বিষয়বস্তুতে চলুন

বাংলাদেশের সংগীত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(বাংলাদেশের সঙ্গীত থেকে পুনর্নির্দেশিত)

আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশে সঙ্গীতের ব্যাপক প্রচার রয়েছে। সাধারণত সঙ্গীতকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়ঃ সঙ্গীত=ছন্দ+সুর অর্থাৎ‍ দুইটি ছন্দযুক্ত বাক্য সুর করে উচ্চারণ করা হলে তাকে বলা হয় গান বা সঙ্গীত।

প্রাচীন বাংলায় সঙ্গীত

[উৎস সম্পাদনা]

প্রাচীন বাংলায় সাধারণ মানুষ চিঠি লিখত পদ্যাকারে।কিন্তু উচ্চারণ করার সময় একটু সুর দিয়ে উচ্চারণ করত। তখন থেকেই সঙ্গীতের প্রচলন শুরু। তখনকার বৌদ্ধ সমাজে চর্যাপদ একটি বিশেষ জায়গা দখল করে ছিল। বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারকেরা তা গানের সুরে উচ্চারণ করতেন। ফলে পাঠকের মন জয় করা সহজ হত। তেমনি একটি পদ্য হল:

তখনকার হিন্দু সমাজেও দেবীর পূজায় গান গেয়ে সাধারণ মানুষ দেবীর পূজা করত।

মধ্যযুগে সঙ্গীত

[উৎস সম্পাদনা]

এদেশে মধ্যযুগে সঙ্গীতচর্চা ছিল উচ্চমানের। মধ্যযুগে আলাওল রচিত মঙ্গলকাব্য ছিল এক প্রকারের সঙ্গীতের ভান্ডার। এছাড়া মধ্যযুগের কবিদের মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ, শাহ আবদুল করিম, হাসন রাজা, রাধারমণ প্রমূখ। সে সময়ে হিন্দুদের দেবীদের উদ্দেশ্যে কীর্তন রচিত হত। এছাড়া রচিত হয়েছে বৈষ্ণব পদাবলি। এটি রচিত হত মূলত কৃষ্ণারাধার কাহিনীকে ঘিরে। এসব বৈষ্ণব পদাবলীর বিখ্যাত পদকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যাপতি,চন্ডীদাস,জ্ঞানদাস,গোবিন্দ দাস প্রমূখ।[]

মধ্যযুগীয় মুসলিম সমাজে সঙ্গীত

[উৎস সম্পাদনা]

মধ্যযুগে মুসলিম সমাজে পুঁথি পাঠের আসর বসত। পুঁথিগুলো পাঠ করা হত গানের সুরে। পুঁথিগুলো নেওয়া হত আরব্য উপন্যাস,পারস্য থেকে পাওয়া বিভিন্ন আখ্যান থেকে। কয়েকটি পুঁথি হলঃ

এছাড়া সে যুগে বাদ্য ছাড়া একধরনের সৃষ্টিকর্তার স্তুতি গাওয়া হত যা গজল নামে পরিচিত ছিল।

মধ্যযুগীয় হিন্দুসমাজে সঙ্গীত

[উৎস সম্পাদনা]

মধ্যযুগের হিন্দু সমাজে সবচেয়ে বেশি সঙ্গীতে প্রচলন ছিল। হিন্দুরা পূজায় দেবতার উদ্দেশ্যে গান গাইত। তখনকার হিন্দু সমাজে কীর্তন গান হত। এছাড়া ছিল বৈষ্ণব পদাবলি

আধুনিক যুগে সঙ্গীত

[উৎস সম্পাদনা]

আধুনিক যুগে বাংলাদেশ এদেশে সঙ্গীত অনেক ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেঃ

লোকগীতি

[উৎস সম্পাদনা]

লোকগীতি বলতে বোঝানো হয় নজরুলগীতি,রবীন্দ্রসঙ্গীত,পল্লীগীতি ইত্যাদি অর্থাৎ‍ মধ্যযুগীয় গায়কদের গান। নিচে কিছু লোকগীতির তালিকা দেওয়া হলঃ

লোকগীতি রচয়িতা
নজরুলগীতিকাজী নজরুল ইসলাম
রবীন্দ্রসঙ্গীতরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পল্লীগীতিজসিমউদ্দীন
লালনসঙ্গীতলালন শাহ

এছাড়াও রয়েছে ভাওয়াইয়্যা,ভাটিয়ালি,মুর্শিদি,গম্ভীরা,বারমাস্যা,বাউলসঙ্গীত, নির্ব্বান সঙ্গীতইত্যাদি।বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা গানটির সুর নেওয়া হয়েছে এক বাউলগান এর সুর থেকে।

আধুনিক গান

[উৎস সম্পাদনা]

আধুনিক গান হল আধুনিক বাদ্যযন্ত্র যেমনঃগিটার,পিয়ানো,হারমোনিয়াম,বাঁশি,ড্রাম,বেহালা ইত্যাদি সহযোগে যে গান গাওয়া হয়।এসব গান অনেক ধরনের হয়ঃ

কয়েকজন আধুনিক গানের শিল্পী হলঃ

ধরন গায়ক
ব্যান্ড সঙ্গীতজেমস
পপসঙ্গীতরুনা লায়লা,ফিরোজ সাঁই,ফকির আলমগীর,আজম খান

ব্যান্ড সঙ্গীত

[উৎস সম্পাদনা]

জনপ্রিয় রক ব্যান্ড
প্রতিষ্ঠিতনামধরনভাষাশহর
১৯৭০সোলসpop/rockবাংলাচট্টগ্রাম
১৯৭০উচ্চারনPop rockবাংলাঢাকা
১৯৭২স্পন্দনpop/rockবাংলাঢাকা
১৯৭৬ফীডব্যাকরকবাংলাঢাকা
১৯৭৮মাইলসPop rockবাংলাঢাকা
১৯৮০নগর বাউলহার্ড রক, সাইকেডেলিক রকবাংলাচট্টগ্রাম
১৯৮০ডিফারেন্ট টাচপপ রকবাংলাখুলনা
১৯৮৪ওয়ারফেজহার্ড রক, হেভি মেটালবাংলাঢাকা
1985Rockstrataহেভি মেটাল সঙ্গীতবাংলাঢাকা
1986নোভারক সঙ্গীত, হার্ড রক, সাইকেডেলিক রকবাংলাঢাকা
1991লাভ রান্‌স ব্লাইন্ড (এলআরবি)অল্টারনেটিভ রকবাংলাচট্টগ্রাম
1991আর্কপপ রকবাংলাচট্টগ্রাম
1993ক্রিপটিক ফেইটProgressive metalবাংলাঢাকা
1996শিরোনামহীনFolk music, alternative rock, psychedelic rockবাংলাঢাকা
1996দলছুটরকবাংলাঢাকা
1998অর্থহীনরক, হেভি মেটালবাংলাঢাকা
1998BlackRock music, alternative rock, grungeবাংলাঢাকা
1998Poizon GreenThrash/Power MetalEnglishঢাকা
1999আর্টসেলProgressive metal, progressive rockবাংলাঢাকা
1999Scarecrowথ্রাশ মেটাল, মেটাল কোরবাংলাঢাকা
1999নেমেসিসঅল্টারনেটিভ রকবাংলাঢাকা
2000লালনরকবাংলাঢাকা
2001StentorianHard rock, heavy metalবাংলাঢাকা
2001VibeHeavy Metalবাংলাঢাকা
2001SatanikBlack MetalEnglishঢাকা
2002ArbovirusExperimental music, alternative rock, Nu metalবাংলাঢাকা
2004Severe Dementiaডেথ মেটালEnglishঢাকা
2004Funeral Anthemপাওয়ার মেটালবাংলাঢাকা
2005শহরতলীTheatrical rockবাংলাঢাকা
2006De-illuminationSymphonic rock, সাইকেডেলিক রকবাংলাঢাকা
2006MechanixHeavy Metalবাংলাঢাকা
2006PowersurgeThrash Metalবাংলাঢাকা
2007শূন্যPop rockবাংলাঢাকা

তথ্যসূত্র

[উৎস সম্পাদনা]
  1. বাঙালীর সংস্কৃতি ও শিল্পকলা-বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবই-৮ম শ্রেণী

বহিঃসংযোগ

[উৎস সম্পাদনা]