

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]