পহেলা বৈশাখ
| পহেলা বৈশাখ | |
|---|---|
ঢাকায় পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন | |
| আনুষ্ঠানিক নাম | পহেলা বৈশাখ |
| অন্য নাম | পয়লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ |
| পালনকারী | বাঙালি জাতি |
| তাৎপর্য | জাতিগত |
| উদযাপন | বৈশাখী মেলা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, হালখাতা |
| পালন | বাংলাদেশ (১৪ই এপ্রিল) (জাতীয়) ভারত (১৫ই এপ্রিল) |
| তারিখ | ১ বৈশাখ |
| সংঘটন | বার্ষিক |
| সম্পর্কিত | দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সৌর নববর্ষ |
| বাংলার সংস্কৃতি |
|---|
| বিষয় সম্পর্কিত ধারাবাহিক |
| ইতিহাস |
| রান্না |
পহেলা বৈশাখ বা পয়লা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত।[১] পহেলা বৈশাখ উদযাপনের শুরু হয়েছিল পুরান ঢাকার মুসলিম মাহিফরাস সম্প্রদায়ের হাতে।[২][৩] বাংলাদেশ ,ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামে ১৪ই এপ্রিলে নতুন বর্ষবরণের উৎসব পালন করা হয়।[৪] বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) উপজাতীয়দের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ পালিত হয়।[৫]
গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশের প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমি কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। এছাড়াও দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গৃহীত। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা দিনটি নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।
এই উৎসবটি শোভাযাত্রা, মেলা, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা খোলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য হল “শুভ নববর্ষ”। নববর্ষের সময় বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালে, ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব শোভাযাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষণা করে।[৬]
বাংলা দিনপঞ্জীর সাথে হিজরি এবং খ্রিস্টীয় সনের মৌলিক পার্থক্য হলো হিজরী সন চাঁদের হিসাবে এবং খ্রিস্টীয় সন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এ কারণে হিজরী সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার পর আর খ্রিস্টীয় সনে নতুন দিন শুর হয় ইউটিসি±০০:০০ অনুযায়ী। পহেলা বৈশাখ রাত ১২টা থেকে শুরু না হয়ে সূর্যোদয় থেকে শুরু এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, ঐতিহ্যগত ভাবে সূর্যোদয় থেকে বাংলা দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এই নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২:০০টায় দিন গণনা শুরুর নিয়ম চালু করে।[৭][৮]



ইতিহাস
নামকরণ
বাংলা ভাষায় ‘পহেলা’ শব্দের অর্থ ‘প্রথম’। আর ‘বৈশাখ’ হলো বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস। ফলে ‘পহেলা বৈশাখ’ দ্বারা বাংলা বর্ষের প্রথম দিনকে বোঝানো হয়। বাংলা নতুন বছরকে বাংলায় ‘নববর্ষ’ বলা হয়, যেখানে ‘নব’ শব্দের অর্থ নতুন এবং ‘বর্ষ’ শব্দের অর্থ বছর।

মুঘল উৎপত্তি তত্ত্ব
মুঘল শাসনামলে বাঙালি জনগণের কাছ থেকে ভূমি কর আদায় করা হতো ইসলামী হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী। এই পঞ্জিকাটি ছিল একটি চন্দ্র পঞ্জিকা; ফলে এর নববর্ষ সৌর কৃষি চক্রের সঙ্গে মিলত না। কিছু সূত্র অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট আকবর-এর শাসনকালে বঙ্গ অঞ্চলে এই উৎসবের প্রচলন হয়, যাতে ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে করবর্ষের সামঞ্জস্য রাখা যায়। তখন বাংলা বছরকে বঙ্গাব্দ নামে অভিহিত করা হয়। আকবর তার রাজকীয় জ্যোতির্বিদ ফতুল্লাহ শিরাজীকে নির্দেশ দেন একটি নতুন পঞ্জিকা প্রণয়নের জন্য, যেখানে প্রচলিত চন্দ্রভিত্তিক হিজরি পঞ্জিকা এবং সৌরভিত্তিক হিন্দু পঞ্জিকাকে সমন্বয় করা হয়। এই পঞ্জিকাটি ‘ফসলি সন’ (ফসলের পঞ্জিকা) নামে পরিচিত ছিল। কিছু ইতিহাসবিদের মতে, এর মাধ্যমেই বাংলা পঞ্জিকার সূচনা ঘটে। শামসুজ্জামান খান-এর মতে, মুঘল গভর্নর নবাব মুর্শিদ কুলি খান সম্ভবত প্রথম ‘পুণ্যাহ’ প্রথা চালু করেন, যা ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি কর আদায়ের একটি দিন। তিনি আকবরের রাজস্বনীতি অনুসরণ করে বাংলা পঞ্জিকার ব্যবহার শুরু করেন।[৯][১০]
শামসুজ্জামান খান[১১] এবং নীতীশ সেনগুপ্ত-এর মতে, বাংলা পঞ্জিকার উৎপত্তি স্পষ্ট নয়।[১২] শামসুজ্জামানের মতে, এটিকে ‘বাংলা সন’ বা ‘সাল’ বলা হয়, যা যথাক্রমে আরবি (سن) এবং ফারসি (سال) শব্দ। এ থেকে ধারণা করা যায় যে এটি কোনো মুসলিম রাজা বা সুলতানের মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়েছিল।[১১] অন্যদিকে, সেনগুপ্তের মতে এর প্রথাগত নাম ‘বাংলাব্দ’।[১২][১৩] এছাড়া, এটি আলাউদ্দিন হোসেন শাহ না আকবর—কার আমলে চালু হয়েছিল, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। সেনগুপ্তের মতে, আকবরের পূর্বেই হোসেন শাহ বাংলা পঞ্জিকার ব্যবহার শুরু করে থাকতে পারেন।[১২] যেই এটি প্রবর্তন করে থাকুন না কেন, সেনগুপ্ত উল্লেখ করেন যে বাংলা পঞ্জিকা ও নববর্ষ প্রবর্তনের ফলে বসন্তকালের ফসল তোলার পর সহজে ভূমি কর আদায় করা সম্ভব হয়। কারণ ইসলামী হিজরি পঞ্জিকার কারণে কর সংগ্রহের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতো।[১২] কিছু মত অনুযায়ী, বর্তমান বাংলা পঞ্জিকার সূচনা হিজরত-এর বছর থেকে, অর্থাৎ ইসলাম-এর শেষ নবী মুহাম্মদ-এর মক্কা থেকে মদিনায় গমনের সময় থেকে গণনা শুরু হয়।[১৪]
বাংলা নববর্ষের উৎসবমুখর উদ্যাপনের সূত্র খুঁজে পাওয়া যায় পুরান ঢাকার মহিফরাশ এলাকার বাঙালি মুসলমান মাছ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে।[১৫][১৬] মুঘল আমলে মহিফরাশরা আজিমপুর এলাকায় তাদের নিজস্ব মাঠে চাষাবাদ মৌসুমের সূচনা উপলক্ষে ভোজ ও নৈশভোজের আয়োজন করত। এই দিনব্যাপী ভোজ-উৎসবই পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের পূর্বসূরি হিসেবে বিবর্তিত হয়।[১৭]
বিক্রমাদিত্য উৎপত্তি তত্ত্ব
কিছু ইতিহাসবিদ বাংলা পঞ্জিকার উৎপত্তি সপ্তম শতাব্দীর ভারতীয় রাজা শশাঙ্ক-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন।[১১][১২] ‘বাংলাব্দ’ শব্দটি আকবর-এর সময়ের বহু পূর্বে নির্মিত দুটি শিব মন্দিরে পাওয়া যায়, যা থেকে ধারণা করা হয় যে বাংলা পঞ্জিকা আকবরের আগেই প্রচলিত ছিল।[১২] ত্রয়োদশ শতাব্দীর পূর্বে বঙ্গ অঞ্চলে বিস্তৃত বিভিন্ন রাজবংশ বিক্রম সম্বৎ বা বিক্রমী পঞ্জিকা ব্যবহার করত। পাল সাম্রাজ্য আমলে রচিত বৌদ্ধ গ্রন্থ ও শিলালিপিতে ‘বিক্রম’ এবং অশ্বিন মাসের মতো নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিটি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য সংস্কৃত গ্রন্থেও দেখা যায়।[১৮][১৯][২০][২১][২২]
গ্রামীণ বাঙালি সমাজে, অন্যান্য অনেক অঞ্চল ও নেপাল-এর মতোই বাংলা পঞ্জিকাকে “বিক্রমাদিত্য”-এর সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়। তবে, এসব অঞ্চলে যেখানে পঞ্জিকার সূচনা ৫৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ধরা হয়, সেখানে বাংলা পঞ্জিকার সূচনা ধরা হয় ৫৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে। এতে ধারণা করা হয় যে কোনো এক সময়ে এর সূচনাবর্ষ পরিবর্তন বা সমন্বয় করা হয়েছিল।[২৩][২৪][২৫]
সমসাময়িক ব্যবহার
বাংলাদেশে পুরোনো বাংলা পঞ্জিকাটি ১৯৬৬ সালে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ-এর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে সংশোধন করা হয়। এতে প্রথম পাঁচটি মাসকে ৩১ দিন এবং বাকি মাসগুলোকে ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া অধিবর্ষে ফাল্গুন মাসকে ৩১ দিনে নির্ধারণ করা হয়।[২৬] এই সংশোধিত পঞ্জিকাটি বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। এরপর থেকে জাতীয় পঞ্জিকার প্রথম দিন থেকেই বছর শুরু হয় এবং নববর্ষ উৎসব সবসময় ১৪ এপ্রিল পালিত হয়।[২৬] ২০১৮–১৯ সালে পঞ্জিকায় আবারও সংশোধন আনা হয়। এতে সাধারণ বছরে ফাল্গুন মাস ২৯ দিন এবং অধিবর্ষে ৩০ দিন নির্ধারণ করা হয়, যাতে এটি গ্রেগরীয় পঞ্জিকার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তবে নববর্ষ উদ্যাপনের তারিখ, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল, অপরিবর্তিত রাখা হয়।
ভারতে ব্যবহৃত বাংলা পঞ্জিকা এখনও হিন্দু পঞ্জিকা পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এটি বিভিন্ন বাঙালি হিন্দু উৎসবের তারিখ নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের বাঙালিদের জন্য এই উৎসব প্রতি বছর ১৪ বা ১৫ এপ্রিল পালিত হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলা পঞ্জিকা সূর্যসিদ্ধান্ত নামক সংস্কৃত গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে মাসগুলোর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃত নাম সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে প্রথম মাস হলো বৈশাখ।[২৬]
পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন
বাংলাদেশ
নতুন বছরের উৎসবের সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নিবিড় যোগাযোগ। গ্রামে মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন জামাকাপড় পরে এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বাড়িঘর পরিষ্কার করা হয় এবং মোটামুটি সুন্দর করে সাজানো হয়। বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও থাকে। কয়েকটি গ্রামের মিলিত এলাকায়, কোন খোলা মাঠে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার। মেলাতে থাকে নানা রকম কুটির শিল্পজাত সামগ্রীর বিপণন, থাকে নানারকম পিঠা পুলির আয়োজন। অনেক স্থানে ইলিশ মাছ দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এই দিনের একটি পুরনো সংস্কৃতি হলো গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন। এর মধ্যে নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা কিংবা কুস্তি একসময় প্রচলিত ছিল। বাংলাদেশে এরকম কুস্তির সবচেয়ে বড় আসরটি হয় ১২ বৈশাখ, চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে, যা জব্বারের বলি খেলা নামে পরিচিত।
মঙ্গল শোভাযাত্রা
ঢাকার বৈশাখী উৎসবের একটি আবশ্যিক অঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখের সকালে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হয়। এই শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন এবং আবহমান বাংলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রার জন্য বানানো হয় বিভিন্ন রঙের মুখোশ ও বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি। ১৯৮৯ সাল থেকে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখ উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।[২৭]
জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশের ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’কে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ইথিওপিয়ার রাজধানী শহর আদ্দিস আবাবা’য় ২৮ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর সংশিষ্ট আন্তজাতিক পর্ষদ (অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য আন্তঃসরকার কমিটি) বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুমোদনক্রমে ইউনেস্কো লিখে: "মঙ্গল শোভাযাত্রা হল জনসাধারণের একটি উৎসব যা ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে (নববর্ষের দিনে) উদযাপন করা হয়, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দ্বারা আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যটি ১৯৮৯ সালে শুরু হয়, যখন সামরিক শাসনের অধীনে বসবাসরত হতাশ শিক্ষার্থীরা সম্প্রদায়কে একটি উন্নত ভবিষ্যতের আশা দিতে চেয়েছিল। এটির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে মুখোশ ও ভাসমান প্রতিকৃতি যা শক্তি, শান্তি এবং অগ্রগতির জন্য অশুভকে দূরে সরানোর প্রতীক। বিদ্যালয়ের দ্বারা ভাগভাগি করা জ্ঞানের উপাদানসহ, এটি জনসংহতি এবং গণতন্ত্রকে প্রচার করে।"
২০০৫-০৬ অর্থবৎসরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি তালিকা প্রণয়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং এশিয়াটিক সোসাইটিকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়। ১২ খণ্ডে প্রকাশিত এই তালিকা তথা সমীক্ষা প্রতিবেদনের ১১শ খণ্ডে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে জাতীয় সংস্কৃতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাংলা একাডেমী ২০১৪ সালে এ প্রস্তাবনাটি সর্বপ্রথম প্রণয়ন করেছিল। কিন্ত তা গ্রহণযোগ্য হয় নি। পরবর্তীকালে ইউনেস্কোর চাহিদা অনুযায়ী এই প্রস্তাবনাকে গ্রহণযোগ্যরূপে পুনঃপ্রণয়ন করা হয়। ২০১৫ এর ১লা জুন প্যারিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. শহিদুল ইসলাম এই পুনঃপ্রণীত প্রস্তাবনাটি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পুনরায় ইউনেস্কোর নিকট দাখিল করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবটি Nomination File No. 01091 (মনোনয়ন ফাইল নং ০১০৯১) হিসেবে চিহ্নিত ছিল। অতঃপর, ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
২০২৫ সালে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নাম পরিবর্তন করে “বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা” রাখা হয়। ১০ এপ্রিল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়।[২৮] এই বছর ৭টি বড় মোটিফ স্থান পায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, মুগ্ধের পানির বোতল, কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, পালকি ও শান্তির পায়রা। পাশাপাশি ৭টি মাঝারি মোটিফের মধ্যে সুলতানি ও মুঘল আমলের মুখোশ, রঙিন চরকি, তালপাতার সেপাই, তুহিন পাখি, পাখা, ঘোড়া এবং প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের লোকজ চিত্রকর্ম বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ছোট মোটিফগুলোতেও ছিল বৈচিত্র- ফ্যাসিবাদের প্রতীকী মুখ, বাঘের মাথা, পলো, মাছ ধরার চাই, মাথাল, লাঙল এবং মাছের ডোলা। এসব উপাদান বাঙালির গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
২০২৬ সালে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নাম আবারো পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ রাখা হয়।[২৯]
ঢাকায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরের সূর্যকে আহ্বান। পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের পর পর ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে আহ্বান জানান। বর্ষবরণের এই সঙ্গীতানুষ্ঠানটি ঢাকার রমনা পার্কের রমনা বটমূলে অনুষ্ঠিত হয়।[৩০] স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃতপক্ষে যে গাছের ছায়ায় মঞ্চ তৈরি হয় সেটি বট গাছ নয়, অশ্বত্থ গাছ। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানটের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা।[২৭]
বউমেলা
ঈশা খাঁর সোনারগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী এক মেলা বসে যার নাম বউমেলা, এটি স্থানীয়ভাবে "বটতলার মেলা" নামেও পরিচিত। জয়রামপুর গ্রামের মানুষের ধারণা, প্রায় ১০০ বছর ধরে পহেলা বৈশাখে শুরু হওয়া এই মেলা পাঁচ দিনব্যাপী চলে। প্রাচীন একটি বটবৃক্ষের নিচে এই মেলা বসে, যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পুজোর জন্য এখানে সমবেত হয়।[৩১] বিশেষ করে কুমারী, নববধূ, এমনকি জননীরা পর্যন্ত তাদের মনস্কামনা পূরণের আশায় এই মেলায় এসে পূজা-অর্চনা করেন। সন্দেশ-মিষ্টি-ধান দূর্বার সঙ্গে মৌসুমি ফলমূল নিবেদন করে ভক্তরা। পাঁঠাবলির রেওয়াজও পুরনো। বদলে যাচ্ছে পুরনো অর্চনার পালা। এখন কপোত-কপোতি উড়িয়ে শান্তির বার্তা পেতে চায় ভক্তরা দেবীর কাছ থেকে।[৩২]
হালখাতা
হালখাতা হল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পালিত একটি উৎসব যাতে গত বছরের সমস্ত হিসাব-নিকাশ শেষ হয় এবং একটি নতুন খাতা খোলা হয়। এটি বাঙালি ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং ব্যবসায়ীদের দ্বারা পালন করা হয়।
ঘোড়ামেলা
এ ছাড়া সোনারগাঁ থানার পেরাব গ্রামের পাশে আরেকটি মেলার আয়োজন করা হয়। এটির নাম ঘোড়ামেলা। লোকমুখে প্রচলিত যামিনী সাধক নামের এক ব্যক্তি ঘোড়ায় করে এসে নববর্ষের এই দিনে সবাইকে প্রসাদ দিতেন এবং তিনি মারা যাওয়ার পর ওই স্থানেই তার স্মৃতিস্তম্ভ বানানো হয়। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে স্মৃতিস্তম্ভে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি করে মাটির ঘোড়া রাখে এবং এখানে মেলার আয়োজন করা হয়। এ কারণে লোকমুখে প্রচলিত মেলাটির নাম ঘোড়ামেলা। এ মেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে নৌকায় খিচুড়ি রান্না করে রাখা হয় এবং আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই কলাপাতায় আনন্দের সঙ্গে তা ভোজন করে। সকাল থেকেই এ স্থানে লোকজনের আগমন ঘটতে থাকে। শিশু-কিশোররা সকাল থেকেই উদগ্রীব হয়ে থাকে মেলায় আসার জন্য। এক দিনের এ মেলাটি জমে ওঠে দুপুরের পর থেকে। হাজারো লোকের সমাগম ঘটে। যদিও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারণে এ মেলার আয়োজন করা হয়। তথাপি সব ধর্মের লোকজনেরই প্রাধান্য থাকে এ মেলায়। এ মেলায় শিশু-কিশোরদের ভিড় বেশি থাকে। মেলায় নাগরদোলা, পুতুল নাচ ও সার্কাসের আয়োজন করা হয়। নানারকম আনন্দ-উৎসব করে পশ্চিমের আকাশ যখন রক্তিম আলোয় সজ্জিত উৎসবে, যখন লোকজন অনেকটাই ক্লান্ত, তখনই এ মেলার ক্লান্তি দূর করার জন্য নতুন মাত্রায় যোগ হয় কীর্তন। এ কীর্তন হয় মধ্যরাত পর্যন্ত। এভাবেই শেষ হয় বৈশাখের এই ঐতিহ্যবাহী মেলা।[৩২]
চট্টগ্রামে বর্ষবরণ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের উৎসবের মূল কেন্দ্র ডিসি হিল পার্ক। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে প্রতিবছর এখানে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করার জন্য দুইদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। মুক্ত মঞ্চে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকে নানা গ্রামীণ পন্যের পশরা। এছাড়াও থাকে পান্তা ইলিশের ব্যবস্থা।
চট্টগ্রামে সম্মিলিত ভাবে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের উদ্যোগ ১৯৭৩, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিকগণের চেষ্টায় ইস্পাহানী পাহাড়ের পাদদেশে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ১৯৭৮ সালে প্রথমবাবের মতো এই উৎসব এখনকার ডিসি হিল পার্কে সরিয়ে নেওযা হয়। প্রথম দিকে প্রত্যেক সংগঠন থেকে দুইজন করে নিয়ে একটি স্কোয়াড গঠন করা হত এবং সেই স্কোয়াডই সম্মিলিত সঙ্গীত পরিবেশন করতো। ১৯৮০ সাল থেকে সংগঠনগুলো আলাদাভাবে গান পরিবেশন শুরু করে। পরে গ্রুপ থিয়েটার সমন্বয় পরিষদ যুক্ত হওয়ার পর অনুষ্ঠানে নাটকও যুক্ত হয়েছে।[৩৩]
নগরীর অন্যান্য নিয়মিত আয়োজনের মধ্যে রয়েছে শিশু প্রতিষ্ঠান ফুলকির তিনদিন ব্যাপী "ছোটদের বৈশাখী উৎসব" যার প্রারম্ভ হয় পহেলা বৈশাখের দুদিন আগে এবং শেষ হয় বৈশাখের প্রথম দিন সন্ধ্যায়। ১৯৯০ সাল থেকে নিয়মিত এই আয়োজন হয়ে আসছে।
নগরীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বর্ষবরণ মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া কেন্দ্রীয় রেলওয়ে ভবন বা সিআরবি তে মুক্ত মঞ্চে আয়োজন হয়ে থাকে সঙ্গীতানুষ্ঠানের ।
চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউটের বাদশা মিয়া রোডস্থ ক্যাম্পাসে বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে বণাঢ্য সাঙ্গস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবং এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে, বাঙ্গালীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং একি সাথে আঞ্চলিক নানা বিষয় আশয় ও।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে ।
পার্বত্য জেলায়, আদিবাসীদের বর্ষবরণ
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধান তিনটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা রয়েছে যাদের প্রত্যেকেরই বছরের নতুন দিনে উৎসব আছে। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। বর্তমানে তিনটি জাতিসত্তা একত্রে এই উৎসবটি পালন করে। যৌথ এই উৎসবের নাম বৈসাবি উৎসব। এই উৎসবের নানা দিক রয়েছে, এর মধ্যে একটি হলো মারমাদের পানি উৎসব।
পশ্চিমবঙ্গ
পশ্চিমবঙ্গে মহাসমারোহে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষারম্ভ পয়লা বৈশাখ। বঙ্গাব্দের প্রথম দিনটিতে বিপুল উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সাথে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে থাকে সমগ্র পশ্চিম বাংলায়। বাংলার গ্রামীণ এবং নাগরিক জীবনের মেলবন্ধন সাধিত হয়ে সকলে একসূত্রে বাঁধা পড়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আনন্দে। সারা চৈত্র মাস জুড়েই চলতে থাকে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুব সংক্রান্তির দিন পালিত হয় গাজন উৎসব উপলক্ষ্যে চড়ক পূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা। এইদিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে। এদিন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত হয় চড়ক মেলা। এই মেলায় অংশগ্রহণকারী সন্ন্যাসী বা ভক্তগণ বিভিন্ন শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে আরাধ্য দেবতার সন্তোষ প্রদানের চেষ্টা এবং সাধারণ মানুষের মনোরঞ্জন করে থাকেন।
এছাড়া, বহু পরিবারে বর্ষশেষের দিন টক এবং তিতা ব্যঞ্জন ভক্ষণ করে সম্পর্কের সকল তিক্ততা ও অম্লতা বর্জন করার প্রতীকী প্রথা একবিংশ শতাব্দীতেও বিদ্যমান। পরের দিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ প্রতিটি পরিবারে স্নান সেরে বয়ঃজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করার রীতি বহুলপ্রচলিত। বাড়িতে বাড়িতে এবং সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলে মিষ্টান্ন ভোজন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অধিকাংশই এদিন থেকে তাদের ব্যবসায়িক হিসেবের নতুন খাতার উদ্বোধন করে, যার পোশাকি নাম হালখাতা । এই উপলক্ষ্যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে মঙ্গলদাত্রী লক্ষ্মী ও সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা করা হয়। নতুন খাতায় মঙ্গলচিহ্ন স্বস্তিকা আঁকা হয়ে থাকে।
গ্রামাঞ্চলে এবং কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে বিভিন্ন মন্দির ও অন্যান্য প্রাঙ্গণে পয়লা বৈশাখ থেকে আরম্ভ হয় বৈশাখী মেলা। এই মেলা সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়। আগেকার সময় পয়লা বৈশাখের দিনে জমির মালিকরা নিজের অঞ্চলে মিষ্টি বিতরণ করতেন। পরে এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। আকবরের সময় এই দিনে একটি হালখাতা তৈরি করা হত। গ্রাম বা শহরে পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হত। হালখাতার দিনে দোকানদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও সোনার দোকানে আছে। আধুনিক নববর্ষ উদ্যাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পয়লা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
বছরের শেষ দিন এবং নববর্ষের প্রথম দিনে নদীয়া-র রাণাঘাট -এর স্থানীয় গো-পালক সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাঁদের গৃহপালিত গোরুদের বিকেল বেলায় সাজিয়ে এলাকায় বের করতেন শোভাযাত্রা। একে বলা হত ‘গোষ্ঠ বিহার যাত্রা’। এখন নববর্ষের প্রথম দিনে বের হয় ময়ূরপঙ্খী সহযোগে শোভাযাত্রা। এইরকম নামকরণের কারণ শোভাযাত্রার বিশেষ সজ্জা :
"অনেকেই বলেন, শোভাযাত্রার শুরুতে সুসজ্জিত যে গরুর গাড়িটি রাখা হয়, তার ওপর কৃত্রিম পেখম মেলা ময়ূরের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়। আর এর থেকেই শোভাযাত্রার নামকরণ ‘ময়ূরপঙ্খী’।"
এক সময় এই শোভাযাত্রায় কবিগান, তরজা গান থাকতো।[৩৫] রানাঘাটের দক্ষিণপাড়া এবং আনুলিয়া পঞ্চায়েতের সদগোপ পাড়া থেকে এই ধরনের শোভাযাত্রা বা ময়ূরপঙ্খী বের হয়।[৩৪]
রানাঘাটের এই ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত তৎকালীন পালচৌধুরী জমিদার পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা। তবে এর অন্য তাৎপর্যও আছে :[৩৬]
"রানাঘাটে প্রচলিত ময়ূরপঙ্খী পুরাকালের যে ঐতিহ্য বহন করে, তা সম্ভবত সরাসরি সংযুক্ত ছিল গো-প্রতিপালক সম্প্রদায়ের দলপতিদের ময়ূরপঙ্খী নৌকায় ভ্রমণের সঙ্গে। ঐতিহাসিক ভাবে সরাসরি এর সম্পর্ক পালচৌধুরী জমিদার পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে। অন্য দিকে, আধ্যাত্মিক অর্থে গো-এর সঙ্গে ময়ূরের সম্পর্ক দেহতত্ত্বের এক বিশেষ প্রসঙ্গ নির্দেশ করে। সব মিলিয়েই আজকের ময়ূরপঙ্খী অতীতের অনেকগুলি ধারা এবং বিশ্বাসের সহাবস্থান।"
কলকাতা
ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত কলকাতা পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। নববর্ষারম্ভ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন পাড়ার অলিতে গলিতে নানা সংগঠনের উদ্যোগে প্রভাতফেরি আয়োজিত হয়। বিগত বছরের চৈত্র মাসে শহরের অধিকাংশ দোকানে ক্রয়ের উপর দেওয়া হয়ে থাকে বিশেষ ছাড়, যার প্রচলিত কথ্য নাম 'চৈত্র সেল'। তাই পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এবং এই ছাড়ের সুবিধা গ্রহণ করতে অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে কলকাতার সমস্ত মানুষ একমাস ধরে নতুন জামাকাপড়, ইত্যাদি ক্রয় করে থাকে।
পয়লা বৈশাখের দিন উল্লেখযোগ্য ভিড় চোখে পড়ে কলকাতার বিখ্যাত কালীঘাট মন্দিরে। সেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ভোর থেকে মন্ত্রপাঠপূর্বক গঙ্গাস্নান করে প্রতীক্ষা করে থাকেন দেবীকে পূজা নিবেদন করে হালখাতা আরম্ভ করার জন্য। ব্যবসায়ী ছাড়াও বহু গৃহস্থও পরিবারের মঙ্গল কামনা করে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে কালীঘাটে গিয়ে থাকেন। দক্ষিণেশ্বর, লেক কালী মন্দির, ঠনঠনিয়া-তে থাকে ভক্তদের ভিড়। কলকাতার অন্যান্য কালী মন্দিরে এদিন ভক্তদের ভিড় লক্ষ করা যায়। এইদিন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসাবে নতুন ধুতি-পাঞ্জাবি এবং শাড়ি পরার রেওয়াজ প্রচলিত।
এদিন গুরুগৃহে বা আশ্রমে গিয়ে অনেকেই পুজো দেন। প্রসাদ গ্রহণ করেন। কলকাতার রামমোহন রায় রোডের সনাতন ধর্ম প্রচারিণী সভা ও শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠ এবং নগেন্দ্র মিশনেও আসেন ভক্তরা পুজো দিতে এবং ভাদুড়ী মহাশয়- মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ-এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে।

অন্যান্য দেশে পহেলা বৈশাখ
বাংলাদেশ এবং ভারত ছাড়াও পৃথিবীর আরো নানান দেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়ে থাকে।[৩৭] মূলত প্রবাসী বাঙ্গালীরা সেসব দেশে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করে থাকেন।
কানাডার বাংলাদেশ হেরিটেজ এন্ড এথনিক সোসাইটি অফ আলবার্টা অন্যান্য সংগঠনের সাথে বর্ণাঢ্যভাবে তার ঐতিহ্য উৎসব (বাংলা নববর্ষ) উদযাপন করে। ক্যালগারির বাঙালিরা ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক এবং বাঙালি সংস্কৃতির সাথে দিনটি উদযাপন করে। অস্ট্রেলিয়ার বঙ্গবন্ধু কাউন্সিল সিডনি অলিম্পিক পার্কে পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে।
চিত্রশালা
- নববর্ষ উদ্যাপনের জন্য চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রদের প্রস্তুতি
- নববর্ষ উদ্যাপন
- নববর্ষ উদ্যাপন
- ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, রমনা বটমূল
- নববর্ষ উদ্যাপন
- নববর্ষ উদ্যাপন
- বৈশাখী মেলা
- সুইডেনের বাংলাদেশ শিক্ষার্থী সংস্থা আয়োজিত ১৪১৭ সালের পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশী নাচের অনুষ্ঠান।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ সমবারু চন্দ্র মহন্ত (২০১২)। "পহেলা বৈশাখ"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর (সম্পাদকগণ)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ আকরাম, রেদোয়ান (১৪ এপ্রিল ২০১৭)। "বৈশাখী খাবারের সুলুক সন্ধানে"। Bdnews24.com। ৮ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২৩।
- ↑ সাহেবুল হক, শেখ। "মাহিফরাসের দাওয়াত টু পয়লার ইলিশ-পান্তা"। এই সময়। ৮ মার্চ ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২৩।
- ↑ "নববর্ষ: ১৪ই এপ্রিল দেশে দেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়"। বিবিসি বাংলা। ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "পহেলা বৈশাখ"। বাংলাপিডিয়া। ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ হোসেন, মোছাব্বের (১৪ এপ্রিল ২০১৭)। "মঙ্গল শোভাযাত্রার বিশ্ব স্বীকৃতি এল যেভাবে"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১৮।
- ↑ মো. সফিকুল ইসলাম। "বাংলা বর্ষপঞ্জির জন্ম"। ১৬ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক) - ↑ ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী (অধ্যাপক, ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) (১০ মে ২০১১)। "রেবতী নক্ষত্র, অয়নচলন, 'সূর্য-সিদ্ধান্ত' ও বাংলা নববর্ষ | মতামত"। opinion.bdnews24.com। ১৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৯।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Chakrabarti 2013" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Pahela Baishakh"। Banglapedia। Dhaka, Bangladesh: Asiatic Society of Bangladesh। ২০১৫।
- 1 2 3 Guhathakurta, Meghna; Schendel, Willem van (২০১৩)। The Bangladesh Reader: History, Culture, Politics। Duke University Press। পৃ. ১৭–১৮। আইএসবিএন ৯৭৮০৮২২৩৫৩১৮৮।
- 1 2 3 4 5 6 Nitish K. Sengupta (২০১১)। Land of Two Rivers: A History of Bengal from the Mahabharata to Mujib। Penguin Books India। পৃ. ৯৬–৯৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪-৩৪১৬৭৮-৪।
- ↑ Syed Ashraf Ali, Bangabda, National Encyclopedia of Bangladesh
- ↑ "Bengali calendar begins with Hijrah!"।
- ↑ পাতা, যুগের (২৮ ডিসেম্বর ২০২৪)। "পহেলা বৈশাখ ২০২৫ কবে ও কত তারিখে হবে?"। যুগের পাতা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ এবং আগামীর বাস্তবতা"। দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ আক্রাম, রিদওয়ান। "বৈশাখী খাবারের সুলুক সন্ধানে"। Bdnews24।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "crump114q" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Karen Pechilis; Selva J. Raj (২০১৩)। South Asian Religions: Tradition and Today। Routledge। পৃ. ৪৮–৪৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৪৪৮৫১-২।
- ↑ Roshen Dalal (২০১০)। Hinduism: An Alphabetical Guide। Penguin Books। পৃ. ১৩৫–১৩৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪-৩৪১৪২১-৬।
- ↑ D. C. Sircar (১৯৬৫)। Indian Epigraphy। Motilal Banarsidass। পৃ. ২৪১, ২৭২–২৭৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-১১৬৬-৯।
- ↑ Richard Salomon (১৯৯৮)। Indian Epigraphy: A Guide to the Study of Inscriptions in Sanskrit, Prakrit, and the Other Indo-Aryan Languages। Oxford University Press। পৃ. ১৪৮, ২৪৬–২৪৭, ৩৪৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫০৯৯৮৪-৩।
- ↑ Morton Klass (১৯৭৮)। From Field to Factory: Community Structure and Industrialization in West Bengal। University Press of America। পৃ. ১৬৬–১৬৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬১৮-০৪২০-৮।
- ↑ Ralph W. Nicholas (২০০৩)। Fruits of Worship: Practical Religion in Bengal। Orient Blackswan। পৃ. ১৩–২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮০২৮-০০৬-১।
- ↑ Nesbitt, Eleanor M. (২০১৬)। Sikhism: A Very Short Introduction (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৮৭৪৫৫৭-০।
- 1 2 3 Kunal Chakrabarti; Shubhra Chakrabarti (২০১৩)। Historical Dictionary of the Bengalis। Scarecrow। পৃ. ১১৪–১১৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১০৮-৮০২৪-৫।
- 1 2 নওয়াজেশ আহমদ (১৪ এপ্রিল ২০০৮)। "রমনার বটমূলে জাতীয় উৎসবে"। দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা।
- ↑ "যা যা থাকছে বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রায়"। বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৬।
- ↑ "মঙ্গল, আনন্দ নয়, নাম হচ্ছে 'বৈশাখী শোভাযাত্রা'"। প্রথম আলো। ৫ এপ্রিল ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৬।
- ↑ "ছায়ানটের বর্ষবরণ ছাড়া রমনা পার্কে আর কোনো অনুষ্ঠান নয়, সমকাল, ৩০ জুন ২০১৬"। ১ মার্চ ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "সোনারগাঁয়ে বটমূলে তেল-পান এবং মাটি দিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বউমেলা"। eventbd7.com। ঢাকা। ১০ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৫।
- 1 2 ফারজানা তুলি (১৪ এপ্রিল ২০১২)। "ঘোড়ামেলা বউমেলা"। দৈনিক কালের কণ্ঠ। ঢাকা। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১২।
- ↑ মোহাম্মদ খালেদ, সম্পাদক (নভেম্বর ১৯৯৫)। "পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন পরিষদ"। হাজার বছরের চট্টগ্রাম (বাংলা ভাষায়)। চট্টগ্রাম: এম এ মালেক (দৈনিক আজাদী)। পৃ. ১৬২।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - 1 2 "নতুন বছরে ময়ূরপঙ্খী সহযোগে শোভাযাত্রা"।
- ↑ "নতুন বছরে ময়ূরপঙ্খী সহযোগে শোভাযাত্রা"।
- ↑ "নতুন বছরে ময়ূরপঙ্খী সহযোগে শোভাযাত্রা"।
- ↑ "প্রবাসে বৈশাখী উৎসব এবং মিনি বাংলাদেশ"। বাংলার বার্তা। ২১ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০১৪।
বহিঃসংযোগ
- বাংলাপিডিয়ায় পহেলা বৈশাখ
- পহেলা বৈশাখের নানা তথ্য
- বৈচিত্রের নববর্ষ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১০ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৪ এপ্রিল ২০১৮, পৃষ্ঠা ৫।